ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের নির্বসন

৪৬তম পর্ব

লেখক: মৃধা মৌনি

#প্রেমের_নির্বাসন - (৪৬)

লেখনীতে - #মৃধা_মৌনি

______________

জড়সড় পায়ে ছাদের দরজায় এসে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। প্রায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন নিশ্চুপে। দিশাকে পেছন দিক থেকে একদৃষ্টে দেখতে লাগলেন কারণ ছাড়াই। সে যে কথা বলছে, তাও শুনলেন রেহনুমা। কথাগুলো গুছিয়ে নিলেন ভেতরে ভেতরে। কিভাবে বলবেন, কি বলবেন - তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে দিশার ঠিক পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। দিশা চমকে পেছন ঘুরে চাইতে গিয়ে পা পিছলে স্লিপ কেটে পড়ার ভঙ্গিমা হলো। রেহনুমা সময় মতো তাকে ধরে সামলে নিলেন। হাত ছাড়িয়ে দিশা অল্প হাসে ধকধক করতে থাকা হৃদযন্ত্র নিয়ে, 'থ্যাংকিউ!' বলে উঠল সে।

রেহনুমা ও অল্প হাসি ছুঁড়ে দিলেন প্রত্যুত্তরে।

'ভয় পাইয়ে দিয়েছিলাম?'

'না মানে ওই... হঠাৎ কে এল দেখতে...'

দিশা আমতা আমতা করে। পরমুহূর্তেই গলার স্বর বদলে আওড়ায়, 'গোসল কি শেষ? ডাকতে এসেছেন?'

রেহনুমা দুই ধারে ঘাড় নাড়লেন, 'শেষ, কিন্তু ডাকতে আসিনি।'

'তবে?'

চুপ করে রইলেন তিনি। দিশা ফোনের স্ক্রিন জ্বেলে সময় দেখে নিল। ছটা বাজতে ছয় মিনিট বাকি। শফিক এসে পড়বে। এখান থেকে বেরোতে হবে। একদণ্ড মন টিকছে না আর...তাই কথা যা শোনার দ্রুতই শুনতে হবে। হাতে অত সময় নেই।

দিশাকে ঘড়িতে নজর আঁটকাতে দেখে রেহনুমা ছোট করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'চলে যাবে?'

দিশা সম্বিৎ ফিরে পাওয়া ভঙ্গিতে আকস্মিক মুখ তুলে চেয়ে শুধাল, 'থাকতে তো আসিনি!'

'আজকের রাতটা?'

'আমার হাজবেন্ড নিতে আসছেন আমায়।'

কবরের নীরবতা নেমে এল এরপর। দু'জনেই উশখুশ করছে ভীষণ। অথচ দু'জনের হৃদয়ের গভীরেই যে নদীর স্রোত বয়ে চলছে, তা সমান...একই গতির..একই মোহনায় মিশতে চায়!

অবশেষে নীরবতা ভাঙিয়ে দিশা তাড়া কণ্ঠে বলে উঠল, 'আপনি কিছু বলতে চাইলে বলতে পারেন।'

রেহনুমা ভেজা চোখে মেয়েটার দিকে তাকালেন, 'তুমি কি আমায় ক্ষমা করেছ দিশা?' জিজ্ঞেস করলেন ভারী স্বরে।

দিশা থতমত খেল সামান্য। জড়তা কণ্ঠে বলল, 'আপনি তো আমার সাথে কিছু করেননি। তাহলে ক্ষমা করার প্রশ্নটা আসছে কেন?'

'আমার স্বামী করেছে...সে হিসেবে আমিও তো দোষী।' এগিয়ে এলেন রেহনুমা, দিশার হাত দুটি চেপে ধরে তরঙ্গ কণ্ঠে বললেন, 'আমি স্ত্রী হয়েও তাকে ন্যায়ের পথে রাখতে পারিনি। তার মান, মর্যাদার দাম দিতে দিতে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম, প্রতিটা মানুষেরই মান-মর্যাদা, দাম আছে...নিজের সন্তানের পরোয়াও করিনি। যদি করতাম, আজকে আমার ছেলেটা...এমন পাগল বনে যেতো না।'

দিশা হাত ছাড়িয়ে নিল। ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে পড়ল নাসিকাপথ ভেদ করে, থম ধরা সুরে শুধাল, 'ভুল বলেননি। আপনি যদি একটু শক্ত হতেন, আজ আমার মেয়েটাও...'

রেহনুমা চোখের পানি মুছলেন শাড়ির আঁচলে, 'দুইটা জীবন ধ্বংসের দায় কেবল আমার, আমি মাথা পেতে নেই। যা শাস্তি হবে তাও স্বীকার করতে রাজি। শুধু তুমি বিকেলকে এনে দাও। ও এ বাড়িতে পা রাখলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। সবকিছু...আমার ছেলেটাকে বাঁচাও! প্লিজ।'

দু'হাত জড়ো করে ধরলেন তিনি। দিশা হতভম্ব, একই সঙ্গে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কি বলবে- বুঝতে না পেরে এগিয়ে এসে উনার জড়ো হাত দুটো চেপে ধরে আলগোছে, কণ্ঠে নির্ভরতা মিশিয়ে বলে, 'ও আসবে। কিন্তু আসার পর সম্পূর্ণ সিদ্ধান্তটাই ওর একার, ব্যক্তিগত। আমি হস্তক্ষেপ করব না। এমনকি আপনি ও না। প্লিজ!'

রেহনুমা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

দিশা বলল, 'ওর জীবনটা ও কীভাবে কাটাবে, কার সঙ্গে কাটাবে, কোথায় কাটাবে, সব সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র ওর! আপনি, আমি, আমরা কেউ ওকে জোর করব না। শুধু একবার ওর মুখোমুখি হওয়া দরকার বলেই আমি ওকে আসতে বলেছি।'

'আমার ছেলেটা ওকে...ভীষণ ভালোবাসে!'

দিশা প্রত্যুত্তর করল না এ কথার। রেহনুমা আবারও চোখের পানি মুছতে লাগলেন। একটা গাড়ির হর্ন ভেসে এল নিচ থেকে। অচেনা নয়, চেনাই...দিশা সেদিকে চেয়ে বলে উঠল, 'যাওয়ার সময় হয়েছে। ভালো থাকবেন।'

আরও অনেক অনেক কিছুই বলার ছিল রেহনুমার। অনেক অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষমা- কিন্তু কিচ্ছুই বলা হলো না শেষে। সব কেমন এলোমেলো, অগোছালো, কোথাও এক রত্তি শান্তি নেই যেন। রেহনুমা ধীর পায়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে আসলেন ক্ষানিক পরে...

এক হাতে স্টিয়ারিং, অন্য হাতে দিশার হাতটা নিবিড়ভাবে আঁকড়ে ধরে ড্রাইভ করছেন শফিক সাহেব। দিশা বড্ড বেশি শান্ত এখন। পরনের শাড়িটা বদলে নিয়েছে; শফিক সাহেব কিছু জিজ্ঞেস না করেও বুঝে নিলেন—ওটা হয়তো ও বাড়িতেই ছিল। আসলে বিদায়বেলায় সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে বের হওয়া যায় না। মানুষ কোথাও থেকে যাওয়ার সময় অবলীলায় কিছু না কিছু ফেলে যায়—হয় জিনিসপত্র, নয়তো মায়া, কিংবা এক বুক স্মৃতি!

বাইরে বৃষ্টি থেমেছে বটে, কিন্তু আকাশের মেঘ সরেনি। প্রকৃতিজুড়ে গুমোট ভাব। মনে হচ্ছে, ঝড়টা কেবল এই মানুষগুলোর জীবনেই বয়ে যাচ্ছে না, প্রকৃতিও সমানতালে তার শোকের ভাগিদার হচ্ছে।

নীরবতা ভাঙল শ্রীকান্তের কণ্ঠস্বরে,

'মেঘ হলে মন বিকেল বেলায়

একলা যেতাম মেঘের বাড়ি

মেঘ হত কাশফুলের দু'চোখ

বৃষ্টি কিন্তু খুব আনাড়ি...'

গাড়ির মৃদু ভলিউমে গানের সুরটা দিশার ধ্যানে হানা দিল। ও ঘোর কাটিয়ে শফিকের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ছুঁড়ে দেয়। শফিক সাহেবও প্রতিউত্তরে হাসলেন, আলতো করে জানতে চাইলেন, 'কোথাও দাঁড়াব?'

দিশা খানিকটা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, 'কেন?'

'মাথার ওপর মেঘ নিয়ে পথ চলতে আনন্দ লাগে। এমন আবহাওয়ায় ছোট ফুচকা কিংবা একটা হাওয়াই মিঠাই মন্দ হয় না। তবে দশ টাকার বাদাম খাওয়ার মতো ধৈর্য্য বোধহয় এই মুহূর্তে হবে না, সারাক্ষণ মনে হবে—এই বুঝি বৃষ্টি নামল!'

দিশার চোখেমুখে একরাশ বিস্ময়! অবাক হয়ে বলল, 'বাপরে! তুমি তো পুরোই কবি হয়ে গেলে দেখছি!'

'পাশে এমন সুন্দরী থাকলে কবি না হয়ে উপায় আছে বলো?' শফিকের চটজলদি উত্তর।

দিশা হেসে গড়িয়ে পড়ল শফিকের কাঁধে, আরও নিবিড়ভাবে চেপে বসল তাঁর বাহুডোরে। কিন্তু পরক্ষণেই হাসির রেশটুকু মিলিয়ে গিয়ে কণ্ঠটা ভারি হয়ে এল তার। আনমনা হয়ে শুধাল, 'কেন যেন খুব মন খারাপ লাগছে, শফিক।'

শফিক শান্ত স্বরে বললেন, 'হওয়াটাই স্বাভাবিক।'

'মন খারাপের চেয়েও বেশি হচ্ছে চিন্তা,' দিশার কণ্ঠে অনিশ্চয়তার সুর।

শফিক আশ্বস্ত করলেন, 'তোমার মেয়ে কতটা শক্ত, তুমি জানো না?'

'ও পারবে তো সবটা সামলাতে? আবার যদি আবেগ আর পরিস্থিতির চাপে হাবুডুবু খায়?'

'খাবে না। আগে ওর সঙ্গে তুমি একা ছিলে, এখন তো আমি পাশে আছি। সব ঠিক হয়ে যাবে।'

দিশা যেন এক টুকরো ভরসা খুঁজে পেল। শফিকের বাহুতে পরম আবেশে মাথা এলিয়ে দিয়ে বাইরের মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল। গাড়ি এগিয়ে চলছে তার আপন ছন্দে। গানের সুরগুলো কানে ভেসে এসে সোজা হৃদয়ে কড়া নাড়ছে। একসময় দিশাও সুর মেলাল সেই গানের সাথে,

'মন খারাপের মেঘের গায়ে

আঁকছে আকাশ একলা ছবি

মেঘ থেকে মেঘ শব্দে সুরে

গল্প সবই যন্ত্রণারই...'

★★★

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ব্যানফ শহরটা ছবির মতোই সুন্দর, যদিও এই মুহূর্তে বিকেলের চোখে সেই সৌন্দর্যের কানাকড়িও ধরা পড়ছে না। ব্যানফ পুলিশ স্টেশনের ভেতরটা বাইরের কনকনে ঠাণ্ডার চেয়েও আরও বেশি শীতল মনে হচ্ছে ওর কাছে। করিডোরগুলো অতিরিক্ত পরিষ্কার, ছিমছাম আর পেশাদারিত্বে মোড়া। কাঁচের ওপারে রকি মাউন্টেনের বরফশুভ্র চূড়া দেখা যাচ্ছে। স্টেশনের ভেতরে যান্ত্রিক নীরবতা। মাঝেমধ্যে কেবল কোনো অফিসারের বুটের শব্দ কিংবা দূর থেকে ভেসে আসা ওয়্যারলেসের অস্পষ্ট ঘড়ঘড়ানি এই নীরবতা ভাঙছে।

অপেক্ষমাণ কক্ষের কাঠের বেঞ্চটাতে পাশাপাশি বসে আছে বিকেল আর শ্যামা। দশ মিনিট পার হয়ে গেছে, তবু মনে হয়, সময় বুঝি স্থির। শ্যামা বড় বেশি স্তব্ধ। ওর কোলের ওপর সযত্নে রাখা একটা উজ্জ্বল হলুদ রঙের স্মাইলি ফেস ডল। অদ্ভুত বৈপরীত্য! প্লাস্টিকের পুতুলটার মুখে চিরস্থায়ী এক চিলতে হাসি, অথচ যে মেয়েটা ওটাকে আঁকড়ে ধরে আছে, তার চোখেমুখে রাজ্যের অন্ধকার।

পুতুলটা বিকেলের ছিল। নিতান্তই খেয়ালের বশে কেনা। অথচ আজ সেটা শ্যামার অবুঝ হৃদয়ের শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছে মনে হয়। স্টেশনে আসার আগে বিকেল বলেছিল, 'পুতুলটা বাসায় রেখে যাই?'

শ্যামা শোনেনি। জেদ নিয়ে ওটাকে বুকের সাথে লেপ্টে রেখেছে সে। যেন এই নিস্প্রাণ পুতুলটাই ওর একমাত্র চেনা জগত।

বিকেল আড়চোখে শ্যামার দিকে তাকাল। মেয়েটার ছোট ছোট আঙুলগুলো পুতুলটাকে এমনভাবে জাপটে ধরে আছে, যেন একটু আলগা করলেই সবটুকু মায়া হাতছাড়া হয়ে যাবে। বিকেল খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, 'তোমার কি খুব ভয় করছে, শ্যামা?'

শ্যামা পলকহীন চোখে সামনের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে। ধীরে ধীরে দু’দিকে মাথা নাড়ল। যার অর্থ 'না'।

'কিন্তু আমার কেন যেন খুব ভয় করছে!' দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে পড়ল বুক চিরে।

বড় বড় চোখ মেলে চাইল ছোট্ট মেয়েটা কথাটা শুনে, পরক্ষণেই নিজের ছোট হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বিকেলের শক্ত হাতটা সজোরে চেপে ধরল। নিঃশব্দে এক আকাশ সমান নির্ভরতা আর ভরসা দিয়ে যেন ও বলতে চাইছে—'আমি তো আছি, ভয় পেও না।'

করিডোর দিয়ে একজন নারী পুলিশ অফিসার এগিয়ে এলেন তখনই। বাঙালি মুখাবয়ব, তীক্ষ্ণ চোখ আর পরিপাটি ইউনিফর্মে তাঁকে বেশ দৃঢ় দেখাচ্ছে। তিনি কাছে এসে বিকেলের দিকে তাকিয়ে পেশাদার হাসি দিয়ে গ্রিট করলেন। তারপর একটু নিচু হয়ে শ্যামার দিকে তাকিয়ে বললেন, 'হাই লিটল ওয়ান! কেমন আছ তুমি?'

শ্যামা কোনো উত্তর দিল না। পাথরের মূর্তির মতো বসা মেয়েটা আরেকটু শক্ত হয়ে বোঝালো, ওর কানে বাইরের পৃথিবীর কোনো কথাই ঢুকছে না বুঝি। অফিসার অবশ্য গা করলেন না, ইশারায় ওদের ভেতরে আসার অনুরোধ জানালেন শুধু।

ওদের সঙ্গে নিয়ে ভেতরের দিকে একটা বিশেষ কক্ষের দিকে হাঁটতে শুরু করলেন ভদ্রমহিলা। বিকেলের পায়ের নিচে মেঝেটা কাঁপছে বোধহয়। যত এগোচ্ছে, ওর বুকের ভেতরটা তত বেশি অবাধ্য হয়ে উঠছে। ধকধক শব্দটা ও নিজেই শুনতে পাচ্ছে কান পাতলে।

শ্যামা মেয়েটার সঙ্গে ওর রক্তের কোনো টান নেই, নেই বহু বছরের কোনো চেনা ইতিহাস। স্রেফ কয়েকটা দিনের পরিচয় আর কিছু ভাগ করে নেওয়া মুহূর্ত। অথচ এই ক্ষণিকের পরিচয়েই মেয়েটা কীভাবে যেন ওর অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে! আজ ওকে ওর আসল মায়ের হাতে সঁপে দিয়ে আসতে হবে ভাবতেই বিকেলের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠছে। এক ধরণের তীব্র হাহাকার ওর গলা পর্যন্ত উঠে আসছে বারবার।

করিডোরের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যখন দরজাটা খুলে গেল, বিকেল দেখতে পেল ভেতরে অপেক্ষা করছেন একজন নারী। ইনিই বোধহয় শ্যামার জন্মদাত্রী মা। শ্যামা তখনো বিকেলের হাতটা একইভাবে শক্ত করে ধরে রেখেছে। মেয়েটার মনে হয়, এই বন্ধনটা ছিন্ন করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। র★ক্ত নেই তো কী হয়েছে, হৃদয়ের টান কি সবসময় পরিচয় মেনে চলে?

সময় বুঝি বালুঘড়ির মতো থমকে আছে। ভারী দরজাটা ঠেলে নারী পুলিশ অফিসারটি ভেতরে পা রাখতেই কক্ষের গুমোট আবহাওয়ায় এক চিলতে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ খেলে যায়। কক্ষের এক কোণে একটি চেয়ারে পাথরের মূর্তির মতো বসে ছিলেন আরেকজন, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মুখাবয়ব আর ক্লান্ত চোখের নিচে পুরোদস্তুর কালি জমে গেছে।

'হেয়ার ইজ ইয়োর ডটার, মিসেস লোকমান।' শান্ত, গম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণার ন্যায় বললেন পুলিশ ভদ্রমহিলা।

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই নিশ্চল নারীদেহে প্রাণ ফিরে এল যেন। এক মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গেল, পরের মুহূর্তেই একটা তীব্র আকর্ষণে তিনি চেয়ার ছেড়ে ছিটকে বেরিয়ে এলেন। হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে, চারপাশের জগত-সংসার ভুলে এক লহমায় ছুটে এলেন ছোট শ্যামার কাছে।

বিকেলের হাত তখনো শ্যামার ছোট্ট আঙুলগুলো দিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরা। কিন্তু মাতৃত্বের আদিম আর অদম্য টানের কাছে বিকেলের স্পর্শ বড় অসহায় পড়ল। নারীটি উপুড় হয়ে বসে দুহাতে তুলে নিলেন শ্যামাকে। শ্যামা ছাড়তে চাইছিল না, বিকেলের হাতটা আঁকড়ে ধরার শেষ চেষ্টাটুকু সে করেছিল, কিন্তু নারীটির প্রবল আবেগের ঝড়ে তার ক্ষুদ্র প্রতিরোধ খড়কুটোর মতো উড়ে গেল।

নারীটি শ্যামাকে বুকের গভীরে পিষে ফেলে কপালে, গালে, চিবুকে অজস্র চুমোয় ভরিয়ে দিতে লাগলেন। তাঁর প্রতিটি চুম্বনে মিশে দীর্ঘদিনের হাহাকার, অপরাধবোধ আর না পাওয়ার যন্ত্রণা। বিকেল বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে এই দৃশ্য। ওর চোখের সামনে অলৌকিক কিছু ঘটে যাচ্ছে যেন। কিন্তু বিস্ময়টা কেবলই এই পুনর্মিলন নিয়ে ছিল না; বিস্ময়টা ছিল এই নারীর অবয়ব নিয়ে।

একটু ভালো করে তাকাতেই বিকেলের পায়ের তলার মাটি সরে যায়। হৃদপিণ্ডটা সজোরে পাঁজরে আঘাত করল একবার। এ মুখ তো তার চেনা! অনেক আগের চেনা! ধুলো জমা স্মৃতির পাতা উল্টে এক লহমায় বর্তমানের সাথে অতীত মিলেমিশে একাকার হয়ে পড়ে। এই সেই নারী, যাকে কেন্দ্র করেই বিকেলের জীবনের গল্পের শুরুটা হয়েছিল।

আদিবা! হ্যাঁ, এ তো আদিবাই! সেই চেনা চোখ, সেই চেনা কপাল, শুধু সময়ের টানে সেখানে কিছুটা ক্লান্তির ছাপ পড়েছে।

আদিবা তখনো বিকেলকে লক্ষ্য করেনি। তার সমস্ত পৃথিবী এখন ওই ছোট্ট সোনামণির চারধারে ঘূর্ণমান। সে পাগলের মতো শ্যামাকে আদর করে যাচ্ছে, চোখের নোনা জলে শ্যামার গাল ভিজিয়ে দিচ্ছে। আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে দিতে আদিবা ফুঁপিয়ে উঠল, অবরুদ্ধ কণ্ঠে বলতে লাগল,

'সরি মাম্মাম, এতগুলো সরি মা! প্লিজ মাম্মামকে মাফ করে দাও। আই প্রমিস, আই উইল অলওয়েজ বি উইথ ইউ... অলওয়েজ!'

শ্যামা নিশ্চুপ। মার্বেল পাথরের মতো স্থির হয়ে মেয়েটা তাকিয়ে আছে তার জন্মদাত্রীর দিকে।

পরিবেশটা মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে উঠল। নারী পুলিশটি মৃদু স্বরে হস্তক্ষেপ করলেন। আদিবার কাঁধে হাত রেখে বললেন, 'প্লিজ, এবার একটু শান্ত হয়ে বসুন। যে আপনার বাচ্চাকে আপনার কোলে ফিরিয়ে দিল, তাকে একটা ধন্যবাদ তো জানানো উচিত, তাই না?'

আদিবা যেন সম্বিৎ ফিরে পায়। বাস্তবের মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ে। দ্রুত হাতে চোখের জল মুছে শ্যামাকে কোল থেকে নামিয়ে দাঁড় করাল। তারপর একটা উদ্ভ্রান্তের মতো হাসি নিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে করতে আওড়াল,

'সরি... আই অ্যাম সো সরি। আমি আসলে... বুঝতেই পারছেন, নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি,' বলতে বলতে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য বিকেলের দিকে মুখ ফেরাল সে।

সঙ্গে সঙ্গে আদিবার সারা শরীর দিয়ে হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ খেলে গেল যেন। কৃতজ্ঞতার হাসিটা ঠোঁটের কোণে জমে বরফ, চোখের মণি দুটো স্থির, অস্ফুট স্বরে প্রায় আর্তনাদের মতো করে উচ্চারণ করল নামখানি,

'বিকেল?'

উপর-নীচ মাথা নোয়ালো বিকেল,

'তুমি?'

প্রায় বিড়বিড় করে বলল আদিবাও, 'তুমি?'

পুলিশ ভদ্রমহিলা লম্বাটে হাসি হাসলেন তাই দেখে, 'আরে বাপরে, এ দেখি রিয়েল সিনেমা হা? আপনারা আগে থেকেই একে অপরকে চেনেন নাকি?'

আদিবা ঘাড় নাড়ল মৃদু ভঙ্গিতে, 'চিনতাম।'

'এখন চেনেন না নাকি?'

'চিনি।'

'যাইহোক, ভালো হলো আ? আসুন, কাগজপত্রের ঝামেলা সেড়ে যে যার বাড়ির পথ ধরুন দেখি। এ বছর এমন ঠান্ডা পড়ল বাবারে বাবা!'

ব্যানফ শহরের নির্জন পথ ধরে ওরা থানা থেকে বেরিয়ে এল যখন, তখন মরা রোদের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। যেদিকে চোখ যায়, সবটা ধবধবে সাদা তুষারে ঢাকা। হঠাৎ দেখলে মনে হয়, নিথর ক্যানভাস একটি। তবে যান্ত্রিক ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করে রাখা হয়েছে বলে হাঁটতে মন্দ লাগছে না। আদিবা আর বিকেল—দুজনেই হাঁটছে পাশাপাশি, অথচ মাঝখানে এঁটে যেন এক দুস্তর নীরবতার দেয়াল। কোলজুড়ে ঘুমন্ত শ্যামা আদিবার ঘাড়ের ওপর থুতনি ঠেকিয়ে নিশ্চুপ হয়ে আছে।

বিকেল আড়চোখে একবার হাতের ঘড়িটা দেখে নিল। কুয়াশাভেজা এই সকালে শহরের অধিকাংশ মানুষই লেপের ওমের তলে। কেবল দূরে দু-একজনকে দেখা যায়, স্পোর্টস গিয়ার পরে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছে। নীরবতা অসহ্য হয়ে উঠলে বিকেল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হঠাৎ বলে উঠল, 'মেয়েটাকে পালতে না পারলে কাউকে দিয়ে দিও। তবু এভাবে আর...'

কথাটা অসমাপ্ত থাকলেও তার কঠোরতা আদিবার বুকের ভেতরটা দুমড়ে দিল। নিজের অপরাধবোধ আর অভিমানে জড়সড় হয়ে থাকা মনট আরও কুঁকড়ে যায়। কণ্ঠে কিঞ্চিৎ বিষাদমাখা বিদ্রুপ মিশিয়ে সে পাল্টা জবাবে বলল, 'তোমার সঙ্গে আমার পরিচয়টা বারবার ভুল সময়ে, ভুল ভাবেই হলো বিকেল! প্রথমে তোমার প্রিয়তমার সতীন হিসেবে, তারপর তোমার ভাইয়ের খুনি হিসেবে, আর এখন...'

'আমার কোনো প্রিয়তমা নেই। আর অতীতে কী হয়েছে না হয়েছে, সেসব আমি মনেও রাখিনি,' আদিবাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই শক্ত গলায় বলে উঠল বিকেল।

পরক্ষণেই ভাবহীন গম্ভীর স্বরে শুধায়, 'বাড়ি ফিরতে পারবে? উবার ডেকেছ?'

আদিবা থমকে দাঁড়ায়। বিকেলের এই অতি-দ্রুত বিদায় নেওয়ার তাড়াহুড়ো তাকে আহত করছে। কয়েক মুহূর্ত নীরব থেকে সে ক্ষীণ স্বরে জিজ্ঞেস করল, 'তোমার কি ভীষণ তাড়া?'

বিকেল মাথা নাড়ল, কিন্তু সেই নাড়ানোর ভঙ্গিটা সম্মতির না কি অসম্মতির, তা ঠিক বোঝা গেল না। আদিবা দ্বিধা কাটিয়ে একটা শেষ আবদার করে বসে সাহস করেই, 'এক কাপ কফি কি সম্ভব নয়? হতে পারে, এই দেখাই আমাদের শেষ দেখা।'

বিকেলের নাসিকাপথ বেয়ে একটা শীতল নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে। হয়তো পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই হোক বা আদিবার কণ্ঠের চাপা হাহাকারের কারণেই হোক, সে নিচু স্বরে জানাল, 'চলো।'

মূল শহরের কাছাকাছি একটা ছোট ক্যাফেতে গিয়ে বসল ওরা। ছুটির দিন বলে ভিড় তুলনামূলক কম, নয়তো এই সময়টায় এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কোণাকুণি একটা টেবিল বেছে নিয়ে দুজনে বসল মুখোমুখি। শ্যামা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তবু আদিবা তাকে বুক থেকে নামাল না। বিকেলের ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল— সেটা তাচ্ছিল্যের না কি কষ্টের, তা বলা কঠিন। যে মেয়েকে এক সময় রাস্তার ধারে ফেলে দিতে দ্বিধা করেনি, আজ তাকে নিয়ে এত মমতা! আহ্লাদ!

কথা শুরু করল আদিবাই। টেবিলের ওপর রাখা কফি কাপের বাষ্পের দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বলল, 'তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে না তুমি আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক। তবু এতগুলো বছর পর তোমাকে দেখে আমি লোভ সামলাতে পারলাম না। কিছু কথা খুব জমে ছিল...'

বিকেল নির্লিপ্ত। শুধু সংক্ষেপে শুধাল, 'বলো কী বলতে চাও।'

'ইয়ে মানে... অন্যভাবে নিও না, বাড়ির সবাই কেমন আছে?' আদিবার গলায় সংকোচ।

এবার শব্দ করেই হাসল মেয়েটা, 'ভালো থাকার কী কথা আমার ফুপ্পির? তবে হ্যাঁ, ভালোই আছে হয়তো।'

'হয়তো মানে? এভাবে বলছ কেন?'

'কারণ আমি নিজেই মির্জা ফ্যামিলির কোনো সদস্যের সাথে এখন আর কানেক্টেড নই।'

বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো বুঝি। অবাক হলো আদিবা। সেই বিস্ময় চেপে রাখতে পারল না কণ্ঠে, 'কেন?' জানতে চাইল আহত স্বরে।

বিকেলের ভ্রু কুঁচকে এল, চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়, 'সেটা তো একান্তই আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তাই না?'

চট করে নিজেকে সামলে নিল মেয়েটা। লজ্জিত হলো বটে, 'হ্যাঁ, সরি। আসলে আমি একটু বেশিই প্রশ্ন করে ফেলছি বোধহয়।'

বিকেল আবার তার হাতের ঘড়ি দেখে। তার শরীরী ভাষা বলে দিচ্ছে সে এই মুহূর্ত থেকে মুক্তি চায়।

'আমার একটু কাজ ছিল, আজ তবে উঠি।' সে উঠে দাঁড়াল। অবচেতন মনেই তার হাতটা একবার শ্যামার কপালে ছোঁয়ার জন্য এগিয়ে যায়, কিন্তু মাঝপথেই বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মতো হাতটা গুটিয়ে নিল সে।

যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আদিবা আর্তস্বরে বলে ওঠে, 'জানি না তুমি আমায় কতখানি খারাপ ভাবো বিকেল। কিন্তু জানো, ভুলটা আমারই ছিল সবচেয়ে বেশি। সৌম্য কোনোদিন আমায় মন থেকে সেই ভালোবাসাটা বাসেনি, যেটা আমি ওকে বেসেছিলাম। ও শুধু আমার মোহে জড়িয়ে গিয়েছিল। ও আমাকে ফেলতেও পারছিল না, আবার মন থেকে গ্রহণ করতেও পারছিল না। ভেবেছিল ঘর বাঁধলে সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু হয়নি। আমি কোনোদিন ওকে ভালো রাখতে পারিনি। এমনকি ওর মনের সেই দ্বন্দ্বটা বোঝার চেষ্টাও করিনি। ওর চলে যাওয়ার পেছনের পুরো দায়টা আমার... শুধু আমার একার।'

আদিবা কথা শেষ করে থামল। ওর গলার স্বরে ঝরে পড়া অপরাধবোধ ক্যাফের উষ্ণ আবহাওয়াকেও এক নিমিষে শীতল করে দিল। বিকেল পাথরের মতো আবারও বসে থেকে সবটা শোনে। তারপর খুব নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন জানতে চায়, 'তাহলে সেই ভুলের মাশুল তুমি না দিয়েই কেন এভাবে হারিয়ে গেলে, হুম?'

আদিবা মাথা তুলে বিকেলের দিকে চায়। ওর টলটলে দুচোখ শ্রাবণের মেঘের মতো জলে ভরা, অথচ ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি। ম্লান সেই হাসিতে একরাশ অবজ্ঞা মিশে আছে। মেয়েটা ধরা গলায় বলে, 'কে বলল মাশুল দিইনি?'

বিকেলের ভ্রু কুঁচকে এল। আদিবা নিজের কোলজুড়ে পরম শান্তিতে ঘুমানো ছোট্ট শ্যামার দিকে অপলক চোখে চায়। তারপর বিকেলের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলে ওঠে, 'ও সৌম্য আর আমার সন্তান, বিকেল।'

কথাটা শুনে বিকেলের মনে হয়, ঠিক মাথার ওপর ছোটখাটো একটা বজ্রপাত হয়েছে। নিমিষেই ওর চারপাশটা ঝাপসা হয়ে আসে। মেয়েটা স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল আদিবার ঘাড়ের ওপর থুতনি ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ওই নিষ্পাপ মুখখানির দিকে। ওইটুকু মুখচ্ছবিতে কি তবে ওরই ভাইয়ের আদল মিশে আছে?

আদিবা একইভাবে বলে চলল পরে, 'এই সত্যিটা যেদিন তোমার ভাইকে জানিয়েছিলাম, তার ঠিক দুদিন পরই ও সুইসাইড করে। আসলে আর পারছিল না ও... ভয় আর আতঙ্কের সেই পাহাড়টা আর বইতে পারছিল না। পরিবার, আপনজন, পরিচিত সবার কাছে বারবার কটাক্ষের শিকার হওয়া, হাস্যকর এক বস্তুতে পরিণত হওয়া—এসব ওর সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছিল। নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আগে ও একবারও ভাবেনি কারো কথা। আমার কথা তো ছেড়েই দাও, ও ওর র★ক্তে বেড়ে ওঠা এই শিশুটার কথাও এক মুহূর্ত ভাবেনি!'

বিকেল হতভম্ব গলায় কোনোমতে শুধাল, 'এত বড় একটা কথা কাউকে জানাওনি কেন?:

বিনিময়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে নাসিকাপথ ভেদ করে। চোখ দুটো জানলার বাইরে ধূসর তুষারপাতের দিকে নিবদ্ধ।

থম ধরা কণ্ঠে বলতে থাকল, 'কী বলতাম? কী জানাতাম সবাইকে? যে তোমাদের আদরের ছেলের অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী আমার গর্ভে বড় হওয়া এই ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুটা? সমাজ কি ওকে মেনে নিত, না কি ওর গায়েও খুনি তকমা মেখে দিত?'

বিকেল স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। কথা বলার শক্তিটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে এই মুহূর্তে। এর মধ্যেই ক্যাফের পরিচারক এসে টেবিলের ওপর ধোঁয়া ওঠা দুটো কফি মগ রেখে গেল পুনরায়। আদিবা যান্ত্রিকভাবে নিজের মগটা টেনে নেয়। এক চুমুক কফি গলার নিচে নামিয়ে একটু সময় নিল সে।

বিকেলের কণ্ঠস্বর থমথমে। ভেতরের অস্থিরতা আড়াল করে জানতে চাইল, 'কী নাম ওর?'

আদিবা মমতাভরা চোখে কোলের শিশুটির নরম গাল আর কপালে হাত বুলায়।

ফিসফিস করে জানাল, 'সন্ধ্যা! সৌম্যর মেয়ে সন্ধ্যা।'

বাইরের তুষারশুভ্র জগতের সাথে মিল রেখে ছোট্ট দেবশিশুটির নামখানাও যেন এক বিষাদমাখা সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে ফুটে ওঠে।

(চলবে)

_______

বাহিরে আছি, ডাক্তারের কাছে।

রি-চেইক করার সময় বা সুযোগটা এই মুহূর্তে নেই। কোথাও ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সবাই রেসপন্স করবেন, হ্যাপি রিডিং ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন