ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিবাহ সমাচার

১১তম পর্ব

লেখক: মিশকা মুন

#বিবাহ_সমাচার

#মিশকা_মুন{লেখনীতে}

|১১|

৪৭.

সেদিন স্বাধীনকে ফোনে না পাওয়ায় বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও জয়নাল হাসান কিছুটা সন্দেহ করেছিলেন কিন্তু কথা চৌধুরী স্বামীর থেকে সাতপাঁচ বুঝ দিয়ে রেখে দিয়েছেন।

সংগ্রাম এসব ভাবতে ভাবতেই মন মরা হয়ে ভার্সিটিতে আসলো। তার ভাই শুধু নিজের কথাই ভাবল ভাইয়ের কথাটা একবারও ভাবল না। ভাবল না বেচারা ছোট ভাইটা বউ ছাড়া আর কতকাল থাকবে। মাস্টার্স শেষ হতে চলল। বুড়ো হতে তো আর বেশি দেরি নেই। দীর্ঘ শ্বাস ফেলতে ফেলতে হাঁটছিল হঠাৎ দেখা হলো আরবীর সাথে। মেয়েটাকে মাঝে মাঝে তার এলিয়েন মনে হয় কোনো দিক না তাকিয়ে পাইপাই করে হেঁটে যাচ্ছে। পেছন থেকে ডাক দিলো,

"এই যে মিস!"

হঠাৎ কারো ডাক শুনে পিছু ফিরে চাইল আরবী। সংগ্রামকে দেখেই মুখ ঘুরিয়ে নিলো। কাল রাতে সংগ্রামের সাথে তার বিয়ের কথা শুনে ফেলেছে। মায়ের সাথে কিছু সময় চিল্লাপাল্লাও করেছে তাতেও কোনো লাভ হয়নি। সকালে কারো সাথে কোনো কথা না বলে না খেয়ে ভার্সিটিতে এসেছে। এসেও শান্তি নেই এই আপদটা হাজির। মনে মনে তার পিন্ডি চটকাতে চটকাতে সামনের দিকে হাঁটা ধরল।

তাকে এভাবে চলে যেতে দেখে ভ্রু কুঁচকে এলো সংগ্রামের। দৌড়ে গিয়ে আরবীর সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

" ডাকছি শুনছেন না?"

"শুনেছি।"

থমথমে মুখে আরবীর ছোট্ট জবাব।

"তাহলে চলে যাচ্ছেন কেন?"

"আমার ইচ্ছে!"

সংগ্রাম কথার পিঠে আবার কিছু বলতে চাইলো কিন্তু তাকে হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়ে আরবী বলে উঠল,

"দেখুন আপনাকে আমার পছন্দ নয় আমি আপনাকে বিয়ে

করতে পারব না।"

"সে তো আমার আম্মারও বিয়ের আগে......!"

বাক্যটা সম্পূর্ণ করার আগেই থেমে গেল সংগ্রাম। শান্ত চোখে তাকালো তবে অবাক হলো না আজ নয় কাল আরবী জেনেই তো বিয়ের কথা। তাই বেশ স্বাভাবিক ভাবেই জানতে চাইলো,

"কেনো আমাকে পছন্দ নয়?"

আরবী একটু এগিয়ে গিয়ে একটা গাছের নিচে দাঁড়াল। ওপাশটায় রোদ লাগছিল। অতঃপর সংগ্রামকেও ইশারা করে সেখানে আসতে বলল। সে গিয়ে দাঁড়াতেই আরবী দুই হাত ভাজ করে সোজাসুজি দাঁড়াল। বেশ কিছুটা সময় নিয়ে প্রশ্ন করল,

আপনার জীবনের তিনটা লক্ষ্য বলুন?"

আরবীর প্রশ্নে থতমত খায় সংগ্রাম। ঝটপট কোনো উত্তর করতে পারল না। কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে ঠাঁই হয়ে দাঁড়িয়ে মিনিট দুয়েক ভাবল তার জীবনের আসলে লক্ষ্য-টা কি? অতঃপর মাথায় যা এলো তাই

দাঁত কেলিয়ে বলে বসলো,

"বিয়ে করা, বিয়ে করা আর বিয়ে করা।"

আরবীর রাগ হয় একটা সুস্থ মানুষের জীবনের লক্ষ্য বিয়ে করা হতে পারেনা। থমথমে গলায় জবাব দেয়,

"বিয়ে করে বউকে কি বাপের টাকায় খাওয়াবেন?"

সংগ্রাম মাথা উপর নিচ করে চটপটে জবাব দেয়,

" হ্যাঁ তাতে কি সমস্যা? বাবাও তো দাদুর টাকায় বউকে খাওয়াতো। আমি খাওয়ালে কি দোষ?"

আরবী হতাশ হলো, চরম হতাশ। মনে মনে ক্ষোভ জন্মমালো। মুখ ভেঙচি দিয়ে টোন মেরে বিড়বিড়িয়ে বলল,

" গলদটা আসলে শুরু থেকেই।"

সংগ্রাম শুনতে পেলে না। তাই কানটা একটু এগিয়ে নিয়ে এসে বলল,

"একটু জোরে বলুন শোনা যাচ্ছে না।"

"শোনানোর জন্য বললে তো জোরেই বলতাম।"

সংগ্রাম কথা পাল্টে ফেলল। জানতে চাইলো,

"আমি কি ছেলে হিসেবে এতোটাই খারাপ?"

আরবী মুচকি হাসলো। হাসি দেখে সে ভাবলো এবার বোধহয় পজিটিভ কিছু বলবে। কিন্তু না তার আশায় জ্বল ঢেলে আরবী বলে উঠল,

"আপনি এতোটার থেকেও বেশি খারাপ।"

সংগ্রাম অপমানিত বোধ করল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে টাছে নাকি। এই সয়মটায় ভার্সিটির আশেপাশে তেমন কেউ আসে না। আরবী দিকে কয়েক পা এগিয়ে গেল। তাকে এগিয়ে আসতে দেখে আরবীও কয়েক পা পিছিয়ে গেল। শুকনো ঢোক গিলল ভয় লাগছে কেনো তার? তাকে পেছাতে দেখে সংগ্রাম বলল,

" পিছিয়ে যাচ্ছেন কেনো?"

"আপনি আগাচ্ছেন কেনো?"

"ভয় পাচ্ছেন?"

"কই না তো।"

বলেই থামলো সে। সংগ্রামও তার মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াল। হালকা একটু ঝুঁকে বলল,

"আমি খারাপ?"

" হ্যাঁ মানে না।"

তার অবস্থা দেখে হেসে ফেলল সংগ্রাম। হাসতে হাসতেই দূর গিয়ে দাঁড়াল। কোনো মতো হাসি থামিয়ে বলল,

"ভয় পেয়ো না হবু বউ আমি মজা করছিলাম।"

আরবীর রাগ হলো। রাগের বশেই বসলো,

"ভালো হয়ে যান হবু বর আমার হাত কিন্তু আগে আগে চলে।"

সংগ্রাম বড় বড় করে তাকাল। অতঃপর চোখ মেরে বলল,

"যাক অবশেষে হবু বর হিসেবে গ্রহণ করলেন।"

আরবীর মন চাইল মাটি ফাঁক হোক আর সে নিচে চলে যাক। এমন ভুলভাল কথা কেনো ভুল জায়গায় বের হবে? নিজের মুখই যদি শত্রু হয় তাহলে তো অন্য শত্রুর দরকার নেই। উত্তর করতে পারল না। চোখ রাঙিয়ে দূত পা চালিয়ে চলে গেল। সংগ্রাম তাকে যেতে দেখে পেছনে থেকে গান ধরল,

"যদি বারে বারে একই সুরে প্রেম তোমায় কাঁদায়

তবে প্রেমিকা কোথায় আর প্রেমই বা কোথায়?

যদি দিশেহারা ইশারাতে প্রেমই ডেকে যায়

তবে ইশারা কোথায় আর আশারা কোথায়?"

৪৮.

স্বাধীন ছাদে বসে বসে মশা মারছে। নিজের বাড়ি ছাড়া কোথাও থেকে অভস্ত নয় সে। তবুও জেদ ধরে এখানে এসে বসে আছে। অন্য দিকে তার পরিবারও জেদ ধরে বসে আছে বিয়ে তাকে দিবেই। এসব ভাবতে ভাবতেই ফোন বের করল। অনলাইনে ঢুকতেই হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মেসেজ আসলো। মেসেজটা দেখে বুঝতে সময় লাগলো না কে দিয়েছে। বিরক্তি নিয়ে ফোনটা রাখতে যাবে এমন সময় তার বন্ধুরা হাজির।

সৌরভ আর সৌভিক যমজ দুই ভাই। স্বাধীনের ভার্সিটি লাইফের বন্ধু তারা। একটু বেশিই ক্লোজ। তাদের বন্ধু যে বিয়ে ভয়ে এখানে পালিয়ে এসেছে এটা শুনে কিন্তু মজা নিতে ছাড়েনি কেউ।

সৌরভ খপ করে এসে ফোনটা নিয়ে নিলো। নিয়ে দুই ভাই। স্বাধীন পিছু পিছু দৌড় দিলেও শেষ রক্ষা হলো না। তাকে রেখেই দুজন ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো। ফোনে ঢুকে ইভার পাঠানো মেসেজটা সিন করে দেখল লিখেছে,

"হাই জামাই!"

দুই ভাই মিটমিট করে হাসতে হাসতে লিখল,

"হ্যালো পিচ্চি বউ।! (লজ্জা পাওয়ার ইমোজি)

লিসা আর আফরিন মেসেজ পাঠিয়ে পায়চারি করছে। ইভা গাল ফুলিয়ে ওদের বকাঝকা করেছে,

"বললাম না ব্যাডার বহুত অহংকার রিপ্লাই দিবেনা।"

সাথে সাথেই নোটিফিকেশন এলো। তিনজনেই এক সঙ্গে ফোন গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। মেসেজ দেখে সকলের চোখ চড়কগাছ।

এটা দেখে ইভা ফোন হাতে নিলো না। ওদের কাছে দিয়ে গিয়ে শুয়ে পড়ল। মেসেজটা যে গোমড়া মুখো স্বাধীন দেয়নি এটা বুঝতে তার সময় লাগলো না। বুঝে নিলো তার বন্ধুদের মতো স্বাধীনের বন্ধুরাও ফোন নিয়ে নিয়েছে। ঘুমে ইভা চোখ টেনে তুলতে পারছিল না। তাই শোয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই ঘুমিয়ে গেল।

প্রায় এক ঘন্টা পরে ঘম থেকে উঠে দেখে ওই দুটো ফোন ঘাটাঘাটি করছে আর মুচকি মুচকি হাসছে। ইভা বিরক্তি নিয়ে বলল,

"তোদের হয়নি এবার ফোনটা দে।"

আফরিন তাড়াতাড়ি করে লিখল,

"শোনো জান দাদিমা ফোন চাচ্ছে পরে কথা হবে।"

ওপাশ থেকে সৌরভ লিখল,

"আরেকটু কথা বলিনা সুইটহার্ট।"(চিক্কুর দিয়ে কাঁদার ইমোজি)

আফরিনের থেকে লিসা ফোনটা কেড়ে নিয়ে লিখল,

"বলব কথা বাসর ঘরে। এখন কথা জমিয়ে রাখো।"

এটা পরে সৌরভ আর সৌভিক হাসতে হাসতে শুয়ে পড়ল। তাদের হাসির শব্দে স্বাধীন জোরে জোরে দরজা ধাক্কাতে শুরু করল।

এবার সৌভিক ফোনটা কেড়ে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে লিখল,

"ওকে বেইব টাটা বাই বাই উম্মাহ।"

শেষ মেসেজটা দেখেই দুজনেই ভাব নিয়ে ইভার সামনে দাঁড়াল। তার হাতে ফোন ধরিয়ে দিয়ে দুজনেই এক সঙ্গে বলে উঠল,

"তোর জামাইকে দেখ পটিয়ে ফেলেছি তোর দাঁড়া তো কিছু হলো না। তাই আমাদেরই কিছু করতে হলো। এখন দেখ জান জান বলে পা'গল হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মতো বান্ধবী ঘরে ঘরে হওয়া দরকার।"

ইভা আগে মেসেজ গুলো চেক করল। যা ভেবেছিল তাই এটা স্বাধীনের টাইপিং নয় এর আগে একদিন তার সাথে কথা হয়েছিল সে কখনো ইমোজি ব্যবহার করেনা। ফোন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বান্ধবীদের দিকে দৃষ্টি ফেলল। তাদের মুখে হাসি সরছেই না। এদের কাণ্ডে ইভা হতাশ হলো। গলা খাদে নামিয়ে হতাশার সুরে জোরপূর্বক হেসে বলল,

"বড্ড উপকার হলো আমার।"

#চলবে!

#নোট:বড় পর্ব দিয়েছি বড় বড় কমেন্ট না করলে কিন্তু

ভাত খাব না।😾|

#ছবি: আফিয়া আফরিন

আমার লেখা প্রথম ই-বুক

পড়ুন ই-বই "মন গহীনে তাহার বসবাস"

https://link.boitoi.com.bd/YfkY

আমার গল্প সংক্রান্ত সকল আপডেট পেতে জয়েন হয়ে যাবেন আমার গল্প গ্রুপ......

https://www.facebook.com/groups/1058930332077272/permalink/1116046659698972।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন