#বিবাহ_সমাচার
#মিশকা_মুন{লেখনীতে}
|৫|
২৫.
আফরিন চায়ে পাউরুটি ডুবিয়ে সবেই এক কামড় মুখে নিতে যাচ্ছিল। হুট করে লিসা দৌড়ে এসে ওর হাত ধরে টানতেই পাউরুটা নিচে পড়ে গেল। লিসা সে দিকে পাত্তা না দিয়ে বলল,
"আশেপাশে কি হচ্ছে জানিস? তাড়াতাড়ি আমার সাথে চল।"
আফরিন ছলছল চোখে একবার নিজের হাতের দিকে আরেকবার পরে যাওয়া পাউরুটির দিকে তাকালো। অতঃপর কপাট রাগ দেখিয়ে বলল,
"এটা কি করলি শ'য়তান?"
লিসা বুঝলো না। তাই জানতে চায়,
"কি করলাম?"
"হাত ধরে কেনো টান দিলি?"
"তো কি পা ধরে টানব?"
আফরিন গাল ফুলিয়ে বলল," পাউরুটি কেনো ফেললি?"
লিসা এবার বুঝলো বান্ধবীর রাগের কারণ। তবুও কথা ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,
"রাগিস না আমি কিনে দিব। এখন চল ইভুর বাসায় যাব।"
"হঠাৎ ওদের বাসায় কেনো?"
"ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।"
"ও আচ্ছা!!!! কিহহহহহ?"
আফরিন বড় বড় করে তাকালো। এটা কিছুতেই তার বিশ্বাসযোগ্য কথা মনে হলো না বড় বোনের আগে ছোট বোনের বিয়ে? থতমত খাওয়া কণ্ঠে বলল,
"মজা করছিস?"
লিসা এবার বিরক্ত হলো। আফরিনের হাত ধরে দৌড় লাগালো। বেচারি হাজার খানেক প্রশ্ন করেও আর উত্তর পেলো না।
ইভা মুখে কফি লাগিয়ে বসে আছে। সামনে বিয়ে এখন রুপচর্চা না করলে চলে?? তার কাণ্ডে বাড়ির সকলে বিরক্ত। একমাত্র আরবী বাদে তার মতে ফাঁকিবাজটা পড়াশোনাও ঠিক মতো করে না ওকে বিয়ে দিয়ে দেওয়াই ভালো। কিন্তু অন্য দিকে মনোক্ষুণ্ণ ইশরাত জাহানের বড় মেয়ের আগে ছোট মেয়ে কি বিয়ে দেওয়া ঠিক হচ্ছে?
" আসসালামু আলাইকুম কাকি ইভার নাকি বিয়ে?"
ইশরাত জাহান অন্য মনস্ক ছিল। আফরিনদের ডাকে প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুত হলেও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
"হুম। ইভা রুমেই আছে তোমরা ভেতরে যাও।
ইশরাত জাহানের বলতে দেরি হলেও তাদের যেতে দেরি হলো না। দৌড়ে ইভার রুমে ঢুকলো। ইভা তখন গুন গুণ করে গান গাচ্ছিল,
"ফাগুন মাসে কাঁচা বাঁশে
গুনগুনিয়ে ভ্রমর আসে
প্রেমের লাগি বুকটা করে আ আ উ-~-
দুষ্টু কোকিল ডাকে রে......!!
হঠাৎ বান্ধবীদের দেখে খুশি হলো। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল,
"দোস্ত আমার বিয়ে রে আমার বিয়ে।"
লিসা আর আফরিন এখনো শকট হুট করে বিয়ে। ওদের মুখ দেখে ইভা জিগাইলো,
"কি রে তোর খুশি না?"
লিসা কিছু বলার আগেই আফরিন বলল,
"আসলেন বান্ধবীর বিয়ের যখন দাওয়াত পাই তখন ভাল্লাগে কিন্তু বান্ধবীর চলে যাওয়ার কথা শুনলেই তো দুঃখ লাগে।"
ইভা কিছুটা সময় চুপ করে রইল। অতঃপর আবার বলল,
"আরে মন খারাপ করিস না আমার দেবর আছে না? তোদের সাথে লাইন লাগিয়ে দিব।"
দুজনেই এক সাথে বলে উঠল,
"একজনের সাথে দুজন?"
ইভা থতমত খেয়ে গেল। দাঁত দিয়ে নখ কা'মড়ে কিছু একটা ভেবে বলল,
"আরে সমস্যা কিসের তোদের জন্য নাহয় শাশু মা কে আরেকটা ডাউনলোড করতে বলব।"
দুজনেই হতাশ হলো কিছু না বলে বিছানায় গিয়ে ঠাস করে শুয়ে পড়ল।
২৬.
"আম্মা ও আম্মা?"
কথা চৌধুরী বসে বসে সিরিয়াল দেখছিল। এমন সমশ ছোট ছেলের ডাক শুনে বিরক্ত হলো। জানতে চাইলো,
" কি হয়েছে?"
"বলছিলাম কি!!
" কি বলছিলি?"
"বলছিলাম কি!!"
এবার প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে পাশ ফিরে তাকালো। টিভি দেখার সময় বাপ ছেলে এসে তাকে যত বিরক্ত করে। গম্ভীর ভাব এনে বলল,
"বাপ বিরক্ত না কইরা যা বলবা বইলা ফেলাও।"
সংগ্রাম বুকে একবার ফু নিয়ে আশেপাশে দেখে নিলো তার হিটলার বাপ ভাই আছে কিনা। কাউকে না দেখে একটু স্বস্তি পেলো। ফিসফিসিয়ে বলল,
"মা ভাবির কিন্তু একটা বড় বোন আছে।"
"হ্যাঁ তাতে কি?"
"বড় বোন রেখে ছোট বোনকে বিয়ে দিলে লোকে কি বলবে?"
কথা চৌধুরী একটু চিন্তিত হলো। আসলেই তো মানুষের মুখ তো বন্ধ থাকেনা। তাহলে কি বিয়েটা পিছিয়ে দিবে? হ্যাঁ তাই করবে নাহয়। মনে মনে ভেবে বলল,
"তাহলে আপাতত বিয়েটা পিছিয়ে দেই।"
সংগ্রাম হতাশ হলো। ইনিয়েবিনিয়ে বলল,
"আম্মা আপনার তো আরেকটা ছেলে আছে।"
কথা চৌধুরী প্রথমে কথাটা বুঝলো না। কিছুটা সময় লাগলো। এবার ছেলের দিকে তাকাতেই সে লজ্জা পাওয়ার ভান ধরল। কথা চৌধুরী হেসে ছেলের মাথায় একটা চাটি মেরে বলল,
"ব'দ বাপের ব'দ ছেলে যা ভাগ এখন পরে ভেবে দেখব।"
২৭.
স্বাধীন ক্লান্ত শরীর নিয়ে সবেই বিছানায় শুয়েছিল। হুট করে ফোন আশায় বিরক্ত হলো। ধরার আগে কেটেও গেল। সব কিছুই ইদানীং তার বিপরীত দিকে চলছে। এতো ঝামেলার করার পরেও আম্মা তাকে ইমোশনাল ব্লা'ক'মেইল করে ঠিক বিয়েতে মত নিয়ে নিলো। দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ফোন সাইলেন্স করার জন্য হাতে নিতেই আবার কল এলো। অচেনা নাম্বার তবুও সাথে সাথে ধরল,
" হ্যালো আসসালামু আলাইকুম কে বলছেন?"
ইভা লাফিয়ে উঠলো হায় হায় তার মিস কল ধরে ফেলেছে রে। উত্তেজিত কণ্ঠে বলল,
" ওয়া আলাইকুমুস সালাম। হায় হায় আপনে আমার কিপ্টে বাপের ফোন কেনো ধরলেন আমি তো মিস কল দিচ্ছিলাম। আপনি কল ব্যাক করুন!"
স্বাধীন ফোন কান থেকে সরিয়ে নাম্বারটা আরেকবার দেখে নিলো। কে এটা? আর এসব কি বলছে বুঝতে পারল না। তাই বলল,
"সরি কে আপনি? "
"আপনার নানি।"
স্বাধীন রেগে বলল,"হোয়াট?"
ইভার এবার মিটমিট করে হেসে বলল,
"থুক্কু আপনার নাতিনাতনির নানি।"
#চলবে!
| ছোট হয়েছে একটু কেউ রাগ করবেন না।😞|
#ছবি: আফিয়া আফরিন
আমার লেখা প্রথম ই-বুক
পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"
https://link.boitoi.com.bd/YfkY
আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......
https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972