#আমি_তরুলতা (৬০)
#সোফিয়া_সাফা
নীলাভ এবার জোর করে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।
“এগুলো,,,মেহেন্দীর রঙ”
নীলাভের কথা শেষ হতেই তরু নীলাভের গালে চড় দিয়ে বসে,
“এসব কি করেছিস তুই? কেনো করেছিস?”
নীলাভ হাসতে লাগল, “আমার যা ইচ্ছা তাই করবো, তোর কি?
লিজা—“এনজে ড্রাংক হয়ে আজেবাজে বকছে, ওর সেন্স নেই।”
“আভিক তুই দাঁড়িয়ে আছিস কেনো, যা ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আয়।”
আভিক অবাক চোখে তরুর দিকে তাকাল। তরুর কন্ঠস্বর কাপছে। তরু নিজেকে শক্ত দেখালেও সে ভেঙ্গে যাচ্ছে, আভিক বুঝতে পারছেনা কি করা উচিৎ,
আভিক—“তরু তুই লিজার সাথে চলে যা আমি এনজের হাত ব্যান্ডেজ করে ওকে বাসায় দিয়ে আসবো।”
তরু নাক টেনে বলল, “আমি যাবোনা, তুই যা ফার্স্ট এইড নিয়ে আয়।”
লিজা—“তরুহ,,,
“বেশিই কথা বলাচ্ছিস আমাকে দিয়ে,”
লিজা চুপ হয়ে গেলো। আভিক ফার্স্ট এইড এনে তরুর হাতে দিল। তরু নীলাভের হাত ধরতে গেলে নীলাভ ছাড়িয়ে নেয়।
“হাত দে এদিকে,”
নীলাভ তাও হাত দেয়না।
“হাত দে বলছি, বেশি বাড়াবাড়ি করছিস।”
নীলাভ বাচ্চাদের মতো বলে ওঠে, “তুই আমার সাথে থাকবি বল তাহলে দেবো।”
আভিক বিরবির করে বলল, “পাগল হলেও ভাতের খেয়াল আছে। ড্রাংক হয়েও এই কথাটা ভোলেনি,”
তরু এবার চিল্লিয়ে ওঠে, “হাত দে বলছি, নইলে,,,
নীলাভ সোজা হয়ে বসে, তার চোখজোড়া টকটকে লাল হয়ে গেছে, সেই সাথে চেহারার অবস্থাও শোচনীয়, তরু নীলাভের থেকে চোখ সরিয়ে অন্যদিকে তাকায়,
নীলাভ মাতাল কন্ঠে বলল, “নইলে কি করবি তুই? দেখ তুই যদি আমার সাথে থাকতে রাজি হোস তাহলেই আমি নিজের হাত তোকে দেবো আর যদি থাকতে না চাস তাহলে চলে যা।”
তরু ফের চিল্লিয়ে বলে ওঠে, “লাস্ট বারের মতো বলছি, হাতটা এদিকে দে।”
তরুকে অবাক করে দিয়ে নীলাভও চিল্লিয়ে বলে ওঠে,
“দেবোনা,”
“শ্যুট করে দেবো কিন্তু।”
তরুর কথা শুনে নীলাভ হেসে ওঠে,
“দে শ্যুট করে দে, কোথায় করবি বল। আমি তো বলবো আমার মাথায় কর। এখানেও করতে পারিস,”
নীলাভ নিজের বুকের বা পাশে হাত রেখে বলল,
“এখানে অনেক ব্যাথা করছে, তুই এখানেই শ্যুট কর প্লিজ। শ্যুট মি, আমি তোর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।”
তরু আর সহ্য করতে পারলোনা, তার চোখ থেকে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল, সে নীলাভকে কখনোই এই অবস্থায় দেখতে চায়নি। সে চায়নি নীলাভের লাইফ হেল করে দিতে, সে নীলাভকে ভালোবাসে। তরু নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে নীলাভকে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠল।
“প্রেম তুই কেনো এরকম টা করেছিস? আমি এসব চাইনি, আমি এসব চাইনি।”
তরু নীলাভের বুকে মাথা রাখা মাত্রই নীলাভ থমকে গেছে। তরু নীলাভের শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা অনুভব করতে পেরে আরও কান্না করতে লাগল,
“প্রেম আমার, তুই কেনো নিজেকে কষ্ট দিয়েছিস? তোকে কে অধিকার দিয়েছে এমন করার? তোর সবকিছু আমার। তোর মন, শরীর, আবেগ, অনুভূতি সব আমার তোর নিজেরও অধিকার নেই এগুলোতে হস্তক্ষেপ করার।”
“আমি তোর তরু, তুই আমাকে নিজের কাছে রাখ। নইলে আমি বিলীন হয়ে যাবো, আমি নিঃশেষ হয়ে যাবো।”
নীলাভ ড্রাংক ছিল সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে তরুকে এলোমেলো কিস করতে লাগল, আভিক তো চোখ বড়বড় করে সেদিকেই তাকিয়ে আছে যা দেখে লিজা তার পিঠে চাপড় মেরে তাকে টানতে টানতে অন্যদিকে নিয়ে চলে যায়। নীলাভের ঠোঁটের এলোমেলো স্পর্শে তরু বারবার কেপে উঠছে,
“কন্ট্রোল ইওরসেলফ মিস্টার এনজে, এটা একটা ক্লাব।”
তরুর কথা শুনে নীলাভ তরুকে জড়িয়ে ধরে,
“কি করলে তুই আমাকে ছেড়ে যাবিনা তরু? বল আমাকে আমি সব করবো।”
“হাতটা দেও ব্যান্ডেজ করে দেই। তারপর এসব করার জন্য কঠিন শাস্তি দেবো।”
নীলাভ তরুকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল,
“আরে আমার হাড়গোড় ভেঙে যাবে,”
“তুই আমাকে সবরকম শাস্তি দিতে পারিস তরু, শুধু আমাকে ছেড়ে যাসনা।
“হুম, আমি কোথায় যাবো? আমার পিছুটান তুমি আমার অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যৎ তোমাকে ঘিরেই, হয়তো এর জন্য আমাকে আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হবে। প্রচন্ড বেহায়া হতে হবে, কিন্তু আমি হবো।”
“আমি তোকে মাথায় তুলে রাখবো। আজ থেকে আমি তোর সার্ভেন্ট, তোর আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে হবেনা তরু, আমি শুধুমাত্র তোর পাশে থাকতে চাই, তোর কোনো বিষয়ে কক্ষনো আমি হস্তক্ষেপ করবোনা। তুই যদি না করিস তাহলে তোকে টাচও করবোনা। শুধু আমার সাথে থেকে যা, আমি প্রতিদিন সকালে উঠে তোর মুখটা দেখতে চাই। আমি নিজেদের ছেলেমেয়ের সাথে সময় কাটাতে চাই, ওদের বড় হওয়ার প্রতিটা মূহুর্ত তোর সাথে উপভোগ করতে চাই। ওদের ছোটো ছোটো হাত ধরে ওদেরকে হাটতে শেখাতে চাই।”
“ওকে তাহলে আপাতত ৫ মিনিটের জন্য ডোন্ট টাচ মি।”
নীলাভ তরুকে ছেড়ে দিল। তরু মেডিসিন নিয়ে নীলাভের হাতে লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল।
“ওঠো বাড়িতে যাবো।”
নীলাভ তরুর কথামতো উঠে দাড়াল কিন্তু ড্রাংক হওয়ার কারনে তার পাজোড়া দূর্বল অনুভব করছে, নীলাভ পড়ে যেতে নিলে তরু তাকে ধরে ফেলে। তারপর নীলাভকে ধরে ধরে গাড়িতে নিয়ে বসায়। তারপর ড্রাইভ করে তার হোটেলের বাড়িতে নিয়ে আসে। কারণ নীলাভকে সে প্যালেসে নিতে পারবেনা। তরু নীলাভকে ধরে লিফটে ওঠায় তারপর ২০ নম্বর ফ্লোরে বাটন প্রেস করে।
তরু নীলাভকে নিয়ে নিজের ফ্লোরের সামনে এসে দরজায় পাসওয়ার্ড এন্টার করতেই নীলাভ হাসতে লাগল, তার হাসি দেখে তরু ভ্রু কুচকে নীলাভের দিকে তাকায়,
“হাসছো কেনো? বেশিই ড্রাংক হয়ে গেছো দেখছি,”
“আমি তোর ডোরের লক দেখে ফেলেছি,”
নীলাভের কথা শুনে তরু ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়ল,
“তোর ডোরের পাসওয়ার্ড Nilavismine.”
“তেমন কিছুই না ভুল দেখেছো।”
তরু দরজা খুলে নীলাভকে বিছানায় বসিয়ে দিল। তারপর ড্রয়ার থেকে নীলাভের জন্য কাপড় বের করে দিল। নীলাভ তো শুধু তরুর দিকেই তাকিয়ে আছে,
“তোকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে,”
নীলাভের কথা শুনে তরু কোনো রিয়েক্ট করলোনা।
“কাপড় চেঞ্জ করে নেও, তোমার গায়ে প্রচুর জ্বর।”
নীলাভ তরুর হাত থেকে কাপড় গুলো নিয়ে চেঞ্জ করতে লাগল, তরু নীলাভের জন্য লেবুর শরবত বানাতে কিচেনে চলে গেল, তরু ফিরে এসে নীলাভের উদ্দেশ্যে বলে,
“ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে লেবুর শরবত খেয়ে নেও নে'শা কেটে যাবে।”
নীলাভ উঠে দাড়াল,
“ওয়াশরুম ওই দিকে,”
নীলাভ ফ্রেশ হয়ে আসতেই তরু নীলাভকে লেবুর শরবত দিল। নীলাভ সেটা খেয়ে নিল,
“কেমন লাগছে এখন?”
“হুম ভালো লাগছে থ্যাংকিউ,”
তরু নীলাভের কপালে হাত রেখে দেখল নীলাভের শরীরে অনেক জ্বর,
“তোমার তো অনেক জ্বর,”
“ডোন্ট ওয়্যারি, কমে যাবে তুই শুধু আমার সাথে থাক। থাকবি তো তরু?”
নীলাভ তরুর হাত ধরে বলে উঠল,
“আমার এখনো ভয় করছে প্লিজ তুই আমাকে ছেড়ে যাসনা।”
তরু একহাতে নীলাভের এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করতে করতে বলল,
“যাচ্ছিনা কোথাও ভয় পেওনা। জাষ্ট একবার সুস্থ হও তারপর যা করেছো তার জন্য শাস্তি পাবে। তুমি রেস্ট নেও, আমি তোমার জন্য কিছু রান্না করে আনছি। দেখি ফেবারের মেডিসিন আছে নাকি, নইলে আনিয়ে নেব।”
তরু কিচেনে চলে গেল, নীলাভ চুপচাপ খাটে শুয়ে পড়ল। তার ভীষণ শরীর খারাপ লাগছে, সেই সাথে প্রচন্ড পরিমানে মাথা ব্যাথা করছে, তরু কাপড় বের করে চেঞ্জ করতে যেতে নিলে নীলাভের বলা কথাটা মনে পড়ে যায়,
“তোকে আজকে অনেক সুন্দর লাগছে”
কথাটা মনে পড়তেই তরু শাড়িটা চেঞ্জ না করেই রান্না করতে চলে যায়। তরু নীলাভের জন্য চিকেন স্যুপ আর পাস্তা রান্না করেছে, সে জানেনা নীলাভ জ্বরের মুখে এসব খেতে পারবে কিনা। কিন্তু ওষুধ খেতে হলে তো আগে কিছু খেতে হবে। তরু রান্না করে খাবারগুলো এনে খাটের পাশে থাকা টি টেবিলের উপরে রাখল, সে খেয়াল করে দেখলো নীলাভ শীতের কারনে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। তরু গিয়ে একটা কম্ফোর্টার বের করে নীলাভের গায়ে জড়িয়ে দিল। এরই মাঝে কেউ একজন দরজায় নক করে তরু গিয়ে দরজা খুলে দিতেই ন্যাঞ্চি এসে হাজির হয়। শেষরাতে কাউকে ডিস্টার্ব করতে চায়নি তরু, আর ন্যাঞ্চি যেহেতু এই ফ্ল্যাটেই থাকে সেহেতু তরু তাকেই কল দিয়ে মেডিসিন আনতে বলেছিল, ন্যাঞ্চি একটা প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ত্রানা ম্যাম অনেক দিন পর আপনাকে দেখে ভালো লাগল। এখানে মেডিসিন আছে যদি আরও কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে আমাকে কল দেবেন।”
তরু প্যাকেট টা হাতে নেয়,
“অবশ্যই থ্যাংকিউ ন্যাঞ্চি,”
ন্যাঞ্চি চলে গেলে তরু এসে নীলাভের পাশে বসে, “নীলাভ উঠে খেয়ে নেও,”
তরুর ডাকে নীলাভ বাধ্য ছেলের মতো উঠে বসতে নেয়, কিন্তু তার শরীর ছেড়ে দিয়েছে। তরু নীলাভকে উঠে বসতে হেল্প করে, নীলাভ হাসিমুখে তরুর দিকেই তাকিয়ে আছে, তরু একচামচ স্যুপ নিয়ে নীলাভের মুখের সামনে ধরল,
“হা করো,”
নীলাভ হা করল, তরু পুরোটা স্যুপ নীলাভকে খাইয়ে দেয়। তরু একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে,
“পাস্তা রান্না করেছি খেতে পারবে?”
“তুই যা দিবি সব খেতে পারব।”
তরু অবাক চোখে নীলাভের দিকে তাকায়, নীলাভের চোখদুটো এখনো লাল। চেহারা ফ্যাকাসে, নীলাভের শরীরের অবস্থা যে খারাপ সেটা নীলাভকে দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে,
“কি পেলে এরকম টা করে?”
নীলাভ হাসিমুখে বলল,
“তোর এটেনশন, এইযে নিজে থেকেই আমার কাছে এসেছিস। এখন থেকে আমাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে ১০০ বার ভাববি।”
“আমার ডায়লগ আমাকেই ফেরত দিচ্ছো দেখছি।”
“আমি তোকে সবকিছু ফেরত দিতে চাই তরু, আমাকে যতোটা ভালোবাসা দিয়েছিস আমি সব ফেরত দিতে চাই। কিন্তু আমি হয়তো সেসব পারবোনা। আমি বাকিটা জীবন তোর সার্ভেন্ট হয়ে থাকলেও তোর সেই ভালোবাসা শোধ করতে পারবোনা।”
তরু কথার মাঝেই নীলাভকে খাইয়ে দিতে লাগল, নীলাভ মুখের খাবার শেষ করে বলল,
“একটা কথা বলবো তরু?”
তরু ভ্রু কুচকে নীলাভের দিকে তাকায়, নীলাভ হাসিমুখে বলে,
“আমি তোকে ডিজার্ভ করিনা এটা যেমন সত্য ঠিক তেমনি তুই পৃথিবীর সব ভালো কিছু ডিজার্ভ করিস এটাও সত্য।”
নীলাভের কথা শুনে তরুর ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠল,
“flirt করছো আমার সাথে?”
নীলাভ না বোধক মাথা নাড়ায়,
“বউয়ের সাথে ফ্লার্ট করতে হয়না, বউকে ভালোবাসতে হয়। তুই খাচ্ছিস না কেন?”
নীলাভ তরুর হাত থেকে চামচ টা নিয়ে তরুকেও খাইয়ে দেয়,
“তুই রান্নায় অনেক পারদর্শী, তোর মতো বউ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমার ভাগ্য অনেক ভালো, আল্লাহ আমার ভাগ্যের উপর যেন কারো নজর না লাগে।”
“জ্বরের ঘোরে উল্টো পাল্টা বকছো, মাথা ঠিক নেই বুঝতে পেরেছি।”
“তোর মনে হচ্ছে আমার মাথা ঠিক নেই? তার মানে আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি তাইনা? তুই তো কিছু মনেই করবিনা কারণ আমার তো মাথাই ঠিক নেই,”
তরু কিছু বলতে যাবে তার আগেই নীলাভ তরুর কোমড় চেপে ধরে তরুকে নিজের কাছে টেনে নেয়, তরু নীলাভের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইলে নীলাভ আরও শক্ত করে তরুকে নিজের সাথে চেপে ধরে।
“এই তোমার এতো শক্তি এলো কোথা থেকে? একটু আগে তো উঠে বসতেও পারছিলে না।”
“বউয়ের হাতের রান্না খেয়ে শক্তি বেড়ে গেছে, ভাবছি বউয়ের হাতের রান্না এতো মজা হলে বউ কতো মজা হবে।”
“ভালো হয়ে যাও, উদ্ভব কথাবার্তা বলছো।”
“বাট আমার তো মনে আছে তুই নিজেই একদিন নিজেকে অফার করেছিলি।”
*
নীলাভের কথা শুনে তরুর মনে পড়ে,
“ইউ আর সাচ আ জিলাপি গার্ল,”
“হোয়াট ডু ইউ মিন বায় জিলাপি গার্ল,”
“মানে হচ্ছে আপনি জিলাপির মতোই কথা পেচান।”
“জিলাপি কিন্তু শুধু প্যাচালোই হয়না অনেক বেশি মিষ্টিও হয়। ইউ ওয়ান্না ট্রায় সাম?”
*
সেইসময়ের কথা মনে পড়তেই তরু না চাইতেই ব্লাশ করে ফেলে,
“অফার টা সীমিত ছিলো, এখন available নেই। তাই এখন ছাড়ো আমাকে,”
“তুই সিরিয়াসলি চাস যে আমি তোকে ছেড়ে দেই?”
তরু মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে,
“মুখে বল,”
“I'm on my per!od”
তরুর কথা শুনে নীলাভ একটা শ্বাস ফেলে তরুকে ছেড়ে দিল। তরু নীলাভকে মেডিসিন খাইয়ে দিয়ে কিচেনে চলে গেল, তারপর সব গুছিয়ে রেখে নীলাভের পাশে এসে বসল, নীলাভ চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। তরু একটা শ্বাস ফেলে লাইট অফ করে দিয়ে এসে নীলাভের পাশেই শুয়ে পড়ল। তরু শুতেই নীলাভ তরুর দিকে ঘুরে তরুকে টেনে জড়িয়ে ধরে,
“স্যরি বিরক্ত করার জন্য কিন্তু আমার ঘুমের প্রয়োজন।”
“আমারও,”
তরুও নীলাভকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেল।
সকাল ৭:৩০ ফোনের শব্দে তরুর ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ মেলে দেখে নীলাভ তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে, নীলাভের বাম হাতপা তরুর গায়ের উপরেই আছে, তরু বেডসাইড টেবিলের উপর থেকে ফোনটা নিয়ে কানের কাছে ধরতেই নীড় আর নৌশির কান্নার শব্দ ভেসে আসে। যা শুনে তরু লাফ দিয়ে উঠে বসে, ফলস্বরূপ নীলাভের ঘুমও ভেঙে যায়। এনি ফোনের ওপর পাশ থেকে বলে ওঠে,
“কুইন বাচ্চারা অনেক কান্নাকাটি করছে, আপনি কোথায় আছেন?”
তরু বেড থেকে নেমে দাড়াল,
“আমি লোকেশন পাঠিয়ে দিচ্ছি, ওদেরকে নিয়ে চলে এসো।”
বলেই তরু কল কেটে দেয়, নীলাভ উঠে বসে ভ্রু কুচকে বলে,
“কি হয়েছে তরু এনিথিং রঙ?”
“নীড় আর নৌশি কান্না করছে।”
“কিন্তু ওরা এখানে নেই কেনো? কোথায় আছে ওরা?”
তরু খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলে ওঠে,
“ওরা এনি আর মিনির সাথে আমার এক ফ্রেন্ডের বাড়িতে আছে, রাতে ওখানেই ছিল।”
নীলাভ আর বেশি কিছু জিজ্ঞেস করল না। যদিও তরু নিজের কথাতেই ধরা পড়ে গেছে কারণ তরু এনিকে লোকেশন পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে, যার মানে এনি জানেনা যে তরু কোথায় আছে। তাহলে কি তরু এই ২ মাস এখানে ছিলোনা?
“কি ভাবছো? যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো,”
নীলাভ উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেল, নীলাভ বের হতেই তরু ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে চলে যায়। তখনই কেউ মেইন দরজায় নক করে নীলাভ দরজা খুলতেই এনিমিনি নীড় আর নৌশিকে নিয়ে ড্রইংরুমে প্রবেশ করে, এনিমিনি তো নীলাভকে এখানে দেখে অনেক অবাক হল।
এনি— “স্যার আপনি এখানে?”
“হুম,”
নীলাভ নীড় আর নৌশিকে কোলে তুলে নিল। তারপর দুজনের কপালেই চুমু দিল।
“তোমরা ড্রইংরুমেই বসো, তরু ওয়াশরুমে আছে।”
নীলাভ নীড় আর নৌশিকে নিয়ে বেডরুমে গিয়ে বসল, নীড় আর নৌশির কান্না থেমেছে। তারা পিটপিট চোখে নীলাভের দিকেই তাকিয়ে আছে, নীলাভের সেদিনের কথা মনে পড়লো যেদিন সে নীড় আর নৌশিকে প্রথমবার কোলে নিয়েছিল।
“তোমাদের সাথে বাবা রাগ করেছি, তোমরা বাবাকে একটুও মিস করোনি। আমার জন্য একটুও কান্না করোনি, আর অন্যদিকে আমি প্রতিদিন তোমাদেরকে মিস করেছি কান্না করেছি। তোমরা বাবাকে একটুও ভালোবাসো না তাইনা? বাবাকে কতো সহজে ভুলে গেলে,”
নীলাভের কথাগুলো নীড় আর নৌশি বুঝলোনা তারা ঠোঁট ফুলিয়ে আবারও কেদে উঠল। নীলাভ ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়ল,
“মাকে ছাড়া কিছুই বোঝেনা, আমি কতো ভালোবাসি। আমার ভালোবাসার কোনো দামই নেই, আহঃ খুবই আশাহত হলাম,”
বাচ্চাদের কান্না শুনে তরু দ্রুত বেরিয়ে এলো। হাতের তোয়ালে টা ছুড়ে ফেলে নীলাভের দিকে এগিয়ে গেল,
“আমার কাছে দেও ওদেরকে।”
নীলাভ নীড় আর নৌশিকে তরুর কোলে দিয়ে তরুর পাশেই বসল, তরু নীলাভের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ওদের ক্ষুধা লেগেছে,”
“হুম বুঝতে পেরেছি,”
“ড্রইংরুমে যাও,”
“আমাকে যেতে হবে কেন, আমি থাকলে কি সমস্যা?”
তরুর হঠাৎ করেই মেজাজ খারাপ হল,
“তুমি আমার সার্ভেন্ট, যাও বেরিয়ে যাও। এক কথা একবার বলবো এর বেশি নয়, পাল্টা কোনো প্রশ্ন করবেনা,”
তরুর কথাগুলো শুনে নীলাভের একটু খারাপ লাগল, তবুও সে ভাবলো তরু ঠিকই বলেছে,
“তুমি যাবে নাকি আমি যাবো?”
নীলাভ চট করে দাঁড়িয়ে গেলো বেরিয়ে যেতে যেতে বলল,
“যাচ্ছি, আমিই বেরিয়ে যাচ্ছি।”
আধাঘন্টা পর তরু নীড় আর নৌশিকে খাইয়ে ড্রইংরুমে এসে দেখল এনিমিনি সোফায় বসে টিভি দেখছে, তরু ভাবলো তার ব্রেকফাস্ট রেডি করতে যাওয়া উচিৎ, কিন্তু নীলাভ কোথায়?
“এনিমিনি নীড় আর নৌশি ঘুমোয় নি ওদেরকে নিয়ে এসো যাও,”
তরুর কথা শুনে এনিমিনি উঠে দাড়াল,
“আ,,,নীলাভ কোথায় ওকে দেখেছো?”
মিনি বলল, “কুইন আমি স্যারকে কিচেনে যেতে দেখেছি,”
তরু ভ্রু কুচকে কিচেনের দিকে পা বাড়াল, তরু কিচেনে আসতেই থমকে গেল। নীলাভ রান্না করছে,
“তুমি এখানে কি করছো?”
নীলাভ তরুর দিকে ফিরে একটা হাসি দিয়ে বলল, “ভালো হাজব্যান্ড হতে পারিনি, তাই ভালো সার্ভেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছি।”
নীলাভের কথা শুনে তরুর কিছুক্ষণ আগে বলা কথাটার কথা মনে পড়ে,
“এসব করতে হবেনা, যাও গিয়ে ড্রইংরুমে বসো।”
“কিন্তু আমার রান্না প্রায় শেষ।”
তরু নীলাভের দিকে এগিয়ে এসে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে বলল,
“কি রান্না করছো?”
“আমি বেশিকিছু রান্না করতে পারিনা। নুডলস রান্না করছি, তবে তুই চিন্তা করিসনা আমি সব রান্না শিখে নেবো।”
বলেই নীলাভ রান্না করতে লাগল, তরু কিছুক্ষণ নীলাভের দিকে একমনে তাকিয়ে থেকে নীলাভের ডান হাত ধরে টানতে টানতে কিচেন থেকে নিয়ে যেতে লাগল,
“কি করছিস, নুডলস টা পুড়ে যাবে।”
তরু নীলাভকে ড্রইংরুমে এনে ছাড়ল,
“লিসেন, আজকের পর থেকে আমি যেনো কক্ষনো তোমাকে কিচেনে যেতে না দেখি।”
“বাট হোয়াই তরু কাম অন, আমাকে কাজটা ঠিকঠাক ভাবে করতে দে।”
“দরকার নেই, আর স্যরি তখন ওভাবে বলার জন্য। আসলে এই সময়টাতে আমার মাইন্ড ঠিক থাকেনা। তার উপর ওরা কান্না করছিল আম,,,
“শান্ত হ তরু, আমাকে এক্সপ্লেইন করতে হবেনা। আমি কিছুই মনে করিনি, উল্টো তোর সার্ভেন্ট হতে পারলেও আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। তাই প্লিজ আমাকে বাধা দিসনা।”
নীলাভ কিচেনের দিকে যেতে নিলে তরু বাধা দেয়, তারপর নীলাভের কপালে হাত রেখে চেক করে।
“জ্বর এখনো কমেনি, হাতের কি অবস্থা করেছো। এসব নিয়ে কিচেনে যেতে হবেনা। তুমি বরং শুয়ে রেস্ট নেও,”
“তরু,,,
“আমি আশা করবো তোমাকে এক কথা বারবার বলতে হবেনা।”
নীলাভ একটা শ্বাস ফেলে বেডরুমে চলে গেল।
চলবে,
শব্দসংখ্যা- ২৪০০+