(🚫প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য 🚫)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম (🚫18+alart🚫 )
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব : ০৯
(❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌)
২৮-০২-২০২৬
~প্রিয় হৃদয়হরণী ,
আমার অরাপাখি , আমি জানি তুমি এই মুহূর্তে আমার ব্যবহারের চেয়ে নিজের ফিলিংস নিয়ে বেশি কনফিউজড ! তুমি যে ধীরে ধীরে আমার মায়ায় পড়ে যাচ্ছো, সেটাও আমার অজানা নয় ।
তুমি তো জানো, আমার মনে তোমার জন্য এমন কোনো অনুভূতি কোনোকালেই ছিল না । আমি সেইসব সস্তা প্রেমিকের মতো নই যারা কি না সদ্য জন্ম নেওয়া কোনো শিশুকে দেখেই তাকে বিয়ে করার স্বপ্ন বুনে ফেলে ! আমার এই অনুভূতিটা হুট করেই এসেছে—এক বসন্তের রাতে ।
হ্যাঁ , সেই রাতে ; যেদিন তুমি আর জিসান আড়ালে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে আমার কথা শুনছিলে । ঠিক সেই মুহূর্তে যখন তুমি জিসানের পেছনে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে আমার দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়েছিলে , তখন যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার চারপাশের পৃথিবীটা থমকে গিয়েছিল । তোমার সেই তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখ আর ভয়ার্ত চাহনি আমাকে ঠিক কতটা আচ্ছন্ন করেছিল , তা কোনো শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা অসম্ভব ।
আমি আগে ভাবতাম , মানুষের হুট করে প্রেম হওয়াটা নিছক গল্পকথা। কিন্তু সেই রাতের পর আমার ভুল ধারণা ভেঙে গেছে । তবে জানো তো? তোমার প্রতি ওই আকর্ষণের সাথে সাথে নিজের প্রতি একটা তীব্র অপরাধবোধও কাজ করছিল । কারণটা খুব তুচ্ছ—আমাকে তুমি অযথাই ভয় পাচ্ছিলে । যদিও তার জন্য তোমাকে ছোট্ট একটা শাস্তি দিয়েছি আমি—কান মুচড়ে!
তুমি হয়তো ভাবো , তোমার সেই রিশান ভাইয়া হঠাৎ এতটা বদলে গেল কীভাবে? উত্তরটা হলো—আমি সেই রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম , আমার যে রূপটা আমার ‘অরাপাখি’কে ভীত করে তোলে , আমি সেই আমিকেই বদলে ফেলব । এই আমূল পরিবর্তনের পেছনের কারিগর তুমিই । মাঝে মাঝে নিজেরই অবাক লাগে , অনেকটা ভূমিকম্পের মতো আমার সাজানো জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেল ।
আসলে আমি কোনোদিন ভাবিনি আমার এই পাথুরে হৃদয়ে তোমার জন্য কোনো নরম জায়গা তৈরি হবে । কিন্তু সেই বসন্তের রাতে তোমার ওই ভয়ার্ত চাহনি আমার সবকিছু চুরমার করে দিয়েছিল । আমি বুঝতে পেরেছি , পৃথিবীর হাজারো ঝড়ের চেয়ে তোমার ওই এক পলকের নীরবতাই আমার জন্য বেশি শক্তিশালী ।
আমার এই নিয়মহীন জীবনে তুমিই হলে সেই কাঙ্ক্ষিত #বসন্তের_প্রথম_প্রেম । আর এই প্রেমের বসন্তটা আমি সারাজীবন আগলে রাখতে চাই শুধু তোমার জন্য। আমার ‘অরাপাখি’ তুমি সারাজীবন আমার হয়েই থেকে যেও।
ইতি ,
তোমার ছন্নছাড়া প্রেমিক
রিশান ~
_______________________&___________________
ডায়রির পুরো পাতা জুড়ে চিঠিটা লেখা । জাইরার বুক
দুরুদুরু করছে । আরো কয়েকটা পৃষ্ঠা উল্টালো তবে ওই গুলোতে পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে লেখা ,
“ ভালোবাসি অরাপাখি! ”
তার মানে রিশান তাকে আরো আগে থেকেই ভালোবাসে! সে শুধু শুধু রিশানকে কষ্ট দিয়েছে । একদিকে যেমন তার নিজের প্রতি গিল্টি ফিল হচ্ছে অন্যদিকে তেমন রিশানের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছে সে ।
হঠাৎ দরজার খোলার শব্দে তার ভাবনায় ছেদ পড়ে । হালকা কেঁপে ও উঠলো বোধহয় । রিশান ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে জাইরার হাতে ডায়রি দেখে মুখ বাকালো । ধির পায়ে এগিয়ে আসলো । রিশান জাইরার সামনে এসে দাঁড়াতেই জাইরা তার বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এক প্রকার । গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে রিশানকে । হঠাৎ আক্রমণে রিশান তব্দা খেয়ে দু পা পিছিয়ে যেতে নিয়েও টেবিল ধরে নিজেকে সামলে নায় । সেও জাইরাকে জড়িয়ে ধরে । জাইরার উষ্ণ নিঃশ্বাস তাঁর বুকে আছড়ে পড়ছে ।
রিশান যথা সম্ভব চেষ্টা করছে নিজের সুপ্ত বা*স*না গুলো সংযত করতে । কিন্তু ভাগ্য যেন আজ তার সাধ দিচ্ছে না । জাইরাকে জড়িয়ে ধরার দরুন তার পিঠের কিছুটা অংশ খা*ম*চে ধরে রিশান । ছটফট করতে থাকে । উ*ত্তে*জ*নায় ছেলেটার হাত পা কাঁপছে । তবুও সে নিজেকে শান্ত করার প্রয়াস চালাচ্ছে , যতো যাই হোক তাদের বিয়ে হয় নি এখনো । বিয়ের আগে এতো দূর পর্যন্ত যাওয়া ঠিক হবে না ।
রিশানকে এভাবে ছটফট করতে দেখে জাইরা ঘাবড়ে গেল । রিশানকে ছাড়তে চাইলে রিশান তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো । তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম । সে সেদিকে ধ্যান না দিয়ে রিশানকে আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল ,
—“ রিশান ভাই ঠিক আছো তুমি? ”
—“ না অরা আমি ঠিক থাকতে পারছি না! ” তার কন্ঠে মাদকতা উপচে পড়ছে ।
হঠাৎ সে জাইরাকে ছেড়ে দূরে সরে দাঁড়ালো । জাইরা হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে তাকিয়ে তার কান্ড দেখছে । সেও কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে ।
—“ রুমে যা অরা , আমি আর বেশিক্ষণ ঠিক থাকতে পারব না! ”
জাইরা যেন এই কথাটারই অপেক্ষায় ছিল । ঝটপট পা চালিয়ে রুম থেকে বের হতে নিলো । দরজা পর্যন্ত গিয়ে তার পা থেমে যায় । থেমে গেল বললে ভুল হবে থামিয়ে দেয়া হয়েছে । রিশান পিছন থেকে শক্ত করে তার কোমর জড়িয়ে ধরে আর তার ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে দেয় । নাক ঘসতে থাকে ঘাড়ে । জাইরার শরীর অসার হয়ে আসছে । হাত পা থরথর করে কাঁপছে তার । যা দেখে রিশান বিরক্ত হলো । এই সুন্দর মোমেন্টে এমন কাঁপাকাঁপির কী দরকার ?
—“ হুসস! এতো কাঁপা কাঁপি করিস না । ডিস্টার্ব হচ্ছে! ” ঘোর লাগা কন্ঠে বলে রিশান ।
—“আ..আমি রুমে যাবো রিশান ভাই। ” কাঁপাকাঁপা কন্ঠে বলল জাইরা ।
—“ সম্ভব না । ” বলেই জাইরার ঘাড়ে দাঁত বসিয়ে দেয় । যার দরুন জাইরার মুখ থেকে ব্যাথাতূর আওয়াজ ভেসে আসে । এই টুকুই যেন দরকার ছিল রিশানকে পুরোপুরি ডেস্পারেট করে তুলতে ।
এক ঝটকায় জাইরাকে কোলে তুলে নেয় । হঠাৎ রিশানের এহেন কাজে ভয় পেয়ে তার গলা জড়িয়ে ধরে জাইরা । রিশান তাকে নিয়ে ধির পায়ে বিছানার দিকে এগিয়ে যায় । এসে জাইরাকে আস্তে করে বিছানায় ফেলে । জাইরা চোখ বন্ধ করে ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । রিশান জাইরার উপরে উঠে পড়ে । কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অস্থির মুখ খানার দিকে । তার হাত দিয়ে জাইরার ঠোঁট স্লাইড করতে করতে বলে ,
—“ চোখ খোল ! ”
জাইরা চোখ খোলে না বরং আরো খিচে বন্ধ করে নেয় ।
—“ চোখ খুলতে বলছি আমি! ”
রিশানের ধমকে পিটপিট করে চোখ মেলে তাকায় জাইরা । প্রথমেই চোখ পড়ে তার ব্যক্তিগত পুরুষের জলমলে ধূসর-নীল চোখজোড়ায় , যে তার দিকে ঘোর লাগা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আছে ।
রিশান কোনো আগাম বার্তা ছাড়াই জাইরার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয় । পান করতে থাকে প্রেয়সীর অধরের সুদা !
.
.
.
(তারেক রহমান ও সেতু বেগমের আলোচনা)
—“ ছেলেটা এই কয়টা দিনে বড্ডো এলোমেলো হয়ে গেছে রিশানের বাবা ! ” চিন্তিত কন্ঠে বললেন সেতু বেগম ।
—“ হ্যাঁ ঠিক বলেছ! তাছাড়া ও জাইরাকে তো অনেক আগে থেকেই আমার পুত্রবধূ । ভেবেছিলাম হয়তো বড় হওয়ার পাশাপাশি ওদের নিজস্ব অনুভূতি হবে , তাই আর পুরোনো কাসুন্দি ঘাটাবো না । কিন্তু রিশান যখন পছন্দ করেই তাই গতকালকেই জিয়া আর জাইমার সাথে কথা বলছি । অবশ্য ওরা তো প্রথম থেকেই রাজি তা নাহলে কি সাড়ে তিন বছরের মেয়ের সাথে সাত বছরের ছেলের বিয়ে দিতে রাজি হয় । ” পুরোনো স্মৃতি মনে করে হাসলেন তারেক রহমান ।
—“ কিন্তু জাইরা যদি এখন রাজি না হয়? সেদিন কী কান্ডটাই না করলো । ”
—“ টেনশন করো না । আমার জানা মতে জাইরার কোনো রিলেশন নেই । তাই এখন জোর করে বিয়ে দিলেও পরে সংসারে মননীবেশ করবে । ”
—“ যদি রিলেশন থা....”
—“ উহু জাইরা যথেষ্ট ভালো মেয়ে । শুধু একটু আধটু ভন্ডামি করে । ” সেতু বেগমের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললেন তারেক রহমান । দুজনেই মুচকি হাসে ।
.
.
.
প্রায় ৬-৭ মিনিট ধরে কি*স করে যাচ্ছে রিশান । কখনো সফ্টলি তো কখনো রুক্ষ । সে যেন অন্য জগতে বাস করছে , যেই জগৎ শুধু তার আর তার অরাপাখির । জাইরার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে । ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করছে । বারবার রিশানের বাহু ধাক্কা দিচ্ছে । আরেকবার ধাক্কা দিতেই রিশান তার অধরে দাঁত বসিয়ে দিল । নোনতা স্বাদ অনুভব হলো । সে আর ধাক্কা দিলো না , সে বুঝে গেছে এতে কোনো লাভ হবে না । রিশান জাইরার ঠোঁট থেকে বেরিয়ে আসা র*ক্ত টুকু শুষে নিলো । আরো প্রায় ৫ মিনিট পর সে ঠোঁট ছাড়লো । জাইরার কপালে কপাল ঠেকিয়ে ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে । দুজনেই সমান তালে হাপাচ্ছে । রিশান এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি , সে জাইরার সারা মুখে গলায় কি*স করতে লাগলো । তার ঠোঁট গভীর ভাবে ছুঁয়ে যাচ্ছে জাইরার গলা , ঘাড় । জাইরা রিশানের চুল খামচে ধরে । এবার রিশান মুখ তুলে জাইরার স্লিপিং শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করে । আঁতকে উঠে জাইরা ।
—“ রিশান ভা... ”
—“ হুসস পাখি! কোনো কথা না । আই নিড ইউ অরা ! ” রিশানের এহেন মাদকিয় কন্ঠে সে আর বাধা দিতে পারে না । যতই হোক প্রত্যেকেরই একটা বাসনা থাকে । কোনো নারী পুরুষ এমন অবস্থায় থাকলে কারো মনই সায় দেয় না বাঁধা দিতে , যদি অপর লিঙ্গের মানুষটার জন্য তার অনুভূতি থাকে ।
রিশান জাইরার শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে ফেলল । বু*কের উপর থেকে শার্ট সরিয়ে দিল । জাইরা চোখ খিচে বন্ধ করে আছে । রিশান একবার বুকে তাকাচ্ছে তো একবার জাইরার মায়াবী মুখের দিকে তাকাচ্ছে ।
—“ Flawlass.....but so small . ”
একটু থামলো সে । তারপর পুনরায় বললো ,
—“ no worries, my touch will make you bloom anew, every single day. ”
জাইরা লজ্জাবতী পাতার ন্যায় নুইয়ে পড়লো । হাসফাস করছে সে । ডেস্পারেট হয়ে উঠলো রিশান । বুকে মুখ গুজে দিলো । কখনো ডান দিকে তো কখনো বাম দিকে সুখময় অত্যাচার চালাচ্ছে সে । জাইরা রিশানের চুল এমন ভাবে আঁকড়ে ধরেছে যেন একটু হলেই ছিঁড়ে যাবে । ধীরে ধীরে সে নিচে নামছে । না*ভির কাছটায় গিয়ে থামে । অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সে । হাত দিয়ে নাভিসহ আশেপাশের কিছু অংশে হাত বুলাতে বুলাতে বললো ,
—“ তুমি এতো সুন্দর কেন অরাপাখি? ”
জাইরা জবাব দেয় না , এমনকি চোখ ও খোলে না শুধু ঠোঁট কামড়ে ধরে ।
রিশানের তপ্ত নিশ্বাস জাইরার নাভির ওপর আছড়ে পড়ছে। সে উত্তর না পেয়ে জাইরার পেটের ওপর আলতো করে নিজের দাঁত বসিয়ে দিল। জাইরা এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না, অস্ফুট এক আর্তনাদ বেরিয়ে এলো তার মুখ থেকে।
রিশান মুখ তুলে তার লাল হয়ে থাকা চোখ দুটো নিয়ে জাইরার দিকে তাকালো। তার কণ্ঠস্বর এখন আরও গম্ভীর, যেন বাতাসের অভাবে সে নিজেই হাঁপাচ্ছে।
—“উত্তর দিচ্ছ না যে? তোমার এই সৌন্দর্যের নেশা আমায় পাগল করে ছাড়বে। আমি বড্ডো তৃষ্ণার্ত! তোমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে আমার তৃষ্ণা নিবারণের সুধা লুকিয়ে আছে অরাপাখি, আর আমি তার প্রতিটা বিন্দু শুষে নিতে চাই।”
জাইরা কেবল রিশানের অস্থিরতা অনুভব করছিল। তার মনে হচ্ছিল, রিশান কেবল তাকে ভালোবাসছে না, বরং তিল তিল করে তাকে নিজের করে গড়ে তুলছে। রিশানের হাত দুটো এখন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে জাইরার শরীরের বাঁকগুলো মেপে চলেছে।
এভাবেই চললো কিছুক্ষণ তাদের মধুময় আলিঙ্গন । তারপর রিশান আপনা আপনিই থেমে গেল । জাইরার কপালে চুমু খেয়ে তার শার্টের বোতাম গুলো আটকে দিলো । জাইরা হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইল । রিশান তাকে জড়িয়ে ধরে বললো ,
— “ বাকিটুকু নাহয় সেই রাতর জন্য তোলা থাক , যেদিন তুমি আইনত ভাবে আমার হবে । ”
চলবে....
(লুমান্টিক পর্ব দিলাম 🙈... আমার শরম করে তাই বাকি টুকু দিলাম না 🫣! রেসপন্স করো পাখিরা তাহলে নেক্সট পর্ব ও লুমান্টিক দিবো🥹🤌। )