#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_৮ ( নতুন জুটির আগমন )
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
রুমে এসে ড্রেস চেন্জ করে ফ্রেশ হলাম। তারপর বেড সাইড টেবিলে থাকা মেডিসিন বক্স থেকে খুঁজে খুঁজে অবশেষে টাফনিল ( Tufnil ) নামক মেডিসিন টা পেলাম। এতো ভেতরে মেডিসিন টা কুন গর্দভ রেখেছিলো রে? ওহ্হ! আমিই তো রেখেছিলাম। বাহ্, একটা মলমও পেলাম।ভলিজেল (Voligel), হুম মাথা ব্যথা কমাতে এটাও ভালো কাজ করে। যাইহোক, আচ্ছা মেডিসিন আর মলম টা কি আমি উনাকে দিয়ে আসব? যদি আবার রাগারাগি করে! আমাকে দেখলেই তো ওনার মাথায় রক্ত উঠে! আচ্ছা করলে করুক ! এতো ভয় পেলে হবে !! যাই মেডিসিন টা দিয়ে আসি। ঘর থেকে বেরোতেই দেখলাম মা এদিকেই আসছে।
" আদ্রিকা, এই যে পাস্তা টা নাও।"
" মা ....আমি এখন খাবো না । পরে খাচ্ছি।"
"আরে বোকা! আয়ানের জন্য। তুমি যে বলেছিলে মেডিসিন নেয়ার আগে হালকা কিছু খেতে। তাই পাস্তা টা খাইয়ে মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে এসো যাও।"
"মা আপনি ওনাকে এখনো খাওয়ান নি কেনো? উনি এমনিতেই আমাকে সহ্য করতে পারেন না। আমার নিয়ে যাওয়া খাবার খাবে কি?"
"কেনো খাবে না? খাবে খাবে । যাও। আমার খুব ক্লান্ত লাগছে আদ্রিকা। আমি ঘরে বিশ্রাম নিতে গেলাম। তুমিও ওকে খাইয়ে বিশ্রাম নাও। তোমার শশুর আর রামিসা আসলে আমাকে ডেকো। রাতের খাবার খেতে দেবো সবাইকে। কেমন?"
আমি হতাশ চোখে তাকিয়ে রইলাম মায়ের দিকে। উনি মুচকি হেসে চলে গেলেন। মা আমাকে এতো বড় বিপদে ফেলতে পারলেন! উনি নিজেও জানেন যে ওনার ছেলে কত বিপজ্জনক। একটা বড় শ্বাস নিয়ে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন বহন করে আমি মহারাজা আয়ান চৌধূরীর ঘরের দিকে পা বাড়ালাম।
এদিকে রাবেয়া বেগম ভাবছেন,
" আমি ইচ্ছে করেই তোমাকে সবসময় আয়ানের কাছে রাখতে চাইছি আদ্রিকা। আমি খুব করে চাই যে আয়ান তোমার মায়াতে পড়ুক। মহান আল্লাহ্ তোমাদের দুজনকে এক করেছেন। তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম দেওয়ার দায়িত্ব টাও তাঁর। সৃষ্টিকর্তা কতৃক বিয়ে নামক এক পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ তোমরা। একে অপরকে ভালোবাসতে বাধ্য হবে। আমি তো সেই দিন টার অপেক্ষা করচ্ছি যেদিন আয়ান তোমাকে পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাবে। একটা অদ্ভুত টান তোমাদের মধ্যে ঠিকই জন্ম হবে। কিন্তু তার জন্য তোমাদেরকে একসাথে থাকা প্রয়োজন। একে অপরের চোখের সামনে থাকা প্রয়োজন। "
______________________________________________
আয়ান চৌধূরীর ঘরের বাইরে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। দরজা টা খোলাই আছে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি কি যাব?? আমার ভাবনার মধ্যেই উনি ভেতর থেকে গম্ভীর কন্ঠে বললেন,
"খাম্বার মতো টং হয়ে দাঁড়িয়ে না থেকে ভেতরে এসো।"
শিট! উনি কীভাবে বুঝলেন যে আমি বাইরে আছি! জাদু-টাদু জানে নাকি!! আমি আস্তে করে ঘরে ঢুকলাম। দেখলাম উনি বিছানার উপর হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বসে আছেন। উনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে নাকি!! ইশ্, আমাদের সম্পর্ক টা যদি স্বাভাবিক হতো, তাহলে আমি উনার মাথায় নিজ হাতে মলম লাগিয়ে উনার মাথা টিপে দিতাম!! ধুর! আদ্রিকা, স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর! ভুলে যাস না যে উনি আয়ান চৌধূরী।
আমি বেড সাইড টেবিলে পাস্তা টা রাখলাম। তারপর আস্তে আস্তে বললাম,
" আপনি খেয়ে নিন। আমি ট্যাবলেট আর মলম এনেছি।"
উনি চোখ উঠিয়ে পাস্তার দিকে একবার তাকিয়ে বলল,
" ইচ্ছে করচ্ছে না। এনার্জি নেই খাওয়ার। মেডিসিন টা দাও"
" আরে আজব! এই লোকের কি মাথা গেছে! আরে ভাই খেলেই তো এনার্জি আসবে নাকি! না খেলে শক্তি পাবে কীভাবে?" মনে মনে এসব বললেও উনার সামনে এগুলো বলার সাহস আপাতত নেই আমার।
আমি ধীর কন্ঠে বললাম,
"একটু কষ্ট করে খেয়ে নিন প্লিজ। নাহলে মেডিসিন কাজ করবে না।"
উনি তবুও চুপ করে আগের মতোই আছেন। একটু পর উনি রাগী কন্ঠে বললেন,
"মেডিসিন টা দিলে দাও নাহলে বের হও এখান থেকে। "
আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। কিছু একটা মনে হতেই অনেক সাহস নিয়ে বললাম,
" আমি খাইয়ে দিই আপনাকে?"
ফট করে উনি আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকালেন। বাহ্ আমি নিজের সাহস দেখে নিজেই অবাক হচ্ছি। কীভাবে উনাকে এত ভয়ানক কথা টা বলতে পারলাম কে জানে! এখন আমার মাথা টা আর গলায় থাকবে কি না জানি না !
তবে আমি তো তখনই চমকে গেলাম যখন উনি বললেন,
" দাও।"
উনি কি জানেন যে উনার এই ছোট্ট এক শব্দের কথা টা আমার মনে হাজারো প্রজাপতি উড়াতে সক্ষম হয়েছে। হয়তো জানেন না !!! অতিরিক্ত প্রফুল্লতা দমিয়ে রেখে আমি পাস্তার বাটিটা হাতে নিয়ে উনার সামনে একটা চেয়ার টেনে বসলাম। জানিনা হাতটা এখন কেনো এতো কাঁপছে............
কাঁপা হাতেই উনার মুখের সামনে পাস্তা ভর্তি চামচ ধরলাম।
উনি একবার আমার দিকে তাকিয়ে পাস্তা টা মুখে পুরে নিলেন। ..এভাবেই পুরো বাটিটা শেষ করলেন।
ওনার খাওয়া শেষ হলে আমি ওনার হাতে মেডিসিন আর পানির গ্লাস দিলাম। মেডিসিন নেয়ার পর উনি আমাকে বললেন,
" মলম টা নিয়ে যাও। ওটা লাগবেনা।"
" কেনো? এটা একটু কপালে মালিশ করুন না। এই মলম টা অনেক কার্যকর। রাতে ঘুম ভালো হবে আপনার।"
উনি ইতস্তত করে বললেন,
"আম....আমি মালিশ করতে পারি না। "
আমি মুখ ফসকে বলেই ফেললাম,
" আরে এটা কোনো ব্যাপার নাকি !! আমি মালিশ করে দিচ্ছি। আমি অনেক ভালো করে ......."
Then.....আমার রিয়েলাইজেশন আসলো। আর আমি চুপসে গেলাম। Shit ! অতিরিক্ত উত্তেজনায় কী বলে ফেললাম!! নিজের সাহস দেখে নিজেকেই এখন অস্কার দিতে ইচ্ছে করচ্ছে। প্রথমে নিজে থেকে খাইয়ে দেয়া আর এখন মলম লাগানো । বাহ্! আদ্রিকা বাহ্ ! অসাধারণ! বেশ ভালোই উন্নতি হয়েছে তোমার !!! আমি হঠাৎ এতো ফালতু মেলো ড্রামা কেনো করছি ভাই
এদিকে উনিও আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন। নিশ্চয়ই উনিও বিষয়টা আশা করেন নি। উনি হয়তো ঠিকই ভাবছে যে, "হঠাত্ এই মেয়েটা এত সাহস কোথা থেকে আমদানি করলো?"
উনার ভ্রু কুচকে তাকানোর দিকে তাকিয়ে আমি একটু মেকি হেসে বললাম ,
" আমি তাহলে যাই ? কিছু লাগলে বলবেন। হে হে যাই আমি। শুভ রাত্রি। "
দরজার দিকে পা বাড়াতেই উনি উঁচু স্বরে বললেন,
" দাঁড়াও।"
ব্যাস ! শেষ! সব শেষ! এ জন্মে আমার আর নাতি নাতনির মুখ দেখা হবে না। আজই আমার শেষ দিন!
বিদায় পৃথিবী ! বিদায়!
____________________________________________
" হ্যাঁ হ্যালো! হ্যালো! আরে.....রাইসা.. হ্যালো কিছু শুনতে পাচ্ছি না রে! নেটওয়ার্ক প্রবলেম । বাড়ি গিয়ে কল করচ্ছি।কল কাটলাম।"
ড্রাইভ করতে করতে রামিসা তার বন্ধু রাইসার সাথে কথা বলার চেষ্টা করচ্ছে ।কিন্তু নেটওয়ার্ক প্রবলেম হওয়ায় কিছুতেই লাইন পাচ্ছে না। (রামিসার কথা মনে আছে তো! আয়ান চৌধূরীর ছোট বোন আর আদ্রিকার ননদ)
ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সামনে যে একটা গাড়ি আসছে সেটা রামিসা খেয়ালই করে নি। শেষ সময়ে সামনে তাকালে খুব তাড়াহুড়ো করে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে দেয়। অপর প্রান্তের গাড়ির মালিকও বেশ বিভ্রান্ত হয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ রামিসার গাড়ি বেঁচে গেলেও অপর প্রান্তের গাড়িটি বিরাট বড় এক গাছের সাথে ধাক্কা খায়।
রামিসা "শিট" বলেই গাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় আর তাড়াতাড়ি করে ঐ গাড়ির কাছে আসে। এর মধ্যে ঐ গাড়ির মালিক বেরিয়ে আসে।
গাড়ির মালিক কে দেখে রামিসার সহানুভূতি মাটি চাপা পড়ে অগ্নিরূপে জ্বলে উঠে আর বলে,
" আপনি !!!!!!!"
গাড়ির মালিকও যে রামিসা কে দেখে সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে হয় না। সেও স্বজোরে বলল,
" তুমি !!!!!! অবশ্য তুমিই তো হবে ! এতো রাতে তুমি ছাড়া তো কেউ এভাবে এনাকোন্ডার মতো গাড়ি চালাতে পারে না !"
হ্যাঁ,গাড়ির মালিক আর কেও নয়। সে হলো আয়ানের বেস্ট ফ্রেন্ড হিমেল!
হিমেলের সাথে রামিসার আগে থেকেই সাপে-নেউলে সম্পর্ক। আয়ান রামিসাকে অনেকবার বলেছে যে "হিমেল তোর বয়সে বড়। আর ও তো আমার ফ্রেন্ড। একটু সম্মান দিয়ে কথা বল।"
কিন্তু রামিসার একটাই কথা,
" এই লোক অসহ্যকর!!!!"
কেনো অসহ্যকর?সেটা রামিসা নিজেই জানে না
"সাট আপ ! আমি না হয় এনাকোন্ডার মতো গাড়ি চালাই ।আপনি কি চোখে কাপড় বেঁধে গাড়ি চালাচ্ছিলেন??? নাকি চোখ বাড়িতেই রেখে এসেছেন !!"
"একদম বাজে কথা বলবে না রামিসা।"
"আমি বাজে কথা বলি না বুঝলেন।আমি সবসময় ভালো কথা বলি। বাজে কথা তো আপনি বলেন। সাদা চিকা কোথাকার!"
" নিজে কী হ্যাঁ? পটল কোথাকার!!"
" এই দেখুন......"
"কী দেখবো বলো? দেখার মতো কিছু আছে কী?"
" একদম প্রশান্ত মহাসাগরে ধাক্কা মেরে ফেলে দিব বলে দিলাম। আমাকে একদম পটল বলবেন না। I hate পটল"
হিমেল শয়তানি হেসে বলল,
" জানি !! এই কারনেই আরো বেশি করে বলব পটলরাণী।"
" অসহ্য!! "
"অভদ্র!!"
"এই দেখুন.........."
" সেই থেকে দেখেই আছি । কিন্তু আল্লাহ্ এর ওয়াস্তে দেখার মতো কিছুই পেলাম না বিশ্বাস করো।"
" আপনার সাথে কথা বলাটাই বেকার।"
" Same to you!!"
" আমার মতো একটা কিউট মেয়ের সাথে এভাবে মহিলাদের মতো ঝগড়া করতে আপনার লজ্জা করে না?"
"আর আমার মতো একটা হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে পাশের বাসার আন্টির মতো কথা বলতে তোমার লজ্জা করে না?"
" না করে না, চিকার বাপ ।"
"আমারো করে না, পটলের নানি ।"
" আপনার জীবনে বিয়ে হবে না ! অভিশাপ দিলাম!"
" আমি ইহা বিশ্বাসের সাথে Trust করি যে আমার মতো একটা Handsome ছেলে চিরকুমার হয়ে থাকবে না। "
" বিশ্বাসের সাথে Trust করেন !"
হিমেল খুব ভাব নিয়ে বলল,
"জ্বী হ্যাঁ।"
_____________________________________________
জানিনা উনার ভালো লাগছে কিনা। আয়ান চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আর আমি গত ১০ মিনিট ধরে উনার কপালে মলম মালিশ করে দিচ্ছি। হ্যাঁ, আমাকেই করতে হচ্ছে।
ঐ সময় আমাকে "দাঁড়াও" বলে উনি আমার হাতে মলম ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলো,
" মলম টা লাগিয়ে দিয়ে এই ঘর থেকে বেরোবে। নাহলে উল্টো করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখবো ইডিয়েট।"
তখন থেকেই উনার কপালে মলম লাগাচ্ছি। জানিনা এরকম সুযোগ আর আসবে কিনা! তাই খুব যত্ন সহকারে নিজের সবটুকু দিয়ে মলম টা লাগিয়ে দিচ্ছি। প্রায় ১৫ মিনিট পর আমি মলমের ঢাকনা টা লাগিয়ে মেঝে থেকে উঠলাম। আসলে উনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন আর আমি মেঝেতে বসে মলম লাগাচ্ছিলাম। আমি উঠেই উনাকে বললাম,
" ইয়ে ....এখন কমেছে?"
উনি আস্তে করে চোখ খুলে বললেন,
" হুম।"
যাক শুনে বেশ ভালো লাগলো। আমি আবার বললাম,
"আমি তাহলে যাই ?"
উনি ওভাবেই গম্ভীর হয়ে বললেন,
" তো আজ এখানেই থাকার পরিকল্পনা আছে নাকি তোমার ?"
আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম,
" না না তা হবে কেনো? আমি যাচ্ছি।"
বলেই আমি উনার ঘর থেকে বের হয়ে এলাম।
হুহ্ ! খাটাশ কোথাকার! কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ নেই! এতক্ষণ ধরে কতো যত্ন করে কপাল মালিশ করে দিলাম। একটু ধন্যবাদ দিলো না! আবার অপমান করে ঘর থেকে বের দিলো!!!
মনে মনে বকতে বকতে যেই না আমার ঘরে ঢুকতে যাবো সেই সময় কলিং বেল বেজে উঠলো। নিশ্চয়ই রামিসা বা বাবা এসেছে। আমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুললাম। দেখলাম রামিসা বাংলার পাঁচের মতো মুখটা করে দাঁড়িয়ে আছে।
" Good Evening ভাবি!"
"Good evening রামিসা। কী ব্যাপার? তোমায় এমন লাগছে কেনো?"
রামিসা ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল,
"আর বলো না ভাবি! রাস্তায় হঠাৎ একটা সাদা চিকার সাথে আমার গাড়ির ধাক্কা লেগেছিলো। কি আর বলবো! আজকালকার পাবলিক! "
" অ্যাঁ ! বলো কী?"
রামিসার কথা শুনে মাঝে মাঝে আমি থতমত খেয়ে যাই। মেয়েটা এমন এমন আজগুবি কথা কোথা থেকে পায় কে জানে!
" আচ্ছা রামিসা। তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। ডিনার করতে হবে। ভালো কথা, বাবা কোথায়? "
" ভাবি, বাপ্পি আজকে বাড়িতে আসবে না। অফিসের একটা বড়সড় প্রজেক্টের কাজ চলছে। প্রায় সব কর্মচারীরাই আজ সারারাত কাজ করবে। "
" ওও । আচ্ছা। তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি মা কে ডেকে আনি।"
"আচ্ছা ভাবি।"
রাতের খাবার শেষে যে যার ঘরে চলে গেলাম। আমার খুব ক্লান্ত লাগছিলো। তাই একটা জবোরদস্ত ঘুমের জন্য তৈরি হলাম।
___________________________________________
রাত বারোটা .....
খুবই শান্তিতে ঘুমোচ্ছিলাম। সেই সময় অভদ্র ফোনটা বেজে উঠলো। ধুর এতো রাতে কোন পেঁচা কল দিচ্ছে রে!!! ঘুম ঘুম চোখে বিরক্তির সাথে ফোনটা ধরলাম।
মিশাত চেঁচিয়ে বলল ,
"আদ্রির বাচ্চা!!! বেঁচে আছিস না মরেছিস রে ?খোঁজখবর কিছু আছে তোর?"
আমি চোখ ডলতে ডলতে বললাম,
" কী সমস্যা রে ভাই? হায়রে শান্তির ঘুমটা আমার ! রাতেরবেলা কেনো ডিস্টার্ব করতেছিস??"
"ভাই এদিকে তোর সব শেষ হয়ে যাচ্ছে আর তুই নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিস !!!!"
আমি বললাম,
" হয়েছে টা কী?"
" আমরা যে ক্যামেরাটা সেট করেছিলাম সেটার লাইভ আমার ল্যাপটপে দেখাচ্ছে।"
" দেখ, তা আমাকে কি বলছিস ভাই? দেখার জন্যই তো ক্যামেরা সেট করেছি নাকি! তুই দেখতে থাক। কালকে আমাকে বলিস।"
মিশাত বিরক্তির সাথে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"আরে ভাই! মুখ খারাপ করাইস না আমার। যেটা দেখেছি, সেটা দেখে আমার লোম দাঁড়িয়ে গেছে।"
"ধূর! কি হয়েছে বলতো?"
"ফারজানা আর ঐ ঈশান ছেলেটা একসাথে আছে।"
"হুম তো?"
"আবেএএএএএ!! ঘ*নি*ষ্ঠ হয়েছে বুঝেছিস হারামি?????"
আমি প্রায় লাফিয়ে উঠলাম বিছানা থেকে। চোখগুলো বড় বড় করে বললাম,
"What do you mean by....."
"হ্যাঁ রে! যেটা ভেবেছিস সেটাই।"
অটোম্যাটিকলি একটা হাত আমার মাথার উপরে চলে গেল। আমি অবাকের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে বললাম,
" সিরিয়াসলি ? এটা কিভাবে সম্ভব? মানে এতো দূর??"
"হ্যাঁ বে। এতো দূর।"
আমি এবার বুঝতে পারছি যে কোন টাইপের চরিত্রহীন বাজে একটা মেয়ে ফারজানা। আমি বললাম,
" সব রেকর্ড হয়েছে তো নাকি !"
"হ্যাঁ হয়েছে। "
"Great! ঠিক আছে তুই রাখ। কালকে দেখছি আমরা। তুই ওই ভিডিওটা ভালো করে রেখে দিস সাবধানে। কারো হাতে যেন না যায়।"
মিশাত হুম ফলে কলটা কেটে দিলো।আমি খালি ভাবতে লাগলাম যে, তার মানে ফারজানা ওনাকে শুধু ঠকাচ্ছে না! বেশ ভালোই ঠকাচ্ছে। আর উনি ফারজানাকে বিশ্বাস করে ভালোবেসে সবকিছু দিয়ে দিচ্ছে। সবকিছু রিয়েলাইজ করে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। যতই হোক ঘুমাতে তো হবে। না হলে কাজ করব কিভাবে?
চলবে.......................
( লেখিকার নাম ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ )