#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_৯
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
"তোমার সমস্যাটা কি বলোতো?" উচ্চস্বরে বলল আয়ান।
"আমার কোন সমস্যাই নেই আয়ান। সমস্যা হচ্ছে তোমার। কয়েকদিন ধরে তোমাকে কেমন যেন অন্যরকম দেখছি।"
আয়ান বুঝতে না পেরে বলল,
" কেমন দেখছো? তুমি আমি তো একদম ঠিক আছি।"
" না তুমি ঠিক নেই। সকাল থেকে ফোন করছি। ফোন তুলছো না। হঠাৎ করে উধাও হয়ে যাও। সমস্যা কি তোমার? আমাকে ইগনোর করছো??"
যুবমৈত্রী পার্কে ফারজানা আর আয়ানের তুমুল ঝগড়া চলছে। ফারাজানার অভিযোগ-আয়ান নাকি তাকে ঠিকমতো টাইম দেয় না, কল ধরে না, ইগনোর করে।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে ফারজানা বলেই ফেলল,
"নাকি তোমার ঐ মেয়েটার সাথে সম্পর্ক হয়ে গেছে আয়ান! মেনে নিয়েছো তুমি ওকে তাই না ?"
"শাট আপ ফারজানা। Just shut up!!! What do you mean? আমি বেকার নই ফারজানা! আমাকে অফিস করতে হয়। বসে বসে সারাদিন কথা বলার মতো ফালতু টাইম নেই আমার। আর আমি ২০ বছরের কলেজ পড়ুয়া নই। বাস্তবতা বুঝতে শেখো ফারজানা। তুমি একদম কথা ঘোরাবে না। আচ্ছা আমাকে একটা কথা বলো, তুমি কাল সারারাত কোথায় ছিলে? কাল রাতে তো কল করেছিলাম তোমায়। ধরোনি কেন?"
ফারজানা একটু থতমত খেলেও শক্ত হয়ে বলল,
"প্লিজ আয়ান, তুমি এসব বিষয়ে আমার সাথে মাথা ঘামাতে এসো না। আই এম নট ইওর ওয়াইফ।আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড। আমি তোমার বউ হলে তুমি এসব বিষয়ে কথা বলতে পারতে।"
আয়েন একটু এগিয়ে গিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল,
"কী বলতে চাচ্ছ ? খোলাখুলি বলো। ভালো করেই জানো যে প্যাঁচ মার্কা কথা আমি পছন্দ করি না।"
"তুমি আমায় বিয়ে করবে কবে?"
উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে ফারজানা।
আয়ান কিছুক্ষণ সন্দিহান চোখে তাকালো। তারপর বলল,
" তুমি হঠাৎ বিয়ের জন্য এতো তাড়াহুড়ো করচ্ছো কেন?"
ফারজানা একটু আশে পাশে তাকিয়ে বলল,
"আয়ান তোমাকে ভালোবাসি আমি। ঐ মেয়েটা তোমার বাড়িতেই থাকে। ভয় হয় আমার।"
আয়ান ভ্রু কুচকে বলল,
" তো? কীসের ভয়?"
"না মানে.... তুমি যদি ঐ মেয়েকে......"
"আমাকে তোমার এমন মনে হয়? "
" আচ্ছা শোনো , তুমি আমাকে ভালোবাসো কিনা সেটা বলো।"
আয়ান গম্ভীর হয়েই বলল, " হুম বাসি।"
ফারজানা খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,
" তাহলে তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করো। বিয়ে করবো আমরা খুব তাড়াতাড়ি।"
আয়ান এইবার রাগের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে বলল,
" আদ্রিকা কে ডিভোর্স না দিয়ে আমি তোমাকে কীভাবে বিয়ে করবো আজব!!!! আইন অনুযায়ী ওকে তো আগে ডিভোর্স দিতে হবে! অন্তত্য আর দুমাস সময় তো লাগবেই। আর আমি তো এমনিতেই আজ উকিলের কাছে যাবো বলেছি।"
ফারজানা তাচ্ছিল্যে হেসে বলল,
" আদ্রিকা! এখন ওকে নাম ধরে ডাকা শুরু করেছো? বাহ্"
"ফারজানা আমার মেজাজ খারাপ করো না"
" সবই বুঝতে পারচ্ছি। এখন তুমি দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাও তাই তো???"
আয়ান এইবার হুংকার দিয়ে বলল, " ফারজানা!!!!!!!"
___________________________________________
এইদিকে বাড়িতে, সেই তখন থেকে বড়া বানানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু খামিরটাই মন মতো হচ্ছে না। কখনো বড়া বানাইনি। কিন্তু আমার ননদীনির খুব ইচ্ছা, সে নাকি বড়া খাবে। কি আর বলবো? ইউটিউবে ভিডিও দেখে চেষ্টা করছি। হঠাৎ করে মনে হল কে যেন আমার চোখ চেপে ধরেছে। আমি খুব ভালো করেই জানি এই কাজ কে করেছে। চোখ থেকে হাত সরিয়ে দেখলাম যে আমার প্রিয় ননদ রামিসা। রামিসা খিলখিলিয়ে হেসে বলল,
" কী ভাবি! ভয় পেয়েছো?"
" আরে না! ভয় পেতে যাবো কেন? আমি খুব ভালো করে জানতাম যে এটা তুমি।" এটি বলে আমি আমার কাজে মন দিলাম।
রামিসা বলল,
"অন্যকেউ তো হতে পারতো!"
আমি একটু মজা করে বললাম,
" এই বাড়িতে তুমি ছাড়া কে এমন বিচ্ছু আছে ?"
রামিসা কাঁদো কাদোঁ মুখ করে বলল, "ভাবি !!!!!"
আসলে এই বাড়িতে মা আর রামিসাই আমার সবচেয়ে আপন হয়ে গিয়েছে। রামিসা যে আমার ননদ তা আমি মাঝে মাঝে ভুলেই যাই। মনে হয়, সে আমার আপন বোন। বাবা আগে জোর করে রামিসাকে অফিসের কাজে লাগালেও এখন আমার জন্য রামিসাকে কেউ বাড়ি থেকে সরাতে পারে না। সারাদিন আমার সাথেই খুনসুটিতে মেতে থাকে।
মা তো একদিন হতাশ হয়ে বলেই দিলো, " আগে মনে হতো এখন থেকে আমার দুটো মেয়ে হবে , আর এখন মনে হয় বাড়িতে সারাদিন দুটো ব্যাঙ লাফিয়ে বেড়ায়।"
সেদিন মায়ের কথায় আমরা দুজন হাসতে হাসতে সোফা থেকে পরে গিয়েছিলাম।
আমার ভাবনার মধ্যেই রামিসা বলল,
"ভাবি তোমাকে অনেক ধন্যবাদ আর এতগুলা ভালোবাসা।"
"কেনো?"
রামিসা অসহায় মুখে বলল,
" কারণ, কতদিন থেকে মাকে বলছি যে বড়া বানিয়ে দাও।কিন্তু মার নাকি সময় নেই। আবার ভাইয়া কে বাইরে থেকে আনতে বললে ভাইয়া শক্ত হয়ে বলে, এগুলা Unhealthy খাবার রামিসা। আবার বাবাকেও না করে দিয়েছে জানো।"
আমি মুচকি হাসলাম। পরক্ষণেই একটু অসহায় মুখে বললাম,
" রামিসা আমি আগে কখনো এসব বানাইনি।খেতে খুব একটা ভালো হবে বলে মনে হয় না। খেতে পারবে তুমি?"
" ভাবি তুমি যেমনই বানাবে আমি তেমনই খাবো। কোনো সমস্যা নেই ।"
আমি বললাম,
" রামিসা, মাকে বলি। তাহলে আমাকে শিখিয়ে দেবে।আমি আরো ভালো করে বানাতে পারব।"
রামিসা চমকে উঠে বলল,
" কখনোই না ভাবী প্লিজ। মা জানতে পারলে আমাকে মাটিতে গেড়ে দেবে একদম।"
ওর কথা শুনে আমি ফিক করে হেসে দিলাম। এভাবেই বিভিন্ন বিষয়ে গল্প করছিলাম আর হাসাহাসি করছিলাম। বড়া বানাতে বানাতে দুই ভাবি ননদ মিলে খুব মজা করছিলাম। এমন সময় দরজায় কলিং বেল বেজে উঠল। রামিসা বলল,
"ভাবি, আমি দেখে আসছি। তুমি বানাতে থাকো।"
আমি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকলাম যে কে এসেছে? এই সময় তো কারো আসার কথা নয়। এই ভর দুপুরে! দরজা খুলে রামিসা দেখলো,আয়ান দাঁড়িয়ে আছে। আমিও দেখলাম। আয়ানের টাই ঢিলা করা। চোখে মুখে হতাশার ছাপ। শার্টের উপরের দুইটা বোতামও খোলা আছে। হাতাটাও ঠিক নেই। একদম বাজে অবস্থা!!!
রামিসা বলল,
" ভাইয়া তুই? এমন কেন দেখাচ্ছে কেনো তোকে? অফিসে যাস নি?"
আমিও তখন কাজ বাদ দিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে দেখলাম যে সত্যি তার অবস্থা খুবই খারাপ। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম দুটো বাজে। এই ভর দুপুরে তো তার আসার কথা নয়।
আয়ান রামিসা কে কিছু না বলে বড় বড় পা ফেলে রুমে দিকে যেতে লাগল আর যাওয়ার সময় একটু চোয়াল শক্ত করে খালি আমার দিকে এক পলক তাকালো ।
আমি ভয়ে ঢোক গিললাম। রামিসাও ভরকে গিয়েছে। উনি যাওয়ার পর রামিসা বলল,
" বিষয়টা কী হলো ভাবী? এ অবস্থা কেন?"
আমি ঘাড় উঁচালাম অর্থাৎ আমারও জানা নেই।
রামিসা আবার বলল,
" ভাবি, তুমি আবার উল্টাপাল্টা কোনো কাজ করো নাই তো?"
আমি রান্নাঘরে যেতে যেতে বললাম,
" আমার তো দেখাই হয় না উনার সাথে। কখনোই দেখা হয় না। ভোরবেলা উনি চলে যান অফিসে আর রাত নয়টার পরে বাড়িতে ফিরেন। এমনিতেও উনার সামনে যেতে চাই না আমি।"
এসব বলে কড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে অসহায় মুখে করে বললাম,
"আমি জানি আমাকে দেখলেই উনার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। আমাকে একদম সহ্য করতে পারেননা। এ কারণেই তো যতটা সম্ভব উনার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি।"
রামিসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমিও চোখটা উঠিয়ে রামিসাকে বললাম,
" যাই হোক, তোমার মত একটা বোন পেয়েছি। এর থেকে বেশি আর কি লাগে ?"
এটা শুনে রামিসাও মুচকি হাসলো আর আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।
আসলে এই বাড়িতে এসে আমি যদি কিছু পেয়ে থাকি তাহলে সেটা হলো একটা সত্যিকারের মা পেয়েছি, যাকে দেখলে আমার শাশুড়ি মনেই হয় না। একটা সত্যিকারের ছোট বোন পেয়েছি, যার সাথে সারাটা দিন হাসিমুখে পার করা যায়।
হয়তো একটা প্রিয় সঙ্গী পাওয়াটা আমার ভাগ্যে ছিল না। এই কারনেই.......যাই হোক সবার তো সবকিছু ভালো থাকে না।
রামিসাকে বড়া গুলো খেতে দিয়ে আমি ট্রেতে চা এবং কফি দুটো নিয়েই উপরে উঠলাম। মায়ের ঘরে চা টা দিলাম আর ট্রে সহ কফি হাতে নিয়ে আয়ানের রুমের দিকে আগাতে থাকলাম। আমি জানি যে, উনি বিকেলবেলা করে কফি খেতে খুব পছন্দ করেন। অফিসে থাকলে তার পিএ নিলয় তাকে বানিয়ে দেয়।
জানিনা সে আমার হাতের কফি খাবে কিনা। তাও আমি আমার দায়িত্ব তে অবহেলা করতে পারি না। একটু একটু করে আগাচ্ছি আর ভয় পাচ্ছি।
তারপরে উনার ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় একটু হাত দিতেই দরজাটা খুলে গেল। বুঝতে পারলাম যে দরজা লক করা হয়নি। শুধু আলগা করে লাগানো ছিল। উনার ঘর প্রায় লক করা থাকে না। এটা আমার খুব ভালো লাগে। বাড়িতে তো বাইরের কেউ নেই যে দরজা লক করে রাখতে হবে।
আমি রুমের ভিতর পা রেখে দেখলাম যে, উনি এখনো ড্রেস চেঞ্জ করেননি। ওভাবেই বারান্দায় চেয়ারে মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন। আমি বুকে অনেকটা সাহস জমিয়ে আস্তে করে বললাম,
"আসবো ?"
উনার সাথে কথা বলতে গেলে আমার সবসময় ভয় নিয়েই কথা বলতে হয়। উনি চোখ মেলে তাকালেন। কেমন জানি একটা অদ্ভুত দৃষ্টি ঠেকলো আমার কাছে। তারপর তিনি উঠে আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। আমি ভয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম আর একটু করে পিছাতে লাগলাম। তারপর হঠাৎ করে সে অনেকটা কাছে চলে এলো আমার। আমি সাহস করে চোখ নামিয়ে বললাম যে,
" আপনার কফিটা দিতে এসেছিলাম। আপনি তো এই সময় কফি খান।"
তাকে দেখে মনে হলো না যে সে আমার কথাটা শুনতে পেয়েছে বা শোনার চেষ্টা করেছে। আমি মাথা নিচু করে রইলাম। বুঝতে পারলাম যে সে এখনও আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর হঠাৎ করে সে আমার কাছ থেকে ট্রেটা নিল। পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে আমি ঘর থেকে বেরোনোর চেষ্টা করলাম। ভাবলাম কফি নিয়ে নিয়েছে, এখানে থেকে আর লাভ কি? দরজা থেকে বের হওয়ার আগেই একটা হ্যাচকা টান অনুভব করলাম। আয়ান আমাকে হ্যাচকা টান দিয়ে হাত ধরে দেয়ালে সাথে চেপে ধরলো।
তাকিয়ে দেখলাম সে আমার মুখের সামনে এসে গেছে। আরেকটু কাছে এসে শক্ত করে ধরে রক্তচক্ষু নিক্ষেপ করে জিজ্ঞেস করল,
"তোমার সমস্যাটা কী?"
আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। আমি আবার কি করলাম? Wait ! এই উদ্ভট গন্ধ টা কোথা থেকে আসছে।
উনি আবার বলল,
" তুমি কি আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবে না? কি চাও তুমি আমার কাছে? ভালবেসে ছিলাম তোমায়। তুমি এমন কেনো করলে ? এই কাজটা তুমি একদম ঠিক করোনি ফারজানা।"
ফারজানার নামটা শুনে আমি বুঝতে পারলাম যে কোনো একটা গন্ডগোল আছে। উনি আমার সাথে কথা বলছেন। আমার দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন। অথচ নাম বলছেন ফারজানার। এতক্ষণে আমি বুঝতে পারলাম যে উনি নেশায় আছেন। আরো বুঝলাম যে এতক্ষণ ধরে বলা কথাগুলো আমার জন্য ছিল না। এই গন্ধটার কারনও বুঝতে অসুবিধা হলো না ।তিনি বাইরে থেকেই ড্রিংকস করে এসেছেন। এইজন্যই বাড়িতে ঢোকার পর এমন লাগছিলো।
তারপর সাহস করে তার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
"আপনি...... ঠিক নেই। একটু শান্ত হন......."
বলতে না বলতেই উনি আমার উপর পড়ে গেলেন। বুঝতে পারলাম যে অজ্ঞান হয়ে গেছে। তারপর আস্তে করে তাকে ধরে বিছানায় শুয়ে দিলাম। তিনি তখনো বিড়বিড় করছেন। কী বলছে সেটা শোনার জন্য উনার মুখের কাছে কান নিয়ে গেলাম। শুনতে পেলাম তিনি বলছেন,
"তুমি এমন করতে পারো না,,,,,কখনোই না,,,,,অসম্ভব,,,,,,,তুমি এমন করতে পারো না ফারজানা......."
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলাম,
"উনি কি কিছু জানতে পেরেছেন? এমন করছে কেন?"
এসব ভাবতে ভাবতে তার পায়ে থাকা জুতা খুলে দিলাম। টাইটা খুলে দিয়ে হাতে থাকা ঘড়িটাও খুলে দিলাম। এরপর তার দিকে তাকালাম। আর ভাবলাম, শার্ট টা তো একদম নোংরা হয়ে গেছে, অ্যালকোহলের গন্ধ আসছে। এটা কি খুলে দেবো? পরে ভাবলাম, না। উনি যদি জানতে পারে, আমি ওনার জামা কাপড় খুলেছি! বিষয়টা ভালোভাবে নেবেন না। আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করেও দিতে পারে!!
এসব ভেবে আর কিছু করলাম না। শুধু একটা পাতলা চাদর তার গায়ে দিয়ে দিলাম। চলে আসতে যাব, ওই সময় খেয়াল করলাম তার শার্টের বুক পকেটে একটা কাগজের অংশ বের হয়ে রয়েছে। আমি কাগজটা হাতে নিলাম।
খুলে দেখলাম এটা ,"ডিভোর্স পেপার !!!!!!!"
বুক টা ধক করে উঠলো। খুব কষ্ট পেলাম। যেন মনে হচ্ছিল চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে, কেউ আমার কলিজা টা ছিড়ে নিচ্ছে।অসহায় মনে হচ্ছিল নিজেকে। এবং ভাবলাম যে,
"তাহলে উনি ডিভোর্স দেবে আমাকে? একজন মা পেয়েছি, একজন বাবা পেয়েছি, একজন বোন পেয়েছি, এই সব কিছু রেখে তাহলে আমাকে চলে যেতে হবে? এই বাড়ি থেকে কীভাবে যাবো? আমি কীভাবে থাকবো এই মানুষগুলো ছাড়া? একটা পবিত্র সম্পর্ক ভাঙা কি এতোই সহজ? কবুল শব্দটার কি কোনো শক্তি নেই? এই বাড়ির মায়া ছাড়িয়ে আমি কীভাবে থাকবো? উনি আমাকে না মানলেও দিনে একবার তো উনার চোখের দেখা পেতাম। তাকে না দেখে কীভাবে থাকবো?????"
খুব অশান্ত লাগছিলো নিজেকে।
অনেক কষ্টে নিজেকে স্বাভাবিক করে ভাগ্যের উপর সব ছেড়ে দিলাম। কাগজটা তার পকেটে একইভাবে রেখেই ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে এলাম। ঘরে এসে বিছানার ওপর ধপ করে বসে পরলাম। চোখ দিয়ে অজান্তেই দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পরল।
চলবে.....................................
⚠️বি:দ্র: খুব তাড়াতাড়ি আয়ান সব জানতে পারবে😃। তখন ফারজানা বুঝবে কত ধানে কত চাল😏 অশভ্য ভিলেন কোথাকার😤 তোরে খুব তাড়াতাড়ি আয়ানের কাছ থেকে সরানোর ব্যবস্থা করচ্ছি দাঁড়া 🔪