(🚫 রোমান্টিক গল্প যাদের পছন্দ নয় তাঁরা নিজ দায়িত্বে স্কিপ করবেন। 🚫)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব:০৭
(কপি করা নিষিদ্ধ ❌❌)
সন্ধ্যা ৭:০০
হলুদ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে । সাউন্ড বক্সে একের পর এক গান বাজছে । রাকশির হবু শ্বশুর বাড়ি থেকে কিছুক্ষণ আগেই বর এর গায়ে ছোঁয়া হলুদ ও কিছু তত্ত্ব পাঠিয়ে দিয়েছে । ছোটদের জোরাজুরিতে বড়রা ঠিক করেছেন ছোটরাই আগে হলুদ দিবে । সবাই একে একে হলুদ লাগালো ও রাকশিকে উইশ করলো । এবার পালা আসলো জাইরার। জাইরা গিয়ে রাকশির সামনে বসা মাত্রই কোথা থেকে যেনো রিলান চলে এলো । তারপর দুজনে একসাথে রাকশিকে হলুদ লাগালো , মিষ্টি খাওয়ালো । রিশান রাকশিকে কানে কানে কিছু একটা বলে । যা দেখে জাইরা কপাল কুঁচকালো । বড়রা তারা দেয়ায় সে আর ঘাটালো না তাড়াতাড়ি নেমে গেল। তার পিছু পিছু রিশান ও নেমে গেল। প্যান্ডেলের থেকে একটু দূরে আসতেই রিশান জাইরাকে টেনে বাড়ির পিছন দিকটায় নিয়ে গেল ।
“ কি আজব! রিশান ভাই এইখানে কেন এনেছো? ” জাইরা হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করল।
রিশান বাঁকা হেসে বলল
—“ রোমান্স করতে! ”
জাইরা থতমত খেয়ে গেল। সে যেন এই কথার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
রিশান ফোনের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে জাইরাকে টেনে পেছনের পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে একটা ছোট্ট বাটিতে হলুদ রাখা । জাইরা তো অবাক । রিশান মুচকি হেসে বাটিটা হাতে তুলে নিলো । জাইরা রিশানের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। রিশান বাটি থেকে একটু হলুদ হাতে নিয়ে জাইরার গালে সেই হাতটা রাখল। ঠাণ্ডা হলুদের স্পর্শ পেয়ে জাইরা কেঁপে উঠলো। শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল।
“ thanks অরাপাখি! এই সুন্দর টমেটোর মতো গাল টা আমার জন্য খালি রেখেছো । ” ফিসফিসিয়ে বললো রিশান।
জাইরা যেন পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। সে নিজের মন ও মস্তিষ্কের সাথে তর্কে ব্যস্ত । মন বলছে এই ছোঁয়া উপভোগ কর । মস্তিষ্ক বলছে রিশানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দে , কোনো অনুভূতি প্রকাশ ছাড়া সে কেন এমন করবে ?
রিশান গাল থেকে হাত নামিয়ে এরেকটু হলুদ নিলো । কিন্তু এবার আর গালে হাত ছোঁয়ালো না । হাত একটু একটু করে নিচে নেমে গেল । জাইরার বাঁকা ধনুকের ন্যায় কোমরে হাত ছোঁয়ালো রিশান । জাইরা চোখ বড় বড় করে তাকালো রিশানের পানে । রিশান ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে । কোমরে হাত বোলাতে বোলাতে রিশান গান ধরলো —
“ 🎶চলো বলে ফেলি , কতো কথা কলি......
জন্মেছে বলতে তোমায় , তোমাকে চাই !
ঝ্বলসানো রাতে , এ পোড়া বড়াতে
তুমি আমার অন্ধকার আর রোশনাই ! 🎶”
জাইরার কানের কাছে মুখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বললো
—“ তোমাকে চাই! ”
কথা শেষ করার সাথে সাথেই তার গালে সপাটে একটা থাপ্পড় পড়ল। রিশান হতবাক হয়ে জাইরার দিকে তাকাল। জাইরা অগ্নিদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। রিশান কিছু বলতে যাবে তার আগেই জাইরা ঝাঁজালো কণ্ঠে বলল—
“তুমি আমাকে পেয়েছ টা কী? আমি কী তোমার হাতের পুতুল? তোমার সাথে কি আমার কোনো সম্পর্ক আছে?”
রিশান এবার জাইরার চোখে চোখ রেখে গম্ভীর স্বরে বলল, “আমি তোকে বিয়ে করতে চাই জাইরা!”
আবারও সাথে সাথে গালে থাপ্পড় পড়ল। কিন্তু এবার আর একটা নয়, পরপর ছয়টা থাপ্পড় পড়ল রিশানের দুই গালে। জাইরা এক চুলও নড়ল না, ওর চোখে জল আসার বদলে অপমানের আগুন জ্বলছে।
রিশান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গাল হাত দিয়ে চেপে ধরল। জাইরা এবার আরও কঠোর স্বরে বলে উঠল—
“নাটক কি শেষ হয়েছে তোমার? নাকি আরও কিছু স্ক্রিপ্ট বাকি আছে? ভালোবাসা? কবে থেকে? কাল থেকে নাকি আজ দুপুর থেকে? এই তো কয়েকদিন আগেও আমাকে দু-চোখে দেখতে পারতে না, সারাক্ষণ জ্বালিয়ে মারতে। হঠাৎ করে আড়ালে টেনে এনে এতো রোমান্স দেখাচ্ছ? তুমি কি ভেবেছ আমি খুব সস্তা?”
রিশান দমে না গিয়ে বলল, “অনুভূতি পাল্টাতে সময় লাগে না জাইরা। আমি সিরিয়াসলি বলছি—”
“থামাও তোমার এই ফালতু কথা!” জাইরা কথা কেড়ে নিল।
“পারমিশন ছাড়া আমাকে এভাবে ডিসটার্ব করাকে তুমি ভালোবাসা বলছ? নিজের লিমিট ভুলে যেও না রিশান ভাই। তোমার এই হঠাৎ জেগে ওঠা ‘প্রেম’ আমার কাছে স্রেফ একটা সস্তা নাটক। আজকের পর যদি আর কোনোদিন আমাকে ডিসটার্ব করার চেষ্টা করো, তবে এই থাপ্পড়েই শেষ হবে না। মনে রেখো, আমি জাইরা, কারও নাটকীয় প্রেমে গলে যাওয়ার পাত্রী আমি নই।”
এক মুহূর্ত আর সেখানে না দাঁড়িয়ে জাইরা হনহন করে প্যান্ডেলের দিকে হাঁটা দিল। পেছনে ফেলে রেখে গেল রিশানকে, যে অন্ধকারে নিজের চূর্ণ বিচূর্ণ হওয়া হৃদয় আর সেই হলুদের বাটিটা নিয়ে ফ্যাকাশে মুখে একাকী দাঁড়িয়ে রইল।
.
.
.
“ কী জাইরা অপু তুমি কোথায় ছিলে ? আমরা ডান্স করবো না নাকি? সেই কখন থেকে তোমাকে খুঁজছি! ” তিয়াসা বিরক্তি ভরা কন্ঠে বলল ।
জাইরার যদিও এখন নাচার কোনো ইচ্ছা নেই , তাও নিজেকে সামলে বললো —
“ আমি একটু ওয়াস রুমে গিয়েছিলাম। চলো এখন! ”
এই বলে সে স্টেজের দিকে হাঁটা শুরু করলো । পিছনে তাকালে হয়তোবা দেখতে পেতো কেউ তার যাওয়ার দিকে সয়তানি হাসি দিয়ে তাকিয়ে আছে ।
জাইরা গিয়ে স্টেজের কাছে পা রাখতেই বিষাদ মাখা কন্ঠে গান ভেসে আসলো ............
🎶🎶ও ও ও
একা মনে প্রশ্ন শুধুই জবাব খুঁজে যায় !
তোর ভুলেরই মাশুল তোকে গুনতে হবে হায়।
কেউ দেবে না যে জবাব খুঁজে , ভুলকে যখন নিলি বুঝে
থামবি কেনো ভুলের ঠিকানায় ।
ও বন্ধু রে বন্ধু রে
ও বন্ধু রে রে 🎶🎶
রিশান গান গাইছে । গানের প্রত্যেকটা লাইন যেন তার বুকে কাঁটার মতো বিঁধলো । ঢোক গিলে নিজেকে সামলে নিলো । এগিয়ে গিয়ে প্যান্ডেলের সামনের চেয়ারে বসলো । রিশানের দিকে তাকাতেই চোখে চোখ পড়ে গেল । রিশানকে হঠাৎ করে অন্যরকম লাগছে । জাইরা কিয়াৎক্ষণের জন্য থমকে গেল । রিশান তার চোখের দিকে তাকিয়ে পুনরায় গাওয়া শুরু করলো............
ও ও ও
বুকের পাঁজর ভাঙে বিধি
নয়ন বলে শুধুই কাঁদি , হারাই যখন আপন জনা রে......
অসময়ের ঝড় তুফানে
স্বপ্ন আসা হারাই মানে
ভাঙেরে কুল নদীর কিনারে........
জাইরার চোখে পানি টলটল করছে । ভিতরে ভিতরে খুব অনুসূচনায় ভুগছে , তবুও তার চোখ রিশানের চোখের দিকে ।
রিশান ও আর গাইলো না তার গলা ভেঙে আসছে । চুপচাপ স্টেজ থেকে নেমে অন্যদিকে চলে গেল ।
এবার মেয়েদের নাচের পালা । জাইরা যেতে চাচ্ছিল না , তাও সবার জোরাজুরিতে সে গেলো । বিশেষ করে তিয়াসার । জাইরা মনে মনে ভাবলো এই মেয়ে তো কোনো এক কারণে আমাকে সহ্যই করতে পারেনা , আজকে এতো দরদ দেখাচ্ছে কেনো ? সেসব নিয়ে খুব একটা ভাবলো না । স্টেজে উঠে গেল ।
জাইরা ও তিয়াসা সামনে বাকি কয়েকজন পিছনে সিরিয়াল ভাবে দাঁড়ালো ।
জাইরা প্রায় স্টেপই ভুল করছিলো যেন তার মনোযোগ অন্য কোথাও । নাচের এক পর্যায়ে তাকে স্টেজের একদম কর্ণারে আসতে হলো । ওইখানে যে তারকাঁটা রাখা আছে সেটা সে একদমই খেয়াল করে নি । একটু ঘুরি দিলেই তার ড্রেস তারকাঁটায় বাজবে । তার সেদিকে একটুও খেয়াল নেই । যেই না ঘুরি দিতে যাবে ওমনি একটা বলিষ্ঠ হাত তাকে টেনে নিলো । তার ঠাঁই হলো সেই বলিষ্ঠ পুরুষের বুকে । জাইরা হতভম্ব প্রায় । নিজেকে সামলে উপরে তাকাতেই ভেসে উঠলো রিশানের উদ্বিগ্ন মুখশ্রী ।
রিশানের চেহারা দেখা মাত্রই তার রাগ সপ্তম আসমানে উঠে গেল । সজোরে ধাক্কা দিলো রিশানের বুকে । রিশান পড়ে যেতে নিয়েও নিজেকে সামলে নিলো । জাইরা রাগে থরথর করে কাঁপছে ।
“ লজ্জা করে না তোমার ? কিছুক্ষণ আগে ওয়ার্ন করে এলাম , এখন আবার এসে হাত ধরে টানাটানি করছো ! ”
দাঁতে দাঁত চেপে বললো জাইরা ।
রিশান যে তাকে নাচের মাঝখানে কেন টান দিলো সেটা জিজ্ঞেস করার ও প্রয়োজন মনে করলো না । জাইরা রিশানকে দ্বিতীয়বারের মতো থাপ্পড় মারল, প্যান্ডেলে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। মিউজিক বন্ধ।
তিয়াশা স্টেজের একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, ওর খুব ইচ্ছে করছিল ছুটে গিয়ে রিশানের পাশে দাঁড়াতে, জাইরাকে দুটো চড় মারতে ; কিন্তু ও পারল না। বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠলেও ও স্থির দাঁড়িয়ে রইল, শুধু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
ও জানে, এখন এগিয়ে গেলে সবাই ওকে সন্দেহ করবে। এই মুহূর্তে যত যাই হয়ে যাক ওখানে যাওয়া যাবে না , যদিও ওর মনের ভেতর তখন ঝড়।
রিশান একটা শব্দও করল না। জাইরার থাপ্পড় খাওয়ার পর ও শান্ত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ওর বাঁ হাতের তালু চিরে তখন টপটপ করে রক্ত পড়ছে। জাইরাকে সজোরে টান দেওয়ার সময় রিশানের নিজের হাত স্টেজের এক কোণায় থাকা ধারালো তারকাঁটায় লেগে চিরে গিয়েছিল।
জাইরা রিশানের হাতে রক্ত দেখে একটু থমকে গেল, কিন্তু ওর রাগের কাছে তা মামুলি বিষয় হয়ে দাড়ালো । “কী ভাবো তুমি নিজেকে? তুমি যখন খুশি আমার গায়ে হাত দেবে আর আমি চুপ করে থাকব?”
রিশান কিছু না বলে পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের করল। ও ফোনের গ্যালারি থেকে একটা ভিডিও প্লে করল। রিশান ফোনটা উঁচু করে সবাইকে দেখাল। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তিয়াশা ডান্সের স্টেজের ওই নির্দিষ্ট কোণটাতে একটা ধারালো তারকাঁটা লুকিয়ে বসাচ্ছে আর বিড়বিড় করে বলছে— “আজ জাইরার ইজ্জত ধুলায় মিশে যাবে । সব ছেলেরা মজা নিবে ওকে নিয়ে । আমার রিশানের দিকে চোখ দেওয়া । ”
ভিডিওটা শেষ হতেই পুরো প্যান্ডেল নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তিয়াসার মুখ চুন হয়ে গেছে, দূর থেকে ও ফ্যাকাশে মুখে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে ওর হাত-পা কাঁপছে।
_ ফ্লাশ ব্যাক _
রিশান গান শেষ করেই স্টেজ থেকে নেমে পিছনের দিকটায় যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় । কয়েক কদম যেতেই লুবনার সাথে দেখা হয় । [লুবনা তিয়াসার বান্ধবী ] রিশান পাত্তা না দিয়েই তার গন্তব্যে পা বাড়ায় ।
“ ভাইয়া আপনার সাথে একটু কথা ছিলো! ”
রিশানের পা থেমে যায় । লুবনা এগিয়ে গিয়ে রিশানের সামনে দাড়ায় ।
“ আপনাকে কখন থেকে খুজতেছি কোথায় ছিলেন আপনি? ” লুবনা বলে ।
“ ইমপরটেন্ট কিছু বলার থাকলে বলো অহেতুক কথা আমার পছন্দ না !” রিশান গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিলো ।
“ এই ভিডিও টা দেখেন ! ”
রিশান আঁতকে উঠলো । ঝটপট যেতে নিবে আবার কী মনে করে যেনো আবার ভিডিওটা তার ফোনে ট্রান্সফার করে নিয়ে গেলো ।
~বর্তমান~
রিশান ধীর পায়ে তিয়াসার দিকে এগিয়ে গেল। ওর শান্ত দৃষ্টি এবার বরফশীতল। তিয়াসা তোতলাতে লাগল, “ ভাইয়া , আমি... ওটা... ভুল করে...”
“ভুল?” রিশান গর্জে উঠল। “কারো ইজ্জত নিয়ে খেলা করাটা তোমার কাছে ভুল তিয়াশা?”
কথাটা শেষ করার সাথে সাথেই রিশান সপাটে একটা থাপ্পড় মারল তিয়াসার গালে। পুরো প্যান্ডেলে থাপ্পড়ের শব্দটা প্রতিধ্বনিত হলো। রিশান জাইরা বাদে কখনও কোনো মেয়ের গায়ে হাত তোলেনি , কিন্তু আজ ওর জাইরাকে নিয়ে আড়ালে লুকিয়ে করা এই নোংরা ষড়যন্ত্র ও সহ্য করতে পারল না।
“এই থাপ্পড়টা আমার ভালোবাসাকে অপমান করার চেষ্টা করার জন্য ,” রিশান দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেল । জিসান মাত্র এখানে এসেছে । মূলত তারা কয়েকজন মিলে একটু ড্রিংকস করার জন্য গিয়েছিল । রিশানকে বললেও রিশান যায়নি । এসে এসব দেখে হতভম্ব হয়ে গেল সে ।
ফারাত রহমান ও আবরার খান লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন । আবরার খান ধিরে ধিরে এগিয়ে এলেন । এসেই মেয়েকে ঠাঁটিয়ে এক থাপ্পড় মারলেন ।
“তোকে এই শিক্ষা দিয়েছি আমরা? অন্যের ক্ষতি করার জন্য এতো বড় ষড়যন্ত্র করলি?”
তারপর ফারাত রহমান , রাকশি , এমনকি যে বান্ধবী ভিডিওটা রিশানকে দেখিয়েছিল, সেও এসে তিয়াশাকে থাপ্পড় মারল। সবাই একে একে তিয়াশাকে অপমানিত করল । তিয়াশা মেঝেতে পড়ে কাঁদতে লাগল, কিন্তু আজ কেউ ওর কান্না দেখছে না। ওর নোংরা রূপ সবার সামনে উন্মোচিত হয়ে গেছে।
রিশান একবার তিয়াসার দিকে ফিরেও তাকাল না। জাইরা এখনও স্টেজে দাঁড়িয়ে আছে, ও সব দেখছে আর বুঝতে পারছে ও কত বড় ভুল করেছে। ও রিশানকে এতো আজেবাজে কথা শোনাল, মারল, অথচ লোকটা ওকে বাঁচানোর জন্য নিজের রক্ত ঝরাল!
জাইরা অস্ফুট স্বরে বললো —
“রিশান ভাই... আমি...সরি...বুজতে পারি নি.....”
রিশান জাইরার দিকে তাকাল। তারপর ভাঙা কন্ঠে বলল
—“ থাক দরকার নেই । আমিই অতিরিক্ত করে ফেলেছিলাম। ”
একটু থেমে আবার বলল
—“ লাস্ট বারের থাপ্পড়টায় খুব লেগেছে তবে গালে নয়...... এখানে ! ”বুকের বাঁ পাশটায় হাত দিয়ে দেখালো ।
আর কোনো কথা না বলে নিজের রক্তাক্ত হাতটা রুমালে চেপে ধরে বাড়ির ভিতরে হাঁটা দিল। জাইরা ডাকতে চাইল, “রিশান ভাই......” কিন্তু গলা দিয়ে স্বর ফুটল না। ওর মনে হলো , আজকের এই হলুদ রাতটা ওর জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধবোধের রাত হয়ে থাকবে।
চলবে...?
#bangla_story #Romantic #for_you #aiza
( কেমন লাগলো সারপ্রাইজ 🐸? যাইহোক রিচেক দেয়া হয় নি , ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।🫶🏻)