#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_৫
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
পরের দিন সকালে আয়ান যখন বাগানে জিম করছিলো ,সেই সময় আমি আয়ানের ঘরে গেলাম ঝারমোছ করতে। তখন হঠাৎ করে একটা মেসেজের রিংটোন পেলাম। দেখলাম রিংটোন টা ওনার ফোন থেকে শোনা গেছে। ফোন তাহলে রেখে গেছে! আমি কিছুক্ষণ ভাবলাম যে উনার ফোনে হাত দেওয়াটা কি ঠিক হবে? কিন্তু আমার মনে পড়ল যে মিশাত আমাকে ওনার ফোনের দিকেও নজর রাখতে বলেছিলো। মনের সাথে এক বিরাট যুদ্ধ করে আমি ফোনটা হাতে নিলাম। দেখি যে ফোন লক করা। যেহেতু ফোনটা লক করা তাই শুধুমাত্র ওয়ালপেপারের যে নোটিফিকেশন টা এসেছে সেখান থেকে শুধু ২ টা লাইন দেখলাম। সেখানে লেখা ছিল যে,"
"আজকে বিকালে আমি আসতে পারবো না তোমার সাথে দেখা করতে বেবি। আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে..............."
এটুকুই দেখা যাচ্ছিল। মেসেজটা ফারজানাই দিয়েছে।আমি তো ওনার পাসওয়ার্ড জানিনা ।ফোনে তাই ঢুকতে পারবো। তবে প্রথম লাইনটা দেখেই আমি এটুকু বুঝলাম যে আজকে বিকেলে ফারজানা আসবে না, তাও আবার গুরুত্বপূর্ণ কাজের কারনে। এখন আমার প্রশ্ন হলো তার গুরুত্বপূর্ণ কাজটা কি? সত্যি কি কোন কাজ? নাকি অন্য কিছু ?
_______________________________________________
আয়ানের ঘর টা পরিষ্কার করতে করতে আমি ফারজানার বিষয়টা নিয়েই ভাবছিলাম। সেই ভাবুক মনেই সব কাজ হলে দ্রুত গতিতে আয়ানের ঘর থেকে বের হতে গিয়ে এক বড় সড় ধাক্কা খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেলাম। মাথায় বেশ ভালোই লেগেছে। মনে হচ্ছে কোনো রডের সাথে মাথায় ধাক্কা খেয়েছি। বিরক্তিতে চিৎকার দিয়ে বলতে যাচ্ছিলাম,
" ঘরের মধ্যে কে এতো বড় পিলার আনলো রে.......😤"
কিন্তু সামনের মানুষরূপী পিলারকে দেখে মুখ আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেল। আমার সামনে স্বয়ং আয়ান চৌধূরী দাঁড়িয়ে। তারমানে আমি ওনার বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়েছি। Shit! উনি পিলার হয়ে দাঁড়িয়েছে এটা না হয় সহ্য করা যেত। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, উনার গায়ে কোনো জামা নেই। খালি গায়ে পুরো উদাম এসেছেন। জিম করার ফলে ওনার শরীরটাও ঘেমে আছে। উনাকে এভাবে দেখে আমি মেঝে থেকে উঠার কথাও ভুলে গেলাম। আয় হায়!!! ওনাকে তো সেই লেভেলের হট.......আস্তাগফিরুল্লাহ্!!!! আমি এসব কী বলছি!! উফ্ আদ্রিকা নজর ঠিক কর! লুচু হইস না! এসব ছিঃ মার্কা চিন্তার জন্য মনে মনে নিজেই নিজেকে ২ টা থাপ্পড় মারলাম।
"What the hell !!!! "
ওনার কথায় হুশ এলো আমার। সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়লাম। আমার এখন ইচ্ছে করচ্ছে এক দৌড়ে এখান থেকে চলে যাই। কিন্তু মি.পিলার তো দরজার সামনে দাঁড়ানো। আমি দেখলাম উনি ভ্রু কুচকে আমাকে দেখছেন।ওনার চেহারা দেখে মনে পড়ল যে আমি যে ওনাকে একটু আগে পিলার বলেছি সেটা উনি শুনে ফেলেছেন।
" তোমাকে আমি আমার ঘরে আসতে নিষেধ করেছিলাম। কোন সাহসে তুমি আমার ঘরে এসেছো???"
ওনার ধমকে আমার এবার হেচকি উঠে গেল। তারপর আস্তে করে বললাম,
"আমি তো.........................."
"হ্যাঁ জানি তুমি তো একটা কোলা ব্যাঙের জাত!!! বাদড়ের মতো লাফাও আর চামচিকার মতো আছাড় খাও ! ইডিয়েট!!"
আমার এবার বিষম লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা। ব্যাঙ আর বাদড় না হয় ঠিক ছিলো। কিন্তু চামচিকা !!!!
"আসলে আমি তো আপনার ঘর পরিষ্কার করতে এসেছিলাম। আপনি এখানে হঠাৎ করে চলে আসবেন বুঝিনি। আমাকে যেতে দিন প্লিজ। "
"আমি কি তোমাকে ধরে বেঁধে রেখেছি?"
আমার এইবার ২৩০ m/s বেগে দেয়ালের সাথে নিজের মাথা ঠুকতে ইচ্ছে করল। গাধার মতো একটা কথা বলে ফেলেছি। আরে এতে আমার কী দোষ? উনি যদি এভাবে নির্লজ্জের মতো খালি গায়ে উদাম হয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে আমার তো একটু নারভাসনেস আসতেই পারে। যতোই হোক স্বয়ং স্বামী আমার !(যদিও উনি তা মানে না)
উনি আমাকে আবারো ইডিয়েট বলে পাশ কাটিয়ে ঘরে চলে গেল। আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
_________________________________________________
দৌড়ে ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে মিশাত কে কল করলাম।
" কী বে আদু? সাত সকালে ফোন দিয়ে ঘুম টা নষ্ট করলি আমার !!!!"
" চাবালির নিচে এক বাড়ি মারব মিশাত!! কটা বাজে দেখেছিস! লেডি কুম্ভকর্ন কোথাকার!!!"
" ধুর! কালকে সারারাত জেগে কোরিয়ান ড্রামা দেখছি রে। বল কী বলবি ?"
" শুন আমার মনে হচ্ছে আজকে আমাদের একটা সুযোগ আসবে ?"
" কীসের বইন? "
আমি আয়ানের ফোনে দেখা মেসেজের কথা বললাম।
" ঠিক আছে। বুঝলাম। এমন সুযোগ বারবার আসবে না।শুন, তুই তাহলে বিকালের আগে আমার বাসার সামনে চলে আয়।"
"ওকে।"
_______________________________________________
বিকেল বেলা সুন্দর করে মাক্স পড়লাম,সানগ্লাস দিলাম এবং বোরখা পরে নিলাম। কারণ আমার মেইন উদ্দেশ্য নিজেকে লুকাতে হবে যাতে কোনভাবে কেউ চিনতে না পারে। মিশাতের বাড়ি গিয়ে দেখলাম বেডিও একই কাজ করেছে,মাস্ক পড়েছে, বোরখা পড়েছে সানগ্লাসে পড়েছে। ছোট থেকেই আমাদের দুজনের কাজ আর চিন্তার এমন মিল হয়। একটু মুচকি হেসে আমরা দুজনে গাড়িতে উঠে পড়লাম। গন্তব্য ফারজানার বাড়ির সামনে!!!
_________________________________________
আয়ান অফিসে ক্লায়েন্টদের ফাইল চেক করছিলো। একটু পর তার অ্যাসিসটেন্ট নিলয় আসলো,
"স্যার আসবো ?"
"হ্যাঁ, নিলয়। এসো। কী হয়েছে ?"
" স্যার অ্যাকচুয়ালি আমার আজকে ছুটি লাগবে। শরীর টা ভালো লাগছে না।"
"সেকি ! কোন আর্জেন্ট বা এমার্জেন্সি নাকি ?"
" না, স্যার।এমনি ভাল লাগছে না। বাড়িতে যেতে ইচ্ছা করছে। একটু বিশ্রাম নিতে পারলে ভালো হত। এভাবে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে স্যার।"
"ঠিক আছে,যাও। কালকে একটু তাড়াতাড়ি এসো তাহলে।"
" ধন্যবাদ স্যার।"
চলবে ,,,,,,,????
❇ Sorrryyyyyyy😭😫😫 জানি একটু ছোট হয়েছে। আসলে শরীর টা ভালো নেই😥। Exam এর কারনে কালকে অনেক রাত পর্যন্ত পড়ছি।এখন অনেক শরীর খারাপ লাগছে। গল্পটা লেখারও সময় পাইনি। কালকে আবার দিব ইনশাআল্লাহ্ 💝💝💝💝💝