ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিবাহ সমাচার

৩য় পর্ব

লেখক: মিশকা মুন

#বিবাহ_সমাচার

#মিশকা_মুন{লেখনীতে}

|৩|

১২.

কথা চৌধুরী ছোট ছেলের সাথে বসে সাদি ডট কম এ বড় ছেলের জন্য মেয়ে দেখছে। দীর্ঘ এক ঘন্টা যাবত মেয়ে একশোটা মেয়ে দেখার পরেও একটাও পছন্দ হলো না। রেগে ছোট ছেলের মাথায় একটা থাব্রা মেরে বললেন,

"একটাও পছন্দ হয়না কেন ভালো দেখে মাইয়া দেখা।"

সংগ্রাম নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে। মাকে আশ্বাস দিয়ে বলল,

"আম্মা এখনই পাওয়া যাবে একটু দাঁড়ান।"

কথা চৌধুরী বিরক্ত হলেন মুখ ভেঙিয়ে বললেন,

"এতো সময় বসে ছিলাম পেলি না আর আমি দাঁড়ালেই মেয়ে পেয়ে যাবি??"

দ্বিতীয় থাব্রাটা সংগ্রাম নিজেই নিজের মাথার উপর মারলো। অতঃপর আবার মেয়ে দেখতে শুরু করল। হুট করে একটা বায়োডাটা দেখে পছন্দ হতেই মায়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

"আম্মা এটা দেখেন।"

কথা চৌধুরী ছেলের হাত থেকে ফোন নিলেন। পাত্রী ছবি দেখতেই সাথে সাথে পছন্দ করে ফেললেন। ছেলের দিকে একবার হাসি মুখে তাকিয়ে জোরে জোরে বায়োডাটা পড়লেন,

নাম: সোহানা আক্তার ইভা।"

"হাইট:৫.৪।"

"বয়স: ১৮।"

ফোন নাম্বার: ০১৯৯...............!!

ঠিকানা:........!!

পড়া শেষ হতেই সংগ্রাম নাম্বার আর ছবিটা ফোনে সেভ করে নিলো। অতঃপর মা ছেলে একে অপরের সাথে হাইফাইভ দিয়ে বলল,

"এবার বিয়ে না করে কই যাইবা চান্দু,জয় বাংলা!"

১৩.

স্বাধীন ইঞ্জিনিয়ার। বেশি দিন হয়নি অফিসে জয়েন করেছে তবুও কাজের শেষ নেই। এই যে ছুটির দিনেও বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছে। একটানা অনেকক্ষণ ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকায় মাথা ব্যথা করছিল। মায়ের থেকে চা চেয়েছে তাও এক ঘন্টা আগে। তবুও তাঁর কোনো খবর নেই। বিরক্ত নিয়ে আরেকবার ডাকতে যাবে তখনই এক বন্ধুর কল এলো। স্বাধীন কল রিসিভ করে কানে ধরতেই সে বলল,

"দোস্ত দ্বিতীয় সন্তান ডান"

"আলহামদুলিল্লাহ কংগ্রাচুলেশনস দোস্ত।"

"শোন আজকে তোর বাসায় মিষ্টি নিয়ে আসতাছি।"

কথাটা শুনেই স্বাধীন গম্ভীর হয়ে গেলো। সে বাড়িতে আসা মানেই তার মা ভাইয়ের পাগলামিতে ফোড়ন কাটা। কিন্তু একটা মানুষকে কি সরাসরি নিষেধ করা যায়? বলল,

"তুই আসবি?"

"হুম আসব এইতো বের হবো। এখন বল তোর সুখবর কবে শুনব?"

স্বাধীন এসব কথা শুনলেই বিরক্ত হয়। তার মতে, বিয়ে করে তার সুখের জীবনে অশান্তি টেনে আনার কি দরকার? এভাবেই তো বেশ ভালো আছে। তাকে চুপ থাকতে দেখেই তার বন্ধু আবার বলল,

"পরের ঘর না বানিয়ে এবার একটু নিজের ঘরের চিন্তা কর।"

তার কথার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন বলে উঠলো,

"শোন বউ পালা আর হাতি পালা সমান। তোরা নিজেরা পালছিস পাল না।"

বলেই ফোন কেটে ল্যাপটপ বন্ধ করে রাখলো। আচ্ছা মানুষের কি আর কোনো কাজ কাম নেই? সারাক্ষণ বিয়ে করো, বিয়ে করো বলি এসব ছাড়া কি আর কথা নেই? একেই বলে যার বিয়ে তার খবর নাই পাড়াপ্রতিবেশির খুব নেই। এসব ভাবতে ভাবতেই নিজের চা নিজেই বানাতে চলল।

১৪.

মঞ্জিল চৌধুরী গালে বরফ নিয়ে বসে আছেন। গতরাতে মঞ্জিল চৌধুরীর গালে একটা মশা বসেছিল। স্ত্রী মারার কথা বলতেই তিনি হাত দিয়ে মশা মারতে নারাজ তাই ফোন দিয়ে মেরেছেন। ফলস্বরূপ আজ গাল ফুলে আলু হয়ে গেছে।

মেহজাবিন বাবার পাশে বসে টিভিতে কার্টুন দেখছিল। অনেকক্ষণ স্ত্রীকে না দেখে মঞ্জিল চৌধুরী মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন,

"তোমার আম্মা কই?"

মেহজাবিন টিভি দেখতে দেখতেই বলল,

" সাদি ডট কম এ মেয়ে দেখছে।"

"আমার জন্য?"

মেহজাবিন টিভির থেকে চোখ সরিয়ে দুই হাত দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

"আব্বা এখন তো এক গালে বরফ নিচ্ছেন, আম্মা এই কথা শুনলে তখন কিন্তু দুই গালে বরফ নিতে হবে।"

কথাগুলো বলেই সে দৌড়। মঞ্জিল চৌধুরী হতাশ,চরম হতাশ। সত্যি সত্যি আরেক গালে হাত দিয়ে কিছুটা চমকে উঠলেন।

১৫.

ইভা বার বার দাদিমা ফোন চেক করে দেখছিল তার বিয়ের সম্বন্ধ আসছে নাকি। আসলে তিথি বড় নাতনির বিয়ের জন্য সাদি ডট কম এ বায়োডাটা জমা দিয়েছিল। সেটা দেখে ইভা নিজের বায়োডাটা নিজেই জমা দিয়েছে। যেহুতু তার নিজস্ব ফোন নেই তাই দাদিমার ফোন থেকেই দিতে হলো। যদিও তার এখনো আঠারো হয়নি কয়েক মাস বাকি। তাতে কি বয়স একটু বাড়িয়েই জমা দিয়ে দিয়েছে।

ছোট নাতনিকে বার বার নিজের ঘরে আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকায় তিথি মুখ ভেঙিয়ে জানতে চায়,

"কিরে মাইয়া আবার ঘরে এতোবার আওনের মতলব খানা কও দেখিনি।"

ইভা দাঁত কেলিয়ে বলল,

"না গো দাদিমা আজ তোমার জামাই নাই তো তাই একটু সময় দিতে আইলাম আরকি।"

তিনি বোধহয় নাতনির কথা বিশ্বাস করলেন। দীর্ঘ শ্বাস ফেলাইয়া বললেন,

"তোর বোন কি বিয়া সাদি করব না নাকি?"

ইশরাত জাহান ছোট মেয়েকে অনেকক্ষণ যাবত খুঁজছিলেন। না পেয়ে আরবীকে পাঠিয়েছেন ডেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আরবী সারা বাড়ি খুঁজে অবশেষে দাদিমার রুমে এসে তাকে পেলো। ডাক দেওয়ার আগেই তার বিয়ের কথা শুনে জোরে জোরে কয়েকবার শ্বাস নিয়ে রাগ কন্ট্রোল করে রুমে ঢুকে বলল,

"ইভা তোকে মা ডাকছে যা।"

ইভা সাথে সাথে উঠে লাফাতে লাফাতে চলে গেলো। আরবীও চলে যাচ্ছিল তখন তিনি আবার ডেকে বললেন,

"শোন মাইয়া বিয়া করলে বরকত বাড়ে।"

আরবী সে কথা শুনেও শুনলো না। যেতে যেতে বলল,

"তাহলে তুমি দাদুভাইকে আবার বিয়ে করে বরকত বাড়াও।"

১৬.

ইভারা তিন বান্ধবী মিলে আজ গিয়েছে পেয়ারা চুরি করতে। ইভা আর লিসাকে নিচে রেখে আফরিন গাছে উঠে পেয়ারা পেরে পেরে নিচে ফেলছিল। বেশ অনেক গুলো হয়ে যাওয়ার পরে লিসা তাকে বলল,

"এই আফু এবার নেমে আয় চল চলে যাই এখন।"

তার কথার দ্বিমত জানিয়ে ইভা বলল,

"না না এখনো দুই কেজি মনেহয় হয়নি আরো কিছু পেরে নাম।"

আফরিন তাই করল ব্যাগ ভর্তি পেয়ারা নিয়ে তিন বান্ধবী মিলে এক গাছের নিচে বসলো। পেয়ারা গুলো ভীষণ মিষ্টি হলেও দুই তিনটার বেশি কেউ খেতে পারলো না। আর এতো পেয়ারা বাসায় নিয়ে যাওয়া মানেই ধরা পরা। কি করবে, কি করবে তিনজনই বসে ভাবতে লাগলো তখনই চোখ গেলো পেয়ারার গাছের মালিকের হ্যাবলা কান্ত ছেলের দিকে। লিসা দুষ্ট হেসে বলল,

"চল এগুলো ওর কাছে বিক্রি করে আসি।"

তিনজনই একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠে দাঁড়াল। হাবলু বাজার গিয়েছিল কাঁঠাল বিক্রি করতে। বিক্রি শেষে টাকা গুনতে গুনতে বাসায় ফিরছিল। তখনই তিন বাঁদর হাজির।

"হ্যালো হাবলু ভাইয়া।"

আফরিনের ডাক শুনে পেছনে ঘুরে তাকিয়ে বলল,

"হ্যালু তোমরা আমায় ডাকছ?"

লিসা মাথা নাড়িয়ে বলল,

"হ্যাঁ ভাইয়া দেখুন আমরা মাত্র ৫০টাকায় এতো পেয়ারা বিক্রি করছি। আপনাদের বাসায় গাছ থাকলেও আংকেল তো কিপ্টা আপনাকে তো আর সেগুলোতে হাত দিতে দেয়না। তাই ভাবলাম আপনাকেই দেই।"

হাবলু খুশি হলো সত্যি সত্যি কাঁঠাল বিক্রি করা টাকা দিয়ে নিজেদের গাছের পেয়ারা কিনে তাদের বলল,

"তোমরা কত ভালো রে।"

১৭.

"দোস্ত আমার আব্বা আমার বিয়ে দিতে চায়।"

আসিফের কথা শুনে সংগ্রাম সাথে সাথে বলল,

"আলহামদুলিল্লাহ, মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ আংকেল কত ভালো মানুষ দেখছিস।"

আসিফ দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলল,

"কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা।"

সংগ্রাম অসহায় ভাবে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল,

" সবার আব্বা বিয়ার কথা শুনলে খুশি হয় আর আমার আব্বায় অখুশি হয় কিল্লাই দোস্ত?"

আসিফ ওকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলল,

"তোর কথা বাদ দে শালা। যতদিন না কোনো মাইয়ারে দেইখা আমার বুকের মধ্যে ধুকধুক করে না উঠে ততদিন মুই বিয়া করতাম না।"

১৮.

"সুযোগ্য পাত্রী হারালে কাঁদতে হবে আড়ালে।"

লেখাটা হাতে নিয়ে ছোট মেয়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ইশরাত জাহান কিন্তু তার কোনো হদিস নেই। বড় মেয়েকে কখন পাঠিয়েছে তাকে ডাকতে এখনো কেউ আসলো না।

ইমদাদ হাসান ঘরে ঢুকেই স্ত্রীর হাতে কাগজ দেখে বললেন,

"কি গো এই বয়সে তুমি কি আমার লাইগা চিঠি লিখলা?কই দেখি দেখি !!""

#চলবে!

| দুঃখিত রি-চে করতে পারিনি।|

#ছবি: আফিয়া আফরিন

আমার লেখা প্রথম ই-বুক পড়ুন মাত্র ৩০টাকায়

পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"

https://link.boitoi.com.bd/YfkY

আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......

https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন