(🚫রোমান্টিক গল্প যাদের পছন্দ নয় তাঁরা স্কিপ করবেন । )
#বসন্তের_প্রথম_প্রেম
#লেখনীতে_আইজা
পর্ব:১১
(🚫 কপি করা নিষিদ্ধ 🚫)
জিসান পিটপিট করে চোখ খুললো । নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করলো । তার চারপাশে সবাই গোল হয়ে বসে বড়ো বড়ো চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে আছে । জিসান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো ! কী আজব , সবাই আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে কেন? আমি কী কিছু চুরি করে ধরা খেয়েছি নাকি? নাহ চুরি করতে আবার কখন গেলাম?
এইসব ভাবতে ভাবতেই তার কর্ণে গমগমে আওয়াজ ধাক্কা খেল ,
—“ অজ্ঞান কীভাবে হলে হঠাৎ? ”
বাবার প্রশ্নে তখনকার কাহিনী মাথাচাড়া দিয়ে উঠেলো তার । আবার ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে দিলো । নাক টেনে বলতে লাগলো ,
—“ আ.. আব্বু রিশান না......”
আর কিছু বলবে তার আগেই নিজের হাত দিয়ে নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরল । রিশান চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে । জিসান মনে মনে জিহ্ব কাটলো । এই মাত্র সে কি বলতে যাচ্ছিল ? আল্লাহ যদি বলে ফেলতো ? মনে মনে নিজেকে কয়েকটা গাট্টা দিলো ।
—“ রিশান কী করেছে? ”
তারেক রহমান ভ্রু কুঁচকে বললেন ।
—“ আমায় লাত্থি দিছে আ্য্য্য্য্য্য! ”
—“ সামান্য লাত্থি খেয়ে তুই অজ্ঞান হয়ে গেলি? ” সবাই একসাথে বলে উঠল ।
জিসান হ্যাবলার মতো একটা হাসি দিয়ে মাথা নাড়ল । কিছু করার নেই তার ! সবাই তাকে একটা করে গাট্টা মেরে চলে গেল , শুধু রিশান বাদে ।
—“ রিশানের বাচ্চাআআআআআআ! ”
জিসান এক চিৎকার দিলো । রিশান মেকি হেসে বলল ,
—“ ব্রো এখনো অতোদূর অব্দি যেতে পারি নি , জাস্ট প্রসেসিং শুরু করেছি ! ”
—“ আমি বিয়ে করবো এআআআআআ! ”
—“ ওকে ! পাত্রী দেখবো ? ”
জিসান যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে । খুশিতে গদগদ হয়ে বললো ,
—“ ওকে রিশু বেইবি! ”
বলেই রিশানের বাহুতে হালকা ধাক্কা দিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো , ভাবটা এমন যেন সে খুব লজ্জা পেয়েছে । ওই যে বাংলা সিনেমায় ন্যাকা নায়িকা থাকে না ঠিক তেমনই ! রিশান বিরক্ত বোধ করলো ।
—“ তোর জন্য এখন পর্যন্ত ব্রেকফাস্ট করতে পারিনি! তার উপর আজকে সবাইকে চমক দিবো । আমার সাথে এসে উদ্ধার কর প্লিজ!! ”
—“ আসছি আসছি ! কেমন করে বাবা হুহ! ”
ভেংচি কেটে মেয়েদের মতো নাচতে নাচতে নিচে চলে গেল রিশানকে ছাড়াই । রিশান বড় একটা শ্বাস ফেলে নিজেও চলে গেল , না জানি আজকে কি হবে !
.
.
.
জাইরা বড়দের সাথে বসে ব্রেকফাস্ট করছে । রিশানকে নামতে দেখে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকালো । রিশান তার চোখে চোখ রেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো । তারপর ঠোঁট গোল করে একটা চুমু ছুঁড়ল । জাইরা সুন্দর হাসি উপহার দিলো । জিসান ভ্রু কুঁচকে তাদের এই লুতুপুতু প্রেম লক্ষ করছে । মনে মনে ভেংচি কাটতেও ভুললো না । রিশান এসে জাইরার পাশের চেয়ারে বসলো । জিসান তা দেখে ঠোঁট বাকায় । নিজেও রিশানের পাশের চেয়ারটায় বসে পরলো । যে যার মতো খেতে লাগলো । কিন্তু রিশান জাইরাকে জ্বালিয়ে মারছে । একবার পা দিয়ে সুরসুরি দিচ্ছে তো আরেকবার সবার আড়ালে ফ্লাইং কিস ছুড়ছে । তা জিসান এর চোখ এড়ায় নি । সে আর নিতে পারলো না । কেমন আদিখ্যেতা এইসব?? তার মতো একটা সিঙ্গেল ছেলের সামনে বসে এরা লুতুপুতু টাইপ প্রেম করছে !
—“ উহুম উহুম ! আশেপাশে আরো মানুষ আছে! একটু দেখে হ্যাঁ! ভালো হ , ভালো হ , ভালো হতে পয়সা লাগে না! ”
দাঁত কিড়মিড় করে বললো জিসান । রিশান যেন শুনেও শুনলো না । সে নিজের কাজে অব্যাহত রইলো ।
সবার খাওয়া যখন শেষ পর্যায়ে তখন রিশান ও তারেক রহমান একসাথে বলে উঠল ,
—“ আমার কিছু বলার আছে তোমাদের? ”
কথাটা বলে দুজন দুজনের দিকে তাকালো । তারেক রহমান বললেন ,
—“ তুমি আগে বলো ! ”
—“ ওকে! ”
রিশান একটা বড়ো নিঃশ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল ,
—“ তোমরা সবাই-ই অবগত যে আমি অরাকে ভালোবাসি ! তাই অরাকে নিজের করে নিয়েছি । ”
— “ নিজের করে নিয়েছি মানে? ”
জিয়াউর রহমান ভ্রু কুঁচকে বললেন ।
—“ কথার মধ্যে বা হাত ঢুকাবা না ছোট আব্বু ! তো যা বলছিলাম , অরার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেছে । যদিও অরাকে না জানিয়েই বিয়ে হয়েছে । কিভাবে হয়েছে সেসব বলতে পারবো না , শুধু জেনে রাখো বিয়ে হয়েছে । এবং অরা ও আমাকে ভালোবাসে কালকে রাতেই জানিয়েছে । সো যেটা বলতে চাচ্ছি , তোমাদের কারো বিয়েতে মত না থাকলে ও লাভ নাই । আর সমাজ বলে একটা কথা আছে , সেই জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ের অনুষ্ঠান আ্যরেঞ্জ করার ট্রাই করো । ”
একটু নিঃশ্বাস নিয়ে বলল ,
—“ বাবা এবার বলো তুমি কি বলছিলে? ”
জিসান জাইরা ছাড়া সবাই তার দিকে হতভম্বের ন্যায় তাকিয়ে আছে । তারেক রহমান আর কি বলবে , তার মুখের অবস্থা দেখার মতো হয়েছে । জাইরা লজ্জায় মাথা নিচু করে রয়েছে ।
সবার মুখ অটোমেটিক হা হয়ে গেছে । রিশান বিরক্ত হলো ।
—“ এভাবে হাঁ করে থাকলে মশা ঢুকে যাবে । কি বলতে চাচ্ছিলে সেটা বলো । ”
সবাই একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো । তারেক রহমান গলা খাঁকারি দিয়ে বললো ,
—“ বেয়াদব ছেলে ! আর কতোবার বিয়ে করবে? অলরেডি দুইবার হয়ে গেছে , তাও একজনের সাথেই । ”
—“ এ্য্য্য্য্য্য্য্য? ”
রিশান জাইরা জিসান তিনজন একসাথে বলে উঠল । হতবাক তারা ! জাইরা রিশানের দিকে তাকিয়ে ঘনঘন পলক ঝাপটালো । জিসান একবার জাইরার দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার রিশানের দিকে তাকাচ্ছে ।
—“ আমাদের কবে বিয়ে হলো বড়ো আব্বু? ”
জাইরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল । তারেক জিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন তারপর ফিরে গেলেন সেই মিষ্টি অতীতে ।
~Flashback~
—“ লিতান বাই টোমাল তোখ (চোখ) গুলো তত্ত তুন্দল ! এতদম বিলালেল মতো ! আমি তোমাল মতো তোখ ওয়ালা এততা তেলেকে বিয়ে কলবো! ”
ছোট্ট জাইরার কথা শুনে রিশান ভ্রু কুঁচকালো । সে অবাক হয়ে বললো ,
—“ তোকে বিয়ের কথা কে বলেছে? এইসব তোর মাথায় কে ঢুকায়? ”
জাইরা খিলখিল করে হেসে উঠলো । হাসতে হাসতেই বলল ,
—“ কে আবাল দিতান বাই ! ”
—“ আমার নাম জিসান! কী দিতান দিতান করছিস !! ”
জিসানের কন্ঠ শুনে জাইরা রিশান দুজনেই পিছনে তাকালো । জিসান রেগে জাইরার দিকে তাকিয়ে আছে ।
জাইরা ভেংচি কেটে আবার রিশানকে বলতে লাগলো ,
—“ আমি বিয়ে কলবো । ”
—“ কাকে? ”
—“ টোমাল মতো তোখ ওয়ালা এততোনকে ! (একজনকে)”
—“ চুপ বাদড় একটা! ”
ধমকে উঠলো রিশান । জাইরার কান মুচড়ে ধরলো । জাইরা ব্যথায় চিৎকার করে কেঁদে দিলো । মেয়েটা কাঁদছে তো কাঁদছেই , অথচ রিশানের কান ছাড়ার কোনো নাম নেই । জিসান জোর করে ছাড়িয়ে নিলো ।
—“ টুমি পতা লিতান বাই! ”
জাইরা হেঁচকি তুলতে তুলতে বললো । রিশান শুনেও শুনলো না সে হিরো হিরো ভাব নিয়ে রুমে চলে গেল । ঠিক তখনই সেখানে তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমান হাজির হলো ।
জাইরাকে কাঁদতে দেখে বললো ,
—“ কি হয়েছে মামুনি কাঁদছ কেন? ”
—“ লিতান বাই মেলেতে। ”
—“ কেন? ”
এবার জিসান পুরো ঘটনা খুলে বললো । তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমান একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করলেন ।
তারপর তারেক রহমান জাইরাকে কোলে তুলে নিয়ে আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করলেন ,
—“ তোমার রিশানের মতো চোখ পছন্দ? ”
—“ হ্যাঁ অনেত!!! ”
—“ আচ্ছা যাও তোমাকে রিশানের সাথেই বিয়ে দিবো , কোন রিশানের মতো দরকার নেই। ”
জাইরা যেন খুশিতে লাফিয়ে উঠলো । বাচ্চা মেয়ে ! পছন্দের জিনিস নিজের হবে ভেবে খুশিতে লাফাচ্ছে । অথচ সে বিয়ে শব্দটার মানেই জানে না । ভেবেই হাসি পেলো জিয়াউর রহমানের ।
জাইরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন ,
—“ আচ্ছা এবার তুমি জিসান ভাইয়ের সাথে ঘুরো কেমন? ”
—“ ওতে! ”
সে কোল থেকে নেমে জিসানের সাথে চলে গেল । তারেক রহমান জিয়াউর রহমানকে বললেন ,
—“ মেয়ের পছন্দকে পূর্ণতা দিলে খারাপ হয় না কি বলিস জিয়া? ”
জিয়াউর রহমান প্রচন্ড অবাক হলেন । এইটুকু মেয়ে কি না কি ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সেটা তার ভাই পূর্ণতা দেয়ায় কথা ভাবছে !
—“ কি বলছো ভাইয়া ! তুমি এইটুকুন মেয়ের কথায় নাচছো? ”
—“ কেন তোর কোনো সমস্যা আছে? ”
—“ না কিন্তু বড় হওয়ার পর ওদের নিজস্ব অনুভূতি হবে , যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে? ”
—“ ওদের বোঝার বয়স হলেই বিয়ের ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হবে ! ”
—“ আচ্ছা তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু তোমার ছেলেকে রাজি করাবে কিভাবে? ও তো আর বাচ্চা না যে চকলেট দিয়ে রাজি করাবে । ”
—“ ওইটা আমার উপর ছেড়ে দে! ”
.
.
—“ না না না আমি ওই বাদড়কে বিয়ে করবো না । ওর বাদড়ামি আমার জাস্ট অসহ্য লাগে । ”
—“ আহা! ও বড়ো হয়ে আর বাদড়ামি করবে না ! একদম ভদ্র হয়ে যাবে , ঠিক তোমার মতো । ”
অবশেষে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রিশানকে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছেন তারেক রহমান । ছোট্ট জাইরা তো রিশানকে বিয়ে করতে পেরে মহা খুশি । সে খুশিতে রিশানের গলা জড়িয়ে লাফাচ্ছে আর রিশান বিরক্তি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে , ব্যাস ! ক্লিক ! এই মুহুর্তটা ফ্রেমে বন্দী করা হলো ।
~বর্তমান~
" তারপর তোম............"
কিছু একটা পড়ার শব্দ পেয়ে তিনি থেমে গেলেন । সবাই ভ্রু কুঁচকে যেদিকে শব্দ হয়েছে সেদিকে তাকালো । জিসান চেয়ারে নেই ! কোথায় গেল? হঠাৎ চোখ পড়লো সে চেয়ারের পাশে পড়ে রয়েছে । সবাই হতবাক ! রিশান উঠে জিসানের কাছে গিয়ে বুঝলো বেটা আবার অজ্ঞান হয়ে গেছে । সবাই ঘনঘন পলক ঝাপটাচ্ছে আর রিশান বিরক্তি নিয়ে জিসানকে আস্তে করে একটা লাত্থি দিয়ে বললো ,
—“ এই শালার আজকে হয়েছেটা কি? খালি একটু পর পর পোয়াতি বেডি গো মতো অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে !! ”
—“ পানি ছিটাও ওর মুখে । ”
তারেক রহমান গম্ভীর গলায় বললেন । সেতু বেগম ঝটপট গিয়ে জিসানের মুখে পানি ছিটালো । জিসান ধড়ফড়িয়ে উঠে বসতে চাইলো কিন্তু বসতে গিয়ে আবার চেয়ারের কোনায় বারি খেল । মৃদু চিৎকার করে উঠে বেচারা । ওইজে কথায় আছে না , অভাগা যেদিকে যায় সেদিকের পানি শুকিয়ে যায় । বেচারা জিসানের অবস্থা ও তাই হয়েছে । সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চেয়ারে উঠে বসে , রিশান সাহায্য করতে চাইলে তার হাত উপেক্ষা করে । বাবার দিকে তাকিয়ে হতাশার শ্বাস ফেলে বলে ,
—“ বাবা কেন এই অবিচার? আমাকে কেন ছোট বেলায় বিয়ে দিলে না , কি দোষ ছিল আমার? ”
—“ এই ছেলে পাগল হয়ে গেছে দ্রুত পাবনা পাঠানোর ব্যবস্থা করো রিশান । ”
তারেক রহমান কন্ঠে গম্ভীরতা বজায় রেখে বললেন ।
জিসান ঠোঁট উল্টে বললো ,
—“ বাবা আমি বিয়ে করবো । রিশানের সাথে আমাকে ও বিয়ে দিতে হবে নয়তো অনশন করবো আমি । ”
—“ আচ্ছা আচ্ছা তোমার পছন্দের কেউ আছে? ” কন্ঠে বিরক্তি উপচে পড়ছে ।
জিসান তা গ্রাহ্য করলো না । সে হা-হুতাশ করে বললো ,
—“ থাকলে তো আমার এতো দিনে কমপক্ষে আট দশবার বিয়ে হয়ে যেতো , রিশানের মতো দুবার করে বসে থাকতাম নাকি ? ”
আড়চোখে রিশানের দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো । সবাই ঠোঁট চেপে হাসছে । তাদের হাসতে দেখে জিসান বললো ,
—“ কী দিন আসলো , ছেলের কষ্টে মা বাবা হাসছে !! ” হতাশ সে , খুবই হতাশ !
—“ আচ্ছা তোমার জন্য মেয়ে দেখা শুরু করি কি বলো ? ”
—“ হ্যাঁ হ্যাঁ দ্রুত ! রিশানের সাথে সাথে যেন আমার বিয়ে ও হয়ে যায় , নয়তো কেস করবো আমি। ”
—“ ঠিক আছে এখন খাবার শেষ করো । ”
—“ আচ্ছা!! ”
যে যার মতো খেয়ে উঠে গেল , শুধু বসে রইল রিশান জাইরা এন্ড তাদের মধ্যে ' কাবাব মে হাড্ডি ' হওয়ার জন্য চেংড়া জিসান । রিশান বেজায় চটে গেলো ।
দাঁতে দাঁত চেপে বললো ,
—“ ভাই ভাবির রোমান্স দেখার জন্য বসে আছিস ? ”
জিসান মুচকি হেসে বলল ,
—“ আজ্ঞে হ্যাঁ ! আপনি ঠিক ধরেছেন ভায়া । আপনারা কনটিনিউ করুন আমি দেখছি । ”
রিশান গা ছাড়া ভাব নিয়ে জাইরার কোমর চেপে কাছে টেনে নিলো । জাইরা জিসান দুজনেই হতভম্ব হয়ে তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে । রিশান জিসানের দিকে তাকিয়ে ঠোট কামড়ে হাসলো । তারপর জাইরাকে আরো কাছে টেনে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দিলো । জিসানের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে । খাবার নাকে মুখে উঠে গেছে । কাশতে কাশতে সে উঠে দাড়ালো ।
রিশান জাইরার ঠোঁট ছেড়ে তার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বললো ,
—“ কিরে দেখবি না উঠে গেলি যে? ”
—“ আজ সিঙ্গেল বলে কেউ দাম দেয় না । থাক তোরা রোমান্স কর আমি গেলাম । ”
—“ গুড বয় ! ”
জিসান ভো দৌড় দিয়ে রুমে চলে গেল । যেন এখানে আর এক মুহূর্ত থাকলে তার জান যাবে । রিশান শব্দ করে হেসে উঠলো । জাইরা তার দিকে বোকার মত মুখ করে তাকিয়ে আছে । জিসানের সামনে তাকে লিপকিস করলো ? এটা কোনো কথা ?? রিশান খেয়াল করলো জাইরা তার দিকে তাকিয়ে আছে । সে জাইরা'কে নিজের হাঁটুর উপর বসিয়ে দিলো । একহাতে শক্ত করে করে কোমর জড়িয়ে ধরলো অন্যহাত জামার ভিতরে গলিয়ে দিলো । জাইরা শক্ত করে রিশানের টি-শার্ট খামচে ধরলো ।
কাঁপা কাঁপা গলায় বললো ,
—“ রি.রিশান ভ.ভা.ভাই রু....”
—“ হুসসস! ”
ঠোঁটে আলতো করে আঙুল চেপে ধরল । কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো ,
—“ বিয়ে তো দুবার করে ফেললাম কিন্তু বাসর?? একবার মাত্র ! আরেকবার করা যাক । ”
জাইরাকে কিছু বলতে না দিয়ে পাঁজাকোলা তুলে রুমের দিকে রওনা হলো ।।
চলবে........
#uponnash #Romantic #bangla_story #aiza
(একটু রেসপন্স কইরো পাখিরা 🥹🫶🏻!)