ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর ছোঁয়ায় ফাগুন

২১তম পর্ব

লেখক: অনামিকা তাহসিন রোজা

#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন

#পর্ব_২১

#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা

সবাই একসাথেই নিচে নেমে এলো। নিচে নেমেই তারা দেখলো নীল জ্যাকেটের ভেতরে সাদা টি-শার্ট এবং জিন্স পড়া এক অচেনা মুখ,সাথে দাঁড়িয়ে আয়ানের বাবা আজিম চৌধূরী। অনিমা চৌধূরী সবাইকে দেখে সেই অচেনা ব্যক্তির ঘাড়ে হাত দিয়ে বলে,

"এই দেখ, তোদের নয়নতারার উড বি হাসবেন্ড সারজিস হক। ওরফে আমার হবু জামাই।"

আসলে আজিম চৌধূরীই সারজিসকে নিয়ে আসতে গতকাল ওদের বাড়িতে গেলেও সেই রাতে সারজিসের বাড়ির লোক তাকে আটকে দেয়! তাই আজ সকালে তারা উপস্থিত হয়েছে।

" সারজিস হক " নাম শুনে সবাই বুঝতে পারলো যে এর সাথেই নয়নতারার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই সবাই অমায়িক হাসলো। আয়ান বলে উঠলো,

" ও আচ্ছা আচ্ছা! তাহলে তুমিই!"

সারজিস খুব বিনয়ের সাথে বলল,

" আসসালামুআলাইকুম ভাইয়া ! কেমন আছেন?"

আয়ান সালামের জবাব দিলো, পরে কিছু বলার আগেই রামিসা বলে উঠলো,

"ওমা!!! আপনি বাংলা জানেন? আবার সালামও দিতে জানেন?"

রামিসার কথায় হিমেল "চ" শব্দে বিরক্ত প্রকাশ করলো। আর মনে মনে বলল,

"বেশি কথা বলে!"

আর সারজিস তো থতমত খেয়ে গেল। সে কিছু বলার আগেই নয়নতারা বলল,

" আরে!! ও আমেরিকান নয়! ও তো বাঙালী! শুধু এখানে সেটেল্ড এই আর কি! তোমাদের কী মনে হয়? আমি একটা বিদেশী মূলার সাথে বিয়ে করব?"

এপর্যায়ে সবাই হেসে উঠে। রাবেয়া বেগম বললেন,

"মাশাআল্লাহ! ছেলে কিন্তু ভালোই দেখতে রে অনিমা! নয়নতারার সাথে বেশ মানাবে!"

আজিম চৌধূরী বললেন,

" মানাবেই তো!বলেছিলাম না!! আমার আর অনিমার পছন্দ বলে কথা! এমনিতেও আমদের দু ভাইবোনের পছন্দ সবসময় বেস্ট হয়। কী বলিস অনিমা?"

অনিমা চৌধূরী হেসে বললেন,

" ঠিক বলেছো ভাইজান।"

সারজিস মুচকি হাসলো। নয়নতারাও একটু লজ্জা পেলো।

আদ্রিকা বলল,

" মামনী উনি তো দুপুরের খাবার এখানেই খাবেন নাকি!"

অনিমা চৌধূরী বললেন, "হ্যাঁ অবশ্যই!"

সারজিস আদ্রিকাকে বলল,

"ভাবি আপনার থেকে আমি অনেক ছোট বয়সে! আমাকে "আপনি" সম্বোধনের দরকার নেই। ছোট ভাই হিসেবে দেখুন আমায়।"

নয়নতারাও মত দিলো ," হ্যাঁ তাইতো!"

আদ্রিকা মুচকি হেসে মাথা নাড়ল।

এইবার হিমেল বলে উঠলো,

"আরে আমরা কি এভাবে ফরমালি কথা বলতে থাকব নাকি? এই যে সারজিস ভাই! চলুন তো বাগানে যাই। সেখানে আমরা আপনার সাথে একটু আলাপ করবো।কত প্লান আছে আমাদের!"

অনিমা চৌধূরী বললেন,

" হ্যাঁ হ্যাঁ তাই করো। সবাই একটু চেনা পরিচিত হও। আমাকে তাড়াতাড়ি সব গুছাতে হবে। বিকেলে আবার শপিং এ যেতে হবে তো। আর আদ্রিকা মা, তুমি একটু এসো আমার সাথে। তোমার সাহায্য লাগবে।"

" জ্বী অবশ্যই মামনী, চলো।"

রাবেয়া বেগম আজিম চৌধূরী কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

" ঘরে এসো তুমি । ফ্রেশ হয়ে নাও।"

________________

দুপুরে খাওয়া শেষে সবাই বেরিয়ে পরল। তবে রাবেয়া বেগম গেলেন না। তার নাকি ক্লান্ত লাগচ্ছে। আজিম চৌধূরীও যেতে চাইলো না। তাই শেষে শপিং এর জন্য অনিমা চৌধূরী, নয়নতারা,সারজিস, হিমেল গেলো এক গাড়িতে আর রামিসা, আয়ান, আদ্রিকা গেলো আরেক গাড়িতে। দুটো গাড়ি নিয়েই বেরিয়েছে তারা। কারণ যতগুলো শপিং ব্যাগ হবে! এক গাড়িতে জায়গা হবে না তো!

দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তাদের দুটো গাড়িই এসে থামে "Beverly Centre" এ। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার Los Angeles এ অবস্থিত অনেক বড় একটা শপিং মল। সব ধরনের কাপড় এখানে পাওয়া যায়। তাই অনিমা চৌধূরী এই শপিং মলটাই সিলেক্ট করেছেন।

ছেলেরা একসাথে এবং মেয়েরা একসাথে শপিং করতে শুরু করলো। সারজিস এবং নয়নতারার শপিং সবার শেষে করা হবে। সবাই যখন কাপড় পছন্দ করতে ব্যস্ত তখন আয়ান সবার আড়ালে আদ্রিকার কাছে আসে।

আদ্রিকার কানের কাছে গিয়ে বলে,

" তুমি শুধু বাড়িতে পরার জন্য সিম্পল কিছু টপস্, জামা, ওয়ান পিস নাও। আর সুন্দর দেখে কিছু গাউন নাও, যাতে সেটা পড়ে আমার সাথে আমেরিকার আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াতে পারো। এখানে তো তেমন সুন্দর শাড়ি পাবে না। তবে বিয়েতে পরার জন্য আমি তোমার জন্য বিশেষ কিছু রেখেছি।"

আদ্রিকা মাথা নাড়ালো, যার অর্থ সে আয়ানের কথা শুনবে।

সবার কেনাকাটা শেষ হলে সবাই একসাথে Bridal Collections এর দিকে যায়। প্রথমে নয়নতারার জন্য সুন্দর ব্রাইডাল গাউন পছন্দ করতে শুরু করে। আসলে আয়ান আর আদ্রিকা বাংলাদেশ থেকেই মেহেন্দী আর হলুদ অনুষ্ঠানের জন্য নয়নতারার জন্য খুব সুন্দর সুন্দর শাড়ি এবং অরনামেন্টস এনেছে। আসলে এই দেশে শাড়ি পাওয়া গেলেও তেমন ভালো মানের হয় না। এমনকি অনিমা চৌধূরী নিজেও তার পরনের শাড়ি বাংলাদেশ থেকে আনিয়ে নেন। তবে বিয়ের দিন অনুষ্ঠানে আমেরিকানসহ চেনা জানা অনেকে আসবে। এই কারনে বিয়ের দিনের পোশাক তারা এই দেশের কালচারেই নেবে।

____________________

অবশেষে অনেক যাচাই বাছাই করে নয়নতারার জন্য অনেক সুন্দর একটা বল গাউন পছন্দ করা হলো। একটি চমৎকার সাদা বলগাউন, যা রানীর মতোই আভিজাত্যে ভরা। পুরো গাউনটি চকচকে, সূক্ষ্ম পুঁতির কাজ এবং সিকুইন দিয়ে সজ্জিত। এর দীর্ঘ স্নিগ্ধ সিলুয়েটটি এমনভাবে নকশা করা, যা পরিধানকারীকে রাজকীয় সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক করে তুলে। গাউনটির বুকের অংশটি গভীর V-নেক ডিজাইনের, যা পুরো পোশাকের আভিজাত্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। লম্বা হাতার নেটের উপর সূক্ষ্ম লেস ও পুঁতির কাজ করা, যা হাতগুলিকে রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তোলে। গাউনটির কুঁচকানো স্কার্টটি একাধিক স্তরযুক্ত এবং জরি ও পুঁতির কাজ দিয়ে অলঙ্কৃত, যা আলোয় ঝলমল করে।

সাদা রংয়ের এই চমৎকার বলগাউনটি সবারই খুব পছন্দ হলো। একইরকম ভাবে সারজিসের জন্যেও কেনা হলো সাদা রঙের একটা উজ্জল এবং স্টাইলিশ ব্লেজার, যা ফিটিং-এর দিক থেকে নিখুঁত। ব্লেজারটি একটি কালো বো টাইয়ের সাথে পরতে হবে,যা সাদা ব্লেজারের সঙ্গে চমৎকার কনট্রাস্ট তৈরি করবে। পোশাকটির কালো প্যান্টটি স্ট্রেট কাট, যা পরিধানকারীর পুরো লুককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সক্ষম। চকচকে কালো জুতো এই ক্লাসিক লুকের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, যা পুরো পোশাকের আভিজাত্য ও সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলবে। যাক! মনের মতো হয়েছে পোশাকগুলো!!

সবকিছু ভেবে চিন্তে সন্তুষ্ট মনে সবাই শপিং মল থেকে বেরিয়ে এলো। শপিং করতে করতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে।সবাই যখন গাড়িতে ওঠার জন্য ব্যস্ত ,তখন হঠাৎ করে আয়ান বলে উঠলো,

" আ..রামিসা তুই মামনীদের গাড়িতে চলে যা। আমার আর তোর ভাবির একটু কাজ আছে।"

রামিসা আর নয়নতারা না বুঝলেও হিমেল আর সারজিস যেনো বিষয়টা বুঝতে পেরে মিটিমিটি হাসলো! অনিমা চৌধূরীও বুঝলেন। তাই তো? ওদের একটু স্পেস দেয়াটা দরকার।

অনিমা চৌধূরী বললেন,

" হ্যাঁ হ্যাঁ ভালো কথা। আর আয়ান, পারলে ডিনার করেই বাড়িতে আসিস। আদ্রিকা তো ঘোরাঘুরি করার সুযোগটাই পেলো না। কাল তো আবার মেহেন্দী। আরো ব্যস্ত হয়ে যাবে। তার থেকে তোরা একটু ঘুরাঘুরি করে আয়।"

আয়ান মাথা নাড়ালো।

আর আদ্রিকা মনে মনে বলল,

" একটুও লজ্জা নেই! উহু! একটুও নেই!"

___________________

আয়ান মনের সুখে ড্রাইভ করচ্ছে আর আড়চোখে বারবার আদ্রিকাকে দেখচ্ছে। মেয়েটা সকাল থেকে তার সাথে কথাই বলচ্ছেনা! যদিও সে জানে যে মেয়ে আসলে লজ্জায় হাঁসফাঁস করচ্ছে! তাও শুধু একটা রাত আ'দ'র করাতে সকাল থেকে চোখ তুলেই তাকাচ্ছে না!! এটা কেমন কথা? এমন হলে তো আয়ান আর আদ্রিকাকে ছোঁবেও না! যাই হোক এই মেয়ের আগে লজ্জা টা ভালো করেই ভাঙাবে বলে মনে মনে পণ করলো আয়ান। একটু পর আয়ান জিজ্ঞেস করলো,

" কোথায় নিয়ে যাচ্ছি জিজ্ঞেস করবে না?"

আদ্রিকা একবার গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বলে,

" নিশ্চয়ই কোনো চমৎকার জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন!"

আয়ান মাথা দুলিয়ে বলল, "ঠিক বলেছো।"

একটু পরে আয়ান বলে উঠলো,

"আদ্রিকা একটু বাম দিকে জানালা দিয়ে বাইরে দেখো।"

আদ্রিকা তার কথামতো বাইরে তাকালো।

আয়ান বলল,

"ঐ যে দেখচ্ছো একটা বিশাল বিল্ডিং ..."

" এটা তো কোনো প্রতিষ্ঠান মনে হচ্ছে।"

আয়ান মাথা দুলিয়ে বলল,

" হ্যাঁ এটা "University of California, Berkeley"। আমি এখানেই Economics এ পড়াশোনা শেষ করেছিলাম।"

আদ্রিকা অবাক হয়ে বলল,

"আপনি এখান থেকেই পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন!"

" জ্বী হ্যাঁ। "

আদ্রিকা আবারো তাকালো সেই দিকে। ভার্সিটি টা চমৎকার মনে হচ্ছে!

___________________

"Bombay Garden" রেস্টুরেন্টে পা রাখার সাথে সাথেই আয়ান আদ্রিকার মন যেন নতুন এক আবেশে ভরে উঠলো। রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরে ঢুকে তাদের চোখে পড়লো নরম আলোয় ভেসে থাকা একটি সুন্দর সাজানো পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি টেবিলেই রোমান্টিকতার এক মোহনীয় ছোঁয়া। মৃদু বাঙালি সঙ্গীতের সুরে যেন একটি মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

আদ্রিকা চারপাশে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেল, তার চোখে একটা কোমল উজ্জ্বলতা খেলে গেলো। আয়ান তার দৃষ্টি লক্ষ্য করলো, এবং তার হৃদয় যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। আদ্রিকার হাসিতে তার চারপাশ যেন আলোকিত হয়ে উঠলো। রেস্টুরেন্টের একপাশে একাধিক ঝাড়বাতি ঝুলছে, যেগুলো রঙিন কাচের ভেতর দিয়ে আলো ছড়াচ্ছে, আর তা আদ্রিকার মুখের উপর পরতেই তার চেহারায় এক স্বর্গীয় আভা নিয়ে আসছে।

আয়ান আদ্রিকার হাত ধরে মৃদু স্বরে বলল,

" পছন্দ হয়েছে?"

আদ্রিকা খুশিমনে বলল,

"অনেক! খুব সুন্দর জায়গাটা!"

আয়ান বলল,

"এখানে বাঙালি খাবার পাওয়া যায় বুঝলে। হালকা কিছু খেয়ে নিই।তারপর তোমায় আরো একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবো।"

তারা টেবিলে বসলে, আয়ান আদ্রিকার দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে রইল, যেন এই মুহূর্তটা চিরকাল ধরে রাখতে চায়।

টেবিলের উপরে রাখা মোমের আলো দুজনের মুখের উপর আলো-ছায়ার খেলা করছে, আর তারা নিজেদের চারপাশের জগত ভুলে একে অপরের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

আকাশের নীচে রেস্টুরেন্টের কাঁচের জানালার বাইরে দেখতে পাওয়া সূর্যাস্তের রঙ যেন তাদের মনের গভীরে এক ধরনের উষ্ণতা এনে দেয়।

আয়ান মেনু হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

"কী খাবে তুমি?"

আদ্রিকা কিছুক্ষণ মেনুর দিকে তাকিয়ে থেকে একটু লাজুক হেসে বলল,

"আপনার যেটা পছন্দ ।"

আয়ান মেনুর পাতা উল্টাতে উল্টাতে কয়েকটি বিশেষ বাঙালি খাবার অর্ডার করলো।

খাওয়া শুরু হতেই প্রথমে তাদের সামনে আসলো গরম তন্দুরি রুটি আর মাখা মাখা বাটার চিকেন। আয়ান খাওয়া শুরু করার আগে একটি রুটি তুলে আদ্রিকার প্লেটে দিল, চিকেন পিসও কেটে সযত্নে তুলে দিলো, যেন আদ্রিকা ছোট একটা বাচ্চা!

আদ্রিকা একটু মুচকি হেসে বলল,

"আপনি সবসময়ই এতো যত্নশীল কেন?"

আয়ান একটু হেসে বলল,

" তোমার থেকে শিখেছি।"

আদ্রিকা মুগ্ধ চোখে চুপচাপ তাকিয়ে রইলো আয়ানের দিকে! তার চোখে এক ধরনের গভীর অনুভূতি খেলে যায়, যেন সে এই মুহূর্তগুলোকে হৃদয়ে খোদাই করে রাখতে চায়। মানুষটা হঠাৎ করেই বদলে গেলো! হঠাৎ করে যেমন আদ্রিকার হৃদয় কোঠরে শক্তপক্ত একটা জায়গা করে নিয়েছিলো! ঠিক তেমন করেই!

আয়ান আদ্রিকার এমন দৃষ্টি দেখে তার হাতটা আলতো করে ছুঁয়ে বলে,

"তুমি ঠিক আছো তো?"

আদ্রিকা একটু মৃদু হাসি দিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে বলে,

" আপনি অনেক ভালো । "

আয়ান আরেকবার চিকেন পিস কাটতে কাটতে দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল,

"সেকি! সকালে যে বললে আমি আগেই ভালো ছিলাম!"

আদ্রিকার হুঁশ এলো! তৎক্ষনাত চোখ বড় করে তাকালো আয়ানের দিকে! এ কাকে কী বলছে সে! ইনি তো আগের মতো ভদ্র নেই! আদ্রিকার এমন দৃষ্টিতে আয়ান ফিক করে হেসে ফেলল!! আর এক পিস চিকেন আদ্রিকার মুখে তুলে দিলো। এরপর নিজেও নিলো।

__________________

ড্রয়িং রুমে বিয়ের সমস্ত শপিং ব্যাগ গুছিয়ে রামিসা আর নয়নতারা বড় করে এক শ্বাস নিলো। হিমেল আর সারজিস সোফায় বসে পা দুলিয়ে এতক্ষণ ধরে রামিসা এবং নয়নতারার কাজকর্ম দেখে যাচ্ছিল। তাদেরকে এরকম বড় শ্বাস নিতে দেখে হিমেল বলে উঠলো,

" কী ব্যাপার? এটুকুতেই দম শেষ?"

রামিসা মুখ কুচকে বলল ,

"আপনি এসবের কী বুঝবেন? কত বড় বড় ভারী ভারী জামাকাপড় দেখেছেন? আবার নয়নতারা আপুর তো আরো অনেক বেশি ভারী ড্রেস!! এগুলা গুছানো কম কথা নাকি??"

ডান হাতে কপালের ঘাম মুছে নয়নতারা এবার বলে উঠলো,

" আরে বাদ দে রে রামিসা! কাদেরকে কী বলছিস তুই? এরা তো শুধু বসে বসে পায়ের উপর পা তুলে খেতে জানে আর ঘুমোতে জানে! আসলে আমাদেরই উচিত ছিল ওদের জামা কাপড় গুলো ওদেরকে গুছোতে দেওয়া। তাহলে মজা বুঝতো!"

রামিসা টেনে টেনে বলল,

"ঠিকই বলেছো আপু। তবে আমাদের তো আবার দয়ার সাগর! এই জন্য ওদের জামা কাপড়গুলো গুছিয়ে দিলাম। কি আর করার!"

এতক্ষণ সারজিস চুপ করে থাকলেও এবার রামিসা কে উদ্দেশ্য করে বলল,

" শালিকা, কথাটা ভুল বললে! তোমরা তো শুধুমাত্র এখন গোছানোর সময় পরিশ্রম করছ, আর আমরা যে শপিংমলে তোমাদের সমস্ত বড় বড় ভারি ভারি ব্যাগ গুলো কাঁধে করে বয়ে নিয়ে আসলাম!! সেটা?"

নয়নতারা বলল,

"এটা তোমাদের জন্মগত দায়িত্ব বুঝলে।" বলে হিমেল এবং সারজিসের হাতে তাদের ব্যাগগুলো ধরিয়ে দিল।

রামিসা বলল,

" আপু, ভাবি আর ভাইয়ার জামাকাপড়ের ব্যাগগুলো আমি ওদের রুমে রেখে আসি।"

নয়নতারা বলল,

" হ্যাঁ, তাই করো। বিছানার পাশেই রেখো। পরে ভাবি এসে গুছিয়ে রাখবে।"

রামিসা মাথা নাড়িয়ে দুই হাত ভর্তি ব্যাগ নিয়ে উপরে উঠে গেল। কিন্তু বেখেয়ালে নিজের ফোনটা ড্রয়িং রুমের টেবিলে রেখে গেল।

সারজিস মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,

" অনেক ধকল গেলো আমার উপর দিয়ে! চলো হিমেল আমরা একটা জবোরদস্ত ঘুম দিই।"

নয়নতারা শুনে মুখ ভেংচালো। এরপর বলল,

"আজ্ঞে না। এখন রুমে গিয়ে আগে ফ্রেশ হয়ে নাও। ডিনার করে ঘুমিও।আমি দেখি মম আর মামীকে ডেকে আনি।"

সারজিস এবং নয়নতারা তাদের ব্যাগগুলো হাতে নিয়ে নিজ ঘরে পা বাড়ালো। নয়নতারা যাওয়ার সময় বলে গেল,

"হিমেল, তুমিও ফ্রেশ হয়ে নাও। একটু পরে ডিনার করতে হবে। তারপরে বিশ্রাম নিও।"

হিমেল মাথা ঝাঁকালো।

সবাই চলে গেলে হিমেল নিজেও তার ঘরের দিকে পা বাড়াতে গেলে চোখ গেল ড্রয়িং রুমের টেবিলে থাকা ফোনের উপর। হিমেল ফোনটা হাতে নিল। উল্টে পাল্টে দেখলো, ফোনের কভারে বিটিএস জাঙ্কুক এর ছবি দেওয়া।

হিমেল নাক কুচকে বলল,

"এই ফোন নিশ্চয়ই ওই পটলের নানীর! সে ছাড়া তো কেউ এখানে বিটিএস Army নয়!"

হিমেল ফোনটা নিয়ে পা বাড়াতে গেলে ফোন থেকে কল রিংটোন বেজে উঠে। হিমেল কৌতুহলবসত দেখলো যে, কে কল করেছে। কিন্তু আজব ব্যাপার হলো কলটা ইমো থেকে আসছে আর নাম্বারটা শুধুমাত্র লাভ ইমোজি দিয়ে সেভ করা। হিমেলের কুচকানো ভ্রু আরো কুচকে গেলো।

ব্যাপারটা কী? লাভ ইমোজি কেনো? গোয়েন্দাগিরি করার উদ্দেশ্যে হিমেল অনুমতি না নিয়েই রামিসার কলটি ধরল।

তক্ষুনি অপরপ্রান্ত থেকে বলতে শোনা গেল,

" কী ব্যাপার জান? কতবার করে কল করেছি! কল ধরছো না কেন? আজ বিকালে ভিডিও কল দিবে বলেছিলে। কল দিয়েছো?"

হিমেলের চোখটা বড় বড় হয়ে গেল। সে এভাবেই বলল,

" কে বলছেন?"

অপরিচিত কন্ঠস্বরে অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি ফোন কেটে দিল। হিমেল অবাক হয়ে গেলো। কারণ তার কেনো জানি কন্ঠটা খুব চেনা চেনা লাগচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা লোকটা রামিসা কে 'জান' বলে সম্বোধন করেছে! আর কিছু না ভেবেই হিমেল কন্টাক্ট লিস্টে গিয়ে সেই ব্যক্তির নাম্বারটা ভালো করে দেখলো। কেন যেন চেনা চেনা লাগছে খুব!

চোখ বন্ধ করে অনেক চিন্তাভাবনা করার পর হিমেল যখন বুঝতে পারল এই নাম্বারটি কার, তখন তার চোখ ফটাফট খুলে ফেলল। কিছু একটা ভেবে সে তার কপালে আঙুল ঘষে বিড়বিড় করে বলল,

"সাব্বাশ! অসাধারণ! এরা দুই ভাই-বোনের তো দেখচ্ছি চকচক করা সোনার প্রতি বেশি আকর্ষণ। খুঁজে খুঁজে সব হা'রা'মি, মাকাল ফল কেই এরা পছন্দ করে! দুটোই এক! কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই!" বলেই হিমেল বড় বড় পায়ে রামিসার ঘরের দিকে পা বাড়ালো।

_____________________

আয়ান আর আদ্রিকা খাওয়ার পরে ডেজার্ট হিসেবে তারা মিষ্টি মিষ্টি গুলাব জামুন আর কুলফি খেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে।

গাড়ির কাছে এসে আদ্রিকা বলে উঠল,

"আজকের রাতটা বিশেষ মনে হচ্ছে, তাই না?"

আয়ান একটু হাসি দিয়ে বলে,

"বিশেষ তো হবেই, কারণ আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটার সাথে এখানে আছি। এর থেকে সুন্দর বিশেষ আর কি হতে পারে!"

আদ্রিকা একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

" আমরা কি এখন বাড়ি ফিরব?"

" এখনি? আরো কত কাজ বাকি আছে জানো! এখন তোমাকে আরেকটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাবো।"

আদ্রিকা অবাক হয়ে বলল, " আরোও???"

আয়ান মাথা নেড়ে বলল,

" Yeh to trailer hai! Picture abhi bhi baki hai mere patni !"

( এটাতো ট্রেইলার ছিলো, সিনেমা তো এখনো বাকি আছে আমার বউ!)

চলবে......................

🌼বি:দ্র: প্রিয় পাঠকগণ,💝 আজ কিন্তু অনেক বড় পর্ব দিয়েছি 🙃❤ আয়ান, আদ্রিকা কে নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে হিমেল আর রামিসার রসায়নটা এগোতেই পারছিলাম না, মাথায় আসছিল না কীভাবে এদের দুজনের গল্প এগিয়ে নেবো! এই কারণে রামিসা এবং হিমেল এর মধ্যে একটা প্যাচ ধরিয়ে দিলাম🙂👀 এইবার এদের কাহিনী আগানো যাবে।💃

এখন থেকে প্রত্যেকটা চরিত্রে সমান সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। আর হ্যাঁ, রিচেইক দেওয়া হয়নি, ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং লেখনীতে ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন💝

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন