#প্রেমের_নির্বাসন - (৩৫)
লেখনীতে - #মৃধা_মৌনি
________________
'তুই কি বললি? তৃপ্তি রোদ ভাইয়ার সঙ্গে বিদেশ চলে গেছে?'
স্বস্তি নিরুত্তর। কেবল যান্ত্রিকভাবে মাথা নাড়িয়ে সায় দেয় সে। বিকেলের বিশ্বাস হতে চায় না, সে আবারও একই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। তার কণ্ঠস্বরে এমন কিছু একটা ছিল যা শুনে দীপ্র আর স্বস্তি অবাক না হয়ে পারল না। বিকেলের মুখাবয়ব মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, তার ভেতর দিয়ে এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে—যা নিমিষেই তছনছ করে দিচ্ছে দীর্ঘদিনের লালিত কোনো স্বপ্ন বা বিশ্বাসকে। স্বস্তির নীরবতা সইতে না পেরে প্রায় আর্তনাদ করে ওঠে বিকেল, 'কথা বলছিস না কেন? তৃপ্তি কি সত্যিই রোদ ভাইয়ার সাথে চলে গেছে?'
স্বস্তি ঢোক গিলে ভয়ার্ত চোখে একবার দীপ্রর দিকে তাকাল। পরক্ষণেই বিকেলের দিকে চেয়ে মাথা নামিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল, 'হ্যাঁ। মা বলল, ভাইয়ার ওখানে থাকা-খাওয়ার যেন কষ্ট না হয়, তাই আপুকে তার সাথে পাঠানো হয়েছে।'
দীপ্র পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝেই মাঝখান থেকে যোগ করল, 'তাছাড়া বড় ভাইয়ার সাথে তো আপুর বিয়ে অনেক আগে থেকেই ঠিক করা। তুমি কি এটা জানতে না?'
স্বস্তিও সায় দিয়ে বলল, 'আমিও তেমনই শুনেছিলাম, অনেক আগে থেকেই সব ঠিকঠাক...'
বিকেলের মনে হলো, অদৃশ্য একটা জোরালো হাত তার টুঁটি চেপে ধরেছে। শ্বাসবায়ু আটকে আসছে। বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে এমন এক যন্ত্রণায়, যার স্বাদ সে এই জন্মে আগে কখনও পায়নি। মনে হচ্ছে, কেউ যেন তার জ্যান্ত হৃদপিণ্ডটাকে টেনে বের করে তাতে নুন-মরিচ মাখিয়ে আগুনের লেলিহান শিখায় ফেলে দিয়েছে।
কি নিদারুণ সেই দহন! কি অসহ্য সেই হাহাকার! বিকেলের চারপাশের পৃথিবীটা হঠাৎ থমকে গেল। সে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কোনোমতে দাঁড়িয়ে রইল। তার অবশ হয়ে আসা শরীরটা যেন এখনই ভেঙেচুরে ধুলোয় মিশে যাবে। এক বিশাল শূন্যতা আর হাহাকারের বন্যায় সে ভেসে যাচ্ছে- যেখানে আঁকড়ে ধরার মতো কোনো কূল নেই, নেই কোনো খড়কুটো। চারদিকে শুধু অন্ধকার আর নিঃশব্দ হাহাকার।
দুই ভাই-বোন চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। বিকেলের এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণ তাদের বুদ্ধির বাইরে। দীপ্র কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে বিকেলের হাত চেপে ধরে। কণ্ঠে বিস্ময় নিয়ে শুধায়, 'আপু, কী হয়েছে তোমার? এমন করছ কেন?'
বিকেলের ভেতরটা যন্ত্রণায় দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। প্রতিটি নিঃশ্বাস নিতে মনে হচ্ছে ফুসফুস ফেটে যাবে। এই রুদ্ধশ্বাস অবস্থাতেই অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে বলল, 'আমায় একটু চাচির ঘরে নিয়ে চল।'
'মেজ চাচি?'
দীপ্রর প্রশ্নে বিকেল শুধু ক্ষীণভাবে মাথা নাড়ায়। দীপ্র আর স্বস্তি একে অপরের দিকে মুখ চাওয়াচাওয়ি করে, তারপর অতি সাবধানে বিকেলকে ধরে মেজ চাচির ঘরের দিকে পা বাড়াল ওরা।
ঘরের ভেতর লতা জেগেই ছিলেন। মাত্রই স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা শেষ করেছেন। তৃপ্তিকে বিদেশে পাঠিয়ে যে বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন, তা নিয়ে নিজের মনেই এক প্রকার গর্ববোধ তৈরি হয়েছে উনার। যা শুরু হয়েছিল, তাতে সব ভেসেই যেতো। ঠিক সময়ে লাগামটা টেনে ধরতে পেরেছিলেন তিনি, এই যা ভরসা। নইলে তৃপ্তির কোনোদিন গতি হতো না। মেয়েটাকে নিয়ে তার দুশ্চিন্তার এমনিতেই অন্ত নেই। কথা শেষ হলে ফোনটা রেখে শোয়ার তোড়জোড় করছিলেন যখন, তখনই মনে পড়ল স্বস্তির কথা। মেয়েটা এখনো ঘরে আসেনি। কোথায় আছে? তাকে খুঁজতেই লতা পুনরায় উঠে গেলেন, দরজার সামনে দাঁড়াতেই ওদের মুখোমুখি হলেন তিনি। দীপ্রর গায়ে প্রায় ভেঙে পড়া অবস্থায় বিকেলকে দেখে কিছুটা ঘাবড়েও গেলেন। বিকেলের বিবর্ণ, নিষ্প্রাণ মুখচ্ছবি দেখে তাঁর কণ্ঠনালি চিরে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এল, 'কী হয়েছে ওর?'
স্বস্তি আমতা আমতা করে উত্তর দিল, 'জানি না আম্মু। ভালোই তো ছিল, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। ওই যে, আপু চলে যাওয়ার খবরটা শোনার পর...'
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই লতার চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই বদলে যায়। আগ্নেয়গিরির লাভার মতো ক্রুর দৃষ্টিতে তিনি মেয়ের দিকে তাকালেন। দাঁতে দাঁত চেপে শুধালেন, 'তুই কী বলছিস?'
স্বস্তি ভয়ে কুঁকড়ে গিয়ে বলল, 'আপু যে বিদেশে চলে গেছে, সেই কথা...'
বাক্যটা পূর্ণ হওয়ার সুযোগ পেল না। বাতাসের গতিতে লতার হাতটা আছড়ে পড়ল স্বস্তির গালে। চড়ের তীব্রতায় স্বস্তি টাল সামলাতে পারল না। লতা বিষধর সাপের মতো হিসহিসিয়ে উঠলেন, 'পেটে একটা কথা সয় না তোর? অসভ্য, ইতর মেয়ে কোথাকার!'
স্বস্তি ব্যথায় আর অপমানে ডুকরে কেঁদে উঠল। দীপ্র বিকেলকে ছেড়ে দ্রুত দৌড়ে এসে স্বস্তিকে নিজের আড়ালে টেনে নিল। লতার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে অনুনয় করে বলল, 'মেরো না চাচি, ও কোনো দোষ করেনি।'
'তুই সামনে থেকে সর দীপ্র! ও কী করেছে আর না করেছে, তোর সাফাই গাইতে হবে না। এই জানোয়ার মেয়ের পেট টিপে আজ আমি সব বের করে ছাড়ব!' লতার রণচণ্ডী মূর্তি দেখে ছেলে-মেয়ে দুটোই ঈষৎ কেঁপে ওঠে।
স্বস্তি হাতের উল্টো পিঠে বারবার চোখ মুছছে, কিন্তু নোনা জলের ধারা থামছেই না। সে দীপ্রর গেঞ্জিটা শক্ত করে মুঠি করে ধরে ফিসফিস করে বলে, 'আমি আর কাউকে কিচ্ছু বলব না আম্মু, বিশ্বাস করো আর কিচ্ছু বলব না...'
'ধ্বংস যা করার তা তো করেই দিছিস। এখন আর মুখ বন্ধ রেখে হবেটা কী!'
'চাচি?' অতি দুর্বল, ভাঙা কণ্ঠে বিকেল ডেকে উঠল। লতা ঘুরে দাঁড়ালেন বিকেলের দিকে। মেয়েটার চোখে দুনিয়ার সমস্ত অসহায়ত্ব ভিড় করেছে, কণ্ঠনালি চিরে ঝরে পড়ছে এক সমুদ্র আর্তনাদ। সে কাঁপা গলায় শুধাল, 'আমার সাথে এমনটা কেন করলেন চাচি? আপনি তো সব জানতেন! আপনি জানতেন আমার আর রোদ ভাইয়ার মধ্যে একটা...'
লতা ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়ে ফেটে পড়লেন এই শুনে, 'কী জানব শুনি? আমার মেয়ের সাথে বড় ভাইজানের ছেলের বিয়ে সেই কোন আমল থেকে ঠিক হয়ে আছে, সেটা তামাম দুনিয়া জানে!'
'কিন্তু উনি তো আমাকে ভালোবাসেন! সেদিন সবার সামনেই তো উনি বললেন...'
'এইসব ছিঁচকাঁদুনে ভালোবাসার গল্প আমার সামনে করবি না, খবরদার!' লতা তর্জনী উঁচিয়ে গর্জে উঠলেন। 'নিজের মা-কে তো খেয়েছিস, এখন কি লজ্জাশরম, হায়া—সবই খেয়ে বসে আছিস? বড়দের সামনে দাঁড়িয়ে নির্লজ্জের মতো কিসব বলে যাচ্ছিস!'
বিকেল দমল না মোটেই। বরং এক পা এগিয়ে এল সে, কণ্ঠে দৃঢ়তা জুগিয়ে বলল, 'কথা অন্যদিকে ঘোরাবেন না চাচি। আমি আপনাদের সম্মান করি, দয়া করে সেই জায়গাটা বজায় রাখুন। সেদিন সবার সামনে উনি আমাদের পছন্দের কথা স্বীকার করার পরও কেন আপনি আপনার মেয়েকে উনার সাথে পাঠালেন? এত লুকোছাপা কেন?'
'এসবের কৈফিয়ত আমি তোকে দেব? তুই কে? এই বাড়ির কর্ত্রী হয়ে গেছিস নাকি?' লতা বিদ্রুপের হাসি হাসলেন।
'আমি কে, সেটা আপনার না জানলেও চলবে। আপনি শুধু আমার প্রশ্নের উত্তর দিন, এত বড় একটা ঘটনা কেন সবার আড়ালে ধামাচাপা দিয়ে রাখলেন?'
'থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দেব! কার সামনে গলা উঁচিয়ে কথা বলছিস? আবার কৈফিয়ত চাস! বান্দির ঝি...'
'খবরদার!' বিকেলের চিৎকার লতার কথা থামিয়ে দিল, 'আমার মাকে নিয়ে একটা গালিও দেবেন না। নিজের মেয়েকে লুকিয়ে-ছাপিয়ে পরপুরুষের সাথে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে আবার বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছেন? আপনি নিজেই তো একটা আস্ত ইবলিশ!'
'বিকেল!' লতার হাত সজোরে ওপরে উঠে গেল। কিন্তু সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়ে বিকেল লতার সেই হাতখানা মাঝপথেই শক্ত করে চেপে ধরল। এক ঝামটা দিয়ে হাতটা নামিয়ে দিয়ে সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 'দুনিয়াতে কি আর কোনো পুরুষ নেই? কুত্তার মতো লেলিয়ে দিয়েছেন নিজের মেয়েকে, তাও কি না একটা বিবাহিত পুরুষের কাছে? ছিঃ!'
লতা বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেলেন। কয়েক মুহূর্তের জন্য তাঁর মুখ দিয়ে কোনো কথা সরল না। তারপর চিৎকার করে উঠলেন, 'কে বিবাহিত? মুখ সামলে কথা বল! যা খুশি তাই বলে যাচ্ছিস?'
'আমি কি আপনার মতো ছোটলোক যে যা খুশি বলব? যা বলছি, ধ্রুব সত্য বলছি। উনি বিবাহিত! উনি মহান আল্লাহ পাককে সাক্ষী রেখে তিন কবুল বলে আমাকে বিয়ে করেছেন... সেই রাতে!'
কথাটার ওজন যে কতটা প্রবল, তা বিকেল নিজেও হয়তো পুরোপুরি আন্দাজ করতে পারেনি। লতা এই সত্যের ভার সইতে পারলেন না। আক্রোশে এক ক্ষ্যাপা শকুনের মতো তিনি তেড়ে এলেন মেয়েটার দিকে। কিন্তু বিকেল এক চুলও পিছিয়ে গেল না। তার কানের ভেতর বেজে চলেছে রোদ্দুরের বলে যাওয়া অমোঘ মন্ত্র, 'নরম জিনিস টিপতে সবারই মজা লাগে। যা তোর, তা তোরই। যেভাবেই হোক নিজের অধিকার, নিজের হক আদায় করে নিবি। ছিনিয়ে নিতে হলে তাই নিবি, তবু নিজের সঙ্গে কোনো আপোষ করবি না।'
বিকেলের দু’চোখে আগুনের আভা। লতা নিজেই ভড়কে গেলেন। কিছু একটা বলার জন্য মুখ খুলতেই বিকেলের কথা তাকে পুরোপুরি ভাবে থমকিয়ে দিল। বিকেল বলছে, 'সেদিন রাতে উনি আমাকে নিজে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। আমাদের সম্পর্কটা এত ঠুনকো নয়! স্বয়ং স্বামী-স্ত্রী আমরা। এই কথাটা উনি প্রকাশ করেননি, কারণ চাননি বড় মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ুক। আপনি না জেনে না বুঝে আপনার মেয়েকে একজন বিবাহিত পুরুষের গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছেন। স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যে নারী রেঁধে বেড়ে খাওয়ায় তাকে কি বলে জানেন? রক্ষিতা! আপনি আপনার মেয়েকে আমার স্বামীর রক্ষিতা হিসেবে পাঠিয়েছেন?'
'বিকেল!!' লতার হাতের তীব্র ধাক্কায় কয়েক কদম পিছিয়ে টলে উঠল বিকেল। লতার দু’চোখ দিয়ে যেন আগুনের হলকা বের হচ্ছে।
'তোর এত বড় মুখ! আমার মেয়েকে নিয়ে কথা বলিস? আজ যদি তোর মুখ আমি ভেঙে না দিই...' বিড়বিড় করতে করতে লতা রীতিমতো হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে বিকেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। শুরু হলো এক অসম লড়াই। লতার ক্ষ্যাপাটে শারীরিক শক্তির তুলনায় বিকেলের এই তন্বী দেহটা ভীষণ নগণ্য। লতার প্রতিটি আঘাত বিকেলের শরীরে সপাটে আছড়ে পড়ছে, কিন্তু বিকেল দমে গেল না। অদ্ভুত এক জোরালো শক্তি যেন চেপে বসেছে তার ও রুহের উপরে।
আশ্চর্যের বিষয়, বিকেলের চোখে এক ফোঁটা জলও নেই! বরং তার দু’টো চোখ অপমানে আর প্রতিশোধের নেশায় টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। সে কেবল মার খেয়ে গেল না, বরং নিজের সর্বশক্তি দিয়ে লতার হাত আটকে পাল্টা আঘাত করতে শুরু করল। লতার গালে আর কাঁধে বিকেলের দু-একটা চড়-থাপ্পড় সজোরে গিয়ে লাগল।
দু'জনের এই বীভৎস হাতাহাতি দেখে স্বস্তি আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে। তার গলার স্বর কান্নার তোড়ে বুজে আসছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দীপ্র আর দাঁড়িয়ে থাকল না; সে ঝড়ের গতিতে ছুটে গেল আইরিনকে ডেকে আনার জন্য। ঘরের ভেতরের শান্ত পরিবেশটা মুহূর্তেই একটা রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। পরিবেশ ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।
★★★
বাইরে মায়াবী বিষণ্ণ রাত। আকাশ জুড়ে চাঁদের আভা আজ অদ্ভুত লালচে হয়ে আছে। শহরে রটে গেছে আজ ব্লাড মুন দেখা যাবে। কিন্তু মির্জা পরিবারের চার দেয়ালের ভেতর যে প্রলয়ংকরী ঝড় বইছে, তার কাছে মহাজাগতিক কোনো বিস্ময়ই পাত্তা পাচ্ছে না। এমনকি সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা কোনো মিসাইলও হয়তো আজ এই বাড়ির ভেতরের কানফাটানো চিৎকার আর উত্তেজনাকে ছাপিয়ে যেতে পারত না।
বড় ঘরের এক কোণে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিকেল। তার ঠিক সামনেই গদিতে বসে আছেন লতা, কপালে আর মাথায় আইস ব্যাগ চেপে ধরে। তার উল্টো দিকে গম্ভীর মুখে বসে আছেন বাড়ির বড় কর্তা উমেদ মির্জা। পাশে ছোট ভাই ওসমান মির্জা এবং আইরিনও উপস্থিত। আজ বাড়ির ছোট-বড় কোনো ভেদাভেদ নেই; স্বস্তি আর দীপ্রও দরজার ধারের জানালা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রুদ্ধশ্বাসে সব দেখছে।
লতা সমানে নাঁকি সুরে কেঁদে চলেছেন, মাঝেমাঝেই অভিযোগের সুর চড়ছে তার, 'আমার গায়ে হাত তোলে! ওর সাহস কত বড় দেখেছো? নিজের মেয়ের সমান মেয়ে হয়ে...'
আইরিন বড় বিরক্ত হয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন, 'ভাবি, এখন একটু থামো তো! বড় ভাইজান আর ছোট ভাইজান আছেন, তাঁদের বিষয়টা বুঝতে দাও।'
লতা দাঁত কিড়মিড় করে চুপ করলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর চোখমুখ দিয়ে আক্রোশ ঝরে পড়া বন্ধ হলো না। উমেদ মির্জা এবার নিস্তব্ধতা ভেঙে বললেন, 'এই বাড়ির শান্তি কি রেনুর সাথে সাথেই হাসপাতালের পথ ধরেছে? নিত্যদিনই কেন এত হাউকাউ?'
'কেন' শব্দটা তিনি এমনভাবে উচ্চারণ করলেন যে, ওসমান মির্জা তাতে নিজের অপদার্থতার ইঙ্গিত পেলেন। তিনি ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে একবার বিকেলের দিকে তাকিয়ে উমেদ মির্জাকে বললেন, 'কী বলব ভাইজান? আমার বলার কিছু নেই। আপনি যা ভালো বোঝেন, সেই বিচারই করেন।'
'তোর মেয়ে মায়ের সমান চাচির গায়ে হাত তোলে! তুই কি বুঝতে পারছিস ওসমান, এর মানে কী?' উমেদ মির্জার প্রশ্নে ওসমান মির্জা লজ্জায় আরক্ত হলেন।
কিন্তু বিকেল আর চুপ করে থাকল না। মাথা তুলে স্পষ্ট গলায় বলে উঠল, 'উনি মায়ের সমানও নন, মা-ও নন। এমনকি উনি আমার রক্তের কেউ নন। উনাকে যে এতদিন সম্মান দিয়ে এসেছি, এটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।'
ওসমান মির্জা গর্জে উঠলেন, 'তুমি চুপ থাকবে?'
'না বাবা, থাকব না। তুমি তো আমার হয়ে কখনো ঢাল হয়ে দাঁড়াবে না, তাই আজ আমাকেই দাঁড়াতে দাও। আজ যদি আমার মা বেঁচে থাকতেন, তবে আমাকে এভাবে অতল জলে ভেসে যেতে দিতেন না।'
বিকেলের এই অকাট্য যুক্তিতে ওসমান মির্জা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। উমেদ মির্জা পরিস্থিতি সামলে নিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'বলো, তোমার কী বলার আছে শুনি?'
লতা আবারও বাধা দিতে চাইলেন, 'ভাইজান, ওর কাছ থেকে কী শুনবেন? আমার থেকে শোনেন...'
'দাঁড়াও লতা!' উমেদ মির্জার ধমকে লতা দমে গেলেন। 'আমি আজ ওর মুখ থেকেই সব শুনতে চাই। ও কী বলতে চায়, বলুক।'
বিকেল একটা দীর্ঘ শ্বাস টেনে বুকটা ভরে নিল। শুকনো ঠোঁট দুটো জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিল সে। তার ভেতরে জমা হয়ে আছে পাহাড় সমান কথা, এক সমুদ্র অভিমান আর অধিকারের দাবি। সে জানে না এই বাঘা বাঘা মানুষের সামনে কতটা গুছিয়ে বলতে পারবে, কিন্তু আজ সে দমবার পাত্রী নয়। আজ সে নিজের অস্তিত্ব আর সত্যের লড়াই লড়বেই। তাতে পাশে কেউ থাকুক আর না থাকুক!
'রোদ্দুর ভাইয়া...' বলতে গিয়েও থমকে গেল বিকেল। বুকের ভেতরটা একবার কেঁপে উঠল, পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে চোয়াল শক্ত করল সে। উপস্থিত সবার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পষ্ট স্বরে বলল, 'উনার সাথে কবে থেকে তৃপ্তির বিয়ের কথা হয়ে আছে আমি জানি না। কিন্তু আমার জীবনে প্রথম পুরুষ হয়ে সেই এসেছে। রোদ্দুর নিজে আমাকে পছন্দের কথা স্বীকার করেছে। এমনকি... এমনকি সেই রাতেই সে আমাকে বিয়ে করেছে। তার পরিচিত এক ভদ্রমহিলার বাসায়, কিছু বন্ধুবান্ধবদের সাক্ষী রেখে আমাদের বিয়ে হয়েছে। বাড়ি ফিরে আপনাদের সবার সামনে সে স্বীকার করেছে, আমরা একে অপরকে পছন্দ করি। এমন অবস্থায় চাচি সবকিছু জেনেও তার মেয়েকে সবার অলক্ষ্যে রোদ্দুরের সাথে বিদেশে পাঠিয়েছেন। আমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে উনি আমাকে মারতে আসেন। বিনিময়ে আমিও হাত চালিয়েছি। অপরাধ করেছি কি না জানি না, তবে যা সত্য আমি তাই বলছি। আমি রোদ্দুরের বিবাহিত স্ত্রী! আমি থাকতেও কেন চাচি নিজের মেয়েকে উশকে দিলেন?'
বিকেলের প্রতিটি শব্দ ঘরে একেকটি বোমার মতো করে ফাটল। উমেদ মির্জা কুঁকড়ে থাকা ভ্রু জোড়া সোজা করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালেন। গম্ভীর কণ্ঠে জানতে চাইলেন, 'আমার ছেলে তোমাকে বিয়ে করেছে?'
বিকেল এক মুহূর্ত দেরি না করে ঘাড় নেড়ে দৃঢ়ভাবে বলল, 'হ্যাঁ।'
'কাবিননামার কাগজ কোথায়?'
মুহূর্তেই বিকেলের পায়ের তলার মাটি সরে গেল। চারপাশের কোলাহল ছাপিয়ে একটা পিনপতন নীরবতা নেমে এল ঘরে। বিকেল স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার কাছে তো কোনো কাগজ নেই! সবচেয়ে বড় কথা, সেদিন কোনো কাগজ তৈরিই হয়নি। রোদ্দুর তাকে বলেছিল সম্পর্কের পবিত্রতা মনে, কাগজে নয়। বিয়েটা হয়েছিল একদম পুরোনো দিনের মতো করে—যেখানে আল্লাহকে সাক্ষী রেখে মনে বিশ্বাস আর মুখে কবুল বলাটাই ছিল সব।
উমেদ মির্জা পুনরায় প্রশ্ন করলেন, 'কী হলো, উত্তর দিচ্ছ না কেন? আমার ছেলে তোমাকে বিয়ে করেছে—এ কথা আমি মেনে নেব। কিন্তু আমাকে তো প্রমাণ করতে হবে! কাগজপত্র সব দেখাও, আমি কথা দিচ্ছি কালকেই তোমাকে ওর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।'
বিকেল কী উত্তর দেবে ভেবে পেল না। তার মাথা কাজ করছে না। তবু ভীষণ জড়তা আর অস্পষ্ট স্বরে বিড়বিড় করে আওড়াল, 'কাগজ তো নেই।'
উমেদ মির্জা যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। ঈষৎ ঝুঁকে এসে আবার শুধালেন, 'নেই?'
'না নেই। ইসলামিক শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে।'
'তাতে কী? তুমি বাংলাদেশে থাকো, আর এই দেশের আইন অনুযায়ী কাগজ ছাড়া কোনো বিবাহ গ্রহণযোগ্য নয়—এইটুকু জ্ঞান কি তোমার নেই?' উমেদ মির্জার কণ্ঠে উপহাস আর বিরক্তি ঝরে পড়ল।
বিকেল বিমূর্ত হয়ে দাঁড়িয়ে। উমেদ মির্জা ওসমানের দিকে ফিরে তাকালেন। কণ্ঠস্বরে তীরের মতো বিষ ঢেলে বললেন, 'ভালোই একখানা জন্ম দিয়েছিস ওসমান! তোর নিজের জীবন কতটুকু কী করল জানি না, তবে আমাদের পুরো পরিবারের ধ্বংসের জন্য আমি এই মেয়েকেই দায়ী করব। এর কারণেই আমার স্ত্রী আজ শয্যাশায়ী। এর জন্যই আমি নিজের ছেলেকে ঘরছাড়া করে দূরে সরিয়ে দিয়েছি—যাতে এই মেয়েটার হাত থেকে তাকে বাঁচাতে পারি। তাতেও শিক্ষা হলো না! এখন আবার নতুন গপ্পো ফেঁদে বসেছে!'
'আমি কোনো গল্প বলছি না!' চিৎকার করে উঠল বিকেল। তার দু’চোখ বেয়ে নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু কণ্ঠের জোর কমেনি, 'এটা সত্যি! আমি রোদ্দুরের স্ত্রী! আমাদের বিয়ে হয়েছে! মানছি আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, কিন্তু আমি মিথ্যে বলছি না। খোদার কসম, আমি এক ফোঁটাও মিথ্যে বলছি না!'
ঘরের কোণে দাঁড়ানো আইরিন এতক্ষণ সবটা পরখ করছিলেন। এবার তিনি স্তব্ধতা ভেঙে ধীরপায়ে বিকেলের দিকে এগিয়ে এলেন। বিকেলের চোখের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় জানতে চাইলেন, 'শোন, আবেগ দিয়ে সব হয় না। যে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোদ্দুর তোকে বিয়ে করেছিল, সেই বাড়ির ঠিকানা জানিস? আমাদের সেখানে নিয়ে যেতে পারবি? তাদের সাক্ষী দিলেও তো আমরা বুঝব যে তুই সত্য বলছিস।'
বিকেল আবারও দমে গেল। অন্ধকার রাত আর রোদ্দুরের হাতের ওই উষ্ণ নির্ভরতাকে সঙ্গী করে সে কোথায় গিয়েছিল, কোন অচেনা গন্তব্যে নিজের সর্বস্ব সঁপে দিয়েছিল- তার বিন্দুবিসর্গও সে জানে না। আজ সেই পুরুষটাই তাকে অথৈ সাগরের মাঝপথে একলা দাঁড় করিয়ে দিয়ে চলে গেছে। বিকেলের দু’চোখে অমোঘ বর্ষণ। সে কাঁদতে কাঁদতে কেবল দু’ধারে মাথা নাড়ল—সে জানে না, সে কিচ্ছু জানে না!
আইরিন হতাশায় ভেঙে পড়লেন। বিকেলের মাথায় হাত দিয়ে শুধু আওড়ালেন, 'করলি কী মুখপুড়ি? একি করলি তুই!'
বিকেল দু’হাতে মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। উমেদ মির্জা আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। একটা অশুভ ঘোষণার মতো করে তিনি বলে উঠলেন, 'আর এটাও শুনে রাখো মেয়ে, তোমার সব ছলচাতুরী আমি পণ্ড করে দিয়েছি। লতার মেয়ে কোনো রক্ষিতা নয়, বরং তুমিই হচ্ছ রক্ষিতা! তোমাকে মিথ্যে স্বপ্ন আর বিশ্বাসের জালে ফেলে আমার ছেলে শুধু ভোগ করে গেছে। তৃপ্তিই রোদ্দুরের আসল ঠিকানা, তৃপ্তিই তার বৈধ অর্ধাঙ্গিনী! যেদিন রাতে আমরা সবাই মিলে বাইরে গিয়েছিলাম, সেদিনই উকিলের সামনে কাবিননামায় সই করেছে আমার ছেলে আর তৃপ্তি। সেই কাগজ কি দেখতে চাও তুমি?'
আকস্মিক ঝটকায় উমেদ মির্জার পায়ের ওপর আছড়ে পড়ল বিকেল। দু’হাতে শক্ত করে পা দুটো জড়িয়ে ধরে সে উন্মাদিনীর মতো কাঁদতে লাগল।
'আমার বিশ্বাস হয় না বড় বাবা! উনি আমার সাথে এতবড় নিষ্ঠুরতা করতে পারেন না। উনি আমাকে ভালোবেসেছেন, কথা দিয়েছেন চিরকাল সাথে থাকার। বিশ্বাস করো, তোমার ছেলে আমায় এভাবে ভাঙবে না... কিছুতেই না! তুমি শুধু একবার ওর সাথে আমার কথা বলিয়ে দাও, প্লিজ! আমি শুধু জিজ্ঞেস করব—কে তার স্ত্রী? কাকে ভালোবাসে সে? বড় বাবা, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে... বুকটা ফেটে যাচ্ছে যন্ত্রণায়!'
মেয়েটার এত আকুল আবেদনেও পাষাণ হৃদয় গলল না মোটে। বরং তিনি নিরাসক্ত চোখে আইরিনের দিকে তাকাতেই আইরিন বিকেলকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দিলেন।
'নিজের মেয়েকে সামলাও,' — বলেই উমেদ মির্জা গটগটিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
বিকেল মেঝেতে হাত-পা ছুড়ে কাঁদছে। সে যেন পাগল হয়ে গেছে। কখনো আইরিনের পা ধরছে, কখনো ছোট স্বস্তির। সবশেষে সে ওসমানের পায়ের কাছে গিয়ে ঢলে পড়ল।
'বাবা, ও বাবা! আমি তো তোমারই মেয়ে, তোমার কি একটুও কষ্ট হচ্ছে না? সবাই মিলে আমাকে ঠকাল বাবা... মা-ও ঠকিয়ে চলে গেছে, তুমিও তো কোনোদিন আমায় এক ফোঁটা মমতা দিলে না! না দিলে আদর, ভালোবাসা, স্নেহ। এই পরিবারের রক্তের একজন হয়েও সবাই আমায় ঠকিয়েছে, দূর দূর করেছে সবসময়। আর এখন সেই মানুষটা... যাকে কিনা আমি এত যত্ন করে বুকে পুষলাম, হৃদ মাঝারে ঠাঁই দিলাম, সেই কিনা দ্বিগুণ যত্নে এ বুকে আগুন দিল?'
ওসমান মির্জা বিরক্তিতে মুখ তেঁতো করলেন।
'বাবা, তুমি এই অন্যায়ের প্রতিশোধ নেবে না? তুমি না আমায় জন্ম দিয়েছ? তবু কেন তোমার প্রাণ আমার জন্য একটুও কাঁদে না? কেন মায়ার গিট্টুতে তুমি বাঁধা পড়লে না?'
'সরো এখান থেকে!' ওসমান মির্জা মৃদু ধাক্কায় বিকেলের বাঁধন আলগা করে দিতেই সে ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেল। মেয়েটার শরীরে এখন আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট নেই। এক ফোঁটা বল ও নেই নিঃশ্বাস টেনে তোলার। এত কষ্ট হচ্ছে, এত যন্ত্রণা হচ্ছে, ভাগ্যিস মনের রক্তক্ষরণ দেখা যায় না। বড় বাবা যে কাগজের কথা বলেছেন, তা দেখার আগেই যেন চোখ দুটো নষ্ট হয়ে যায়, অন্ধ হয়ে যায়— মনে মনে এই প্রার্থনাই করতে লাগল সে।
আইরিন ধরতে এলেন, 'বিকেল? মা?'
কিন্তু ছোঁয়ার আগেই প্রতিবাদ করল বিকেল, 'ধরবে না আমাকে কেউ তোমরা, কেউ ধরবে না। আমি তোমাদের কেউ না, কেউ না।' পরমুহূর্তেই কান্না কান্না চোখে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় বলে, 'ও ফুপু, আমাকে এত কষ্ট দেওয়ার চাইতে ওদের বলো না, একটা ধারালো ছুরি এনে এ বুকে বসিয়ে দিক। কেটে চিরে ফেলুক জায়গাটা, যেখানে বিশ্বাস নিয়ে বসিয়েছিলাম তাকে...বেঁচে যাব আমি, মুক্তি পাব। এ যাতনা আর যে সহেনা...'
আইরিনের দু'চোখে বন্যার পানি।
ভালো না বাসতে পেরে শেষ হয়ে গেছে তার ছেলেটা।
আর ভালো বাসতে পেরেও শেষ হয়ে যাচ্ছে এই মেয়েটা।
ভালোবাসা শব্দটা কে তৈরি করেছিল? কে ছিল এর আবিষ্কার? কেন বলে দিয়ে যায়নি, ভালোবাসা কেবলই এক চমৎকার উপাখ্যান নয়, এক ভয়ংকর অভিশাপ?
লতা সুযোগ পেয়ে তেড়ে এলেন আবারও,
'তোর হাত ভেঙে আমি যদি গলায় না ঝুলাইছি...' বলতে বলতে আরও একবার গায়ে হাত তোলার পায়তারা করলেন তিনি, এবারে বিকেল একদম স্থির, নিথর, যেন কেউ মে রে ফেললেও তার প্রতিবাদ করার কিচ্ছু নেই। আইরিন ডাকলেন, 'ভাবি, খবরদার!'
তাকে ঠ্যালা দিয়ে সরিয়ে দিলেন লতা, 'একদম চুপ, দরদ উথলায়ে পড়ে, না?'
এগোলেন তিনি, হাতের মুঠিতে বিকেলের চুল গুলি গোচ্ছাকারে পেঁচিয়ে ধরতেই দরজা থেকে ভেসে আসে কর্কশ কণ্ঠস্বর, 'কত্তবড় সাহস, আমার মেয়ের চুল ধরছোস চুন্নি...ছাড় বললাম!!'
আইরিনের সঙ্গে সঙ্গে লতাও মুখ ঘুরিয়ে তাকালেন৷ অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করলেন দিশাকে, রাগে রীতিমতো ফুঁসছে সে। বিকেলের এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে দিশা এক মূর্তিমান প্রতিশোধের দেবী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেন।
(চলবে)
_______
আপনারা সবাই রেসপন্স করেন না, কারণ কি?
পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি পেতে চাইলে এই পর্বে ৯০০ লাইক করে দিন। আর এই পোস্টটা দেখে আসুন, আমার একটা বই আছে এবারের বইমেলায় জানেন তো?
পোস্ট লিংক- https://www.facebook.com/share/p/1Ch8uo7MCa/