নয়
আজ বহুদিন বাদে অনেকটা সময় নি ফজরের নামাজ আদায় করলো। তারপর বসে পড়লো মোনাজাতে, স্রষ্টার দরবারে দু'হাত তুলে নগন্য এক গোলামের মতো করেই চাইলো,
'ইয়া রব, তুমিতো অন্তর্যামী। তুমি জানো এই হাত দু'টো পবিত্র নয়। আত্মাটাও হয়তো কলুষিত হয়ে গেছে বহু আগেই। আমি এক পাপী বান্দা, তবুও তুমি আমায় একজীবনে এতোবেশি দিয়েছো, যে কখনো তোমার দরবারে হাত তোলার কথা মনেই পড়েনি আমার। কিন্তু সেই প্রাপ্তি, বিলাসী জীবন এক নিমেষে ফিকে হয়ে গেলো। আমি জায়ান ক্রীতিক চৌধুরী পর্যুদস্ত হয়ে পড়লাম শুধু মাত্র আমার অরুর অসুস্থতায়। আজ তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছো। দৃষ্টিতে আঙুল দিয়ে বুঝিয়েছো সব থেকেও মানুষ কতটা অসহায় হয়। যে যতই উর্ধ্বে যাক, সেই তোমার পদতলেই ফিরে আসতে হয়।
ইয়া আল্লাহ, দুনিয়ার কারোর কাছে কখনো আমি অরুকে চাইনি, জীবনের প্রত্যেকটা পর্যায়ে সবার থেকে ছিনিয়ে নিয়েছি ওকে। কিন্তু তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার সাধ্য আমার নেই। তাই হাত পেতে চাইছি। ইয়া আল্লাহ, আমার অরুকে দাও, ওর কষ্ট কমিয়ে দাও। আমার অভূমিষ্ঠ সন্তানকে তুমি রক্ষা করো, তাকে সুন্দরভাবে দুনিয়ার আলো দেখার সুযোগ করে দাও। তার অভূতপূর্ব আগমনে আমার চক্ষু শীতল করে দাও।
রবের নিকট আত্মসমর্পিত অন্তর সর্বদা কোমল হয়। ক্রীতিকের পাথুরে হৃদয় আজ বর্ষণে মুখর। সেই বর্ষণ হৃদয়ের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে চোখের কোলে জল জমলো আজ। দু'এক ফোটা টুপটাপ করে গড়িয়ে পড়লো অতর্কিতে।
পুবাকাশে জাফরানি রঙ ধরেছে, ভোরের আলো ফুটলো বোধ হয়। ক্রীতিক মোনাজাতের ইতি টানলো, তুলে রাখা করতল দু'টো দিয়ে মুখ মুছবে তার আগেই ভাইব্রেট আওয়াজ তুলে বেজে উঠলো তার মুঠোফোন। ক্রীতিক মোনাজাত সম্পন্ন করে তড়িৎ হাতে ফোন রিসিভকরলো। এপাশ থেকে কিছু বলার আগেই ধ্বণিত হলো সায়রের বিরক্তি ভরা কণ্ঠস্বর,
'কোথায় গিয়ে বসে আছিস তুই?'
'কি চাই?'
ক্রীতিকের গম্ভীর আওয়াজ শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো সায়র,
'কি চাই মানে? আমাকে তোর ভিখারি মনে হয়? আমার নেট ওয়ার্থ সম্পর্কে কোনো আইডিয়া আছে তোর?'
'এই এক ডায়লগ আর কত দিবি?'
নিরুদ্বেগ স্বরে কথাটা বললো ক্রীতিক। সায়র কটমট করে জবাব দিলো,
'শালা, তোর মেয়ে তো তোর মতোই হিটলার। যেই শুনেছে আমি আগে বাবা হবো, অমনি একলাফে পনেরো দিন আগে ফুটে গেলো! কী আশ্চর্য! এই মেয়ের শরীরে যে তোর ডিএনএ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই জেকে। বাপ-মেয়ে দু'টোই অধৈর্য।
এই সত্যি করে বলতো জেকে, তোরা বাবা-মেয়েতে মিলে আমার আর আমার ছেলের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করেছিস তাই না?'
'সায়র! সিরিয়াস মোমেন্টে ফাজলামো করবি না।'
ক্রীতিকের নীরব হুংকারে থোড়াই কেয়ার করলো না সায়র। উল্টো শুরু হলো তার কথার ঝড়,
'আমারটা ফাজলামো? তুই আর তোর মেয়ে মিলে যেটা করেছিস, সেটা কি? পনেরো দিন আগে ফুটলো তো ফুটলো, ফুটেই হসপিটাল মাথায় তুলেছে। কই, আমার ছেলের কান্নাকাটি শুনতে পাচ্ছিস একটুও? শোন জেকে, তুই আর তোর মেয়ে যতই ষড়যন্ত্র করিস না কেন, এখন আর লাভ নেই বুঝেছিস? আমার ছেলে ঠিক আমাকে জিতিয়ে দিয়েছে। বাবা, আমি একদিন আগেই হয়েছি।'
শেষ কথাটা বেশ গর্ব নিয়ে বললো সায়র। তার মধ্যেই পাশ থেকে ভেসে এলো এলিসার খোশমেজাজী কণ্ঠস্বর,
'কি শুরু করলি তোরা আবার, দে আমার কাছে দে।'
এলিসা কল তুলতেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো ক্রীতিক। থমথমে গলায় জানতে চাইলো,
'এলি, অরু...'
ক্রীতিক বাক্য সম্পন্ন করার আগেই এলিসা জানায়,
'অরু ভালো আছে জেকে। এইতো কিছুক্ষণ আগে কেভিনে শিফট করা হয়েছে। কিন্তু...'
'কিন্তু কি...'
প্রবল আশঙ্কায় ধড়ফড়িয়ে উঠলো ক্রীতিক। এলিসা বললো,
'তোর মেয়েটা খুব কান্নাকাটি করছে। অরু এখনো ফিডিং করানোর মতো স্ট্যাবল নয়। ডক্টর বলেছে ফর্মুলা দিতে।'
'ঠিক আছে, আমি নিয়ে আসছি।'
কথা শেষ করে বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললো ক্রীতিক। অতঃপর একবুক স্বস্তি আর অনেকটা প্রশান্তি নিয়ে পথ ধরলো হসপিটালের।
হসপিটালে ফিরে প্রথমেই অরুর কাছে গেলো ক্রীতিক। হসপিটালের ফিনাইল আর স্যাভলনের ঝাঁঝালো গন্ধটা অরুর বরাবরই অপছন্দের। অথচ আজ হাতে ক্যানোলা সমেত নিথর হয়ে পেশেন্ট বেডে শুয়ে আছে মেয়েটা। ক্লান্ত, রক্তশূন্য ফ্যাকাসে মুখটাতে অদ্ভুত এক প্রাপ্তির ঝিলিক। দ্রীপ্ত চেহারা নিয়ে চেয়ে আছে আগন্তুক ক্রীতিকের পানে। ক্রীতিক ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। পায়ে তার এখনো রাতের স্লিপার, শরীরে মলিন সোয়েট শার্ট আর সাদা রঙের ব্যাগী ডেনিম। একঝাঁক এলোমেলো চুল এসে ঢেকে রেখেছে তার উজ্জ্বলাভ ললাটদেশ। ব্যাগী আউটফিটে বরাবরই চমৎকার লাগে মানুষটাকে, আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়।
ক্রীতিক অরুর শিয়রে গিয়ে দাঁড়ালো, তারপর গ্রীবা বাঁকিয়ে একটু ঝুঁকে প্রগাঢ় এক চুমু খেলো অরুর কপালে। আদর মেশানো কণ্ঠে বললো,
'খুব কষ্ট হয়েছে তাইনা? খুব ব্যথা লেগেছে? আ'ম স্যরি বেইবি। আর কক্ষনো তোকে বাচ্চা দিবো না।'
ক্রীতিকের কথা শুনে মিশ্র অনুভূতির তোড়ে মুখে হাসি চোখে জল চলে এলো অরুর। অস্ফুট স্বরে আওড়ালো,
আমি ঠিক আহা
ক্রীতিক আবারও চুমু খেলো ওর পুরন্ত কপালে। অনুশোচনায় পুড়ে যাচ্ছে তার অন্তরটা। বললো,
'তোর কিছু হয়ে গেলে আমার উপরওয়ালার উপর খুব অভিমান হতে। অরু।'
অরু মৃদু হেসে জবাব দিলো,
'আল্লাহ কাউকে খালি হাতে ফেরান না।'
'আই নো বেইবি। তোর কষ্ট হয় এমন কোনো কাজ আমি কখনো করবো না। কখনোই না।'
অরু হাসলো। অতঃপর রিনরিনে গলায় শুধালো,
'আপনার মেয়েকে দেখেছেন?'
'এখনো না।'
ক্রীতিকের বলতে বাকি তার মধ্যেই এলিসা এসে তোয়ালে মোড়ানো একটা ছোট্ট নরম অস্তিত্ব তুলে দিলো তার বাহুতে। বিগলিত হেসে বললো,
'তোর নারী বিদ্বেষী জীবনের নতুন নারী অতিথি। খুশি হসনি?'
ভোঁতা একটা ব্যথাতুর অনুভূতিতে ভার হয়ে এলো ক্রীতিকের বুক। ক্রীতিক বুঝতে পারছে না কেন এই ব্যথা, কিসেরই বা যাতনা। কেমল ছলছলে নয়নে নিজ অংশের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে জবাব দিলো,
'খুউউব।'
অরু খেয়াল করলো ক্রীতিকের দু'হাত তিরতির করে কাঁপছে। ওকে একটু স্বাভাবিক করার জন্য প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে শুধালো,
'ওর এখনো নাম রাখা হয়নি। কিছু ভেবেছেন?'
ক্রীতিকের কণ্ঠস্বর জমে আছে। একটু সময় নিয়ে প্রলম্বিত শ্বাস ফেলে জবাব দিলো,
'ওকে দেখে আমার হৃদয়টা ব্যথা করছে অরু, ভেতরটা কেমন গলে গলে যাচ্ছে। ওর দিকে তাকালেই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে অপ্রত্যাশিত একটা চেহারা।'
অরু আস্তে করে শুধালো,
'কে?'
'আমার মা। কিয়ারা রোজারিও।'
কথাটা বলতে গিয়েও ক্রীতিক যেন হোঁচট খেলো একদফা। এমন অপ্রত্যাশিত রমণীর ছায়া তার মেয়ের চেহারায় কী করে এলো?
পাশ থেকে এলিসা বললো,
'মেয়ে তাহলে তার গ্র্যানীর মতো দেখতে হয়েছে।' ওপাশ থেকে গলা উচিয়ে সায়র বলে উঠলো,
'এই, তোর মা ও বিট্রিশ ছিল তাই না রে?'
এলিসা ওর পানে চোখ রাঙিয়ে চাইলে। সায়র নাক সিকোয় তুলে কটমটিয়ে স্বগোতক্তি করে আওড়ালো,
'বাপ-মেয়ে দু'টোই ব্রিটিশের বংশধর হিটলার তো। হবেই।'
ক্রীতিক গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মেয়ের দিকে। তক্ষুণি আবারও একই প্রশ্ন করলো অরু,
'ওর নাম রাখবেন না?'
তৎক্ষণাৎ প্রত্যুত্তর ভেসে এলো বিপরীত প্রান্ত থেকে,
'কিয়ারা। আই থিংক দিস নেইম ইজ পার্ফেক্ট ফর হার।'
অরু বিগলিত হেসে বাকি টুকু পূরণ করলো,
'কিয়ারা জায়ান চৌধুরী।'
'ইয়েস বেইবি। থ্যাংক্স ফর দ্যা গিফট, থ্যাংক্স আ লট।'
ক্রীতিকের কণ্ঠস্বর আবারও ধীর হয়ে আসে। এতো আনন্দ এতো স্বস্তির মাঝেও অরুর একটু মন খারাপ হয়। মুখটা মলিন করে জানায়,
'আমার ডোরার কথা খুব মনে পড়ছে, আর আপার কথাও।'
ক্রীতিক তৃতীয় বারের মতো অরুর কপালে চুমু আঁকলো। আশ্বস্ত করে জানালো,
'প্রত্যয়কে বলেছি। খুব শীঘ্রই ওদের নিয়ে আসছে। ইভেন অনু হ্যাজ আ সারপ্রাইজ ফর ইউ।'
'সত্যিই!'
বিষ্ময়ে দু'চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো অরুর। ক্রীতিক হ্যা সূচক মাথা নাড়িয়ে বললো,
'সত্যি।'
হসপিটালের তৃতীয় দিন আজ। সকালের মৃদু আলো দূরন্ত শিশুর মতো সুড়সুড়ি খাচ্ছে পায়ের কাছে। মেঘমুক্ত আকাশে ফেরারী পাখির ঝাঁক। প্রশান্তমহাসাগরীয় ঈষদুষ্ণ দমকা হওয়ায় সদ্য কিশোরীর ন্যায় দোলখাচ্ছে প্রকৃতি।
কেভিনের বারান্দার একপ্রান্তে বসে কিয়ারাকে ফিডার খাওয়াচ্ছিল ক্রীতিক। তন্মধ্যে ভেতরে এলো সায়র। বুকের সাথে লেপ্টে আছে ছোট্ট নিনিত বাবু। ছেলের হাত-পা ছোড়ার ভঙ্গিমা দেখে মনে হচ্ছে, সে ভবিষ্যতে বাবাকেও ওভারটেক করবে। সায়র এগিয়ে গিয়ে ক্রীতিকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে। তার কৌতুক মুখের দিকে চেয়ে কপাল গোছালো ক্রীতিক। গমগমে আওয়াজে বললো,
'কি সমস্যা? এখানে কি সার্কাস হচ্ছে?'
সায়র দাঁত কেলিয়ে হেসে বললো,
'সার্কাস হচ্ছে কিনা জানিনা, কিন্তু আমার ভীষণ হাসি পাচ্ছে।'
ক্রীতিক ভ্রু কুঞ্চিত করে প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে চাইলে। সায়র আবারও কৌতুক স্বরে বললো,
'হেরে গিয়ে কেমন অনুভব হচ্ছে মিস্টার জেকে?'
'তুই আগে বল, তোর ছেলে এতো হাত-পা ছুঁড়ছে কেন?'
ক্রীতিক প্রসঙ্গ পাল্টালে চাইলো বোধ হয়। সায়র বুক ফুলিয়ে জবাব দিলো,
'ছেলে আমার বড় হয়ে ক্যারাটে মাস্টার হবে। এখন থেকেই প্র্যাকটিস শুরু করেছে তাই। কিন্তু তুই তো আগেই হেরে গিয়েছিস।'
ক্রীতিক কণ্ঠে উষ্মা ঢেলে বললো,
'একদিন আগে বাবা হয়েছিস। ওটাকে ফার্স্ট হওয়া বলেনা। বলা হয় 'ড্র'।'
সায়র খুকখুক করে হাসলো। উপহাস করে বললো,
'আঙুল ফল টকই মনে হবে ব্যাপার না। এক দিন আগে হই কিংবা এক ঘণ্টা আগে বাবা, আমি তোর আগেই হয়েছি।'
ক্রীতিক বিরক্ত হলো। অকস্মাৎ মেজাজটা বিগড়ে গেলো তার। দাঁত খিঁচে বললো,
'হয়েছিস তো? এখন কি করতে হবে? পুরো হসপিটালে এনাউন্স করে তোকে ট্রফি দিতে হবে?'
'দরকার পরলে দিবি।'
সায়র কাঁধ ঝাঁকিয়ে ঠোঁট উল্টালো। ক্রীতিক দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
'কাছে আয়, দিচ্ছি।'
সায়র গেলোনা। উল্টো হইরই করে মাথায় তুললো হসপিটাল। একটু বাদে ছুটে এলো এলিসা। বিরক্তি নিয়ে বললো,
'কি হয়েছে? তোরা বাচ্চা কোলে নিয়ে বাচ্চাদের মতো ঝগড়া কেন করছিস?'
সায়র কঠিন স্বরে বললো,
'দেখনা এলি, এই জেকে কত বড় হিটলার। বাবা আমি আগে হয়ে দেখালাম, তবুও মানতে চাইছে না!'
ক্রীতিক থমথমে গলায় জবাব দিলো,
'একদিন আগে বাবা হয়ে দুনিয়া উদ্ধার করে ফেলেছো তুমি।'
'আফটার অল তোকে হারিয়েছি। আমি তো পুরস্কার ডিজার্ভ করি।'
'হ্যা, সান্ত্বনা পুরস্কার।'
ওদের বাকবিতন্ডার মাঝেই চেচিয়ে উঠলো এলিসা।
'থামবি তোরা?'
পরপরই বাচ্চা দু'টোকে নিজের কোলে নিয়ে বললো,
'একদিন আগে পরে এসে ওদের ঘাট হয়েছে। তোদের মতো বাবা সিলেক্ট করে ওরা আরও বড় অন্যায় করে ফেলেছে। যত্তসব!'
এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে কিয়ারা নিনিত সমেত হনহনিয়ে প্রস্থান করলো এলিসা।
এলিসা চলে যেতেই ক্রীতিক হাতার আস্তিন গোটাতে গোটাতে সায়রের দিকে এগোয়। ভ্রু কুঁচকে ছদ্ম গাম্ভীর্য নিয়ে সায়র জিজ্ঞেস করে,
'কিরে এগোচ্ছিস কেন?'
ক্রীতিক আস্তে করে জবাব দেয়,
'তোকে পুরস্কার দিবো।'
অতঃপর, দুম! দুম! দুম!
বেশ কয়েক মাস পরে.....
আজ ক্রীতিকের বাড়িতে ছোটখাটো একটা গেট টুগেদারের আয়োজন করা হয়েছে। উপলক্ষটা মূলত অনু। আবারও সন্তান সম্ভাবনা হয়েছে মেয়েটা। তাই অরুর আবদারে এই আয়োজন। আর গেট টুগেদার মানেই ক্রীতিকের বন্ধু মহলের মাত্রাধিক হইহট্টগোল। আজও তার ব্যক্তিক্রম নয়। খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাচ্চাগুলোকে উপর তলায় ঘুম পাড়িয়ে সবাই এসে লিভিং রুমে বসেছে আড্ডা দিতে। ক্রীতিক বরাবরই একগুঁয়ে। মানুষের সান্নিধ্য তার খুব একটা পছন্দ নয়। তাই এক কোণে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে টিভি স্ক্রিনে গেইম খেলছে সে।
অরু আজ কালো স্যাটিনের শাড়ি পড়েছে, সাথে ফুল স্লিভ টকটকে লাল ব্লাউজ। পরিপাটি করা রেশম কোমল লম্বা চুলগুলোকে ছেড়ে দিয়ে কানের পেছনে গুঁজেছে তরতাজা লাল গোলাপ। গাঢ় স্মোকি আইশ্যাডোর সাথে মিল রেখে ঠোঁটে গ্লস লাগিয়েছে সামান্য। হাত ভর্তি কালো চুড়ি। সব মিলিয়ে পুরোদস্তুর বাঙালি রমণী সেজে বিদেশিনীদের মাঝে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে।