#নিষিদ্ধ_নীল_চিঠি
#পর্ব_৪
#সায়মা_নূর
তখনকার সময় গ্রামে কারেন্ট ছিল না, কেরোসিনের জ্বালানি ব্যবহার হতো ঘরে ঘরে, সন্ধ্যা নামলেই সবাই ভাত খেয়ে, ঘুমিয়ে পড়তো আর ফজরের আগে ঘুম থেকে উঠতো।
সত্যিকার অর্থে এটাই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম।আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণে, ক্লান্তি দূর করে বিশ্রাম নেওয়ার জন্যই রাত সৃষ্টি করেছে।আর জীবিকা উপার্জনের সুবিধার জন্য সৃষ্টি করেছে দিন।।রাতের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কানে ভেসে আসছে, হালকা হাওয়ায় গাছের পাতা গুলো নড়ছে, রাতের এই মোহনীয় শব্দ দুটো যারা গ্রামে থাকে তারাই শুধুমাত্র উপভোগ করতে পারে।মীর বিড়িতে টান দিয়ে ধুয়া উড়িয়ে, বুকের বা পাশের হৃদয়ের, নতুন তৈরি হওয়া হালকা যন্ত্রনা টুকু রাতের অন্ধকারের এই মোহনীয় শব্দের সঙ্গে উপভোগ করছিল।
তখনি পেছনে কারো উপস্থিতি টের, বিড়ি ধরে রাখা হাতটা পেছনে লুকিয়ে ,উল্টো ঘুরে দাঁড়ায় দেখে,নারগিস দাঁড়িয়ে তার পাশেই বদনা হাতে মায়া দাঁড়িয়ে।
তাদেরকে দেখে মীর স্বাভাবিক হয়ে যায়, পেছন থেকে বিড়ি ধরা হাতটা সামনে এনে, বিড়িটা দু ঠোঁটের মাঝখানে রেখে জোরে টান দেয়, এক টানেই বিড়ি শেষ। সে ভেবেছিল তার বাবা আরশাদ আলী শাহ হয়তো এসেছে তাই লুকিয়ে ছিল।
গুরুজনদের সামনে বিড়ি টানা বেয়াদবি, আর মীর বেয়াদবি পছন্দ করেনা। মায়া তাকিয়ে দেখে মীরের ধোয়া উড়ানোর দৃশ্য। মীর ও তার দিকেই তাকিয়েই ধোয়া উড়ায়,বউর কাছে আবার কিসের লুকোচুরি।
দেখছে দেখুন সারা জীবন তো দেখবোই। নারগিস ঘুমে চোখ ঠিকভাবে খুলতে পারছে না, মেয়েটি সন্ধ্যা হলেই ঘুমিয়ে পড়ে।
মীর : এনে কি করছ?
নারগিস কে জিগ্গেস করে মীর।
মীর : ভাই সাব_ ভাবি পায়খানায় যাইবো, তাই পুসকুনি তনে পানি নিবার আইলো।
মীর : তা তুই কেল্লেগা আইছোস?
নারগিস : ভাবি ঢরাই একলা, তাই লগে আইছি পাহাড়া দিতাম।
মীর : চোখ বন্ধ কইরা! তুই যা আমি আছি।নারগিস চলে গেলে ঘুমাতে, মীর বিড়ি ফেলে মায়ার হাত থেকে বদনা নিয়ে বলে।
মীর : ভাত খাইছো পেট ভইরা, লাল কাপড়ে তোমায় ভালা মানায়।
মায়া : হ খাইছি, মায় দিছে কাপড়ডা দুপুরে নেওয়ার বেলা।মীর মাথা ঝাঁকায় বদনা নিয়া পুকুর ঘাটে নেমে, এক বদনা পানি এনে মায়ার হাতে দেয়। মায়া বা হাতে বদনা ধরতেই, মীর মায়ার ডান হাতের কব্জি আঁকড়ে হাটা ধরল বাড়ির, পশ্চিমের একদম কণার দিকে, ওখানেই তাদের বাড়ির পা য় খা না।গ্রামেরর পা য় খা না র অবস্থা তেমন একটা ভালো না। গ্রামের লোকরা সচরাচর জঙ্গলে,ক্ষেতের কোনায়, ঝোপঝাড়ে আবার অনেকে খোলা মাঠেই প্রাকৃতিক কাজ সারে।
মীরদের পা য় খা না য় আগে শুকনো কলা পাতার বেড়া ছিল, নিচে ছিল বড় গর্ত ,দুপাশে পা রাখার স্থানে ছিল মাটির তৈরি ইট, সেটা নষ্ট হওয়ার পর আরশাদ আলী শাহ মোটা পলেথিনের কাগজ আর বাঁশ দিয়ে পা য় খা না তৈরি করেন।কিন্তু মীরের যখন কাপড়ের ব্যবসায় নামে, ব্যবসার কারণে শহরে যাওয়ার আসা হয়।নারগিসের তখন বিয়ে ছিল।
মীর নবিননগর শহর থেকে টিন কিনে আনলো, সাথে পায়খানা তৈরির জিনিসপত্র আর মিস্ত্রি ও আনে। তারপর টেনের তৈরি পাকাপোক্ত শক্ত একটা পা য় খা না তৈরি করে। এখন তাদের গ্রামে সবথেকে ভালো পা য় খা না তাদের বাড়িতেই।বাঁশ ঝাড়ের পাশে আম গাছ গাছেন নিচে এসে মীর দাঁড়িয়ে লুঙ্গির কোছা থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে একটা বিড়ি ধরায়।
যদিও এখন আর একটা প্রয়োজন নেই তবে মুরুব্বীরা বলে, বিয়ের আঠারো মাস না হওয়া পর্যন্ত নতুন জামাই বউয়ের রাতে বাহিরে সাবধানে চলতে, খারাপ জিন-ভূত আসর করতে পারে, তাদের বিয়ের নয় মাস হয়েছে তাই সাবধানতার জন্য আগুন দরকার।অন্ধকারে মেসের বারুদ ঘষা দিতেই মীরের চোখের সামনে মায়ার মুখটা হালকা হয়ে ভাসে।
মীর টিনের দরজা টেনে খুলে মায়া কে ইশারা করে ভেতরে যেতে বলে।
মীর : যাও আমি এইনোই আছি, ডরাইয়োনা।
মায়া ভেতরে যেতেই মীর টিনের দরজা বন্ধ করে, বাহির থেকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।আর ভাবে পা য় খা না দিয়ে ভালো উপকার হয়েছে নয়তো তার বউর তো অসুবিধা হতো। এক মিনিট পর, মায়া ভেতর থেকে শব্দ করে।
মায়া : আছুইন।
মীর : হ হ আছি, ডরাইয়োনা।
বলেই মীর হেসে বিড়িতে জোরে টান দেয়।তার দুমিনিট পর মায়া দরজা ধাক্কা দেয়, মীর দরজা খুলে দেয়।
মীর : কাজ শেষ?
মায়া: আমার তো মু তে ধরছিল, আইজ নতুন সায়া পড়ছি তাই দেরি হইলো।
মীর মায়া কে নিয়ে আবারো পুকুর ঘাটের দিকে হেঁটে যেতে যেতে বলে।
মীর :এহন থেইকা প্রত্যেকদিন পড়বা।
মায়া : কোমরে কেমন চাইপা থাহে।
মীর পুনরায় বদনা হাতে নিয়ে পুকুর ঘাটে নামে এক বদনা পানি তুলে মায়ার পায়ে -হাতে ঢালে, মায়া কাপড়ের আঁচল দিয়ে দুহাত মুছতেই।
মীর মায়ার দিকে ঝুঁকে, তার কোমর দুহাতে চেপে ধরে বলে।
মীর : এমনে চাইপা থাহে?
মায়া : আহ্ দুক্কু পাই!
মীর : পাও ।
তখনি বাড়ির উঠোনে আরশাদ আলী শাহর কাশির শব্দ শুনতে পায়।
মীর দ্রুত মায়া কে ছেড়ে দেয়। আরশাদ আলী হয়তো প্রকৃতির টানে বাহিরে এসেছে, এখন নিশ্চয়ই পুকুর ঘাটে আসবে, পানি নেওয়ার জন্য, মীর একটু হতাশ হলো মায়ার মাথার ঘোমটা টেনে দিয়ে বলল।
মীর : যাও ঘরে যাও।মায়া চলে যায়। আরশাদ আলী দেখলো মায়া কে তার পরে পুকুর ঘাটে এসে দেখল ছেলেকে, ভুরু কুঁচকে বলল।
আরশাদ আলী : রাইবিরাইতে বাইরে কি ঘরে যাও।মীর শুনলো বাবার কথা,ঘরে চলে গেল।
গত দিনের মতোই মীর আজকেও সকালে তার খাওয়া প্লেটটাই দিলো মায়া কে খেতে। এবং গত দিনের মতো হুকুম করল,খাওয়া শেষ করে তার ঘরে যেতে।রাজিয়া বেগম লক্ষ্য করলো সব, কিছু বলতে চাইলো, কিন্তু মন্জু খাতুন ইশারায় না করল। তাই রাজিয়া বেগম কিছু বলেনা ।
তবে সে অসন্তুষ্ট হল, সাবালিকা হওয়ার আগে এক ঘরে থাকা খুব অলক্ষণে কাজ ,আর সবাই তা মানে,সে নিজেও মেনেছে, তার ছেলের বউ মেনেছে, কই তার সময় তো তার সোয়ামি উপযুক্ত অবস্থায়ও দিনে দুপুরে একলা ঘরে ডাকে নাই। মন্জু খাতুনের বেলাও দেখে নাই।তাহলে নাতি এত বেশরম কেন। যেখানে মায়া এখনো উপযুক্ত নয় ।এসব ভেবে আজকে সে কোন কারণ ছাড়াই বারান্দায় বসে থাকলো।
মায়া ঘরে ঢুকতেই মিলন দু হাতে তার কোমর জড়িয়ে ধরে বিছানায় বসলো। অস্থির ভঙ্গিতে মায়ার মাথা থেকে ঘোমটা খুলে দিল, খোঁপাটাও খুলে দিল নিজের হাতে।
সময় ব্যয় না করে বিসমিল্লাহ বলে পুরোশালী ঠোঁট দুটো ছুঁয়ে দিল মায়ার নরম ঠোঁটে ,গালে ,কপালে নাকের ডগায়। মায়া ছটফটে উঠল মুখ দিয়ে শব্দ করল।
মায়া : উহহহহ
মীর : চুপ থাহো বউ শব্দ কইরো না।
মায়া চুপ হলো,মীর মন ভরে অনেক চুমু খায় মায়ার মুখে, সে যে সারারাত এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় ছিল ,তবে অবুঝ মায়া তা বুঝতে পারে না কিছুই। চুমু থামিয়ে মীর মায়াকে কোলে বসায়। কালকে রাতে আনা খাবারগুলো মায়ার সামনে রাখে।
মীর: এইডি সব তুমি খাইবা বউ,একলা খাইবা। দেয়ালের সাথে ঝুলিয়ে রাখা কলা গুলো আঙুল দিয়ে ইশারায় দেখিয়ে বলে।
মীর : সকাল বিকাল আর সন্ধ্যায় তিন বেলা তিনটা কলা খাইবা। আর ওই যে দেখো ঢেক্সর (বড় কাঠের ট্রাঙ্ক)উপরে ঝুড়ি ভর্তি কমলাআছে, ও গুলাও তিন বেলা খাইবা পচেনা যেন, তুমি একলা খাইবা এই ঘরে বইয়া।কেউরে দিও না ঠিক আছে,আর বইলোও না গোপনে খাইয়।
মায়া কলা কমলা গুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়ায়।
মীর :আর খিদা যখন লাগবো, নিমকি,বিস্কুট, চানাচুর খাইবা। আর হনো প্রত্যেকদিন ঘুম থেকে উইঠাই এই ঘরে আইবা, তা আমি ঘুমায়া থাকলেও আইবা, এই যে মিষ্টির প্যাকেট, সকালে দুইডা মিষ্টি খাইয়া দিন শুরু করবা।মনে থাকবো বউজান।
মায়া: আচ্ছা মনে রাহুম।
মীর : তুমি কি হাঁসের ডিম পছন্দ করো না মুরগির।
মায়া : মুরগির কেন।
মীর ভাবল বাড়িতে যদি তার আম্মাকে বলে।মায়া কে প্রতিদিন একটা করে ডিম সিদ্ধ দিতে।তাহলে তার দাদি কেচকেচ করবো। তাছাড়া কেউ শুনলে তাকে কিছু না বললেও,উল্টাপাল্টা নানান কথা শোনাবো মায়া কে।
তাতে সবাই ভাববে সে বউ পাগল। কিন্তু মীর পড়াশোনা জানা, ভালো ছাত্র ছিলো, পড়ালেখা চালিয়ে গেলে এতদিন বড় অফিসার হতো, তাছাড়া এখন সে শহরে যাতায়াত করে অনেক কিছুই সে বোঝে, এই উঠন্ত বয়সেই তার বউজানের পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার, রাতে তো দুধ ভাত খায় নিয়ম করে তা সবাই খায় বাড়ির।
কিন্তু প্রতিদিন একটা ডিম খাওয়া উচিত ।কিছুদিন পর উপযুক্ত হয়ে গেলে তো তার সাথে থাকবে, দুইজনের সংসার হবে পাকাপোক্তভাবে, তখন তার বড় বড় আদর সহ্য করতেও শক্তির প্রয়োজন হবে। অনেক কিছু চিন্তা করে মীর বলে।
মীর : তোমার উপযুক্ত হওয়ার জন্য ভালো ভালো খাওনের দরকার আছে, হুনো সন্ধ্যায় যখন আমি বাড়ি ফিরুম, তুমি প্রতিদিন মনে কইরা উঠানে আমার কাছে আইবা, আমি তোমার লাইগা বাজার থেকে সিদ্ধ ডিম কিইনা আনুম, চুপচাপ খাইয়া নিবা,কাউরে দেখাইতে লাগবো না, কেউ যেন না জানে।
মীরের কথায় মায়া বোকার মত মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।মীর হাসে, বিছানায় রাখা শপিং ব্যাগ ভর্তি, কিনে আনা কসমেটিকসগুলো ঢেলে দেয় বিছানায়। তারপর মায়া কে ইশারা করে দেখিয়ে বলে।
মীর : এডি সব তোমার,এই ঘরেই থাকুক, যহন যেঢা প্রয়োজন হইবো এনে আইয়া গায়ে মাখবা।এবার মায়া খুব খুশি হয়ে যায়। মীরের কোলে ভালোভাবে চোরে বসে, উপর হয়ে বিছানায় হাত বাড়িয়ে সবকিছু ছুঁয়ে দেখে মুখে তার মিষ্টি হাসি।।হাসিটা দেখে মীরের কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেল মুহূর্তেই, গতরাত থেকেই তো এই প্রতিক্রিয়াটা দেখার জন্য ছটফট করছিল।
মায়া : এডি সাজনপাতি সব আমার লাইগা?
মীর : তয় কার লাইগা, তুমি ছাড়া আমার কি আর কোনো বউজান আছে??
মায়া : সত্যি সত্যি সত্যিই আমার !
মীর হাসে বিছানা থেকে লাল টকটকে লিপস্টিক হাতে নিয়ে মায়া কে উদ্দেশ্য করে বলে।
মীর : বউজান এইডা ঠোঢে মাইখা দেহাও দেখি কেমন লাগে।
মায়া ছোট আয়নাটা হাতে তুলে মীরের কোলে বসেই ঠোঁটে লিপস্টিক মাখে গাড় করে। মীর অপলক তাকিয়ে দেখে তার মুখভঙ্গি, লিপস্টিক দেওয়া শেষ হতেই মায়া এক গাল হেসে তাকায় মীরের দিকে।
মায়া : কেমন লাগে??
মীর : আমার বউজান সবার তে সুন্দর।
মায়া হেসে বলে।
মায়া : আন্নে দেহি আমার বড়আব্বা মতো কথা কন, বড়আব্বায়ও কয় আমার বউ সবার তনে সুন্দরকথাটি বলে মায়ার লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটে খিল খিল করে হাসলো।
মীর তার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে,সত্যিই তার বউজান সুন্দরী এখুনি তার বুক কাঁপে ওর চোখ, মুখ, ঠোঁট আর এই মিষ্টি হাসি দেখে, যখন পুরোপুরি যুবতী হবে তখন তার কি দশা হবে।
মীর : বউজান লিবিস্টিক মুছো একটা চুমা দেই ঠোঁটে।
মায়া : না! মুছতাম না, থাহুক না।
মীর : আমি দোকানে যামু গা,পরে আবার মাইখো বউজান।
মায়া : আইছা।
শাড়ির আচলের কোনা দিয়ে মায়া ঠোঁট মুছে দিলো, মীর বিসমিল্লাহ বলে।থেমে থেমে অসংখ্য চুমু বাসালো বউজানের ঠোঁটে। জড়িয়ে ধরল একটু পরপর, মায়া আজ অনেকটা সহজ হলো মীরের সাথে।
মীর অগোচরে লুকিয়ে খুব যত্ন করতে শুরু করল তার ছোট্ট বউজানের, পছন্দ-অপছন্দ প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস এমনকি পুষ্টিকর খাবার। সব দিক লক্ষ্য রাখলো। আর মনে মনে অপেক্ষা করলো মায়ার উপযুক্ত হওয়ার।
নিজের চালে ফুটা রেখে অন্যের চালে কয়টাফুটা সেটা গুনতে যাওয়া হচ্ছে গ্রামের মানুষের কাজ। নিজেদের এতো এতো সমস্যা রেখে অন্যর ঘরে কি ঘটেছে সেসব নিয়েই যেন তাদের বেশি আগ্রহ ।সকাল সকাল পাশের বাড়ির নাসমিন এলো আদরচাঁন বেগম এর কাছে,কোলে তার ৭ মাসের নাতি ছেলে,এসেই প্রথম কথা হলো।
নাসমিন : কি গো চাচি মায়ার কি এহনো আবু- দুবু ( বাচ্চাকাচ্চা) হয় নাই,দেহুন আমার জরিনার পোলা এইডা আমার নাতি , মায়া তনে এক বছরের ছুডো আমার মাইয়া জরিনা বিয়াও দিলাম পরে,তয় মা হইলো মায়ার আগে,চাচি মায়ার কি কুনো রোগ আছিল নাহি,না জামাইয়ের অক্ষমতা আছে?
এতোটুকুই কথা তাতেই যেন গরম সীসা কানে ঢালার মতো কাজ হলো।আদরচাঁন বেগম আগে থেকেই বিচলিত ছিল, আশেপাশের মানুষ এতদিন দূর থেকে এসব কথা বলেছে,তবে আজ প্রকাশ্যে বাড়ি বয়ে এসে বলল। এভাবে চললে পুরা গ্রাম কথা শোনাবে। মায়া কে অপয়া অলক্ষী বলবে, শরীরে দোষ আছে বলবে। আদরচাঁন বেগম অস্থির হল, বউ আরিজা কে ডেকে বলল।
আদরচাঁন বেগম: কি লো বউ মায়ার ১২ বছরের হইতে আর কয় দিন আছে।
আরিজা : আম্মা ৬ দিন আছে।
আদরচাঁন : শইলেরডা হইলো কি না জানো নি কিছু?
মায়া : কেমনে জানুম ওয় তো হোরবাইত (শশুর বাড়ি) আছে, এইনো থাকলে বুঝতাম জানতাম।
আদরচাঁন : তয় বাদশারে রে কও ওরে আনবার যাইতে, আহুক কয়ডা দিন থাইহা যাক।বিহা দিছি ১২ বছর হইবো এখনো শইলেরডা হয় না কে। এমনে চুপচাপ আর কতো কিছু তো করন লাগবো।আরিজা চুপ করে ভাবে সত্যিই তো বিয়া হইছে এখন (মা সি ক) হওয়া উচিত,বেডা মানুষ এমনেই বসাইয়া খাওয়াইবো কয়দিন,শইলেরা চাওয়া পাওয়া আছে।বেডাগো খুশি করার তো ঐ একটা জায়গাই।
চলবে..............