ফন্ট সাইজ:
থিম:
একমুঠো সঙ্গীন প্রনয়াসক্তি

৭ম পর্ব

লেখক: সুরাইয়া রাফা

সাত

অবশেষে ক্রীতিকের দেওয়া অতিরিক্ত ভালোবাসাময় যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ রাতে অকস্মাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়লো অরু। অরু জ্ঞান হারিয়েছে ব্যাপারটা বোধগম্য হতেই ক্রীতিকের যেন ভ্রম কেটে যায়। নিজের মাঝের পৈচাশিক আর ডমিনেটিং ভাব উবে গিয়ে মুহূর্তেই চোখে-মুখে ঝরঝরিয়ে নেমে আসে একরাশ কাতরতা। সেই কাতর স্বরেই অরুর গালটা আলতো ঝাঁকিয়ে ডেকে ওঠে ক্রীতিক,

'বেইবি, আর ইউ ওকে না? খুব বেশি ব্যথা দিয়েছি?'

অরু জবাব দেয় না। তা দেখে ক্রীতিকের পিলে চমকে গেলো। এমনটা তো কখনো হয় না। ক্রীতিকের বরাবরই ওয়াইল্ড লাভ, লাভ টর্চার এসব বেশ পছন্দ। ব্যাপারগুলো ক্রীতিকের নিকট রোমাঞ্চকর বলে অরুও মুখ বুঝে সহ্য করে নেয় সবটা। কিন্তু এমনটা তো কখনো হয় না। এর আগেও বহুবার এভাবে মিলিত হয়েছে তারা, কিন্তু অরু আজ প্রথম বারই জ্ঞান হারালো, কিন্তু কেন?

হাজারও অযথা চিন্তাদের বহর একসাথে ঘীরে ধরেছে ক্রীতিকের মন-মস্তিষ্ক, কিন্তু এখন চিন্তা করার সময় নয়। যত দ্রুত সম্ভব অরুর জ্ঞান ফেরাতে হবে। সেই ভেবে ক্রীতিক নিজেদের মাঝের বস্রটুকু ঠিকঠাক করে তাড়াহুড়ো পায়ে উঠে গিয়ে অরুর হাত-মুখ সব খুলে দিলো। এরপর অরুকে ছোট বাচ্চার মতো করে কোলের মধ্যে নিয়ে ঠান্ডা পানির ছাঁট দিতে লাগলো ওর চোখে-মুখে।

খুব বেশিক্ষণ নয়, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অরুর চেতনা ফিরে এলো। অরু চোখ খুলেছে দেখে ওকে বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে, চোখ দু'টো বন্ধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো ক্রীতিক। ওদিকে চেতনা ফিরতেই প্রচণ্ড ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ক্রীতিকের থেকে ছিটকে দূরে সরে যায় অরু। অরু এভাবে দূরে সরে গিয়েছে দেখে, ক্রীতিক অপরাধী গলায় বললো,

'বেইবি, আস্তে, তুই উইক।'

অরু নাক টেনে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো এবার। কাঁদতে কাঁদতে বললো,

'আপনি একটা জানোয়ার, আপনার জন্যই আমি উইক, এখন আবার দরদ দেখাচ্ছেন কোন মুখে?'

অরুর আপসোসের কান্নায় হৃদয় ছিড়ে যাচ্ছে ক্রীতিকের। ও এগিয়ে গিয়ে অরুর মুখোমুখি হয়ে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ে বললো,

'আমার সরি হার্টবিট, আমি বুঝতে পারিনি তুই এভাবে হঠাৎ করেই জ্ঞান হারাবি। তোর শরীরটা দুর্বল জানলে আমি কখনোই এমনটা করতাম না, আর হুট করে ব্লেডিং...'

ক্রীতিকের কথা শেষ হওয়ার আগেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো অরু। কাঁদতে কাঁদতে দু'হাতে ক্রীতিকের চুল খামচে ধরে বললো,

'আমার বাচ্চার কিছু হয়ে গেলে, আমি তোকে ছাড়বো না জায়ান।'

অরুর কথা শুনে ক্রীতিকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। এসবের মাঝে বাচ্চা আবার কোথা থেকে এলো? অরুর পানে একটা আহত চাহনি নিক্ষেপ করে, ক্রীতিক বলে ওঠে,

'বাচ্চা মানে?'

অরু কাঁদতে কাঁদতে বললো,

'বেশ কয়েকবার টেস্ট করেও বারবার পজিটিভ রেজাল্ট আসছিল, তাই পুরোপুরি সিওর হতে ডক্টরের কাছে গিয়েছিলাম।'

অরুর কথায় ক্রীতিকের চোখ কপালে উঠে গেলো। অরু প্রেগন্যান্ট, তার মানে বাচ্চাটা ওর নিজের। এটা ভাবতেই, অরুর দু'বাহু ঝাঁকিয়ে ক্রীতিক দাঁত খিঁচিয়ে বলে ওঠে,

'তো আমাকে বললি না কেন ইডিয়েট? সারাদিন তোকে পাগলের মতো খুঁজেছি আমি, এই অচেনা শহরে এমন কোনো টুরিস্ট এরিয়া নেই যেখানে আমি তোকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেরাইনি। আর তুই কিনা ডক্টরের ক্লিনিকে ছিলি?'

জবাবে কাঁদতে কাঁদতে অরু বলে,

'আপনি বাচ্চা চাচ্ছিলেন না কিছুতেই, কিন্তু এটা এসে গিয়েছিল কোনোভাবে। ভয় করছিল যদি আপনি অ্যাবরশন করার জন্য জোর করেন, তাহলে আমার বাচ্চাটার কি হতো? তাই চুপি চুপি গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি চলেও আসবো কিন্তু, কি জানি কেন, আসার পথে একটাও গাড়ি পাচ্ছিলাম না।'

অরুর এতসব কথা শুনে নিজের চুল নিজেই টেনে ধরলো ক্রীতিক। অরুর উপর চরম বিরক্ত হয়ে ক্রীতিক রাশভারী গলায় বললো,

'তুই কি পাগল অরু? নিজের অনাগত বাচ্চাকে কেন আমি নষ্ট করতে বলবো? হোয়াই? এটা তুই ভাবলি কি করে, সেটা আমায় বল? আচ্ছা, সত্যি করে বলতো, তোর ব্রেইন কোথায় থাকে?'

'তাহলে কেন করলেন এটা বলুন?'

অরুর প্রশ্নের জবাবে ক্রীতিক রেগেমেগে বলে,

'আমি কি জানতাম ইডিয়েট?'

ক্রীতিকের কথায় ঝাঁজিয়ে ওঠে অরু। কাঁদতে কাঁদতে আহত সুরে বললো,

'বাচ্চাটা মনে হয় না আর টিকবে।'

'টিকবে না মানে? এক্ষুনি ডক্টরের কাছে যাবো আমরা। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি, জাস্ট ফাইভ মিনিটস বেইবি।'

অরু হকচকিয়ে উঠে বললো,

'কিন্তু এখনো তো সকাল হয়নি, এই সময় ডক্টর কোথায়?'

অরুর বাক্যটুকু শেষ হওয়ার আগেই ক্রীতিক ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে গম্ভীর গলায় জবাব দিলো,

'সেটা তোর না ভাবলেও চলবে।

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে আজ সবার প্রথমে ডাইনিং এ হাজির হয় সায়র আর নীলিমা। সায়র আগে আগে ছিল আর নীলিমা পেছনে। ও যখন হাই তুলতে তুলতে ডাইনিং এর দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নজরে পড়ে ক্রীতিক আর অরুকে। সাধারণত ভ্যাকেশনে আসার পর থেকে ক্রীতিক আর অরুই একমাত্র জুটি যারা সবার শেষে ডাইনিং এ হাজির হতো। ক্রীতিক নিজে বেলা করে ঘুমাতো দেখে, অরুকেও জোরজবরদস্তি করে নিজের কাছে আটকে রাখতো। অথচ আজ সূর্য একেবারে পশ্চিম আকাশে উদয় হওয়ার মতোই অরু ক্রীতিক সবার আগে ডাইনিং এ। শুধু ডাইনিং এ বললে ভুল হবে, অরুকে পাশে বসিয়ে রেখে ক্রীতিক নিজ হাতে ফ্রুটস খাওয়াচ্ছে ওকে, ব্যাপারটা পুরোপুরি সন্দেহজনক। তাই ডাইনিং এ এসে বসতে বসতে সায়র শুধালো,

'সূর্য আজ কোন আকাশে উদয় হলো জেকে? কাল রাতেই দেখলাম বউকে ধমকাচ্ছিস, আর এখন পাশে বসিয়ে ফ্রুটস খাওয়াচ্ছিস? বাহ বাহ।'

সায়রের কথার বিপরীতে ওর দিকে গরম চাহনি নিক্ষেপ করে, ক্রীতিক ক্ষুব্ধ গলায় বলে,

'শাট আপ, শী ইজ প্রেগন্যান্ট উইথ মাই বেইবি, ইডিয়েট।'

ক্রীতিকের কথায় শুনশান নীরবতায় ছেয়ে গেলো পুরো লিভিং রুম, কারও মুখে কোনো রা নেই, কেবলই চামচ নাড়ার টুংটাং আওয়াজ। এমতাবস্থায় ফট করেই অরুর নিকট এগিয়ে গিয়ে নীলিমা বেকুবের মতো বলে ওঠে,

'কিরে অরু, তুই না বলেছিলি ক্রীতিক ভাইয়া বাচ্চা নিতে মোটেই ইচ্ছুক নয়, তাহলে হলো টা কি করে?'

অরু গাল ভর্তি ফ্রুটস চিবুতে চিবুতে জবাব দিলো,

'ভুল করে।'

অরু কথাটা বলতেই ঠোঁট টিপে কৌতুক মিশ্রিত হাসি হাসলো সায়র। হাসতে হাসতে ক্রীতিককে উদ্দেশ্য করে সায়র বললো,

'তুই আজকাল এসবেও ভুল করিস ভাই?'

ক্রীতিক জবাব দিলো না, উল্টো নিজের মাথামোটা বউটার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। অরু পাপ্পি আইস করে তাকিয়ে আছে ক্রীতিকের পানে, যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেনা সে। সায়র ক্রীতিককে খোঁচা মেরে আরও দু'একটা কথা শোনাবে, তার আগেই ওদের মাঝে আগমন ঘটে অর্ণব আর এলিসার।

এলিসার কাঁধে ভর করে মুমূর্ষু রোগীর মতো হাঁটছে অর্ণব। ওকে এভাবে হাঁটতে দেখে সায়র উদ্বিগ্ন কন্ঠে বলে ওঠে,

'কি হয়েছে তোর অর্ণব?'

অর্ণব কিছু বললো না, এলিসা জবাব দিলো,

'কি জানি, কি স্ট্রিট ফুড খেয়ে, ডিসিন্ট্রি বাঁধিয়েছে। কাল থেকে কতবার গিয়েছে তার হিসেব নেই, তাই রাতেই হসপিটালে নিয়ে গিয়েছিলাম।'

পুনরায় প্রশ্ন ছুড়ে সায়র বলে,

'কি বলিস, আমাদের কেন জানালি না? রাস্তা ঘাটে কোথাও কাজ সারেনি তো আবার?'

অর্ণব দাঁত কটমটিয়ে সায়রের পানে অগ্রদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,

'শালা, বেশি কথা বলিস তুই।'

অর্ণবের ঝাড়ি খেয়ে থামলো সায়র। এবার অর্ণবের চোখ গেলো ক্রীতিক আর অরুর দিকে। ওদের পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা মাত্রই এলিসার কাঁধ ছেড়ে দিয়ে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো অর্ণব। ওকে দাঁড়িয়ে পড়তে দেখে এলিসা ঠোঁট উল্টে শুধালো,

'কি ব্যাপার, এতোক্ষণ তো হাঁটতেই পারছিলি না, এখন ওমন টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লি যে, ক্লান্ত লাগছে না?'

কাঁধ ঝেড়ে এগিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসতে বসতে অর্ণব বললো,

'নাহ, এখন ঠিক আছি। আয় জান, তুই ও আমার পাশে এসে বস, কাল থেকে বড্ড খাটুনি গিয়েছে তোর।'

সায়র খেতে খেতে অবাক দৃষ্টিতে অর্ণবকে পরখ করে বললো,

'কি অদ্ভুত ডিসিন্ট্রি রে বাবা, এইটুকুর মধ্যে সেরে গেলো?'

সায়রের কথার জবাবে অর্ণব কথা ছুড়বে, তার আগেই অরুকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো ক্রীতিক।

সায়র ঘাড় ঘুরিয়ে ক্রীতিকের পানে চেয়ে শুধালো,

'তুই আবার বউ নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?'

সায়রের কথার জবাব না দিয়ে, ক্রীতিক ওদের সকলকে উদ্দেশ্য করে বললো,

'আমরা আগামী কাল তোদের সাথে ইউ এস এ ফিরছি না। ডক্টর অরুকে সম্পূর্ণ বেড রেস্টে থাকতে বলেছে, এই মুহূর্তে জার্নি করা পসিবল নয়।

তাই আমরা আর কিছুদিন পরে ফিরবো।'

কথা শেষ করে অরু সমেত রুমের দিকে পা বাড়ায় ক্রীতিক।

এদিকে সায়রের সব খটকা থেকেই যায়। ও খাবার চিবুতে চিবুতে একা

একাই বিড়বিড়ায়,

'অদ্ভুত তো, আমার বউকে তো ডক্টর বেড রেস্টে থাকতে বললো না, অথচ ওর বউকে বললো। কালকেই গিয়ে ডক্টর ব্যাটাকে ধরতে হবে।'

বিগত দিনগুলোর কথা ভেবে আরও একবার প্রানোচ্ছ্বল হাসি হাসলো অরু। ঠিক সেসময় দরজার পাসওয়ার্ড খোলার পিক পিক আওয়াজ হলো নিচ তলা থেকে। বোধ হয় ক্রীতিক এসেছে, সেই ভেবে তাড়াহুড়ো করে আবারও কম্ফোর্টারের নিচে গিয়ে ঘুমের ভান ধরে পড়ে রইলো অরু।

উদ্দেশ্য একটাই, তার শক্ত চওড়া উষ্ণ বুকে মুখ লুকিয়ে একটু খানি আবেশিত ওম গ্রহণ করা। তার মাতাল মাতাল স্যান্ডাল উড পারফিউমের গন্ধটা নিজের সর্বাঙ্গে ধারণ করা। এই ছোট্ট জীবনে প্রাপ্তির ঝুড়ি পরিপূর্ণ, আর কিইবা চাই?একটু বাদেই রুমে প্রবেশ করলো ক্রীতিক। শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে এগিয়ে এসে বসলো অরুর শিয়রে, তারপর গ্রীবাদেশ বাঁকিয়ে ঝুঁকলো অরুর পানে। নিগূঢ় দৃষ্টিতে কি যেন দেখতে দেখতেই বিড়বিড়ালো,

'ইউ আর গ্লোয়িং অরু।'

অরু যেহেতু সজাগ ছিল, তাই সে মিটমিট করে লাজুক হাসলো। ক্রীতিক ভ্রু উঁচিয়ে সন্দিগ্ধ গলায় বললো,

'আপনি তাহলে জেগে আছেন ম্যাম।'

অরুর স্বাদের ঘুম নস্যাৎ হলো। মিছিমিছি হাই তুলে বললো,

'হাহ! মাত্রই উঠলাম।'

'তুই আবার কফি খেয়েছিস? তাও কোল্ড?'

ক্রীতিকের কণ্ঠে রাগের উষ্মা। অবাক হয়ে জানতে চাইলো অরু,

কিভাবে বুঝলেন?'

'ঠোঁটে হুইপড ক্রীম লেগে আছে ইডিয়ট। মুখ থেকে কফির স্মেল বের হচ্ছে আর জিজ্ঞেস করছিস কিভাবে বুঝলাম?'

'ওহ, একটুখানি খেয়েছি, খুব গরম লাগছিল।'

'তোর কমনসেন্স কবে তৈরি হবে অরু? কবে তুই বুঝবি আমাকে?'

ধীরে ধীরে মুখাবয়ব শক্ত হয়ে উঠলো ক্রীতিকের। অরু মলিন গলায় বললো,

'বকছেন কেন? একটুই তো খেয়েছি।'

ক্রীতিক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। খাটের হেড বোর্ডে হেলান দিয়ে অরুকে এনে নিজের বুকে ফেললো। একটুখানি প্রশ্রয় আর অনেকটা অধিকারবোধ নিয়ে বললো,

'তুই আমার সবকিছু খেয়ে নিলেও কোনোদিন অভিযোগ তুলবো না বেইবি। কিন্তু এই সময় একটু তো সতর্ক হওয়া উচিৎ তাইনা? তোর আরলি এইজ প্রেগন্যান্সী, তারউপর সারারাত ঘুমাতে পারিস না।

হরমোনাল ইশ্যস নিয়ে ছটফট করিস। তোর যন্ত্রণা গুলো মারাত্মকভাবে

পোড়ায় আমাকে অরু। আমি যদি জানতাম প্রেগন্যান্সী তোকে এতোটা

কষ্ট দিবে, তাহলে হয়তো কোনোদিন তোকে স্পর্শ করার দুঃসাহস

দেখাতাম না।'

শেষ কথাতে অরুর দ্রবীভূত হৃদয়টা মেঘ থমথমে হয়ে ওঠে। কণ্ঠে অভিযোগ নিয়ে বলে,

'এভাবে কেন বলছেন? বাচ্চা হলে সবারই কষ্ট হয়। মা হওয়া কি মুখের কথা?'

অরুর মসৃণ কপালে আলতো চুমু খেলো ক্রীতিক। আহত স্বরে জবাব দিলো,

'তুই ছাড়া আমার কেউ নেই অরু। তোর কষ্ট আমি নিতে পারিনা একদম। তুই যখন রাতে না ঘুমিয়ে এপাশ ওপাশ করিস, তখন আমার গলা শুকিয়ে আসে। বিলিভ মি হার্টবিট, সাধ্য থাকলে আমার চোখের সব ঘুম আমি তোকে দিয়ে দিতাম।'

'আপনি আর ঘুমাচ্ছেন কই? সেই তো জেগেই থাকেন আমার সঙ্গে। তাছাড়া আপনি নিজেই তো....'

অরুর কথা শেষ হওয়ার আগেই বৃদ্ধাঙ্গুলির সাহায্যে ওর ঠোঁট চেপে ধরে ক্রীতিক। রমণীর বাক্যরোধ করে শীতল কণ্ঠে জবাব দেয়,

'হুঁশশ! আমি কষ্ট দিলে তোর যতটা ব্যথা লাগে। দুনিয়ার আড়ালে গিয়ে তার চেয়ে বহুগুণ ব্যথা আমি আমাকেই দিই। তোর কষ্ট অনুভব করে নিজ উদ্যোগে শাস্তি ভোগ করি।'

কথা বলতে বলতেই ক্রীতিক এবার দূরে সরে গেলো। দু'হাতে নিজের চুল টেনে উন্মাদ হয়ে বলতে লাগলো,

'তোর ডেলিভারির এখনো একমাস বাকি অরু। এই একমাস তোর এভাবেই কষ্ট হবে, ভাবলেই দম আঁটকে যাচ্ছে, নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে, তোর কষ্ট কেন আমি অনুভব করতে পারছি না, কেন?'

ক্রীতিককে হতাশা অনুভব করার সুযোগ দিলোনা অরু। নরম দু'হাতের আঁজলায় স্বামীর চিবুকটা তুলে ধরে বললো,

'আপনি ভুল ভাবছেন। শুধু শুধু অনুতপ্ত হবেন না। এই যন্ত্রণা আমার জন্য সুখের। আমি ঠিক পারবো। শুধু এটুকু কেন, আপনি পাশে থাকলে আমি পৃথিবী জয় করতেও কুণ্ঠিত হবোনা জায়ান।'

'বেইবী!'

অরুকে কোলের উপর তুলে নিলো ক্রীতিক। কপালে কপাল ঠেকিয়ে বললো,

'প্লিজ বি কন্টিনিউ, এভাবে শান্ত কর আমায়, আমি শুনছি।'

অরু খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। ক্রীতিক পুনরায় আওড়ালো,

'বি কন্টিনিউ।'

ক্রীতিকের কণ্ঠে বালক সুলভ আবদার। সে দু'হাতে জড়িয়ে বুকের ভেতর মিশিয়ে নিলো অরুকে। তন্মধ্যেই মৃদু স্বরে চিৎকার দিয়ে উঠলো অরু,

'আহ! বেবি ইজ কিকিং জায়ান।'

অরুর কণ্ঠ শুনতে পেয়ে ক্রীতিক উৎসুক হয়ে তার উদরে দৃষ্টিপাত করলো। অতঃপর অবাক হয়ে দেখতে লাগলো মায়ের পেটে তার অনাগত অংশের দৃশ্যমান হুটোপুটি। কখনো এদিকে যাচ্ছে তো কখনো ওদিকে। দেখতে দেখতেই ক্রীতিকের শুষ্ক ওষ্ঠাধর প্রসারিত হলো।

দৃষ্টিজুড়ে প্রস্ফুটিত হলো অকারণ এক উচ্ছ্বাস। অরুর বাড়ন্ত পেটে একটা ক্ষুদ্র পায়ের ছাপ ভেসে আছে, যা দেখে বিগলিত হয়ে উঠলো ক্রীতিকের প্রাণ। সে হঠাৎই বলে উঠলো,

'বেইবী, ক্যান আই কিস হার?'

অরুর সমগ্র মুখমণ্ডলজুড়ে বিমুগ্ধতা ছড়ালো, জোরে জোরে মাথা

নাড়িয়ে বললো,

'আপনারই তো অস্তিত্ব।'

বেপরোয়া ক্রীতিকের মস্তিস্কে এই কথাটা যেন তীরের মতো বিঁধলো। অন্তরগহীনে ঘনীভূত হলো প্রগাঢ় এক পিতৃ স্নেহ। সে একঝটকায় অরুকে দাঁড় করিয়ে হাঁটু গেড়ে মেঝেতে বসে পড়লো। তারপর সহস্র চুমু খেলো অরুর গোলাকার পেটে। অদৃশ্য একটা খুশি প্রজাপতির মতো ডানা ঝাপটাচ্ছে তার আশেপাশে। ক্রীতিকের মনে হতে লাগলো, অরুর মতোই দেখতে নাজুক পেলব এক অস্তিত্ব ওই পেটের ভেতর থেকে তাকে পাপা ডেকে ডেকে অস্থির হয়ে উঠছে।

'শী ইজ মাইন অরু। ও আমার অংশ।'

ক্রীতিকের কথা শুনে আবারও খুশির পারদে ঝুমঝুমিয়ে উঠলো অরু। দু'হাতে মুখ চেপে মাথা ঝাঁকিয়ে অভিভূত স্বরে আওড়ালো,

'ও তোমার জায়ান। তোমার অংশ, তোমার অস্তিত্ব, শুধু তোমার।

দিনগুলো স্বপ্নের মতো অতিবাহিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত উগ্র, বদমেজাজি মানুষটাকে নতুন রূপে আবিষ্কার করছে অরু। আজকাল তাকে গোসলটা অবধি ক্রীতিক নিজ হাতে করায়, তিন বেলা হাতে তুলে খাইয়ে দেয়, অরু যতটুকু সময় ঘুমাতে পারে, ততটুকু সময় আবৃত করে রাখে বুক পাঁজরের উষ্ণ আলিঙ্গনে। আর যদি ঘুমাতে না পারে, তখন ওকে নিয়ে টিভি দেখে, মনোপলি খেলে, ভিডিও গেমে বাইক রেস করে, নয়তো ছাদ বারান্দায় গিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে দু'জন মেতে ওঠে চন্দ্র বিলাশের অমোঘ আমেজে।

সর্বদা মস্তিষ্কে বিরাজমান এক স্বপ্নীল সুরের মতো কেটে যায় তাদের বেলা। না হতাশা, না দুঃখ, আর না তো কোনো আক্ষেপ, আফসোস। মানুষ দু'টো ভালোবেসে ভালো থাকতে পারলে, সমাজ দিয়ে কি আসে যায়? জীবন তো একটাই। একজীবনে ভালোবাসার মানুষকে না পেলে আর ধরে রাখার কোনো সুযোগ নেই। অনেকে হয়তো ভদ্রতার খাতিরে ছেড়ে দেয়, নির্মম বাস্তবতার ভয়ে পায়ে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয় হৃদয়ের তরতাজা অনুভূতিকে। কিন্তু ক্রীতিক তো বেপরোয়া, সভ্য সমাজে তার বিরাট বদনাম। আর বদনাম বলেই হয়তো সে ভালোবেসে সফল। ভালোবাসায় চক্ষুলজ্জা থাকতে নেই, তাহলে হারাতে হয়।

অরুর মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো থাকা বোধ হয় এটাকেই বলে, যখন কেউ তোমার জন্য নিজেকে বদলাতে শুরু করে, এবং নিশ্চিতভাবে সফল ও হয়ে ওঠে।

আজ সারাদিন বাচ্চার জন্য কেনাকাটা করে ভীষণ ক্লান্ত ওরা। ক্রীতিক কিছুতেই শপিংয়ে নিতে চায়নি মেয়েটাকে। জোর গলায় বলেছিল, যা কেনার অনলাইন শপ থেকে অর্ডার করে দিতে। পাছে না আবার খারাপ কিছু হয়ে যায়। কিন্তু অরুর তো আবদারের শেষ নেই। নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখে তারপর কেনাকাটা করবে সে সবকিছু। যদিও অনাগত বাচ্চার জন্য অনু সবকিছু কিনে পাঠিয়েছে। ক্রীতিকের বন্ধুরাও শপিং করেছে অনেক। তারপরও অরু গোঁ ধরে বসেছিল, মলে নিয়ে না গেলে সে নাকি চুপিচুপি কফি খাবে। তারপর সারারাত না ঘুমিয়ে জেগে থাকবে। অরুর ছেলেমানুষীর কাছে ভীষণ অপারগ ক্রীতিক। মুড তো নয়, যেন আমেরিকান ওয়েদার। প্রতি মুহূর্তে বদলে যায়। সেই শুরু থেকে একটার পর এক জেদ করেই যাচ্ছে। এখন তাও কফি খেতে চায়, প্রথম দিকে ইটের টুকরো, সোপবার, আরও কি সব হাবিজাবি খেতে চাইতো। মাঝেমধ্যে তো চুপিচুপি সোপবারের কিছু অংশ চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়েই ফেলতো। সেই সময়ের কথা ভাবলে এখনো অস্বস্তিতে শরীরটা রি রি করে ওঠে ক্রীতিকের। বড্ড আহ্লাদী বউ তার। কিছু বলতে গেলেই মুশকিল।

করিডোর ধরে নিশ্চল পায়ে হাঁটছে ক্রীতিক। দু'হাতে তার শপিংয়ের গাদা গাদা ব্যাগ। আনমনা অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছে গুরুতর কোনো বিষয় নিয়ে ভীষণ চিন্তিত সে। অরু ক্লান্ত হলেও মনটা বেশ ফুরফুরে তার। আজ টাউন সেন্টারে নীলিমা সায়র ওরাও এসেছিল। দু'বান্ধবী সারা বিকেল চুটিয়ে শপিং করেছে। পেটভরে খেয়েছে। আর এখন বাড়িতে ফিরেছে বিশাল এক জার ভর্তি আইসক্রিম খেতে খেতে। আইসক্রিমের বেলাতেও ক্রীতিকের জোড়ালো নিষেধাজ্ঞাটুকু হাওয়ার মতোই ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে অরু। আজকাল ঠোঁট উল্টে ফুঁপিয়ে ওঠা যেন তার নতুন পাসওয়ার্ড। এন্ট্রি করলেই ক্রীতিকের পাথরকঠিন রাগের উষ্ণতাও মেঘের মতো গলে যায়।

কিন্তু এখন এই মুহূর্তে ক্রীতিকের আষাঢ় থমথমে মুখের পানে চেয়ে ভড়কালো অরু। কাছাকাছি এগিয়ে এসে নরম গলায় শুধালো,

'আপনার মন খারাপ?'

ক্রীতিক উত্তর দিলো না, কি যেন ভাবছে সে। অরু আরেকটু কাছাকাছি এগোলো, ব্যাগ থেকে ক্রেডিট কার্ড বের করে এগিয়ে দিয়ে বললো,

'আজ বোধ হয় বেশি খরচা করে ফেলেছি।'

এবারও নিরুত্তর লোকটা। একটু থেমে অরু বললো,

'স্যরি, আর করবো না।'

এতোক্ষণে ঘুরে তাকালো ক্রীতিক। প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে চেয়ে নিরুদ্বেগ স্বরে জানতে চাইলো,

'কি করবি না?'

অরু জবাব দিলো,

'খরচা। এতো বেশী খরচা আর কখনোই করবো না।'

অকস্মাৎ পদচারণা থমকে গেলো ক্রীতিকের। ভ্রু কুঞ্চিত করে উল্টো প্রশ্ন করলো,

'তুই খরচা না করলে আমি ইনকাম করবো কার জন্য? আমার বাপের যা রয়েছে তা দিয়ে আমার সাত পুরুষ নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খেয়ে যেতে পারবে। আমি তো ইনকামই করি তোর খরচার জন্য।'

অরু না সূচক মাথা নাড়ালো। মলিন কণ্ঠে আওড়ালো,

'উহু, আজ আপনার ডেভিড কার্ড নিশ্চিৎ ফাঁকা।'

'এটা ব্ল্যাককার্ড, ইডিয়ট। এর কোনো লিমিট নেই। তোর হাসবেন্ড রেসিং ক্লাবের উইনার। দ্যা চ্যাম্পিয়ন জেকে। ক্লাবের হয়ে একেকটা রেসের চ্যাম্পিয়নশীপের জন্য আমি ঠিক কত করে চার্জ করতাম, তুই কল্পনাও করতে পারবি না।'

ক্রীতিকের কথা শুনে ক্ষণকালের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেলো অরু।

পরক্ষণেই চট করে শুধালো,

'তাহলে কি ভাবছিলেন তখন থেকে?'

ক্রীতিকের চেহারায় আঁধার জমলো। সে মুখ কালো করে আনমনা হয়ে বললো,

'এবার বোধ হয় সত্যিই সায়র জিতে যাবে।'

'মানে?'

কৌতূহলী অরুকে হতবিহ্বল বানিয়ে দিয়ে ক্রীতিক জবাব দিলো,

'সায়রের বউয়ের ডেলিভারি ডেট তোর থেকে পনেরো দিন এগিয়ে।'

'তো কি হয়েছে?'

'কি আর হবে, আগে বাবা হয়ে সায়র জিতে যাবে।'

কাঁধ ঝাকিয়ে কথাটা বলে নীরব পদক্ষেপে রুমে চলে গেলো ক্রীতিক। এদিকে ক্রীতিকের কথায় অরুর চোয়াল ঝুলে পড়ার উপক্রম। কিছু সময় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে চোখ দু'টো কপালে তুলে স্বগোতক্তি করে বিড়বিড়ালে মেয়েটা,

'তারমানে উপরে উপরে নাকউঁচু ভাব ধরে থাকলেও, মনে মনে উনি ঠিকই সায়র ভাইয়ার ছেলেমানুষীতে সঙ্গ দেন। এবার বুঝেছি থার্টি প্লাস হয়েও সায়র ভাইয়া কেন এখনো এতো ভবঘুরে। তারমানে সরষের মধ্যেই ভুউউত!'

গভীর রাত। সারারাত রুমের মধ্যে পায়চারি করে একটু আগেই ঘুমিয়েছে অরু। ক্রীতিকও তার ব্যতিক্রম নয়, চোখটা সবে লেগে এসেছে এরই মাঝে আবার ভেসে এলো অরুর ক্রন্দিত কণ্ঠস্বর। মেয়েটা ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। অরুর কান্নাকাটিতে তন্দ্রালু ভাবটা কেটে যেতেই লাফ দিয়ে উঠে বসলো ক্রীতিক। শার্টহীন উন্মুক্ত শরীরে পুরুষালি দীপ্তি। ডীম লাইটের নরম আলোতে কাটকাট অ্যাবসগুলো জ্বলজ্বল করছে তার। এহেন দৃশ্য যে কোনো রমণীকে মোহাচ্ছন্ন করে তুলতে বাধ্য। অথচ অরু সেসব ভুলে নিঃশব্দে কাঁদছে। ক্রীতিক তাড়াহুড়ো উঠে বুকে জড়িয়ে নিলো অরুকে। দিকভ্রান্তের মতো এপাশ ওপাশ ঘুড়িয়ে দেখতে দেখতেই চকিতে জিজ্ঞেস করলো,

'হোয়াট হ্যাপেন, বেইবি?'

অরু জবাব দেয় না, সে কেঁদে যাচ্ছে অবিরাম। ক্রীতিক কি ভেবে যেন হুট করেই তার জননাঙ্গে স্পর্শ করলো। অস্থির হয়ে বলে উঠলো,

'ওয়াটার হ্যাজেন্ট ব্রোকেন, রাইট?'

অরু কুঁকড়ে গেলো। কাঁদতে কাঁদতেই বললো,

'কি করছেন?'

'কাঁদছিস কেন বল আমায়? দুশ্চিন্তায় মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে আমার।'

অরু খেয়াল করলো ক্রীতিক হাতের পিঠে নাক ঘষছে। আঙুলের ডগায় টকটকে তাজা রক্ত। নিশ্চয়ই ঘটনার আকস্মিকতায় নোজ ব্লেডিং শুরু হয়েছে তার। এবার অনুশোচনার তাড়নায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মেয়েটা, ভগ্নস্বরে বলতে লাগলো,

'আমি আপনাকে খুব জ্বালাই না তাই না? অনেক ঝামেলা করি, অনেক বিরক্ত করি, একটু ঘুমাতেও দিই না।'

'হ্যা, তাতো করিসই। কিন্তু তুই কেন কাঁদছিস সেটা তো বল?'

বেডসাইড টেবিল থেকে টিস্যু নিয়ে নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করাতে করাতে জিজ্ঞেস করলো ক্রীতিক। অরু ফের ঠোঁট কাঁপিয়ে বললো,

'সেজন্যই তো কাঁদছি, আপনাকে কেন আমি এতো জ্বালাতন করি? আমার কেন যেন ভীষণ ভালো লাগে আপনাকে জ্বালাতে আবার কান্নাও পায়। কি আশ্চর্য তাইনা? আপনি বরং একটা কাজ করুন, আমার গালে আগের মতো কষিয়ে একটা থাপ্পড় দিন। তাহলে যদি একটু আক্কেল হয় আমার।'

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন