#প্রেমের_নির্বাসন - (২৯)
লেখনীতে - #মৃধা_মৌনি
(নোট পড়ে নিয়েন)
__________
আচানক গলায় টিপে ধরল ছেলেটা,
বিকেল হকচকিয়ে উঠল। একটু গোঙালোও!
ছেড়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত মিশিয়ে আক্রোশপ্রসূত হয়ে বলল, 'গলা টিপে মেরে ফেলা উচিত!'
কাশতে কাশতে বেহাল দশা মেয়েটার। বুঝতে পারে না, হঠাৎ কি হলো তার? রোদ্দুর তখনো গজরে চলেছে। তারপর নিজেই এক বোতল পানি এগিয়ে দিলো বিকেলের দিকে। মেয়েটা একটু শান্ত হয় তারপর, জল ভর্তি ভাসা চোখজোড়া মেলে শুধায়, 'কি করলাম আমি?'
তাতে আরও ক্ষেপলো রোদ্দুর, 'মুখ দিয়ে কথা বের হয় না জায়গা মতো...ফটফট সব আমার সাথে!'
বিকেল চুপসে রইল। ভার মুখে আরেক ঢোক পানি গিললো। রোদ্দুর বলতে থাকে, 'একশোবার বলেছি, যত চুপ করে থাকবি, ততই মানুষ তোকে পেয়ে বসবে। নরম জিনিস টিপতে সবারই কম-বেশি মজা লাগে। আমারও লাগে....'
হেঁচকি উঠল বিকেলের, নাকেমুখে উঠে গেছে পানি।
তাতে আরও বিরক্তি চাপে রোদ্দুরের চেহারায়। এক হাতে বড় বড় কয়েকটি গাট্টা বসায় মাথার তালুতে, মেয়েটা ধাতস্থ হয়। হাত উঁচু করে বোঝালো, আর লাগবে না।
রোদ্দুর গাট্টা মারা কমিয়ে পুনরায় বলতে শুরু করে, 'যা বলছিলাম...আমারও নরম জিনিস টিপতে খুব মজা লাগে! কিন্তু তাই বলে আমাকে যদি কেউ উচিত জবাব দেয়, তবে তো আমি আর ছুঁয়েও দেখব না, তাই না? ওই মহিলা তোকে কিসব বলছিল, আর তুই বোবা হয়ে রইলি..উচিত ছিল ঠাস করে একটা চড় মেরে দেওয়া...'
বিকেল চোখ কপালে তুলে শুধাল, 'চাচী হয়!'
'তোওওওও?' খিঁচে ওঠে ও, 'তো কি? পায়ে পড়ে থাকতে হবে? সম্মান পেতে হলে দিতে হয়- এ কথাটা স্কুলে শেখায়নি?'
'রাগের মাথায় বলে ফেলেছে দু একটা কথা নাহয়...' আমতা আমতা করে বিকেল, স্বর নিচুতে।
তাই শুনে আরও ক্ষিপ্ত হয় রোদ্দুর। এগিয়ে এসে প্রায় ঠেশে ধরে মেয়েটাকে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় গিয়ে লাগে পিঠ, ব্যথায় হালকা গুঙিয়ে ওঠে বিকেল, বিড়বিড় করে বলে, 'লাগছে।'
'লাগুক...আমার ও লাগছিল, যখন তোকে এভাবে অপমান করছিল আর তুই মুখে আমার ওইটা নিয়ে বসে ছিলি...'
'সরি?' মুচড়ে ওঠে বিকেল, চোখ বড় বড় করে, নাকমুখ কুঁচকে বলে ওঠে, 'ছিঃ!! কিসব মিনিং করে কথা বলছেন আপনি...'
রোদ্দুরের তাতে ভাবান্তর হলো না, 'তো কি ছিল মুখে? কথা বের হয়নি কেন? জবাব দে...'
'বললাম তো, বড় মানুষ, রাগের মাথায় দুয়েকটা বলেই দিছে নাহয়...'
'তাতে চু চু করা লাগবে?' আরও শক্ত হলো হাতের বাঁধন, চোখ দিয়ে পারছে না ওকে ভস্ম করে দেয় ছেলেটা, 'নেক্সট থেকে যদি দেখেছি, জায়গা মতো আপনার গলা চিঁড়ে কোনো স্বর বেরোচ্ছে না, তবে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না...বলে দিলাম!'
'খারাপ তো এখনই! আর কি খারাপ হবে!' ফিসফিস করল কথাটায়, তবু কানে চলে গেল রোদ্দুরের। হাতের বাঁধন তো ঢিল হলো না এক চুল ও, বরং আরও চেপেচুপে পারছে না আয়না ভেদ করে ওপারেই পাঠিয়ে দেয় ওকে...
বিকেল ব্যথা পেয়ে পুনরায় গুঙিয়ে ওঠে।
চোখ বুঁজে নেয়, বিড়বিড়িয়ে বলল, 'আমার ব্যথা লাগছে।'
'কোথায়?'
'পিঠে...'
'আচ্ছা?'
'হুঁ।'
রোদ্দুর আচমকা ওকে ঘুরিয়ে দিয়ে ওর পিঠটা উন্মুক্ত করে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করাল। বিকেলের গাল তখন আয়নার শীতল কাঁচের সাথে মিশে আছে, ঘোরলাগা চোখে ও শুধু ফিসফিস করে বলতে পারল, 'কী করছেন আপনি?'
'শশশশ...' রোদ্দুরের তপ্ত নিশ্বাস আছড়ে পড়ে মেয়েটার ঘাড়ের কাছে। অত্যন্ত সন্তর্পণে ওড়নাটা সরিয়ে দিল সে। তারপর যেন কোনো দামি কাঁচের পাত্র কিংবা মোমের পুতুল ছুঁয়েছে- এতটাই আলগোছে ওর আঙুলগুলো বিকেলের পিঠের ওপর বিচরণ করতে লাগল। জামার ওপর দিয়ে ওই সুক্ষ্ম স্পর্শে বিকেলের প্রাণ প্রায় ওষ্ঠাগত। শিরায় শিরায় নাম না জানা এক মাদকতা আর শিহরণ খেলে যাচ্ছে, শরীর জুড়ে অদ্ভুত অজানা অস্থিরতা। বিকেল হাঁসফাঁস করতে করতে অস্ফুট স্বরে বারবার বলতে চাইল, 'কী করছেন আপনি? এই...'
রোদ্দুর কোনো কথা বলল না। উত্তরের বদলে আচমকাই কাপড়ের ওপর দিয়ে এক নিবিড় চুমু এঁকে দিল শিরদাঁড়ায়। বিকেলের শরীরের রক্ত সঙ্গে সঙ্গে ছলকে উঠে, সারা গায়ে তীব্র বিদ্যুৎতরঙ্গ খেলে গেল যেন। রোদ্দুর এবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়, বিকেলকেও নিজের মুখোমুখি স্থির করে।
নত হয়ে থাকা বিকেলের মুখখানি নিজের দুই হাতের আঁজলায় তুলে ধরে বলে, 'শক্ত হও! একদিন যদি আমি না থাকি... তোমায় নিজের জন্য হলেও তো বাঁচতে হবে, বলো?' ওর কণ্ঠস্বরে তখন পৃথিবীর সমস্ত কোমলতা মিশে।
কথাটা শোনামাত্র বিকেলের বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। সে পাগলের মতো রোদ্দুরকে জড়িয়ে ধরে, কাঁপা কণ্ঠে আকুতি প্রকাশ করে বলতে থাকে, 'কোথায় যাবেন আপনি? কেন এসব বলছেন?'
ম্লান হাসল রোদ্দুর। মেয়েটার মাথার ওপর নিজের চিবুক রেখে আয়নায় স্থির দৃষ্টি নিবদ্ধ করল সে। ওই অবস্থাতেই নিচু স্বরে বলল, 'যদি আল্লাহ নিয়ে যান?'
'যাবেন না।'
'তুমি জানো?'
'আমি তাঁকে বলেছি, আপনার একদিন আগে যেন আমার হায়াত ফুরোয়! আপনাকে ছাড়া এক মুহূর্ত বাঁচার সাধ্য আমার নেই।'
রোদ্দুর আর কোনো প্রতিউত্তর করল না। কেবল বিকেলের কপালে ভালোবাসার এক গাঢ় চিহ্ন এঁকে দিয়ে ওকে আরও নিবিড় করে জড়িয়ে রাখল। দুজনে দুজনের সত্তায় মিশে রইল দীর্ঘক্ষণ। সময়ের চাকাও বুঝি থমকে দাঁড়িয়েছে এই অবিনশ্বর প্রেমের সাক্ষী হতে।
কিন্তু সেই মায়াবী মুহূর্তের আড়ালে যে আরও এক জোড়া চোখ স্থির হয়ে আছে, তা কারোরই নজরে এল না। দরজার সঙ্গে প্রায় মিশে দাঁড়িয়ে রইল কেউ একজন।
★★★
উমেদ মির্জা ঘুমাতে ঘরে ঢুকলেন। সারা রাত নির্ঘুম কাটানোর ক্লান্তি তার চোখেমুখে স্পষ্ট। শরীর বিধ্বস্ত, মনও হয়রান। কী হবে, কী হতে যাচ্ছে- এই দুশ্চিন্তার চাইতেও এই মুহূর্তে তার বেশি প্রয়োজন একটুখানি বিশ্রাম। আজ অফিসেও যাবেন না; ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন, শরীরটা খুবই অসুস্থ।
রেহনুমা কখন থেকে স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি ঘরে ঢুকে বিছানায় বসতেই রেহনুমা উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, 'এসব কি হচ্ছে আমার সংসারে!'
উমেদ মির্জার চরম বিরক্ত লাগল। তিনি তা লুকোতে পারলেন না একদমই। বরং কণ্ঠে উত্তাপ প্রকাশ করেই শুধালেন, 'কি হচ্ছে?'
রেহনুমা আর পারলেন না। বুকের ভেতরটা এতক্ষণ ধরে যেভাবে কাঁপছিল, তা যেন হঠাৎই ভেঙে বেরিয়ে এলো ফোঁপানিতে। কণ্ঠনালির ভেতর থেকে উঠে আসা শব্দগুলো থেমে থেমে ভেঙে যাচ্ছে, চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু।
তিনি ধরা গলায় বললেন, 'যেদিন সৌম্য এ বাড়িতে এমন অঘটন ঘটিয়ে এসেছিল, সেদিন থেকেই আমার বুক কাঁপে। অজানা ঝড়ের আশঙ্কায় বারবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ছিলাম আমি। তারপর যখন সৌম্য এক রাত উধাও ছিল… সেদিন তো…' কথা আটকে গেল। আইরিনের নিথর মুখটা যেন আবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে উনার।
'আইরিনের ওই দেহটা… আমাকেও নড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ আজ সেই একই দোরগোড়ায় আমি দাঁড়িয়ে। কীভাবে বোঝাব, আমার কেমন লাগছে?'
উমেদ মির্জা এতক্ষণ চুপচাপ বসেছিলেন। তার চোখ দুটো লাল, ক্লান্তিতে ভরা; তবু কণ্ঠে অদ্ভুত কড়াভাব এনে শুধালেন, 'কেমন লাগবে? তোমার তো ভালো লাগার কথা। ছেলে তো তাকেই পছন্দ করে বসে আছে, যাকে তুমি-ও চাও, রেনু!'
রেহনুমা মাথা নেড়ে প্রতিবাদ করলেন সঙ্গে সঙ্গে।
'ভুল… মেয়েটাকে আমি পছন্দ করি, কোলেপিঠে তুলে নিয়েছিলাম তাই। কিন্তু তার বদলে সংসারের এই ভাঙন চাইনি।'
'ভাঙনের কী হলো? সব তো স্বাভাবিক আছে।'
'আপনি মেনে নিয়েছেন?' হতবাক দেখালো ভদ্রমহিলার চেহারা। উমেদ মির্জা একটু কটমট করেই তাকালেন বিনিময়ে, 'তোমার কী মনে হয়?'
এই প্রশ্নেই যেন ভেঙে পড়লেন তিনি। আচমকাই দু’হাত মুখে চাপা দিয়ে কেঁদে উঠলেন,
'আমার ছেলে আমায় ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাবে, আমি সইতে পারব না। আপনার দোহাই, আপনি মেনে নিন।'
ভদ্রলোকের মুখ শক্ত হয়ে আসে, 'তুমি জানতে না? ওয়াদাবদ্ধ আমি।'
'জানতাম।'
'তাহলে কীভাবে এই কথা বলো?'
ঘরে আবারও নেমে আসে কবরের নীরবতা। ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দ পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যায়। রেহনুমা কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থাকলেন। উমেদ নিজেই আবার নীরবতা ভেঙে বলতে শুরু করেন, কণ্ঠে এবার ক্লান্ত স্মৃতির ভারের মেলা।
'মেজো আমার জন্য কী না করেছে, তুমি সব জানো রেনু। যখন আমি স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে পড়েছিলাম… রোদের বয়স তখন কত ছিল?'
রেহনুমা ফিসফিস করে বললেন, 'ছয়।'
'হ্যাঁ, ছয়। আমি ভেসে যেতাম রেনু। তুমি ভেসে যেতে। আমাদের ছেলের ভবিষ্যৎ- কিছুই থাকত না। মেজোটা সেদিন কীভাবে আমার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল! আমাদের জন্য দেশান্তরি হলো। নিজের পরিবার চালিয়ে আমাদের খরচও জোগালো। ব্যবসার টাকা দিলো। নতুন করে ভালো অফিসে চাকরি পেতে সাহায্য করল। আমি ভেঙে পড়ার আগে মেজো দু’হাতে আমায় আগলে নিয়েছিল। ভুলে গেছ সেইসব দিনের কথা?'
'ভুলিনি।'
উমেদ মির্জার চোখেমুখে তীব্র দহনের ছাপ।
'বিনিময়ে কী চেয়েছিল মেজো? রোদের ইন্টার শেষ হওয়ার পর- বলো, কী চেয়েছিল?'
রেহনুমা কোনো জবাব দিতে পারলেন না। হাত গুটিয়ে বসে রইলেন, মাথা আরও নিচু হলো তাঁর।
উমেদ মির্জা নিজেই উত্তর দিলেন,
'শুধু ওর মেয়েটাকে আমরা যেন আমাদের মেয়ে করে নিই। তৃপ্তি সন্তান জন্মদানে অক্ষম। একটা মাত্র অসুখে মেয়েটার এতবড় সর্বনাশ হলো… মেজো দিশেহারা তখন। আমি যদি সেই মুহূর্তে ওর হাত না ধরতাম, আশ্বাস না দিতাম— তাহলে আমি কি মির্জাফর হতাম না?'
রেহনুমা এবারও চুপ। হঠাৎই তিনি চিৎকার করে উঠলেন, 'জবাব দাও! একদম চুপ থাকবে না!'
রেহনুমা কেঁপে উঠলেন। কণ্ঠ শুকিয়ে গেছে তাঁর। ঈষৎ আমতা স্বরে বলার চেষ্টা করলেন, 'কিন্তু আমাদের রোদের সংসারের কী হবে? ওর কি একটা সন্তান চাই না? এতবড় সত্য লুকিয়ে ওর সঙ্গে তৃপ্তির…'
'সে বিষয়েও আমার বিস্তর পরিকল্পনা আছে। কী ভাবো তুমি? ঘাসে মুখ দিয়ে চলি? না রেনু, সবদিক চোখ-কান খোলা রেখেই চলতে হয় আমাকে। কিন্তু তোমার ছেলে আজ যা করল, তাতে আমার নাক-কান সব কাটা গেছে। মেজোটা ফোন করলে কী জবাব দেবো— জানি না।'
এই বলে তিনি ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। ক্লান্ত শরীর মুহূর্তেই হার মেনে নিল যেন। রেহনুমা অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলেন স্বামীর পানে।
'কি করবেন এখন? কীভাবে সামলাবেন সবটা? আমার বড্ড ভয় করছে…'
উমেদ মির্জা চোখ বন্ধ রেখেই বললেন, 'ভাঁজ করে আলমারিতে তুলে রাখো তোমার ওই ভয়। মেজাজটা আর খারাপ কোরো না। ঘুমাতে দাও এবার।'
কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী হয়ে এলো। ক্লান্তি তাঁকে গ্রাস করেছে পুরোপুরি ভাবে। কিন্তু রেহনুমার চোখে ঘুম এল না।
তাঁর মনে হচ্ছে, দূরে কোথাও সমুদ্রের বুক চিরে এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসছে। প্রথমে নীরব রইলেও ধীরে ধীরে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দেবে। বুকের ভেতর অজানা আশঙ্কা কাঁটার মতো বিঁধে আছে।
একসময় পুরোপুরি সকাল হয়। জানালার ফাঁক গলে সকালের প্রথম রোদ এসে পড়ল তাঁর পায়ের ওপর। আলোটা উষ্ণ, অথচ তাঁর ভেতরটা তখনো শীতলতায় জড়ানো।
★★★
'এই তাহলে তোমার মেয়ে?'
দিশার প্রশ্নে স্পষ্ট বিদ্রূপ ঝরে পড়ে, 'প্রথম দিন এসেই তো ভালোই খেলা দেখলাম! রাতভর চাচাতো ভাইয়ের সাথে হাওয়া- আবার সেই মেয়ে কিনা তোমার ওপর জাজ করে!'
বলতে বলতে দিশা একটা দীর্ঘ আড়মোড়া ভাঙল। তার পরনে ফিনফিনে পাতলা কালো একটা নাইটি। সুডৌল শরীরের ভাঁজগুলো অনেকটা উন্মুক্ত, বুকের নরম কুঁড়িও মাথা তুলে উঁকি দিচ্ছে। কী ভীষণ আবেদনময়ী লাগছে তাকে দেখতে! ওসমান মির্জা আপাতত দিশার কথার কটাক্ষকে গায়ে মাখছেন না। বরং দায়সারাভাবে উত্তর করলেন, 'বাদ দাও তো। ও যা খুশি করুক, আমার এসবে মাথাব্যথা করার মতো ধৈর্য নেই।'
'বা রে! নিজের মেয়ে... তার কী হলো না হলো, তুমি দেখবে না?'
'আমি ক্লান্ত দিশা!' ওসমান মির্জার কণ্ঠে অবসাদ ঝরে পড়ল।
'আমি তো ভেবেছিলাম, এখানে আসার পর আমাকে নিয়ে না জানি কত নাটকের মহড়া হয়। যাক, একদিক থেকে ভালোই হলো,' দিশা নিজের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই ওসমান মির্জা দিশার কাছে গিয়ে অনুনয়ের সুর তুলে বললেন, 'বাদ দাও না ওসব। আমরা একটু ঘুমাই, চলো।'
কিন্তু দিশার চোখেমুখে অন্য চিন্তার ছটা। সে সরে দাঁড়িয়ে বলে উঠল, 'আমাকে এখন বেরোতে হবে ওসমান!'
'এখন? এই সময়ে কোথায় যাবে?' অবাক হলেন তিনি।
'আগে আমি একা থাকতাম, আমার নিজস্ব একটা ফ্রেন্ড সার্কেল ছিল, ইউ নো দ্যাট। হুট করে তো আর সেটা ভাঙতে পারি না।'
'কিন্তু এই ঘর-সংসার তো এখন তোমারও।'
তাই শুনে দিশা বাঁকা হাসল, 'কাগজে-কলমে তো এখনো হয়নি। আগে সেটা করে দাও।'
'দেব সোনা, আমায় একটু সময় দাও। ঘরে যখন তুলেছি, তোমায় বিয়েটাও করব।' বলতে বলতে দিশার বুকের কাছে একটা চুমু আঁকলেন তিনি।
দিশা এবার একটু নরম হওয়ার ভান করল। ওসমানের খুব কাছে এসে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে স্পর্শ বসায় পুরুষটির সবচেয়ে দুর্বল জায়গায়। জিজ্ঞেস করে, 'আমি যদি আমার বন্ধুদের সঙ্গে মিট করি, আড্ডা দেই, তাতে তোমার আপত্তি আছে সুইটি, হুঁ?'
দিশার শরীরী আবেদনের জাদুকরী ছোঁয়ায় ওসমান মির্জা কেঁপে ওঠেন; তাঁর রগে রগে বিদ্যুৎ খেলে যায়। মোমের মতো গলে গিয়ে তিনি বিড়বিড় করেন, 'একদম না, তোমার কোথাও যেতে কোনো আপত্তি নেই।'
'থ্যাঙ্কিউ! আই লাভ ইউ!' দিশা ওসমানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় পরমুহূর্তেই।
কিছুক্ষণ পর সেই আদিমতায় মেতে ক্লান্ত ওসমান মির্জা গভীর ঘুমে তলিয়ে যান। দিশা তার বুক থেকে ওসমানের মাথাটা সরিয়ে বিরক্তির সাথে বালিশে রেখে উঠে বসে। মেয়েটার চোখেমুখে চরম বিতৃষ্ণা। মনে মনে আওড়ায়, 'দুটো মিনিটও ঠিক করে পারে না! এভাবে কি পোষায়? নেহাৎ ছেলেটার জন্য ফেঁসে গেছি...'
বিছানা ছেড়ে দ্রুত শাওয়ার নিয়ে নেয় সে। তারপর বেরিয়ে যায় স্লিভলেস ব্লাউজের ওপর রঙিন মিষ্টি কালারের শাড়িটা পরে। এটা ওসমানই দিয়েছিল তার গত জন্মদিনে। খাঁটি দুবাই সিল্কের ওপর নিপুণ হাতের কাজ করা শাড়িটার দাম পড়েছিল প্রায় ১,৮০,০০০ টাকা। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একবার দেখে নিয়ে দিশা হঠাৎই হাসল। তারপর বেরিয়ে পড়ল ঘর থেকে চপল পায়ে....
(চলবে)
______
যারা পড়ছেন, সবাই একটু রেসপন্স করিয়েন।
গল্পটা আস্তে আস্তে মূল পর্বে ঢুকছে কিন্তু!
এই মুহূর্তে আপনারা নীরব থাকলে আমিও নীরব হয়ে যাবো....
[নোট: আগামীকাল আমার বার্থডে, আপনারা সবাই মনে করে উইশ করতে যাবেন, উইথ গিফট 🫣]