#হিমরূপার_উষ্ণছোঁয়া
#পর্ব_৭
#কলমে_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
খাদিজা তালুকদারের ঘরে গিয়ে রীতিমতো অবাক হয়ে গেল শৈলী। এত এত গয়না, এত সুন্দর শাড়ি, এত সব জিনিস বড়মা কোথা থেকে পেলেন, আর শৈলীকেই বা কেনো দিচ্ছেন — এই ভাবনাতেই হা হয়ে তাকিয়েই থাকলো শৈলী। ওর এমন হতবাক হওয়া চেহারা দেখে খাদিজা তালুকদার শাড়ি, গয়না সব পাশে রেখে শৈলীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,
—" শাড়িগুলো অনেক আগেই কিনে রেখেছিলাম। ছেলের বউকে দেয়ার জন্য। তাই এখন এসব তোর! আর...
কিছুক্ষণ থেমে খাদিজা বলতে থাকলেন,
—" গয়না গুলো নিশানের দাদি আমায় দিয়েছিল। আরো অনেক ছিল অবশ্য, এর মধ্যে কিছু তো রাশিদাকে দিতে হয়েছে। এগুলো রেখেছিলাম আমার নিশানের বউকে দেব বলে। তাই এগুলোও এখন সব তোর। আরো কিছু আছে অবশ্য, ওগুলো এখন দিলাম না। আমি যখন থাকবোনা, তখন তো সব তোরই হবে।"
শৈলী চুপ করে গেল। কিছু বলার মতো শব্দ যেন ওর মুখে খুঁজে পাচ্ছিল না কেউ। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকল গয়নার দিকে, শাড়ির দিকে, তারপর ধীরে ধীরে খাদিজা তালুকদারের মুখের দিকে। কিছুক্ষণ পর ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে বলল,
—"তুমি... এগুলো আমায় কেনো দিচ্ছ বড়মা? আমার এসব কিছু লাগবেনা। আর...আমি এগুলো সামলে রাখতেও পারবনা। তার থেকে বরং তুমি নিজের কাছে রেখে দাও। আমার যদি কখনো প্রয়োজন হয়, আমি চেয়ে নেব তোমার থেকে।"
খাদিজা তালুকদার ভ্রু কুঁচকে বললেন,
—"আশ্চর্য! বিয়েতে গয়না পড়বিনা তুই?"
শৈলী এবার কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
—" মা মারা যাওয়ার আগে আমার জন্য কিছু গয়না রেখে গিয়েছিল বড়মা। আমি ওগুলো....
কথা শেষ করার আগেই খাদিজা কয়েকটা গয়না আলাদা করে বললেন,
—" এইযে এই হার টা, বালা দুটো, আর ঝুমকাজোড়া তোর মায়ের ছিল। আমার কাছেই এতদিন ছিল। এসব পড়তে চাস বিয়েতে?"
শৈলী মাথা নিচু করে মুখে হাসি নিয়ে বলল,
—" তুমি যেটা বলবে সেটাই পড়ব বড়মা। এসব তোমার কাছেই রেখে দিও। আমি হারিয়ে ফেলব। আমি শুধু জানতে চাইছিলাম যে ওসব আছে কিনা। আর শাড়িগুলোও রেখো, শুধু ওই লাল শাড়িটা দিও আমায়! ওটা ভীষণ সুন্দর! "
খাদিজা তালুকদার নিঃশব্দে কিছুক্ষণ শৈলীর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার কঠিন চোখজোড়া এই প্রথমবারের মতো জলজ হয়ে উঠল, কিন্তু সে জল ও লুকিয়ে রাখলেন অভিজ্ঞতার পর্দায়। শৈলীর এই অপ্রত্যাশিত কোমলতা, বিনয়ের ছোঁয়া, আর নিজের মা'র স্মৃতিকে শ্রদ্ধা করার ভাবনাটা তাকে আপ্লুত করে তুলল। একটু পর তিনি হালকা গলায়,
—" এভাবেই মধুমধু কথা বলে আমার ছেলে কে ফাঁসিয়েছিস তাই না? ভালোই শিখেছিস! যাক, এজন্যই তো তোকে আমার ছেলের বউ হিসেবে মেনে নিলাম। তোকে দেখে বারবার মনে হয়, এই মেয়েটা শুধু সংসার করবে না, সম্পর্কও গড়বে। মায়া রাখবে। সব জায়গায় সবাইকে নিজের মতো আপন করে নেবে। আমার আশা টা যেন না ভাঙে!"
শৈলী মাথা নিচু করে চুপ করে রইল। কিছু বলার ছিল না। বুকের গভীরে জমে থাকা অচেনা আবেগের ঢেউ ততক্ষণে চোখের কোণে এসে পৌঁছেছে। খাদিজা এবার এগিয়ে এলেন। নিঃশব্দে শৈলীর মাথায় হাত রাখলেন। তাঁর হাতখানা ছিল নরম, স্থির, অথচ শক্ত এক আশ্বাসে ভরা।
—"মাথা উঁচু করে থাকিস সবসময়। আর এই বাড়িতে, এই পরিবারের কোনো কিছু নিজের বলে মনে করতেও দ্বিধা করবি না। কারণ আজ থেকে এই ঘরের প্রতিটা জিনিস, প্রতিটা মানুষ তোকে নিয়েই চিন্তা করবে। এই বাড়িতে এখন আগের থেকেও বেশি অধিকার তোর! একমাত্র বউ তুই! এটা মনে রাখিস!"
শৈলীর কাঁপা ঠোঁটে এবারও কোনো শব্দ এলো না, কিন্তু মুখে সেই চেনা লাজুক হাসিটা ফুটে উঠল, যা জানিয়ে দিল, সে বুঝেছে, সে গ্রহণ করেছে, এবং সে প্রস্তুত।
°°°°°°°°°°°°
শৈলী নিচে নামতেই হঠাৎ একটা ছোটখাটো ঝড় বয়ে গেল ঘরের ভেতর। রিমি আর মিমি সবার আগে শৈলীকে দেখতে পেলো আর তখনই দুই বোন মিলে দৌঁড়ে গিয়ে শৈলীর দু’পাশ থেকে ধরে ফেলল। রিমি চোখ গোল করে বলল,
—"ওয়াও! তুই তো এখনি বউমা মোডে চলে গেছিস দেখছি! কাহিনী কী? মুখে এমন লাজুক ভাব কেনো?"
শৈলী কিছু বলার আগেই মিমি চুলের গোড়া থেকে খেয়াল করে বলল,
—"এই তো, এখন একটু ব্রাইডাল গ্লো মেখে গেছে মুখে, মানে বুঝতেই পারছি নিশান ভাইয়ের ঘরে যাওয়ার পর থেকে কিছু একটা ঘটেছে! ঠিক ধরেছিনা?"
শৈলী অপ্রস্তুত হয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে মিনমিন করে বলল,
—"আরে না না, তেমন কিছু, না মানে অত কিছু না... বড়মা..., মানে আমি তো বড়মার ঘরে গেছিলাম! ওখানেই তো ছিলাম!"
মিমি এবার মুখ কুঁচকে টেনে টেনে বলল,
—" কিন্তু এর আগে তো নিশান ভাইয়ের ঘরে ছিলে সোনা। আমরা ডাকার পর বের হয়েছো ওখান থেকে! কিছু দেখিনি ভেবেছো?"
শৈলীর মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো, রিমি তখন মুচকি হেসে বলল,
—"আমরা খুব ভালো করেই জানি যে তুমি নিশান ভাইয়ের সাথে পিরিত করছিলে! তাই না? হুম, হুম?'
শৈলী এবার কিঞ্চিৎ গম্ভীর গলায় বলল,
—" মোটেই না। ছিঃ ছিঃ! কিসব বাজে কথা" আ..আমি তো নিশান ভাইয়ের ঘরে গেছিলাম একটা জরুরি কথা বলতে। তোরা না ডাকলেও আমি তখনি বের হতাম। আর তোরা যেমনটা ভাবছিস তেমন কিছুই না। এ..একদম পাকনামো করবিনা খবরদার!"
কোনোমতে আমতা আমতা করে কথাগুলো বলেই এক দৌঁড়ে নিজের ঘরে ছুটে চলে গেলো শৈলী। ওর এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে রিমি আর মিমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে থাকলো। দৃশ্য টা উপর থেকে নিশানও দেখলো। হাতে কফির কাপ সেও ফিক করে হেসে দিল।
°°°°°°°°
বিয়ের আয়োজন করার সময় হাতে খুব বেশি নেই বলে বাড়ির সমস্ত গিন্নিরা একসাথে বেরিয়ে পড়লেন শপিং এর উদ্দেশ্যে। এদিকে শৈলী পড়েছে বিরাট বড় লজ্জায়। একটু আগেই বসার ঘরে সে এসে বসেছিল। তখন রাশিদা তালুকদার তাকে তৈরী হয়ে নিতে বললেন বিয়ের কেনাকাটা করতে যাবেন বলে৷ হুট করে কোথা থেকে যেন নিশান এসে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
—" আজ তোমরা সবাই শপিং করে এসো। আমি আমার আর শৈলীর শপিং কাল করব। সেখানে তোমাদের প্রয়োজন নেই। যাবতীয় কাজগুলো তোমরা আজ করে এসো যাও। আমরা দুজন বাড়িতে আছি।"
কত সুন্দর একটা কথা বলে নিশান চলে গেলো। অথচ ভ্রু কুঁচকে শৈলীর দিকে তাকিয়ে রইলো রাশিদা তালুকদার, তিনি মুখ ভেঙচিয়ে বলে উঠলেন,
—" বাড়ির মান সম্মান কোথায় গেলো কে জানে? বর-কনের বিয়ের জিনিসপত্র কি তারা নিজে কিনে, এমন তো কোথাও দেখিনি বাপু৷ অন্তত শৈলীর তো আমাদের সাথেই যাওয়া উচিত। আমরা দেখেশুনে শাড়ি পছন্দ করে দিতে পারতাম ওর জন্য।"
শৈলী কিছু না বলে মাথা নিচু করল। খাদিজা তালুকদার মোটেই এ বিষয়ে মাথা ঘামালেন না, তিনি গম্ভীর স্বরে বললেন,
—" এখন তো নব্বই দশক না রাশিদা। অশিক্ষিতদের মত কথা বলো না। বিয়ে মানুষের একবারই হয়। ওরা এ যুগের ছেলেমেয়ে। এমন আবদার করা অস্বাভাবিক না। নিশান যেহেতু চেয়েছে, সেটাই হবে। কাল সকালেই ওরা দুজন গিয়ে শাড়ি পাঞ্জাবি আনুক। আমরা বরং আজ গিয়ে যাবতীয় কাজগুলো, আর রিমি, মিমি, নিশানের বাবা, এনাদের জন্য শপিং করে আসি। আর নিজেরাও করি।"
বলে খাদিজা কিছুক্ষণ সময় নিয়ে তাকালেন শৈলীর দিকে, যে কিনা এখন মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। বললেন,
—" যেই লাল শাড়িটা তোকে দিয়েছি, ওটা বউভাতে পড়িস, আর এখন নিশান যা বলবে সেটাই করবি। বাড়িটা দেখে রাখিস। আর সন্ধ্যা বেলা ফ্রিজ থেকে দুধের বোতল গুলো বের করে বাইরে রেখে দিস। ফিরতে তো রাত হবে। আমরা বের হলাম তাহলে। চলো সবাই!"
শৈলী মাথা নাড়ালে একে একে সকলেই কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল। রাশিদা তালুকদার, খাদিজা তালুকদার, রিমি, মিমি সহ সবাই চলে গেলো। নাসিরুল তালুকদার তো দুপুরে খেয়ে অফিসে চলে গেছেন, উনারও ফিরতে রাত হবে। কিন্তু এদিকে নিশান কেনো কাজকাম ফালায় রেখে ঘরে শুয়ে আছে তা ধরতে পারলনা শৈলী। আজ নিশান অফিসেও যায়নি। যাকগে, হয়তো উনি ক্লান্ত।
শৈলী দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সবাইকে যেতে দেখে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ফিরে এলো। হুট করে তার মনে পড়ে গেল, নিশান ভাই তো বিকেলে কফি খেতে পছন্দ করেন। প্রতিদিন অফিস থেকে এসে কফির মগটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ বসে থাকেন। আজ তো অফিসেও যাননি। তাহলে নিশ্চয়ই একটু কফি খেতে ভালো লাগবে ওনার।
এই ভাবনা মাথায় আসতেই শৈলী যেন নিজেই নিজেকে চুপচাপ নির্দেশ দিল, চল, কফি বানাতে যাই। ওনার জন্য একটা স্পেশাল কফি, আর আমার জন্য একটা সাধারণ। শৈলী ভেবেই ধীরে ধীরে কিচেনের দিকে পা বাড়াল। চুলার পাশে দাঁড়িয়ে কফির জন্য দুধ গরম করতে করতে নিজের গালে এক হাত রাখল, মনে মনে হাসল। নিজের প্রতি খাদিজা তালুকদারের এমন ভালোবাসা দেখে শৈলী সত্যিই হতবাক।
দুধে ফেনা উঠছে, শৈলী চামচ দিয়ে নাড়ছে। তার চোখে-মুখে একরকম গর্ব আর উত্তেজনার ছায়া। চিনি মেপে দিল, কফির গন্ধে ভরে উঠল ছোট্ট রান্নাঘরটা। এরপর ধীরে ধীরে সে দুইটা কাপ বের করল। একটায় এক্সট্রা থিক কফি, হালকা চিনিযুক্ত, এটা নিশানের জন্য। আরেকটায় একটু হালকা কফি, একটু বেশি চিনি নিজের জন্য। ট্রেতে সাজিয়ে নিয়ে ও নিঃশব্দে নিশানের ঘরের দিকে রওনা হলো। ঠিক তখনই তার মনে হলো নিশান ভাই তো এখনো ঘরের ভেতরেই, হয়তো বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছেন। কিন্তু উনি কী ভাবছেন? কেন আজ বাইরে গেলেন না? এতকিছু বাদ দিয়ে বাড়িতে আছেন কেন?
চিন্তায় অদ্ভুত এক কৌতূহল জন্ম নিল তার মনে। হাতে কফির ট্রে, মুখে মৃদু হাসি, গালে হালকা লজ্জা,শৈলী ধীরে ধীরে নিশানের ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। এক বুক সাহস নিয়ে ডেকে উঠলো,
—" নিশান ভাই, জেগে আছেন?"
ভেতর থেকে তৎক্ষনাৎ নিশানের গলা শুনতে পাওয়া গেলো,
—" ভেতরে আয়!"
শৈলী এক মুহূর্ত থেমে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তার পায়ের পাতাগুলো কেমন শিকড় গজিয়ে ফেলল যেন। নিশান ভাইয়ের কণ্ঠটা অতটা স্পষ্ট, আত্মবিশ্বাসী ও ঠান্ডা ছিল যে মুহূর্তেই ওর বুকের ভেতরের হৃদপিণ্ডটা একবার লাফ দিয়ে উঠল। সে ধীরে ধীরে দরজার হাতলে হাত রাখল। ট্রেটা সামলে ধরে গভীর নিশ্বাস নিয়ে ভিতরে ঢুকল। ঘরে ঢুকেই চোখে পড়ল, নিশান বালিশে হেলান দিয়ে আধশোয়া ভঙ্গিতে বসে আছে। পরনে হালকা নীল রঙের সাদা স্ট্রাইপড টি-শার্ট, ট্রাউজার। এক হাতে মোবাইল, আরেক হাত জানালার পাশে রাখা বইয়ের দিকে। চোখজোড়া ক্লান্ত নয়, বরং গভীর, সজাগ, আর শৈলীর দিকে তাকিয়ে একটু প্রশান্ত।
শৈলী চুপচাপ সামনে এগিয়ে এলো। ট্রে রাখল ছোট্ট টেবিলটার ওপর। তারপর ধীরে বলল,
—"আপনার কফি।"
নিশান মোবাইল নামিয়ে রেখে ট্রের দিকে তাকাল। তারপর আবার চোখ তুলে শৈলীর দিকে, চোখে এক অদ্ভুত দৃষ্টি। ভ্রু কুঁচকে বলল,
—" দু কাপ এনেছিস যে। "
শৈলী বলে উঠলো
—" হ্যাঁ, হলুদ কাপটা আমার, আর নীল কাপটা...!"
অর্ধেক কথা শুনেই নিশান হলুদ কাপটা উঠিয়ে নিল। শৈলী হা হয়ে তাকালো। ওটা তো শৈলী নিজের জন্য করেছে। হলুদ কাপটা তো শৈলীর, নীল কাপটা নিশানের। অথচ নিশান ওর কাপটা না নিয়ে শৈলীর কাপটা নিল কেনো, যাকগে হয়তো ওইটাই পছন্দ হয়েছে। কাপগুলো নতুন বের করা হয়েছে। নিশানের আগের কাপটা নীলরঙা ছিল দেখে শৈলী ভেবেছিল এবারও নীল টাই পছন্দ করবে। কিন্তু তা তো হলোনা। যাক তবুও সমস্যা নেই, শুধু দুটো কাপের কফির তফাত আছে। শৈলী নিজেও কিছু না বলে নীল কাপটা ধীরে কাপটা তুলে নিল হাতে। এক চুমুক দিয়ে চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল কফির কাপের দিকে, এরপর নিশানের দিকে তাকালো। কারন শৈলীর হাতের কফিটা হালকা চিনিযুক্ত যেটা নিশান খায়। উল্টোদিকে নিশানের হাতের টা অনেক বেশি মিষ্টি, যেটা শৈলী খায়।
নিশান দু তিনবার চুমুক দিয়ে হঠাৎই মুখ কুঁচকে শৈলীর দিকে তাকালো, শৈলী চতুর্থ বারের মত চুমুক দিতে যাচ্ছিল ওই কাপে। খুব কষ্ট করেই তেঁতো কফিটা খাচ্ছিল। হঠাৎ নিশানের দৃষ্টিতে পিটপিট করে তাকালো।
নিশান এবার তিক্ত স্বরে তাকিয়ে বলল,
—" এটা কী বানিয়েছিস? আমার জন্য আগে কখনো কফি বানাস নি নাকি? এত মিষ্টি কেনো?"
শৈলী এবার আমতা আমতা করে বুঝ দেয়ার ভঙ্গিতে বলল,
—" সেটাই তো বলতে চাইছিলাম আপনাকে নিশান ভাই। ওই কাপ তো আপনার জন্য না। আপনিই তো ওই কাপ পছন্দ করলেন। আপনি হয়তো আমার কথার উল্টো বুঝেছেন। আচ্ছা, দিন ঠিক করে আনছি!"
নিশান তবুও ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো। দেখে মনে হলো শৈলীর কথাটা তার পছন্দ হয়নি। এবার নিশান হাতে থাকা কাপটা ট্রে তে রেখে হাত বাড়িয়ে দিল, আদেশ ছুঁড়লো কঠিন স্বরে,
—" দেখি তোর হাতের কাপটা দে।"
শৈলী আঁতকে উঠলো, ও তো এই কাপে ঠোঁট লাগিয়ে খেয়েছে একটু। এঁঠো জিনিসটা কি দেয়া যায় নাকি? সে না সূচক ভঙ্গিতে বলল,
—" না, না নিশান ভাই, আমি আপনাকে নতুন করে এনে দিচ্ছি। আপনি একটু বসুন!"
নিশান এবার আগের থেকেও গাঢ় স্বরে বলে উঠলো,
—" কেন রে? তুই কি আমার কাপে বিষ মিশিয়ে আনবি? মনে মনে ষড়যন্ত্র করছিস? তোর হাতের টা দিলে কী সমস্যা? নাকি নিজের টা অনেক বেশি সুন্দর করে বানিয়েছিস?"
নিশানের কথা শুনে শৈলী হা হয়ে তাকালো। এসব কি আজগুবি কথা বলছে লোকটা। এসব আবার হয় নাকি? আর ও তো এই কাপের কফি নিজের জন্য বানায়ও নি৷ লোকটার মাথা কি গেছে?
শৈলীর এমন ভাবনার মধ্যেই আবারো হুংকার দিয়ে উঠলো নিশান,
—" দে আমার কাপ। তোর তো সাহস কম না শৈলী। তুই আমার কাপে কফি খাওয়া শুরু করেছিস! এ বাড়ির নীল রঙের কাপগুলো আমার হয় জানিস না? আমার কাপ ফেরত দে। তোর এই মিষ্টি কফি খেতে পারবনা আমি!"
শৈলী এবার বাধ্য হয়ে মুখ কুঁচকে এগিয়ে দিল নিজের একটুখানি এঁটো করা নীল কাপের কফিটা, নিশান এক ঝটকায় এমন ভাবে কাপটা ছিনিয়ে নিল যেন শৈলীরই অন্যায় হয়েছে কফিটা খেয়ে। শৈলীর এবার ভীষণ মন খারাপ হলো। লোকটা তার সাথে এমন করল কেনো? সে তো সবকিছু ঠিকঠাকই করেছিল। উনার জন্যই তো বাধ্য হয়ে ওই কাপে একটু খেয়েছে। তাই বলে এভাবে বলল। নিশান ইতোমধ্যে খুব আরাম করে ওই নীল কাপটাতে খাওয়া শুরু করল।
অনেক কষ্ট পেয়েই শৈলী ঠোঁট ভিজিয়ে এ ঘর থেকে চলে যাওয়ার মনঃস্থির করল৷ তখনই আবারো নিশানের কর্কশ গলা ভেসে আসলো,
—" কফিটা তো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। খাচ্ছিস না কেনো?"
শৈলী এবার প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে তাকাতেই বুঝলো নিশান তাকে ট্রেতে রেখে দেয়া হলুদ কাপটায় খেতে বলছে। কিন্তু শৈলী তো অভিমান করেছে, তাই মাথা নেড়ে বলল,
—" ঠান্ডা হোক, খাব না আমি নিশান ভাই। আপনি খেয়ে কাপটা দিন। আমি চলে যাব।"
নিশান এবার কাপে চুমুক দিয়েই মাথা নিচু করে রাখা শৈলীর দিকে তাকালো। মেয়েটা বেশ ভালোই দুঃখ পেয়েছে তাহলে। কিন্তু পরক্ষণেই নিশান বাঁকা হেসে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলল,
—" তা খাবি কেনো তুই? ওই কাপে তো আমি খেয়েছি। এঁটো হয়ে গেছে তো! আমার এঁটো করা কফি খাবি কেনো তুই! হুম, তাও তো ঠিক। আমি ভুলেই গেছিলাম!"
শৈলী এবার কপাল কুঁচকে চোখ সরু করে তাকালো। কী বোঝাতে চাইছে এই লোক! সে কি এই লোকের মত খাডাশ নাকি যে সামান্য নিশানের খাওয়া কফিটা খেতে পারবেনা! এর আগে যে কতবার নিশানের এঁটো করা ভাত শৈলী খেয়েছে তা তো আর এই নিষ্ঠুর পুরুষ জানেনা। নিশানের কথায় রাগ হলো শৈলীর, সাথে সাথে ট্রে তে রাখা হলুদ কাপটা উঠিয়ে নিল। ঠোঁটে চেপে এমনভাবে এক ঢোকে কফি খেলো, যেন সে কফি নয়, প্রতিজ্ঞা গিলে ফেলছে! চুমুক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখটায় একচিলতে ব্যথা মেশানো অভিমান আর জেদের ছায়া ফুটে উঠল। নিশান আড়চোখে ওর খাওয়া দেখলো! ঠোঁটের বাঁকা হাসিটা বোঝা গেল না। তারপর কাপটা নামিয়ে ভ্রু কুঁচকে সরাসরি নিশানের দিকে তাকিয়ে বলল,
—" নিজের মত ভাবেন সবাইকে আপনি? আপনি ভাবছেন আপনি এই কাপে খেয়েছেন বলে আমি খাব না? হ্যাঁ? আমি তো আপনার হাতে ছুঁয়ে দেওয়া ভাতও খেয়েছি আগে। আপনি জানেন না, কিন্তু আমি জানি। আমার একটুও ঘৃণা লাগেনি তখন, আজও লাগছে না। বরং...!"
শৈলী থামল। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস। নিশান ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
—" বরং?"
শৈলী দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,
—" ক..কিছু না!"
নিশান এবার বাঁকা হাসলো। তারপর হঠাৎ করেই নিজের কাপের দিকে চোখ গেলো ওর। কিছু একটা লক্ষ্য করতেই ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।
শৈলী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নখ খুটছিল। হঠাৎ নিশানকে এমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে কফির কাপে চোখ দিতে দেখে সেও চমকে গেলো। কফিতে কি কিছু পড়েছে নাকি? আয়হায়! এমন হলে তো খুবই অসস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হবে! এক ঢোক গিলে শৈলী জিজ্ঞেস করল,
—" ক..কী হয়েছে নিশান ভাই?"
নিশান এবার কাপটা দেখতে দেখতেই বলল,
—" চকলেট ফ্লেভারের লিপবাম দিয়েছিস নাকি? তাই তো বলি, কফিতে আমি চকলেটের ঘ্রাণ পাচ্ছি কেনো? এখন দেখি কাপে তো দাগ বোঝা যাচ্ছে।"
শৈলী প্রথমে একটু থতমত খেয়ে গেল। চমকে উঠে ঠোঁট দুটো শক্ত করে একসাথে চেপে ধরল। লজ্জা আর অপরাধবোধ একসাথে এসে গলা চেপে ধরছে ওকে। ভেতরে ভেতরে হাতের আঙুল কুঁচকে যাচ্ছে, বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধকধক করছে। ওই সময় খেতে গিয়ে বোধহয় ঠোঁটের দাগ লেগেছে।
নিশান কাপটা সামনে ধরে আস্তে করে ঘুরিয়ে দেখালো শৈলীর দিকে। তারপর কপট বিস্ময়ের ভঙ্গিতে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— " এই লিপবামের দাগ না হলে তো ঠিক বুঝতেই পারতাম না তুই কতটা এক্সক্লুসিভ কফি বানাস আমার জন্য। ধন্যবাদ, চকলেট লিপবামও আমার আজকের স্পেশাল গিফট হয়ে গেলো!"
শৈলী থরথর করে উঠল লজ্জায়। চোখ নামিয়ে ফেলল, পা দুটো যেন গলার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। গলার কাছে একটা অদৃশ্য পিন্চ এসে বেঁধে রেখেছে গলার স্বরটাকে। ও ঠোঁট কামড়ে চুপ করে রইল।
ঠিক তখনই, নিশান মুখটা একদম কাছে এনে, কাপটা ওর চোখের সামনে তুলল। তারপর ঠোঁট রেখে ধীরে ধীরে এক চুমুক দিল কফিতে, ঠিক সেই জায়গাটাতেই, যেখানে শৈলী আগে ঠোঁট রেখেছিল। ঠোঁট ছোঁয়ার মুহূর্তে তার চোখ একটুও সরে গেল না শৈলীর মুখ থেকে। শৈলীও হতবাক হয়ে তাকালো। চুমুকের চেয়েও বেশি দৃঢ় ছিল নিশানের সেই গভীর দৃষ্টি।
শৈলীর দম বন্ধ হয়ে এলো। সে জানে, জানে ভালো করেই, নিশান দেখিয়ে দেখিয়ে করছে এটা। কিন্তু তার পক্ষেও কিছু বলা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ঠোঁটের কোণায় একফোঁটা কাঁপা হাসি লেগে আছে, চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে গেছে, গাল জ্বলে উঠেছে এক অজানা আবেগে। এতটুকু জায়গা যেন আগুনে পরিণত হয়েছে, সে নিশানের দৃষ্টি ফাঁকি দিয়ে আর কিছুই করতে পারছে না।
নিশান এবার কাপটা নামিয়ে আস্তে করে বলল,
—" এতদিন কতবার বললাম তোকে, শৈলী একটা স্পেশাল কফি বানা আমার জন্য। এতদিনে তো একবারও মনের মত কফি বানালি না। আজ অবশেষে একটা স্পেশাল কফি পেলাম, উইথ চকলেট ফ্লেভার, আই লাইক ইট!"
শৈলী লজ্জায় ঠোঁট কাঁমড়ে মাথা নিচু করতেই আবিষ্কার করল কিছু একটা। হতভম্ব হয়ে তাকালো ও। এতক্ষণ তাহলে নিশান ভাই ইচ্ছে করে এত নাটক করছিল! ভুল করে তার কাপ তুলে নেয়া, নিজের কাপে শৈলীকে খেতে বাধ্য করা, আবার ধমক দিয়ে কাপ ফিরিয়ে নেয়া, সবই তাহলে নাটক ছিল, এসব অশভ্যতামো করার এক নিছক কৌশল মাত্র! ইশ! কি লজ্জা! আর বোকা শৈলী তবুও ধরতে পারল না নিশানের এত মারাত্মক পরিকল্পনা!
নিশান শৈলীর অবস্থা দেখে আরেকটু গাঢ় স্বরে বলল,
—" কাল তোকে স্ট্রবেরি, চেরি আর ক্যারামেল ফ্লেভারের লিপবাম কিনে দেব আমি। মাঝে মাঝে কফিতে ইউজ করবি। ইট মেইকস দ্য কফি মোর সুইটার!"
—" কিন্তু আপনি তো মিষ্টি পছন্দ করেন না!"
মুখ ফঁসকে চিন্তিত কন্ঠে কথাটা বলেই আবারো চোখ খিঁচে বন্ধ করল শৈলী। উফ! এটা কি হলো! এমন পরিস্থিতিতে কেও এই কথা বলে। অদৃশ্য হাতে নিজের কপালে থাবড়া মারল শৈলী।
অথচ নিশান বিষয়টা নিয়ে একটু ভেবে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
—" তা অবশ্য মন্দ বলিস নি। কিন্তু......
নিশান একটু থেমে শৈলীর দিকে এক পা এগিয়ে এলো। তারপর কফির কাপটা নামিয়ে রেখে খুব ধীরে বলে উঠলো,
—" আই ডোন্ট লাইক সুইটস, বাট আই লাইক ইওর....
কথা টা শেষ না করেই শৈলীর ঠোঁটের দিকে তাকালো নিশান, ইশারাতেই বুঝিয়ে দিল তার মিষ্টি পছন্দ না হলেও এই কোমল ঠোঁটজোড়া বেশ পছন্দ হয়েছে। এমন নজর দেখে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলল শৈলী, মাথা নিচু করে বলল,
—" আ..আমি ছা...ছাদে যাব। কাপড় ওঠাতে হবে।"
নিশান ঠোঁট চেপে হাসি আটকালো। কেনো যেন মেয়েটাকে জ্বালাতে তার ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। হয়তো লজ্জামাখা মুখটা বারেবারে লাল হয়ে যাওয়াটাই দেখছে সে। নিশান এবার শৈলীর দিকে তাকিয়ে আবারো শৈলীর খাওয়া জায়গাটুকুতে ঠোঁট লাগিয়ে শেষ করল পুরো কফিটুকু, এরপর সেটা হাতে ধরিয়ে দিল শৈলীর। মুখে বলল,
—" ছাদে যাবি তো যা। আমি কি তোকে বেঁধে রেখেছি?"
শৈলী ট্রেটা উঠিয়ে নিল, তার কণ্ঠ কাঁপল, কিন্তু ঠোঁটে ছিল একটুখানি রাগমিশ্রিত অভিমান,
— " আপনি খুব খারাপ, জানেন? আমাকে দিয়ে নিজের কফি এঁটো করিয়ে খাচ্ছেন, আর নাটক করছেন? ইচ্ছে করেই এমন করে আমায় বকলেন, এখন আবার উল্টোপাল্টা কথা বলে.....যাইহোক, আপনি ভীষণ খারাপ!"
নিশান ভ্রু নাচিয়ে হাসলো, এরপর আবার ঝুঁকে গেল শৈলীর দিকে, খুব গম্ভীর স্বরে বলল,
—" এই খারাপ মানুষটার জন্যই তো রাতভর বালিশ ভিজিয়ে অঝোরে কেঁদেছিস, এই খারাপ মানুষটার জন্যই তো সারাদিন না খেয়ে অপেক্ষা করে থাকিস, এই খারাপ মানুষটারই টি-শার্ট প্রতিদিন হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘুমাস! সত্যিই, সো কম্পলিকেটেড!"
চমকে তাকালো শৈলী। শুকনো ঢোক গিলল। হাতে থাকা ট্রেটাও থরথর করে কাঁপতে থাকলো। সেই রাতে নিশানের টি শার্ট টা নিয়ে ছাদে বসে অনেক কান্না করার পরেও ওই টি শার্ট আর ফেরত দেয়নি শৈলী। নিজের কাছে রেখে দিয়েছে। রাতে ঘুমোনোর সময় মাঝে মাঝে হাতে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ে সে। কিন্তু এই কথাটা নিশান ভাই জানলো কি করে? শৈলী ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে আর লজ্জা পেয়ে এদিক ওদিক তাকালো।
নিশান এবার আরেকটু কাছে এসে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,
—" ওটা আমার টি শার্ট, অথচ তুই ওটাকে আলতো করে ভাঁজ করে লুকিয়ে রাখিস, বুকে জড়িয়ে ঘুমাস, কান্নার মাঝে শক্ত করে ধরে রাখিস। বল তুই, কার প্রতি এতটা.... যাক গে, খারাপ মানুষের টি শার্ট নিয়ে রেখেছিস কেনো?"
শৈলীর মুখ লাল হয়ে উঠল। ও চোখ নামিয়ে ফেলল, ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু কথাগুলো যেন ঢোঁক গিলে ফেলল। ওর ভেতরটা তোলপাড় করে উঠছিল, অথচ নিশানের চোখে ছিল একটা নরম অথচ দাবিদার দীপ্তি। সেই চোখ আর ঠান্ডা গলার মধ্যে এমন কিছু ছিল যেটা শৈলীকে চুপ করিয়ে দিল। নিশান এবার একটু হাসল। খুব আলতো করে বলল,
— "তুই যদি জানতিস, তোর ওই নিঃশব্দ অনুভূতি, আকুলতা প্রতিটা আমি টের পাই... তবে ভয় পেতিস না শৈলী। বরং আরও তীব্রভাবে আকুল হতি। কারণ, এই খারাপ মানুষটা তোকে ঠিক ততটাই........
কথাটা আবারো অসম্পূর্ণ রাখলো নিশান। ও কখনোই ভালোবাসা শব্দ টা উচ্চারণ করে না! শৈলী কথাটা সম্পূর্ণ করার অপোষ্য করল, যদিও জানে নিশান এটা কখনোই সম্পুর্ণ করবেনা। তবে নিশান একেবারেই যে অসমাপ্ত রাখলো তা না।
নিশান আবারো বলল,
—" কারন, এই খারাপ মানুষটা তোকে ঠিক ততটাই....
এরপর ঝুঁকে এসে শৈলীর কানের কাছে ফিসফিস করে আওড়ালো,
—" ডট... ডট.... ডট....!"
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সম্পূর্ণ থমকে গেল শৈলী। কানের কাছে উষ্ণ শ্বাসে নিশানের ফিসফিস করা কণ্ঠে ডট ডট ডট কথাটাই তার ভেতরটাকে কাঁপিয়ে দিল। ভালোবাসার তিনটা শব্দ না বলেই, যেন সবচেয়ে বেশি বলা হয়ে গেল!
শৈলী আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। কাঁপা কাঁপা পায়ে সে ট্রে হাতে ঘুরে দাঁড়াল, একফোঁটা পানি চোখে এসে পড়তেই যেন হুঁশ ফিরল। সে কিছু না বলে নিচু গলায় বলল,
—" ছাদে যাচ্ছি...কাপড় উঠাতে।"
বলেই ছুটে যেতে চাইলে হাতের কব্জি সজোরে চেপে ধরে নিশান,
—" শোন, কাল কিন্তু অনেক সকালে বের হব। তোকে শাড়ি কিনে দিতে হবে...অনেক কাজ। আর একটা কাজ করবি, কালও এই চকলেট ফ্লেভারের লিপবাম টাই ঠোঁটে দিবি। এন্ড মোস্টলি, আজ আর আমার কাছে আসিস না, ভুল কিছু হয়ে যেতে সময় লাগবেনা। আ'ম নট দিস টাইপ অফ ডিসেন্ট!"
বলেই ফট করে হাত ছেড়ে দিল নিশান। শৈলী এবার আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। থমকে থেকে চোখ বুঁজে হাসল। তারপর চুপচাপ চলে গেলো। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সে জানে, তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিকেলটা সে এইমাত্র পার করে এলো।
চলবে.........
😞 না মানে..নিশান ভাইকে রোমান্টিক হওয়ার ভিটামিন খাইয়েছি। প্রত্যেকে পর্বেই চমক থাকবে। তাই আগে থেকেই সাবধান!!🤌❤️✨ কিন্তু রেসপন্স না পেলে এমনই দেরি করে নতুন পর্ব দেবো না হুহ!