#আমি_তরুলতা (৫৯)
#সোফিয়া_সাফা
🔺 সতর্কবার্তা (Trigger Warning):
এই পর্বে আত্ম-আঘাত (self-harm) এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেকোনো পাঠক/পাঠিকার জন্য এটি মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অনুগ্রহ করে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সতর্কতার সাথে পর্বটি পড়ুন।
,
,
,
নীলাভ একটা কেস নিয়ে রিসার্চ করছে, যদিও ইদানীং দেশে ক্রাইমের হার অর্ধেক কমে গিয়েছে। তবুও ক্রাইম এমন একটা জিনিসস যেটা পুরোপুরি নিঃশেষ হবার নয়, নীলাভকে কাজ করতে দেখালেও সে মোটেও কাজে কন্সেন্ট্রেশন করতে পারছেনা, বারবার কাজে ভুল হচ্ছে। নীলাভের কাজের মাঝেই মোমো একটা ইনভিটিশন কার্ড এনে নীলাভের ডেস্কের উপর রাখল, নীলাভ ভ্রু কুচকে জিজ্ঞেস করল,
“এটা কি মিস রহমান?”
“স্যার আমি মিস রহমান থেকে মিসেস শিকদার হতে চলেছি, সেই উপলক্ষেই একটা আয়োজন করা হবে, এটা সেই অনুষ্ঠানেরই ইনভিটিশন কার্ড,”
মোমোর কথাগুলো নীলাভের মাথার উপর দিয়ে গেল। অবশ্য তার মাথা এখন সঠিক কন্ডিশনে নেই যার জন্য সে সহজ জিনিসও বুঝে উঠতে পারেনা। মাহির এগিয়ে এসে বলল,
“স্যার মিস রহমানের বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই জন্যই আপনাকে ইনভিটিশন কার্ড দিয়েছে।”
নীলাভ ইনভিটিশন কার্ড টা হাতে নিয়ে পড়ে দেখল, তার মনে আছে তরুর ডেলিভারির দিন সে হসপিটালে বিভানকে দেখেছিল, সেদিনই জানতে পেরেছিল বিভান তরুর বন্ধু হয় সেই হিসেবে তরুই হয়তো বিভানকে সেদিন তার আর মোমোর বিয়ে ভাঙ্গার জন্য পাঠিয়েছিল। নীলাভ তো হসপিটালে বসে এসবই ভেবে নিয়েছিল সেদিন। তাহলে বিভান আর মোমোর বিয়ে কিভাবে সম্ভব? নীলাভের মাথায় আর কাজ করলোনা,
“মাথার বারোটা বেজে গেছে,”
মোমোর কপালে ভাজ পড়ল, “কিছু বললেন স্যার?”
নীলাভ ফিচেল হেসে বলল, “না না মিস রহমান।”
“স্যার আপনি কিন্তু আপনার পুরো ফ্যামিলি নিয়েই আসবেন বিয়েতে। তাহলে আমি খুব খুশি হবো।”
নীলাভ থমকে গেল, তার আর ফ্যামিলি?
“আচ্ছা মিস রহমান আমি ইনভিটিশন এক্সেপ্ট করলাম। ফ্যামিলি নিয়ে যেতে পারবো কিনা জানিনা, তবে বেচে থাকলে উপস্থিত থাকবো।”
মোমো একটা সৌজন্যমূলক হাসি উপহার দিয়ে নিজের ডেস্কে ফিরে গেল। রাত ১০ টার দিকে নীলাভ বাড়িতে প্রবেশ করতেই সাবিনা চিন্তিত মুখে তার দিকে ছুটে আসে,
“বাবা তুই কেনো এমন পাগলামি করছিস? কেনো বুঝতে পারছিস না যে,,,
নীলাভ হাসতে লাগল, সাবিনা নীলাভের হাসি দেখে থমকে গেল। নীলাভ অদ্ভুত ভাবে হাসছে,
“ওহহো মা প্রতিদিন এক কথা বলো কেনো? বিরক্ত লাগেনা বারবার একই কথা বলতে? ২ মাস হয়ে গেছে মা, ও আর আসবেনা। আমি মেনে নিয়েছি তোমরাও মেনে নেও,”
বলেই নীলাভ হাসতে হাসতে নিজের রুমে চলে গেল, ছেলের এই অবস্থা দেখে সাবিনার খুব কষ্ট লাগল। সে বুঝতে পারছে নীলাভ ঠিক নেই, ছেলেটা স্বাভাবিক বিহেভ করছেনা।
নীলাভ রুমে এসে একটা কোল্ড শাওয়ার নিল, ইদানীং কোল্ড শাওয়ারই নেয় সে, যদিও ঠান্ডা পানিতে তার রাইনাইটিসের প্রবলেম টা বেড়ে যায়। তবুও তার ভালো লাগে, নীলাভ আবারও সেই কাজ গুলোই করছে যেগুলো সে করতে পছন্দ করেনা বা যেগুলো করলে সে কষ্ট পায়। কিছুক্ষণ পর সাবিনা খাবার খেতে ডাকতে এলে নীলাভ একটা হাসি দিয়ে বলে,
“মা তুমি খাবার গুলো এখানেই পাঠিয়ে দেও।”
সাবিনা অসহায় চোখে নীলাভের দিকে তাকাল, সে জানে খাবারগুলো এখানে দিয়ে গেলে নীলাভ হয় ফেলে দেবে নয়তো ওভাবেই টেবিলের উপর থেকে যাবে নীলাভ ছুয়েও দেখবেনা।
“কেনো এমন করছিস বাবা? নিজেকে মে'রে ফেললেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?”
“মা'রতে আর পারলাম কই? আমি এতো সহজে ম'রবোনা। শোনোনি? তরু বলেছিলো ম'রে যাওয়া অতো সহজ নয়, নইলে ও নাকি আরও আগেই ম'রে যেতো। আমিও ম'রবোনা মা।”
সাবিনা কেদে উঠলেন, শাড়ির আচলে চোখদুটো মুছে বললেন,
“তরুর মাঝে বেচে থাকার জেদ ছিলো, ও অন্তত ম'রে যেতে চাইতোনা সেই জন্যই বেচে আছে। কিন্তু বাবা তোর মাঝে তো আমি বেচে থাকার কোনো ইচ্ছাই দেখতে পাচ্ছিনা। উল্টো তুই নিজেকে কষ্ট দিচ্ছিস, কেনো কষ্ট দিচ্ছিস?
“কারণ আমার মতো লোকের বেচে থাকা উচিৎ নয়। আমি যেই জীবনে তরুকে ডিজার্ভ করিনা সেই জীবন রেখে কি লাভ বলতে পারো মা? আমি ম'রে গেলে তরু থাকতে পারবে, আমার এখন আর চিন্তা নেই। ওকে তোমরা এমন একজনের হাতে তুলে দিও যে ওকে ডিজার্ভ করে, আমি তো ওকে ভালোবাসতে পারলাম না, ওকে শুধু কষ্টই দিয়েছি, যে ওকে ভালোবাসতে পারবে তার হাতে ওকে তুলে দিও। অবশ্য ও নিজেই খুজে নিতে পারবে, তোমাদের প্রয়োজন হবেনা।”
নীলাভের কথাগুলো শুনে সাবিনা চমকে তাকাল, নীলাভ উল্টো পাল্টা বকছে,
“এসব তুই কি বলছিস? তরু তোকে ছাড়া অন্য কাউকে খুজবে বলে মনে হয় তোর? যদি খোজার হতো তাহলে কি এতোকিছুর পরেও ফিরে আসতো তোর কাছে?”
“ও শুধুমাত্র আমার ভুল ভাঙ্গাতে এসেছিলো, ও যেভাবে ১২ টা বছর কষ্ট পেয়েছে ঠিক সেভাবে আমাকে কষ্ট দিতে এসেছে, ও ভেবেছে সেই ১২ টা বছর আমি খুব শান্তিতে ছিলাম। আমি খুব আনন্দে কাটিয়েছিলাম, সেই জন্যই ও আমাকে এভাবে পোড়াচ্ছে, কিন্তু ও দেখলোনা মা যে আমি অনেক আগেই খুব বাজে ভাবে পুড়ে গিয়েছি। ও ভেবেছে ওই শুধু আমাকে ছেড়ে ১২ বছর কষ্টে ছিল। কিন্তু ও দেখেনি মা আমার হৃদয় কতোটা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে এই ১২ বছরে, ও শুধু দেখেছে আমি ওকে ঘৃনা না করতে পেরে নিজেকে ঘৃনা করেছি। কিন্তু ও দেখেনি ওর অনুপস্থিতিতে আমি কতোবার দ্বীর্ঘশ্বাস ফেলেছি, ও দেখেনি, আমি তো বেশি কিছু চাইনি। ওকে শুধু আমার পাশে চেয়েছি, বলো মা আমি কি ওকে চেয়ে অন্যায় করেছি? ওহ হ্যাঁ করেছিই তো আমি যেখানে ওকে ডিজার্ভই করিনা সেখানে ওকে চাওয়া শুধু অন্যায় নয় পাপ। আমি ওকে চেয়ে পাপ করেছি। ওকে বলে দিও মা, ওকে আর ফিরতে হবেনা। আমি ওকে মুক্ত করে দিয়েছি, ওকে বলে দিও ওর ঠিকানা টা দিতে ভয় নেই আমি যাবোনা সেখানে, আমি শুধু ওর ঠিকানায় ডিভোর্স লেটার টা পাঠিয়ে দেবো।”
সাবিনা বুঝতে পারলো নীলাভের মানসিক কন্ডিশন ভালো নেই, নীলাভ ভেতর থেকে পুরোপুরি ভাবে ভেঙ্গে গেছে,
“তুমি এখন যাও, আমার ভালো লাগছেনা।”
সাবিনার মন সায় দিচ্ছেনা ছেলেকে এই অবস্থায় একা রেখে যেতে, সাবিনার অসহায় চাহনি দেখে নীলাভ হাসতে হাসতেই বলল,
“ভয় পাচ্ছো কেনো? আমি বলেছি তো আমি আ*ত্ম'হ*ত্যা করবোনা, তুমি যাও।”
সাবিনা কিছু বলতে যাবে তার আগেই নীলাভ অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,
“কালকের দিনটা মনে আছে মা?"
সাবিনা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে নীলাভের দিকে তাকায়,
নীলাভ শান্তকন্ঠে বলে ওঠে, “আগামী কালকে তরু আর আমার প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। গত বছর এই সময়টাতে তুমি তরুর আর আমার বিয়ে দেওয়ার জন্য জেদ করছিলে। আমিও তোমাকে উল্টো পাল্টা বলে ফেলেছিলাম, তারপর তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে, তোমার মনে আছে?”
সাবিনার সব কথাই মনে আছে,
“তুমি আমাকে বলেছিলে আমি নাকি কোনো একদিন জোর করে বিয়ে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো। আমি আজ করছি মা, আমি সত্যিই তোমার কাছে কৃতজ্ঞ, আমি যে কয়টা দিন তরুর সাথে কাটাতে পেরেছি তোমার জন্যই পেরেছি। তুমি সেদিন জোর না করলে আমি হয়তো কোনোদিন তরুকে একমূহুর্তের জন্যও পেতাম না।”
সাবিনা নীলাভের কথা গুলো মন দিয়ে শুনলো,
“তুমি নিশ্চিন্তে গিয়ে ঘুমাও মা, আমার কিছুই হবেনা। আমি এতো সহজে ম'রবোনা।”
সাবিনা কান্নাভরা চোখে নীলাভের দিকে তাকাল, ছেলেটা কি বুঝতে পারে যে মায়ের সামনে এসব কথা বললে মায়ের কেমন লাগে? অবশ্য বুঝতে না পারাই স্বাভাবিক পুরুষ জাতি কি আর মায়ের মন বুঝবে? সাবিনা নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরপায়ে রুম ত্যাগ করলো, নীলাভ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো এখন রাত ১১ টা বাজে, নীলাভ মুচকি হাসি দিয়ে আলমারি থেকে একটা লাল রঙের শার্ট আর একটা কালো রঙের প্যান্ট বের করল, তারপর সেগুলো পড়ে আয়নার সামনে দাড়াল, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে সে নিজেই অবাক হয়ে গেল। আজকে বহুদিন পর আয়নায় নিজেকে দেখে তার নিজেরই করুণা হচ্ছে, নীলাভ হাসতে লাগল,
“ভালোই দেখতে লাগছে, একদম ভূতের মতো। তরু আজকে আমাকে এই অবস্থায় দেখলে হয়তো আর কখনো ফিরেও তাকাবেনা। অবশ্য না তাকালেই ভালো, আমি তো এসবের যোগ্যই নই।”
নীলাভ নিজের চুলগুলো আচড়ে গাড়ির চাবিটা আর ফোনটা হাতে নিল, দরজা অব্ধি গিয়ে আবার কিছু একটা মনে করে ফিরে এলো। তারপর একটা অদ্ভুত হাসি দিয়ে নিজের আঙ্গুল থেকে আংটিটা খুলে ফেলল। সেটা ড্রেসিং টেবিলের উপরে রেখে বলল,
“আমি চাইনা আজকে আমার লোকেশন তোকে জানাতে।”
নীলাভ চুপচাপ এক্সট্রা চাবির সাহায্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।
,
লিজা—“তরু তোর কি হয়েছে? আজকে এতো সাজুগুজু করছিস কেনো, ব্যাপার কি?”
তরু লাল রঙের জর্জেট শাড়িটার আঁচল কাধের উপর ভাজ করতে করতে বলে,
“কালকে একটা স্পেশাল দিন আছে,”
লিজা মনে করার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু তরুর জন্মদিন কবে সেটা তারা জানেনা। তরু কখনো বলেনি। কালকে কি তাহলে তরুর জন্মদিন? লিজার ভাবনার মাঝেই আভিক আর বিভান দরজায় নক করে, তরু শাড়ির আঁচল ঠিকঠাক করে বলে,
“ভেতরে আয়,”
আভিক আর বিভান ভেতরে এসে তরুকে দেখে থ হয়ে গেল, মেয়েটাকে আজকে অনেক বেশিই সুন্দর দেখাচ্ছে।
বিভান বলল, “তরুহ তুই এতো রাতে সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছিস?”
“guess কর, সব কিছুই কি আমি বলে দেবো?”
লিজা—“বিভান তরু বলছে কালকে নাকি স্পেশাল দিন, তোদের কি মনে আছে কেনো?”
বিভান না বোধক মাথা নাড়ল, আভিক মনে করার চেষ্টা করতেই তার মনে পড়ে, “কালকে তরুর বিবাহ বার্ষিকী,”
আভিকের কথা শুনে বাকি ২ জন অবাক চোখে তরুর দিকে তাকায়,
লিজা—“তুই কি এনজের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিস?”
“নোহ, আমি ওর সাথে দেখা করতে যাবো কেনো? গিয়ে দেখ ওর হয়তো মনেই নেই,”
বিভান—“তাহলে এতো সাজার কারণ টা কি?”
“এমনি, স্পেশাল দিন বছরে একবারই আসে। আমি নষ্ট করতে চাইছিনা। নীলাভ নেই তো কি হয়েছে আমি একাই সেলিব্রেট করবো,”
আভিক—“ইশ আগে বলতি আমরা এরেঞ্জমেন্ট করতাম,”
“এরেঞ্জমেন্ট করে ফেলেছি।”
বিভান—“বাহ ভালো করেছিস! কিন্তু আগে বললে মোমোকেও আসতে বলতাম,”
তরু একজোড়া কালো রঙের এয়ারিং বের করে কানে দিতে দিতে বলল,
“সমস্যা কি এখন ফোন করে আসতে বল,”
“এখন তো ১১ টা বেজে গেছে,”
“তো সব বিশেষ দিনগুলোই তো ১২ টার পর সেলিব্রেট করা হয়, আগে বললেই কি ১২ টার আগে সেলিব্রেট করা যেতো?”
তরুর কথা শুনে বিভান মোমোকে কল দিল,
“হ্যালো মোম, আমার এক ফ্রেন্ডের আজকে marriage anniversary হঠাৎ করেই পার্টির প্ল্যান করা হয়েছে তুমি আসতে পারবে?”
“অফকোর্স আসবো, তুমি লোকেশন পাঠিয়ে দেও।”
বিভান খুশি হয়ে মোমোকে লোকেশন পাঠয়ে দিল,
তরু বলে উঠল, “এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খুশি না হয়ে রেডি হয়ে আয়। নয়তো তোদেরকে ছাড়াই চলে যাবো। আর হ্যাঁ সবাই ব্ল্যাক আউটফিট পড়বি, আজকের ফাংশনের কালার কোড রেড এন্ড ব্ল্যাক, রেড আমার জন্য ব্ল্যাক তোদের জন্য।”
৩ জনই রেডি হতে চলে গেলে তরু নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে নীলাভের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখে যে নীলাভ বাড়িতেই আছে, যা দেখে তরু একটা ফোস করে শ্বাস ছাড়লো,
“আজকের দিনটাও ভুলে গেলে তাইনা? হাহ মনে থাকলে কিছুতেই রুমে বসে থাকতে পারতেনা।”
,
নীলাভ ড্রাইভ করে মিড নাইট ব্রিজের উপর আসলো, তারপর গাড়ি থেকে নেমে ব্রিজের রেলিঙের উপর হাত রেখে দাড়াল, আজকে আকাশে চাঁদ নেই। তবে মেঘের উপস্থিতি আছে, চারপাশের ঝড়ো আবহাওয়া জানান দিচ্ছে আজকে বৃষ্টি হবার আশংকা রয়েছে,
“তরুহ, কই তুই? কোথায় গেলে তোকে পাবো?”
নীলাভ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, বারোটা বাজতে আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি আছে, নীলাভ একটা হাসি দিয়ে গাড়ির ভেতর গিয়ে গাড়িতে থাকা সাউন্ড বক্সটায় একটা গান প্লে করলো তারপর পাশের সিটের উপরে থাকা ছুরিটা হাতে তুলে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। নীলাভের মাথাই কাজ করছেনা সে ব্রিজের উপর নিজের বাম হাতটা রেখে ছুরি দিয়ে আঁ'চড় কাটতে লাগলো আর পাগলের মতো চিৎকার করতে লাগল, তার চিৎকারের সাথে গানের সাউন্ড মিলেমিশে ***কেমন যেনো ভয়ংকর এক আবহাওয়া সৃষ্টি করল,
চলো বলে ফেলি কতো কথা কলি,
জন্মেছে বলতে তোমায়,
তোমাকে চাই,
ঝলসানো রাতের এই পোড়া বরাতে,
তুমি আমার অন্ধকার আর রোশনাই,
কার্ণিশে আলতা মাখানো,
দিনেরা ঢলে পরে রাতে,
তারপরে রাত্রি জাগানো,
বাকিটা তোমারই তো হাতে,
জেগে জেগে আমি শুধু ঘুমিয়ে পড়তে চাই
থেকে থেকে সেই মেঘেতে যাই বেড়াতে যাই
তোমাকে পাই,
জানো কি কেনো দিনদুপুরে স্বপ্নে ভিজেছি?
মানো কি কেনো রাত্রি হয়ে নামতে বসেছি?
প্রতিদিন সবসময় দেখা দেখি হলে খুব ভালো হয়
ক্ষতি নেই কাছে না বলে কয়েই চলে এলে
দেখো সেই খুশি সাজাবো আমি হাজার ফুলে
প্রতিদিন সবসময় দেখাদেখি হলে বড় ভালো হয়
চলো বলে ফেলি কতো কথা কলি,
জন্মেছে বলতে তোমায়,
তোমাকে চাই,
ঝলসানো রাতের এই পোড়া বরাতে,
তুমি আমার অন্ধকার আর রোশনাই,***
গানটা শেষ হতেই নীলাভ বিজ্রের রেলিঙে মাথা ঠেকিয়ে বসে পড়লো, নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে পাগলের মতো হাসতে লাগলো। নিজের হাতের অবস্থা দেখে সে স্যাটিসফাইড হয়েছে,
“I belong to Torulota.”
লেখাটা মনে মনে আওড়াতেই নীলাভের মুখের হাসিটা কান্নায় রূপ নিল,
“তোর এই বাক্যাংশটা অনেক ভালো লেগেছিলো তাইনা? দেখ আমি লিখে দিয়েছি, এখন আর আমি ভুলে যাবোনা কখনো, যে আমি তোর অধীনে। তোর পছন্দ হয়েছে তরু? আমি জানি তোর এটা খুব পছন্দ হবে, তুই চাইলে আমি আমার অন্য হাতেও লিখতে পারি,”
নীলাভ নিজের অন্যহাতে লেখার জন্য ছুরিটা চালিয়ে "I" অক্ষর টা লেখা মাত্রই সে সেন্সলেস হয়ে যায়।
,
সবাই রেইনবো ক্লাবে বসে পার্টি এনজয় করছে, কিন্তু তরু এককোণে চুপচাপ বসে আছে। নীড় আর নৌশিকে খাইয়ে এনি মিনির কাছে রেখে এসেছে, কল দিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে ওরা ঘুমিয়েও গেছে। তবুও তরুর মনটা কিছুতেই শান্ত হচ্ছেনা, বারবার গলা শুকিয়ে আসছে। তরু নীলাভের লোকেশন বাড়িতে দেখেও শান্ত হতে পারছেনা,
“এরকম কেনো লাগছে? কেনো মনে হচ্ছে কোথাও খুব খারাপ কিছু হচ্ছে? নীলাভ তো বাড়িতেই আছে, আচ্ছা ও ঠিক আছেতো?”
তরুকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে মোমো এগিয়ে আসলো,
“আরে মিসেস ত্রানা, তুমি যে বিভানের বন্ধু হও সেটা তো আমি জানতামই না, স্যার কোথায়? উনি আসলেন না কেনো?”
তরু কিছুই বললোনা চুপচাপ বসে রইল, বিভান এসে মোমোকে টেনে সাইডে নিয়ে গেল,
“মোম তুমি তরুর কাছে যেওনা, ওর মন মেজাজ এখন ভালো নেই।”
“ওয়েট তুমি ওকে তরু বলে ডাকছো কেনো? ওর নাম তো ত্রানা তাইনা?”
বিভান পরিস্থিতি সামলাতে বলে ওঠে, “ওর নাম ত্রানা, তবে আমরা ওকে তরু বলেই ডাকি এটা ওর নিকনেম।”
“বুঝলাম কিন্তু মন খারাপ কেনো ওর? আর ত্রানার বিবাহ বার্ষিকীতে ওর হাজব্যান্ড নীলাভ খান আসলোনা কেনো?”
বিভান এবার বেশ বিরক্ত হলো এই মোমকে এখানে আনাটাই তার ভুল হয়েছে,
“মোম তুমি নীলাভ খানের কথা কেনো বলছো? আমি জানি ওনার উপর তোমার ক্রাশ ছিলো, তাই বলে এখনো তুমি ওনার প্রতি এতোটা কনসার্ন? দ্যাটস নট ফেয়ার,”
বিভান রেগেমেগে অন্যদিকে চলে গেল, মোমোও ব্যাপারটা এক্সপ্লেইন করতে করতে বিভানের পিছু পিছু চলে গেল,
“তুমি আমাকে ভুল বুঝেছো বিভান, আমি তো জাস্ট,,,
দেড়টার দিকে বৃষ্টির পানি চোখে পড়তেই নীলাভের জ্ঞান ফেরে, নীলাভ ধীরপায়ে গাড়িতে গিয়ে বসে। হাত ভীষণ জালা করছে, বৃষ্টির পানি লাগার কারণে ব্যাথা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। নীলাভ হাতের দিকে তাকিয়ে হাসলো। সে বেশ বড় বড় করেই লিখেছে, ছুরি দিয়ে লেখার কারণে ক্ষতটাও খুব গভীর হয়েছে যার কারণে র'ক্ত পড়া থামছেনা, সেন্সলেস থাকার কারণে নীলাভ মোটামুটি বেশ ভালোই ভিজে গেছে। নীলাভ গাড়ি ঘুরিয়ে রেইনবো ক্লাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো, রেইনবো ক্লাবেই ১২ বছর পর তরুর সাথে নীলাভের প্রথম দেখা হয়েছিল। সেই হিসেবে সে আজকে রেইনবো ক্লাবে যাওয়াটা আগেই ঠিক করে রেখেছিলো। সেন্সলেস হয়ে যাওয়ার কারণে তার দেরি হয়ে গেল।
নীলাভ ক্লাবে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেল, আজকে হয়তো এখানে কোনো পার্টি চলছে। তবে সেসব দিয়ে তার কাজ নেই, সে এসেছে এখানে কিছুক্ষণ বসে বসে কান্না করবে, জীবনে প্রথম বারের মতো ড্রিংকস করবে তারপর চলে যাবে। নীলাভ সেদিন তরু যেই টেবিলে বসে ড্রিংকস করেছিল সেই টেবিলে গিয়েই বসলো, আজকে পার্টি হওয়াতে লোকজন বেশি, নীলাভ একটা ওয়েটারকে ডেকে অর্ডার করলো,
“One bottle whiskey & two bottle whine.”
তরু নীলাভের সামনের টেবিলেই উল্টো দিকে ঘুরে বসে ছিল, নীলাভের কন্ঠ শুনে তরু পেছনে ফিরে তাকাল, মুহূর্তেই নীলাভকে দেখে তরু সামনে ফিরে তাকায়।
“নীলাভ! নীলাভ এখানে কি করছে?”
তরু নিজের ফোনটা বের করে দেখল নীলাভের লোকেশন এখনও বাড়িতেই দেখাচ্ছে, তরু পুনরায় চোরাচোখে একবার নীলাভের দিকে তাকাল।
“হায় আল্লাহ, এসব কি হচ্ছে? আমি তো ড্রিংকস করিনি তাহলে আমি কি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখছি? নাকি হ্যালুসিনেসন হচ্ছে?”
তরু চুপচাপ নিজের জায়গায় বসে রইল,
“তরু কুল ডাউন, তুই ভুলভাল দেখছিস। নীলাভ এখানে নেই,”
নীলাভ মাথা নিচু রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। ঠান্ডায় নাক বন্ধ হয়ে গেছে, বৃষ্টিতে ভেজার কারণে জ্বরও এসে গেছে বোধহয়। ওয়েটার নীলাভের অর্ডার দিয়ে যেতেই নীলাভ একগ্লাস উইস্কি নিয়ে প্রথম বারের মতো উইস্কির গ্লাসে চুমুক দিল, চুমুক দিতেই সে মনে মনে বলে উঠল,
“হোয়াট দ্যা ফা*ক?”
নীলাভের স্বাদটা মোটেও ভালো লাগলোনা, তবুও সে খেতে লাগল। আস্তে আস্তে স্বাদটা ততটাও বাজে লাগছেনা, নীলাভ মনে মনে বলল,
“হোয়াইন খারাপ লাগলেও উইস্কির থেকে বেটার, আই থিংক আমার বিয়ার টেস্ট করে দেখা উচিৎ, আফটার অল এখন থেকে এগুলোই আমার মেইন খাবার হতে চলেছে, অভ্যাস করতে হবে।”
নীলাভ একবোতল উইস্কির অর্ধেক টা আর একবোতল হোয়াইন পুরোটা খেয়েছে, সে ওয়েটার কে ডাক দিলো,
“ওয়েটার one bottle beer please,”
নীলাভের কন্ঠশুনে তরু এবার পুরোপুরি সিওর হয়ে গেল যে তার পেছনে নীলাভই আছে, নীলাভের অর্ডার শুনে তরু অবাক হয়ে গেল,
“নীলাভ এসব খেতে এখানে এসেছে? আর ওর লোকেশন বাড়িতে দেখাচ্ছে কেনো? তাহলে কি ও আংটিটা খুলে ফেলেছে? শিট আমার আগেই বোঝা উচিৎ ছিলো,”
নীলাভ পুরোপুরি ড্রাংক হয়ে গেছে, সে সামনে তাকাতেই একটা মেয়ের পেছন সাইড দেখলো, মেয়েটা লাল শাড়ি পড়ে আছে, সাথে কালো ব্লাউজ। খোপা করা চুলগুলোতে লাল আর কালো গোলাপ গোজা, নীলাভ ভ্রু কুচকে মেয়েটার দিকে তাকাল। পরমূহুর্তেই মাথা ঝেকে চোখ সরিয়ে নিল,
“I belong to Torulota, So, it is forbidden for me to look at a girl, whether from the front or from behind.”
নীলাভ ড্রাংক হওয়াতে কথাগুলো মনে মনে না বলে স্বাভাবিকভাবেই বলে ওঠে, নীলাভের কথাগুলো শুনে তরু স্তব্ধ হয়ে যায়। আভিক আর লিজা তরুর দিকে এগিয়ে এসে বলে,
“তুই পার্টি দিয়েছিস কি এখানে চুপচাপ বসে থাকার জন্য নাকি?”
তরু ফিসফিসিয়ে বলে, “look behind,”
আভিক আর লিজা পেছনে তাকিয়ে নীলাভকে বসে বসে বিয়ার খেতে দেখে চিল্লিয়ে উঠতেই যাবে কিন্তু লিজা আভিকের মুখ চেপে ধরে আর আভিক লিজার মুখ চেপে ধরে। আভিক লিজাকে অন্য সাইডে নিয়ে গিয়ে বলে,
“এই এনজে এখানে কি করছে?”
“আমাকে জিজ্ঞেস করছিস কেনো? ওকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর,”
আভিক নিজের ফোন বের করে নীলাভের লোকেশন চেক করে দেখল, নীলাভ এখনো বাড়িতেই আছে।
“ওকে তো বাড়িতেই দেখাচ্ছে, তাহলে এখানে কিভাবে আসলো?”
“আশ্চর্য আমি কিভাবে জানবো?”
“এখন কি করবো?”
“তরুকে গিয়ে জিজ্ঞেস কর,”
আভিক তরুর দিকে তাকাতেই তরু ইশারায় তাদেরকে নিজেদের কাজ করতে বলে, বিভান মোমোকে বাড়িতে দিয়ে আসতে গেছে, নীলাভ পুরোপুরি আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে গেছে। সে খাচ্ছে আর কান্না করছে, তরু নীলাভের কান্না সহ্য করতে না পেরে উঠে চলে গেল। নীলাভ ড্রিংকস করতে করতে একপর্যায়ে টেবিলের উপরেই সেন্সলেস হয়ে যায়।
রাত ৩ টা,
নীলাভ টেবিলের উপর সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে আর তরু তার সামনে বসেই তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ওয়েটার এসে নীলাভকে ডাকতে যাবে তার আগেই তরু তাকে থামিয়ে দেয়,
“ভুলেও ওনাকে বিরক্ত করবেন না।”
“কিন্তু ম্যাম ক্লাব বন্ধ করার সময় হয়ে গেছে, আশেপাশে তাকিয়ে দেখুন আপনারা ছাড়া সবাই চলে গেছে।”
“আভিক ওদেরকে ভালো মতো বুঝিয়ে দে,”
আভিক তরুর কথামতো ওয়েটারকে নিয়ে অন্য সাইডে গিয়ে তার হাতে অনেকগুলো টাকা ধরিয়ে দেয়,
“এই টাকাগুলো নিয়ে যান এখান থেকে,”
,
নীলাভের মলিন চেহারাটা দেখে তরুর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, তরু নীলাভের পাশে গিয়ে বসলো। নীলাভের কাপড়গুলো নীলাভের গায়েই শুকিয়ে গেছে, তরু কাপাকাপা হাতটা নীলাভের কপালের উপর রাখতেই ঘাবড়ে যায়,
“ওর তো অনেক জ্বর এসেছে,”
আভিক বলল, “ওর কথা বাদ দে তরু, আজ বাদে কালকে তোর ফ্লাইট। তুই নীড় আর নৌশিকে নিয়ে লন্ডনে চলে যাবি। এখন তো আমাদের বিয়ের জন্য আছিস। তখন হয়তো এনজের প্রতিদিনই এই অবস্থা হবে।”
তরু রাগী চোখে আভিকের দিকে তাকালো লিজা বলে উঠলো,
“তুই যখন বিদেশে ছিলি তোকেও তো এরকম সিচুয়েশন ফেস করতে হয়েছিল। তখন তোর পাশে কেউ ছিলোনা তরু, তুই ওকে ছেড়ে এবার অন্তত নিজের কথা ভাব।”
তরু মিনমিনিয়ে বলে, “নিজের কথা ভাবতে গেলেই যে ওর কথা চলে আসে।”
লিজা—“ওকে এসবে অভ্যস্ত হতে হবে তরু, নইলে ও সারভাইভ করতে পারবেনা। চল বাড়িতে চল,”
তরু চিল্লিয়ে উঠল, “তোরা আমাকে স্বার্থপর বলে মনে করিস নাকি? তোদের কি মনে হচ্ছে আমি নীলাভের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এসব করেছি?”
আভিক বলে ওঠে, “হ্যাঁ অবশ্যই, কেনো আমরা কি ভুল মনে করছি?”
তরু অবাক চোখে আভিকের দিকে তাকায়, আভিক এই প্রথম তার কথার উপর পাল্টা কথা বলেছে,
“এভাবে তাকাচ্ছিস কেনো? তুই ওকে নিয়ে ভাবছিস কেনো সেটাই তো বুঝতে পারছিনা। ও তোর সাথে যেটুকু করেছে তুইও করছিস। এটাই তো হওয়া উচিৎ তাইনা? আচ্ছা তরু তুই ১২ বছর লন্ডনে থেকে তারপর আবার ওর কাছেই ফিরে আসার প্ল্যান করেছিস নাকি অন্য কোনো প্ল্যান আছে?”
লিজা আভিককে টেনে সরিয়ে নিল,
“এসব তুই কি বলছিস তোর মাথা ঠিক আছে?”
“আমার মাথা ঠিকই আছে, ওকে জিজ্ঞেস কর গিয়ে ও ঠিক কি করতে চাইছে। ও যদি ১২ বছর নীলাভকে কষ্ট দেওয়ার পর আবারও ওর কাছেই ফিরে আসতে চায় তাহলে আমার মনে হয়না যে ওর সেই চাওয়াটা পূরণ হবে। কারণ, এনজের অবস্থা দেখে আমার তো মনে হয়না যে ও ১২ বছর সারভাইভ করতে পারবে।”
“তরু পারলে ও পারবেনা কেনো?”
“কারণ তরুর মাঝে কোনো অনুশোচনা ছিলোনা, এখনও নেই। তাই ও পেরেছে আর ভবিষ্যতেও হয়তো পারবে। নীলাভের মধ্যে আছে, অনুশোচনা নিয়ে বাচা যায়না, তরুর মাঝে জেদ ছিলো, বেচে থাকার ইচ্ছা ছিলো। নীলাভের মাঝে এসব কিছুই নেই। তরুহ আমি তোকে বলতে চাইছি, তুই ওকে ছেড়ে যেতে চাইলে যেতেই পারিস। তোর সেই চাওয়াটা ভুল হবেনা কিন্তু তুই যদি কখনো ওর কাছে ফিরে আসার প্ল্যান করেই রাখিস তাহলে ওকে ছেড়েই যাসনা।”
আভিকের কথা শুনে তরু উঠে চলে যেতে নেয় তার আগেই নীলাভ তরুর হাত ধরে ফেলে, তরু চমকে নীলাভের দিকে তাকায়,
“তরু,,,যাসনা প্লিজ”
নীলাভের জ্ঞান ফিরেছে কিন্তু নে'শা কাটেনি। নীলাভের জড়ানো কথা গুলো শুনে তরু একটা শ্বাস ছাড়লো। তরু নীলাভের হাত ছাড়ানোর জন্য নীলাভের হাত ধরতেই চিটচিটে আঠালো কিছু অনুভব করে, তরু একমূহুর্ত না ভেবে নীলাভের শার্টের হাতা ফোল্ড করতেই তার দৃষ্টি থমকে যায়। নীলাভের পুরো হাত রক্তে লাল হয়ে আছে, তরু ধপ করে সেখানেই বসে পড়ল। পুরো শরীর কাপছে, তরুর এরকম অবস্থা দেখে আভিক আর লিজা তরুর দিকে এগিয়ে যায়,
লিজা—“কি হয়েছে তরু?”
নীলাভ তরুর থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলে তরু শক্ত করে নীলাভের হাত চেপে ধরে। নীলাভ ককিয়ে উঠল,
“আহ ছা,,,ড়।”
তরু নীলাভের হাত সোজা করতেই সেখানের লেখাগুলো তরুর চোখে পড়ে, এই অবস্থা দেখে তরুর সাথে সাথে বিভান আর লিজাও হতবাক হয়ে যায়। তরু অস্ফুটস্বরে বলে ওঠে,
“এ,,,টা ও কি করেছে আভিক?”
চলবে,
শব্দসংখ্যা- ৩৩০০+