(🚫রোমান্টিক গল্প যাদের পছন্দ নয় তাঁরা নিজ দায়িত্বে স্কিপ করবেন🚫)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা ( Aiza's Tales )
পর্ব : ০৮
(কপি করা নিষিদ্ধ ❌)
সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। ঘড়ির কাঁটা তার আপন গতিতে ঘুরে চলে, আর মানুষের জীবন থমকে থাকে কোনো এক বিষাদময় মুহূর্তে। সেই বিভীষিকাময় হলুদ সন্ধ্যার পর কেটে গেছে সাত-সাতটি দিন। খান বাড়ি এখন এক নিস্তব্ধ জনপুরী। যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবল দীর্ঘশ্বাস আর অনুশোচনার স্তব্ধতা। রাকশির বিয়েটা তিন দিন আগে একপ্রকার দায়সারাভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। ধুমধাম হয়নি, আলোর রোশনাই ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল তিয়াসার সেই জঘন্য কাণ্ডের পর।
গতকাল রহমান পরিবারের সবাই ঢাকায় ফিরেছে। চার দেয়ালের এই চেনা শহরে সবকিছুই যেন আগের মতো, শুধু মানুষগুলো বদলে গেছে। বিশেষ করে রিশান। সে আগেও গম্ভীর ছিল, কিন্তু এবারের গাম্ভীর্য যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার সামনে। সে কারো সাথে কথা বলছে না, এমনকি কারো চোখের দিকে পর্যন্ত তাকাচ্ছে না। ভালোবাসা যে মানুষকে কতটা নিভৃতচারী আর পাথর বানিয়ে দিতে পারে, রিশানকে না দেখলে হয়তো কারো বিশ্বাস হতো না।
.
.
.
রাত তখন ০১:০০টা।
পুরো ঢাকা শহর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ জিসান ধড়ফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসল। ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখেছে বোধহয় ! ওর গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। পানির বোতলটা হাতে নিতেই দেখল ওটা খালি। একরাশ বিরক্তি নিয়ে সে বিড়বিড় করল
— “শা*লার পানিটা এখনই শেষ হওয়ার ছিল!”
একরাশ বিরক্তি নিয়ে রুম থেকে বের হলো জিসান , উদ্দেশ্য নিচে গিয়ে পানি আনা । সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় হঠাৎ কলিং বেলের কড়া আওয়াজ ওর কানে এল। এই মাঝরাতে কে আসতে পারে? জিসানের মনে এক চিলতে ভয় আর একরাশ কৌতূহল উঁকি দিল। সিঁড়ির মাঝপথে দাঁড়িয়ে সে একবার উপরে রিশানের রুমের দিকে তাকাল। রিশানের ঘরের দরজায় বড় একটা তালা ঝুলছে। রিশান তবে ঘরে নেই? এই মাঝরাত পর্যন্ত বাইরে ছিল?
চিন্তিত মুখে জিসান দ্রুত নিচে নেমে এসে সদর দরজাটা খুলল। দরজা খুলতেই জিসানের কলিজা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সামনে দাঁড়িয়ে আছে রিশান, কিন্তু এ কোন রিশান?
উশকো—খুশকো চুল , সব সময় গোটানো থাকা শার্টের হাতা গুলো ছাড়া , আর চোখে এক রক্তবর্ণ আভা । সেদিনের কেটে যাওয়া হাতে যে ব্যান্ডেজ করেছিলো , সেটা দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে । জিসান আহত দৃষ্টিতে তাকালো ।
—“ কি হয়েছে তোর? আবার হাতের এই অবস্থা হলো কিভাবে? ” জিসান জিজ্ঞেস করল।
কিন্তু রিশান তার প্রশ্নটা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করলো । তাকে ঢেলে সরিয়ে টলো মলো পায়ে বাড়িতে ঢুকলো । রিশানের শরীর থেকে কড়া অ্যালকোহলের ঘ্রাণ আসছে । সে গিয়ে সোফায় বসে পড়লো । জিসান দরজা বন্ধ করে রিশানের উদ্দেশ্যে বললো
—“ আমি ফার্স্ট-এইড বক্স নিয়ে আসছি! ”
রিশান তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল —
“ ক্ষত সারানোর জন্য তো পুনরায় ক্ষত করি নি ! ”
জিসান অবাক হয়ে গেলো । সে ভেবেছিল হয়তো কোথাও মারপিট করে এসেছে । অবশ্য ছোটবেলা থেকেই সে সবসময় রিশানের সঙ্গ দিয়েছে । রিশানকে সবাই শান্ত ভাবে জানলেও সে জানে রিশান ঠিক কতটা উগ্র । কিন্তু রিশান কখনো অ্যালকোহল পান করে না । সে অনেকবার চেষ্টা করলেও পারে নি । ওইদিন রিশানকে অ্যালকোহল নিতে দেখে প্রচন্ড অবাক হয়েছিলো সে ।
জিসান হতাশ হয়ে গিয়ে রিশানের পাশে বসলো । তার কাঁধে হাত রেখে বললো —
“ তোকে জাইরা ভালোবাসে না শুধু শুধু নিজের ক্ষতি করছিস! ”
এই কঠিন সত্যটা শুনে রিশানের চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো । তার ভিতরটা চুরমার হয়ে যাচ্ছে ।
“ আমি তো একটু ভালোবাসাই চেয়েছিলাম ! আমাকে কি একটু ভালোবাসা ভিক্ষা দেয়া যেতো না ? আমি কি এতোই খারাপ রে জিসান? নাকি আমি অসম্পূর্ণ? ” ভাঙা কন্ঠে বলল রিশান ।
জিসান কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না ! রিশান কাঁদছে ? একটা মেয়ের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য এরকম আহাজারি করছে ? অথচ মেয়েটা ভাবে এইগুলো নাটক! আচ্ছা রিশান শুধু শুধু নাটক কেন করতে যাবে ? বোধহীন মেয়ে একটা! জিসানের এইসব ভেবে জাইরার উপর অনেক রাগ হলো।
“ আচ্ছা! তুই বোস আমি ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসছি। ”
রিশান বিরক্তি ভরা কন্ঠে বলল ,
—“ বললাম তো লাগবে না। ”
“ এক মিনিট আগে জন্মে বেশি বড়গিরি দেখাবি না । চুপচাপ বোস! ” জিসান ত্যাড়া কন্ঠে উত্তর দিল ।
রিশান বিরক্ত হয়ে উঠে যাবে তখনই খপ করে তাকে ধরে আবার বসিয়ে দিল ।
“ ইনফেকশন হয়ে যাবে বেশি বাড়াবাড়ি করিস না রিশান! ”
রিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলল । আর কিছু বললো না। জিসান ফার্স্ট এইড বক্স এনে রিশানের হাত ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ করে দিলো । তারপর তাকে রুমে তার রুমে নিয়ে আসলো ।
.
.
.
দরজা একটুখানি খুলে ব্যান্ডেজ করার পুরো মুহূর্তটা অবলোকন করছিলো জাইরা । মূলত তার কলিং বেলের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেছে । নিচে নামতে যাবে তখনই দেখে রিশান এসেছে, তাই আর পা বাড়ায় নি । সে কি সত্যিই অনেক বড় ভুল করে ফেললো? পাথরমানব রিশান তার জন্য চোখের জল ফেলছে? এইসব ভাবনার মাঝেই খট করে দরজা আটকানোর শব্দ শুনলো , জিসান নিজের রুমে এসেছে।
সে এবার রিশানের রুমে দিকে পা বাড়ালো । দরজা খুলতেই কানে এলো —
“ অরাপাখি তুমি এসেছো? ”
জাইরার ভেতরটা কেমন যেন হাসফাস করে উঠলো। তিব্র অপরাধবোধে জর্জরিত হচ্ছে সে । আস্তে আস্তে রিশানের পাশে গিয়ে বসলো । ছেলেটা উপুড় হয়ে পড়ে আছে ।
“ রিশান ভাই তুমি ঠিক আছো? ” কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল জাইরা।
রিশান এবার ঘুরে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ল । জাইৰা পাশে বসে আছে । সে খানিকটা উঠে জাইরাকে হেঁচকা টান মেরে তার বুকের উপর ফেললো। জাইরার শরীরে যেন শিহরণ খেলে গেল । রিশান একটু ঝুঁকে জাইরার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো । জাইরা চোখ বন্ধ করে নিলো । রিশান আধো আধো চোখে চেয়ে জাইরার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলো ,
“ তুই কেন আমাকে ভালোবাসিস না অরা? কেনো তুই আমার ভালোবাসা বুঝিস না? ”
“ I'm sorry রিশান ভাই ! ” জাইরা ওভাবেই বুকের উপর থেকে উত্তর দিল ।
রিশান আর কিছু বললো না । শুধু অনুভব করতে লাগলো তার শখের নারীকে , তার অরাপাখিকে । কিছুক্ষণের মধ্যেই সে নিদ্রার দেশে পাড়ি দিলো । অন্যসময় হলে হয়তো এমনটা হতো না , রাতভর অনুভব করতো তার অরাপাখিকে । কিন্তু নেশার ঘোরে তো আর চোখ খুলে রাখা সম্ভব হয়না ।
রিশান ঘুমিয়ে গেলে জাইরা তার বুক থেকে মাথা সরিয়ে নিলো । উঠে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রিশানকে দেখতে লাগলো ।
হোয়াইট শার্ট , উশকো-খুশকো চুল , ঘুমানোর দরুন বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে আছে । জাইরা মুচকি হাসলো । একদম বাচ্চা লাগছে রিশানকে ।
হঠাৎ জাইরার খেয়াল গেলো রিশানের শার্টের উপর । অ্যালকোহলে গলার কাছে অনেকটা জায়গা ভিজে গেছে , তার উপর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ । বিশ্রী গন্ধ আসছে । শার্টটা চেঞ্জ করানো উচিত ।
যেই ভাবা সেই কাজ , সে উঠে গিয়ে কাবার্ড থেকে একটা স্কাই ব্লু টি-শার্ট নিয়ে এলো । স্কাই ব্লু আনার কারণ তার এই রং টা বেশ পছন্দের , তাছাড়া ও তার ভাষ্যমতে এই রং টা রিশানের শরীরে খুব মানাবে ।
রিশানের শার্টের বোতাম খুলে দিলো । তার চোখ গেল রিশানের প্রশস্ত বুকে । একটু ছুঁয়ে দিলো , কিন্তু মন তো মানছে না - মন আরো বেশি কিছু চাচ্ছে । জাইরা মাথা ঝাড়া দিয়ে এইসব চিন্তা বাদ দিয়ে কাজে ফোকাস করলো ।
শার্টের বোতাম তো খোলা শেষ এখন শরীর থেকে শার্ট খুলবে কিভাবে? শোয়া অবস্থায় কি আর শার্ট খোলা যায় ? জাইরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে , ভেবেছিল রিশানকে উঠাবে না কিন্তু এখন তো আর কোন উপায় নেই । অগত্যা তার রিশান কে ডাকতেই হলো ।
“ এই রিশান ভাই? রিশান ভাই ? উঠো তোমার শার্ট চেঞ্জ করতে হবে! ”
“ উম্ ” এইটুকু বলে রিশান আবার ঘুমে তলিয়ে গেল ।
এবার জাইরার প্রচন্ড রাগ হলো । পাশে টেবিলে চোখ পরতেই দেখলো আধ খাওয়া পানি রাখা , হয়তো রুমে এসে রিশান খেয়েছে । সে আর কোনো কিছু না ভেবে গ্লাসটা তুলে ঝরঝর করে সব পানি রিশানের মুখে ঢেলে দিলো ।
রিশানের ঘুম , নেশা সব একসাথে পালালো। ধরফরিয়ে উঠে বসলো । সামনে তাকাতেই দেখলো জাইরা এক হাতে গ্লাস ধরে আরেক হাত কোমরে দিয়ে ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে ।
রিশানের কাছে ওকে পাক্কা বউয়ের মতো লাগলো । পরক্ষনেই চোখের সামনে ওইদিনের কাহিনী ভেসে উঠলো । হাসতে গিয়েও হাসি গিলে নিল ।
“ এখানে কি করছিস? ”
“ জবাবদিহি করতে আমি বাধ্য নই ! এই দুর্গন্ধযুক্ত শার্ট চেঞ্জ করে আমাকে উদ্ধার করো । ” রাগি কন্ঠে বলল জাইরা ।
রিশান কোনো বাহানা না করে শার্টটা চেঞ্জ করে স্কাই ব্লু টি-শার্টটা পড়তে গিয়েও থেমে গেল । ভ্রু কুঁচকে টি-শার্টের দিকে তাকিয়ে জাইরার উদ্দেশ্যে বললো,
—“ আমি এটা পড়বো না অন্য একটা নিয়ে আয় । ”
রিশান ভাই যে তার পছন্দের কালার দেখে টি-শার্টটি পড়বে না সেটা জাইরা খুব ভালো ভাবেই বুঝতে পারছে ।
—“ এই টি-শার্টই আপনাকে পড়তে হবে , নয়তো আরো এক গ্লাস পানি আপনার মুখে ঢালবো আমি। ”
রিশানের কুঁচকানো ভ্রু আরো কুঁচকে গেল । টি-শার্টটা পড়তে পড়তে বললো ,
—“ অধিকার দেখাচ্ছিস ? ”
—“ দেখাচ্ছি! ”
—“ কেন? ”
—“ ইচ্ছা! ”
—“ ইচ্ছা মানে , তুই কি আমার বউ? ”
—“ হুঁ! ”
তড়িৎ গতিতে রিশান ঘাড় বাঁকিয়ে জাইরার মুখ পানে তাকালো রিশান । নিজের দেয়া উত্তরে নিজেই আহাম্মক বনে গেল জাইরা । চোখ খিচে বন্ধ করে দাঁত দিয়ে জিভ কাটলো ।
—“ তুই আমার বউ?? ” রিশান অবাক হয়ে প্রশ্ন করল ।
—“ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে রিশান ভাই। ” বোকা বোকা হাসি দিয়ে ।
ওর কান্ডে রিশান হেসে ফেললো । পরক্ষনেই আবার হাসি নিভে গেল ।
—“ আচ্ছা অরা আমার মধ্যে কী কমতি আছে বল তো? কেনো আমাকে ভালোবাসিস না? ”
জাইরার মুখটা ছোট হয়ে গেল । কিছু একটা ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে বলে ,
—“ হয়তো বাসি আবার হয়তো বাসি না । আমি নিজেই বুঝতে পারছি না । তোমার আঘাতে আমার কষ্ট হয় , তোমার ছোঁয়ায় শরীর~মন আপনা-আপনিই সাড়া দেয় , তোমাকে কষ্ট পেতে দেখে আমার দম বন্ধ লাগে ! এইগুলো কী ভালোবাসা? এইগুলো যদি ভালোবাসা হয় তাহলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। ”
রিশান এতোক্ষণ মুগ্ধ হয়ে ওর কথা শুনছিলো । জাইরা এখনো অন্যমনস্ক হয়ে আছে , হয়তোবা নিজের অনুভূতির কথা ভাবছে! রিশান জাইরাকে হেঁচকা টানে নিজের হাঁটুর উপর বসালো । কোমর ধরে শক্ত করে চেপে তার সাথে মিশিয়ে নিলো । জাইরার কাঁধের উপর রিশান থুতনি রাখলো । খোঁচা খোঁচা দাড়ি তার কাঁধে বসে গেল । জাইরা চোখ বন্ধ করে নিলো । তার বুকের ভেতর যেন কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে ।
—“ আমাকে কষ্ট পেতে দেখলে তোমার দম বন্ধ লাগে তাহলে , আমাকে কষ্ট কেন দিলে? ” নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করল রিশান ।
—“ আসলে আমি শিওর হতে চাচ্ছিলাম! ”
—“ আচ্ছা! ”
রুম জুড়ে পিনপতন নীরবতা নেমে এলো । তারা যেন একজন অন্যজনের স্পন্দন অনুভব করছে । এভাবে কতো সময় কেটে গেল তার ইয়ত্তা নেই । তারপর জাইরা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো ,
—“ আমি এখন যাই? ”
—“ না ওয়েট কর একটু ফ্রেশ হয়ে আসি , শরীর থেকে অ্যালকোহলের ঘ্রাণ আসছে। ”
এই বলে রিশান ওয়াশ রুমে চলে গেল । জাইরা এদিক ওদিক তাকাতেই তার চোখ গেল টেবিল থাকা একটা ডায়রির উপর । সে টেবিলের কাছে গিয়ে ডায়রিটা হাতে তুলে নিলো । প্রথম দিকের কিছু পৃষ্ঠা একদম খালি । আরো কিছু পৃষ্ঠা উল্টানোর পর একটা পৃষ্ঠায় এসে তার হাত থেমে গেল ।
চলবে......!
( দেখছো তোমাদের লেখিকা আপু কত্ত ভালো 🐸 । রিশানকে বেশি কষ্ট দেয় নাই 🥹🥹। আর তোমরা রেসপন্স করো না কেন? একটু লাইক/কমেন্ট কইরো পাখিরা। 🥹🥹)
#for_you #aizas_tales #aiza