ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদতরঙ্গের নিঃশব্দী সুর

১৩তম পর্ব

লেখক: তাহিরাহ্ই রাজ

#হৃদতরঙ্গের_নিঃশব্দী_সুর

#তাহিরাহ্_ইরাজ

[১৩]

" আমাগো সময় না ছিল এত আরাম, না ছিল অসুখবিসুখ। এত অসুখবিসুখ নিয়া পইড়া থাকলে সংসার চলতো না আর। "

বয়স্ক নারীটি খুব সাদামাটা স্বরেই কথাটা বললেন। তবুও এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল সুক্ষ্ম ধার। এ কথার পৃষ্ঠে বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা ভেঙে পড়লো।

.

বিল্ডিংয়ের এই তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে আজ সকাল থেকেই ব্যস্ততা। স্থূল, দুর্বল শরীর নিয়ে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আফসানা। চুলায় চলছে রান্নাবান্না। দক্ষ হাতে পাত্রে রান্না চলমান গরুর মাংস নাড়িয়ে দেয়। সকাল থেকেই কয়েক পদ রান্না করে চলেছে সে। খাবারের মুখরোচক সুবাস ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে। পাশেই কিচেন সিঙ্কে ব্যস্ত গৃহকর্মী। সবজি ধুয়ে চলেছে। সবজিটা রান্না হলেই এ দফায় রান্না পর্ব সমাপ্ত হবে। ঘামে ভেজা গলাটা শাড়ির আঁচলে মুছে নেয় আফসানা। গৃহকর্মীকে আস্তে করে বলে,

" আপা! আমি একটু ডাইনিংয়ে গিয়ে বসছি। শরীরটা কেমন লাগছে। তুমি একটু দেখো রান্নাটা। দরকার পড়লে আঁচ কমিয়ে দিয়ো। আমাকে ডেকো। "

" আচ্ছা আপা। আপনে যান। "

আফসানা একটু নিশ্চিন্ত হয়। সে-ই সকাল থেকে শরীরটাকে জোরপূর্বক খাটিয়ে চলেছে সে। প্রায় পাঁচ পদ রান্না করেছে। সবজিটা হলে ছয়পদ। আর পারছে না। হাল ছেড়ে দিচ্ছে শরীর। মাথা ঝিমঝিম করছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে বারবার। ধীরপায়ে হাঁটতে হাঁটতে ডাইনিং এরিয়ায় গিয়ে বসলো সে। এক গ্লাস পানি পান করলো। অতঃপর কিছুটা সময় চেয়ারে হেলান দিয়ে চুপটি করে বসে রইলো। বন্ধ চোখ। এভাবে বেশ কিছুটা সময় অতিবাহিত হলো। আস্তে ধীরে সোজা হয়ে বসলো আফসানা। একটু স্থির হয়ে নিলো। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। পৌঁছালো বেসিনের কাছে। চোখেমুখে পানি ঝাপটা দিলো। পাশের নতুন টানানো তোয়ালেতে মুখ মুছে নিলো। এখন মুখ মোছার জন্য সে-ই বেডরুম পর্যন্ত যেতে ইচ্ছে করছে না। শরীর ক্লান্ত। ডাইনিংয়ে ফিরে গেল সে। ফ্রিজ থেকে রূহ আফজার বোতলটা বের করলো। ঠাণ্ডা পানির বোতল নিলো। টেবিলের ওপর রাখলো সেগুলো। নিজে বসলো চেয়ার টেনে। শরবত বানালো যত্ন করে। কাঁচের গ্লাসটা ঢাকা দিয়ে ফ্রিজে রাখলো। রূহ আফজা, পানির বোতল রেখে দিলো পূর্বের জায়গায়। অতঃপর আস্তে ধীরে এগোলো রান্নাঘরের দিকে।

ঘড়ির কাঁটা প্রায় দুইয়ের কাছাকাছি। রান্নাবান্না কিছুক্ষণ আগে সমাপ্ত হয়েছে। গৃহকর্মী আপা মাত্র বিদায় নিলেন। আজ অতিরিক্ত কাজ করেছেন উনি। খুশি হয়ে আফসানা দুইশো টাকা দিলো। কিছু গরম গরম খাবার বক্সে করে দিয়ে দিলো ওনার ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের জন্য। আপা আবেগী হয়ে কৃতজ্ঞতা জানালেন। প্রকৃতপক্ষে আফসানা কৃতজ্ঞ ওনার কাছে। আজ উনি হাতে হাতে সাহায্য না করলে, এই শরীর নিয়ে সবটা একাকী করা আফসানার জন্য দুষ্কর হয়ে উঠতো। আপা বিদায় নিলে দরজা আটকে দিলো আফসানা। দেয়াল ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নিলো। সময় হয়ে গেছে। দ্রুত গোসল সেরে নেয়া উচিত। সে-ই ভাবনা মোতাবেক বেডরুমের দিকে অগ্রসর হলো সে। তখনই কলিংবেল বেজে উঠলো। চমকে উঠলো আফসানা! এরমধ্যে চলে এসেছেন! তটস্থ হয়ে উঠলো সে। শাড়ির আঁচল ভালোমতো শালীনতার সহিত মাথায় টেনে নিলো। দরজায় এগিয়ে গেল। দরজা খুলতেই দৃশ্যমান হলো দুই মানব অবয়ব।

" আসসালামু আ'লাইকুম মা। "

" ওয়া আ'লাইকুমুস সালাম। "

ঘরে প্রবেশ করলেন শাশুড়ি মা। শাহেদ মায়ের পাশাপাশি ভারী ব্যাগ হাতে ঘরে প্রবেশ করলো।

" কেমন আছেন মা? "

" ভালো। তুমি? "

পুত্রবধূর অবয়বে আপাদমস্তক দৃষ্টি বুলিয়ে নিলেন উনি। আফসানা মৃদু হাসলো,

" আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি মা। আসতে কোনো অসুবিধা হয়নি তো? "

" অসুবিধা হইবো কেন? খোকা আছিল তো সাথে। আমার খোকা থাকলে সব বিপদাপদ পলাই যায়। "

ধর্মের সঙ্গে সাং-ঘর্ষিক এমন কথাবার্তায় আফসানা কেমন অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো।

" আপনি বসুন মা। "

শাশুড়ি সোফায় বসলেন। আফসানা ডাইনিং রুমে গেল। কিছু সময় বাদে ফিরে এলো শরবত, ফলের ট্রে নিয়ে। টেবিলের ওপর ট্রে টা রাখলো। গরমের মধ্যে ঠাণ্ডা শরবতের গ্লাসটা এগিয়ে দিল। উনি কেমন এক কণ্ঠে বললেন,

" বাইরে থেকে আইলে আগে পানি দিতে হয়। গলা শুকাইয়া কাঠ হইছে আমার। "

আফসানা তড়িঘড়ি করে শরবতের গ্লাসটা রেখে দিলো। ট্রেতে রাখা পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিলো এবার। গ্লাসটা হাতে নিলেন মা। ঢকঢক করে পানি পান করলেন। কাঁচের গ্লাস রেখে দিলেন এবার।

" কিছু নিন মা। "

ফল খেতে অনুরোধ করলো আফসানা। শাহেদ ততক্ষণে রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসেছে। সে-ও বললো,

" বসে আছো কেন মা? কিছু মুখে দাও। "

" এই ভরদুপুরে কিছু খামু না এখন। এখন এইসব খাইলে ভাত খামু কখন? এতটুকু বোধ নাই? "

শেষের কথাটা আস্তে বললেও আফসানা ঠিক শুনতে পেল। মুখ থেকে মিলিয়ে গেল হাসিটা। শাহেদ ইশারায় আশ্বস্ত করলো। মা'কে বললো এবার,

" মা চলো। রুমে চলো তাহলে। ফ্রেশ হয়ে নেবে। নামাজ পড়ে খাওয়া-দাওয়া করবে। "

স্ত্রীকে আস্তে করে বললো,

" তুমি গোসল সেরে নামাজটা পড়ে নাও। ইনশাআল্লাহ্ একসাথে সবাই খাবো। "

" হুম। "

আফসানা এতটুকু বলতেই তীক্ষ্ণ নজরে পুত্রবধূর দিকে তাকালেন মা। লক্ষ্য করলেন আফসানা এখনো গোসল করেনি। নামাজ-ও বাকি। অথচ বেলা বাজে দুইটা!

" তুমি এহনো গোসল সারো নাই? "

" না মা। ও-ই রান্নায় দেরি হয়ে গেল একটু। এখনই যাচ্ছিলাম। "

আত্মপক্ষ সমর্থন করার হালকা চেষ্টা করলো আফসানা। মা বেজায় অসন্তুষ্ট হলেন,

" এই শরীর নিয়া ভরদুপুরে গোসল সারবা তুমি! শেষে তোমার থে আমার নাতিনাতনির ঠাণ্ডা লাগবো। নিউমোনিয়া হইয়া যাইবো। "

স্তব্ধ হয়ে গেল আফসানা! কেঁপে উঠলো বুকের ভেতরটা। অনাগত সন্তান সম্পর্কে এমন মন্তব্য তার মাতৃ হৃদয় সহ্য করতে পারলো না। চোখজোড়া কেমন ঝাপসা লাগছে। শাহেদ বিরক্তি মাখা কণ্ঠে মা'কে ডেকে উঠলো,

" আহ্ মা। এসব কি বলছো তুমি? ওর শরীরটা ভালো নেই। অসুস্থ। জানোই তো। কাজকর্মে দেরী হয়ে গেছে একটু। একদিন দেরি হলে ইনশাআল্লাহ্ কিছু হবে না। "

স্ত্রীকে এখান থেকে সরানোর চেষ্টা করলো সে,

" এখনো দাঁড়িয়ে আছো তুমি? যাও আফসানা। "

চোখের ইশারায় এখান থেকে চলে যেতে বললো শাহেদ। স্ত্রীর মনোভাব ঠিক বুঝতে পারছে সে। যেকোনো মুহূর্তে চক্ষু গড়িয়ে অশ্রু নামবে যে। তবে মা থামলেন না।

" বুঝলা বউ। আমাগো সময় না ছিল এত আরাম, না ছিল অসুখবিসুখ। এত অসুখবিসুখ নিয়া পইড়া থাকলে সংসার চলতো না আর। "

বয়স্ক নারীটি খুব সাদামাটা স্বরেই কথাটা বললেন। তবুও এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল সুক্ষ্ম ধার। এ কথার পৃষ্ঠে বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা আফসানা আরো ভেঙে পড়লো। এক মুহুর্ত দেরী না করে যথাসম্ভব দ্রুত পায়ে ঘরে চলে গেল। চোখে জল থৈ থৈ। মা এ দৃশ্য দেখে মুখ বাঁকালেন। এত ঢঙ আবার ওনার অঙ্গে সয় না। সংসার ধর্ম ওনারাও করেছেন। এমন করলে কবেই লা'থি গুঁতো খেয়ে বাপের বাড়ি ভীড়তে হতো! হুহ্!

•

রাতের বেলা। বেলকনিতে মৃদু হলদে আলোর উপস্থিতি। রেলিংয়ে কনুই ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষটি। আজ আঙ্গুলের ফাঁকে জ্ব'লন্ত সিগারেট নেই। নেই মোবাইল ফোনটাও। নীরবে একাকী দাঁড়িয়ে সে। অদূরে ভেজা রাস্তায় স্ট্রিট লাইটের আলো পড়ে চিকচিক করছে। কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ভেসে আসছে ক্ষণে ক্ষণে। বাতাসে বৃষ্টি পরবর্তী মৃদু শীতলতা। লাজুক এসে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়ায়। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে দু'জনে। কারো মুখে কথা নেই। তাকিয়ে থাকে বৃষ্টিভেজা এই রাতের শহরে। কিছুটা সময় কেটে যায়। আস্তে করে লাজুক জিজ্ঞেস করে,

" সেদিন কি হয়েছিল? "

কণ্ঠে কৌতূহল। একটু থেমে,

" অমন কেন করছিলেন? "

" কেমন? "

লাজুকের প্রশ্ন পরবর্তী কিছু সময় নীরবতা। সে নীরবতা কাটিয়ে এই একটাই অবুঝ পাল্টা প্রশ্ন করলো তানসীভ।

" কেমন সেটা আপনি ভালো জানেন। আমি তো এসব অতশত বুঝি না। "

" এ জগৎটা বুঝতে এসো না মেয়ে। ঝ'লসে যাবে। "

গম্ভীর স্বরে ত্যাছড়া কথাবার্তা। লাজুকের দৃষ্টি বদলায় না। সে নরম স্বরে বলে ওঠে,

" এই বিধ্বং'সী জগতে কিভাবে জড়িয়ে পড়লেন আপনি?"

থমকে যায় বাতাস। লাজুক চালিয়ে যায় কথা,

" এই জগৎ ধ্বং'স ছাড়া আর কিছুই দেয় না। সমূলে শেষ করে দেয় একদম। আপনি বুঝতে পারছেন কি? "

মানুষটার চোখজোড়া বন্ধ হয়ে যায়। জবাবের অপেক্ষায় মুখপানে তাকিয়ে রইলো লাজুক। আকুল সে চাহনি। একটুখানি পর চোখ মেলে তাকায় তানসীভ।

" এটাই আমার জীবন। এটাই বাস্তব। "

কণ্ঠে ক্লান্তির ছাপ। প্রকৃত বাস্তবতা বুঝতে অনিচ্ছুক সে। লাজুক বোঝানোর চেষ্টা করে,

" এটাকে জীবন বলে না। আপনি শুনছেন? এসব করে করে আপনি শেষ হয়ে যাবেন একদিন। "

তানসীভ ওর দিকে ঘুরে তাকায়। সচেতন ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়ায় লাজুক। চোখে চোখ পড়ে। মানুষটার চোখ দু'টো আজ রাতে অদ্ভুত শান্ত। সে শান্ত রূপটার আড়ালে লুকায়িত ঘোর অন্ধকার।

" এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না। ঘুমাতে যাও। "

টপিক স্পষ্ট এড়িয়ে যেতে চাইছে সে। কিন্তু লাজুক এড়িয়ে যেতে নারাজ। আশাবাদী স্বরে জানায়,

" আপনি বদলাতে পারেন। "

খুব নিচু গলায় বলে ওঠে,

" এখনো সময় আছে। খুব দেরি হয়ে যায়নি।‌ হ্যাঁ। "

হালকা মাথা নাড়লো মেয়েটি। বোঝানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলো। তানসীভ হালকা হেসে ওঠে। নিঃশব্দে। অদ্ভুতুড়ে, নিষ্প্রাণ সে-ই হাসি। চক্ষু জুড়ানো হাসি নয়। এ হাসিতে লাজুকের বুকের ভেতরটা কেমন কেঁপে ওঠে। পলক ঝাপটায় চোখের পাতা। ঠোঁটজোড়া কাঁপা স্বরে কিছু বলতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। হাসিটা হঠাৎই ঠোঁটের কোণ হতে হারিয়ে যায়। আবার বাইরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তানসীভ। মিথ্যা আশায় সে বাঁচতে শেখেনি। বিশ্বাস, অবিশ্বাসের ফাঁকফোকরটুকু বহু আগেই চিনতে শিখেছে। সে যেই জগতে হারিয়ে গিয়েছে সেখান থেকে ফেরা অসম্ভব। বহু আগেই, ঠিক কবে জানা নেই তার। পরিবেশ-পরিস্থিতি, সময় তাকে বিশ্বাস করিয়েছে। বিশ্বাস করিয়েছে যে, তার জন্য কখনোই কোনো ভালো সমাপ্তি অপেক্ষায় নেই। কখনোই না। পুনরায় নীরবতা নেমে আসে এই বেলকনিতে। দূর হতে ভেসে আসে নিশাচর পাখির ডাক। এবেলার মতো হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় লাজুক। একসাথে বেশি চাপ দিয়ে লাভ নেই। বরং এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। যা করতে হবে বুঝেশুনে করতে হবে। ধীরে ধীরে।

" থ্যাংক ইয়্যু। "

আকস্মিক ধন্যবাদ জানানোয় ঘোর থেকে বেরিয়ে আসে লাজুক। অবিশ্বাস্য চোখে স্বামীর দিকে তাকায়!

" হা? "

তানসীভ এবার নীরব। লাজুক নিশ্চিত হতে চায়,

" আপনি কি মাত্র আমাকে থ্যাংকস জানালেন? নাকি আমি ভুল শুনলাম? "

" এত কথা বলো, জানা ছিল না। "

উদাসী হয়ে বলে তানসীভ। লাজুক শব্দহীন হেসে ওঠে। পরক্ষণেই নিচু গলায় বলে,

" একে অপরকে আমরা কতটুকুই বা চিনি? জানি? চেনা জেনার জন্য গোটা জীবনটা তো পরেই রয়েছে। "

তানসীভ কিছু বলে না। চুপ। লাজুক পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। স্বামীর অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করে বেলকনিতে হাত ঠেকিয়ে দাঁড়ায়।

" বললেন না তো। "

" কি? "

" আপনি কি মাত্র আমাকে ধন্যবাদ জানালেন? "

" এক কথা দুইবার বলতে ইচ্ছুক নই। "

দুষ্টু হেসে ওঠে লাজুক,

" আচ্ছা আচ্ছা। আমি তাহলে ভুল শুনিনি। তা দয়া করে একটু বলবেন কি! হঠাৎ এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কেন? "

" তুমি জানো সেটা। "

" জানলে তো আবার জিজ্ঞেস করতাম না। "

তানসীভ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চুলে আঙ্গুল গলিয়ে চুলগুলো পেছনে ঠেলে দেয়। লাজুক বলবে না বলবে না করে বলেই ফেলে শেষমেষ,

" চুলগুলো বড় হয়ে গেছে। কাটা উচিত। "

কথাটা শেষ করে লাজুক নিজেই কেমন থতমত খেয়ে যায়। আজ হঠাৎ করে এত কথা কি করে বলছে সে? এতটুকু সময়ের মধ্যে তারা ঠিক কতগুলো বাক্য বিনিময় করলো! অবিশ্বাস্য! তারা কখনোই একসাথে এত দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেনি। এ-ই প্রথম। আর সে একের পর এক এত কথা বলছে কি করে? অগোচরেই মানুষটার গোপন প্রশ্রয় পেয়ে? সে বাঁধা দিচ্ছে না, তাই! বোধহয় হ্যাঁ। তবে যাই হোক। আজকের এই বৃষ্টিভেজা রাতটা নিঃসন্দেহে মোহনীয়! বড় আপন। ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখার মতো। আজকের এই ভেজা, নিস্তব্ধ রাতেই যে প্রথমবারের মতো তাদের মধ্যকার দূরত্বে একটুখানি হলেও ছেদ পড়েছে। এ যে অভাবনীয়! অপ্রত্যাশিত। আশা জাগানিয়া।

•

ঘরের জানালাটা খোলা। সূর্যের মিঠে আলো, হালকা হাওয়া প্রবেশ করছে ঘরে। পর্দা দুলছে ধীরে ধীরে। বিছানার ময়লা চাদরটা উঠিয়ে ফেললো লাজুক। রেখে দিলো ক্লোথ বিনে। ধোয়া, পরিষ্কার একটা চাদর বের করলো কাবার্ড হতে। যত্ন সহকারে ধীরে সুস্থে বিছিয়ে দিলো বেডে। বালিশের কভার পাল্টে নতুন কভার পড়িয়ে দিলো। বালিশ দু'টো ঠিকঠাক করে যথাস্থানে রাখলো। মোলায়েম এক কাপড় দিয়ে ড্রেসিং টেবিল, বেডের হেডবোর্ডে জমে থাকা ধূলো মুছতে লাগলো। তখুনি ঘরের দরজায় কড়া নাড়লো কেউ। ডেকে উঠলো,

" লাজুক আসবো? "

মাথায় ওড়নাটা ভালোমতো জড়িয়ে নিলো লাজুক। দরজায় ঘুরে দাঁড়ালো। হাসিমুখে সালাম দিলো,

" আসসালামু আ'লাইকুম ভাবী। আসুন না। আপনার আবার অনুমতি নিতে হয় নাকি? "

" ওয়া আ'লাইকুমুস সালাম। আমরা আমরা জানি তো। তবুও অনুমতি নিয়ে ঘরে ঢোকা উচিত। ম্যানার্স এটা। "

ঘরে প্রবেশ করে বললো ইফরাত। লাজুক ইতিবাচক মাথা নাড়লো,

" জ্বি। "

ভাবীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে,

" বসুন ভাবী। "

সোফায় বসে ইফরাত। লাজুক পাশে বসে।

" কি করছিলে একা একা? "

আশেপাশে চোখ বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে ইফরাত। লাজুক মুচকি হেসে বলে,

" এই একটু ঘরদোর গোছাচ্ছিলাম। "

" ভালোই দায়িত্ববান হয়ে উঠেছো। গুড। নিজের সংসার এভাবে নিজেকেই আগলে রাখতে হবে। সামলাতে হবে। "

লাজুক কথাগুলো শোনে। তবে বিপরীতে খাস কিছু বলে না। নীরবতা বেছে নেয়। ইফরাত এবার হালকা হেসে ওঠে।

" ওহ্ হ্যাঁ। যা বলতে এলাম। আজ সন্ধ্যায় রেডি থেকো লাজুক। আমাদের বেড়োতে হবে। "

" কোথাও যাওয়া হবে? "

" হ্যাঁ। একটা ইনভিটিশন আছে। আমাদের একজন ক্লায়েন্টের। খুব ভালো পারিবারিক সম্পর্ক। ওনার মেয়ের অ্যানিভার্সারি পার্টি আজ সন্ধ্যায়। সেখানে যেতে হবে। "

" ওহ্ আচ্ছা। "

" হুম। সুন্দর মতো সাজুগুজু করে রেডি হয়ে থেকো কিন্তু। দেবর মশাই যেন টাস্কি খেয়ে যায়। "

চোখ টিপে দেয় ইফরাত। কণ্ঠে দুষ্টুমির ছাপ। র'ক্তিম কৃষ্ণচূড়ার মতো রঙিন হয়ে ওঠে লাজুক। লাজে দৃষ্টি নত করে নেয়। ইফরাত হেসে ওঠে।

" দেবর মশাইকে আজ বোল্ড আউট করতে হবে কিন্তু। এটাই সুবর্ণ সুযোগ। "

" ভাবী! কি যে বলেন না আপনি! "

" ঠিক ই তো বলছি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করো বোন। অল দ্য বেস্ট। "

থাম্বস আপ দেখায় ইফরাত। সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে,

" আমি তাহলে আসছি এখন। কিছু প্রয়োজন পড়লে জানিয়ো। "

" জ্বি ভাবী। "

লাজুক উঠে দাঁড়ায়। বের হয়ে যায় ইফরাত। পুনরায় নিস্তব্ধ ঘর। কিছু সময় পেরিয়ে যায়। হঠাৎ কিছু মনে পড়ে মেয়েটার। ধীরপায়ে হেঁটে কাবার্ডের কাছে যায়। কাবার্ড খুলতে দৃশ্যমান হয় একপাশে গুছানো তার পোশাক। আঙ্গুল একে একে ছুঁয়ে যায় কাপড়ের ওপর। সাধারণ কটনের বেশ কয়েক সেট সালোয়ার কামিজ। চুড়িদার পোশাক। একটু গর্জিয়াস টাইপের তিন সেট সালোয়ার স্যুট। কয়েকটা শাড়ি। তার পোশাক বলতে আপাতত এতটুকুই রয়েছে এখানে। সবই সাধারণ। পার্টির জন্য বেমানান। হাতটা ধীরে ধীরে থেমে যায়। খুব ছোট, তুচ্ছ এক কষ্ট জমা হয় বুকের ভেতর। বিয়ের পর সবকিছু বদলে গিয়েছে। নতুন বাড়ি, নতুন পরিবেশ, নতুন ঘর, নতুন এক মানুষ। কখনো সাহস করে কিছু চাওয়া হয়ে ওঠেনি। কেনা হয়নি নতুন কিছু। তাই তো আজ পার্টিতে যাওয়ার মতো ভালোমানের পোশাক নেই। উদাসীন ভঙ্গিতে কাবার্ড বন্ধ করে দেয় লাজুক। ধীরপায়ে বিছানায় এসে বসে। স্থির হয়ে থাকে। দৃষ্টি নিবদ্ধ মেঝেতে। বুকের ভেতর কেমন এক শূন্যতা। মন খারাপের মেঘ।

•

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। কিছুক্ষণ পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে। ঘরে আসে লাজুক। ওযু করার সিদ্ধান্ত নেয়। হঠাৎই দৃষ্টি চলে যায় বিছানায়। থমকে যায় সে। আস্তে করে এগিয়ে যায় বেডের কাছে। বিছানার এক প্রান্তে রাখা বড় একটা ম্যাট ব্ল্যাক বক্স। সোনালী রিবন বাঁধা।

" এটা কি? "

অস্ফুট স্বরে আওড়ে ওঠে মেয়েটা। ঘরে আশেপাশে তাকিয়ে নিশ্চিত হয়। কেউ নেই। ঘরের মানুষটাও নেই। সে কি এসেছিল? কই? ও তো টের পায়নি। এতক্ষণ মায়ের রুমে ছিল। তাহলে এটা কি? এই বক্স! কার জন্য? কোনো গিফট নাকি? দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে মেয়েটা। খুলে দেখবে কি? না, এটা অভদ্রতা হবে। দ্বিধা কাজ করছে মনের মধ্যে। হঠাৎ দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্সের ওপর রাখা খুব ছোট চিরকুট। ওর নামটা ছোট ছোট অক্ষরে লেখা। লাজুক অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে! আকস্মিক এই ধাক্কা সামলাতে সময় লাগে কিছুটা। কাঁপা কাঁপা আলতো হাতে বক্সের রিবন খুলতে থাকে সে। বুকের ভেতর অকারণ কাঁপুনি। বক্সটা খুলতেই নিঃশ্বাস আটকে যায় যেন। চোখেমুখে ঘোর বিস্ময়! বক্সের ভেতর খুব সুন্দর এক লং গাউন। গভীর গাঢ় রঙের। মেয়েটা খুবই নাজুক ভঙ্গিতে গাউনটা হাতে নেয়। আলতো আঙ্গুল বুলিয়ে দেয় নকশার ওপরে। একটু ভিন্নধর্মী গর্জিয়াস নকশা। আনাড়ি-অনভ্যস্ত কোনো মানবের পছন্দ। তবুও খুব বিশেষ। পোশাকটা বেশ রাজকীয়। শালীন এবং মার্জিত। লাজুক উপলব্ধি করতে পারে সবটুকু। নরম আঙুলগুলো বুলিয়ে দেয় কাপড়ের ওপর। এবার লক্ষ্য করে বক্সের ভেতর আরো কিছু। হাতে নিয়ে দেখতে পায় ম্যাচিং একটা হিজাব। অতি সূক্ষ্ম নকশার কাজ। অনেকটা সময় লাজুক নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সারাদিনের সমস্ত আক্ষেপ, মন খারাপের মেঘ যেন এক লহমায় কেটে যায়। এ কোনো সাধারণ পোশাক নয়। এটা নিবিড় খেয়াল। নীরব এক যত্ন। স্বামীর তরফ থেকে পাওয়া প্রথম উপহার। চোখজোড়া হঠাৎ জ্বালা করে ওঠে। পানিতে ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি। গাউন, হিজাব অতি মূল্যবান কোনো সম্পদের ন্যায় বুকে জড়িয়ে ধরে সে। দু ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে গাল বেয়ে। এই ছোটোখাটো ভীষণ অল্প যত্ন-ও যে কখনো কখনো দুর্বল করে তোলে মানুষকে। আবেগাপ্লুত করে দেয়।

•

জানালার বাইরে আকাশে আঁধার নেমে এসেছে। ঘরের ভেতর পরিবেশটা নীরব। শান্ত। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লাজুক। লং গাউনটা দেহে চমৎকার রূপে ফুটে উঠেছে। গাঢ় রঙে বৃদ্ধি পেয়েছে তার ফর্সা ত্বকের উজ্জ্বলতা। মেয়েটির চুল খুলে রাখা। ঘন চুলগুলো পিঠে ছড়িয়ে রয়েছে ঢেউয়ের মতো। এখনো সাজগোজ সম্পন্ন হয়নি তার। চোখে শুধুমাত্র কাজলের হালকা ছোঁয়া। এই পোশাক, এই রূপ। একদম ভিন্ন। নতুন। নিজেকে বারবার আয়নায় দেখে চলেছে লাজুক। নিজেকে নিজেই যেন চিনতে চাইছে। এই রূপের সঙ্গে পরিচিত নয় সে। বিয়ের পর এই সাজে কখনো সাজা হয়নি। কখনো বের হওয়া হয়নি এভাবে। আঙ্গুলের স্পর্শে খুব আলতো করে গাউনের কাপড় ছুঁয়ে যায় সে। অন্তরে এক মোহনীয় অনুভূতি। স্বামীর দেয়া প্রথম উপহার। নিজেকে আজ সাজাবে। একটু ভিন্নতর রঙে রাঙিয়ে তুলবে ওই মানুষটির জন্য। লাজুক নিজ ভাবনায় ডুবে ছিল। তখনই ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো তানসীভ। বাইরের ধূলোবালি, ক্লান্তি দূর করতে গোসল সেরে নিয়েছে। উন্মুক্ত ত্বকে জ্বলজ্বল করছে পানি। অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে ড্রেসিং টেবিলের দিকে অগ্রসর হলো সে। সামনে দৃষ্টি নিবদ্ধ হতেই থমকে গেল হাত। নজর কাড়লো স্ত্রীর অবয়ব। এক মুহুর্ত, দুই মুহুর্ত। ধীরে ধীরে বদলে গেল চোখের ভাষা। বিস্মিত চোখ জোড়ায় জায়গা করে নিলো প্রগাঢ়, নিঃশব্দ মুগ্ধতা! ডান চোখে কাজলের শেষ রেখাটা টাচ আপ দিচ্ছিল লাজুক। তখনই আয়নার ভেতর লক্ষ্য করলো মানুষটির উপস্থিতি। ধক করে উঠলো বুক। অকারণে নিশ্বাস আটকে এলো। হাত ফসকে পড়ে গেল কাজলের পেন্সিলটা। তিরতির করে কাঁপে কাজল রাঙা চোখের পাতা। তোয়ালেটা অনাদরে ছুঁড়ে ফেলে বিছানায়। একটু একটু করে এগিয়ে আসে তানসীভ। নজর একটুও সরে না। স্থির অর্ধাঙ্গিনীর অবয়বে। ঘরজুড়ে তখন ভারী নীরবতা। একটুখানি ভিন্ন আবেশের হাতছানি।

লাজুকের অন্তঃস্থল কেঁপে চলেছে। নিজ অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন নিজেই যেন অস্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে। দৃষ্টি লুকোচুরি করে বেড়ায়। কি থেকে কি করবে ভেবে দিশেহারা। তানসীভ এসে দাঁড়ায় কাছে। খুব কাছে। মানুষটির উষ্ণতা খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারে মেয়েটি। র'ক্তিম রঙ ধারণ করে দু'গাল। গরম হয়ে ওঠে কান। চুপিসারে একটুখানি মাথা তুলে তাকায় সে। আয়নায় চোখে চোখ মিললো দু'জনার। চাহনির সে-ই প্রখরতা দুর্বল করে দেয় মেয়েটিকে। নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা মুশকিল হয়ে ওঠে। যেন হাঁটু ভেঙে আসছে। তানসীভ সাবধানী ভঙ্গিমায় দু হাত তোলে। লাজুকের দৃষ্টি নত হয়ে আসে এ দৃশ্যে। দু কাঁধের ওপর স্থির হয় পুরুষালি, রূক্ষ হাত জোড়া। ভারী, উষ্ণ সে স্পর্শে শিহরণে কাঁপে মেয়েটার অন্তঃস্থল। শ্বাসরুদ্ধকর সে অনুভূতি! তানসীভ শাহ্ আরো সন্নিকটে আসে। দু কাঁধে শক্ত থাবার ন্যায় বসে রয়েছে হাতের তালু। মাথাটা একটুখানি নিচু করে। মুখ ডুবিয়ে দেয় সঙ্গিনীর খোলা চুলে। গভীর এক শ্বাসে টেনে নেয় মেয়েলি সুবাস। একদম দুর্বল হয়ে পড়ে লাজুক। বুঁজে যায় চোখের পাতা। তানসীভ সযতনে আগলে নেয় ওকে। চোখ বন্ধ করে মুখ ডুবিয়ে রাখে ঢেউ খেলানো চুলে। সমস্ত ক্লান্তি যেন মুহুর্তের মধ্যেই হারিয়ে যায়। শান্তির খোঁজে আনমনে চুলের ভাঁজে নাকমুখ আরো গভীর ভাবে গুঁজে দেয়। আস্তে ধীরে ডান হাতটা কাঁধ পেরিয়ে বাহু বেয়ে নামতে থাকে। প্রতিটি স্পর্শে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে মন। রূক্ষ, কঠোর হাতটা এসে থামে কোমর বরাবর। কিছু মুহূর্ত স্থির হয়ে থাকে। নীরবে অপেক্ষায় থাকে সঙ্গিনীর অনুমতির। কিংবা বাঁধা প্রদানের। বাহুবন্ধনে বন্দি মেয়েটা তখন শিহরণী আবেশে হারিয়ে গিয়েছে। দূরত্ব সৃষ্টি করার কোনো মনোভাব তার মধ্যে লক্ষ্যণীয় নয়। ফলস্বরূপ সামান্য একটুখানি প্রসারিত হয় মানুষটার ঠোঁট। দুঃসাহসী কাজটুকু এবার সেরে ফেলে। পেলব হাতের ফাঁক গলিয়ে কোমর স্পর্শ করে সে। একটু একটু করে হাতটা ঠাঁই নেয় মেদহীন পেটে। বলিষ্ঠ আঙ্গুল চেপে বসে পেটের ওপর। নিজের দিকে আরো নিকটে টেনে নেয় পালকের ন্যায় ভরশূন্য শরীরটা। লাজুকের পিঠ ঠেকে যায় শক্তপোক্ত উদোম বুকে। উষ্ণ, দৃঢ়, নিরাপদ সে বন্ধন। কণ্ঠনালী কেঁপে ওঠে। কাঁপে চোখের পাতা। অনুভব করতে পারে মানুষটির দিশেহারা হৃদস্পন্দন। ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নীরব এক ঘনিষ্ঠতায় আচ্ছন্ন দু'টো প্রাণ। তানসীভের সিগারেটে কালচে ঠোঁট আলতো করে ছুঁয়ে যায় সঙ্গিনীকে। কানের পেছনে নরম ত্বকে। খুবই হালকা সে স্পর্শ। মুহুর্তেই হাওয়ায় মিলে গেল। তবে রেশ রয়ে গেল মেয়েটির মনে। দু ঠোঁট মৃদু ফাঁক হয়ে গেল। উষ্ণ নিশ্বাস ছড়িয়ে পড়লো ঘরে। তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়লো দেহমনে। বড় ভ'য়ঙ্কর এই মানুষটা। ভ'য়ঙ্কর তার পরশ। মেয়েটার গাল দুটো লাল রঙে ছেয়ে গেল। নিজেকে কোথাও লুকানোর গাঢ় প্রয়াস। ঠিক তখনই....

চলবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন