#নিষিদ্ধ_নীল_চিঠি
#পর্ব_৫
#সায়মা_নূর
পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাচ্ছে, দূর থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আজানের ধনী, একটু পরেই সন্ধ্যা হবে, ইদানিং আসরের ওয়াক্ত পার হতেই মীরের মন ছটফট করা শুরু করে দেয়।
কখন সন্ধ্যা হবে কখন সে বাড়ি ফিরবে, কখন সে তার বউজানের আদরে মুখ খানা দেখবে। তাদের বিয়ের বয়স ১৯ মাস হয়েছে।মীর অগোচরে লুকিয়ে খুব যত্ন করতে করে তার ছোট্ট বউজানের।
পছন্দ-অপছন্দপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস এমনকি পুষ্টিকর খাবার। সব দিক লক্ষ্য রাখলো। তার পুরুষালী সত্তা মনে মনে অপেক্ষা করলো মায়ার উপযুক্ত হওয়ার।সন্ধ্যায় মীর বাড়ি উঠানে পা ফেলতেই দেখে মায়া বারান্দার বাঁশের খুটির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তাকে দেখেই মীর হাঁটার গতি দৃঢ় করলো, মায়া গুটিগুটি পায়ে মীরের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো।
মায়া: আইজ দিনে বহুত গরম আছিল ঠিক না।
মীর : কেন তুমি গোসল করো নাই?মায়াকে আগাগোড়া দেখে ভুরু কুঁচকে কথাটা বললো মীর।
তার গায়ে এখনো সকালের দেখে যাওয়া কাপড়,পা দুটো তে কাঁদায় জড়াজড়ি, কাপুরের নিচের অংশে তেও কাঁদা ভরে আছে।
মীর : বউ তোমার গায়ে এতো পেক কেন ?
মায়া : আমি পুরা দিন ঘরে লেপ দিছি তাই,দেহুইন তো কেমন হইছে।
মীর তাকায় নিজের ঘরের দিকে, ঘরের দেয়াল থেকে শুরু করে,মেঝে সবটা সুন্দর করে মাটি দিয়ে লেপা, মীর আশ্চর্য হয়ে তাকালো মায়ার দিকে বলে।
মীর : বউ তুমি লেপছো ঘর?
মায়া : হ আমি ঐ। মীরের এর পছন্দ হলো না বেপার টা, তার মা মন্জু খাতুনের কামড় ব্যথার জন্য ঘর লেপতে পারেনা।
বোন নারগিস অনেক ছোট তাই সেও পারেনা তাছাড়া তাকে কখনো এই কাজ করতে দেওয়া হয়নি। দাদি তো বৃদ্ধ তাই কিছু বছর ধরেই ,তাদের জমিতে কাজ করা রুহুল মিয়ার বউ রজিনা চাচি পুরো বাড়ি লেপার কাজ করে।
বিনিময় তাকে মীর টাকা দেয়, তাছাড়া এই বাড়ির কাজ করে দেওয়ার ওসিলায় অনেক সুবিধা পায়, যেমন পুকুরের মাছ,বাগানের টাটকা শাক সবজি ঈদ আসলে কাপড় কিনে দেওয়া হয়।তাহলে রজিনা চাচি থাকতে মায়া কেনো এই কাজ করলো। এই কথাগুলো ভেবে ভুরু জোড়া কুচকে যায় মীরে। কিছুটা রেগেও চাই ,রাগান্বিত কন্ঠেই বলে।
মীর :হাইঞ্জা( সন্ধা) হইলো এহনো গোসল করো নাই, কেন?
কেডায় কইছে এই কাজ করবার লাইগা হুম?প্রতিবারের মতোই মায়ার সহজ সরল উত্তর।
মায়া :বুবু(দাদি) কইলো ।
মীর : কি !
মায়া : হ বুবুতো(দাদি) কইলো,হুদাই বাইয়া বইয়া লাং এর কামাই খাইতাছোস,লাং রে তো শইলের সুখ দিবার পারতাছোস না ,তয় তোরে কি বইয়া থাহার লাইগা আনছি লাঙ্গের ভাত খাইবার হইলে কাম কইরা খাউন লাগবো।
মীর অবাক হলো না ,তবে চরম বিরক্ত হলো,তার দাদির স্বভাব সম্পর্কে সে অবগত,সারাটা জীবন ধরেই তো দেখে আসছে তার মায়ের সাথে এমনটা করতে, আশ্চর্যের ব্যাপার হল এতদিন পরে কেন মায়ার সাথে এমন করলো, তার যা স্বভাব এমন আচরণ আরো আগে থেকে শুরু করার কথা ছিল।
মীর : হোন বউ আইজ করছো,করছো আর কোনো দিন এইসব করবা না, তুমি তোমার লাঙ্গের কামাই খাও,ঐ বুড়ির লাঙ্গের না। তোমার মন চাইলে হুইতা খাইবা, বইয়া খাইবার দৌড়াইয়া খাইবা।
মায়া : তাইলে কি কাম করতাম না।
মীর : করবা যেইডা তোমার মনে ধরে, অন্যের মনমতো না। মনে থাকবো।
মায়া : আচ্ছা,মনে থাকবো।মীর হাতের পলিথিনের ব্যাগ থেকে ডিম সিদ্ধ বের করে, প্রতিদিনের মতোই নিজের হাতেই খোসা ছাড়ায়, তবে আজ আর মায়ার হাতে দেয় না, নিজের হাতেই খাইয়ে দিয়ে বলে।
মীর : যাও আমার লুঙ্গি গামছা আর তোমার কাপড় নিয়া আও আইজ একলগে গোসল দিমু। তোমার লগে এহনো আমার গোসল নেওয়া হয় নাই বউ।মায়া "আচ্ছা" বলেই কাপড় আনতে দৌড় লাগালো। মীর তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বললো
মীর : শুধু গোসল না বউ তোমার লগে এহনো এই মীরের প্রেমের মিলন, দেহমিলন করা হয়নাই, তাড়াতাড়ি উপযুক্ত হও বউ।
মীর পুকুর পাড়ে বসে পা পানিতে ডুবিয়ে পাস ফিরে মায়া কে দেখে ঘাটের আঙিনায় হারিকেন জালানো, হারিকেনের নিভু নিভু আলোতে দেখা যাচ্ছে মায়ার হলদে ফর্সা মুখখানি। মায়া পায়ে লেগে থাকে কাঁদা হাত দিয়ে ঘষে ঘষে তোলার চেষ্টা করছে। মীর কিছু সময় তাকিয়ে দেখে তার বউ অর্ধ ভেজা গা টা।মীরের চোখে লাগলো,তার মনে হলো বউটা অনেকটা বড় হয়েছে।
মীর নিজের ভাবনাকে নিজেই প্রশ্ন করে, সত্যিই কি বড় হয়েছে! না তার মন চাইছে বড় হয়ে যাক?মন উওর দিলো_ বড় হয়ে যাক,বড় হয়ে যাক।মীরের শরীর শিউরে উঠে, গায়ের প্রত্যেকটা লোম দাঁড়িয়ে গেলো,সে চোখ বন্ধ করে একটু স্থির থেকে।শান্ত করে নিজেকে।তার পরে চোখ খুলে বাম পাশে বসে থাকা মায়ার দিকে ঘুরে বসে হাত বাড়িয়ে ধরে মায়ার পা ধরে টান দিয়ে মায়া চমকায়
মায়া : আরে আরে কি করতাছুই,আন্নে পা ধইরেন না আমার গুনা হইবো তো।মীর মায়ার পা নিজের উরুর ওপরে উঠিয়ে, হাত দ্বারা পুকুর থেকে পানি তুলে পায়ের কাঁদা পরিষ্কার করতে লাগে।এবং বলে ।
মীর : কেডা কইছে ?
মায়া : এইতা কইয়া দেওন লাগে নাকি, গুরুজনের শইলে পা ছোয়াইলে গুনাহ হয় তো।
মীর এবার আশেপাশে পুকুরের চার পাশে তাকালো, সন্ধ্যার পর পর বাহিরে তেমন কেউ থাকেনা,পুকুরে চারপাশে নানা ধরনের গাছ আছে, মীর পেছনে ফিরে নিজেদের বাড়ির দিকে তাকায়, না কেউ নেই মা দাদি নামাজ পড়ে হয়তো ঘরেই আছে। আর বোন নারগিস তো প্রচুর ভীত, সে একা বাহিরে বের হবার না।সব দিক চিন্তা করে মীর বাঁকা হেসে। অস্পষ্ট সুরে বিসমিল্লাহ বলে।মায়ার কমর জড়িয়ে তাকে নিজের কোলে তুলে নেয়।
মায়া: আহহহহহা !
মীর :চুপ শব্দ করবা না।
মায়া শব্দ করে না, মীর মায়ালাগে র গালে গাল ঘষে,হাতে পানি নিয়ে পা ঘষে বলে।
মীর : আমি তোমার পা ধরলে গুনাহ হইবো না বউ। বরঞ্চ আমি তোমার গায়ে হাত বুলামু ততোই সওয়াব পাইবা। বুঝছো। বলেই মায়ার গালে নাক, ঠোঁট চেপে ধরেলো।
মায়া : হ বুঝছি।
মীর দুই হাতে জড়িয়ে ধরেই মায়া কে নিয়ে পুকুরে নেমে গেলো, মায়ার শরীরের কাপড় এলোমেলো হয়ে গেছে। মীর এর হাত পানির নিচেই উন্মুক্ত কোমর চেপে ধরে আছে। মীরের অনুভুতির জোয়ারে ভেসে অস্পষ্ট স্বরে বলল।
মীর :খুব খুদা লাগছে বউ,।পানির মধ্যেও শরীর জ্বলতাছে খিদায়। দ্রুত উপযুক্ত হয়ে যাও ময়না পাখি ।
মায়া : সরেন না আমার কেমন জানি লাগে।
মীর : খবরদার সরবা না, যেমনই লাগে লাগুক।
মায়া সরলো না সেই কথার শুনে, তবে স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতেই উত্তর দিল।
মায়া : আচ্ছা।
মীর যানে এটাই বলবে তারা বউ।মীর গলা অব্দি পানিতে দাঁড়িয়ে মায়ার ঠোঁটে চুমু খায়,পর পর কয়েকটি তার হাতের স্পর্শ তখন মায়ার পিঠের উপর নিচে। কিছুক্ষণ ওভাবে গলা অব্দি পানিতে দাঁড়িয়ে থাকে মায়া কে নিয়ে।
মীর : আইজ গোসল কি যে সুখ সুখ লাগতাছে বউ।
মায়া : কেন ?
মীর : তুমি লগে তাই,বউ মাঝে মাঝে দিনে গোসল কইরো না এহন তে, আমি ফিরলে দুইজন একলগে করুম।
মায়া : আইচ্ছা ঠিক আছে।
মীর : এইবার তয় কয়টা ডুব দিয়ে উডি, আমার খিদা পাইছে আম্মা কি রানছে।
মায়া : আইজ হাঁসের গোশত রান্না হইছে, সেই স্বাদ হইছে। মীর নাক মুখ কোঁচকোচ বলে।
মীর : হাঁস,আর কিছু না।
মায়া : হ মাছ রানছে, নাইল্লা(পাট)শাক, ভাজি করছে,ও হ আর আপনার লাইগা কবুতর রানছে আপনে হাঁসে গোশত খান না তাই?কথাটি বলেই মায়া চিন্তায় পরে যায়।মীর তার চিন্তিত মুখ দেখে বলে।
মীর : কি হলো?
মায়া : আপনে হাঁস পছন্দ করেন না,বুবু তাই আমারে কইলো এহন থাইকা আমারো হাঁস খাওয়া বন্ধ।মীরের ভুরু কুঁচকায় বিরক্তিতে তার দাদি সব সময় বেশি বাড়াবাড়ি করে। মীর মায়ার ঠোঁটে চুমু খেতে খেতে বলে।
মীর : পছন্দ না এমন না, ভালো লাগলে খাই না লাগলে খাই না।
মায়া :ঐ একই তো কথা।
মীর : না এক না, তোমার এই ঠোঁট দিয়া খাইছো তো,যদি অপছন্দ করতাম। তাইলে তোমার ঠোঁট মুখে নিবার পারতাম না বউ। কারণ তোমার মুখে তরকারির গন্ধ পাইতাছি আমি।কথাটি বলেই আবারো চুমু খায় মীর মায়ার ঠোঁটে।
মীর : তোমার হাঁসের গোশত পছন্দ?
মায়া : হ খুব।
মীর মায়া কে নিয়ে পুকুর ঘাটে উঠতে উঠতে বলে।
মীর : তয় আমার বউর যা পছন্দ সে তাই খাইবো, যা বউর পছন্দ তাই আমার পছন্দ।গোসল শেষে মীর আর মায়া কে কাপড় ধুতে দিলো না,, অবেলায় গোসল করেছে যদি জ্বর আসে তাই নিজেই ধুয়ে নিল।নিজের আর তার বউর কাপড়।
সেই রাতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে মীর হাঁসের গোশত খেলো। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে নিজের থালা থেকে হাঁসের গোশত মায়ার পাতে তুলে দিলো।তারপর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার মীর তাদের গ্রামের হাটে গিয়ে, খাওয়ার জন্য হাঁস কিনে আনে।মূলত তার বউর জন্যই আনে।
এভাবেই ছোট ছোট আদরে যত্নে চলতে থাকলো মীরা আর মায়ারর দিনগুলো।দায়িত্ব চাহিদা ভেদ করে একটা সময় মীর প্রচুর ভালোবেসে ফেললো মায়া কে। মায়ারর শরীর পরিবর্তন হলো, চার ফুটের মায়া 5 ফিট হয়ে গেল। নারী সৌন্দর্য ফুটে উঠলো। ব্লাউজের সাইজটাও আগের থেকে বাড়লো। সবকিছুই সুন্দর স্বাভাবিক ঠিক তবে মীরের অপেক্ষা টা এখনো শেষ হলো না,, ২মাস পর মায়ার ১৪ বছর পূরণ হবে ,কিন্তু এখন পর্যন্ত সে উপযুক্ত হলো না।নাবালিকা মায়া এখন পর্যন্ত নাবালিকা রয়ে গেল। এখনো তার শরীরেরটা ((মা সি ক)) হলো না।
মীর এই বেপারে চিন্তিত, ইদানিং লক্ষ্য করছে তার দাদি রাজিয়া বেগম মায়ার সঙ্গে খুব বাজে ব্যবহার করেন।তার সামনে তো করার সাহস পায় না, তবে সে আড়ালে থেকে দেখেছে। মায়ারর অউপযুক্ত নিয়েই তা সব নিষ্ঠুরতা।মীর একটা সমাধান খুঁজতে বের হয়।মায়ার শরীরের টা কেন হচ্ছে না, এটা নিয়ে মীর অগোচরে দূরের।অচেনা বাজারের ফার্মেসি থেকে জেনে বুঝে এসেছে। ফার্মেসিতে বসা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিসিন বিক্রেতা বলেছে, অনেক সময় হরমোনের কারণে কারো মা সি ক দেরিতে হয়। আবার কারোটা আগে হয়। এটা কোন সমস্যা না।অনেকে অল্প বয়সে এ ডা ল্ট চিন্তাভাবনার কারণে হরমোন আপ ডাউন করে হরমোন ইনব্যালেন্স হয়ে যায়, তখন অল্পতেই ম্যাচুরিটি চলে আসে এবং খুব অল্প বয়সে মাসিক হয়ে যায়।
আবার অনেকের ক্ষেত্রে এমন হয় যে তাদের বয়স বাড়ে কিন্তু ম্যাচুরিটি থাকে না, যার কারণে হরমোন ব্যালেন্স থাকে এবং একটু দেরিতে সময় নিয়ে মা সি ক হয়। এটা এত ভয়ের কিছু না। ১৪ বছর পর্যন্ত দেখুন না হলে এসবের মেডিসিন আছে, তবে তার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ লাগবে।এগুলো শোনার পর থেকে মীর আরো হতাশ।সে তো কিছুতেই পারবেনা মায়া কে নিয়ে কোনো কারনে ডাক্তারের কাছে যেতে। তাই ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু তার হাতে নেই।
চলবে.......