ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিবাহ সমাচার

৪র্থ পর্ব

লেখক: মিশকা মুন

#বিবাহ_সমাচার

#মিশকা_মুন{লেখনীতে}

|৪|

১৮.

"সুযোগ্য পাত্রী হারালে কাঁদতে হবে আড়ালে।"

লেখাটা হাতে নিয়ে ছোট মেয়ের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন ইশরাত জাহান কিন্তু তার কোনো হদিস নেই। বড় মেয়েকে কখন পাঠিয়েছে তাকে ডাকতে এখনো কেউ আসলো না।

ইমদাদ হাসান ঘরে ঢুকেই স্ত্রীর হাতে কাগজ দেখে বললেন,

"কি গো এই বয়সে তুমি কি আমার লাইগা চিঠি লিখলা?কই দেখি দেখি !!""

ইশরাত জাহানের বিগড়ানো মেজাজ আরো বিগড়ে গেল। কাগজখানা টেবিলে রেখেই কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন,

"বুইড়া বয়সে ভীমরতি? আজ থাইকা আপনার আর আপনার মাইয়ার ভাত বন্ধ।"

কথাগুলো বলেই বেড়িয়ে গেলেন। ইমদাদ হাসান হা করে সেদিক পানে কিছু সময় চেয়ে রইল। কি থেকে কি হয়ে গেল বুঝে উঠতে পারল না। কিছু হলেই বউ জাতির ডায়লগ,

"আজ থেকে ভাত বন্ধ।"

১৯.

স্বাধীন বাইকে করে অফিসে যাচ্ছিল হঠাৎ একটা মিষ্টির দোকানে

সংগ্রামকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল।

সংগ্রাম দুই প্যাকেট মিষ্টি নিয়ে টাকা দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।

স্বাধীন ভ্রু কুঁচকে সেদিকে তাকিয়ে রইল। তার বাবার ডায়াবেটিস হওয়ার খাতিরে বাড়িতে মিষ্টি কিনে নিয়ে যাওয়া আরো দুই বছর আগে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে কথা চৌধুরী। চিন্তা ভাবনা ছেড়ে

ফোন বের করে তাকে কল দেওয়ার প্রস্তুতি নিতেই পেছন থেকে গাড়ির হন বেজে উঠল। ঝটপট ফোন রেখে গাড়ি নিয়ে নিজের গন্তব্যে রওনা দিলো। মনে মনে ঠিক করল বিষয়টা বাড়ি গিয়ে জিগাবে তবুও মনের মধ্যে একটু সন্দেহ রয়েই গেল।

মেহজাবিন সেজেগুজে রেডি হয়ে বসে আছে কিন্তু কেনো সেজেছে এটা তার অজানা। ছোট ভাইয়া বলেছে ঝটপট তৈরি হয়ে নে সারপ্রাইজ আছে। সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে তার এই সাজগোজ। কথা চৌধুরী নিজেও সেজেছেন। সংগ্রাম মিষ্টি নিয়ে বাসায় আসতেই সবাই ডাক দিলো,

"আম্মা আব্বা আসেন মিষ্টি রেডি।"

২০

দাদিমা সদর দরজার সামনে দিয়ে বেশ অনেকক্ষণ যাবত পায়চারী করছিল। বিষয়টা নজর এড়ায়নি আরবীর। এগিয়ে এসে যে জিজ্ঞেস করবে তারও উপায় নেই ত্যাড়াত্যাড়া উত্তর দিবে। এসব ভেবেই দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চলে যাচ্ছিল তখনই কলিং বেল বেজে উঠল। আরবী আবার দাঁড়িয়ে গেল।

দাদিমা এবার গিয়ে সদরদরজা খুলে দিতেই একজন সালাম দিলো,

"আসসালামু ওয়ালাইকুম দাদি আমি ফিরোজ ঘটক।"

"ও আসুন আসুন। ছেলের বাড়ির লোকজন?"

"উনারা গাড়ি থেকে নামছে।"

কথা বলতে বলতেই কয়েকজন লোক বাসার মধ্যে ঢুকে পড়ল।

আরবী আর সময় নষ্ট না করে সেখান থেকে সরে গেল। রুমে ঢুকেই রাগে দুঃখে বইটা ছুড়ে মা'রল। ইভা বিছানা থেকে সবেই উঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই হুট করে বইটা তার মাথায় গিয়ে পড়তেই চেঁচিয়ে উঠল,

"মায়ের ভয়ে আজ তোমার রুমে একটু লুকিয়ে আছি বলে তুমি আমাকে বই দিয়ে মারবে? না এই অন্যায় স'হ্য করা যায়না আমাকে বিয়ে দিয়ে দাও আমি শ্বশুর বাড়ি চলে যাই।"

আরবী দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

"খুব বিয়ে করার শখ না? পাত্র পক্ষ এসেছে আজকেই বিয়ে করে বিদায় হ যাহ।"

খুশিতে মনটা তার বাক-বাকুম করে উঠলো। ইভাকে আর পায় কে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। আরবী মাথা চেপে বিছানায় শুয়ে পড়ল। বসে থেকে চিন্তা করে লাভ নেই শুয়ে থেকে চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়তে হবে তারই প্রস্তুতি নিলো।

২১

"হ্যালো মা বলো?"

মেহজাবিন শুকনো ঢোক গিলে সংগ্রামের দিকে তাকাতেই সে চোখ পাকিয়ে বলল,

"কথা বল বলদ। কোনো গন্ডগোল করলে মা'র একটাও নিচে পরবে না।"

মেহজাবিন কিছু বলার আগেই ওপাশ থেকে স্বাধীন আবার জিজ্ঞেস করল,

"মা কথা বলছ না কেনো?"

"ভাইয়া মা না আমি।"

"ওহ তুই! কিছু বলবি?"

"হ্যাঁ তোমাকে একটা ঠিকানা দিচ্ছি জলদি এখানে চলে এসো। মা হঠাৎ এখানে এসে অসুস্থ হয়ে গেছে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু বাড়িতে কোনো ছেলে মানুষ নেই।"

স্বাধীন লাফিয়ে উঠে বলল,"সংগ্রাম কোথায়? "

মেহজাবিন নাক টানার ভান ধরে বলল,"জানিনা তুমি তাড়াতাড়ি এসো।"

"ঠিক আছে কাঁদিস না আমি যাচ্ছি ঠিকানা সেন্ড কর।"

কথা শেষ হতেই দুই ভাই বোন একে অপরের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসলো। অতঃপর ভেতরে চলল। এবার ভাইয়ের বিয়ে তারা দিয়েই ছাড়বে।

২২.

"সবই তো শুনলেন এখন আপনাদের মেয়েকে একটু ডাকুন।"

ইমদাদ হাসান স্ত্রীকে ইশারা করলেন আরবীকে নিয়ে আসার জন্য। ইশরাত জাহান মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিয়ে ভেতরে গেল আরবীকে আনতে। অন্যদিকে স্বাধীন মুখ গোমড়া করে সোফায় বসে আছে। বাহিরের লোকের সামনে মাকে অসম্মান করতে পারবে না। তাই চুপচাপ হজম করে যাচ্ছে। হুট করল কেউ একজন এসে বলল,

"এইতো পাত্রী চলে এসেছে।"

সবাই সামনে তাকাতেই দেখলো শাড়ি পরিহিত হাস্যজ্জ্বল এক তরুণী। তার কথায় স্বাধীন ব্যতিত তার বাড়ির সবাই মুচকি হাসলো। কিন্তু তার বাড়ির লোকজন চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইল। দাদিমা এগিয়ে গিয়ে ইভার হাত ধরে ফিসফিস করে বললেন,

"এসব কি ছেঁমড়ি তাড়াতাড়ি ঘরে যা,তুই না তোর বড়ডা পাত্রী।"

বলেই টানতে লাগলো। তাকে থামিয়ে দিয়ে কথা চৌধুরী বললেন,

"আন্টি ওকে কই নিয়ে যাচ্ছেন আমরা ওকেই তো দেখতে এসেছি।"

আরবী বসার ঘরে ঢুকে এমন কথা শুনে খুশি হয়ে গেল। একা গাল হেসে মায়ের দিকে তাকাতেই সব হাসি শেষ।

ইশরাত জাহানের এগিয়ে গিয়ে বললেন,

"এসব কি বলছেন আপা আমার বড় মেয়েকে রেখে ছোট মেয়েকে বিয়ে দিব না।"

২৩.

অনেক যোগ বিয়োগ করে অবশেষে স্বাধীনের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হলো ইভার পরিবার। ছেলে ভালো পরিবার ভালো না বলতে গিয়েও তারা বলতে পারল না। সব থেকে বড় কথা ইভা নিজেই রাজি হয়ে বসে আছে। তবে বিপদ বাঁধল অন্য জায়গায় স্বাধীন বিয়ে করবে না। কথা চৌধুরীকে কয়েক বার বলেও যখন পাত্তা পেলো না। তখন নিজে থেকেই বলে বসলো,

"আংকেল আমি একটু ইভার সাথে কথা বলতে চাই।"

ইভা একটু লজ্জা পাওয়ার ভান ধরলো। সবাই কিছু সময় আলোচনা করে তাদের কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হলো। ইভা সামনে সামনে হাঁটছে আর একটু পরপর মুচকি হাসছে। স্বাধীন এগুলো দেখে হতাশ হলো এসেছিল বিয়ে ভাঙতে কিন্তু এ মেয়ে যে বিয়ে ভাঙবে না বুঝলো। কিছু না বলে পেছনে থেকে চলে গেল। ইভা সবেই একটু মাথা কাত করে বলল,

"শুনছেন.....!!

কেউ নেই!! টাশকি খেয়ে গেল। কি আশ্চর্য লোকটা গেল কই?!

২৪.

স্বাধীন আগেই বেরিয়েছে। বাকি সবাই ধীরে ধীরে বের হলো। ইশরাত জাহান নতুন আত্নীয়দের এগিয়ে দিতে বাহিরে এলো সঙ্গে ইভা আর আরাবীও এলো।

কথা চৌধুরী গাড়িতে উঠার আগে ইভার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

" খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে নিয়ে যাব।"

ইভা দাঁত কেলিয়ে সবেই বলতে যাচ্ছিল,

"এখনই নিয়ে চলো।"

তার আগেই মায়ের চোখ রাঙানিতে চুপসে গেল। সবাই গাড়িতে উঠে বসতেই সংগ্রাম আরবীর পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলল,

" আসসালামু আলাইকুম বিয়ানসাব,

দুদিন পরে আপনার সাথে হবে আমার অনেক ভাব।"

#চলবে!

| অনেক দিন পরে লিখছি নিজের কাছেই এলোমেলো লাগছে। ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর একটু সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করবেন যেন লেখায় মন দিতে পারি।!|

#ছবি: আফিয়া আফরিন

আমার লেখা প্রথম ই-বুক

পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"

https://link.boitoi.com.bd/YfkY

আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......

https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন