(🚫 কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত🚫)
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব:১০
(❌কপি করা নিষিদ্ধ ❌)
জাইরার নিঃশ্বাস দ্রুত গতিতে চলছে । ছটফট করছে সে । রিশান বোধ হয় বুঝতে পারলো এর কারণ । ঠোঁট কামড়ে হাসলো সে । সে কিছু বলার জন্য মুখ খুলবে তার আগেই তার মুখ আটকা পড়ে গেল । চোখ বড়বড় করে তাকালো । মুখে উপচে পড়ছে অজস্র বিষ্ময় , যেন সে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য দেখে ফেলেছে । মূলত , জাইরা হঠাৎ ওই অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে নি । হঠাৎ রিশানের ছেড়ে দেয়ায় বেশ ছটফট করছিলো মেয়েটা । শেষ পর্যন্ত আর সহ্য করতে না পেরে সে রিশানের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয় । শুষে নিতে থাকে রিশানের ঠোঁট । রিশান প্রথমে তব্দা খেলেও পরে রেসপন্স করে । দু'হাতে জাইরার কোমর জড়িয়ে ধরে । রিশান পুনরায় কন্ট্রোললেস হয়ে উঠেছে । প্রথম বার তো বহু কষ্টে নিজের নিষিদ্ধ বাসনা গুলোকে দমিয়ে দিয়েছিলো । কিন্তু এবার জাইরা নিজে এসে ধরা দিয়েছে , নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারবে বলে মনে হয় না ।
রিশানের হাত পুনরায় অবাধে বিচরণ চালাতে লাগল জাইরার শরীরে । অধৈর্য হয়ে উঠলো সে । এবার আর ধীরে সুস্থে জাইরাকে বস্ত্রহীন করলো না । এক টানে তার শার্ট খুলে ফেললো । বোতাম গুলো ছি*ড়ে ছিটকে মেঝেতে পড়ে হালকা শব্দ তুললো । ছুড়ে ফেলে দিল শার্টটা । বু*কে মুখ ডু*বি*য়ে দিলো । ধীরে সুস্থে নয় হিংস্র ভাবে বুকে একবার এদিকে আরেকবার অন্যদিকে মিষ্টি অত্যাচার চালাচ্ছে সে । বুকের উপরের নরম অংশের একদিকের ব্রাউন সার্কেল টাই জিহ্বা ঘোরাতে লাগলো । জাইরার সমস্ত শরীর যেন বশ হয়ে গেছে । সে রিশানের চুল আঁকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে রেখেছে । রিশান ব্রাউন সার্কেল টা একবার চু*ষছে তো আরেকবার জিহ্বা ঘোরাচ্ছে । জাইরার বুকের অন্যদিক শিক্ত হচ্ছে রিশানের শক্তপোক্ত হাতের স্পর্শে । জাইরা ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে । নিস্তব্ধ রুমটায় ধ্বনিত হচ্ছে এক মানবীর সুখময় শিৎকার । রিশান নিচে নেমে এলো । নাভির কাছে এসে থামল । নাভির গ র্তে জিহ্বা ঢুকিয়ে দিল সে । জাইরার সমস্ত শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো । রিশান জাইরার প্রত্যেকটা কার্যকলাপ অবলোকন করছে । এগুলো যেন তাকে আরো বেশি উন্মাদ করে দিচ্ছে । সে উঠে জাইরার গলায় মুখ ডু বি য়ে দিলো । হাস্কি স্বরে বলল ,
—“ পাখি একটু নিচে....”
তার কথা শেষ করতে দিলো না জাইরা । মুখ চেপে ধরে দুদিকে মাথা নাড়ল যার অর্থ “ না! ”
রিশান বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বললো ,
—“ প্লিজ! ”
সে এমনভাবে বলছে যেন কোনো বাচ্চা চকলেট কিনে দেয়ার জন্য বায়না ধরেছে । অন্যকিছু হলে হয়তো জাইরার মন গলতো , কিন্তু এই বেলায় সে নাকচ করলো । রিশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে । তার এতো দিনের স্বপ্ন আর এই মেয়ে কিনা তাকে নিষেধ করছে । সে ভালো করেই জানে সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকাতে হয় । সে নিষেধ শুনল না । সে নিচে নেমে এলো । জাইরা বিছানা খামচে ধরলো । তার কোমর ধনুকের ন্যায় বাঁকিয়ে গেছে । ছটফট করছে সে ।
রাত বাড়ছে । চারপাশে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে । এই নিস্তব্ধতার মাঝে মিলন হয় দুটি আত্মার , দুটি মনের , দুটি শরীরের নিবিড় আলিঙ্গন । তারা অন্য এক জগতে প্রবেশ করে । সে জগত শুধু #রিশঅরার । যেখানে আছে শুধু ভালবাসা , ভালোবাসা আর ভালোবাসা ।
.
.
.
ভোর ৬:০০ টা
জাইরা পিটপিট করে চোখ খুলে । নিজেকে আবিষ্কার করে রিশানের বাহুডোরে । কেমন সাপের মত করে পেঁচিয়ে ধরেছে তাকে । যেন ছাড়লেই বুঝি পালিয়ে যাবে । একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়ে রইল রিশানের পানে । একটু এগিয়ে রিশানের কপালে অধর ছোঁয়ালো । রিশান ততক্ষণাৎ চোখ খুললো । জাইরা লজ্জা পেয়ে রিশানের বুকে মুখ লুকালো । তা দেখে রিশান বাঁকা হাসে ।
—“ এতো লজ্জা পেতে হবে না মেডাম , সব তো দেখেই ফেলেছি । এখন লজ্জা পেয়ে শুধু শুধু আমাকে কন্ট্রোললেস করছেন । এইবার ধরলে কিন্তু আর জেন্টাল হবো না । ”
জাইরার কাল রাতের ঘটনা মনে পড়ে গেল । লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করছে তার । হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই চুপষে গেল সে । চিন্তারা হানা দিলো তার মাথায় ।
—“ এখন তো সবাই উঠে গেছে রুমে যাবো কিভাবে ? ”
রিশান তার মতো করেই ব্যঙ্গ করে বললো ,
—“ এখন তো সবাই উঠে গেছে রুমে যাবো কিভাবে ? ”
জাইরা ঠোঁট উল্টালো । রিশান এবার সিরিয়াস কন্ঠে বললো ,
—“ আমার বউ আমার রুম থেকে লুকিয়ে কেন বের হবে? ”
—“ মানে? ”
—“ তুমি দুদিন আগে একটা পেপারে সাইন করেছিলে রাইট? ”
জাইরা একটু ভেবে মাথা ঝাঁকায় । যার অর্থ সে করেছিলো । রিশান কিঞ্চিত হাসলো ।
—“ কিসের পেপার ছিলো ওইটা? ”
—“ কি জানি! ভাইয়া এসে বললো এখানে সাইন কর , আমি তখন ডিপ্রেশনে ছিলাম আপনার সাথে ওমন ব্যবহার করার পর । তাই জিজ্ঞেস করার ইচ্ছা জাগে নি , সাইন করে দিয়েছি । ভাইয়া তো আমার খারাপ চাইবে না তাই না? ”
—“ রাইট ! জিসান তোমার খারাপ চাইবে না তাই তোমার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দিলো । ওটা আমাদের বিয়ের পেপার ছিলো । ”
জাইরা হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে রইল রিশানের পানে । তাদের বিয়ে হয়ে গেছে !
—“ এভাবে তাকিয়ে থাকতে হবে না ! নিচে গিয়ে সবাইকে জানাবো আমাদের বিয়ের কথা । তোমার কি মনে হয়েছে থাপ্পড় খেয়ে আমি দমে যাবো? No my lady ! এই রিশান নিজের জিনিস নিজে আগলে রাখতে জানে । তুমি ভালোয় ভালোয় রাজি না হলে জোড় খাটাতাম আমাকে ভালবাসার জন্য । যদি ভালো না ও বাসতে তাও প্রবলেম থাকতো না । আমি তোমাকে সারাজীবন ভালবেসে আগলে রাখতাম । ”
জাইরা রিশানের দিকে তাকিয়ে আছে । সেই তাকানোতে রাগ নেই , আছে ভালোবাসা । রিশান তাকে কতটা ভালবাসে । এতো ভাবে অপমান করার পরেও তার অগোচরে তাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী করে নিয়েছে । রিশান তার মুখে সামনে তুড়ি বাজাতে সে আকাশকুসুম ভাবনা থেকে বেড়িয়ে আসে ।
—“ এভাবেই থাকবেন আজকে? আমি কিন্তু আর বেশিক্ষণ ঠিক থাকতে পারবো না ! ” জাইরার দিকে ঘোর লাগা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো রিশান ।
জাইরা ভ্রু কুঁচকালো । রিশান ইশারায় নিচে তাকাতে বললো । জাইরা কম্ফর্টার জাগিয়ে নিচে তাকাতেই হা হয়ে গেল । তার শরীরে একটা কাপড় ও অবশিষ্ট নেই । রিশানের পড়নে শুধু আন্ডারওয়্যার । সে ঝটপট নিজেকে কম্ফর্টার দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে নিলো । এতে রিশানের শরীর থেকে কম্ফর্টার সরে গেল । যেটা দেখে নিজেই লজ্জা পেলো । রিশান তার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে । জাইরা বোকা বোকা হাসি দিয়ে কম্ফর্টারের একটু অংশ দিয়ে তাকে ঢেকে দিলো । রিশান ঠোঁট বাকালো । তারপর একটানে জাইরার শরীর থেকে কম্ফর্টার সরিয়ে ফেললো । ঘটনাটা এতো তাড়াতাড়ি ঘটে যে জাইরা নিজেকে বাঁচানোর ও সুযোগ পেলো না । জাইরা চোখ খিচে বন্ধ করে ফেললো । রিশান তার শরীরের উপর উঠে দুজনকে একসাথে ঢেকে দিলো । তারপর জাইরার কানে ফিসফিস করে বলল ,
—“ এতো লজ্জা কোথায় রাখো বউ? ”
জাইরা প্রতিউত্তর করলো না । রিশান ও উত্তরের আশায় না থেকে জাইরার বুকে মুখ গুজে দিলো ।
—“ আমি এখন ঘুমাবো সারারাত ঘুমাতে দাও নি তুমি ! ”
জাইরা বোকা বনে গেলো । সে ঘুমাতে দেয় নি? আর ঘুমাবে বেশ ভালো কথা , তার উপর কেন? সে কি বিছানা?? বিরক্ত বোধ করলো সে । পরক্ষনেই জমে গেল , পুরো শরীরে একটা শিহরণ খেলে গেল যেন । রিশান তার বুকে ছোট ছোট চুমুতে ভরিয়ে দিচ্ছে । জাইরা আশ্চর্য হয়ে বললো ,
—" এই তুমি নাকি ঘুমাবে? "
—“ হুম ঘুমাচ্ছি তো ! ” রিশান থেমে গেল । জাইরার কিছু একটা মনে পড়তেই বললো ,
—“ আচ্ছা আমাদের তো বিয়ে আগেই হয়েছে তাহলে কালকে রাতে হঠাৎ থেমে গেলে কেন? ”
—“ আসলে আমি , পুরো পৃথিবীর সামনে আগে তোমাকে বউ স্বীকৃতি দিয়ে তারপর গভীর ভাবে ছুঁতে চেয়েছিলাম । ”
—" ওহহ! "
—" কিন্তু তা আর হতে দিলে কোথায়? আমার মতো একটা নিষ্পাপ ছেলেকে উশকে ভার্জিনিটি পাঞ্চার করে ছাড়লে । ছিঃ বউ ছিঃ ! "
রিশান ঠোঁট উল্টে কান্না করার ভান করলো । জাইরা রিশানের পিঠে দুম করে একটা কিল বসালো । রিশান হা হয়ে গেল । জাইরা সে নিজেও এইমাত্র কী করেছে সেটা ভেবে ভয় পেয়ে গেল । রিশান হেসে বলল ,
—“ আরে বউ ভয় পেতে হবে না । তোমারই তো স্বামী ! ”
জাইরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো ।
—“ আচ্ছা রিশান ভাই তুমি ঘুমাও আমি রুমে যাবো , ফ্রেশ হতে হবে । ”
—“ আচ্ছা যাও ! ”
রিশান তার উপর থেকে সরে গেল । বিছানার অন্যপাশে শুলো । জাইরা কম্ফর্টার জড়িয়ে উঠতে চাইলো কিন্তু সারা শরীর ব্যথায় জর্জরিত হয়ে আছে । ব্যথায় ককিয়ে উঠলো সে । রিশান তাকালো তার দিকে , বুঝতে পেরেছে বোধহয় । রিশান উঠে জাইরাকে কোলে তুলে নিলো । আচমকা কোলে তোলার দরুন রিশানের গলা জড়িয়ে ধরলো । রিশান সোজা ওয়াশ রুমে ঢুকে জাইরাকে নিয়ে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দিল । জাইরার ব্যথায় চিৎকার করে উঠল । রিশান হতবাক! সে দ্রুত শাওয়ার অফ করে দিলো ।
—“ কি হয়েছে? ” উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল রিশান ।
—“ জ্বলছে অনেক! ”
রিশানের ভিতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো । খুব ধীরে সুস্থে জাইরাকে গোসল করিয়ে দিলো , নিজেও গোসল করলো । নাইটিটা পুনরায় পড়িয়ে দিলো জাইরাকে । জাইরা চুপে চুপে নিজের রুমে চলে গেল , দোতলায় এবং পাশাপাশি হওয়ার দরুন কারো চোখে পড়ল না সেটা । কারো চোখে না পড়লেও জিসানের চোখে ঠিকই পড়লো । সে মূলত রিশানের রুমে যাওয়ার জন্য দরজা খুলছিল , রাতে রিশানের যা অবস্থা হয়েছিল তাই দেখতে যাওয়া জরুরী বলে মনে করছিলো । কিন্তু দরজা খুলেই জাইরাকে দেখলো রিশানের রুম থেকে বের হচ্ছে , মাথায় টাওয়াল পেঁচানো । সে ঘনঘন চোখের পলক ঝাপটালো । জাইরা রুমে যাওয়ার সাথে সাথে সে রিশানের রুমে গেল ।
হঠাৎ দরজা খোলার আওয়াজে রিশান দরজার দিকে তাকালো । জিসান হ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে আছে ।
—“ ওখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস? ভেতরে আয়! ”
রিশানের বলতে দেরী কিন্তু জিসানের ঢুকতে দেরি হয় না । দ্রুত কদমে এসে রিশানের সামনে ধপ করে বসে পরে ।
ওর অবস্থা দেখে রিশান সরুচোখে তাকায় ।
—“ কি হয়েছে এমন করছিস কেন? ”
—“ এই...মা.. মাত্র..মাথায়..টাওয়াল..পেঁচিয়ে..জা.. জাইরা..”
—“ তোতলাচ্ছিস কেন? ” বিরক্ত হয়ে বললো রিশান।
জিসান এবার সিরিয়াস কন্ঠে বললো ,
—" জাইরাকে দেখলাম মাথায় টাওয়াল পেঁচিয়ে তোর রুম থেকে বের হলো আবার তোর চুল ও ভিজা। "
—“ হ্যাঁ তো কী হয়েছে? ”
—“ তাহলে আমি যেটা ভাবছি সেটাই সত্যি? ”
—“ হ্যাঁ! বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীর চুল যখন তখন ভেজা থাকতে পারে! এরকম করার কী আছে? ”
রিশান গা ছাড়া ভাবে উত্তর দিলো । তা দেখে রিশান ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো ।
—“ আমি এখনো একটা মেয়েই পছন্দ করতে পারলাম না , আর তুই বাসর সেরে ফেললি।। ”
ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল জিসান ।
—“ হ্যাঁ করেছি ! তাতে তোর কি বে? ”
—“ আমার তোকে সাহায্য করাই উচিত হয় নি নয়তো , তুই বাসর করতে পারতি না । ” নাক টেনে ।
—“ বা//ল নিচে চল! ”
এই বলে রিশান ঘর থেকে বের হতে উদ্যত হয় কিন্তু দরজা পর্যন্ত আসতেই থেমে গেল । কারণ জিসান ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদছে আর গান গাচ্ছে ।
🎶 একুশে দিছি পা আর কবে বিয়ে করবাম
লেট করলে হবে দেরি কবে ইষ্টুকুলু করবাম🎶
🎶 ঘুম আসে না ভালো লাগে না বেকায়দা ব্যরাম
আমায় বিয়া দে বিয়া দে বিয়া দে রিশান!🎶
রিশান এসে দিলো এক লাত্থি । জিসান বিছানা থেকে নিচে পড়ে গেল । আল্লাগো বলে এক চিৎকার দিয়ে জায়গায় অজ্ঞান হয়ে গেল । রিশান তব্দা খেয়ে গেলো ।
চলবে........?
#for_you #bangla_story #romantic #dark