#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব-৩
#লেখিক_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
আজ মা বাড়িতে নেই। কোনো এক খালার বাড়িতে গিয়েছে। বাড়িতে শুধু আমি আর আয়ান আছি।
হঠাৎ দরজায় বেল শুনলাম। কিন্তুএখন তো কারো আসার কথা নয়!!! গিয়ে দরজাটা খুলে দিয়ে দেখলাম ফারজানা এসেছে। উফ্!এই লাফাঙ্গা আবার কোথা থেকে টপকালো??সে আমাকে পাত্তা না দিয়ে আমাকে অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকল। আয়ান সোফাতেই ম্যাগাজিন পড়চ্ছিল। ফারজানা উনাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল আর বলল,
" দেরি করার জন্য সরি জান।"
উনি উত্তরে মুচকি হাসলো শুধু।
এসব দেখে আমার মাথায় কিছু ঢুকছিল না। এর ঢং দেখলে বাঁচিনা। Wait a second! ফারজানা আজকে এখানে কেন? এমনিতেও মায়ের ভয়ে উনি ফারজানা কে বাড়িতে আনেন না। আজ কি তবে মায়ের অনুপস্থিতিতেই এই পেতনি সুযোগ নিতে আসল!!!
ফারজানা তারপর আমার কাছে এসে বলল,
"এই বাড়ির আসল গিন্নি এসে গেছে। তাই এখন তোমাকে সেটাই করতে হবে যা আমি চাইবো।"
আমি ওর কথার আগা মাথা কিচ্ছু বুঝলাম না। শুধু তাকিয়ে রইলাম।
ফারজানা আমার কাছে এসে বলল,
" কী হলো? দাঁড়িয়ে আছো কেন? যাও, তোমার নিজের কাজ করো।"
ওইদিন ফারজানা এই বাড়িতেই ছিলো। আয়ান আর ফারজানা একসাথে দুপুরের খাবার খেলো, টিভি দেখলো,গল্প করলো, আর ফারজানা তো আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে রংঢং করলো। আমি বুঝিনা একটা মানুষের এতো রং কই থেকে আসে?? আমি কালার বক্সেও এতো রং দেখিনি।
বিকেলে ফারজানা চলে গেলো।
একটু আগে মা কল করে জানালো যে,আজ নাকি তিনি বাড়িতে আসবেন না। আর এমনিতেও আমার শ্বশুর আমার বিয়ের পরের দিনই ব্যাবসার কাজে ঢাকা গিয়েছেন। আর আমার ননদ রামিসা বর্তমানে আমেরিকায় তার খালামনির বাড়িতে আছে। কিছুদিন পর চলে আসবে। তাই মা না আসলেও আমি বাড়ির সব কাজ সামলাতে পারব।
আমি রাতের খাবার তৈরি করলাম। মায়ের কাছে শুনেছি যে, উনি নাকি মাগুর মাছের তরকারি অনেক পছন্দ করে। তাই আমি রাতের জন্য মাগুর মাছের তরকারি, আলুর ডাল, কুমড়ার তরকারি আর সালাদ করি।
এখন আমি পড়েছি আরেক বিপাকে। উনি সেই যে বিকালে রুমে ঢুকেছেন, তারপর আর বের হন নি। এখন ওনাকে খাবারের জন্য ডাকতে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ, সেই বাসর রাতে তিনি আমার সাথে খারাপ আচরণ করলেও এরপরে আর কোনোদিন আমার সাথে ওমন ব্যবহার করেননি। আমার সাথে কথা না বললেও Rude behave করেননি। তাও ওনাকে আমার একটু ভয় লাগে। একটা থাপ্পড় খেয়েছি তো!! যদিও আমি মনে করি উনি ঐদিন রাগের কারনে আমার গায়ে হাত তুলেছেন। নতুবা এখন তো আমাকে আরো অত্যাচার করত। যাইহোক, অনেক বড় একটা শ্বাস নিয়ে আমি ওনার ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।দরজায় হাত দেয়ার আগেই ফট করে দরজাটা খুলে গেল। ওমা!! কেমনে কি? খুলল কেমনে?দেখি যে উনি ভ্রু কুচকে দাঁড়িয়ে আছেন। তারমানে উনি আগেই দরজা খুলতে চেয়েছেন।
আমার ভীত মুখ দেখে উনি বললেন,
" তুমি কি আমার ঘরে উঁকি মারছিলে?"
আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম,
"না না , তা হবে কেন? আস্তাগফিরুল্লাহ্ ! আপনি ভুল বুঝছেন।"
"তাহলে খাম্বার মতো এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
আমি ঢোক গিলে বললাম,
"আসলে আমি তো আপনাকে খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছিলাম।"
আয়ান হতভম্ব হয়ে বলল,
"কীহহহহ, ! তুমি আমাকে খাবে মানে? আমাকে খাবে মানে টা কী?"
আমি উনার থেকে বেশি হতভম্ব হয়ে বললাম,
"আরে আরে না না! তওবা তওবা! আস্তাগফিরুল্লাহ!!নাউজুবিল্লাহ্! আমি তো সেটা বলিনি। মানে বলছি যে, আপনাকে রাতের খাবার খেতে দেব।"
ওনাকে দেখে মনে হলো না যে,উনি আমার কথা বিশ্বাস করেছেন। আমি আবারো বললাম,
"আমি সত্যি আপনাকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডাকতে এসেছিলাম।আমি ডিনার রেডি করেছি।"
উনি আর কিছু না বলে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকলেন। আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমিও ওনার পিছে গিয়ে তাড়াতাড়ি করে রান্নাঘর থেকে ভাত-তরকারির বাটি আনলাম। উনি এর মধ্যে ডাইনিং এ বসলেন। আমি সব কিছু সাজিয়ে ওনার সামনে দিলাম। উনি খাবারের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আমাকে বললেন,
" কে রান্না করল?"
আমি মনে মনে ভাবলাম,আয় হায়! উনি কি আমার হাতের রান্না খাবেন না ?আল্লাহ্ এমন যেন না হয়!
আমি মিন মিন করে বললাম,
"আমি করেছি।"
ওনাকে কিছু বলতে না দিয়ে আবার বললাম,
"আমার রান্না তেমন খারাপ না। আমি রান্না পারি। কলেজ লাইফেই মায়ের কাছে রান্না শিখতাম। আমার রান্না আপনার মায়ের মতো ওতো সুস্বাদু না হলেও, খাওয়ার মতো হয়।"
উনি আমার দিকে গম্ভীর হয়ে তাকিয়ে বললেন,
" তোমাকে আমি এতো কথা জিজ্ঞেস করিনি। রাজহাঁসের মতো প্যাক প্যাক করবে না।কথা কম বলবে। বেশি কথা বলা আমার পছন্দ নয়।"
বলেই উনি খাবারে হাত দিলেন।
আমি ওনার চেয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে মনে মনে বললাম,
"এহহহ, বেশি কথা বলা পছন্দ নয়। ওই শাকচুন্নি যখন মশার মতো সারাক্ষণ প্যানপ্যান করে, তখন তো কিছুই বলে না। আর আমি রাজহাঁসের মতো প্যাঁক প্যাঁক করলেই দোষ! যত্তসব ঢং!!"
ওনার খাওয়া শেষ করে উনি চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে আমাকে বললেন,
" যেই পুরুষ নারীর গায়ে হাত তুলে, সে নিঃসন্দেহে কাপুরুষ। তবে অধিকার আর যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে সেটা আলাদা বিষয়। ঐদিন আমার মাথা ঠিক ছিলো না, রাগের মাথায় তোমায় থাপ্পড় মেরেছি। তাই বলে আমাকে কাপুরুষ ভেবো না। যেহেতু তোমাকে স্ত্রী হিসেবে মানি নি, তাই বিনা অধিকারে ওভাবে গায়ে হাত তোলাটা আমার উচিত হয়নি। I am sorry. "
এটা বলে উনি বেসিনে হাত ধুতে গেলেন। আর হাত ধোঁয়ার পর সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে একটু থেমে আমার দিকে ঘুরে আবারো বললেন,
"তোমার রান্না বেশ ভালো। তুমি এই বাড়ির বউ নও যে শুধু বসে বসে খাবে আর ঘুমাবে। আজ থেকে continue তুমি রান্না করবে। আর হ্যাঁ, না খেয়ে নিজেকে অসুস্থ বানিয়ে আমার টাকা নষ্ট করার ধান্দা না করে ঠিকমতো খাবার খেয়ে ঘুমাবে।"
এই বলে উনি হনহন করে চলে গেলেন। আমি এখনো হা হয়ে আছি। এটা কী হলো!!! আমি সিউর আমার মুখে এখন ৫-৬ টার মতো টাইটানিক জাহাজও ঢুকে যেতে পারবে। প্রথমত, উনি আমাকে সেইদিনের জন্য Sorry বলেছেন। এই ধাক্কাটা নিতে না নিতেই উনি আবার ইনডিরেক্ট আমার রান্নার প্রশংসা করে গেলেন।আবার আমাকে খেতেও বলে গেলেন !!!!!
O my God !!!!!!! আমার কি এখন ওনার অপ্রত্যাশিত প্রশংসায় লুঙ্গি ডান্স দেয়া উচিৎ নাকি আমার খাওয়া আর ঘুমানো নিয়ে অপমান করার জন্য অরিজিত সিং এর গান চালিয়ে দুঃখবিলাস করা উচিৎ!!!
যাইহোক, আমার রান্না ওনার পছন্দ হয়েছে। আর কি চাই !!!আমি খুব ভালোই একটা ফুরফুরে মুড নিয়ে খাওয়া শেষ করে আমার ঘরে চলে গেলাম।
ঠিক বারোটা-একটার সময় আমার ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেল। কেমন জানি মাথা ব্যথা করছিল। তাই একটু হাঁটতে বেরোলাম। বারান্দায় গিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলাম। তারপরে হঠাৎ কি জানি মনে হল, একটু উনার ঘরের দিকে গেলাম। গিয়ে দেখলাম দরজা খোলা। সেকি! উনি দরজা খোলা রেখে ঘুমান। ভয় ডর নেই নাকি! দরজায় উঁকি দিয়ে দেখলাম উনি ঘুমিয়ে আছেন। আস্তে আস্তে ওনার কাছে গিয়ে ওনার মাথার কাছে মেঝেতে বসলাম।
কে বলবে যে, এত নিষ্পাপ চেহারার এই মানুষটি প*র*কী*য়া করচ্ছে। একটু পর নিজের চিন্তা কে নিজেই ধিক্কার দিলাম। এই শব্দ টা ওনার সাথে ঠিক যাচ্ছে না। মানুষ টার তো এমনিতেই সব দিক ভালো। শুধুমাত্র এই একটা দিক দিয়েই....... । আচ্ছা উনি তো ভুল কিছু করচ্ছেন না। উনি তো ভালবেসেছেন ফারজানাকে। ভালোবাসা তো পাপ না। আর এমনিতেও উনি তো আর আমাকে বিয়ে করতে চাননি।উনার পরিবারই তো উনার জোর করে বিয়ে দিয়েছে। উনি চাইলে তো আমাকে ভোগ করতে পারত। এই অধিকার তো উনি পেয়েছেন। কিন্তু উনি তো আমাকে স্পর্শও করেন নি। শুধুমাত্র ভালোবাসার জন্য!!!!!
উনার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। তার পুরো চেহারা যেন পর্যবেক্ষণ করতে থাকলাম। কি সুন্দর করে কথা বলেন উনি। ঐ সময় আমাকে কত সুন্দর করে Sorry বললেন। আচ্ছা আমি কি ওনার মায়ায় পরে গেলাম !! এই চিন্তা মাথায় আসতেই আমি ফট করে উঠে পরলাম।এক মুহূর্ত নষ্ট না করে ওনার ঘর থেকে বেরিয়ে পরলাম।।ঘরে যেতে যেতে মনে মনে ভাবলাম,কি আর করব? বিয়ে যখন হয়ে গেছে, তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ওনার ভাগ্যে আমাকেই রেখেছিলো। আচ্ছা উনি যদি আমাকে ডিভোর্স দেন। না! আমি কখনোই ডিভোর্স দিব না। একটা ডিভোর্সি মেয়েকে সমাজ কখনোই মেনে নেয়না। আর আমার পরিবারেরও তো মান সম্মান আছে। আমাকে আমার দায়িত্ব পালন করতে হবে।স্বামীর সমস্ত ভালো খারাপ দিক আমাকে মেনে চলতে হবে।ওনার সম্পর্কে ভাবতে হবে। কিন্তু ওনার এই বিষয়গুলো আমি কিভাবে মানবো???? হে আল্লাহ্, পথ দেখাও!!!
___________________________________________
৩ দিন পর মা বাড়িতে ফিরে এলো। আমি মাকে সবকিছু খুলে বললাম। মা বলল,
"ইনশাআল্লাহ্, এখন যেমন তোমার রান্না ওর পছন্দ হয়েছে , একদিন পুরো তোমাকেই পছন্দ করে ফেলবে।"
আজ রবিবার। আয়ান অফিসে গিয়েছে। আমার শ্বশুরের নিজস্ব কোম্পানি রয়েছে। সেখানেই আয়ান বাবাকে ব্যাবসার কাজে সাহায্য করে। বলতে গেলে এখন আয়ান নিজেই পুরো কোম্পানি চালায়। আয়ানের হাত ধরেই এই কোম্পানি অনেক সুনাম অর্জন করেছে। তাই বাবাও নিশ্চিন্তে থাকেন।
আজই বাবার ঢাকা থেকে আসার কথা। আমি তাই পায়েস রান্না করছিলাম। হঠাৎ মনে পরল,বাড়িতে চা পাতা শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির সবাই তো চা খায়। বাবা যেহেতু আসবে, চা না থাকলে বিষয়টা কেমন হবে! আর আয়ানও তো রাতে চা খায়। এখন বাড়িতেও কেউ নেই। মা এয়ারপোর্টে গিয়েছে বাবাকে আনতে। এই কারণে পায়েস রান্না শেষে আমি নিজেই বের হলাম চা পাতা কিনতে। বাড়িতে তালা মেরে দিয়ে বের হলাম। চাবিটা দারোয়ানকে দিয়ে গেলাম। কারণ একটু পরে মা আর বাবা চলে আসতে পারে।
প্রথমে শপিংমলে গেলাম। সেখান থেকে আমার কিছু কসমেটিক্স কিনার ছিল, সেগুলো কিনলাম।ব্যাংক থেকেও টাকা তুললাম। কিছু টাকা হাতে রাখলাম আর কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলাম বাবাকে। তারপর মুদি দোকান থেকে চা পাতা কিনে রিক্সায় উঠলাম। রিকশায় যেতে যেতে রাস্তার পাশে আমি একটা মেয়েকে দেখলাম একটা ছেলের সাথে। মেয়েটাকে আমি পিছন থেকে দেখলাম। কিন্তু তার চুল দেখে আমার কেন জানি খুবই চেনা চেনা লাগছিল। মনে হচ্ছে আমি মেয়েটাকে আগে দেখেছি। মনের মধ্যে কেমন জানি খুত খুত করচ্ছিলো। তাই রিক্সাওয়ালাকে থামাতে বললাম। রিকশা থেকে নেমে ওই মেয়েটার কাছাকাছি গেলাম। ৪৪০ ভোল্টেজের শক তখনই খেলাম যখন দেখলাম যে, মেয়েটা ফারজানা!!!!!!
আমি দেখলাম সে একটা ছেলের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ অবস্থায় আছে। যে কেউ দেখলে বুঝে ফেলবে যে তাদের মধ্যে কিছু চলচ্ছে।
আমি সত্যিই খুব অবাক হয়ে গেলাম আর ভাবলাম, ফারজানা তো আয়ানকে ভালোবাসে।তাহলে একটা ছেলের সাথে এরকম ব্যবহার করার মানে কি? এরকম ভাবতে ভাবতে কি জানি মনে হল,আমি ফোনটা বের করে সেই দৃশ্য ভিডিও করে নিলাম। আমার কেন জানি মনে হয়েছিল,এটা পরবর্তীতে দরকার হবে। আমার খুব সন্দেহ হলো ফারজানার উপর। আর মনে হল, By any chance, ফারজানা কি তাহলে সত্যিই ওনাকে ঠকাচ্ছে??????
তাহলে কি মায়ের ধারনাই ঠিক????কি চায় এই মেয়ে??
একসাথে দুজনের সাথে রিলেশনে থাকার মানেটা কী????
তারপর দেরি না করে রিক্সায় উঠে বাড়ি গেলাম। বাড়ি গিয়ে বারান্দায় বসে চিন্তা করতে থাকলাম। আমরা এখন কি করা উচিত? আমার কি উনাকে এই বিষয়ে বলা উচিৎ? উনি যদি আবার আমাকে ভুল বুঝে? পরে আবার আরেক বিপদ।চোখ বন্ধ করে চিন্তা করতে করতে হঠাৎ একজনের কথা মনে পড়েল, যে আমাকে সাহায্য করতে পারে। একটু পরে কলিং বেল বাজল।আমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম। খুলার সাথে সাথে একটা মেয়েলি কন্ঠ চেঁচিয়ে উঠল,
" সারপ্রাইজ!!!!"
প্রথমে আমি চমকে গেলাম। পরে দেখলাম এ তো রামিসা, আমার ননদ। পেছনে আবার আমার শ্বশুর আর শাশুড়িও আছেন। আজ তো শুধু আমার শ্বশুরের ফিরে আসার কথা ছিলো। রামিসাও আসলো যে! রামিসা আমকে জড়িয়ে ধরে আবার বলল,
"কেমন আছো ভাবি? আমি তোমার কিউট ননদ। বাপ্পির সাথে আজকে আমিও আমেরিকা থেকে আসলাম। কেমন দিলাম????"
"খুব ভালো আছি ননদি। তুমি এসেছো দেখে আরো ভালো লাগছে।"
এরপর বাবাকে বললাম,"আসুন বাবা ভিতরে আসুন।"
সবাই একসাথে বাড়িতে ঢুকল।
বাবা আমাকে বলল,
"কেমন আছো বৌমা? তোমার সাথে তো ভালো করে সময় কাটাতেই পারিনি।"
মা বলল," শুধু কি তাই ? তোমার বৌমার হাতের সুস্বাদু খাবারও তো খাও নি।"
রামিসা বলল," তাই নাকি? ভাবির হাতের রান্না অনেক সুন্দর?"
"হ্যাঁ তাই।"
"Wow! এখন থেকে ভাবির রান্না খাবো।"
আমি শুধু মুচকি হাসলাম।
রামিসা আবার বলল,
"ঐ গরিলা টা কোথায়? দেখতে পাচ্ছিনা যে! জঙ্গলে চলে গেল নাকি !"
আমি একটু সন্দিহান কন্ঠে বললাম,
"গরিলা !......না মানে ঠিক কার কথা বলছো?"
রামিসা হাসতে হাসতে বলল, "আরে ভাবি! তোমার সেই অযোগ্য সম্মানিত স্বামী। তার আসল নাম তো গরিলা। আসলে সে হচ্ছে ট্রান্স-গরিলা। বাইরে থেকে দেখতে মানুষ মনে হলেও সে ভিতর থেকে মনে মনে ঠিকই গরিলা।"
আমি প্রথমে ট্রান্স-গরিলা শব্দটা শুনে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও পরে বুঝতে পেরে মেকি হেসে বললাম,
"ও উনার কথা বলছো। উনি তো অফিসে গিয়েছেন। রাতে আসবেন।"
___________________________________
রাতে সবার ডিনার শেষ হলে, আমি মায়ের কাছে গেলাম। মাকে বললাম,
"মা , আমি না কালকে আমার এক বান্ধবীর বাড়িতে যেতে চাচ্ছিলাম। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়। আসলে হুট করে বিয়ে হওয়াতে কাওকে কিছু বলা হয়নি। তাই আপনি অনুমতি দিলে সকালের রান্নাটা করে কালকে ওর সাথে একটু দেখা করে আসতাম।"
"ধুর! এটা অনুমতি নেয়ার কি আছে বোকা মেয়ে। এমনিতেও বিয়ের পরে তো কোথাও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তোমার যেখানে ইচ্ছা যাও। আমার বিশ্বাস আছে তোমার ওপর। শুধু সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফিরে এসো।"
আমি কৃতজ্ঞতার হাসি হেসে বললাম,
"ধন্যবাদ মা। আমি বিকেলের মধ্যেই চলে আসব। এসে রাতের রান্না করব।"
"রান্না নিয়ে এতো চিন্তা করতে হবে না তো। একদিন না হয় আমি একাই রান্না করলাম। আর আয়ান তো দুপুরে বাড়িতে খায় না। তুমি নিশ্চিন্তে যেও।"
আমার মুখে কিঞ্চিত হাসি ফুটে উঠলো।
পরের দিন সকালের রান্না করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পরলাম।আর চলে আসলাম আমার ছোটবেলার বন্ধু আর বর্তমানের বেস্ট ফ্রেন্ড মিশাতের বাসায়। এই বান্দাই আমার একমাত্র ভরসা,যার কাছে আমার সব সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। এমনকি ছোট থেকেই আমরা সমস্ত গোপন কথা একে অপরের সাথে শেয়ার করি।
মিশাতের বাসায় গিয়ে বেল বাজালাম। আন্টি এসে দরজা খুলে দিল। আমি সালাম দিতেই আন্টি অবাক বলল,
"সেকি! নতুন কনে যে! এসো এসো ভেতরে এসো। মিশাত এইইই মিশাত দেখ কে এসেছে! "
"কে এসেছে আম্মু?" বলতে বলতে মিশাত বেরিয়ে এলো। আমাকে দেখেই দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলল,
"কু*ত্তি আমার কথা মনে পরল তবে? আমি তো ভেবেছিলাম তুই মনে হয় শহিদ হয়ে গেছিস।বেঁচে আছিস তাহলে ?"
"হ্যাঁ হ্যাঁ হালকা করে বেঁচে আছি।" বলেই দুজনে হেসে দিলাম। আন্টি বলল,
"যাও তোমরা রুমে যাও। গল্প করো। আর আদ্রিকা মা, দুপুরের খাবার না খেয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখবেনা বলে দিলাম।"
___________________________________________
" জান, এটা একটু বেশি হয়ে যাবে না! যদি ধরা পরে যাই!"
"উফ্ বেব, এতো চিন্তা করোনা তো। এটা একটা বলদ মুরগি। জীবনেও কিচ্ছু টের পাবে না। তুমি শুধু সময় মতো ফ্লাইটের টিকিট কেটে ফেলো।"
( #লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা )
__________________________________________
মিশাতের চেঁচানোতে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।
"আস্তে মিশাত! চেঁচাচ্ছিস কেনো? কানের পর্দা ফাটাবি নাকি ?"
"এই শা*লি* !এই কু*ত্তি ! চিঁল্লাবো না তো কী করব? চিকনি চামেলী গানে নাচব? হ্যাঁ? আমি তো এখনো বুঝতে পারছি না যে তুই এখনো কেন ওখানে পরে আছিস? না মানে তুই আমাকে বোঝা!!! তুই ওখানে আছিস কেন ????"
"বইন রে দোহাই লাগে আগে পুরো কথা শুন........"
"কী শুনব? কী শুনতে বলছিস তুই আমাকে? কীর্তন শুনব?"
"মিশাত, শান্ত হ.....প্লিজ...বইন কথা শুন আগে।"
মিশাতকে আমার বিয়ের পরের ঘটনাটা বলার পর থেকেই এভাবে বকবক করে যাচ্ছে। প্রায় ১ ঘন্টা পর মিশাত একটু শান্ত হয়ে চেয়ারে বসল। কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকার পর হঠাৎ চোখ খুলে আমাকে বলল,
"তুই ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আয়। লাগবেনা তোকে ঐ বাড়িতে থাকার। তোর পিছনে হাজার ছেলের লাইন পরে আছে,তোকে রাজকুমারের সাথে বিয়ে দেবো বুঝলি। রাজকুমারের সাথে। তুই চলে আয়। তোর ঐ so called husband কে লা*থি মেরে চলে আয়।"
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিচু কন্ঠে বললাম,
"মিশাত দেখ,আমি চাইলেও চলে আসতে পারবো না রে। আমার বিবেগ মানবে না। আমি যে একজনকে কথা দিয়েছি। আর তাছাড়া ......"
মিশাত সন্দিহান কন্ঠে বলল,
"তাছাড়া কী?"
আমি আমতা আমতা করে বললাম,
"আমার মনে হয়, উনার কোনো দোষ নেই। "
" দোষ নেই মানে? What do you mean by দোষ নেই? এটা দোষ নয়? নিজের সদ্য হওয়া স্ত্রীকে অন্য মেয়ের জন্য ত্যাগ করা দোষ নয়?"
"হ্যাঁ হয়তো এটা দোষ। কিন্তু আমি নিজেকে ওনার জায়গায় চিন্তা করে দেখেছি। ওনার জায়গায় আমি থাকলে হয়তো একই কাজ করতাম। ভালোবাসা তো দোষের নয়।"
মিশাত একটু দমে গিয়ে বলল,
"তাহলে তোকে হুদাই বিয়ে করে তোর জীবন নষ্ট করার মানে কী?"
"আমার জীবন নষ্ট হবে না রে। চার জোড়া হাত আছে আমার মাথার ওপর। এক মায়ের বুক ভর্তি দোয়া আর ভালোবাসা আছে আমার ওপর। আর আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ্ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।"
(⚠️Please Don't Copy without Permission)
চলবে...........?
⚠️বি:দ্র: প্রিয় পাঠকগন, আমাকে দয়া করে একটু জানাবেন যে গল্প কেমন লাগছে ? আপনাদের রেসপন্স পেলে আমিও একটু অনুপ্রেরণা পাবো।☺ আর আমি সব গ্রুপে পোষ্ট করার সময় পাই না। ভুলবশত কখনো কোনো গ্রুপে পোস্ট নাও করতে পারি। তাই আমার অনুরোধ থাকবে যে
, সঙ্গে সঙ্গে নতুন পর্ব পেতে আমার পেজ ফলো দিয়ে রাখুন।