ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ নীল চিঠি

৭ম পর্ব

লেখক: Sayma Noor
#নিষিদ্ধ_নীল_চিঠি 
 #পর্ব_৭
#সায়মা_নূর 
গরমকালের শান্ত ভোর। দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে এসে পুরো গ্রামটাকে এক অন্যরকম প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিচ্ছে। পুকুরের জলে হালকা বাতাস লাগছে।
 জলের উপর ছোট ছোট ঢেউ উঠছে। আকাশে লালচে আলো ফুটতে শুরু করেছে।মীর মায়া কে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুকুরে ঘাঁটের উপরে । ভোরের ঠান্ডা বাতাসে একটু স্বস্তি লাগে তার। পাশে দাঁড়িয়ে আছে মায়া।
তারা দুইজন এক প্রকার আটকা পড়ে গেছে এই পুকুর ঘাঁটে।কারন আলআমিন আর নারগিস  বাড়ির প্রবেশ পথের পাশের পুকুরে।তারা দুইজন যদি এখন ঘরে ঢুকে তাহলে ওরা দেখে নেবে।শুধু নারগিস থাকলে চলে যেতো।
 কিন্তু ছোট বোন জামাইয়ের সামনে মায়া কে নিয়ে ঘরে ঢুকে লজ্জা পেতে চায়না মীর তাই মায়া কে আঁটকে রেখেছে এক প্রকার। ঘুমজড়ানো চোখে মায়া এদিক ওদিক তাকায় তাকিয়ে বলে 
মায়া : আমার বহুত ঘুমে ধরছে চুমা তো খাইছেন এহন ছাড়ু‌ইন আমি যাই গা।
মীর : না টিক মাইরা (চুপ করে)খাড়াই থাহ।
মায়া : উহু উহু কেল্লাইগা আমার ঠেঙ্গে(পা) দুক্কু পাইতাছি,একটু বাদেই চারপাশে সকাল হ‌ইয়া গেলে ঘুমাইবার পারতাম না বুবু ডাইকা উডাইবো।মায়া নাক মুখ কুঁচকে বিরক্ত নিয়ে কথাটা বললো। তা দেখে মীর মায়া কে এক ঝটকায় কোলে তুলে নেয়।
মীর : আমার কুলে ঘুমাও বউ
মায়া : আরে আরে কি করতাছুইন,কুলে ঘুমান যায় না ঘরে বিছনাত ঘুমাই গা।কথাটা বলেই মায়া কোল থেকে নামতে চায়। মীর তাকে আরো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বলে।
মীর : শান্ত থাহ বউ এতো তিড়িং বিড়িং করলে পুশকুনিত পরমু,পরে ফরজ কাম ছাড়াই ফরজ গোসল করা লাগবো।মায়া শান্ত হয়ে যায়, তার সত্যিই খুব ঘুম পাচ্ছে,ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে।
মায়া:ফরজ কাম কি আবার ?
মীর :যা আমি করতে চাই কিন্তু তুমি বড় হ‌ইলে।
মায়া : তয় একলাই করুইন।
মীর : ছিঃ ছিঃ বউ নিজের হক জলে ভাসাইতে চাও
মায়া না বুঝেই বলে।
মায়া : তাইলে আমার হক আমারে দিয়া দেন মীরের গা শিউরে ওঠে মায়ার কথা শুনে। সে মাথা নামিয়ে মায়ার কাঁধের কাছের ব্লাউজের নাকটা গষে নেশা জড়ানো কণ্ঠে বলে।
মীর : আমি ওয়াদা করতাছি বউ তোমার হক। মাটিরে_পানিরে কোউরেই দিমু না তোমার হক তোমারে বুঝাইয়া দিমু সোনা শুধু একবার সুযোগটা পাই বুঝছো।
মায়া চ: আচ্ছা,এহন ঘরে যাই।
মীর : কলিরা আগে যাক।
মায়া : কলি আপা এতো কিয়ের নাওয়া নায় এই বিয়াইন্নাকালে (ভোরে)মীর মায়ার নাকে নাক ঘষে বলে।
 মীর : তা তুমি তোমার ননদের জামাইরে জিগাইয়ো।
মায়া : আচ্ছা!
মীর হাসলো সে যানে মায়া সত্যিই জিজ্ঞেস  করবে। তাই সে ইচ্ছা করেই বলেছে।ওদের একটা শিক্ষা পাওয়া উচিত, শশুর বাড়িতে এতো কিসের মাখামাখি,আর করলে গোপনে কর, কেন অন্যদের সমস্যা ফেলে এতো ঘষাঘষি করবে।তারা কি যানে না মীর ব‌উ থাকতে উপোস জীবন যাপন করে। এসব মাথায় ঢুকলে তার ভেতরে আগুন জ্বলে,সে আগুন নেভানোর মানুষ যে এখনো উপযুক্ত নয় ।
নারগিসরা ঘরের দরজা বন্ধ করতেই। মীর মায়া কে কোলে নিয়েই বাড়ির উঠানে আসে। মায়া ছোট ছোট চোখ করে ভোরের আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে।
মায়া :ভোরটা কত সুন্দর না?
মীর মুচকি হেসে তার দিকে তাকায়। হালকা বাতাসে মায়ার চুলগুলো একটু এলোমেলো হয়ে যায়। মীর মজা করে বলে।
মীর : ভোর সুন্দর নাকি তুমি বউ বুঝবার পারতাছি না। আমার চোহে (চোখে) আমার বউ বেশি সুন্দর।মায়া হালকা করে হাসে। তাকে কেউ সুন্দর বললে তার খুব ভালো লাগে। তবে মায়ার একটা ভালো অভ্যাস আছে। তার প্রশংসা কেউ করলে সেও বিপরীতে প্রশংসা করে দেয়।
মায়া : অন্নেও অনেক সুন্দর  আছুইন।তা শুনে মীরের বুকে প্রশান্তি লাগে মীর বলে
মীর : আলহামদুলিল্লাহ তোমার কাছে সুন্দর হইবার পাড়া তো ভাগ্যের বউ আজ শহরে যামু নতুন নতুন কাপুর আনবার দোকানের লাইগা, তোমার লাইগা কি আনতাম ক‌ও।
মায়া : হাছা (সত্যি) তয় আমার লাইগা শাবানা লজেন্স আনুন যে।
মীর : আর কিছু না।
মায়া :  হ আর বাংলা সাবান( কাপড় দোয়ার সাবান) আনবার কাইল নাওয়ার কালে আমি চুলে সাবান মাখছি দেইহা। বু(দাদি) ক‌য় এতো সাবান মাহছ কে চুলে এক শাবান তো তোর‌ই লাগে মাসে এতো শাবান মাখবার ইচ্ছা করলে তোর ল্যাং রে কবি আইনা দিবার।মীর বিরক্ত হলো বললো।
মীর : তুমি ক‌ইবার পারলানা,সাবান তো আমার ল্যাং ঐ আনছে। এহন এক মাসে একটা লাগাই না একদিন তাতে আন্নের কি।
মায়া : আরে না না আম্মা ক‌ইছে মুরুব্বীগর লগে তর্ক ঠিক না।মায়ার এই রুপ ব্যবহারে মীর বরাবরই মুগ্ধ হয়। তার বউ টা খুব লক্ষ্মী স্বভাবের। আর এই স্বভাব টাই মায়ার প্রতি মীর কে বেশি টানে।
রোজার মাসে সকালে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া রান্না বান্নার কোন ঝামেলা নেই। তাই বাড়ির প্রত্যেককেই যার তার মতো এখানে ওখানে বসে আড্ডা দিচ্ছে বিশ্রাম করছে। মায়া তখন মীরের কারণে ঘুমাতে পারিনি। প্রতি দিনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মীর যখন দোকানে কিংবা কাজে কোথাও যায়। তখন যত সময় সে তৈরি হয় ততসময় মায়া তার কাছেই থাকে। এটা ওটা এগিয়ে দেয় দুজনে নানান ব্যাপারে কথা বলে। রোজার মধ্যে দিনে মীর বেশি চুমা দিতে পারেনা তবে। আদুরী স্পর্শে মায়ার গালে ,ঠোঁটে ,মাথায় ,হাতে হাত বুলিয়ে দেয়।
মীর চলে যেতেই,সকাল আটটায় মায়া ঘুমিয়ে পড়েছিল সেই ঘুম ভাঙলো দুপুর ১২ টায়, চোখ ঢলতে ঢলতে সে ঘর থেকে বের হয়ে পুকুর ঘাঁটে যায়, গিয়ে দেখে পুকুরের পাশের মাচায়, আলআমিন বসে বসে পা দোলাচ্ছে। 
তাকে দেখেই মীরের শিখিয়ে দেওয়া কথাটা মায়ার মনে পড়ে গেল।আলআমিনের পাশেই নারগিস  দাড়িয়ে ছিল। মায়া গিয়ে সামনে দাঁড়ালো এবং সরাসরি প্রশ্ন করে বসলো। 
মায়া : বাইসাব ফত্তাখাইয়া(সেহেরি খাইয়া) বিয়াইন্নাকালে অন্ধাইর থাকতে আন্নেরা নাওয়া নাইলেন এতো অক্ত ধইরা। আলআমিন আকাশ থেকে পরে মায়ার কথা শুনে। সে এক লাফে বাঁশের মাচা থেকে নেমে হাঁটা ধরে বাড়ির উত্তর দিকে নারগিসের তো লজ্জা পাওয়ার কথা,অন্য কেউ হলে ঠিক লজ্জা পেত তবে মায়া বলেই পেলোনা।কারন নারগিস যানে মায়া স্বামী স্ত্রীর স হ বা সে র (স) ও বোঝেনা। তাই নারগিস আলআমিন কে পালাতে দেখে হাসলো। মায়া নারগিস কে হাসতে দেখে চোখ মুখ কুঁচকে বলল।
মায়া : আমি কি হাসির কতা ক‌ইছি নারগিস  আফা।হাসেন কা আর ভাইসাব গেলোগা যে।
নারগিস : না হাসির কতা না লজ্জা কথা তাই আন্নের ভাইসাব লজ্জায় পালাইছে।
মায়া : আন্নে কিতা কন বুজিনা তো। নাওয়ার কতায় কে লজ্জা পায়।মায়া জোরে কথাগুলো বলছিলো।নারগিস দ্রুত মায়ার হাত ধরে বলে।
নারগিস : ভাউজ (বড় ভাবি) আস্তে আস্তে কতা কন। আম্মা, আব্বা,বুবু হুনবো তো।
মায়া : হুনলে কি ?
নারগিস : লজ্জার ব্যাপার তো এঢি।
মায়া : কেন ?
নারগিস এদিক ওদিক তাকিয়ে ফিস ফিস করে বলে।
নারগিস : স্বামী স্ত্রীর গোপন কতা, গুরুজন হুনলে লজ্জা তো।মায়া মনে পরে মীর ও বলে তাদের স্বামী স্ত্রীর কথা কাউকে না বলতে। কিন্তু তারা গোসল করে না ভোরে। মায়া ও ফিস ফিস করে বলে।
মায়া :আইছা তয় আস্তেই কন, বিয়াইন্নাকালে নাওয়ার কি ছিল।
নারগিস : ভাউজ তহন ফরজ নাওয়া নিছি ।
মায়া : কেন ?
নারগিস : ফরজ কাম করছি তাই।
মায়া : ফরজ কাম কি ?
নারগিস : স্বামী স্ত্রীর গোপন কাম।মায়া বুঝতে পারে না। স্বামী স্ত্রীর গোপন কাম তারাও করে। মীর চুমা দেয় গোপনে। কাউরে বলতে নাও করে। কই তারা তো ফরজ গোসল করে না। মায়া কিছু চিন্তা করে বলে।
মায়া : ভাইসাব আন্নেরে ওমন মারলো কেন রাইতে।
নারগিস : কহন ?
মায়া : মাঝরাইতে আন্নে কেমন আহ্ আহ্ উহ্ উহ্ ক‌ইয়া শব্দ করতা ছিলাইন।
নারগিস : হায় হায় ভাউজ আন্নে মেলা পাজি আছুইন,এইতা ও হুইন্না লাইছুইন। আচ্ছা তয় ভালাই করছুইন,আন্নেরো তো জানুন লাগবই বিয়া যহন হ‌ইছে ,লন আন্নেরে সব বুঝাই।তারপর শুরু হয়ে গেলো নারগিসের মায়া কে স্বামী স্ত্রীর স হ বা স সম্পর্কে বলা। আলোচনার পুরোটা সময় মায়া শুধু পলকহীন চোখে নারগিসের ঠোঁটের দিকেই তাকিয়ে শুনলো। 
প্রথম দিকটা মায়ার কিছুটা বুঝতে পারল। যেটা মীর তার সাথে প্র্যাকটিক্যালি করে। কিন্তু আলোচনার গভীর পর্যায়ে যেতেই বুক কাঁপতে শুরু করলো মায়ার।রোজার মধ্যে এমনিতেই সে মীরের কথায়। লুকিয়ে লুকিয়ে শুকনো খাবার খায়।তাও যখন সে মীরের ঘর পরিষ্কার করতে ঢুকে তখন। সেহেরির পরে ঘুমের অভাবে আজ আর তাও খায়নি। এতো সময় মরার মতো ঘুমিয়েছে। পিপাসায় গলাটা শুকিয়ে আছে, ভেবেছিল পুকুর থেকে হাতমুখ ধুয়ে।ঘরে গিয়ে লুকিয়ে পানি পান করবে।
তবে এখন কলির এমন ভয়ংকর বর্ণনা শুনে চোখে সমস্ত কিছু ঝাপসা দেখছে। শরীরটা ক্রমশই গরম হয়ে উঠছে।নারগিস মায়ার ঘোলা চোখের দিকে তাকিয়ে মায়া কে জাপটে ধরে। মায়ার মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। দাঁড়াতেও পারছে না কলি দ্রুত তাকে ধরে বাঁশের মাচার উপর বসিয়ে দেয় চাপা কন্ঠে হাজারী করে বলে
নারগিস : ও আল্লাহ আল্লাহ গো ভাউজ অন্নের কি হ‌ইছে।ও ভাউজ কতা কন। আল্লাহ কছম লাগে ভাউজ আমি আন্নেরে কিছুই ক‌ই নাই। আন্নেই ফাল পারছুইন হুনার লাইগা ও ভাউজ আল্লাহ দোহাই লাগে ভাইসাব রে কিছুই ক‌ইনা যেন।
ঐ ঘটনার পরে বিকালে মধ্যেই মায়ার গা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর উঠে। বাড়ির সবাই প্রচুর অবাক হয় এমন হঠাৎ সুস্থ মায়ার অসুস্থ হওয়ার ব্যাপারটা কারোই হজম হচ্ছে না। দাদি রাজিয়া বেগম তো ভেবেই নিয়েছে। ভর দুপুরে পায়খানায় যাওয়াতে মায়া কে নিশ্চয়ই। তাদের সামনের বাড়ির শুকুর আলীদের জঙ্গলের বাঁশের ঝাড়ে থাকা ইব্রাহিম জিনের বাতাস লেগেছে। রাজিয়া বেগম আরশাদ আলী কে কবিরাজ আনতে বলতেই চাচ্ছিল। তবে নারগিস তা বুঝতে পারে দাদিকে আটকায়। এবং সব ঘটনা খুলে বলে। তা শুনে রাজিয়া বেগম মায়ার উপর বেজায় বিরক্ত হয়ে যায়। বিরক্ত হয়ে বিছানায় কাঁথা জড়িয়ে শুয়ে থাকা মায়া কে হাঁটার লাঠির আগা দিয়ে খোঁচা মেরে বলে।
রাজিয়া : ও মাইয়া মাইয়া গো,ও ছিনালরে ছিনালরে ল্যাং এর সোহাগের কথা হুইন্নাই, মাংঙ্গের মদ্ধে জর বাইয্যা গেলো, ল্যাং গের লগে হুতরে কি করবি। মায়া জ্বরের ঘরে অস্পষ্ট সুরে আওড়ায়। 
মায়া : আমি পারতাম না আমি পারতাম না কাপুর ছাড়া হুতবার না না না হ‌ইবো না.......এইকথা শুনেই রাজিয়া বেগম রাগি চোখে তাকায় নারগিসের দিকে। নারগিসের ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ, তার তো দাদীকে দেখে ভয় করছে আর যদি তার ভাই এ কথা শোনে তখন। রাজিয়া বেগম দাঁত কটমট করে নারগিসকে পেটে লাঠির আগা দিয়ে গুতা মেরে বলে
রাজিয়া :ঐ ঐ_ পে শা গা র_ন ডি ঘরের ন ডি তুই তোর লাঙ্গের নিচে কাপুর খুইল্লা হুতছ না লাঙ্গের উপরে কাপুর খুইল্লা বহছ তা তোর এই ঢংগি ছিনালরে ক‌ইবার দরকার আছিল?
নারগিস ভয়ে কান্না করে দেয়।নারগিস বলে।
নারগিস : বু বু গো আমার অনেক বড় ভুল হ‌ইয়া গেছে।আমি বুঝি নাই বু।
রাজিয়া : মা গি ভুল না এইডা পাপ ,জামাই ব‍উ এর গোপন কতা অন্যের কাছে ক‌ওয়া পাপ। 
নারগিস : ভাউজ জানবার চাইলো তাই।
রাজিয়া : তাইলেই তুই তোর গোপন কতা ক‌ইয়া দিবি। তুই ক‌ইবার পারতি তোর ভাইসাব রে জিগাইতে।   ......ও আল্লাহ আল্লাহ গো আমি একলা রাজিয়াআআা বেগম কয়ডা ছিনাল মানননননুষ  করমু গগগগগগগগগগো......দুই হাত উপরে তোলে আহাজারি করে রাজিয়া বেগম কথাটি বলল।রাজিয়া বেগম আবারো মায়া কে লাঠির আগা দিয়ে গুতা দিল। মায়া নড়াচড়া করে না তা দেখে আরো বিরক্ত হয়ে রাজিয়া বেগম বলে।
রাজিয়া :মা গি চৌদ্দ বছর হ‌‌ইবার লাগছে এহনো শ‌ইলেরডা হয় না কেন, আমার নাতি উপোস থাকতে থাকতে হুগাইয়া যাইতাছে সেই খবর নাই হেয় জরে কাঁপে।কথাটি বলেই লাঠিতে খট খট আওয়াজ তুলে রাজিয়া বেগম কক্ষ থেকে বারান্দায় চলে আসে আর মনে মনে ভাবতে লাগে। রমজান শেষ হোক ঈদের পর সে একটা পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করবে এই বিষয়ের।মায়ার জ্বর উঠায় ভয়ে বাড়ির সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে। নারগিস তার স্বামী আলআমিন কে নিয়ে সন্ধ্যার আগেই শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আরশাদ আলী  মন্জু খাতুন, রাজিয়া বেগম সবাই অনেক থাকতে বললো আলআমিনের সম্মতি থাকলেও নারগিসের যাওয়ার জন্য উতলা হয়েই সন্ধ্যায় মীর ফেরার আগেই চলে গেল। রাজিয়া বেগম কারনটা বুঝলো তবে নারগিসেরর বাবা-মা কিচ্ছু বুঝলো না।
সন্ধ্যায় এক কৌটো শাবান লজেন্স আর এক ডজন বাংলা সাবান এক ছরি পাকা কলা, দুইটা সিদ্ধ ডিম,নতুন লাল লিপস্টিক, নেলপালিশ আলতা নিয়ে বাড়ি ফিরলেন মীর তবে মায়া উঠানে নাই আশেপাশের কোথাও নাই। মীরের কিছু জিগ্গেস করতে হলোনা,সে ঘরে ঢুকার আগেই,সাইকেলের শব্দ পেয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পড়ে, পেছনে তাকিয়ে দেখে তার বাবা আরশাদ আলী আসছে। মীর বাবার সাথে তেমন দরকার ছাড়া নিজে থেকে কথা বলেনা। মন্জু খাতুন তখন বারান্দায় ছিল তিনি ইচ্ছা করেই মীর কে শুনিয়ে বলে।
মন্জু : জরের বরি (ঔষধ) আনছেন বৌয়ের তো জর কমে না।মীর কপালে ভাজ পড়ে মায়ের কথা শুনে। মায়ার জ্বর আসছে কিভাবে কখন, সকালে তো ঠিক দেখে গেল তাহলে হঠাৎ, আরশাদ আলী  ততক্ষণ ঘরে চলে গেছে।মন্জু দাঁড়িয়েই ছিল হয়তো ছেলে কিছু বললে তা ভেবে।তার ভাবনা সঠিক করে মীর বলে।
মীর: আম্মা কি হ‌ইছে?
মন্জু : বৌয়ের খুব জর বিকাল থাইকা,চোখ খুলে না, মাথায় পানি ঢালছি তাও কমেনা তাই তোর বাপে বরি আনলো দেহি খাওয়াইয়া কমে নাকি।
মীর :আমারে একটা খাবর পাঠাইবেন না!লগে ডাক্তর ল‌ইয়া আইতাম।
মন্জু : বরি খাইয়া ভালা না হ‌ইলে আনিছ।এহন যা গোসল ক‌ইরা আয়, আমি বৌয়েরে বরি খাওয়াইয়া ভাত বারি।কিসের ভাত খাওয়া মীরের ইচ্ছা করতাছে। মায়ার কাছে যেতে,তবে তার দাদি যে রাতে মায়ার কামরায় ঢুকতে দেবে না। ভাবতেই বিরক্ত হলো মীর তার মাঝে মাঝে ওই ব্যক্তিকে দেখতে খুব ইচ্ছা করে যে এই সমস্ত ফালতু নিয়ম বানিয়েছে। রাতে অ উপযুক্ত ব‌উ এর কাছে না যেতে পারলে অ উপযুক্ত মেয়ের সাথে কিসের বিয়ে। যে বানিয়েছে এই নিয়ম তাকে পেলে মীর তার ঠ্যাং (পা)দুটো আগে ভাঙতো।
রাতে খাওয়া খেতে বসে মায়ার সাথে দেখা হলো মীরের। কেমন আপাত মুস্তক কাঁথা দিয়ে ঢেকে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। মাথাটা নিচু তার থুতনিটা বুকের সাথে লাগিয়ে। মীর লক্ষ্য করছে একটাবারের জন্য‌ও মায়া তার দিকে তাকায় নি,ভাত ও খাচ্ছে না নাড়ছে ,শুধু শশুরের আদেশ মেনে ভাতের থালা নিয়ে বসেছে। রাজিয়া বেগম লক্ষ্য করছে সবটা নাতিকেও নাত বৌকেও। রাজিয়া বেগম ইচ্ছা করেই মীর কে শুনিয়ে শুনিয়ে মায়া কে বলল।
রাজিয়া : কি লো নাত বৌ হুট ক‌ইরা তোমার জর আইলো আবার নারগিস  হুট ক‌ইরা চ‌ইলা গেল কেন,তোগোর ভিতরে কি কিছু হ‌ইছে ! কোন কিছু ল‌ইয়া কতা, নাকি ঝগড়া করছো ননদের লগে?
এই কথা শুনেই মায়া ভয় কেঁপে উঠলো, সরাসরি মুখ তুলে তাকাল মীরের দিকে। মীর আগে থেকেই তাকে দেখছিল। মায়ার চোখে কিছুটা লজ্জা,ভয়ের মিশ্রণ , বিচক্ষণ মীর মায়া কিছু না বললেও বুঝে নিল কি কি হয়েছে। বুঝে নিলো অ উপযুক্ত  মায়া উপযুক্ত কিছু শুনতে পাওয়ার এই জ্বর। মীর তাকায় রাজিয়া বেগমের দিকে। রাজিয়া বেগম সঙ্গে সঙ্গেই মুখ ভেংচি কাটে। মীর মাথা নামিয়ে ভাতের প্লেটে মনোযোগ দিল।ঠোঁট বাঁকিয়ে একটু হাসে মনে মনে আউড়ালো।
 মীর : অন্যের মুখে হুনছো তাতেই জ্বর বাধাইছো বউ।যখন করমু তখন কি হাল যানি হয় তোমার।  
লাইক কমেন্ট করে দিয়েন সবাই। লাইক কমেন্ট করতে এত কিপ্টামি করেন কেন সবাই হুম 🔪🔪
চলবে.........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন