(🚫রোমান্টিক গল্প যাদের পছন্দ নয় তাঁরা নিজ দায়িত্বে স্কিপ করবেন।)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব:০৬
( ❌❌হ্যাসট্যাগ ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ ❌❌)
________________________
সেই রাতে আর জাইরার ঘুম হলো না । চোখ বন্ধ করতেই অপ্রত্যাশিত চুম্বনের দৃশ্যটা ভেসে উঠছে। ওই হাস্কি টোনে ডাক ‘অরাপাখি’ ! এপাশ ওপাশ করতে করতেই রাত কেটে গেল। খুব ভোরে ঘুমালো ।
___________________
একটা নতুন সকালের শুরু। ভোরের আলোটা আজ অন্যদিনের চেয়ে একটু বেশিই উজ্জ্বল। জানলার পর্দা ভেদ করে আসা সোনালী রোদটা যেন কানে কানে বলে যাচ্ছে—আজ শুভক্ষণ। সারা বাড়িতে কাঁচা হলুদের ঘ্রাণ ম ম করছে। উঠোনে প্যান্ডেলের বাঁশ বাঁধার ঠুকঠাক শব্দ আর আলপনার রঙে মেঝের সাজ বদলানো—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত মায়াবী সকাল।
নিচ থেকে অনেক হইচই ভেসে আসছে। জাইরা ঘুম ভাঙল ১২:৩০ এ । জার্নি করার দরুন একটু বেশিই ঘুমিয়েছে । বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে আসলো। এর মধ্যে তিয়াসা দুটো ড্রেস নিয়ে এলো । জাইরাকে বললো যেটা পছন্দ হয় সেটা পড়ে নিও । এই বলে সে চলে গেল। কিন্তু জাইরা প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করেও ড্রেস সিলেক্ট করতে পারলো না । আসলে তার দুটোই পছন্দ হয়েছে , কোনটা ছেড়ে কোনটা পড়বে সেটাই বুঝতে পারছে না। শেষমেষ উপায় না পেয়ে রুম থেকে বের হলো উদ্দেশ্য নিচে গিয়ে ফুপিকে ডেকে এনে ড্রেস সিলেক্ট করানো।
তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়ে যেতে নিয়েও নিজেকে কোনমতে সামলে নিলো । যেটাতে ধাক্কা খেয়েছে সেটার দিকে তাকাতেই থমকে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিশান।
তার পরনে ছোট ছোট রঙিন বুটির কাজ করা ধবধবে সাদা একখানা পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির ওপরের কয়েকটা বোতাম আলগা করে খোলা, যা তার গলার রুপালি চেইনটাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে তার গলায় জড়ানো সেই গাঢ় হলুদ রঙের চাদরটা। উজ্জ্বল সরষে রঙের সেই উত্তীয়র দুই প্রান্তে সোনালী সুতোর কাজ আর লটকনগুলো রিশানের প্রতিটি নড়াচড়ায় দুলছে। নিজের অবিন্যস্ত চুলে হাত বোলাতে বোলাতে সে একপলক তাকাল জাইরার দিকে।
শুভ্রতার মাঝে এই হলুদের ছোঁয়া রিশানকে আজ বড্ড বেশি অচেনা আর রাজপুত্রের মতো দেখাচ্ছে। জাইরা পলকহীনভাবে তাকিয়ে রইল; কাল রাতের সেই 'অরাপাখি' ডাকটা যেন এই মুহূর্তে তার কানের কাছে আরও একবার প্রতিধ্বনি হয়ে বাজল।
রিশান ওর কাছে গিয়ে আলতো করে গালে হাত রাখলো।
—“ অরাপাখি!”
“ হুঁ?” জাইরা এখনো ঘোরেই আটকে আছে। রিশান মুচকি হাসলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে কিনা , না কেউ নেই সবাই নিচে কাজে ব্যস্ত। সে শুষ্ক ভাবে জাইরার ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। মুহূর্তেই জাইরা ঘোর কেটে ছিটকে বেরিয়ে এল। ঝটপট দূরে সরে গেল। রিশান সেদিকে বাঁকা চোখে তাকালো।
—“ আমাকে কি খুব বেশি হ্যান্ডসাম লাগছে জান? ” হালকা স্বরে বলল রিশান।
জাইরার মেজাজ এবার সপ্তম আসমানে উঠে গেল। গলার স্বর যতটা সম্ভব নিচু করে ঝাঁজালো কণ্ঠে বললো
—“ জান! রিশান ভাই তোমাকে কি পাগল কুত্তায় কামরাইছে নাকি?? তুমি কি নিজের মধ্যে আছো? আমার সাথে এমন বিহেভ কেন করছো?”
রিশান একটুও বিচলিত হলো না। বরং এক কদম এগিয়ে জাইরাকে সিঁড়ির রেলিং এর সাথে চেপে ধরল।
নিচু গলায় ফিসফিস করে বলল,
— “পাগল কুত্তায় কামড়ায়নি অরাপাখি, তবে তোমার ওই মায়াবী চোখ জোড়া আমাকে পাগল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর বিহেভিয়ার? ওটা তো মাত্র ট্রেইলার। এই দুই দিন থেকে যা যা হচ্ছে, সেটাকে যদি পাগল হওয়া বলো, তবে এরপর তোমার জন্য অনেক সারপ্রাইজ তোলা আছে।”
জাইরা হতভম্ব হয়ে গেল । এতো ঝাঁজালো কণ্ঠে কথা বললো তাও এই লোকের কোনো হেলদোল নেই। শেষমেষ না পেরে রিশানের বুকে ধাক্কা দিয়ে সরানোর করতে করতে বলল
—“ রিশান ভাই কেউ দেখে ফেললে শুধু শুধু একটা ঝামেলা বাঁধবে ! তারা তো জানে না আপনি আমার সাথে জোরাজুরি করছেন! ” শেষের কথাটা একটু আস্তে বললো। কিন্তু রিশান স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে।
রিশান এবার ওর কানের একদম কাছে মুখ নিয়ে এলো। তপ্ত নিঃশ্বাসে জাইরার গায়ের পশম খাড়া হয়ে গেল। রিশান এক মায়াবী কিন্তু কড়া গলায় বলল—
—“কেউ দেখলো কী দেখলো না তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আর ড্রেস সিলেক্ট নিয়ে এতো টেনশন করার কিছু নেই ! ওই পিচ কালারের ড্রেসটা পড়িস , ওটা তোর গায়ে সুন্দর মানাবে । আমি নিজে চয়েস করেছি তোর জন্য!
জাইরা অবাক হয়ে বললো
—“ তুমি চয়েস করেছো মানে? ”
“ কালকে রাতে তো তুই এসেই ঘুমিয়ে গিয়েছিলি । নিচে গিয়ে দেখলাম সবাই যে যার ড্রেস চয়েস করছে অথচ তুই নেই। তাই ভাবলাম আমিই একটা চয়েস করে দেই । ”
“ ওহ ! আচ্ছা আমি যাই and next time আমার কাছাকাছি আসবে না , আমার অস্বস্তি হয়। ”
এই বলে পুনরায় রিশানের বুকে ধাক্কা দিতে যাবে তার আগেই রিশান তার হাত নিজের বুকের সাথে চেপে ধরলো । তারপর রিশান বললো—
“ শোন নিচে গিয়ে কোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলবি না লাস্ট বার ওয়ার্ন করলাম। আর একটা জরুরী কথা , তোর গালে প্রথম হলুদটা কিন্তু আমিই দেব। খবরদার, আমার আগে যেন অন্য কেউ তোর ত্রিসীমানায় না ঘেঁষে। অন্য কারও হাতের হলুদ ছোঁয়ার আগে যেন এই রিশানের হাতের ছাপ তোর গালে পড়ে। অন্যথায় যে কী হবে সেটা তুই কল্পনাও করতে পারবি না। ”
এই বলে সে জাইরাকে ছেড়ে দিলো । সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ফের বললো
—“ ফার্স্ট হলুদ কিন্তু আমিই লাগাবো! ”
রিশান নিচে চলে গেল। জাইরা কিছুক্ষণ থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো । তারপর নিজেকে ধাতস্থ করে রুমে চলে গেল। কিন্তু তারা দুজন জানতেই পারলো না এক জোড়া চোখ তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দেখে চোখের পানি ফেলছে ।
.
.
.
জাইরা প্রায় ১ ঘণ্টা পর রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো । রিশান প্যান্ডেলের সব ঠিকঠাক আছে কিনা সেটা দেখায় ব্যস্ত । জাইরার দিকে চোখ পড়তেই তার যেন পৃথিবী থমকে গেল। চারপাশের শোরগোল কিছুই তার কানে বাজছে না। তার ধ্যান শুধু পিচ-জলপাই কালারের মিশ্রিত শারারা পড়া রমণীর দিকে।
জাইরার শারারার উপরের পার্টটা মিষ্টি পিচ কালারের ভারী জর্জেট বা সিল্কের তৈরি, যা জাইরার গায়ের দুগ্ধ-শুভ্র রঙের সাথে দারুণ মানিয়ে গেছে। এর গলার অংশ থেকে বুক পর্যন্ত সোনালী জারদৌসি, রেশম সুতো আর ছোট ছোট আয়নার নিখুঁত ও ঘন কারুকাজ করা, হাতার অংশটা পাতলা জর্জেটের কাপড় দিয়ে তৈরি। কোমরের কাছে হালকা ফিটিং হওয়ায় জাইরার ছিপছিপে গড়নটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে । নিচের পার্টটা গাঢ় সবুজ রঙের (Olive/Mehendi Green) ভারী বেনারসি সিল্কের তৈরি । পুরো শারারা জুড়ে সোনালী সুতোর চওড়া পাড় আর ছোট ছোট বুটি কাজ করা, যা হাঁটার সময় এক মায়াবী ছন্দ তৈরি করছে। সবুজের ওপর সোনালী কাজটা পিচ রঙের কামিজের সাথে এক দারুণ বৈপরীত্য তৈরি করেছে। কাঁধের একপাশে পিন দিয়ে সেট করা ফিনফিনে নেটের ওড়নাটা, যার চারপাশজুড়ে সোনালী লেসের সূক্ষ্ম কাজ। ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে সিম্পল জুয়েলারি ও হালকা মেকআপ।
এতেই যেন তাকে জান্নাতের হূর লাগছে । রিশানের হাত মুহূর্তেই বুকে চলে গেল। মুখে আওড়ালো “ মাশাআল্লাহ! ”।
তার ভালো লাগা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। প্যান্ডেলের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছেলে জাইরার দিকে বাজে নজর দিচ্ছে এবং একজন অন্যজনকে বরিশালের ভাষায় বলছে
—“ কী চিজ মায়রী ! ভাবির বোনডার চাইতেও তো এই ছেমরি দেহি বেশি সেক্সি ! ভাই দেখ কী ফিগার! ”
ততক্ষণাৎ রিশানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেললো। এখানে সিনক্রিয়েট করা যাবে না ভেবে নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করলো। কিন্তু সে ব্যর্থ হলো । জাইরার দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো সে ফুফুর সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। চোখ ফিরিয়ে সে ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে গেল।
“ ভাইয়া আপনারা কী নিয়ে আলোচনা করছিলেন? ”
ছেলেগুলো বিশ্রী ভাবে হাসি দিয়ে বলল
—“ আরে ভাই দেখো ওই যে মাইয়াডা কী সেক্সি তাইনা? ”
রিশানের রাগে কপালের রগ পর্যন্ত ফুটে উঠেছে। সে একটা হাসি দিয়ে বলল
—“ হ্যাঁ অনেক! ”
—“ তুমি চেনো ওই মাইয়ারে ? ইট্টু আলেদা করে পরিচয় করাই দিতে পারবা ? ”
—“ হ্যাঁ অবশ্যই! আপনারা ওই ফাঁকা দিকটায় যান , আমি ওকে নিয়ে আসছি।”
ছেলে গুলো ওকে পিঠ চাপড়ে বাহবা দিয়ে চলে গেল। রিশান ডিরেক্ট জাইরার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর কিছু না বলে খপ করে হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে এলো । জাইরা তো পুরো হতভম্ব।
.
.
.
ছেলে গুলো প্যান্ডেলের পিছন দিকটায় দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিলো । এরমধ্যে রিশান জাইরাকে নিয়ে চলে এলো ।
“ নিন ভাই! ”
একটা ছেলে হাসি দিয়ে বলল —
“ বাহ তুমি তো অনেক কামের পোলা ! এমনেই সব সময় বড় ভাইগো সাহায্য করবা ! ”
রিশান হালকা হেসে বললো
—“ জ্বী অবশ্যই ভাইয়া! ”
বলে সে চলে গেল। জাইরা অবাক হয়ে তাদের কাণ্ড দেখছে। একটা ছেলে তার উদ্দেশ্যে বললো
—“ কিগো সুন্দরী! হবে না কি ? ” বলেই চোখ টিপ দিল। জাইরা এবার বুঝলো যে এখানে হচ্ছে টা কি! পিছনে তাকিয়ে দেখলো একটু আড়ালে রিশান দাঁড়িয়ে আছে। তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো ।
—“ হ্যাঁ অবশ্যই কেন নয়? ”
ছেলে গুলো একটু অবাক হলো। “ বাহ এক কথায়ই রাজি হয়ে গেলা? ”
জাইরা মুচকি হাসলো। একটা ছেলে এগিয়ে এসে জাইরার হাত ধরলো। জাইরাও তার হাতের উপর হাত রাখলো । হাতটা একটু শক্ত করে ধরে দু পায়ের মাঝ বরাবর দিলো এক লাত্থি! ব্যাস কাজ শেষ। ছেলেটা হাত ছেড়ে ওই জায়গায় চেপে ধরে বসে পড়লো।
—“ শা*লা মাদার*চো*দ ! তোদের কী আমাকে সহজ সরল বোকা*চোদা মার্কা মেয়ে মনে হয়? ” জাইরা ঝাঁজালো কণ্ঠে বললো।
জাইরার চণ্ডী রূপ দেখে বাকি ছেলেগুলোর নেশা এক নিমেষেই ছুটে গেল। যে ছেলেটা লাথি খেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল, তার অবস্থা দেখে বাকি দুজন পিছিয়ে যাচ্ছিল। জাইরা শারারার নিচের পার্টের ঐকসাইড এক হাতে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
“কী রে? আর দেখবি ফিগার? আর করবি আলাদা করে পরিচয়? আয় না সামনে!”
রিশান আড়ালে দাঁড়িয়ে এতক্ষণ জাইরার এই ‘ঝাঁজালো’ পারফরম্যান্স দেখছিল আর মনে মনে হাসছিল। সে জানত তার অরাপাখি অতটা নরম নয়। রিশান এবার ধীর পায়ে আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। তাকে দেখে বাকি দুই ছেলে ভাবল এবার হয়তো তারা রক্ষা পাবে। কিন্তু রিশানের চোখের আগ্নেয়গিরি দেখে তাদের কলিজা শুকিয়ে গেল।
রিশান জাইরার পাশে এসে দাঁড়াল এবং খুব শান্ত গলায় বলল,
—“ অরা , সরে দাঁড়া। মেয়েদের হাতে সব সময় ময়লা পরিষ্কার করতে নেই।”
বলেই রিশান সজোরে একটা ঘুষি বসাল দাঁড়িয়ে থাকা অন্য ছেলেটার নাকে। মট করে একটা শব্দ হলো। ছেলেটা ছিটকে গিয়ে মাটিতে পড়লো । রিশান জাইরার দিকে একপলক তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
“বলেছিলাম না, তোর ত্রিসীমানায় যেন কেউ না ঘেঁষে?”
জাইরা হাঁপাচ্ছিল। রাগে তার ফর্সা মুখটা টকটকে লাল হয়ে আছে। সে রিশানের দিকে তাকিয়ে তেরছা গলায় বলল—
“তুমি তো এদের এখানে এনেছিলে! তুমি কি চাও নি আমি এদের শিক্ষা দেই?”
রিশান বাঁকা হাসল। জাইরার হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় পুরে নিয়ে বলল—
“আমি চেয়েছিলাম তুই নিজের ক্ষমতাটা ওদের বুঝিয়ে দিস, আর বাকিটা... বাকিটা আমি বুঝে নিচ্ছি।”
রিশান ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল—
“পিরোজপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে খান বাড়ির মেহমানের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কীভাবে হয় তোদের? আজ ছাড়লাম, এরপর যদি তোদের এই তল্লাটে দেখি, তবে জাইরার লাথি তো ট্রেইলার ছিল, আসল সিনেমা আমি দেখাব। গেট আউট!”
ছেলেগুলো যে যেভাবে পারল জান হাতে নিয়ে ওখান থেকে দৌড়ে পালাল।
.
.
.
ফাঁকা জায়গায় এখন শুধু রিশান আর জাইরা। চারদিকে প্যান্ডেলের দূরবর্তী শোরগোল শোনা যাচ্ছে। রিশান জাইরার দিকে কয়েক পা এগিয়ে এল। জাইরা পিছু হটতে গিয়ে একটা আমগাছের সাথে পিঠ ঠেকল তার।
রিশান জাইরার দুপাশে হাত রেখে ওকে খাঁচাবন্দী করল। জাইরার হালকা সাজগোজে প্যান্ডেলের ঝিলমিলি আলোয় তাকে অপার্থিব সুন্দর দেখাচ্ছে। রিশান নিচু গলায় বলল—
“ড্রেসটা তোকে মাশাআল্লাহ মানিয়েছে। কিন্তু তোর এই রাগী রূপটা যেন আরও বেশি সুন্দর। তবে মনে রাখিস জাইরা, এই রূপ দেখার অধিকার শুধু আমার। অন্য কেউ তাকালে আমি শুধু ওদের চোখ তুলব না, পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দেব।”
জাইরা ঢোক গিলল। রিশানের চোখের সেই গাঢ় নেশা তাকে যেন সম্মোহিত করে ফেলছে। রিশান ওর কানের লতিতে মুখ ঠেকিয়ে ফিসফিসিয়ে মনে করিয়ে দিল—
“রাত ঘনিয়ে আসছে অরাপাখি। হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হতে আর কিছুক্ষণ। মনে আছে তো? প্রথম হলুদটা কার হওয়ার কথা?”
জাইরা উত্তর দিল না, শুধু রিশানের বুকের ওপর হাত দিয়ে মৃদু ধাক্কা দিল। রিশান হাসল—এক মায়াবী অথচ পৈশাচিক জয়ের হাসি। সে জাইরাকে ছেড়ে দিয়ে পকেটে হাত পুরে গদাই লস্করি চালে অনুষ্ঠানস্থলের দিকে এগিয়ে গেল।
জাইরা ওখানে দাঁড়িয়ে নিজের দ্রুত হৃদস্পন্দন টের পাচ্ছিল। সে বুঝতে পারছে না—সে কি রিশানের এই পজেসিভনেস উপভোগ করছে, নাকি ভয় পাচ্ছে? কিন্তু একটা কথা নিশ্চিত, এই বসন্তের হলুদ সন্ধ্যায় বড় কোনো ঝড় আসতে চলেছে।
তাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সেই একজোড়া চোখ দেখছে । এবং তখনো নোনা জলে ভাসছে। সেই রহস্যময়ী নারী বিড়বিড় করে বলল—
“রিশান শুধু আমার। জাইরা, তুই আগুনের সাথে খেলছিস!”
চলবে...
#bangla_story #uponnash #Romantic #aiza