ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ নীল চিঠি

৩য় পর্ব

লেখক: Sayma Noor

#বিষক্ত_নীল_চিঠি

#পর্ব_৩

#সায়মা_নূর

সোনালী রোদে পুকুরে পানিতে পরেতেই কেমন ঝকমকিয়ে উঠছে।

শীতল বাতাস চারপাশে, বাগানের নারিকেল গাছের পাতা হাওয়ায় দোলছে।

আরশাদ আলী শাহ সাইকেলে চড়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

মন্জু খাতুন নিজের হাতে রোপন করা সবজির চারা গুলো যত্ন নিতে ব্যস্ত। রাজিয়া বেগম আর নারগিস বারান্দায় কাঁচা সুপারির বস্তা নিয়ে বসেছে।

খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে কেটে রোদে শুকাতে দেবে,যাতে সুপারির কষ কমে যায়। রাজিয়া বেগম পান খায়। কিছুটা নিজের জন্য রাখবে বাকিটা বিক্রি করবে আশে পাশের বাড়ির মুরুব্বীদের কাছে।

বাড়িতে একই রকম চারটা মাটির দালান, পূর্ব পাশে পাশাপাশি দুইটা একই রকম তারপর উত্তর- দক্ষিণের সামনাসামনি দুইটা কোনটার সাথে কোনটার সংযোগ নাই।

আরশাদ আলী শাহর ৪ ছেলের জন্য উত্তর আর দক্ষিণের দালান গুলো বরাদ্দ করেছেন।

পূর্ব দিকের পাশাপাশি একটাতে আরশাদ আলী তার স্ত্রী মন্জু খাতুনকে নিয়ে থাকে ।আর পাশেরটাতে তার মা রাজিয়া বেগম থাকে। রাজিয়া বেগমের স্বামী মরে যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গী ছিল নারগিস ।নারগিসের বিয়ের পর যখনই বেড়াতে আসে তখন দাদীর সাথেই থাকে।

আর এখন তো মীরের বউ মায়াও তার সাথেই থাকছে। গ্রামের কুসংস্কার অনুযায়ী বাল্যবিবাহ অথবা শিশু বিবাহ জায়েজ, তবে নাবালিকাকে স্বামীর কাছে পাঠানো নাজায়েজ।

তাই গ্রামের নিয়ম অনুযায়ী যতদিন না পর্যন্ত মায়া সাবালক (মা সি ক)হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত স্বামীর ঘরে দেওয়া যাবে না।

গ্রামের কুসংস্কার অনুযায়ী একটা মেয়ে সাবালিকা (মা সি ক) স্বামীর বাড়িতে গিয়ে হওয়াটাই পবিত্র বলে গণনা করা হচ্ছে।

( ৯০ দশকের দিন গুলা যেমন সুন্দর ছিল তেমনই ছিল কুসংস্কার এ ভরা। 😶😶)

প্লেট বাটি ধুয়ে গুছিয়ে রেখে মায়া গুটিগুটি পায়ে চলে গেল মীরের ঘরে। এমনটা না এই ঘরে মায়া আসে না সে প্রতিদিন আসে দু বেলা করে ঝাড়ু দেয় পরিষ্কার করে।

মীরের কাপড় খুব সুন্দর করে আলনাতে গুছিয়ে রাখে,বিছানার টানটান করে রাখে, মাটির দেয়াল মাটির -মেঝে হওয়া সত্ত্বেও একদম পরিপাঠি ঘর ছকছকে ঝকঝকে পরিষ্কার।

মায়া গিয়ে দাঁড়ালো ঘরটার মধ্যখানে, মীরের উত্তরের বড় মাটির দালানে দুইটা রুম। উত্তরের শেষের দিকে রুমটাতে সে থাকে।

পাশের রুমটায় তার দোকানের যাবতীয়, নতুন আনা ,কিনবা পুরনো বাড়তি কাপড় গুলোকে বস্তা ভর্তি করে রাখা হয়।এক কথায় বলা চলে গোডাউন।

মায়া লক্ষ্য করল মীর কক্ষে নেই, সে ভাবলেও হয়তো বাহিরে আছে, তাই মায়া বাহিরে চলেই যাচ্ছিল।

কিন্তু তখনই পাশের ঘর থেকে শব্দ আসে, রুমের মাঝখানে পার্টিশনের দরজা দিকে তাকিয়ে মায়া দেখে মীর বের হয়ে আসছে। হাতে একটা বড় শপিং ব্যাগ, মিলন সেটা হাতে নিয়ে এসেই বিছানায় বসে তারপর চুপচাপ মায়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।

মায়াকে আগা গোড়া পরোক্ষ করে।মেয়েটা ইয়া লম্বা একটা ঘোমটা দিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, ঘোমটার কারণে মীর ঠিকভাবে মায়া কে দেখতে পারছে না।

মীর: মাথার কাপড় খোলো, বাহিরে এভাবে থাকবে অন্য ছেরা বেডাগোর সামনে,আমার সামনে খোলা থাকবে।

মায়া কথা শুনলো মীরের কথা মত মাথার ঘোমটা নামিয়ে দিলো।

মীর তাকিয়ে থাকে একটা কাপড়ে পেছানো শরীর টার দিকে। কিছু সময় চুপচাপ দেখে। তারপর ডান হাত উঁচু করে ইশারায় কাছে ডাকে মুখে বলে।

মীর: আমার কাছে আও বউজান।মায়া লক্ষ্মী বউর মতো গুটিগুটি পায়ে সামনে এগিয়ে যেতেই , মীর প্রথম বারের মত মায়ার নরম হাত আঁকড়ে ধরে।

মীর বিছানায় বসা তার দু পা দুদিকে প্রসারিত ছোট মায়া মীরের দু পায়ের মাঝখানের অংশটাতে শান্তভাবে দাড়ায়। মীরের পুরুষনালী দু হাতের তালুতে মায়ার দুহাত আঁকড়ে ধরে।

তার দুহাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল দ্বারা মায়ার নরম হাতের তালু আর উল্টো পাশে আঙুল বোলায়, সুস্বাস্থ্যবান মায়ার হাত খুব নরম।

তা ছুঁয়ে দেখতে মীরের খুব ভালো লাগছিল। মীর একটা পুরুষ মানুষ আর সে জানে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি তার বউ, অবশ্যই তার ভেতরেও অনুভূতি কাজ করবে স্বাভাবিক।

মীরের ইচ্ছা করলো মায়াকে একটু ছুয়ে দেখতে, রমায়া সুন্দর বাচ্চা যে কারোই আদর করতে মন চাইবে।

মীরেরও ইচ্ছা করছে খুব, মীর সেটা ইচ্ছা দমিয়ে রাখলো পারলো না।ব্লাউজ বিহীন মায়াের উদাম হাতে, মীর ওপর নিচ তার পুরুষালী শক্ত হাত বুলিয়ে দিল।

মায়া ভয় পাচ্ছে খুব শরীর কাঁপছে, তা দেখে মীর হতাস হলো।মায়ার সুন্দর মুখটা লাল হয়ে গেছে ভয়ে হয়েছে কি!না লজ্জায় মীর বুঝে না।সে মায়ার দু হাত ছেড়ে দিল।

মায়া একটু পিছাতে চাইলো মীর এক হাতের কব্জি ধরে তাকে আটকায় বলে।

মীর : চুপচাপ দাঁড়াও এখানে নইরো না।কথাটি বলেই বড় ব্যাগটার ভেতর থেকে একটা ফিতা বের করল মীর দর্জিরা কাপড় মাপে সেই ফিতা।

তারপর হাত বাড়িয়ে মায়া কে আরো কাছে টানায়, ভয় পেয়ে যান মেয়েটা। ভাবে; এই ফিতা দিয়ে তাকে বাঁধবে কি তখন মাথার কাপড় নামানোর জন্য।মায়া বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে এ কথায়‌ই ভাবছিল তাকে দেখে মীর বলে।

মীর: ডরাইতাছো নাকি??

মায়া: হ! মায়া কথাটা বলে শুকনো ঢোক গিলে ,তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে খুব ভয় পাচ্ছে।

মীর:আমি তোমার স্বামী লাগি, আর তুমি আমার বউ, এই দুনিয়াতে একমাত্র আমি যার কাছে তোমার ডর ভয় লজ্জা কিছু থাকার কথা না। ডরাইয়ো না।

মীর কথাটি বলতে বলতেই মায়ার দুহাতে নিচ দিয়ে তার পুরুষালী দুহাত ঢুকিয়ে, কাপড় মাপার ফিতা টা দিয়ে, মায়ার বুক মাপে ব্লাউজের জন্য।

মায়া : কি কি‌ করতাছোইন এইডা??

মীর : এহন থেইকা বেলাউজ পড়বা, কত সাইজ লাগবো মাপ নিতাছি। এই পোড়া আনন্দপুরের মধ্যে আমার এতো বড় কাপড়ের দোকান আর আমার বউ বেলাউজ- ছায়া_ ছাড়া কাপড় পরে, এটা কেমন কতা।

মায়া চুপ করে শুনলো মীরের কথা, ঐদিন মীর দাদী রাজিয়া বেগম ও এই কথাই বলছিলো, যে তোর জামাইয়ের এত বড় কাপড়ের দোকান আর তোর গায়ে ব্লাউজ নাই।

তখন মায়ার ননদ নারগিস নিজের একটা ব্লাউজ মায়া কে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তখন মায়ার দাদিশাশুড়ি রাজিয়া বেগম বলেছিল।

রাজিয়া : ওর বেডা ওরে আইনা দিবো,নারগিস তুই দিবি না।

আর না দিলে ওর ব‌উ এর ধলা শ‌ইলডা মাইনষে দেহুক।

সে কথা মনে হলে রেবেকার মন খারাপ হয়, তখনো খারাপ হয়েছিল তবে মা বলে দিয়েছে, শ্বশুর বাড়ির কারো কথায় বিপরীতে কখনো কিছু না বলতে।

ছোট্ট শান্ত মায়া মায়ের কথা মনে রেখেছে তাই খারাপ লাগলেও চুপ করেছিল। এ কথা মনে হতেই হঠাৎ করেই মায়ার চোখের জল চিকচিক করে উঠে, হাতের ফিতা রেখে ততক্ষণে মীর বড় শপিং ব্যাগ থেকে মায়ার মাপের ব্লাউজ বের করেছে।

মায়ার গায়ের সবুজ রঙের শাড়ি তাই মিলন বেছে বেছে সবুজ রঙের একটা ব্লাউজ বের করে মায়ার দিকে তাকাতেই, দেখতে পায় মায়ার চোখে পানি।

মায়ার বড় পাপড়ি যুক্ত চোখে দুটুতে পানি দেখে, মীর কিছুটা বিচলিত হয়ে যায় জিজ্ঞাসা করে।

মীর : কান্তাছো কেন?

সরল মায়া স্বামী কি জিনিস সেটা তো বোঝেনা, কিন্তু মা আর দাদি বারবার বলে দিয়েছে মনের সব কথা শুধুমাত্র স্বামীর কাছেই প্রকাশ করতে, হোর বাড়িতে স্বামী তার সব থেকে আপন। তাই কান্নার কারন বলে দিলো সে।

মায়া : নারগিস আফায় আমারে তার একটা বেলাউজ দিতে চাইছিল। কিন্তু বুবু (দাদী) দিতে দেয় নাই। ক‌ইছে ওর বেডায় ওরে আইনা দিব। তুই দিবি কেন,না দেয় তাইলে ওর বউয়ের ধলা শ‌ইল মাইনষে দেহুক।

মীর এই কথা শুনে হু হু করে হেসে উঠে তা দেখে মায়া কান্না ভুলে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে মীরের দিকে।

মীর বোঝেছে তার দাদি এ কথা কেন বলেছে। দাদি চেয়েছে মীর যেন মায়ার দিকে একটু লক্ষ্য রাখে। কিন্তু মায়া তো সেটা বোঝেনি। মীর হাসি থামিয়ে হাতের সবুজ রঙের ব্লাউজ টা মায়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে।

মীর : যাও পাশের ঘর যাইয়া বেলাউজটা প‌ইরা আও।কথাটি বলতে বলতে সবুজ রঙের একটা পেটিকোট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল।

মীর : এইডা নিচে পরও, আর সুন্দর কইরা কাপড়ের কচি দাও।

মায়া কথা মতই চলে যায় পাশের ঘরে। মীর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মায়া ব্লাউজ পরলে কেমন দেখায় সেটা দেখার জন্য।অন্যদিকে বাহিরে রাজিয়া বেগম আর নারগিস পূর্ব দিকের তার ঘরের সামনে বারান্দায় বসে তাকিয়ে আছে মীরের ঘরের দিকে। হঠাৎ করেই এতদিন পর আজ মীর মায়াকে ঘরে যেতে বলেছে।

কেন বুঝার জন্যাই রাজিয়া বেগমের এমন গাপটি মেরে বসে থাকা। তাছাড়া মায়া এখনো মীরের সাথে থাকার জন্য উপযুক্ত হয়নি।

মায়া যতটুকু পেরেছে ব্লাউজ আর ছায়া দিয়ে শাড়িটা পড়লো, মীর তাকে ভালো ভাবে দেখলো হাত নিয়ে ইশারা করে,তার পাশে বসতে বললো।মায়া খুব খুশি মীর তাকে ব্লাউজ দিয়েছে। সে চুপচাপ পাশে বসলো।

মায়ার খোপার চুল এলোমেলো হয়েছিল, মীর চুলের খোপা টা খুলে দিল।

মায়ার চুলগুলো খুব সুন্দর বড় ঘন কালো কুকরালো( যাকে শুদ্ধ ভাষায় কারলি চুল বলে আরকি)। মীর চুলে হাত বুলিয়ে বলল।

মীর :আমার সামনে খোঁপা করার দরকার নাই,চুলে কি তেল দেও নারিকেল?

মায়া : হ ঐডাই তো দেই, টিনের কোডটা উপরে নারিকেল গাছের আর নারিকেল ছবি আছে হেইডাই।মায়ার কথা বলার ভঙ্গি দেখে মীর হাসে।

মীর : তোমারে স্কুলে পড়ায় নাই?

মায়া :নাতো দাদী আর আম্মা কইছে মাইয়া মানষের স্কুলে যাইয়া কোন কাম নাই, কোরআন পড়বি, নামাজ শিখবি, বিয়ার পর স্বামীর বাড়িত যাইয়া, নামাজ পইরা স্বামীর লেইগা দোয়া করবি, কাম শেষ।

মীর এবারও হো হো করে হেসে উঠল তার হাসির শব্দ ঘরের বাহিরে যাচ্ছে। রাজিয়া বেগম ভুরু কুঁচকে যাচ্ছে বারবার নাতির এমন হাসি শুনে। কি এমন হলো যে এত জোরে জোরে হাসতাছে। খুব ভাবনায় পড়ে গেল আমেনা বেগম।

মীর হাসি থামালো হাত বাড়িয়ে মায়ার গলার কাছের চুলগুলো পেছনে সরিয়ে দিয়ে, ফর্সা গলায় আঙুল দিয়ে ঘষতে ঘষতে বলল।

মীর : তা এই বাড়িত আইয়া নামাজ পড়ছিলা একদিনও, দোয়া কি করছিলা আমার লাইগা??

মায়া মাথা নারে,,,,,

মায়া :হ পড়ছি নামাজ বুবুর। (মীরের দাদির সাথে))লগে।

মীর : দোয়া করছিলা!করলে কি দোয়া করছো??

মায়া :দাদি শিখাইয়া দিল মোনাজাতে কইতে "আল্লাহ্ আমারে আমার স্বামীর জন্য উপযুক্ত তাড়াতাড়ি বানায় দাও, যাতে কইরা আমার স্বামীর একলা থাকার কষ্ট দূর হয়।

মীর চুপচাপ তাকিয়ে দেখে নয় মাস হয়েছে তাদের বিয়ের।বারো বছর হবে তার বউর, এখনি তো সময় উপযুক্ত হওয়ার।হয়ে যাওয়ার কথা উপযুক্ত হয়ে গেলেই কি বউ সেসব সহ্য করতে পারবে।যা তাদের মধ্যে হবে।পারবে হয়তো সব মেয়েরাই পারে মায়াও পারবে। মীর ভাবলো (মনে মনে)মায়ার কথা বলার সময় ঠোঁটের নড়াচড়া। পাতলা গোলাপি ঠোঁট জোড়া, কি সুন্দর করে লড়ে কথা বলার সময়।

মীর মায়ার কথা শুনে একটু গম্ভীর হলো, মীর নিজের ইচ্ছাকে খুব প্রাধান্য দেয়, কোন কিছু ইচ্ছা হলে করে ফেলে , যেমন এখন তার মায়ার ঠোঁট ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা করলো তাই সহজেই তার পুরুষালী হাতটা উঠিয়ে মায়ার নরম পাতলা নিচের ঠোঁটে আলতো করে আঙুল দিয়ে চাপ দিলো মুখে বললো।

মীর : তা উপযুক্ত কবে হ‌ইবা বউ।মায়া বোঝেনা উপযুক্ত কথাটার মানে তবে সে বলে।

মায়া : আফনের কি খুব কষ্ট হয়?

আমি তো প্রতি ওয়াক্ত নামাজ পইরা দোয়া করি আল্লাহ শোনে না কেন।মীর এবার দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে কি বলবে বুঝতে পারছে না।

তার খুব ইচ্ছা করছে তার বউগকে ছুঁয়ে দিতে আদর করতে।মায়ার গোলাপি ঠোঁটে একটা চুমু দিতে।কিন্তু তা সে করলো না।মায়ার কথা ঘুরিয়ে সে বললো।

মীর :শোনো বউ ঐ কামরায় অনেক কাপড় আছে , বেলাউজ আছে, ছায়াও আছে, তোমার যেটা লাগবো এই ঘরে আইসা নিবা, পড়বা কারো কাছে কিছু চাওয়ার দরকার নাই। যা লাগবো আমারে কইবা আমি সব আইনা দিমু। দোকানের কিছু খাইতে ইচ্ছা করলে কইবা আমি বাড়িত ফিরার সময় লইয়া আমু ঠিকাছে।

মায়া : আচ্ছা তাইলে একটা বেলাউজ নেই ঐ পেছনের বাড়ির ফুলির লাইগা।

মীর : না অন্য কারো লাইগা না,, এগুলো আমার দোকানের মাল, তুমি আমার বউ। আমার ঘরের লক্ষ্মী, আমার সবকিছু হেফাজত রাখা তোমার কাম, শুধু তোমার যেটা লাগবো সেটা তুমি নিবা।কথাটি বলে শেষবারের মতো মায়ার ঠোঁট দুটো আঙ্গুল দ্বারা চেপে ধরল মীর।

মায়া: উমমম,,,,

মীর : কি?

মায়া : দুক্কু লাগে।

মীর: লাগুক।

মীর মায়া কে ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে, মাটির দেয়ালে একজাস্ট করা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চিরুনি চুলে চালাতে চালাতে বলে।

মীর : আমার ছোঁয়া সাধারণ বউ। আমি না ছুইলে তুমি উপযুক্ত হবা না কোনদিন‌ই, নামাজে বইসা দোয়া করছো দেইখাইতো ,আল্লাহ আমারে কইছে তোমারে ছুইয়া উপযুক্ত বানাইতে।

আমি ছুঁইলে দুক্কু লাগবোই সহ্য করতে হইবো তোমার। আর এগুলো আমার আর তোমার গোপন কথা বাইরে কেউরে কইবা না।

মায়া মীরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে বোঝার চেষ্টা করে। কিছুই বুঝতে পারলো না,তবে যেহেতু বলতে না করছে সে কাউকে বলবে না ভেবে নিলো

মীর পুনরায় এসে মায়ার সামনে দাঁড়ায়। তারপর দুহাতে মায়ার কোমরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তাকে উঁচু করে বলে।

মীর : মনে থাকবো তো বউ।

মায়া : হ থাকবো,কাওরে ক‌ইতাম না।

মীর: তোমার ঠোঁডে চুমা দিমু সহ্য ক‌ইরা নেও।

মায়া : আইচ্ছা।

মীর বিনা সংকোচে রেবেকার গোলাপী ঠোঁটে জোড়ায় চুমু খায়। বিসমিল্লাহ উম্মাহ উম্মাহ উম্মাহ

মীর: আমার চুমা কি তোমার খারাপ লাগছে বউ??

মায়া : না লাগে নাই।

মীর:এই যে তোমারে এখন চুমা দিলাম,এইডা কিন্তুু সওয়াবের কাজ, আমি কামে যাওয়ার আগে প্রতিদিন দিমু ফিরার পরেও দিমু, এগুলি তোমার আর আমার গোপন কথা কেউ যেন কিছু না জানে।মনে থাকবো বউ।

মায়া: হ মনে থাকবো ,কাউরে কইতাম না।

মীর : এই ঘরে কি করছো কেউ জিগাইলে কি কইবা।

মায়া : কি কমু।

মীর : কইবা বেলাউজ আর ছায়া দেওয়ার লাইগা ডাকছিল।

মায়া : আইচ্ছা।

মীর : আবার একটা চুমা দিমু ?

দেন: দেন।

মীর শেষ বারের মতো মায়ার ঠোঁটে আর একটা চুমু খায়। তারপর তাকে কোল থেকে নামিয়ে, শাড়ি ঠিক করে দেয় আঁচল টেনে মাথায় ঘোমটা পরিয়ে দেয়।

মীর : আমি বাজারে যামু দোকান খুলতে, তুমি সাবধানে থাকবা।আর কাপড় ঠিক রাখবা ঠিকাছে।

মায়া: ঠিক আছে।

বাজারে দোকান খোলার উদ্দেশ্যে মীর বাড়ি ত্যাগ করে। মীরের শিখিয়ে দেওয়া কথাগুলোই মায়া বলেছে তার দাদি শাশুড়িকে। তা শুনে দাদী সন্তুষ্ট হল, সে জানে তার নাতি বুজবার নাবালিকা মেয়ের সাথে কিছু করবে না উল্টাপাল্টা।

উছমাপুরে মায়ার বাড়িতে

আদরচাঁন বেগম : কি লো ব‌উ মায়ার ১২ বছরের হ‌ইতে আর কয় দিন আছে।

আরিজা : আম্মা ১২ দিন আছে।

আদরচাঁন বেগম : শ‌ইলেরডা হ‌ইলো কি না জানো নি কিছু?

আরিজা : কেমনে জানুম ওয় তো হোর বাইত এইনো থাকলে বুঝতাম জানতাম।

আদরচাঁন বেগম : তয় বাদশা রে ক‌ও ওরে আনবার যাইতে, আহুক কয়ডা দিন থাইহা যাক,বিহা দিছি ১২ বছর হ‌ইবো এখনো শ‌ইলেরডা হয় না কে।

আরিজা চুপ করে ভাবে সত্যিই তো বিয়া হ‌ইছে এখন (মা সি ক) হ‌ওয়া উচিত,বেডা মানুষ এমনেই বসাইয়া খাওয়াইবো কয়দিন,শ‌ইলেরা চাওয়া হয়েছে আছে।বেডাগো খুশি করার তো ঐ একটা জায়গাই।

আজকে দোকানদারি করার সময় মীর কে খুব ফুরফুরা মেজাজে ছিল, কেমন যেন খুব শান্তি শান্তি অনুভব করছিল। আজকে দোকানের কাস্টমারদেরকে ১০% ডিসকাউন্টও দিয়েছে ।

এক প্রকার মায়ার কথা ভাবতে ভাবতেই পুরোটা দিন কেটে গেল।মায়ার ঠোঁটে চুমু দিয়েই এতো শান্তি লাগছে তার । সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার আগে কসমেটিকসের দোকানে গিয়ে_ শুনো, পাউডার, আলতা নেলপলিশ, লিপস্টিক, ফেয়ার এন্ড লাভলী ক্রিম, টিনের কৌটার নারিকেল তেল চার ধরনের চিরুনি রাবার, ভ্যান্ট ,কাটার, গাডার। ফলের দোকানে গিয়ে কলা-কমলা আর, কনফেকশনারির দোকানে গিয়ে নোনতা-মিষ্টি, নিমকি, বিস্কিট চানাচুর, কেক-পাউরুটি//মিষ্টির দোকানে গিয়ে মিষ্টি কিনে, বেগ ভর্তি করে নিয়ে বাড়িতে ফিরলো।

মীর খাবারের জিনিসগুলো ডাবল এনেছে। এক প্যাকেট মা মন্জুর হাতে তুলে দিল, আর অন্য সব জিনিসপত্র সঙ্গে বাকি প্যাকেটটা তার ঘরে নিয়ে গেল।কেউ খেয়াল করল না,তেমন কিছু বুঝতে পারল না, কারণ মীর দোকানের জিনিসপত্র তার রুমের পাশের খোলা রুমটাতে রাখে।তেমন কিছুই ভেবে নিল সবাই।

রাতের খাবার খাওয়ার সময় মীর,বার বার মায়াকে দেখছিল, দুপুরে গোসল করে মেয়েটা লাল শাড়ি পড়েছে সাথে লাল ব্লাউজও। মীরের খুব ইচ্ছা করছে সকালের মতো মায়ার সাথে একটু সময় কাটাতে, কিন্তু তা হবেনা এখন,দাদি নিয়ম খুব মানে।মায়া কে তার কাছে ঘেঁষতে দেবে না কিছুতেই।

মীর খাবার খেয়ে নিজের ঘরে যায় না।ঘরের পেছনের পুকুর ঘাটের দাঁড়ায়র নারিকেল গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়। তারপর লুঙ্গির কোচ থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে একটা বিড়ি জ্বালালো বিডিতে দুইটা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তেই পেছনে কারো পায়ের শব্দ শুনতে পেলো।

(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। এবং গল্প টা কেমন লাগছে কমেন্ট করে যানাবেন 🥀🌹🥀)

চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন