ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ নীল চিঠি

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: Sayma Noor
#নিষিদ্ধ_নীল_চিঠি 
 #পর্ব_৬
#সায়মা_নূর 
প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ, তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাইরে বের হওয়াই দায়।তীব্র গরমে শরীর ও মন ক্লান্ত, প্রাণ ফেরে একটু ঠান্ডা ছায়ায়।ঘামের তীব্র ধারায় ভিজছে গা,গ্রীষ্মের রোদ্দুরে পথ চলা দায়,পাখিরাও খুঁজে নেয় ছায়ার আশ্রয়,জলের তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম।এমন একটা আবহাওয়াতেই রমজান শুরু হওয়া কি খুব দরকার ছিল ভাবছে মায়া তৃষ্ণায় তার গলা শুকিয়ে কাঠ। চোখে সবকিছু ঝাপসা দেখছে। তার মনে হচ্ছে এই এখনই জ্ঞান হারাবে। রোজা রাখতে মায়ার খুব কষ্ট হয়।পারেনা বললেই চলে। বিয়ের পরে এই বাড়িতে এবার তার প্রথম রমজান,গত দু বছরের রমজানে বাদশা মিয়া তাকে এসে নিয়ে গেছে আনন্দপুর ঈদ করেই এসেছে, তবে এবার মীর গোপনে বারন করেছে। আদর বাক্যে অনুনয় করেছে যে এই রমজান আর ঈদ তার সাথেই হোক। 
মায়া তার কথা শুনেছে। বাদশা মিয়া রমজানের জন্য ভাতিজির বাড়িতে ছোলা বুট,বড়ার-ডাল, মুড়ি, চিনি, ট্যাং, খেজুর, জিলাপি_নিমকি, গাছপাকা,আম, কাঁঠাল আর কলসি ভর্তি দুধ নিয়ে হাজির হলো। উদ্দেশ্য মায়াকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া, কারণ বাদশা মিয়া জানেন তার ভাতেজি না খেয়ে থাকতে পারেনা, এটা অবশ্য উনার অবদানে হয়েছে। বাদশন মিয়া ভাতিজিদেরকে কখনো খালি পেটে থাকতে দেয়নি। মায়ার মলিন মুখ দেখলেই তার কলিজা চিরে চৌচির হয়ে যায়।তাই জোর করে খাবার খাইয়েছে।সেই ভাবনা থেকেই তো ভাতিজির বিয়ের পর রমজান আসলেই সবার কাছে আবদার করেই ভাতিজি কে সঙ্গে নিয়ে যান।
তবে এবার মায়া নিজেই যায়নি।কিন্তু এখন এই গরমে রোজা রেখে পেটের ক্ষুধায় আর পানির তৃষ্ণায় মায়ার চোখে অন্ধকার দেখছে। তার মধ্যে আবার রাজিয়া বেগম এর একের পর এক আদেশ।মায়া রাজিয়া বেগমের হুকুমে এক বাটি ডাল নিয়ে বসেছে উদ্দেশ্য পাটায় বাটতে। ঠিক তখনি মায়া শুনতে পেল।তাদের বাড়ির পশ্চিমের জঙ্গল থেকে।কারো জোরে জোরে চিৎকার ভেসে আসছে।নারগিস ছুটে গেল ঐ দিকে তা দেখে মায়াও গেল তার পেছনে। গিয়ে দেখলো দুই মহিলা ঝগড়া করছে উচ্চস্বরে।তারা আবার আপন দুই ভাইয়ের দুই ব‌উ।
 ব‌ড় জা: খা ন কি তর সমস্যা কিতা, আমি যেইনো পাতা হুড়ি হেনেই তুই হুরুইন(ঝাড়ু) ল‌ইয়া মরবার আছ কে। 
ছোট জা : ও মাইয়া মাইয়া গো আন্নে এইতা কি মুখ খারাপ করতাছুই মুখ কিন্তু আমিও খারাপ করবার পারি।
বড় জা: তুই এনো হুরুইন লাগাইলি কে। 
ছোট জা: এনোতো অন্নের নাম লেহা নাই, আমার ইচ্ছা আমি এনো পাতা হুড়মু।
বড় জা:ওরে পেশাগার মা গী খাঁড়া আইজ তোর একদিন কি আমার একদিন কথাটা বলেই বড় জা ছোট, জা কে ঝাড়ু দিয়ে বারি দেওয়ার জন্য এগিয়ে যায়। তা দেখে ছোট জা ভয়ে___ ও মাইয়া মাইয়া গো বলেই দৌড় লাগালো।এ ঘটনা দেখে মায়া আর নারগিস উচ্চ শব্দের হাসি হেসে উঠলো, ঠিক তখনি পেছন থেকে মীরের এর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
 মীর : দুই জন দাঁড়াইয়া ঝগড়া শিখতাছে নাকি।মীরের কথা শুনেই থমকে গেল দুজন। নারগিস  বড় ভাই কে দেখেই মুহূর্তেই হাওয়ায় উধাও। দুর্বল অসহায় মুখে শুধু মায়া দাঁড়িয়ে আছে। মীর মায়ার মলিন মুখ দিকে তাকিয়ে বললো।
 মীর : ঝগড়া কতোদূর শিখলা ময়নাপাখি পেট খালি থাকলে মায়ার মাথা ঠিক কাজ করেনা। কিন্তু ভালোও লাগেনা কেমন রাগ রাগ লাগে।তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হল এত সময় রাজিয়া বেগমের এত এত হুকুম। আদেশে তার কষ্ট হলেও রাগ দেখাতে পারেনি কিন্তু এখন মীরের এই এটুকু কথায় কেমন রাগ লাগছে।
মায়া : বহুত দূর।
মীর : তাই নাকি ! তয় তোমার জা আ‌ইলে তার লগেও কি করবা ঝগড়া ?
মায়া : হ করবো। মায়ার এমন ছেত ছেত করা, উওর মীরের হজম হচ্ছে না। মীর কিছু সময় মায়াকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে বলে। 
মীর : আমার ময়নাপাখিরে কি রোজায় ধরছে! 
রোজা রাখবার পারবা?একথা শুনে মায়া ঠোঁট উল্টালো তার চোখে পানি চিকচিক করছে। মীর তা দেখলো আহত চোখে। এই দিকটায় মানুষ তেমন থাকে না।তার পরেও মীর ভালো করে আশেপাশে দেখে নিলো। একটু এগিয়ে মায়ার সামনে দাঁড়িয়ে লুঙ্গির কোছা থেকে দুইটা ডিম সিদ্ধ বের করে মায়ার সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো।
মীর: আমার পিচ্চি বউজানটার রোজা রাহার দরকার নাই,নেও এ লুকিয়ে চুপচাপ এডি খাইয়া ল‌ও।এদিকে এহন কেউ আইতো না।মায়া হা হয়ে গেল। মীরের হাতের দিকে তাকিয়ে। ঠিক তার বড়আব্বাও এমন করতো যখন আম্মা আরিজা মায়া কে জোর করে রোজা রাখতে বলতো,ঘরে খাবার খেলে আরিজা দেখবে তাই বাদশা মিয়া লুকিয়ে মেয়েকে খাওয়াতো।
মীর : জলদি খাও বউ। কেউ চ‌ইলা আইবো তো।
মায়া : রোজা খুললে পাপ লাগবো !
মীর : তোমার এই পাপের দায়ভার আমি নিলাম বউ তুমি খাও। তোমার হুগনা (শুকনা) মুখ দেখতে আমার ভালো লাগেনা।কথাটা বলেই মীর নিজেই মায়ারে খাওয়ালো।
মীর : তোমারে একটা চুমা দিতে ইচ্ছা করতাছে, চুমা দিলে কি রোজা হ‌ইবো না বউ ?
মায়া : আমি জানি না ।
মীর :  বউরে চুমা খাওয়া তো সওয়াবের কাম, রোজা রাখাও স‌ওয়াবের কাম। দুইটা একই লগে করলে বেশি সওয়াব হইব না ?
মায়া : আমি ক‌ইবার পারি না।
মীর : কিছু পারন লাগতো না, আমার ঘরে আও এহনি। যা পারার আমিঐ পারমু।কথাটি বলেই মীর ধুপধাপ পা ফেলে নিজের ঘরে চলে গেল।মায়া কিছুই বুঝলো না কি পারার কথা বললো মীর। তবে তার পেট এখন ঠান্ডা তাই মন‌ও ভালো সে গুটিগুটি পায়ে গিয়ে হাজির হলো মীরের ঘরে।মায়া দেখলো মীর বড় বেগ থেকে নানান ধরনের শুকনা খাবার।ফল বের করছে যা সে এখন নিয়ে এসেছে প্রথম রোজার কারনে আজ দোকান বন্ধ তাই মীর বাজারে গিয়েছিল বাজার করতে। মায়া কে দেখেই মীর বলল।
মীর : হনো বউ তোমার রোজা করন লাগবো না।তয় বাড়িত কাউরে কয়ন দরকার নাই। তুমি এই ঘরে আইয়া যা মন চায় খাইয়া যাইবা।
মায়া : চুরি ক‌ইরা খামু।মীর দুহাত বাড়িয়ে মায়ার কমর জড়িয়ে ধরে কাছে টানে নাকে নাক ঘষে বলে।
মীর : এই ঘর তোমার আমি জামাইডা তোমার আমার যা আছে সব তোমার তয় চুরি কেন হ‌ইবো ময়নাপাখি। তুমি খিদা পাইলেই খাইবা।
মায়া : আচ্ছা।
মীর : এহন একটা চুমা দেই। ইসতারের (ইফতার) পরে অনেক চুমা দিমু।মীর বিসমিল্লাহ বলে সত্যিই চুমু খায় একটা।//তারপরে সত্যি ইফতারের পর কাপড় ভাঁজ করে দেওয়ার উসিলায় মায়াকে ঘরে ডেকে নিয়ে। মীর মন ভরে চুমু আঁকলো তার মুখমন্ডলে। রাজিয়া বেগম সারাদিন রোজা রেখে দুর্বল থাকায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে পারে নাই।নয়তো সে রাতে কখনোই মায়া কে মীরের ঘরে যেতে দিত না। 
এভাবে বেশ কিছু রমজানের দিন পার হলো,১৭ রমজানে হঠাৎ করেই নারগিসের জামাই আলআমিন এসে হাজির।তাকে দেখা মাত্রই মীর ক্ষেপে গেলো।বোনের গায়ে হাত তুলায় তাকে আর বোন দেবে না বলে দিল কঠিন কন্ঠে। আলআমিন মাফ চাইলেন অনেক অনুরোধ করলেন। আলআমিন নারগিসের কাছেও ক্ষমা চায়। আর একটা সুযোগ দিতে বলে। মীর শেষে একটা সুযোগ দিতে রাজি হয়। জামাই মানুষ শ্বশুর বাড়ি এসেছে, এভাবে যেতে দেয় কি করে।তাই দুইদিন থাকতে বলে আলআমিন রাজি হলো।
রাজিয়া বেগমের ঘরে দুইটা কামড়া। একটাতে রাজিয়া বেগম নারগিস আর মায়া থাকতো। তবে আজ নারগিসের জামাই আশায়। পাশের কামড়ায় নারগিস সহ জামাইকে থাকতে দেওয়া হয়েছে। রাতে মায়ার প্র*ব এর চাপ আসতেই ঘুম ছুটে যায়।দাদী রাজিয়াকে ডাকতেই যাবে তখন পাশের ঘর থেকে কিছু ধস্তাধস্তি আর চাপা আর্তনাদতের শব্দ কানে ভেসে আসে, যা শুনেই মায়া ভয় পেয়ে যায়।ভাবে আলআমিন নারগিস কে মারছে। 
মায়া চুপচাপ হয়ে ওভাবেই বিছানায় পরে থাকে।ভয়ে তার কলিজা শুকিয়ে গেল।সে ভেবে নিয়েছে সকালেই মীর কে জানাবে এইসব মারামারির কথা।কিন্তু সেহেরির সময় আলআমিন আর নারগিস  যখন একসঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বসে ভাত খাচ্ছিল, মায়া তখন অবাক দৃষ্টিতে তাদের দুজনকে পর্যবেক্ষণ করে। সারারাত এত মারামারি পর এত স্বাভাবিক ভাবে কিভাবে নারগিস থাকছে সেটাই তার মাথায় আসছে না। হাদিসে আছে সহবাসের পর ওযু করে সেহরি খাওয়া যাবে। তবে গোসল না করে নামাজ পড়া যাবে না। নারগিস আর আলআমিন সেহেরির পর সবাই যখন যার তার ঘরে চলে যায় তখন দুজনে পুকুর পাড়ে গোসল করতে যায়। 
ঠিক তখনই মায়ার প্রকৃতির ডাকে বাহিরে বের হয়ে আসে।আজানের তখনো কিছু সময় বাকি ছিল। মায়া বদনা হাতে পুকুরে পানি তুলতে গেলে দেখতে পায় নারগিস আর আলআমিন কে। 
মায়া অবাক হয় এই সময় কেন গোসল করছে এরা। আলআমিন কে লজ্জা পায় মায়া তাই সে আর এই পুকুর ঘাটে গেল না। বাড়ির পশ্চিম দিকে যে পুকুরটা আছে সেখানে গেল।আর গিয়ে দেখতে পায় মীর দাঁড়িয়ে বিড়ি টানছে।মীর মায়াকে এখন এখানে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পেয়ে গেল। বিড়িয়ে ঘন ঘন কয়েকটা টান দিয়েই ফেলে দিয়েই মায়ার দুগাল দুহাতে আঁকড়ে ধরে বিসমিল্লাহ বলে ঠোঁটে গভীর চুমু খেতে লাগল। হঠাৎ এমন আক্রমণে মায়া হাঁসফাঁস করে উঠে।
 মায়া : আহ্ দুক্কু,,,,, দুক্কু পাই।
মীর: ওহ্ বউ সহ্য কর। পুরা দিন দিতাম না তো, এখন আজানের আগে একটু চুমাই।
মায়া : উফফ কামড়ান কেন !
মীর : জামাইয়েরা বউগরে এমনেই কামড়াইয়া চুমায়। বউ আর কতো অপেক্ষা করুম তাড়াতাড়ি বড় হ‌ইয়া যাওনা সোনাপাখি ।একটু আগে মীর যখন পুকুর ঘাটে যায় তখন নারগিস  আর আলআমিন কে দেখে নেয়।আর তখন থেকেই তার শরীর গরম তাই তো পশ্চিমের পুকুর ঘাটে দাঁড়িয়ে বিড়ি টেনে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু মায়া আসতেই তার মাথা বিগড়ে গেলো।তাই আজ নরম চুমুর সাথে উগ্র হয়ে কামড় দিয়ে ফেলছে। 
মায়া : আহহ উফফ দুক্কু দুক্কু দুক্কু
মীর : উহু লাগুক, নড়াচড়া ক‌ইরো না বউ। তাইলে জোরে কামড়ামু।ফজরের আজানের ধনী কানে আসতেই মিলন ছাড়ে মায়ার ঠোঁট। মায়ার চোখে পানি মীর জড়িয়ে ধরে বলে।
মীর :তোমারে কেমনে দেহাই বউ।আমার ভিতরের আগুন যদি তুমি একবার এই আগুনের তাপ পাইতা। তাইলে আর কান্তানা নিজের ইচ্ছায় এই আগুনে ঝাঁপ দিতা।
আপনারা রেসপন্স কইরেন না করলে গল্প দিতে মন চায় না 🌹🌹
চলবে.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন