#তোর_ছোঁয়ায়_ফাগুন
#পর্ব_২৭
#লেখিকা_অনামিকা_তাহসিন_রোজা
বউয়ের ভয়াবহ হুমকি পেয়ে আয়ান একদম চুপসে গেছে! বাপরে বাপ! তার বউয়ের কত ভয়ানক একটা হুমকি! ঠোঁটে নাকি আগুন ধরিয়ে দেবে! আদ্রিকার কোনো হুমকিতেই আয়ান ভয় না পেলেও, ঠোঁটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হুমকিতে সে ভয় পেয়ে নেতিয়ে গেছে। কারণ ঠোঁটে আগুন ধরিয়ে দিলে সে তার বউকে চুমু খাবে কীভাবে? ইহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ! ইহা ছাড়া তার জীবন-যৌবন সবই বৃথা! বউকে চুমু খাওয়ার ঠোঁটটা বাঁচাতে তখন থেকে আয়ান ভদ্র ছেলের মতো আদ্রিকার পিছে পিছে চুপচাপ ঘুরচ্ছে আর আদ্রিকা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিচ্ছে।
আদ্রিকা কসমেটিক্স এর দোকানে ঢোকার আগে আদেশের সুরে আয়ানকে বলল,
"আপনি এর মধ্যেই অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছেন! হয়তোবা ২০-৩০ হাজার টাকা পার হয়ে গেছে! তাই কসমেটিক্স কেনার সময় আপনি খবরদার একটা কথাও বলবেন না! আমি আমার যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু কিনবো।"
আয়ান ভদ্র বাচ্চার মতো ঠোঁটে আঙুল রেখে মাথা দোলালো, যার অর্থ সে কথা বলবে না। যেভাবেই হোক! ঠোঁটটা তো বাঁচাতে হবে!
প্রথম ১০মিনিট আয়ান চুপ থাকায় সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও আদ্রিকা যখন লিপস্টিক পছন্দ করচ্ছিলো তখন আয়ান মিনমিন করে টেনে বলে উঠলো,
" ব..উউউ!!! একটা কথা বলি?"
ড্রাগন ফলের কালারের লিপস্টিক টা আদ্রিকা অনেক দিন ধরেই খুঁজচ্ছিলো। এই দোকানে এই কালারের লিপস্টিক পেয়ে আদ্রিকা খুবই খুশি। খুশির জোরে আদ্রিকা ভুলেই গেলো আয়ানের কথা বলা মানেই অ'শ'ভ্য'তামির গোডাউন।তাই হুঁশ হারিয়ে আয়ানকে খুশি মনেই বলে উঠলো,
" হুম বলুন।"
আয়ান যেনো খুবই খুশি হলো। খুশি মনেই উৎফুল্লে গদগদ হয়ে আদ্রিকাকে বলল,
" আচ্ছা বউ! শুনেছি, এখন লিপস্টিক নাকি চকলেট ফ্লেভারের পাওয়া যায়? যেটা থেকে একদম আসল চকলেটের ঘ্রাণ আসে।"
আদ্রিকা লিপস্টিক গুলো নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতেই জবাব দিলো,
" হ্যাঁ যায় তো। অনেক ফ্লেভারেরই পাওয়া যায়।"
আয়ান বলল,
" বাহ্ গ্রেট! তাহলে তুমি চটপট চকলেট ফ্লেভার আর স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কয়েকটা লিপস্টিক নিয়ে নাও তো।"
আদ্রিকা এইবার ভ্রু কুচকে বলল,
" কেনো?"
আয়ান গুরুতর ভঙ্গিতে বলল,
" আমি আসলে জিনিসটা চেখে দেখতে চাই বুঝলে। যদিও তোমার ঠোঁট আমার কাছে এমনিতেই চকলেটের মতো লাগে। তাও সেই ঠোঁটে চুমু খাওয়ার সময় একদম আসল চকলেটের ফ্লেভার পেলে মন্দ হয় না! "
আদ্রিকা অসহায় চোখে তাকালো আয়ান নামক মানুষটির দিকে। তার এইবার ইচ্ছা করলো নিজেরই ঠোঁটে আগুন লাগাতে! এই লোককে নিয়ে সে কোথায় যাবে? এতকিছু বলার পরেও আবার উল্টোবাল্টা কথা বলেই যাচ্ছে! এই দিকে আয়ানের কোনো হেলদোল নেই। সে দিব্যি মাথা উঠিয়ে চকলেট ফ্লেভারের বেস্ট লিপস্টিকটা খুঁজছে! আয়ানের এমন ইনোসেন্ট ভাব দেখে আদ্রিকাও আর কিছু বলতে পরলো না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে চকলেট, স্ট্রবেরি আর অরেঞ্জ ফ্লেভারের ৩ টা লিপস্টিক নিয়ে নিলো। তাকে অরেঞ্জ ফ্লেভার নিতে দেখে আয়ান তো মহাখুশি। খুশিতে সে বলে উঠলো,
" বাহ্!! এই ফ্লেভারও আছে! নাইস ওয়ান!"
_____________________________
শপিং শেষে আয়ান আর আদ্রিকা মাত্রই লিফটের কাছে আসচ্ছে। এরই মধ্যে আয়ান বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে আদ্রিকার সাথে আলোচনা করচ্ছে। আয়ান ও আদ্রিকার কথা বলার মাঝেই হঠাৎ আদ্রিকা থমকে দাঁড়ালো। তার চোখ স্থবির হয়ে সামনের দিকে স্থির রইলো। আয়ান আদ্রিকার এমন থমকে হয়ে যাওয়া দেখে বলে উঠলো,
"কী হলো বউ ? কী হয়েছে তো...."
আদ্রিকা দৃষ্টি অনুসরণ করে সামনে তাকতেই আয়ানেরও কথা বন্ধ হয়ে গেলো। মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ হয়ে গেলো।
সামনে ঈশানের বাহু জড়িয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ফারজানা!!!!! আজ এতোগুলো দিন পর এভাবে এখানে ফারজানাকে আশা করেনি আয়ান আর আদ্রিকা!!! একে অপরের আচমকা আগমনে চার জনই স্তব্ধ!!! সবচেয়ে বেশি স্তব্ধ আদ্রিকা! আজ এতোদিন পর আবারো সেই অতীতগুলো মস্তিষ্কে নাড়া দিয়ে উঠলো তার!! আয়ানের অসম্মতিতে বিয়ে, বাসররাতে ঘরের বাইরে কাটানো, আয়ানের অবহেলা, ফারজানার করা অপমান সবকিছু সাদাকালো স্মৃতিতে মস্তিষ্কে ভেসে উঠচ্ছে আদ্রিকার! আয়ান হতভম্ব হয়ে ফারজানার থেকে চোখ ফিরিয়ে অসহায় চোখে আদ্রিকার দিকে তাকায়। আদ্রিকা আয়ানের দিকে তাকিয়ে আয়ানের তাকানোর ভাব দেখে একটু ফিচেল হাসে, যার অর্থ সে একদম ঠিক আছে।
ফারজানার সাথে কথা বলা তো দূরের কথা তার মুখোমুখি হওয়ারও কোনো ইচ্ছা নেই আয়ানের। সে শক্ত করে আদ্রিকার হাত ধরে এগোতে থাকে। আদ্রিকাও নির্লিপ্তে হাঁটতে থাকে। তাদের ফারজানাকে পার করার সময় হঠাৎ ফারজানা তাচ্ছিল্যে বলে উঠে,
" আজকাল মানুষ সেকেন্ড হ্যান্ড ইউজ করেও ভালোই সুখী থাকতে পারচ্ছে! তাই না ঈশান ?"
ঈশানও হেসে বলে, " ঠিকই বলেছো জান।"
এরকম জঘন্য নোংরা সম্বোধন শুনে আয়ান থমকে দাঁড়ায়! কিন্তু পিছু ঘুরে না। চোয়াল শক্ত হয়ে আসে, মস্তিষ্কে আগুন জ্বলতে থাকে তার! আজ ফারজানা মেয়ে না হলে আয়ান তার মুখ ভেঙে দিতো! এখনো সে অনেক কিছুই বলতে পারে! কিন্তু ফারজানার সাথে কথা বলতেও ঘৃণা হচ্ছে তার! আয়ান হঠাৎ খেয়াল করে তার হাতের মুঠোয় থাকা আদ্রিকার হাতের বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আদ্রিকা আয়ানের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে ফারজানার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। আয়ানও আদ্রিকাকে অনুসরণ করে পিছে ঘুরে। আদ্রিকার মুখভঙ্গি দেখে অবাক হয় আয়ান! সে কখনোই আগে এমন আদ্রিকার এমন কঠোর চেহারার মুখোমুখি হয়নি! আয়ান যখন অবাক হয়ে আদ্রিকার দিকে তাকিয়ে, তখন আদ্রিকার কঠোর চাউনীতে ফারজানা ও ঈশানও একটু ভ্রু কুচকালো। ঈশান একটু ব্যাঙ্গ করে বলল,
" কী ম্যাডাম? কী দেখচ্ছেন এভাবে? সমস্যা নেই ম্যাডাম। আজকাল সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসও ভালোই সার্ভিস দেয়।"
বলেই ঈশান আর ফারজানা একসাথে হেসে উঠলো।
তাদের হেসে উঠতে দেরী, আদ্রিকার তেড়ে এসে ঈশানের গালে চড় মারতে দেরি হয়না! আদ্রিকার নরম হাতের এত্ত শক্ত একটা চড় খেয়ে ঈশানের মাথা ঘুড়ার মতো অবস্থা! গালে হাত রেখে সে অবাক হয়ে তাকায় আদ্রিকার দিকে। আয়ানও অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছে গেলো! আদ্রিকা চড় মারতেও জানে! আদ্রিকার চোখ দিয়ে যেনো আগুন ঝরচ্ছে! সে তো পারলে ঈশানকে কেটে টুকরো টুকরো করে পদ্মায় ভাসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে!
ফারজানা রেগে বলে উঠলো,
" How dare you !!" বলেই আদ্রিকাকে থাপ্পড় মারতে পাল্টা হাত উঠলে আদ্রিকা খপ করে তার হাতটা ধরে ঘুরিয়ে ফারজানার পিঠে মুচড়ে ধরে! ফারজানা ব্যাথায় কুকিয়ে উঠলো। আদ্রিকা শক্ত চোখে তাকায় ফারজানার দিকে!
আয়ানের এইবার মনে হলো সে সপ্ন দেখচ্ছে! এ সে কাকে দেখ্চ্ছে? এটা আদ্রিকা? এটা সেই আদ্রিকা? যে তার ভয়ে আগে থরথর করে কাঁপতো! এটাই !এটা কীভাবে সম্ভব?
আদ্রিকা চোয়াল শক্ত করে ফারজানা হাতটা মুচড়ে ধরেই দাঁত চেপে বলল,
" আরেকটা অহেতুক ফালতু কথা বললে একদম জিভ টেনে ছিঁ'ড়ে ফেলবো! অনেক নাটক দেখেছি তোর! আরে! তোর মতো দু'টাকার মেয়েকে ঝেটিয়ে বিদায় করা আমার বাম হাতের কানি আঙুলের খেলা ছিলো বুঝলি! কী মনে করেছিলি আমকে? হ্যাঁ?? "
আদ্রিকার এমন আচরনে ফারজানা অবাক! তার জানামতে তো আদ্রিকা খুবই ভদ্র, সুশীল, নরম একটা মেয়ে টিলো! হঠাৎ করেই সে এমন চন্ডী রূপ কোথা থেকে পেলো? আদ্রিকাকে দেখে এইবার ফারজানারও ভয় লাগতে শরু কলো! আর আয়ান তো হা করে তাকিয়েই রয়েছে! এটা কি তার সেই মিষ্টি বউটা, যার ঠোঁটে লিপস্টিক পড়িয়ে সে লিপস্টিক খাওয়ার কথা ভাবচ্ছিলো !
আদ্রিকা ফারজানার হাতটা আরেকটু শক্ত করে ধরে আবারো বলে উঠলো,
" ঐ দিনগুলোতে আমি ইচ্ছে করেই নীরব ছিলাম। ইচ্ছে করেই সব সহ্য করেছিলাম। কেনো জানিস? ঐ মানুষটার জন্য।( আয়ানের দিকে আঙুলের ইশারা করে) শুধুমাত্র ঐ মানুষটার দিকে তাকিয়ে, ঐ মানুষটার কথা ভেবে, ঐ মানুষটার ভালোবাসার কথা ভেবে আমি চুপ করে সব সহ্য করে গিয়েছি! নাহলে তোকে শায়েস্তা করাটা আমার পক্ষে খুব একটা কঠিন কাজ ছিলো না! আমি ওনাকে ভালবাসি! খুব বেশি ভালোবাসি! এইজন্য ওনার ভালোবাসাকেও সম্মান করি। উনি তো তোকে সত্যিই ভালোবাসতো। আর ঠিক এই কারনেই আমি তোকে ঐ সময় গুলোতে কিছু বলিনি বা বলতে পারিনি। তোকে কিছু করলে উনি কষ্ট পেতো তাই। ওনার কথা ভেবে সব কিছু সহ্য করে যেতাম। কিন্তু শেষে তুই কী করলি? ওনার সাথে প্রতারণা করলি! ঠকালি ওনাকে? শুধুমাত্র টাকার লোভে মিথ্যে ভালোবাসার নাটক করলি উনার সাথে?"
আদ্রিকার শেষের এই কথাগুলোয় টনক নড়লো আয়ানের! তারমানে আদ্রিকা জানতো যে সে প্রতারিত হয়েছে! সবকিছু জানতো ও? কই? কখনো তো এসব বিষয় নিয়ে কথা তুলে নি! তাকে খোঁটা দেয় নি!
আদ্রিকা ঝট করে ফারজানার হাতটা ঝেরে ফারজানার থেকে সরে আসলো। তারপর তর্জনী উঁচিয়ে বলল,
" একটা কথা তোদের এই নর্দমার ন্যায় ঘটে ঢুকিয়ে রাখ! পাপ বাপকেও ছাড়ে না! প্রকৃতির নিয়ম আছে! সেই অনুযায়ী তোরা তোদের পাপের শাস্তি ঠিকই সময় মতো পেয়ে যাবি। আমি বিশ্বাস করি এটা। তাই তোরা এভাবে উড়তে পারচ্ছিস! নাহলে তোদের কে উধাও করতেও আমার সময় লাগতো না! মাইন্ড ইট! আর আমি চাইলে তোদের শাস্তিও দিতে পারতাম, কিন্তু আমার মনে হয়, আমাদের ভালো থাকা, সুখী থাকাটাই হবে তোদের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি! তোর গায়ে হাত তুলতেও ঘৃনা লাগচ্ছে,না হলে দুটো থাপ্পড় মারতাম!"
বলেই আদ্রিকা গটগট করে হেঁটে এসে আয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে আয়ানের বাহু জড়িয়ে ধরে বলে,
"চলুন যাই। দেরি হয়ে যাচ্ছে। "
বলেই উল্টো দিকে পা বাড়ালো! আয়ানও পুতুলের ন্যায় আদ্রিকার সাথে পা মেলালো। কিন্তু তার বিস্ময়ে হতবাক হয়ে থাকা চোখ দুটো এখনো আদ্রিকাতেই আবদ্ধ !
_______________________________
গাড়ির কাছে এসে আদ্রিকা গাড়িতে উঠতে গিয়েও আয়ানের চাউনী দেখে উঠলো না।
" এভাবে কী দেখচ্ছেন ??"
আয়ান একইভাবে বলল,
" আদ্রিকা তুমি......."
আদ্রিকা ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলে বলল,
" হ্যাঁ আমি জানি। সব জানি। হিমেল আমাকে সব জানিয়েছিলো। আয়ান, আমি আপনাকে ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি আপনাকে। এই কারনে আপনার ভালোবাসাকেও অনেক সম্মান করি। বিশ্বাস করুন, আপনি যে ফারজানাকে ভালোবেসেছিলেন, তাতে আমার বিন্দুমাত্র কষ্ট নেই। কারন ঐ ঘুরে ফিরে আপনার ভাগ্যে তো এই আমারই নাম লিখা! ভাগ্যের লিখন খন্ডানো যায়না! আমার রাগ কোথায় জানেন? আপনার সাথে ফারজানার করা প্রতারণায়! সে তো অভাগী! আপনার ভালোবাসা পেয়েও ধরে রাখতে পারেনি! আর আমি সেই ভাগ্যবতী যার ভাগ্যে আগে থেকেই আপনার নাম খোদাই করা রয়েছে!"
আয়ান তৎক্ষনাত আদ্রিকার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দিয়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো তাকে! আদ্রিকাও তাকে দুহাতে আগলে নিয়ে আবেশে চোখ বুঁজলো! কিছুক্ষণ পর আদ্রিকা ঘাড়ে ভেজা ভেজা উষ্ণতা অনুভব করলো। আদ্রিকা তাকে সরাতে চাইলে আয়ান আরো শক্ত করে তাকে ধরলো! হয়তো চোখের পানিটা আদ্রিকার থেকে আড়াল করতে চাইছে! আদ্রিকাও আর জোর না করে করুণ কন্ঠে বলল,
"আপনি কাঁদছেন ???"
আয়ান তার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে ওভাবেই বলল,
" আমি জীবনে নিশ্চয়ই কোনো ভালো কাজ করেছি আদ্রিকা। এ জীবনে নিশ্চয়ই আমার কোনো বড় ধরনের পুণ্য আছে। যার উপহারস্বরুপ আমি তোমায় পেয়েছি। আমি ভাগ্যবান! ভালোবাসি তোমায়! খুব বেশি ভালোবাসি বউ! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান পুরুষ আমি!"
আদ্রিকা ঠোঁট প্রসারিত করে হেসে বলল,
"আর আমি ভাগ্যবতী নারী!"
চলবে.....................