ফন্ট সাইজ:
থিম:
হিমরূপার উষ্ণছোঁয়া

১৬তম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#হিমরূপার_উষ্ণছোঁয়া

#পর্ব_১৬ ( বিশেষ পর্ব❤️✨)

#কলমে_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

নিশানকে জোর করিয়েও ঘুম পাড়ানো গেল না আর। আকাশ এদিকে বাধ্য হয়ে নিশানের পাশেই উপুড় হয়ে শুয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিল। চোখ বন্ধ করে শ্বাস ছেড়ে আরাম করে ঘুমিয়ে পড়ল। নিশান ফ্যানের দিকে চোখ রেখে সিগারেট ছুঁড়ে মারল অদূরে। এক পলক ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলো রাত এগারোটা বাজতে চলেছে। নিশান চোখ বন্ধ করল কিছুক্ষণের জন্য, মনে হলো বিশ্রাম নিচ্ছে, আসলে নয়। মনের ভেতর এক অদ্ভুত কোলাহল চলছে তার। পাশেই আকাশ গভীর ঘুমে ডুবে গেছে। নিশানের মাথায় তখন একটাই দৃশ্য, শৈলীর নরম মুখের অভিব্যক্তি। ফোঁস করে শ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে নিশান বিছানায় শুয়েই ফোনটা টেনে নিলো পাশে রাখা টেবিল থেকে। আঙুলগুলো ক্লান্তভাবে স্ক্রিনে চলতে লাগল। গ্যালারির গভীরে, আর পাঁচটা সাধারণ ছবির ভিড়ে, একটা ফোল্ডারে সে ঢুকলো। সেখানে অনেক ছবি, কিছু পুরোনো, কিছু তোলা হয়েছিল অজান্তে। সে একটার পর একটা ঘেঁটে চলল, যতক্ষণ না সেই ছবিটা খুঁজে পায়, একটা শান্ত বিকেলের ছবি, যেখানে রয়েছে সাদা চুড়িদার পরিহিত শৈলী। ছবিটার দিকে তাকিয়ে নিশান অনেকক্ষণ চুপ রইলো। চোখে কোনো রঙ নেই, তবুও কিছু জ্বলছে সেখানে। আঙুলে রাখা ফোনটা আর তার দৃষ্টি, দুই-ই স্থির হয়ে আছে শৈলীর মুখে।

একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো, শব্দহীন, বুকের গহীন থেকে উঠেছে। সিগারেটের গন্ধ মিশে আছে ঘরে, আর সেই গন্ধের ভেতরেও যেন শৈলীর সেই সাদা চুড়িদারের সৌন্দর্য নিশানের নিঃশ্বাসে জড়িয়ে থাকে। নিশান একটু শান্ত হলো। ফোনটা পাশে রেখে আবারো চোখ বুঁজে ভাবতে লাগল। শৈলীর প্রত্যেকটা কথাই অযৌক্তিক! ভুল! কি এমন দেখেছে, কি এমন শুনেছে যে মেয়েটা তার সাথে এমন ব্যবহার করল। এক মুহুর্তের জন্য রাগ গলে গিয়ে চিন্তিত হলো নিশান। প্রেমিকা রাগ করে মুখ ফোলালে প্রেমিক রা যেমন করে রাগের উৎস জেনে রাগ ভাঙাতে ব্যাকুল হয়ে পড়ে, তেমনই ভাবে হুট করে নিশান তালুকদার ব্যাকুল হয়ে পড়ল। ভাবতে থাকলো, সে সত্যিই এমন কিছু করেছে কিনা! কিন্তু কোনো কিছু বুঝতে পারল না।

কিছুক্ষণ যেতেই কলিং বেল বাজতে শুরু করল। নিশান চমকে উঠলো। এত রাতে আবার কে? কে কলিং বেল বাজাচ্ছে? সে তাড়াতাড়ি উঠে বসল, চোখটা রগড়ে একটু সজাগ হওয়ার চেষ্টা করল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে, রাত এগারোটা পেরিয়ে গেছে। এই সময় কেউ আসতে পারে?

—"আকাশ!"

নিশান হালকা গলায় ডাক দিলো, কিন্তু কোনো সাড়া নেই। সে আরেকটু জোরে ডেকে উঠল,

—"আকাশ, এই বেয়াদব, ওঠ!"

ঘরজুড়ে নীরবতা। আকাশ ঘুমে ডুবে গেছে, যেন দুনিয়ার কোনো আওয়াজ তাকে ছুঁতেও পারছে না। নিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলটা হাত দিয়ে একটু সামলে নিলো। তারপর ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। ভাবতে লাগলো, আকাশের বাড়িতে এত রাতে আবার কে আসবে। কলিং বেল আর বাজছে না, কিন্তু বুকের ভিতরে এক অজানা শব্দ বাজতে শুরু করেছে নিশানের।

পা টিপে টিপে দরজার কাছে এসে হ্যান্ডেল ধরতেই সে থমকে গেল। কাঁচের ফাঁক দিয়ে বাইরে দেখতে চেষ্টা করল, কিন্তু ছায়ার বাইরে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। নিশানের কণ্ঠ নিচু কিন্তু দৃঢ়,

—"কে?"

সাড়া নেই।সে একটু থামলো, তারপর ধীরে ধীরে দরজার ছিটকিনি খুলে ফেললো। দরজা খুলে যেতে এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস তার মুখে লাগল। বাইরের সিঁড়ির আলোয় নিশান কাউকে না দেখতে পেয়ে ভ্রু কুঁচকালো। কিন্তু ঠিক তখনই তার চোখ আটকে গেল নিচে। দরজার সামনেই মেঝেতে রাখা একটা ছোট খাম। সাদা খাম।

নিশান চারপাশে তাকালো, নিচে তাকালো, জানালার দিকেও দেখল। কেউ নেই। কিন্তু সেই খামটা অন্ধকার রাতের মাঝে এক রহস্যের মতো পড়ে আছে, একটানা তাকিয়ে আছে তার দিকে। অবাক হলো নিশান! তীক্ষ্ণ হলো তার দৃষ্টি। সে নিচু হয়ে খামটা তুলে নিলো, বুকের ভেতর কেমন অস্থিরতা তৈরি হলো। অবচেতনে একবার শৈলীর মুখটা মনে পড়ল। সেই অভিমানী, রাগী, তবু অসহ্য রকম প্রিয় মুখ।

নিশান ধীরে ধীরে খামটা খুলতে লাগলো। ভেতরে একটা ভাঁজ করা কাগজ পেলো ও, আর সেটা খুলতেই থমকে দাঁড়িয়ে গেল নিশান। চোখে পড়ল লাল কালিতে লেখা একটামাত্র শব্দ, "সরি" যত্ন করে মোটা অক্ষরে লেখা। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো নিমেষেই। লিখনভঙ্গীটা চেনা। নিশান চেনে, অন্ধের মত এই হাতের লেখা চেনে। শৈলীর হাতের লেখা ও কখনোই ভুল করবেনা। নিশান এবার পুরোপুরি চমকে গিয়ে ধীরে ধীরে পুরো দরজাটা খুলে দেয়। রাতের নিস্তব্ধতা যেন এক ঝটকায় বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে।

বারান্দা, সিঁড়িঘর,সব শূন্য। কোথাও কেউ নেই। বাইরে জোছনার আলোতে পুরো জায়গাটা ফাঁকা দেখাচ্ছে। শৈলী তো নেই এখানে, তাহলে এই কাগজটা এলো কীভাবে?

নিশান ব্যাকুল চোখে চারপাশে তাকায়, ডানদিকে রেলিং, বাঁদিকে দেয়াল ধরে হাঁটে কিছুটা, আবছা অন্ধকারে যেন কোনো ছায়া খুঁজে ফেরে। তার কণ্ঠ ফাটে না, তবু ঠোঁট নড়ে, শৈলী…? কিন্তু জবাব আসে না। শুধু নীরবতা, আর নিঃশেষ কষ্টে নিঃশ্বাস ফেলে নিশান। এক হাতে খামটা শক্ত করে ধরে রাখে, অন্য হাতে নিজের বুকের ডান পাশে চাপ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, মনে হলো সরি’ শব্দটা বুকে গেঁথে দিয়েছে কেউ।

নিশান আরও কয়েক কদম এগিয়ে আসে। দরজার নিচের ধাপ পেরিয়ে বারান্দার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যায়। রাস্তা পর্যন্ত তাকায়। বাতাস কেমন অদ্ভুত ঠাণ্ডা, নিস্তব্ধতা যেন মাথার ভেতরেও জমে বসেছে। এক মুহুর্তের জন্য চিন্তিত হলো নিশান। অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুই আশা করছে সে। আশেপাশে তাকিয়ে পা চালিয়ে কাওকে না দেখে দুহাত কোঁমড়ে গুঁজে ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলল নিশান।

ঠিক তখনই হঠাৎ করেই এক জোড়া কোমল হাত পেছন থেকে জাপটে জড়িয়ে ধরে নিশানকে। চমকে ওঠে নিশান। তৎক্ষনাৎ শিরদাঁড়া খাড়া হয়, শরীর জমে গেল মুহূর্তে। এক মুহূর্তের জন্য নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো। নিশান নড়ল না, কারন স্পর্শ টা চেনা। যেই হাত দুটো নিশানের পেটে চেপে ধরে রাখা, সেই হাতদুটোর স্পর্শ, কোমলতা নিশানের খুব বেশিই চেনা। পেছন থেকে যে শৈলীই তাকে জাপটে ধরে চেপে ধরেছে এ বিষয়ে একটুকুও সন্দেহ নেই তার। শুধু অবাক হয়েছে নিশান, একদমই অপ্রত্যাশিত একটা পরিস্থিতি।

শৈলী খুব জোরেই নিশানকে চেপে ধরে আছে, মাথাটা ঠেকিয়ে দিয়েছে নিশানের পিঠে। বেশ কিছুক্ষণ পরও নিশানকে নড়তে না দেখে শৈলী নাক টেনে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,

—" আমি সত্যিই দুঃখিত নিশান ভাই...! বাড়ি ফিরে চলুন! বিয়ে করবেন না আমায়?"

শব্দটা শুনেই নিশানের বুকের ভেতর যেন হালকা বিস্ফোরণ হলো। হাত দুটো ঠিক যেমন ভাবে জড়িয়ে ধরেছে, নিশান সে ছোঁয়া চেনে। আর সেই কাঁপা কণ্ঠ? এটা তো একদমই ভুল করা যায় না। সে ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল। বুকের গহীনে জমে থাকা যন্ত্রণা যেন এক নিমিষেই গলে গেল। তবুও ঘুরে তাকানোর সাহস করলো না এখনো। শুধু নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল, চোখ বুঁজে অনুভব করল সেই কান্নাভেজা কণ্ঠ, কাঁপতে থাকা হাত আর পিঠের উপর মাথা রাখার ভার।

শৈলী এসে গেছে! কেনো এসেছে? কীসের টানে এসেছে? আর এত রাতেই বা কেনো? তবে কী এবার বোঝাতে পেরেছে, সে হারাতে চায়নি, ভুল করেছিল, তবে ভালোবাসাটা ছিল সত্যি? তবে এক মুহুর্তের জন্য ভেতরে ভেতরে দুর্বল হলেও নিজেকে শক্ত রাখলো নিশান। কোমল হাত দুটো নিষ্ঠুরের ন্যায় নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিল। পিছনে ফিরে মুখোমুখি হলো শৈলীর। শৈলীর চোখমুখ লাল হয়ে গেছে, ভেজা চোখ দুটো এখনও আতঙ্কিত। নিশান তার হাত ছাড়িয়ে দেয়ায় আরেকটু ভয় পেয়েছে সে। তাই নিশান ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালে শুকনো ঢোক গিলে ঠোঁট কাঁমড়ে তাকালো শৈলী। নাক টেনে চোখ নামালো।

অতকিছু দেখল না নিশান। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে দাঁত খিঁচিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল,

—" তুই এত রাতে এখানে কীভাবে এলি?"

ঠোঁট চেপে কান্না আটকালো শৈলী। গলাটা খুব ভারী লাগছে। নাকটা সিড়সিড় করছে কান্নার তোপে। তাকে কে যে এখন নিশানের কাছে অনেক কৈফিয়ত দেয়ার লাগবে শৈলী তা জানে। প্রশ্নের জবাব না পেয়ে নিশান এবার পুরোপুরি খেই হারালো, চোয়াল শক্ত করে চোখে আগুন নিয়ে ধমকাতে শুরু করল,

—" কথা বলিস না কেন হ্যাঁ? নাটক করছিস? কে এনেছে তোকে এখানে? কোন সাহসে এত রাতে এখানে এসেছিস তুই? মাথায় মিনিমাম কমনসেন্স টুকু নেই? এত রাতে কীভাবে তুই রিস্ক নিয়ে এসেছিস? যদি কিছু হয়ে যেত! কে তোকে এত রাতে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সাহস দিয়েছে? কে? আমি এখানে আছি এটাই বা জানলি কী করে? খুব বাড় বেড়ে গেছে তোর তাই না? কেনো এসেছিস এখানে, চুপ করে থাকবিনা, আনসার মি ড্যাম ইট!"

শৈলী এবার টলমল চোখে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে ফেলল। মায়া দেখানোর বদলে আরো বেশি ফুঁসে উঠলো নিশান, হাত তুলে বলতে থাকলো,

—" চুপ, একদম চুপ। নাটক করছিস তুই হ্যাঁ? তামাশা দেখাস? ফালতু কান্না বন্ধ কর শৈলী! মেজাজ খারাপ করাবিনা আমার। টেনে একটা থাপ্পড় মারব তোকে বেয়াদব। নাটক করছিস কেনো তুই? তুই না আমাকে ঘৃণা করিস? আমি নাকি চরিত্রহীন? তো কেনো এসেছিস এই চরিত্রহীনের কাছে? যা ফিরে যা! কখনো আমার সামনে আসবিনা। এই নিশান তালুকদারও কখনো তোর সামনে যাবেনা! তুই যদি আমাকে ঘৃণা করতে পারিস তবে আমিও....

পুরো কথা সম্পূর্ণ করতে পারল না নিশান। তার আগেই শৈলী নামক ঝড় টা ধুপ করে এসে পড়লো তার বুকে। নিশানের ওমন নিষ্ঠুর কথাগুলো নিতে পারেনি শৈলী। কোনো কথা না শুনেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে নিশানের চওড়া বুকে। খাঁমচে ধরে পিঠের কাছে থাকা শার্ট, ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে মেয়েটা। নিশানের বুকে মাথা রেখেই কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে,

—" ওমন কথা বলবেন না নিশান ভাই। দোহাই লাগে আপনার। বলবেন না। প্লিজ বলবেন না। আপনি আমায় ঘৃণা করবেন না, পায়ে পড়ি আপনার। আমার ভুল হয়ে গেছে নিশান ভাই। ক্ষমা করুন, মাফ চাই। আপনি শাস্তি দিন আমায়। মা'রুন, কা'টুন, বকুন, সব করুন, যা শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেব। কিন্তু দূরে যাবেন না, ঘৃণা করবেন না। আমি ম'রে যাব নিশান ভাই। আপনাকে ছাড়া বাঁচবোনা তো। আমার ভুল হয়ে গেছে নিশান ভাই, আমি বুঝতে পারিনি। আমি ওমন কথা বলতে চাইনি নিশান ভাই। "

নিশান বোবা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখেমুখে কোনো আবেগ নেই। ঠোঁটটা সামান্য কেঁপে ওঠে, কিন্তু ওটা রাগে, না ভেতর থেকে দমে রাখা কান্নার ধাক্কায়, বোঝা যায় না। শৈলী এখনো ওর বুকে ঝুঁকে কাঁদছে, কাঁপতে কাঁপতে কেমন করে যেন নিজের ভেতরটাও ওর শরীর দিয়ে প্রকাশ পাচ্ছে। নিশানের বুকের কাছে শার্টটা ভিজে যাচ্ছে কান্নায়। তবুও নিশান একচুল নড়ে না। দুটো হাত ঝুলে থাকে শরীরের পাশে, পিঠে রাখা শৈলীর আঁকড়ে ধরা হাতেও কোনো সাড়া দেয় না সে।

শৈলী কাঁদতে কাঁদতে এবার হঠাৎ ফিসফিস করে বলে ওঠে,

—" আপনার ছবি দেখে আমি ভেঙে পড়েছিলাম নিশান ভাই। আমি সহ্য করতে পারিনি। আপনার মুখে স্নেহ, চোখে ভালোবাসা নিয়ে অন্য কাউকে ছুঁতে দেখলে যেভাবে মনের ভিতরটা ভেঙে যায়, আমারো গিয়েছিল। কিন্তু বুঝিনি ওটা আপনি নন, বুঝিনি ওটা মিথ্যে ছবি। বুঝিনি আমাকে কেউ ফাঁদে ফেলছে। বুঝিনি কেও আমার কাছ থেকে আপনাকে সরানোর পরিকল্পনা করেছে। আমি বোকা ছিলাম নিশান ভাই। তাই ভুল বুঝে ওসব কথা বলেছি, কিন্তু মিথ্যে ভালোবাসিনি। বিশ্বাস করুন। বুকের গভীর থেকে ভালোবেসেছিলাম। বিশ্বাস করেন না?"

নিশান তাকিয়ে থাকে শৈলীর মাথার দিকে। ঠোঁট চেপে ধরে, গলার ভেতর কী যেন আটকে গেছে। কিন্তু মুখ থেকে কিছু বের হয় না। শৈলী এবার আরও জোরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে।

— "আপনি না বলেছিলেন, আমি যদি কখনো রাগ করি, আপনি রাগ ভাঙাতে আসবেন? আপনি না বলেছিলেন, আমি যদি একা পড়ে যাই, আপনি ফিরে আসবেন? তাহলে এখন কেনো আমাকে এভাবে ফেলে দেবেন? আমি তো আপনার, নিশান ভাই। আজীবন শুধু আপনার। আর কারো না। শুধু আপনার। আপনিও আর কারো হতে পারবেন না। কারও হতে দেব না।"

শব্দগুলো নিশানের বুক চিরে ভেতরে গেঁথে যাচ্ছে, অথচ তার মুখভঙ্গি অভিমান আর আত্মসংবরণে পাথরের মতো। শৈলী এবার নিচু গলায় ফিসফিস করে বলে ওঠে,

—"আমার কথা যদি এতই তুচ্ছ মনে হয়, তবে আপনি চাইলেই আমি এখান থেকেই চলে যাব। একেবারে চলেই যাব। আপনি বললেই সব ছেড়ে চলে যাব, নিশান ভাই। কিন্তু একটা কথা জানেন? আমি এরপর কাউকে আর ভালোবাসতে পারবো না। আমি শুধু আপনাকেই চেয়েছিলাম। এখনো চাই। আমি কি চলে যাব নিশান ভাই? বিশ্বাস করুন, চলে গেলে কিন্তু আমি সত্যি আ"ত্মহ"ত্যা করব!"

শৈলীর শেষ কথাটা কর্নকুহরে পৌঁছানোমাত্রই নিশানের বুক কেঁপে উঠে, ধ্বক করে উঠে হৃদপিণ্ড। বজ্রাঘাতে বিদ্ধ হয় হৃদয়। মুহূর্তেই নিশান ওকে সরিয়ে দু’হাত দিয়ে শৈলীর মুখ চেপে ধরে, চোখে বিক্ষুব্ধ ঝড় আর গভীর ভয়। গলার স্বর রুক্ষ, কিন্তু তাতে জড়ানো থাকে অসম্ভব ভালোবাসা,

—" শাট আপ শৈলী!"

ধমকে কেঁপে উঠে শৈলী। টলমল করা চোখ নিয়ে তাকিয়ে দেখে রাগে লাল হয়ে যাওয়া নিশানের চোখজোড়া। আশ্চর্য! নিশানের চোখেও যে পানি দেখা যাচ্ছে! চোখদুটো কি রাগে-আতঙ্কে-ভালোবাসায় জ্বলছে তার? শৈলী আরো কিছু বলতে চাইলে নিশান মুহূর্তেই শৈলীর ঠোঁটের ওপর হাত চেপে ধরে সে, যেন ওর বলা শেষ কথাটা বাতাসেও ছড়িয়ে না পড়ে।

—" বেয়াদব, ফাজিল মেয়ে। একদম আছাড় মেরে হাড়গোড় ভেঙে ফেলব তোর। হাউ ডেয়ার ইউ! তোর সাহস কী করে হয়, নিশান তালুকদারের বুকের উপর মাথা রেখে এত নিষ্ঠুর, জঘন্য কথাটা বলতে! বুক কাঁপেনি তোর? এত সাহস! এত বড় স্পর্ধা! তুই আমার বুকের উপর মাথা রেখে ম'রার কথা বলছিস! ফালতু মেয়ে!"

শৈলী ঠোঁট চেপে তাকালো। গালদুটো নিশানের হাতের জোরে পিষ্ট হচ্ছে। নিশান আরো বেশি জোর দিয়ে বলল

—" তোর মুখে এমন কথা কেন এলো শৈলী? কে দিয়েছে তোকে এই অধিকার, নিজের জীবনের প্রতি এতটা নিষ্ঠুর হতে? হ্যাঁ, রাগ করি, দূরে থাকি, চুপ থাকি, কিন্তু কখনো কি ভেবেছিস কেন? সারাজীবন বলদই থেকে যাবি। বড় হবি না তুই? তুই যে কত বড় গাধা সেটা তুই নিজেও জানিস না। ভাব তো একবার! চলে যা বললেই চলে যাবি? এত সস্তা মনে হয় আমার অস্তিত্ব তোর কাছে? বল চলে যাবি? মৃত্যুকে সহজ ভেবেছিস? আমায় ছেড়ে চলে যাবি তুই? কী করে ভাবলি আমি তোকে চলে যেতে দেবো! আমি কি জানি না, কার হাতের লেখা ওই খামে ছিল? আমি কি বুঝি না, তোর চোখের ভেতর ওই মেঘটা কেন জমে আছে? তোর মত গাধা ভাবিস আমাকে? তোর একটামাত্র সিদ্ধান্তে, একটা বাক্যে, আমি পুরো জীবনটা ছুঁড়ে ফেলে দেব শৈলী!"

নিশানের হাতের চাপ শৈলীর গালের ব্যাথা বাড়ে, তবু তা কষ্ট দেওয়ার নয়, ভালবাসার হাহাকার।

—"আমি পাথর হয়েছি, কারণ আমি ভয় পাই! তোকে হারানোর ভয়, ভালোবাসার দুর্বলতায় ভেঙে পড়ার ভয়! তুই যদি জানতি, প্রতিটা সকালে ঘুম ভাঙে তোর মুখটা কল্পনায় নিয়ে। প্রতিটা রাতে ঘুম আসে না এই ভেবে, যদি তোকে কাছে না পাই! আর আজ তুমি বলে দিচ্ছিস চলে যাবি? আ"ত্মহ"ত্যার মতো কথা বলছিস তুই!"

এক মুহূর্ত থেমে নিশান নিজের চোখের জল গিলে নেয়, কণ্ঠটা কাঁপে,

—"তোর যদি কিছু হয়ে যায়, আমি নিশান থাকব না শৈলী... আমি কেবল এক লাশ হয়ে থাকবো। তোর একটা সরি আমার সব অভিমান ভেঙে দিতে পারে না, শৈলী। আমি ভালোবাসি তোকে, এমন ভালোবাসা, যা কোনো হিসেবের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু এই ভালোবাসা হারানোর ভয়টা আমায় পাথর করে রাখে। আমি এতটাই ভয় পাই তোকে হারানোর, যে কথাও বলতে পারি না।"

এক পা এগিয়ে আসে নিশান, শৈলীর কপালে ঠেসে ধরে নিজের কপাল,

—"তুই কোথাও যাবি না। আমি বলছি, তুই কোথাও যাবি না! যেতে দেব না আমি! এই মেয়ে, আমি না হয় মুখে কিছু বলতে পারি না, কিন্তু এই বুকটা, এই হৃদয়টা, শুধু তোর জন্যই কাঁদে বুঝিস না? আমি ভালোবাসি তোকে, শৈলী। বড্ড বেশি ভালোবাসি।"

শৈলী তখনো নিঃশব্দ, চোখ ভিজে এসেছে অশ্রুতে। নিশান ধীরে ধীরে ওর কপালের ঘামের রেখা মুছে দেয় নিজের হাতের আঙুল দিয়ে। তারপর নরম কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বলে,

—" তুই গেলে আমি বাঁচবো না। তুই যদি বলিস চলে যাবি, আমি কী নিয়ে বাঁচবো, শৈলী? আমাকে বাঁচার মত একটা কিছু দিয়ে যেতে হবে তো! তুই আমার অভিমান, তুই আমার ভয়, তুই আমার একমাত্র সত্য।"

এক নিঃশ্বাসে যেন শৈলীর বুকের পাথরগুলো গলে যেতে থাকে। চোখে জল টলটল করছে। ইতোমধ্যে গালেও দেখা গেলো। নিশান এবার কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো শৈলীর দিকে। জোছনার আলোয় আদুরে মুখখানা দেখে মুগ্ধ হলো। এরপর হঠাৎই এক টানে নিজের কাছে এনে শৈলীর থেকেও বেশি জোরে জড়িয়ে ধরে। খুব শক্ত করে। যেন ছাড়লেই হারিয়ে যাবে। দম বন্ধ হয়ে আসে শৈলীর, কিন্তু তবুও সেও জড়িয়ে ধরে নিশানকে। নিশান এবার কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে

—" নে, নিশান তালুকদার তোকে জড়িয়ে ধরেছে। এবার চলে গিয়ে দেখা তো, পারলে যা এবার। আমিও দেখি, কোন শক্তির মহিমায় তুই নিশানের বাহুডোর থেকে পালাতে পারিস! আল্লাহ না চাইলে কারো ক্ষমতা নেই, আমার বুক থেকে তোকে সরানোর! পালিয়ে দেখা তো এবার!"

শৈলী নিশানের বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে ফেলে। নিশানের হৃদস্পন্দন যেন ওর কানের ভেতর ধ্বনিত হচ্ছে, ভারি, দ্রুত, কাঁপা কাঁপা। একটু থেমে হঠাৎ করেই ফিসফিসিয়ে বলে শৈলী,

—"আমি তো পালাতে চাইও না। নিশান তালুকদারের বুকের উষ্ণতার লোভ তো আমার অনেকদিনের। পালিয়ে নিজের ক্ষতি করব কেনো?"

নিশান শুনতে পেল না ফিসফিস করে বলা কথাটুকু, গাঢ় গলায় জিজ্ঞেস করল,

—"কি বললি?"

শৈলী এবার আর মুখ তোলে না, ভয়ও পায় না, বরং আরও গুটিয়ে যায় ওর বুকের মধ্যে। একটু কেঁপে কেঁপে বলে,

—"আমি... আমি তো কখনোই পালাতে চাইনি... শুধু ভয় পেয়েছিলাম... হারানোর ভয়, ভুল বোঝাবুঝির ভয়, আর... আপনাকে কষ্ট দেবার ভয়। আমি আপনাকে কষ্ট দিতে চাইনি নিশান ভাই। ভুল হয়ে গেছে।"

নিশান শৈলীর চুলে আলতো করে হাত রাখে। নরম কণ্ঠে বলে

—"ভয় পেলে আমার বুকটায় এসে ঝাঁপিয়ে পড়লি না কেনো শৈলী? এ বুকটা তো তোর ভয় ভুলিয়ে দিতো, আগেও দিত, আজও দিত।"

শৈলীর বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। নিশানের শক্ত বাহুর ঘেরাটোপে আটকে থাকা একেকটা মুহূর্ত যেন চিরকালীন হয়ে উঠছে তার কাছে। নিশানের কণ্ঠে সেই গাঢ় খাদ, ভেতরটা কাঁপিয়ে দেয়। তবুও সে কিছু বলে না, শুধু নিশানের বুকের ওপর মুখটা রাখে, চুপচাপ। নিঃশ্বাসে মিশে থাকে তার কান্না আর ভালোবাসার গন্ধ। নিশানের শার্টে টুপটাপ করে পড়ে অশ্রু। নিশান বুঝতে পারে, শৈলীকে আর কিছু বলতে হবে না। তবুও সে আবার বলে, এবার একটু মোলায়েম কণ্ঠে,

—"ভেবেছিলি, আমি রাগে গাঢ় অন্ধকার হয়ে যাবো? ভুল ভেবেছিস, শৈলী। তোকে হারানোর ভয়টাই আমাকে ছিঁড়ে ফেলছিলো ভিতরে ভিতরে। তবে দূরে থেকে একটু শাস্তি দিতাম তোকে।"

শৈলী এবার মুখ তোলে। চোখে এখনও অশ্রু, কিন্তু ঠোঁটে একটুখানি কাঁপা হাসি। বলে,

—"আর কখনো... হবে না নিশান ভাই। আপনিও আর কখনো এমন করে দূরে যাবেন না!"

নিশান দুহাত হাত উঠিয়ে শৈলীর গালে রাখলো, ভেজা চোখ দুটো মুছে দিয়ে কপালে একটা চুমু দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,

—"তুই যদি আবার বলিস চলে যেতে, আমি তোর মুখ বেঁধে বসিয়ে রাখবো, বুঝলি? তুই আমার, শুধুই আমার শৈলী।"

চারপাশে জোছনার ঢেউ, বাতাসে শীতলতা,আর মাঝখানে দুইটা মানুষ, একে অপরের ভালোবাসায় আটকে থাকা।

কিন্তু এত সুন্দর একটা দৃশ্য দেখে বাড়ির জানালায় দাঁড়িয়ে মুখ কুঁচকালো আকাশ। একটু আগেই ঘুমের নাটক ছেড়ে উঠে এসেছে সে। অনেকক্ষন যাবৎ ওদের এত সুন্দর মুহুর্ত দেখে মোহিত হলেও এ দৃশ্য দেখে মনে মনে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড নিশানের উদ্দেশ্যে গালি ছুঁড়ে বলল,

—" শালা বেইমান, নিমকহারাম, এমনিতে বলি নাকি!

আমার সামনে দেবদাসের মত গড়াগড়ি খেলো। এমন ঢঙ করল যেন শৈলীকে আর এ জনমে পাত্তা দেবেনা। এখন দেখো মশাইকে, দেখো দেখো, কেমন করে সুপার গ্লুর মতো চেপটে আছে বাচ্চা মেয়েটার সাথে। আবার ভিলেনের মত কপালে একটা চুম্মাও দিল। ছ্যাহ! আরেহ ভাই, এত জোরে কেও চেপে ধরে। মেয়েটার তো দম বন্ধ হয়ে যাবে! শালা ভিলেন একটা!"

ইচ্ছেমত গালিগালাজ করে পকেট থেকে ফোন বের করল আকাশ। দায়িত্বশীল বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে টুকুশ টুকুশ করে কয়েকটা ছবি তুলে নিল এত সুন্দর মুহুর্তের। সিদ্ধান্ত নিল এগুলো দিয়ে কোনো বিশেষ মুহুর্তে নিশানকে ব্লাকমেইল করার। ভালোই কাজে দেবে! এই ছবিগুলো দিয়ে নিশানকে জব্দ করার পরিকল্পনা করে বাঁকা হাসলো আকাশ, এরপর কল দিল রিমির নাম্বারে। রিমি বসেই ছিল কলের অপেক্ষায়। আকাশের কল পেতেই তৎক্ষনাৎ কল রিসিভ করে চেঁচালো রিমি,

—" আকাশ, খবর কী? শৈলী পৌঁছেছে? প্লান কাজ করেছে?"

আকাশ মুখ কুঁচকে বলল,

—" তুমি কি নিশান কে আমার মত রোমান্টিক মনে করো ডার্লিং! ওই শালা একটা ইন্দুর! ইচ্ছা মত বকাবকি করল আমার কিউট শালিটাকে। কত বড় সাহস দেখছো? দম বন্ধ করে মে'রে ফেলতে চাইছিল! হিটলার একটা!"

বকাবকির কথা শুনে ধুপ করে হতাশ হলো রিমি। একটু নিভে গিয়ে বলল,

—" ইশ রে। নিশান ভাই কি রেগে গেছে? এখন কী হবে?'

আকাশ একটু উঁকিঝুঁকি মেরে পর্যবেক্ষণ করে বলল,

—" আপাতত একটু আগে একটা ছোট চুম্মা খেয়েছে, তখন থেকেই চেপটে ধরে আছে। এখন যে কী হবে তা তো বলতো পারিনা, তবে ওই শালা রোমান্টিক হলে একটু প্রেম পিরিতি হতো, আর আমি ভিডিও করতে পারতাম! শালা মনে হয় আমার পাঠানো একটা ইংলিশ সিনেমাও দেখেনি, নাহলে এখন আরেকটু চুম্মাচাটি করত!"

রিমি ফোনের ওপাশে এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে কণ্ঠ নিচু করে বলল,

—" আকাশের বাচ্চা, তুমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওসব দেখছো! ছিঃ! লজ্জা করেনা!"

আকাশ হাসল, তারপর ফিসফিস করে বলল,

—" লজ্জা? সেটা আবার কী? আমি তো সত্যি টাই বললাম। এতেই যদি চমকে যাও, একটু পর তো ইনহেলার নিতে হবে তোমাদের!"

রিমি বলল,

—" তুমি একটা বদ, অশভ্য, অভদ্র, নির্লজ্জ, বেহায়া, ফালতু লোক। লজ্জা করেনা ওসব দেখতে। সরো তুমি। ওদেরকে একা থাকতে দাও।"

আকাশ এবার হতবাক হয়ে বলল,

—" কী বলছো এসব ডার্লিং! তুমি বিষয়টা সাইন্টিফিকালি ভেবে দেখো, আমি যদি নিশানের খবর তোমাকে না জানাতাম, তুমি যদি শৈলীকে ড্রাইভার আঙ্কেলকে দিয়ে এখানে না পাঠাতে, আমি যদি ঘুমের নাটক না করতাম, তুমি যদি আমায় বুদ্ধি না দিতে, তাহলে কি এই নিশান এখন শৈলীকে চাপকে ধরে থাকতে পারত! সবই তো তোমার-আমার ক্রেডিট! তাই এসব দেখার পূর্ন অধিকার আছে আমার!"

রিমি এবার ফোনের ওপাশে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

—"তুমি না একটা ন্যাকামি-গণ্ডু! ক্রেডিট চাও, ওকে, আমি তোমায় একটা মেডেল পাঠাচ্ছি, 'ভদ্রলোকের ভেতরকার সর্বনাশা পাপী’ এই শিরোনামে!"

আকাশ ভেঙে পড়ার ভঙ্গিতে বলল,

—"আহা ডার্লিং! কী অকথ্য অপমান! আমার কোমল হৃদয়ে আঘাত লাগল, বলে রাখি..!"

—"কিছু বলবেনা!"

রিমি রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,

—" যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন ফোন কেটে শুয়ে পড়ো, আর ওই জানালা দিয়ে উঁকি মারা বন্ধ করো। প্রেমের সার্থকতা ওরা নিজের মত করেই উদযাপন করুক।"

আকাশ হেসে বলল,

—"ঠিক আছে ডার্লিং। তুমি এতেই খুশি থাকো। আমি কিন্তু কালকে সব ছবি তোমার ইনবক্সে পাঠিয়ে দেবো, স্লো মোশন বানিয়ে, ব্যাকগ্রাউন্ডে " আশিক বানায়া" বাজিয়ে। আর হ্যাঁ, তোমার জন্য একটা সিক্রেট স্ক্রিনশটও রেখে দিচ্ছি, শুধুই তোমার জন্য!"

রিমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,

—" তুমি খুন্তির বাড়ি খাবে আমার হাতে। দোহাই লাগে, মুখটা থামাও!"

আকাশ হেসে বলল,

—"আমি তো থামতে পারলাম না, কিন্তু জানো, থামতে পেরেছে ওরা। মনে হচ্ছে, অনেক দিন পর থেমে গেছে ভুল বোঝাবুঝি, অবিশ্বাস, আর ঠুনকো ইগো। এখন শুধু... এক হওয়ার গল্প শুরু হলো।"

রিমি চুপ করে রইল। মুচকি হাসল ফোনের ওপারে।

বলে ফেলল,

—"এটা অবশ্য ভালো বললে আজ। একদম সিনেমার মত। চলো, আজকেই না হয়, হ্যাপি এন্ডিং বলেই ধরে নেই?"

আকাশও হাসল। চোখটা আবার জানালার দিকে গেল ওর, আর ও দেখল, নিশান আর শৈলী, এখনও ঠিক আগের মতই জড়িয়ে আছে। শৈলী হয়তো কেঁদেই যাচ্ছে, আর চরম ধৈর্য্যবান নিশান তখনও দাঁড়িয়ে মাথায় হাত বুলোচ্ছে।

এ দৃশ্য দেখে আকাশ মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—"উফফ, এই লোকটা এক নম্বর নাটুকে! আমি যদি না থাকতাম, কে জানে এরা কখনো আবার এক হতো কিনা! নিশান শুধু শৈলীকেই বলদ বলে, অথচ আমার মতে, বলদ হলো দুটোই। একটা সত্যি সত্যি বলদ, আরেকটা মিথ্যে মিথ্যে বলদ!"

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে আবার পেছন ফিরল। নিজের মনে বলল,

—"যাক, আজ একজোড়া মানুষ ঠিক করে দিলাম। শালা নিশান, তোকে নিয়ে না.. শেষমেশ গর্বই হয় আমার! ক্যারি অন ব্রো! আমি বরং গিয়ে আবার ঘুমানোর নাটক টা করি! নাহলে তুমি তো আমার ভবলীলা সাঙ্গ করে দেবে!"

চলবে.........

🫶 নিন? খুশি? সুন্দর সুন্দর ফটাফট মন্তব্য করুন তো! আমি লেখার আগ্রহ ক্রমশই হারাচ্ছি। এমনটা হলে বেশিদিন আর এই গল্প চলবেনা।🥹

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন