ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব_৬ ( বোনাস পর্ব )

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

ফারজানার বাড়ির সামনে এসে আমি আর মিশাত টং হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা। ও কি বের হয়েছে বাড়ি থেকে? আমার মনে হয় না এখনো বের হয়েছে। কারন বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ও হোস্টেলেই থাকে। এখন ৪ টা ১৪ বাজে। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ করে ফারজানা বাড়ির গেট থেকে বের হলো। আমি আর মিশাত লুকিয়ে পড়লাম। দেখলাম ফারজানা দাঁড়িয়ে আছে। আমার ধারনা, কারো জন্য অপেক্ষা করছে। তখনই একটা কালো কালারের বড় গাড়ি ফারজানার সামনে আসলো। গাড়িটার গ্লাসের উপর একটি প্রজাপতির স্টিকার দেওয়া। ফারজানা মুচকি হেসে গাড়িতে উঠলো। আমি আর মিশাত তড়িঘড়ি করে মিশাতের গাড়ির কাছে আসলাম। মিশাত ড্রাইভিং সিটে উঠতে নিলে আমি বললাম ,

"আজকে আমি ড্রাইভ করি। কারণ তাড়াতাড়ি যেতে হবে। তুই পারবিনা।"

"ওকে ।"

আমি ড্রাইভিং সিটে বসলাম। বুঝলাম না ফারজানা এই গাড়িতে কোথায় যাচ্ছে? গাড়িটা সেই স্পিডে চলছিলো। আমিও খুব স্পিডে চালানো শুরু করলাম। তবে খেয়াল রাখলাম যাতে ফারজানা টের না পায় যে আমরা কেউ ফলো করচ্ছি। কিছুক্ষণ পর গাড়িটা একটা ফাইভ স্টার হোটেলের সামনে দাঁড়ালো। আমি ওদের থেকে একটু দূরে গাড়ি থামিয়ে দিলাম। Wait ! হোটেল ! ফারজানা হোটেলে আসলো কেনো? আমি আর মিশাত একে অপরের দিকে অবাক হয়ে তাকালাম। কারন আমরা দুজনেই ফারজানার এখানে আসার কারণ ধরতে পারচ্ছি না। একটু পর ফারজানার সাথে একটা ছেলেও গাড়ি থেকে নামলো। আরে!!!! এটা তো সেই ছেলে! যাকে আমি ঐদিন রাস্তায় ফারজানার সাথে দেখেছি!!!

মিশাত অনেক উচ্ছ্বসিত হয়ে আমাকে বলল,

"এই আদু ! এটা সেই মা*ল টা না??"

"হুম। "

মিশাত আর আমি কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুজনে ফিক করে হেসে দিলাম। কারণ আমরা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি যে, ফারজানা কোনো আকাম-কুকাম করতেই এখানে এসেছে।

______________________________________________

আয়ানের আজকে খুব মাথা ব্যথা করছিল।তাই নিলয় যাওয়ার পর সেও তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে চলে আসলো।

আয়ান কলিং বেল বাজালে মা দরজা খুলে দিলো। আয়ান একটু অবাক হলো। কারণ প্রতিদিন আমিই দরজা খুলতাম।

"কীরে আয়ান! আজ এতো তাড়াতাড়ি!"

"একটু খারাপ লাগছিলো। তাই চলে আসলাম।"

আয়ান বাড়িতে ঢুকে চারিদিকে একটু চোখ বুলিয়ে নিলো। আয়ান মনে মনে ভাবছে, " আজব! ঐ মেয়েটা কোথায়? প্রতিদিন তো ড্রয়িং রুমেই ঘাপটি মেরে থাকে।"

আয়ান কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে বলেই বসল,

"কী ব্যাপার মম? মেয়েটা কোথায়?"

মা একটু সন্দিহান কন্ঠে বলল,

" কোন মেয়ের কথা বলছিস?"

আয়ান বিরক্তি নিয়ে বলল,

"যে মেয়েটার সাথে তোমরা আমাকে বিয়ে দিয়েছো"

মা রেগে বললেন,

" মরে যাক সে! তোর কি যায় আসে!"

" ঠিক বলেছ তুমি মম। আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমার খাবারের সময় হয়ে গেছে। খিদে পেয়েছে খুব।আর আমার মাথাটাও ব্যথা করছে। তাই ওকে বলো যে, আমার রুমে যেন মেডিসিন আর খাবার দিয়ে আসে।"

"ও তোর স্ত্রী হলে এই সব কাজ করতো। তুই তো ওকে মেনেই নিস নি। তাই এসব কাজ ও কেন করবে? ও তোর কিনে আনা কাজের লোক না !!"

আয়ান তাচ্ছিল্যে হেসে বলল,

"স্ত্রী ! মাই ফুট!!"

বলেই আয়ান কিছু না শুনে উপরে নিজের ঘরে চলে গেল। রাবেয়া বেগম একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

চলবে........?

*কালকের পর্ব টা ছোট হওয়ায় এই পর্ব দিলাম🤗"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন