ফন্ট সাইজ:
থিম:
পাতাবাহার

১৬তম পর্ব

লেখক: সাদিয়া আফরোজ

গল্পের নাম:#পাতাবাহার_(অনূভুতির অশ্রুমালা)

পর্ব :(১৬)

লেখিকা:#সাদিয়া_আফরোজ

•

•

•

নিয়াজ আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই আযান তিতিরের সামনে এসে দাড়িয়ে মিস্টার নিয়াজের চোখে চোখ রেখে বললো,,,যার সাথে কথা বলছেন তার সাথে কথা বলতে হলে আগে আমার পারমিশন নিতে হয়। আর আপনি তো কথা বলার পারমিশনও চাইলেন না বরং তার চোখের জল ফেলার মত অপরাধ করে ফেলেছেন! এমন অপরাধের কি শাস্তি দেওয়া যায়?

আযানের কথায় মিস্টার নিয়াজ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,শাস্তি!কি বলতে চাইছো? ওর সাথে কথা বলতে পারমিশন কেন নিবো!তাও আবার তোমার থেকে?কি হও তুমি ওর?

আযান বাঁকা হেসে বলল, যা বলতে চাইছি তা বুঝার ক্ষমতা আপনার হয়নি।আর আমার কথা বাদ দিন, আমি কি হই তা পরেই জানতে পারবেন। বরং আপনি বলুন, আপনি ওর কি হন যে ওর সাথে এই ভাবে কথা বলছেন?তবে ভাষা ব্যাবহার শুনে রাস্তার পাশের ন্যেড়ি কুকুর মনে হচ্ছে।

আযানের কথা শুনে তিতির মাথা তুলে তাকালো।

মিস্টার নিয়াজ আযানের কথায় রেগে গিয়ে বলল,মাইন্ড ইয়োর ল্যাংগুয়েজ!আমি ওর কি হই সেটা ওকে জিজ্ঞেস করো।

আযান পকেটে হাত গুঁজে তিতিরের দিকে তাকিয়ে বলল,ওর কিছুই হন না।

তিতির অশ্রুসিক্ত চোখে আযানের চোখের দিকে তাকালো।

মিস্টার নিয়াজ চোখ মুখ শক্ত করে বললো, আমি ওর চাচা হই। বুঝতে পেরেছো?

আযান শব্দ করে হেসে উঠে বললো, রিয়েলি? আমার তো মনে হচ্ছে না!আমি যতটুকু জানি চাচা বাবার সমতুল্য হয়।আর বাবা কখনো তার মেয়েকে উপবস্ত্র বলে না , না বলার কথা চিন্তা করে। আপনি কেমন চাচা?

মিস্টার নিয়াজ ফুঁসে উঠে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আযান থামিয়ে দিয়ে বলল,আসলে আপনার চাচা হওয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই তাও তিতিরের মত মেয়ের।যদি চাচা হতেন তাহলে একটা মেয়েকে এইভাবে তার নিজের বাড়ি থেকে বের করে দিতেন না।না তিনমাস পর তাকে দেখতে পেয়ে গায়ে ঢলে পড়া মেয়ে বলতেন আর না কারো উপবস্ত্র।ভাই থাকা অবস্থায় ঠিকই তো মেয়েটাকে আহ্লাদে রাখতেন। তখন তো মনে হয়নি মেয়েটা গায়ে ঢলে পড়া?আর না মনে হয়েছে কাউকে পটিয়ে তার কাছে থেকে যাওয়ার মত।মরার জন্য দোয়া করছেন না! মরতে মরতে বেঁচে গেছে মেয়েটা।খবর নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। আসছে চাচা দাবি করতে। আপনার তো লজ্জায় মরে যাওয়া উচিৎ।

তিতির স্তব্ধ হয়ে আযানের দিকে তাকিয়ে আছে।

আযান তিতিরের হাত টেনে ধরে হাতের তালু দেখিয়ে বললো,, পোড়া দাগটা দেখেছেন?এইটা মেয়েটার সো কল্ড চাচির দেওয়া। একটা কাজ করুন! আপনি আমার সাথে কিচেন এরিয়ার দিকে চলুন আমি একটা খুন্তি গরম করে আপনার হাতে চেপে ধরে রাখি। ততক্ষণ ধরে রাখবো যতক্ষন না আমার রাগ কনট্রোলে আসে‌।

মিস্টার নিয়াজ রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বলল,, ডোন্ট ক্রস ইয়োর লিমিট!মুখ বন্ধ রাখো,এই মেয়েটার হয়ে কথা বলতে আমি তোমাকে বলিনি। যাকে চেনো না তাকে নিয়ে কথা না বলাই বেটার।

আযান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,আমি চিনি না এইটা ভুল, তবে এই মেয়েটা আপনাকে চেনে না। সুতরাং আপনি ওকে নিয়ে একটা বাজে কথাও বলবেন না।আর আপনি কি বলেছেন! ওকে নিয়ে কথা না বলাই বেটার রাইট? ঠিক ঠিক বলেছেন, আমার কথা বলা উচিৎ হয়নি বরং আপনার মত অমানুষ গুলোকে দেখলেই কুকুরের মত পেটানো উচিত। যেন জিবনে এমন ভুল করার কথা কখনো চিন্তাও না করে। পরেরবার থেকে আপনি ওকে কোনো প্রকার বাজে কথা বললে আমি সত্যি আপনার মত নেড়ি কুকুরকে যে ভাবে মানুষ পেটায় ঠিক ওই ভাবেই পেটাবো।

মিস্টার নিয়াজ আযানের দিকে তেড়ে আসতে নিলে তিতির হাত দিয়ে থামিয়ে দেয়।

আযান তিতিরের দিকে তাকিয়ে আছে।

মিস্টার নিয়াজ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

তিতির আযানের সামনে দাঁড়িয়ে মিস্টার নিয়াজের মুখোমুখি হয়ে বললো,,, এই দুঃসাহস মোটেও করবেন না।আমি আমার সাথে করা সব অন্যায় সয্য করলেও,ওনার সাথে করা একটা অন্যায়ও সয্য করবো না। তাহলে আমি ভুলে যাবো কখনো আমি আপনাকে আমার বাবার স্থান দিয়েছিলাম। একটা কথা ভালো করে শুনে রাখুন, আপনি আমার চাচা এইটা আমি চাইলেও ভুলতে পারবো না,তবে আজকের পর থেকে আমি আপনাকে আমার চাচাও মনে করতে পারবো না।আমি খুব করে ভুলতে চাই আপনার মত লোক আমার চাচা ছিলেন,তাই নিজেকে কখনোই আমার চাচা দাবি করবেন না। চাচা দাবি করে আমাকে বাজে কথা বললে কি হবে তা নিশ্চই শুনেছেন? নিজের দায়রার মধ্যে থাকুন,আমি চাইনা আপনার ছায়া ওনাদের কারো উপর পড়ুক। অনুষ্ঠানে এসেছেন খাওয়া দাওয়া করে বিদায় হন। অন্তত এইখানে কোনো সিনক্রিয়েট করবেন না।

আযান মুচকি হেসে মিস্টার নিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল,, আই থিংক আপনি বুঝতে পেরেছেন? পরেরবার আর বুঝাবো না।

মিস্টার নিয়াজ তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তিতিরের দিকে তাকিয়ে বলল,, তোকেতো আমি দেখে নেবো।

তিতির চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। পেছন থেকে আযান হেসে উঠে বললো, আর দেখতে যাবেন না , এরপর হয়তো আপনি দেখার জন্য থাকবেন না। তাই বিদায় হন।

মিস্টার নিয়াজ রেগে হন হন করে চলে গেল।

তিতির তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলল সাথে গড়িয়ে পড়লো দুফোঁটা অশ্রু জল।আযান দুটো চেয়ার থেকে একটা টেনে এনে তিতিরের পাশে রেখে বললো, বসো এইখানে।

তিতির ধুপ করে বসে পড়লো।

আযান আরেকটা চেয়ার নিয়ে তিতিরের মুখোমুখি বসলো। তিতিরের দিকে তাকিয়ে দেখে তিতির কাঁদছে।আযান একটা টিস্যু তিতিরের দিকে এগিয়ে দিলো। তিতির চোখ মুছতে নিলে আযান তিতিরের হাত থামিয়ে দিয়ে টিস্যু পেপার নিয়ে নিলো।

তিতির অশ্রুসিক্ত চোখে আযানের দিকে তাকিয়ে আছে। আযান সেই টিস্যু পেপার দিয়ে তিতিরের চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো, তুমি যেভাবে মুছতে নিচ্ছিলে ওভাবে মুছলে কাজলটা ছড়িয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।

আযান তিতিরের চোখের জল গুলো খুব যত্ন করে মুছে দিচ্ছে। তিতির স্তব্ধ হয়ে বসে দৃষ্টি স্থির করে আযানের দিকে তাকিয়ে আছে।

আযান চোখ মুছে দিয়ে সোজা হয়ে বসে বললো, চোখের কাজল লেপ্টে যাওয়া স্বভাবিক।তবে খেয়াল রাখবে সেই কাজল লেপ্টে যাওয়ার কারণ যেন চোখের জল না হয়। আমি চাইনা তোমার চোখের জল দেখতে,আমি চাই তুমি প্রাণ খুলে হাসো।

তিতির আযানের দিকে তাকিয়ে বলল,, যার স্মৃতি শুধুই তিক্ততার তার অশ্রুজল কি স্বভাবিক নয়?

আযান মুচকি হেসে বললো, তাহলে নতুন স্মৃতি তৈরি করো, যে স্মৃতি গুলো তোমাকে কখনো কাদাবে না।

তিতির আযানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, চেষ্টা করছি কিন্তু অতীত দিচ্ছে কই!

তিতিরের কথা শুনে আযান চোখ ছোট ছোট করে বললো, দুবেনী ওয়ালী পিচ্চি মেয়ে চাইলে আমিও তাকে হেল্প করতে পারি।

তিতির ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল, হেল্প করার কথা বললেন নাকি হাল্কা করে ক্ষেপিয়ে দিলেন?

আযান শব্দ করে হেসে উঠে বললো, তুমি যা ভাবছো তাই।

তিতির চোখ পাকিয়ে শাসনের সুরে বলল, আপনার খবর আছে। দেখবেন আমি কি করি হুহ!

আযান মাথা চুলকে মুচকি হেসে মনে মনে বললো, তোমার জন্য সাত খুন মাফ মুগ্ধময়ী।

''

আংটি বদল করা শেষ হয়ে গেছে। খাওয়া দাওয়ার পাট চুকিয়ে গেছে। রাইয়ান তার ফিয়ন্সের সাথে তিতির আর আযানকে পরিচয় করিয়ে দিলো। রাইয়ানের ফিয়ন্সে একজন গাইনোকলজিস্ট এইবার নতুন পাশ করে বেরিয়েছে,ইন্টার্নিও প্রায় শেষের দিকে। তিতিরের কাছে রাইয়ানের ফিয়ন্সে জুহিকে খুব পছন্দ হয়েছে। জুহিও খুব মিশুক টাইপের। রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজতে চললো,আযান সবার থেকে বিদায় নিয়ে বের হবে এমন সময় রাইয়ানের ফিয়ন্সে জুহি আযানকে ডেকে বললো, ভাইয়া একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

আযান মুচকি হেসে বলল, অবশ্যই!

জুহি মুচকি হেসে তিতিরকে ইশারায় দিয়ে দেখিয়ে বললো, মোর দ্যান ফ্রেন্ড?

আযান মুচকি হেসে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো, উঁহু! ভেরী স্পেসাল। মোর দ্যান লাভ।

তিতির জুহির ইশারা দেখলো না তবে আযানের কথা ঠিকই শুনতে পেয়েছে।তাই আযানের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছে আসলে কার কথা বলছে।

আযানের কথা শুনে জুহি তিতিরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন