পর্ব - ২৬
কেঁদেকেটে অস্থির হয়ে যাওয়ার মতো মেয়ে প্রিসিলা নয়, তাও আবার ইয়াশের চিরাচরিত উদ্যত আচরণে। তবে আজকে কেন যেন ওর কথাগুলো সোজা বুকের পাঁজরে বিধলো। ভেতরের সত্তাটা বড্ড কাতর হয়ে জানতে চাইলো,
সত্যিই কি তোমার কিছু যায় আসে না ইয়াশ? যদি তাই হয় তবে তুমি এতোটা রিয়্যাক্ট কেন করলে? কেন তখন উদ্ভ্রান্ত হয়ে নিভানকে সম্পর্কের জোর দেখালে?
মনের মাঝে হাজারটা প্রশ্ন থাকলেও মুখে কিছু বললো না মে-য়েটা। শুধু জানতে চাইলো,
তাহলে বাড়িতে কেন ফেরোনি?
তোকে কৈফিয়ত দিতে হবে? কে তুই? হু দ্যা হেল আর ইট্য?
হাজার চেষ্টা করেও নিজেদের সম্পর্কের নামটা মুখে উচ্চারণ করতে পারলো না প্রিসিলা। অতর্কিত অপমানে থমথম করে উঠলো তার মুখ। এতোক্ষণ ধরে গলার কাছে আঁটকে থাকা কা-ন্নার ডেলাটা এবার বুঝি উগড়ে বেড়িয়ে আসবে। ইয়াশ এতো সহজে সবকিছু বলে দিলো, তারমানে কি প্রিসিলার ধারণা ভুল? আজকে সকালে ইয়াশ যে ওভাবে হিংস্র হয়েছিল, সেটা কি কে-বলই লোক দেখানো?
কোনোমতে কান্না গিলে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলো প্রিসিলা। বললো,
ইউ্য আর বিয়িং সো রুড ইয়াশ।
আইই এ্যামম রুডড!
ইয়াশের শেষ প্রত্যুত্তরে ভেঙে গেলো সব বাঁধ। ভারী নিঃশ্বাসের সঙ্গে পালাক্রমে কানে ভেসে এলো ফুপিয়ে ওঠার ক্ষীণ আও-য়াজ। ইয়াশ আবারও ঝুকলো। ও ঝুঁকে আসাতে সামান্য কেঁপে উঠল প্রিসিলার বুক। নিঃশ্বাস আঁটকে রইলো মাঝপথে। রমণীর ভয়, জড়তা, অভিমান সবকিছুকে স্বার্থপরের মতোই অগ্রাহ্য করে গেলো ছেলেটা। চোখের কোনে জলটুকু যেন দেখেও দেখলো না। উল্টো রুক্ষ আওয়াজে বলে উঠলো,
বিডিতে আসার পর থেকে অনেক জ্বালিয়েছিস, আর না। তোর সঙ্গে আগের মতো বিহেভ করিনা বলে ভাবছিস তুই অনেক ইম্পর্ট্যান্ট রোল প্লে করে ফেলেছিস? যা মন চাইবে তাই করবি? বাট ইউ আর রং, ইউ্য হ্যাভ অলওয়েজ বিন ডিজগাস্টিং ইন মাই আইস। আজ এই মূহুর্ত থেকে তুই আমাকে ফলো করবি না, জা-স্ট গেট লস্ট!
বলেই শক্ত হাতে প্রিসিলাকে ধাক্কা দিয়ে বালুচরের উপর ছুঁড়ে ফেললো ইয়াশ। তারপর আর ফিরেও তাকালো না। ঘাড় ঘুরিয়ে সোজা হারিয়ে গেলো প্রহেলিকায়। এবার আর আটকালো না ওকে প্রিসিলা। শুধু তাকিয়ে দেখলো আহত চোখে। কান্নার দমকে কন্ঠ বুজে আসছে তার। শরীরটা অস্বাভাবিক ভাবে কাঁ-পছে। বারবার মনে হচ্ছে এক্ষুণি চেতনা হারাবে সে।
জীবনের কখনো কোথাও এতো বড় হোঁচট খায়নি প্রিসিলা। আজকের এই ধাক্কাটা ওকে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেছে, বু-ঝিয়ে দিয়েছে ও ঠিক কতটা বোকা। ইয়াশ ইউভানের মতো একটা স্বার্থপর, অমানুষ যে কিনা সারাটা জীবন ওকে হেয় করে এসেছে তারজন্যই হঠাৎ এতোটা তীক্ষ্ণ অনুভূতি কি করে জন্ম নিলো ওর মনে? শুধুমাত্র ইয়াশের ড্যাডের ভালোবাসার তীব্রতা কল্পনা করে ইয়াশকেও একই মাপকাঠিতে মেপে ফেলেছিল প্রি-সিলা। এটাকি বোকামো নয়?
শেষ প্রশ্নটা মাথায় আসতেই দ্রুত হাতের পিঠে চোখ মুছলো প্রি-সিলা। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা ধরলো স্রোতের উল্টো দিকে। অস্বাভাবিক যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে তার বুক। না চাইতেও অব-চেতন হাত গিয়ে ঠেকলো বুকের উপর। তৎক্ষনাৎ স্বগোতক্তি করে আওড়ালো,
--পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা আমি যে মানুষটাকে করি, তা-কেই সবচেয়ে বেশি চাই। এটাকি ডেসটিনি?
প্রিসিলার করা প্রশ্নের নিমিত্তেই বুঝি একগুচ্ছ দৈবাৎ হাওয়া এসে উড়িয়ে নিয়ে গেলো সব। পরপরই শুরু হলো অঝোর ধারার বর্ষণ। আকাশটাও ডুকরে কেঁদে উঠেছে যেন। বৃষ্টিস্নাত সেই অন্ধকার বালুচল ধরে উদ্দেশ্যহীন হেঁটে যেতে যেতেই কাকে যেন ফোন করলো প্রিসিলা। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হতেই কিয়ৎ-ক্ষণের নীরবতা ভেঙে আবারও আচ্ছন্নের মতো কেঁদে উঠে বললো,
আমি মাম্মার কাছে যাবো রোহান। তুমি আর্জেন্ট ফ্লাইট বুক করো। আজকে, এক্ষুনি।
বান্দরবানের থানচি থেকেও প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একটা প্রত্যন্ত গ্রাম নাম লামাহু। সেখানেই বিশ সদস্যের একটা মেডি-কেল টিমের সঙ্গে গত তিনদিনের ক্যাম্পেইন শেষ করেছে হৃদ-মিলা। যেহেতু কাজ শেষ তাই আজকে রাতটা সবাই স্থানীয় আদিবাসীদের সঙ্গে নেচে-গেয়ে আনন্দে করে কাটাবে সবাই। তারপর কাল সকালে উঠে চাঁদের গাড়ি করে সোজা বান্দরবান। সেখান থেকে যে যার কর্মস্থলে ফিরে যাবে আবারও। যেহেতু সা-রারাত জাগবে সবাই তাই একটা ফাঁকা জায়গায় কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালানো হয়েছে। সেখানে আদিবাসী মেয়েদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নৃত্য করছে কয়েকজন। একদিকে হরদম চলছে বারবিকিউয়ের আয়োজন, আর অন্য দিকে ফ্রেশাররা মিলে গানের আসর বসিয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, আজকের গানের আসরে হৃদমিলার গীটার থাকলেও স্বয়ং হৃদ-মিলা উপস্থিত নেই।
লামাহু গ্রামের শেষ মাথায় সোজা উত্তরে একটা সবুজ পাহাড় রয়েছে। ঘন বন বনানীতে ঘেরা ওই একচিলতে জায়গাটা টুরিস্ট-দের মাঝে ভীষণ জনপ্রিয়। সঙ্গী হলেই সেখানটাতে ছোট খাটো একটা ভ্রাম্যমান কফি হাউজ বসে। স্থানীয় সব মুখরোচক খাবার দাবার গুলো পাওয়া যায় সেখানে। মূলত টুরিস্টদের কথা চিন্তা করেই এই ভ্রাম্যমান কফি হাউজটা গড়ে উঠেছে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে টুরিস্টরা এসে নিজেদের ভালোবাসার মানু-ষের সঙ্গে সময় কাঁটায় এখানে, সারারাত জেগে তারা সকালে সূ-র্যাস্ত দেখে। বনবিচ্ছুড়ি আর লতাগুল্মের ফাঁক বেয়ে যখন ভো-রের নরম রোদ হাতছানি দিয়ে ওঠে, তখন চারিপাশটাকে কেমন অদ্ভুত পবিত্র লাগে, মনে হয় সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া এই পৃথিবীটা বড় আদুরে আর মায়াবী। সৃষ্টিকর্তার অপরূপ চিত্রকর্মের দৈবাৎয়ে মানবকূলের চোখ ধাঁধিয়ে যায়।
মেডিকেল টিমের চোখ ফাঁকি দিয়ে আজকে এই ভ্রাম্যমান ক্যা-ফের খোঁজেই এসেছে হৃদমিলা। তাও আবার শাড়ি পড়ে একে-বারে বাঙালি রমণী হয়ে। আকাশে তখন সন্ধ্যার আয়োজন। ঝাঁকে ঝাঁকে ডানা ঝাপটাচ্ছে নীড়ে ফেরা ক্লান্ত চিল। মেঘে মেঘে আগুন ধরেছে যেন। একটু বাদেই ক্লান্ত দিনের পাট চুকিয়ে ঘনি-য়ে আসবে আঁধার রাত। পাহাড় বেয়ে উঠতে গিয়ে নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেলো হৃদের। হাঁপরের ওঠানামা করলো বুক। তবে পাহা-ড়ের চূড়ায় পা রাখতে না রাখতেই একঝাপটা হিমেল হাওয়া এসে গায়ে লাগতেই শরীরের সব ক্লান্তি যেন এক নিমেষে হাও-য়ায় মিলিয়ে গেলো।
ঈশান কোণে মেঘ জমেছে, গুড়গুড় করে বাজ পড়ছে সেথায়। বৃ-ষ্টি আসন্ন, ক্যাফেটাও জনমানবশূন্য পরে আছে তাই। সন্ধ্যার আকাশে একটুখানি আধার গুলে রাত নেমে এলো চোখের পলকে। হৃদমিলা এদিক ওদিক তাকিয়ে জায়গাটাকে চেনার চে-ষ্টা করলো। হ্যা, এখানেই তো আসতে বলেছিল লোকটা, তাহলে এতোটা নীরব কেন ক্যাফেটা? কোনো মানুষ নেই নাকি? এক মূহু-র্তের জন্য অবচেতন মনটা খচখচ করে উঠলো হৃদমিলার। এভাবে কাউকে না বলেকয়ে অচেনা একটা লোকের কথায় আসাটা কি ঠিক হলো?
সেদিন সেই ক্ষণিকের সাক্ষাৎে দুনিয়ার অগোচরে কিছু একটা পাল্টে গিয়েছিল বোধ হয়। খুব বড়সড় একটা পরিবর্তন ঘটেছিল হৃদের অন্তরে। তাইতো পরেরবার লোকটা চিরকুটের ভাঁজে দেখা করার আবদার রেখে গেলে হৃদ আর না করতে পারেনি। কোনো-কিছু না ভেবেই সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে এসেছে এখানে। হৃদের মন বলছিল যে মানুষটা, নাম পরিচয় ছাড়াই ওকে খুঁজে বের করতে পেরেছে, সে নিশ্চয়ই ওকে মিথ্যে আশ্বাস দেয়নি। কি-ন্তু এখানে, এই এতদূর এসে সবকিছু কেমন ভুল প্রমানিত হলো। আগেপরে কাউকে দেখতে পেলো না ও। ওদিকে টুপটাপ করে কাঁদতে শুরু করেছে আকাশ, বিদ্যুৎ চলে যেতেই মশারা বুঝি ভুঁ-ড়ি ভোজের আয়োজন নিয়ে বসলো। শ্রুতিধারে ক্রমাগত বেজে চলেছে তাদের বিরক্তিকর গুঞ্জন। তবুও কিছুটা সময় বিমর্ষ চোখে উদ্দেশ্যহীন চেয়ে রইলো হৃদ। ভাবলো কেউ হয়তো আসবে। কিন্তু না, কেউ আসলো না।
আরও খানিকটা সময় ধরে সময় ওই স্পটে পায়চারি করলো হৃ-দমিলা। নিজেকে বোঝালো, মানুষের নানান রকম সমস্যা থাকতে পারে। সচরাচর এরকমটা হয়। একজন কথা দিয়েছে তাই বলে এই না যে তাকে ওখানে আগেই আসতে হবে। আনমনে হাজারো প্রলাপ আওড়ে প্রায় ঘন্টা দেরেকের মতো সময় অতিবাহিত হয়ে গেলো। এতোক্ষণে বৃষ্টির তোড় বেরেছে, ভিজে যাচ্ছে বসন। সহসা আর অপেক্ষা করা হলোনা হৃদের। দৌড়ে গিয়ে ক্যাফের ভেতর আশ্রয় নিতেই স্থানীয় একটা আদিবাসী ছেলে হ্যাজাক নি-য়ে সামনে দাঁড়ালো ওর। ঘটনার আকস্মিকতায় হৃদ একটু ধড়ফড়িয়ে উঠলো, আতঙ্কে মুখ থেকে র'ক্ত সরে গেলো তার। জর্জরিত গলায় কে শব্দটা উচ্চারণ করতেই একচিলতে কোমল হাসি ফেরত দিলো ছেলেটা। ভাঙা ভাঙা বাংলায় বললো,
বৃষ্টি শুরু হয়েছে ম্যাম। আজকের মতো আমরা ক্লোজ করবো।
হৃদমিলাকে অপ্রস্তুত দেখালো, সেজেগুজে কফি ডেটে এসে এভাবে ফিরে যাওয়ার আহ্বান শুনে অস্বস্তিতে কাদা হয়ে গেলো সে। মুখ ফুটে অস্ফুট স্বরে জানতে চাইলো,
আর কোনো গেস্ট নেই?
ছিল একজন। বাইরে ক্যান্ডেললাইট ডিনারের আয়োজন চলছিল, কিন্তু বৃষ্টি দেখে প্ল্যান ক্যান্সেল করেছেন।
ছেলেটার কথা শুনে সরল কপাল নিমেষেই বেঁকে গেলো হৃদমি-লার। বাক্যটা আবারও প্রশ্নের স্বরে ফেরত দিয়ে বললো,
- বৃষ্টি দেখে?
ছেলেটা ভাবনায় পরে গেলো। কিছুটা সময় দাঁত দিয়ে অধর কা-মরে ধরে থেমে থেমে বললো,
- আসলে ম্যাম, বৃষ্টির সময় জায়গাটা কর্দমাক্ত হয়ে থাকে তো, তাই ওই সময়ের বুকিং গুলো আপনাআপনি ক্যান্সেল হয়ে যায়।
আপনি যখন এসেছেন, ও স্যারটাও সেসময় খুব তাড়াহুড়ো করে বিল পেমেন্ট চলে গেলেন। তাই ভাবলাম হয়তো বৃষ্টির কারণেই উনি এমনটা করেছেন।
বিপরীতে তপ্ত একটা নিঃশ্বাস ছাড়লো হৃদমিলা। যে মানুষটা গোটা বান্ধরবান তন্নতন্ন করে এই প্রত্তন্ত লামাহু গ্রামে এসে ওকে খুঁজে বের করেছে, সে কিনা সামান্য বৃষ্টির কারণে এভাবে তাড়া দেখিয়ে চলে যাবে? ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য ঠেকলো হৃদের নিকট, ফলস্বরূপ কৌতুহল নিয়ে জানতে চাইলো,
-আচ্ছা আয়োজনটা কোথায় হচ্ছিল?
সময় নষ্ট করলো না ছেলেটা, হাতের ইশারায় পেছনের ছাঁদখোলা ডেকটাকে দেখিয়ে বললো,
ওই তো, ওখানটায়।
তক্ষুনি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সেদিকে হাঁটা ধরলো হৃদমিলা। পেছন থেকে ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো,
আপনি তো ভিজে যাচ্ছেন ম্যাম। আমি ছাতাটা নিয়ে আসবো?
হৃদমিলা হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলো ওকে। অতঃপর নিভৃত পদচারণে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালো ওই সাজিয়ে রাখা টেবিলটার কাছে। পাহাড়ি সব রঙবেরঙের ফুল, শুভ্র নেটের পর্দা আর সুগ-ন্ধি মোমবাতি দিয়ে সাজানো টেবিলটা এখন জলে ভিজে চুপচুপ করছে। সেই চুপচুপে জলের গায়ে আলতো করে স্পর্শ করলো হৃদমিলা। সঙ্গে সঙ্গে মুক্তো দানার মতো ঝরঝরিয়ে পরলো কিছু জলের ফোঁটা, তখনই হৃদের চোখ গিয়ে আটকালো প্লেটের ভাঁজে গুঁজে রাখা একটা সাদা রঙের রুমালের উপর। কালো মা-কার দিয়ে কিছু একটা লেখা রয়েছে সেখানে। আলোআঁধারির মাঝে কোনোকিছুই স্পষ্ট নয়। সহসা সন্দিগ্ধ চিত্তে রুমালটাকে হাতে তুলে নিলো হৃদমিলা। পাট করা ভাজ গুলো খুলে চোখের সামনে তুলে ধরতেই হ্যাজাকের ক্ষীণ আলোয় চোখের সামনে ভেসে উঠলো গুটিকতক লেপ্টে যাওয়া ইংরেজি অক্ষর। সেখান-টাতে লেখা ছিল,
আ'ম ইন আ রাশ। প্লিজ কল মি,
তারপর একটা বিদেশি নাম্বার টুকে রাখা। ব্যাস এটুকুই।
চলছে....