ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের নির্বসন

৩৪তম পর্ব

লেখক: মৃধা মৌনি

#প্রেমের_নির্বাসন - (৩৪)

লেখনীতে - #মৃধা_মৌনি

____________

ওয়াফিটা অনেকক্ষণ হয় কাঁদছে ক্ষুণ ক্ষুণ করে। পেটে হাত চেপে উবু হয়ে আছে বিছানায়। পাশেই দিশা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে, অনেকক্ষণ যাবত চেষ্টা করছে চুলগুলো উঁচু করে একটা পনিটেল বাঁধার। আজ কেন যেন হচ্ছে না। অতিরিক্ত সিল্কের কারণে বারবার খুলে পড়ে যাচ্ছে। বিরক্ত বোধ করছে দিশা। সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না, কোন হেয়ার স্টাইল করবে তাহলে? শাড়ির বদলে একটা লম্বা ফ্রোক জড়িয়েছে গায়ে। গলায় ঝুলিয়েছে শিফনের স্কার্ফ। এর সঙ্গে পনিটেলটাই দারুণ লাগত!

ওসমান ভেতরে ঢুকলেন। ভদ্রলোকের চোখেমুখে এক রাজ্যের গাম্ভীর্যতা। আয়না দিয়ে দিশার সঙ্গে চোখাচোখি হলো, দিশা চোখ সরিয়ে নিজের কার্য সাধনে লেগে গেল আবারও। ওসমান মির্জা নিরুত্তাপ হয়ে ছেলের পাশে বসলেন, বললেন, 'কি হয়েছে আমার বাবাটার? কাঁদছে কেন সে?'

ওয়াফি ছোট্ট মুখখানা তুলে ধরে বলল, 'মা মেরেছে।'

কণ্ঠস্বর চাপা, যেন দিশার কানে না যায়।

তবে দিশা ঠিক ঠিক শুনতে পেল। সঙ্গে সঙ্গে দাঁত খিঁচিয়ে প্রত্যুত্তর ছুঁড়ে দিল সে, 'মারব না তো কি করব? এত যন্ত্রণা করিস। দেখছিস আমি ব্যস্ত, তার ভেতর বারবার এসে ওড়না ধরে টানাটানি করছিল তোমার ছেলে।'

'তাতে তুমি গায়ে হাত তুলবে দিশা? বাচ্চা মানুষ, মায়ের কাছেই তো শত আবদার খাটাবে?'

'সবসময় এসব ভালো লাগে না আর তুমি এমন ভাবে বলছ, যেন বিরাট বড় অন্যায় করে ফেলেছি। মা হিসেবে দু চারটা চড় দিতেই পারি।'

'অন্যায় ভাবে দিতে পারো না।'

দিশা হাত থেকে চিরুনিটা প্রায় ছুঁড়ে রাখল ড্রেসিং টেবিলের উপর, ওসমান মির্জার দিকে ফিরে ফুঁসে ওঠা গলায় জানতে চাইল, 'আমি অন্যায় করেছি, আমি?'

ওসমান মির্জা বেশ কতক্ষণ স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। এই দিশাকে তিনি চিনতে পারছেন না। বরাবরই শান্ত, নম্র, ভদ্র ভাবে থাকা মেয়েটা আজ হঠাৎ এমন আচরণ করছে! বাড়িতে এত ঝামেলা চলছে, সবার ঘরে অশান্তি, অথচ তার ভেতর দিয়েও দিশার কোনো ভাবান্তর নেই। বরং তার আড্ডা বেড়েছে কয়েক গুণ। সকাল-বিকেল যখন যেভাবে পারছে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফিরছে লেট করে। ছেলেটার কথাও একবার ভাবছে না। ওসমান মির্জা সব বাদ দিয়ে ছেলে পালতে বসে গেলে সংসার চলবে কি করে? তার উপর আইরিনটার এতবড় শোকেও দিশাকে সামান্য সৌজন্যতাটুকু করতে দেখেননি তিনি। লজ্জাজনক কথা! মানুষ শত্রুপক্ষের শোকেও মাতম মানায়...সেখানে আইরিন তো ওসমানের আপন ছোট বোন!!

ড্যাবড্যাব চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে দিশার দুই ভ্রুয়ের মাঝখানে ভাঁজ পড়ল। নাক-মুখ কুঁচকে শুধাল, 'এভাবে কি দেখছ, হ্যাঁ?'

ওসমান মির্জা উত্তরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, 'তোমার কি হয়েছে দিশা? তুমি তো এমন ছিলে না।'

অপ্রস্তুত হলো এ কথা শুনে। মুখ ঘুরিয়ে আয়নার দিকে তাকাল আবারও। আমতা স্বরে শুধাল, 'কি যা তা বলছ ওসু! আমার আবার কি হবে?'

ওসমান মির্জা উঠে দাঁড়ালেন। দিশাকে জোর করেই নিজের দিকে ফিরিয়ে বললেন, 'অস্বীকার করো না। তোমায় আমি এমন দেখিনি। এত টক্সিক, অধৈর্য্য। ওয়াফি তোমার সন্তান! তুমি জন্ম দিয়েছ! তাছাড়া এখানে আসার পর, আমার ভাই-বোন কারো পরিবারকেই তুমি এক্সেপ্ট করতে পারোনি। কেন দিশা? তুমি তো জানতে আমি জয়েন্ট পরিবারের লোক! আমার সংসার করতে হলে সবাইকে মেনে গুছিয়ে তারপর চলা লাগবে।'

'এক্সেপ্ট না করতে পারার কি আছে? সবার সাথেই তো কথাবার্তা বলি। এখন কি তাদের ঘরের কাজ গিয়েও আমি করে দিয়ে আসব?'

'আমি কি সেটা বলছি তোমাকে? নিজের ঘরের কাজ যেখানে ঠিক করে করো না, সেখানে অন্যদেরটা করবে- এটা বলাও তো বোকামি! আইরিন টা পাগল প্রায়, বড় ভাবি অসুস্থ হয়ে বিছানায়, এই ক'দিনের জন্য বাইরের লোকে এসে রেঁধে দিয়ে যায়, তবু তুমি পারতে না আগলে ধরতে প্রতিটা সংসারের হাল?'

'ওসু!! আমি এসব করব? এসব?'

'এমন ভাবে বলছ যেন সংসার করাটা ভীষণ ছোটলোকি কিছু!'

'মিনিং রং বের করো না। আমি মোটেও সেটা বলিনি ওসু! বাট আমার এমবিশান অন্য কিছু, চুলা ঠ্যালা নয়।'

ওসমান মির্জা নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, 'আমি তোমাকে সংসারী মনে করেছিলাম।'

দিশা পুনরায় আয়নার দিকে মুখ করে পিঠ দিল, 'তোমার ভুল, আমি জীবনে কিছু করতে চাই।'

'কি করতে চাও দিশা?'

'সেটা তোমার না জানলেও চলবে। বাট আমার নিজের কিছু থাকুক, এটা চাই। আর ওসমান, লিসেন, আমার লাইফস্টাইল আমি আরও ল্যাভিশিং করতে চাই। আমার ফ্রেন্ডরা কীভাবে থাকে, দেখো না। তোমার তো রিগ্রেট হওয়া উচিত, তুমি আমায় সেভাবে রাখতে ব্যর্থ।'

ওসমান মির্জা কিছুই বলতে পারলেন না প্রত্যুত্তরে। হা হয়ে তাকিয়ে রইলেন কেবল। দিশা চুল খোলাই রাখল শেষমেশ। ব্যাগটা কোনো মতে কাঁধে ঝুলিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল।

ওসমান পিছু ডেকে বলে ওঠলেন, 'এখন কোথায় যাচ্ছ দিশা? সন্ধ্যা হবে।'

দিশা সে কথার উত্তর না দিয়ে শুধু জানাল, 'ফিরতে দেড়ি হবে, খেয়ে ফিরব। কারো অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।' তারপর বেরিয়ে পড়ল দ্রুত পদক্ষেপে। ওয়াফিটা বিছানায় খেলছে এখন, কান্না ভুলেছে ছেলেটার। হাতের কাছে থাকা কাগজ দিয়ে বানানোর চেষ্টা করছে কিছু একটা। ওসমান মির্জা তার পাশে ক্লান্ত ভাবে বসলেন। বুকটার ভেতর কেমন যেন করছে তার। হাহাকার নাকি অপরাধবোধ বুঝতে পারছেন না ঠিক। এই শেষ বয়সেও কি জীবনের একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি? কে জানে!

বাসা বের হয়েই একটা হাঁফ ছাড়ে দিশা।

কপালটা ঘেমে ওঠেছে তার। ব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে মুছে নেয় সেটুকু। পুনরায় ফোনের স্ক্রিনে নিজের মুখটা দেখে নেয়, সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। চোখের কাজল টানা নেই, এই ওসমানের জন্য আজ ঠিক করে রেডি হওয়াও হলো না। ধুর! মেজাজটা এত বিরক্ত লাগছে। অথচ আজ ওর দেখা করার কথা শেখ ইকবালের সঙ্গে। শেখ প্রোপার্টিসের মালিকের ছেলে। বয়সটা চল্লিশের কোঠায় তার। হ্যাপি ফ্যামিলি ম্যান, তারপরও বন্ধু-বান্ধবী দু-চারটে কম নয়। জুনির মাধ্যমে এই লোকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল গত দু'দিন আগের পার্টিতে। লোকটা সেঁধেই দিশার ফোন নাম্বার টুকেছে। আজ সকালে নক করে জানাল, মিট করতে চায়, আলাদা ভাবে। দিশা না করেনি। এসব লোকের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হলে, চেনাজানা থাকলে নেহাৎ মন্দ হয় না। বরং জীবনের অনেক দরজার চাবি এদের পকেটেই থাকে। কথাটা অলিভা বলেছিল।

দিশা ফোন আনলক করে। হোয়াটস অ্যাপে গিয়ে ইকবালের নাম্বারে ম্যাসেজ করল,

'আ'ম অন রোড, আপনি কোথায়?'

মিনিট খানেকের ভেতর রিপ্লে এল,

'আমিও অন দ্য ওয়ে। কিং রোডে এসে দাঁড়াতে পারবে সুইটহার্ট?'

দিশা ব্লাশ করল অজান্তেই। লিখল,

'পারব।'

'তবে আসো, আমি পিক করব তোমায়।'

মেসেজটিতে একটা ‘লাভ রিয়েক্ট’ বসিয়ে দিয়ে দিশা রিকশা ডাকল। ইকবালের চিন্তাটা কিছুতেই মাথা থেকে যাচ্ছে না। লোকটা বেশ হ্যান্ডসাম, বয়সটা চট করে ধরা যায় না—দেখলে মনে হয়, ত্রিশ-বত্রিশের কোঠায় হবে। কী ছিমছাম আর ফিটফাট তার চলাফেরা! সবসময় ক্যাজুয়াল পোশাকে থাকলেও আভিজাত্যটা ঠিকরে বের হয়। কথাবার্তা থেকে শুরু করে আচার-আচরণ—সবই দারুণ শালীন। লোকটা নিয়মিত ড্রিংক করে ঠিকই, তবে সেটাতেও এক ধরণের মার্জিত ভঙ্গি আছে। তাকে দেখলে যে কেউ আকর্ষণে পিছলে পড়তে বাধ্য।

দিশা ভেবে পায় না, এত দারুণ একজন মানুষ কেন যেচে ওর নম্বরটা চাইল! মনের কোনো এক কোণে বোধ হয় নতুন কোনো অ্যাডভেঞ্চারের সুর বাজছে। জল কতদূর গড়ায়, সেটা দেখার জন্য দিশার মনে এখন প্রবল কৌতূহল। আপাতত সে ওসমানকে মন থেকে পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলল। ইকবালের চিন্তায় বিভোর হতে হতেই এক সময় রিকশাটা এসে পৌঁছাল কিং রোডে।

★★★

দিশা চলে যাওয়ার পর নিথর রাস্তাটার দিকে নির্নিমেষ তাকিয়ে রইল বিকেল। চারপাশটা যেন এক ধূসর ক্যানভাস, যেখানে একটা নিঃসঙ্গ কুকুর ছাড়া প্রাণের আর কোনো স্পন্দন নেই। কতক্ষণ সেভাবে দাঁড়িয়ে ছিল সে? সময়ের হিসেব মেলেনি। যখন হুঁশ ফিরল, ততক্ষণে বিকেলের রোদে গোধূলির ম্লান ছায়া। ঝাপসা চোখজোড়া মুছে সে পা বাড়াল আইরিনের ঘরের দিকে।

আজকাল বড্ড অকারণেই চোখের পাতা ভিজে ওঠে তার। বিকেলের মনে প্রশ্ন জাগে, এই হৃদয়ের জমিন কবে থেকে এমন এত ভোঁতা হলো? একসময় যার হাসিতে ঘর কাঁপত, সেই অট্টহাসিগুলো আজ কেবল স্মৃতির ঝরা পাতা। বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে, যা বিষণ্ণতাকে আরও গাঢ় করে তোলে।

নিজের মনটাকে কোনোভাবে একটু সরিয়ে নিতে চাইল সে। কিন্তু এই বিশাল বাড়িতে হাসার মতো মানুষ কই? সবাই নিজের বৃত্তে বন্দি। তৃপ্তিরও খোঁজ মেলেনি দুবার গিয়েও। আইরিন ঘরের হেডবোর্ডে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে পড়ে ছিলেন। দেখে মনে হয় তন্দ্রাচ্ছন্ন, কিন্তু আসলে কি তাই?

বিকেল ঘরে ঢুকতে গিয়েও থমকে দাঁড়াল। উল্টো পথে পা বাড়াতেই আইরিনের নির্লিপ্ত কণ্ঠস্বর শোনা গেল, 'জেগেই আছি রে, আয়।'

বিকেল একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, 'ভেবেছিলাম ঘুমোচ্ছ তুমি।'

সে বিছানায় আইরিনের গা ঘেঁষে বসে। পা দুটো দুলছে অকারণে, অস্থির ছন্দে। আইরিন একটু নড়েচড়ে বসে শুধালেন, 'কিছু বলবি আমায়?'

বিকেল ম্লান হেসে জবাবে বলে, 'না, আসলে ভালো লাগছিল না একদম। তাই তোমার কাছে চলে এলাম।'

'কে কোথায় আছে রে?'

বিকেল আঙুলের কড় গুণে হিসেব দেবার মতো করে বলতে লাগল, 'বড় বাবা আর মিশি বোধহয় হাসপাতালেই। মেজো চাচী রান্নাঘরে ব্যস্ত। স্বস্তি আর দীপ্র কোচিংয়ে গেছে। তৃপ্তিরও পাত্তা নেই। আর আমার সৎ মা... তাকে দেখলাম বেশ পরিপাটি সেজে কোথাও বেরোলেন।'

আইরিন মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, 'আর ছোট ভাইজান?'

বিকেলের উত্তরটা গলায় আটকে গেল যেন। খানিক বিরতি দিয়ে বলল, 'উনি ওনার ছেলের সঙ্গে... নিজের ঘরেই আছেন।'

কথাটা শেষ হতে না হতেই বিকেলের মুখটা অভিমানে ছোট হয়ে এল। আইরিন সব বুঝলেন। এই বাড়িতে শোক যেন একটা দীর্ঘ অক্টোপাসের রূপ ধরেছে, সবাইকে জড়িয়ে ধরছে। বড় ভাবি অসুস্থ হওয়ার পর থেকে সংসারের বাঁধনগুলো আলগা হয়ে গেছে। যে যার মতো বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বেঁচে আছে। আর এই স্রোতে সবথেকে বেশি ভেসে গেছে বিকেল নামের এই মেয়েটা। কারো মায়াভরা হাত যে তার মাথায় পড়বে, সেই ভাগ্যটুকুও আজ দুর্লভ।

হঠাৎ আইরিন নিজের বিষণ্ণতা আড়াল করে বললেন, 'ভাবছি রাতের রান্নাটা আজ আমিই করব।'

বিকেল অবাক চোখে তাকাল। বিস্ময় চেপে রাখতে না পেরে বলল, 'কি দরকার এই অবস্থায় কষ্ট করার?'

আইরিন একটু শাসন মেশানো গলায় বললেন, 'তোর থেকে জ্ঞান নিতে হবে বুঝি এখন?'

বিকেল ফিক করে হেসে দিল, 'নাও না একটু! আজকাল তো কাউকে দেওয়ার সুযোগই পাই না।'

'কেন? তোর দাদী আসুক, তাকে দিস।'

'ধুর! ওই বুড়িটা হাসপাতালেই পটল তুললে ভালো হয়! একদম ভালো লাগে না তাকে। দেখছ না ওনি নেই বলে বাড়িটা কত নীরব?'

আইরিন ম্লান হাসলেন। তারপর বিকেলের হাত ধরে উঠে দাঁড়ালেন, 'চল আমার সাথে।'

বিকেল ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, 'কোথায়?'

'রান্নাঘরে। তুই রান্না করবি আমার সাথে।'

'আমি! আমি তো কিছুই পারি না!'

আইরিন তাকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বললেন, 'না পারলে শিখতে হয়। আজ পোলাও চালের ভাত আর হরেক পদের ভর্তা হবে।'

বিকেল উৎসাহিত হয়ে বলতে চাইল, 'বেগুন ভা—'

কিন্তু অর্ধেক পথেই শব্দটা আটকে পড়ে। মনে পড়ে যায়, এই বেগুন ভর্তা সৌম্য ভাইয়ের বড্ড প্রিয় ছিল। এক মুহূর্তের জন্য বাতাস ভারী হয়ে উঠল। আইরিনের বুকেও কি মোচড় দিয়ে ওঠেনি? উঠেছে ঠিকই। কিন্তু পাথুরে হৃদয়ে জোর করে এক টুকরো হাসির প্রলেপ দিয়ে তিনি বললেন, 'ওটাও থাকবে। তুই শুধু কাটাকুটি করে দিবি। আয় আমার সাথে...'

রান্নাঘরের শান্ত পরিবেশে লতা একমনে লাল শাক ভাজি করছিলেন। কড়াইয়ে খুন্তির নাড়াচাড়ার শব্দের মাঝেই আইরিন আর বিকেলের প্রবেশ ঘটে। আইরিনকে এতদিন পর রান্নাঘরের চৌকাঠে দেখে লতা রীতিমতো চমকে উঠলেন।

হৈ হৈ করে বলে উঠলেন, 'আরে, তুই! হঠাৎ এখানে কেন?'

আইরিন কৌতুকের ছলে চোখ কপালে তুলে জবাব দিল, 'এমনভাবে বলছ ভাবি, যেন কয়েক যুগ পর এই ঘরে পা রাখলাম!'

লতা একটু চিন্তিত স্বরে প্রত্যুত্তরে বললেন, 'এখন কেন আসতে গেলি? আর ক'টা দিন বিশ্রাম নিলেই তো পারতিস।'

আইরিন একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে স্মিত হাসি ছুঁড়ে দেয়।

'বড় ভাবি অসুস্থ হয়ে বিছানায়, ছোট ভাবির তো মর্জির ঠিক নেই, তুমি একলা মানুষ, কতক্ষণ আর সামলাবে? বাড়ির ছেলেরা শেষমেশ কি কাজের লোকের হাতের রান্না খেয়ে দিন কাটাবে? এই অবস্থায় আমি কি আর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি?'

লতা মৃদু হাসলেন। তার চোখের কোণে একটু আশ্বস্ত হওয়ার আভা ফুটে উঠল যেন। আইরিনের সঙ্গে বিকেলকেও একবার দেখে নিলেন তিনি, তারপর আবার নিজের কাজে মন দিলেন।

বিকেল সুযোগ বুঝে আলতো করে জিজ্ঞেস করল, 'চাচী, তৃপ্তি কোথায় গেছে জানো?'

লতার মুখের হাসিটা নিমেষেই মিলিয়ে যায়। খুন্তি চালানোর গতি বাড়িয়ে দিয়ে একটু ঝামটা মেশানো স্বরে বললেন, 'জানি না বাপু, কোথায় গেছে!'

কথাটা তীরের মতো বিকেলের মনে গিয়ে বিঁধে। লতার এই বিরক্তিমাখা কণ্ঠস্বর তাকে খানিকটা অপ্রস্তুত আর ব্যথিত করে তুলল। আইরিন বিকেলের অস্বস্তিটা বুঝতে পারলেন। তিনি আলতো করে চোখের ইশারায় বিকেলকে বোঝালেন— মন খারাপ না করতে। বিকেল মলিন ঠোঁটে হেসে এগিয়ে গিয়ে ফ্রিজ থেকে সবজি বের করতে শুরু করল।

★★★

গাড়িটা একটা নির্জন রাস্তার ওপর স্থির হয়ে আছে। দু-একজন পথচারী অলস পায়ে হেঁটে যায়, দু-একটা রিকশা দুলকি চালে পাশ কাটিয়ে জানান দিচ্ছে নাগরিক ব্যস্ততার রেশটুকু। দিশা গাড়ির সাইড ভিউ মিররে বাইরের পৃথিবীটা দেখতে ব্যস্ত। মেয়েটার ঠোঁটের কোণে খেলা করছে এক চিলতে চকমকে হাসি। গাল দুটো যেন এক পশলা গোলাপি আভায় ঢাকা।

বাইরে দাঁড়িয়ে ইকবাল ধূমপান করছেন। দিশার মনে হলো, মানুষটা কী ভীষণ জেন্টেলম্যান! ভেতরে ধোঁয়ার গন্ধে দিশার অসুবিধে হতে পারে ভেবেই তার এই বাইরে যাওয়া। এমন একজনের প্রায়োরিটি লিস্ট-এ নিজের নামটা দেখে দিশার ভেতরে এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে। অঢেল বিত্তবৈভব, আস্ত এক টাকার কুমির- সে তো আছেই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দিশাকে টানছে ইকবালের মার্জিত আচরণ। এই অসম অ্যাডভেঞ্চারটা সে বেশ উপভোগ করছে।

ভাবনার সুতো ছিঁড়ল গাড়ির দরজা খোলার শব্দে। ইকবাল ভেতরে ঢুকে ডোর টেনে দিলেন। দিশার দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে শুধালেন, 'তারপর? কোথাও যাওয়ার প্ল্যান আছে নাকি আজ?'

দিশা ঠোঁট উল্টে আদুরে গলায় বলল, 'আমার তো কোনো প্ল্যান ছিল না। আপনি আলাদা করে দেখা করতে চাইলেন বলেই বের হওয়া, নইলে আজ ঘর থেকেই বের হতাম না।'

ইকবাল স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে একটা অর্থবহ হাসি ছোঁড়েন এবারে, 'তাহলে তো বলতে হয় আমি স্পেশাল! কোনো প্ল্যান না থাকলেও আমার জন্য তুমি বের হতে পারো...'

দিশা মুচকি হাসল, কোনো প্রতিবাদ করল না। গাড়িটা গতি পেতেই ইকবাল আবার বললেন, 'তারপর বলো?'

দিশা সামনের দিগন্তপ্রসারী রাস্তার দিকে তাকিয়ে অবুঝের মতো প্রশ্ন করল, 'কী বলব?'

'তোমার ব্যাপারে। আই ওয়ান্ট টু নো ইউ মোর...'

দিশা আলতো করে জিজ্ঞেস করল, 'কেন?'

ইকবাল সহজভাবে বললেন, 'না জানলে ম্যাডামের কাছাকাছি আসব কী করে? তোমার পছন্দ-অপছন্দগুলো তো চিনতে হবে।'

কথাটা শুনে দিশার হাসি আর থামে না। নিজেকে সামলে নিয়ে সে টিপ্পনী কাটল, :আপনার ফ্লার্টিং স্কিল কিন্তু দারুণ, মানতেই হবে!'

ইকবাল এক পলক তাকিয়ে গম্ভীর হওয়ার ভান করে বললেন, 'ফ্লার্ট বোলো না হানি, আমি সত্যি তোমাকে আরও গভীরভাবে জানতে চাই।'

দিশা হঠাৎ একটু ভাবুক হয়ে পড়ল। নিজের ব্যাপারে কী বলবে সে? ওসমান, ওয়াফি- এসব কি বলা ঠিক হবে? যদি সত্যিটা জানার পর ইকবাল এই মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেয়? আবার ভাবল, ইকবাল নিজেও তো ফ্যামিলি পারসন। তার স্ত্রী আছে, সন্তানও হয়তো আছে। তারা থাকতেও যদি ইকবাল বন্ধুত্বের হাত বাড়াতে পারে, তবে দিশার বেলায় দোষ কোথায়?

অনেক ভেবে দিশা ঠিক করল, আগে সে-ই প্রশ্ন করবে। দেখুক না, ইকবাল নিজের ব্যাপারে কতটা সত্যি বলে। যদি সে স্বচ্ছ হয়, তবেই দিশা নিজের মনের দুয়ার খুলবে।

ভাবনা অনুযায়ী পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল এবারে মেয়েটা। তার চোখেমুখে কৌতূহলী চপলতা, 'আপনার ব্যাপারেও তো কিছু জানা দরকার। কে কে আছে আপনার বাড়িতে?

ইকবাল মনে মনে হাসলেন। মেয়েটা বড্ড চতুর, নিজের জাল বোনার আগে অন্যের সীমানা মেপে নিতে জানে। তবে ইকবালও দাবার ঘুঁটি চালতে ভুল করলেন না। তিনি জানেন, নারীরা পুরুষালি সততার কাছে খুব দ্রুত আত্মসমর্পণ করে। হাজারো ভুল করেও যদি কেউ অকপটে স্বীকার করে নেয়, তবে ক্ষমা পাওয়াটা সহজ হয়ে যায়। তাই স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে খুব সহজ গলায় বলতে শুরু করলেন,

'আমাদের খুব সাদামাটা পরিবার। মা নেই, আব্বা আছেন। আমার স্ত্রী আর দুটো ছোট বাচ্চা। আর হ্যাঁ, কিছু হেল্পিং হ্যান্ড- এই তো। এখন আব্বার জন্য একজন ভালো জীবনসঙ্গিনী খুঁজছি, মনের মতো কাউকে পেলেই ওনার বিয়ে দেব।'

দিশা সত্যিই অভিভূত হলো। লোকটা কী স্বচ্ছ! কোনো লুকোছাপা নেই, কোনো দ্বিধা নেই। কিন্তু শেষের কথাটায় সে বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলল, 'বলেন কী! আঙ্কেলের বিয়ে দেবেন এই বয়সে?'

ইকবাল মৃদু হেসে জবাব দিলেন, 'কেন নয়? বয়স হলেও মানুষের তো একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। মা চলে গেছেন বহু বছর, একা থাকাটা বড্ড কষ্টের।'

'কিন্তু লোকে কী বলবে?'

ইকবাল সরাসরি দিশার চোখের দিকে তাকালেন, 'লোকে কী বলবে তা নিয়ে ভাবলে কি আজ তুমি আমার পাশে এই গাড়িতে থাকতে? সমাজ তো আমাদের নিয়েও খুব একটা মন্দ ছাড়া ভালো কিছু বলবে না।'

দিশার মুগ্ধতা যেন বাঁধ মানছে না। ইকবালের এই অকপট ব্যক্তিত্ব তাকে ক্রমশ টেনে নিচ্ছে এক অতল আকর্ষণে। তাকে ওভাবে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে ইকবাল অধর কোণে এক চিলতে হাসি ঝুলিয়ে বলেন, 'কী ব্যাপার ম্যাডাম? এভাবে তাকিয়ে থাকলে আমি রাস্তার দিকে মন দিই কী করে, বলো তো?'

চমক ভাঙল দিশার। লজ্জায় আরক্ত হয়ে সে দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল, অবাধ্য চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে নিচু স্বরে বলল, 'আমিও কিন্তু পুরোপুরি ফ্যামিলি পারসন। আমার স্বামী ওসমান মির্জা, ব্যবসায়ী। আর আমাদের একটা ছেলে আছে, নাম তার ওয়াফি।'

ইকবাল আকাশ থেকে পড়ার ভঙ্গিটা করলেন এই শুনে। গাড়িটা প্রায় থামিয়ে দিয়ে বললেন, 'ওয়েট, ওয়েট! তোমার বাচ্চা আছে? সত্যি বলছ?'

'হুম, কেন? বিশ্বাস হচ্ছে না?' দিশা হাসল।

'অবিশ্বাস্য! তোমাকে দেখে তো মনে হয় এই মাত্র ভার্সিটির গণ্ডি পেরোলে। আমি তো ভেবেছিলাম তুমি এখনও ছাত্রী!'

দিশা লাজুক হেসে বলল, 'ধুর, কী যে বলেন! পড়াশোনার পাঠ চুকেছে কবেই। এখন আমি ঘোর সংসারী এক নারী।'

ইকবাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, 'তাহলে তো বড্ড ঝামেলা হয়ে গেল!'

দিশা ভ্রু কুঁচকে শুধাল, 'কিসের ঝামেলা?'

ইকবাল তৃষ্ণার্ত চোখে দিশার দিকে চাইলেন প্রায়, 'এই যে যখন-তখন তোমাকে দেখতে পাব না। ঘর সামলে বের হওয়া তো তোমার জন্য সহজ হবে না। অথচ আমার যে এখন সারাক্ষণই তোমাকে ডাকতে ইচ্ছে করবে...'

ইকবালের শেষ কথাটি দিশার হৃদয়ের মণিকোঠায় এক পশলা বসন্তের ছোঁয়া এঁকে গেল। এমন করে তার সান্নিধ্য পাওয়ার আকুলতা এর আগে কজন দেখিয়েছে? মুগ্ধতা লুকিয়ে মৃদু হেসে সে উত্তর করে, 'অসুবিধা হবে না তেমন। জুনি আমার বান্ধবী। আমাদের আরও একজন আছে, অলিভা। আমরা তিনজন প্রায়ই একসাথে বের হই।'

ইকবাল চটজলদি বললেন, 'ওকে চিনি আমি। জুনির সঙ্গেই এসেছিল একবার, আলাপ হয়েছিল।'

'আমরা তো প্রায়ই আড্ডা দেই, শপিং করি। সেই অজুহাতে না হয় মাঝেমধ্যে...'

ইকবাল গাড়ি থামিয়ে দিশার চোখের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলেন, 'তার মানে তো মেনেই নিতে হচ্ছে আমি তোমার কাছে স্পেশাল কেউ। নইলে আমার সাথে দেখা করার জন্য তুমি আগেভাগেই বাহানা তৈরি করে ফেলতে না!'

ধরা পড়ে যাওয়া চোরের মতো গাল ভরে হাসল মেয়েটা।গাড়িটা এসে থামল যমুনা ফিউচার পার্কের ঝলমলে প্রবেশদ্বারের সামনে তারপর। ইঞ্জিন বন্ধ করে ইকবাল প্রস্তাব দিলেন,'তাহলে আজ হয়ে যাক? মুভি নাইট, টু-নাইট?'

দিশা মুহূর্তকাল ভেবে মাথা নাড়ল, 'শিউর, কেন নয়!'

দিশা নিজে থেকেই গাড়ির দরজা খুলতে যাচ্ছিল, কিন্তু ইকবাল তাকে সুযোগই দিলেন না। তিনি দ্রুত নেমে ঘুরে এসে অপর পাশের দরজাটি খুলে দিলেন- ঠিক যেমনটা সিনেমার রাজপুত্ররা করে। আভিজাত্য আর সম্মানের এই গ্রিটিং ট্রিট দিশাকে এক নিমেষে সাধারণ থেকে অসাধারণ করে তুলল।

গাড়ি থেকে নামতে নামতে দিশার মনে হলো, সে সত্যিই মানুষটার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এত ভালো মানুষ পৃথিবীতে আর একটাও হয়?

★★★

বিকেলের বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছে হঠাৎ করেই। সময় যত গড়াচ্ছে, অস্থিরতা ততই ডালপালা মেলছে যেন। ঘড়ির কাঁটা রাত দশটার ঘর ছুঁইছুঁই, অথচ তৃপ্তির কোনো দেখা নেই। শেষবার কাল রাতে মেয়েটিকে দেখেছিল সে, তারপর একদম কর্পূরের মতো হাওয়ায় মিলিয়ে গেল একটা জলজ্যান্ত মানুষ!

সবচেয়ে অদ্ভুত লাগছে মেজো চাচীর নির্বিকার ভঙ্গি। নিজের মেয়ে নিখোঁজ, অথচ তার চোখেমুখে দুশ্চিন্তার লেশমাত্র নেই। তার এই রহস্যময় নীরবতা বিকেলকে আরও দিশেহারা করে তুলল। সে অস্থির পায়ে কখনো বারান্দায় যাচ্ছে, কখনো রুমে- দমবন্ধ করা এক গুমোট পরিবেশ চারদিকে। অবশেষে আর সইতে না পেরে সে পা বাড়াল মেজো চাচীদের ইউনিটের দিকে।

তবে অতদূর যেতে হলো না। ফুপুদের ঘরের সামনেই দেখা হয়ে গেল স্বস্তি আর দীপ্রর সাথে। স্বস্তির দিকে তাকাতেই বিকেলের বুকটা ছ্যাৎ করে উঠল। মেয়েটার চোখ-মুখ কান্নায় লাল হয়ে ফুলে গেছে।

বিকেল হন্তদন্ত হয়ে গিয়ে স্বস্তিকে জড়িয়ে ধরল। রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করল, 'কী হয়েছে? তুই কাঁদছিস কেন?'

স্বস্তি উত্তর দিল না, মাথা নিচু করে রইল। পাশ থেকে দীপ্র ওর পিঠে একটা চাপড় মেরে বিরক্তির সুরে বলল, 'আরে উত্তর দে না! আমি সেই কখন থেকে একই কথা জিজ্ঞেস করছি।'

স্বস্তি হাতের উল্টো পিঠে চোখের জল মুছে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। তারপর ভাঙা গলায় ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, 'আপুর কথা খুব মনে পড়ছে...'

বিকেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়। সে অস্থির কণ্ঠে শুধাল, 'মানে? তৃপ্তির কথা মনে পড়ছে মানে কী? কোথায় ও?'

ডুকরে কেঁদে উঠে ঝাপসা গলায় উচ্চারণ করল স্বস্তি, 'আপু তো চলে গেছে।'

বিকেলের হৃৎস্পন্দন থমকে যায় মুহূর্তে। বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে হলো বহুগুণ। কোনো রকমে জিভ নাড়িয়ে জানতে চায়, 'কোথায় গেছে? কোথায় গেছে তৃপ্তি?'

'বড় ভাইয়ার সঙ্গে... বিদেশে।'

সঙ্গে সঙ্গে পায়ের তলার মাটি সরে যায়। মেয়েটার মনে হয় সে হয়তো ভুল কিছু শুনছে, কিংবা দেখছে কোনো এক বীভৎস দুঃস্বপ্ন। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে মেনে নেওয়ার ক্ষমতা যে বোকা মেয়েটার নেই।

(চলবে)

________

দিশা-ইকবালের প্রেম কাব্য আপনারা অনেকেই লাইক করবেন না, জানি! কিন্তু আমি বলব, এটা এই গল্পের খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্ট! খুব জলদিই জানবেন, কেন এ কথা বললাম। হ্যাপি রিডিং ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন