#হৃদতরঙ্গের_নিঃশব্দী_সুর
#তাহিরাহ্_ইরাজ
[১৪] ( প্রাপ্তমনস্কদের জন্য )
" থ্যাংক ইয়্যু। "
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিপরীতে কিছু বলে না মানুষটি। ডান কাঁধ বরাবর আনে মুখখানি। ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে ক্ষীণ হাসির ছোঁয়া।
.
পেলব হাতের ফাঁক গলিয়ে কোমর স্পর্শ করে সে। একটু একটু করে হাতটা ঠাঁই নেয় মেদহীন পেটে। বলিষ্ঠ আঙ্গুল চেপে বসে পেটের ওপর। নিজের দিকে আরো নিকটে টেনে নেয় পালকের ন্যায় ভরশূন্য শরীরটা। লাজুকের পিঠ ঠেকে যায় শক্তপোক্ত এই উদোম বুকে। উষ্ণ, দৃঢ়, নিরাপদ সে বন্ধন। কণ্ঠনালী কেঁপে ওঠে। কাঁপে চোখের পাতা। রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে শিহরণ। অনুভব করতে পারে মানুষটির দিশেহারা হৃদস্পন্দন। ঘরের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নীরব এক ঘনিষ্ঠতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে দু'টো প্রাণ। তানসীভের সিগারেটে হালকা কালচে ঠোঁট, আলতো করে ছুঁয়ে যায় সঙ্গিনীকে। কানের পেছনে নরম ত্বকে। খুবই হালকা সে স্পর্শ। মুহুর্তেই হাওয়ায় মিলে গেল। তবে রেশ রয়ে গেল মেয়েটির মনে। দু ঠোঁট মৃদু ফাঁক হয়ে গেল। উষ্ণ নিশ্বাস ছড়িয়ে পড়লো ঘরে। তরঙ্গ প্রবাহিত হলো দেহমনে। বড় ভ'য়ঙ্কর এই মানুষটা। ভ'য়ঙ্কর তার পরশ। মেয়েটার গাল দুটো লাল রঙে ছেয়ে গেল। নিজেকে কোথাও লুকানোর গাঢ় প্রয়াস। ঠিক তখনই রিংটোন বেজে ওঠে। তীক্ষ্ণ, বিরক্তিকর সে শব্দে আবেশী মুহুর্ত ভেঙে চুরমার হয়। বিরক্তির ছাপ ফুটে ওঠে মির্জা সাহেবের অভিব্যক্তিতে। টানটান হয়ে ওঠে কপালের শিরা। মুহুর্তের আচ্ছন্ন ভাবটা কেটে যায়। বিরক্তি সূচক শব্দ ভেসে আসে ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে। সঙ্গিনীর সান্নিধ্য হতে সরে যায় মানুষটা। উষ্ণতাহীন লাগে ভেতরটা। এগিয়ে যায় বেডের কাছে। কল রিসিভ করতে। এতক্ষণে আটকে রাখা নিশ্বাসটুকু মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসে। পথহারা নাবিক খুঁজে পায় সাহারা। চোখ মেলে তাকায় লাজুক। হৃদস্পন্দন খেই হারা। ঘন ঘন শ্বাস পড়তে থাকে মেয়েটির। গালে আলতো করে হাত ছুঁয়ে টের পায় উত্তাপ। লাজে আর'ক্ত মেয়েটা আয়নায় তাকানোর সাহস সঞ্চয় করতে ব্যর্থ হলো। দ্রুততার সহিত দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিলো পাশে। নিজেকে একাকী সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো সে।
-
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে লাজুক। হালকা সাজগোজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। হিজাবের শেষ পিন সাবধানী ভঙ্গিমায় আটকে নিচ্ছে সে। তানসীভ ঠিক ওর পেছনেই দাঁড়িয়ে। লম্বা চওড়া মানুষটা অবলীলায় ওকে অতিক্রম করে আয়না ব্যবহার করে চলেছে। শার্টের কলার ঠিক করে নিচ্ছে সে। কনুইয়ে গুটিয়ে রাখছে স্লিভ। এমন পৌরুষদীপ্ত অঙ্গভঙ্গি তাকে নিঃসন্দেহে আরো সুদর্শন করে তুলছে। চোরা দৃষ্টিতে মাঝেমধ্যে স্বামীর দিকে তাকাচ্ছে লাজুক। আবার লজ্জায় দৃষ্টি নত করে নিচ্ছে। তানসীভ সবটাই টের পাচ্ছে। তবুও বাঁধা দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করলো না। চুপচাপ উপভোগ করতে লাগলো। রেডি হওয়া শেষে হালকা উসখুস করতে লাগলো লাজুক। ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে সরে গেল। স্বল্প দূরত্বে দাঁড়ালো। কিভাবে বলবে, কিভাবে শুরু করবে মনে দ্বিধা করছে। এত দ্বিধা কাটাতে কাটাতে রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যাবে যে। নিজের ওপর নিজেই নাখুশ হলো মেয়েটা। পিটপিট করতে লাগলো চোখ। হঠাৎই সন্নিকটে মানুষটির উপস্থিতি। আনমনে আঁতকে উঠলো মেয়েটা। কিছুক্ষণ পূর্বের আবেশি স্মৃতি হানা দিলো মস্তিষ্কে। তা লক্ষ্য করে ঠোঁট বাঁকালো তানসীভ। ইচ্ছাকৃতভাবে ওর খুবই পাশ কাটিয়ে বেড সাইড টেবিলের ওপর থেকে মোবাইলটা নিলো। একপ্রকার দম আটকে স্থির রইলো লাজুক। তানসীভ সরে যেতেই বড় করে শ্বাস ছাড়লো সে। পকেটে মোবাইল ঢুকিয়ে নিলো তানসীভ শাহ্। ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। তখনই পেছন হতে ভেসে এলো মৃদু, কৃতজ্ঞ কণ্ঠস্বর,
" থ্যাংক ইয়্যু। "
দাঁড়িয়ে পড়ে তানসীভ। লাজুকের দিকে পিঠ ঘুরিয়ে রাখা। চওড়া পিঠের ওপর লুকোচুরি দৃষ্টি ফেলে লাজুক মিনমিনে গলায় বললো,
" ড্রেসটা খুব সুন্দর! "
এই কৃতজ্ঞতা শুধুমাত্র ড্রেসের জন্য নয়। আজকের এই অপ্রত্যাশিত নিবিড় খেয়ালটুকুর জন্য। তার প্রয়োজনের বিষয়ে ভাবনার জন্য। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিপরীতে কিছু বলে না তানসীভ। ডান কাঁধ বরাবর আনে মুখখানি। ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে ক্ষীণ হাসির ছোঁয়া। লাজুক তা অনুভব করতে পারলো কি? হয়তো হ্যাঁ কিংবা না। এভাবেই হয়তোবা ধীরে ধীরে সম্পর্কে বিদ্যমান বরফ গলতে আরম্ভ হলো। হলো এক নতুন সূচনা।
•
আঁধারে নিমজ্জিত বসূধা। রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে আশপাশের বিল্ডিং হতে আগত কৃত্রিম আলো। জ্বলন্ত চুলার তাপে উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে। কড়াইয়ে তেল ফুটছে আস্তে আস্তে। ডুবো তেলে ছেড়ে দেয়া বড়াগুলো ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে। আজ শরীরটা বেশ ঝরঝরে লাগছে আফসানার। অনেকদিন পর শরীরটা হালকা লাগছে। পুরনো চনমনে ভাবটা ফিরে এসেছে যেন। ক্লান্তি, দুর্বলতা অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। ক্ষুদ্র এই স্বস্তির সহিত মাগরিবের নামাজ আদায় করে রান্নাঘরে চলে এলো সে। যত্ন, ভালোবাসা সহকারে তালের বড়া ভাজতে লাগলো। গ্রাম থেকে তাল এনেছেন শাশুড়ি। সে-ই তাল দিয়ে বড়া ভাজছে। গভীর মনোযোগ সহকারে শান্ত ভঙ্গিতে আফসানা একাধিক বড়া ডুবিয়ে দিলো তেলে। তেলের ভেতর বড়ার আকার কেমন বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। পারফেক্ট নয়। তবে চলনসই। সমস্যা কোথায়? সে-ই তো পেটে গিয়েই সোজা হজম। খেতে লাগবে না পাঁচ মিনিট-ও। অথচ আয়োজন করতেই বেলা শেষ। মা প্রায়ই কথাটা বলে। মায়ের কথা, বাবার বাড়ির কথা স্মরণ করে ম্লান হাসলো সে। কতদিন হয় সবার সঙ্গে সন্ধ্যার আড্ডা জমে ওঠে না। আজ তারা দুইবোন দুই ভিন্ন বাড়িতে সংসার পেতেছে। একা হয়ে পড়েছে মা-বাবা। কোনো ভাই নেই তাদের। এক আল্লাহ্ ই সহায় বয়স্ক মা-বাবার। নিশ্চয়ই রব লালনপালন করে থাকেন আমাদের সবাইকে। নিজস্ব ভাবনায় ডুবে ছিল আফসানা। সেসময় রান্নাঘরের দরজায় উপস্থিত হলেন শাশুড়ি। আফসানা ওনার উপস্থিতি টের পায়নি। নিজ কর্মে ব্যস্ত সে। বয়স্ক নারীটি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। চোখেমুখে স্বভাবগত খুঁতখুঁতুনি ভাব। ধীরপায়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন উনি। পুত্রবধূর পাশে দাঁড়ালেন। হঠাৎ ওনার উপস্থিতিতে হকচকিয়ে গেল আফসানা। মাথার ওড়নাটা ভালোমতো জড়িয়ে নিলো। হাসিমুখে বললো,
" মা আপনি এখানে? কিছু লাগবে? "
কড়াইয়ে ডুবো তেলে ভাজতে থাকা বড়াগুলোর দিকে তাকিয়ে মা। ঠাণ্ডা স্বরে বললেন,
" এইভাবে কেউ বড়া ভাজে? "
আফসানা চামচ দিয়ে বড়া নাড়ছিল। একথা শুনে থেমে গেল হাত।
" এত বছর ধইরা সংসার করতাছো। এখনো ঠিকমতো বড়া ভাজতে শিখলা না? আমার খোকারে এইসব খাওয়াও? "
কথাগুলো বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলা। তবে প্রতিটি শব্দের মধ্যে বিদ্যমান খোঁচা। আত্মবিশ্বাস নড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।
" দেখি সরো। "
পাশ থেকে ঝাঁঝরি নিলেন উনি। আফসানা চুপচাপ সরে দাঁড়ায়। আজ কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় না। শাশুড়ি দক্ষ হাতে তালের বড়া ভাজতে লাগলেন। দেখাতে লাগলেন কিভাবে ভাজতে হয়। আগুনের আঁচ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আফসানা মনোযোগ সহকারে দেখতে থাকে। শিখতে থাকে। জানা ও শেখার কোনো বয়স নেই। ওনার শেখানোর ভঙ্গিমা হয়তো সঠিক নয়। তবে শিখাচ্ছেন তো। আপাতত এতটুকু শেখার জন্য সে নাহয় নীরবতাই বেছে নিলো। রোজ রোজ তো আর তর্কবিতর্ক খাটে না। সে পারিবারিক শিক্ষা পায়নি ও। মেয়েটা যে বড় নাজুক। কটূক্তি সইতে পারে না সবসময়। ভেতরে ভেতরে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। গোপন করে নেয় যন্ত্রনার অনুভূতি। শ্বশুরবাড়িতে যথার্থ কদর পেতেও যে ভাগ্য লাগে। ক'জন মেয়ে সে ভাগ্য নিয়ে জন্মায়!
•
কৃত্রিম রঙ বেরঙের আলোয় সেজেছে দোতলা বাড়িটি। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সারি সারি অভিজাত গাড়ি। কালো জিপ গাড়িটা এসে দাঁড়ালো পার্কিং লটে। ইঞ্জিন বন্ধ করে চাবি হাতে নিলো। জিপ হতে নেমে এলো মির্জা তানসীভ শাহ্। কালো শার্ট, প্যান্টে আবৃত মানুষটা আজ অসম্ভব গম্ভীর। অবর্ণনীয় সুদর্শন! জিপের অপর পাশ হতে নেমে এলো লাজুক। গাঢ় রঙের গাউনটায় রাজকীয়তা এবং শালীনতার ছাপ। শান্ত, মার্জিত অপরূপা লাগছে তাকে! লাজুক কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থাকে বাড়িটার দিকে। এমন পরিবেশ, এমন পার্টিতে এই প্রথম আগমন। স্বাভাবিক ভাবেই নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে। তানসীভ পা বাড়ায় সামনে। তা অনুসরণ করে লাজুক হাঁটতে আরম্ভ করে। হাঁটার তালে হঠাৎই ধক করে ওঠে অন্তঃস্থল। পিঠের কাছে খুবই সাবধানে, মোলায়েম সে স্পর্শ। শক্তপোক্ত বড় হাতের তালুটা প্রায় ছুঁইছুঁই ওর পিঠের নিম্নাংশে। সে স্পর্শে লুকিয়ে অধিকারবোধ। নিঃশব্দ ঘোষণা। সে আছে পাশে। অপ্রত্যাশিত এই আচরণে লাজুকের ভেতরে উষ্ণ আবেগ ছড়িয়ে পড়ে। মানুষটার হরেক রকমের রূপ ইতিমধ্যে দেখার সুযোগ মিলেছে। কিছু কিছু রূপ সত্যিই অকল্পনীয়! একদম হৃদয় ছোঁয়া।
দু'জনে একত্রে হাঁটতে থাকে। প্রবেশ করে পার্টি স্পেসে। লাজুক মৃদু বিস্মিত চোখে আশেপাশে তাকায়। ঘরজুড়ে নিচু বিটের পাশ্চাত্য মিউজিক ভেসে বেড়াচ্ছে। কথোপকথনের রকমারী শব্দ। কাঁচের গ্লাসের টুংটাং ধ্বনি। দামী পারফিউমের সুগন্ধ ছড়িয়ে রয়েছে বাতাসে। আভিজাত্য দৃশ্যমান উপস্থিত মানুষগুলোর পোশাক এবং অঙ্গভঙ্গিতে। হঠাৎই কিছু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই যুগল। কেউ কেউ ফিসফিসিয়ে ওঠে, প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মির্জা দম্পতিকে একত্রে দেখে। কৌতূহলী কয়েক জোড়া চোখ ওদের ওপর ঘুরে বেড়ায়। তানসীভ তা টের পেয়েও অদেখা করলো। লাজুকের হাতটা আলতো করে স্পর্শ করলো। এগিয়ে গেল আজকের আয়োজক দম্পতির দিকে।
খানিকের মধ্যে ইফরাত, রায়হান দম্পতি এলো সেখানে। লাজুক এতক্ষণে স্বস্তি খুঁজে পেল। বড়লোকদের এমন বড়লোকি কারবারের ভীড়ে নিজেকে বেশ একা বোধ হচ্ছিল। সঙ্গী মানুষটা সঙ্গে থেকেও যেন গাম্ভীর্যের সহিত অনুপস্থিত। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ভেসে বেড়াচ্ছিল লাজুকের মন গহীনে। কি যে এক নিস্তব্ধ একাকীত্ব! ইফরাতের সঙ্গ পেয়ে সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। দুই জা আস্তে করে কেটে পড়লো ভীড় হতে। স্বল্প দূরত্বে তুলনামূলক ফাঁকা স্থানে দাঁড়ালো। একত্রে শব্দহীন হেসে উঠলো তারা। ইফরাত আরো নার্ভাস করে দিলো ওকে,
" সবে তো পার্টি শুরু। বাকি রাত তো পড়েই রয়েছে। "
লাজুক আশেপাশে চোখ বুলিয়ে নিচু গলায় বললো,
" এদের কালচার পুরো ভিন্ন ভাবী। আমাদের পাড়ার অনুষ্ঠানে এরচেয়ে বেশি হইচই হয়। পুরো এলাকা একসাথে উল্লাসে মেতে ওঠে। আর এখানে... "
" এখানে কি? "
দুষ্টু হেসে ওঠে ইফরাত। লাজুক মুখ চেপে বিরক্তি গোপন করে। বলে,
" এখানে সব ম্যারম্যারে। এতক্ষণ ব্যস ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শুনছিলাম। আপনি সময়মতো এসে আমাকে বাঁচালেন। "
লাজুকের কণ্ঠে ঝড়ে পড়ে স্বস্তি। ইফরাত মুচকি হাসে। স্বল্প দূরত্বে দাঁড়িয়ে তানসীভ শাহ্। পরিচিত একজন কথা বলছে ওর সঙ্গে। মানুষটি গম্ভীর বদনে দাঁড়িয়ে। চুপচাপ, শান্ত ভঙ্গিতে শুনছে। মাঝেমধ্যে দৃষ্টি নিবদ্ধ হচ্ছে অর্ধাঙ্গিনীর অবয়বে। নিশ্চিত হচ্ছে সে ঠিক আছে তো! লাজুক এবং ইফরাত নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে কিছু অবাঞ্ছিত ফিসফিসানি কানে পৌঁছায় লাজুকের। ওদের বিয়ের গসিপে মেতেছে কিছু উচ্চবিত্ত শ্রেণীর নারী। মিথ্যা গুজবে গা ভাসায় তারা। নানাবিধ মন্তব্য করতে থাকে। ইফরাত ওকে আশ্বাস দেয়,
" ওসবে কান দিয়ো না। পাছে লোকে কিছু বলে। "
" হুম। "
ইতিবাচক মাথা নাড়ে লাজুক। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে এসব টক্সিসিটি মন থেকে ঝেড়ে ফেলে। নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে থাকে। অতিবাহিত হয় বেশকিছু সময়। একসময় রায়হান ডেকে ওঠে স্ত্রীকে।
" তুমি থাকো এখানে। আমি আসছি। "
" জ্বি ভাবী। "
ইফরাত ওকে একাকী রেখে স্বামীর ডাকে সাড়া দিতে চলে যায়। তানসীভ শাহ্ এর মোবাইল বেজে ওঠে সেসময়। ভীড় এড়িয়ে এক ফাঁকা জায়গায় অগ্রসর হয় সে। লক্ষ্য করেনি যে লাজুক এখন একা। মোক্ষম এই সুযোগটা কাজে লাগায় এতক্ষণ অপেক্ষমাণ এক ব্যক্তি। সে এগিয়ে আসে।
-
' হ্যালো বিউটিফুল লেডি! '
হঠাৎ অপরিচিত এক কণ্ঠে ধ্যান ভঙ্গ হয় লাজুকের। ডানপাশে ঘুরে তাকায়। মাঝবয়সী এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে। পড়নে দামী স্যুট বুট। চাহনিতে অস্বস্তি। এক হাতে ড্রিংকের কাঁচের গ্লাস। কাছে এগিয়ে আসে লোকটা।
" মিসেস মির্জা তানসীভ শাহ্। রাইট? "
লাজুক সচেতন হয়ে যায়। লোকটার কণ্ঠে কেমন লা'লসা ঝড়ে পড়ছে। কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিক।
" দেখেছো তোমাকে একঝলক দেখেই চিনে ফেলেছি। বাট আই মাস্ট স্যে। মোবাইলের স্ক্রিনে তোমাকে আরো কচি লেগেছিল। আরো সেডাকটিভ! "
" মাফ করবেন। আপনাকে ঠিক চিনতে পারলাম না। আমি একটু আসছি। ডাকছে। "
চপল পায়ে বাহানা দেখিয়ে সেখান থেকে সরে যেতে উদ্যত হলো লাজুক। লোকটা তৎক্ষণাৎ বাঁধা প্রদান করলো,
" আহা! এত তাড়া কিসের? চলো একটু আলাপ সালাপ করি। চিনি না। চিনে নেই তাহলে। "
লাজুক অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে আশপাশে তাকাতে থাকে। চেনা মুখ জোড়া কাছেপিঠে দেখা মিলছে না। লোকটা হঠাৎই মুখ এগিয়ে আনে। ফিসফিসিয়ে বলে,
" এমন ভাবসাব করছো কেন সোনা? ভাবখানা এমন যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানো না। অথচ বিয়ের আগেই বড় মাছটা টুপ করে গিলে নিয়েছো। এখন আমাকে দেখে লুকোচুরি করছো? "
লাজুক দ্রুত দুই কদম পিছিয়ে যায়। কাট কাট গলায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়,
" মুখ সামলে কথা বলুন আ ঙ্কে ল। আপনার কথার টোনে একটু নজর দিন। "
ইচ্ছাকৃতভাবে 'আঙ্কেল' বলে সম্বোধন করলো লাজুক। বুঝিয়ে দিলো তাদের মধ্যকার স্পষ্ট ব্যবধান। আর বিলম্ব নয়। লাজুক সেখান থেকে চলে যেতে নেয়। হঠাৎই ওর হাতের কব্জি আটকা পড়ে লোকটির ঘৃণ্য স্পর্শে। নিজের দিকে ওকে টেনে নিতে চায়। ম'দ্যপ কণ্ঠে এলোমেলো বলতে থাকে,
" এমন করছো কেন সোনা? চলো একটু কথা বলি। একে অপরকে চিনি। একটুখানি লেনদেন করি। চলো না দু'জনে... "
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নোংরা, গা ঘিনঘিনে সে স্পর্শ কব্জিতে আর সীমাবদ্ধ থাকলো না। একটু একটু করে ছুঁয়ে গেল ত্বক। বাহুর উদ্দেশ্যে কব্জি ছাড়িয়ে ওপর দিকে কিলবিলিয়ে উঠতে লাগলো। এক মুহুর্তের জন্য বোধশক্তি হারিয়ে ফেললো লাজুক নূরাইন। আতঙ্কিত, স্তব্ধ চিত্তে লোকটার বুক বরাবর সজোরে ধাক্কা দিলো। কয়েক কদম ছিটকে পিছিয়ে যায় লোকটা।
" কি করছেন কি আপনি! "
আ'তঙ্ক মিশ্রিত স্বর ফিসফিসিয়ে ওঠে। চোখে জমে অশ্রু। জীবনে প্রথমবারের মতো এমনতর পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে ওঠে মেয়েটা। মানসিক স্থিতি হারিয়ে ফেলে। লোকটা আজেবাজে, অপমানজনক ভঙ্গিতে আবার এগোতে চায়। ছিটকে দূরে সরে যায় লাজুক। চোখ বি"স্ফোরিত হয় ঘৃণায়। হাত উঠিয়ে অকল্পনীয় প্রতিবাদ করবার পূর্বে... হঠাৎই দা'নবীয় এক লা'থ পড়ে লোকটার কোমর বরাবর। সজোরে মেঝেতে আছড়ে পড়ে মাঝবয়সী লোকটা। দীর্ঘকায় মানুষটা তেড়ে আসে ক্ষি'প্র গতিতে। মেঝেতে পড়ে থাকা লোকটার বুক বরাবর একের পর এক লা'থ।
' কু** বাচ্চা ! '
লোকটার কলার মুষ্টিবদ্ধ করে নেয় তানসীভ শাহ্। উঁচুতে তুলে ধরে। মুহুর্তের মধ্যেই শরীরটা আছড়ে পড়ে পাশ্ববর্তী দেয়ালে। কলার চেপে ধরে চোখমুখ পেঁচিয়ে ঘু'ষির পর ঘু'ষি মা"রতে থাকে। নাকমুখ বিগড়ে যায়। নাক, ঠোঁটের ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে আসে লাল তরল। আশেপাশে উপস্থিত মানুষগুলো শিউরে ওঠে এমন অকল্পনীয় দৃশ্যে। হঠাৎ কি হলো? একটু আগেই তো সব ঠিক ছিল। এরমধ্যে কি এমন হয়ে গেল যার জন্য এমন ভ'য়ঙ্কর তা'ণ্ডব! উপস্থিত মানুষজন ক্লু'হীন দাঁড়িয়ে। তানসীভ একের পর এক আঘাত করেই চলেছে। ইফরাত হন্তদন্ত ভঙ্গিতে ছুটে আসে সেখানে। আঁতকে ওঠে মা'রমুখো হিং'স্র দেবরকে দেখে। পরিস্থিতি বেগতিক টের পেয়ে দ্রুত পার্স হতে মোবাইল বের। কল করে স্বামীকে। তাড়াতাড়ি আসতে বলে এখানে। চোখের সামনে এমন অবস্থা দেখে ইফরাত রীতিমতো দিশেহারা! হঠাৎই চোখ পড়লো দেয়াল ঘেঁষে আতঙ্কিত ভঙ্গিতে জড়োসড়ো হয়ে থাকা লাজুকের দিকে। ইফরাত একবার ওই মা'রকুটে ক্ষি'প্র মানবের দিকে তাকালো। আবার তাকালো ছোট জায়ের দিকে। তৎক্ষণাৎ দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে গেল। পরিস্থিতি উপলব্ধি করে শিউরে উঠলো সে। দ্রুত পায়ে ছুটে গেল মেয়েটার কাছে।
' লা জু ক! '
ফিসফিসিয়ে ডেকে উঠলো ইফরাত। আকস্মিক আপন কোনো মানুষের সঙ্গ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লো লাজুক। কাঁপা কাঁপা শরীরটা মুহূর্তের মধ্যেই জড়িয়ে ধরলো ওকে। আদরের সহিত মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো সে। এটা ওটা বলে শান্ত করতে চাইলো। অঝোরে কাঁদছে মেয়েটা। ভয়, অপমান, লজ্জা অশ্রুর বেশে ঝড়ে চলেছে। অপরদিকে ধ্বং'সলীলা চালিয়ে যাচ্ছে তানসীভ। দ্রুত পায়ে ছুটে এলো রায়হান। বাড়ির বাইরে ছিল সে। স্ত্রীর কল পেয়ে তড়িঘড়ি ভঙ্গিতে ছুটে এসেছে। ভাইকে শক্তপোক্ত হাতে বাঁধা দিতে লাগলো সে,
" তানসীভ! কি করছিস কি? ছাড়। লোকটাকে ছাড়। "
একাধারে গালি বর্ষণ হচ্ছে। মির্জা তানসীভ শাহ্ আজ অদমনীয়। ভেতরকার র'ক্তপিপাসু পশুটা বেরিয়ে এসেছে যেন। নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ। রায়হান জানে না এখানে ঠিক কি হয়েছে। তাই তো ভাইকে থামাতে বলেই ফেলে,
" তুই কিন্তু এবার অতিরিক্ত করছিস। বাবার বয়সী লোকটা করেছে টা কি? "
ভ'য়ানক চাহনিতে ভাইয়ের দিকে তাকায় মানুষটা।
" ছুঁয়েছে। বাবার বয়সী এই জানো**টা আমার বউকে ছুঁয়েছে। "
বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হয় একেকটা শব্দ। রায়হান হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে! লোকটার নাক বরাবর আরো এক ঘু ষি। শক্ত হাতে কলারটা চেপে ধরে তানসীভ শাহ্। পা'শবিক অভিব্যক্তিতে জানান দেয়,
" আমার জীবনসঙ্গিনীকে ছুঁয়েছিস না? তোর জীবনটাই শেষ করে দেবো আমি। "
আরো এক আঘাত। উপস্থিত জনতা আঁতকে ওঠে। বর্বর ঘোষণাটা দ্রুতলয়ে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। রায়হান এবং দু'জন ব্যক্তি মিলে জোরপূর্বক হম্বিতম্বি করে তানসীভকে সরাতে সক্ষম হয়। ক্রু'দ্ধ চোখে তানসীভ তাকায় আধম'রা লোকটার দিকে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। শরীর ঝাড়া দিয়ে তানসীভ নিজেকে মুক্ত করে নেয় পুরুষালি তিন বন্দিদশা থেকে। দৃষ্টি আকর্ষণ করে ক্রন্দনরত স্ত্রী। ইফরাত আলতো হাতে ওর চোখের পানি মুছে দিচ্ছে। মাথায় হাত বুলিয়ে কিছু বোঝাচ্ছে। আস্তে আস্তে রগচটা, পা'ষাণ মানুষটির চোখের তারায় কোমলতা নেমে আসে। হারিয়ে যায় পা'শবিকতা। কিছু সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে পড়ে ধরনী। দৃষ্টি শুধুই স্ত্রী-তে। মাথা ঝাঁকিয়ে নিজেকে সামলানোর বৃথা চেষ্টা করে সে। বড় শ্বাস ফেলে ভেতরটা শুদ্ধিকরণ করে নিতে চায়। অতঃপর বড় বড় কদম ফেলে এগিয়ে যায় সঙ্গিনীর দিকে। আকস্মিক চেপে ধরে হাতটা। বড় কোমল, মোলায়েম সে স্পর্শ। সাবধানী। যেন একটুখানি চাপে ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পড়বে। লাজুক স্তব্ধ চোখে তার হাতের দিকে তাকায়। একটু আগের সে-ই জঘন্য স্পর্শ বরাবর এখন জীবনসঙ্গীর হাত। আঘাতে আঘাতে প্রায় থেঁতলে গিয়েছে আঙ্গুলের গাঁট। তাজা র"ক্তের ছোঁয়া সেখানে। লাজুক উৎকণ্ঠার সহিত শ্বাস ছাড়ে। বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে দীর্ঘ কদম ফেলে হাঁটা আরম্ভ করে তানসীভ। তার সঙ্গে বলশূন্য ভঙ্গিতে তাল মেলাতে থাকে লাজুক। দু'জনে বেরিয়ে গেল এই অ'ভিশপ্ত পার্টি হতে। উপস্থিত জনতা উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে।
•
প্রায় মধ্যরাত। ওয়াশ রুমের দরজাটা আধখোলা। পানির কল চালু। অল্প অল্প করে টুপটাপ পড়ছে পানি। লাজুকের হাতে ফ্লাওয়ার বাথ স্পঞ্জ। সাবান মাখা স্পঞ্জ বারবার ঘষে চলেছে কব্জিতে। হাতের উন্মুক্ত ত্বকে। ঘষতে ঘষতে চামড়া লাল বর্ণ ধারণ করছে। তবুও থেমে নেই হাত। এখনো যেন নোং'রা সে-ই স্পর্শ লেগে রয়েছে দেহে। চোখ গড়িয়ে অশ্রু নামে। স্পঞ্জ ঘষতে থাকে হাত। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো হাত ধুচ্ছে সে। কলের পানিটা দ্রুতগতিতে ছেড়ে দেয়। ধুয়ে যায় সাবান পানি। ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ে পানি নিষ্কাশন গোলাকার গর্ত বেয়ে। ঘষে ঘষে ভালোমতো চামড়া ধুয়ে নেয় লাজুক। চোখেমুখে বারবার পানি ঝাপটা দেয়। কান্না, অপমান, অসহায়ত্বে আর'ক্ত আভা ছড়িয়েছে মুখশ্রীতে। আস্তে করে কলটা বন্ধ করে। ঠোঁট ভেঙে আসে কান্নার তোপ। নিচের ঠোঁট কামড়ে নিজেকে সামলানোর বৃথা চেষ্টা করে সে। অসহায় ভঙ্গিতে ওয়াশরুম হতে বেরিয়ে আসে। শূন্য ঘরটা অবলোকন করে ভেতরকার হাহাকার আরো বৃদ্ধি পায়। ভাবী কিছুক্ষণ আগ অবধি ছিল। এখন আবার সে একা। চরম অসহায় মুহুর্তে সে একা। কেউ নেই তার। এক আল্লাহ্ ই সহায়। ভীষণ আবেগতাড়িত মেয়েটা তোয়ালেতে চোখমুখ মুছে নেয়। ধীরজ পায়ে এগিয়ে যায় বেলকনিতে। সেকেন্ড কয়েক চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকে। আকস্মিক ধপাস করে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ে ফ্লোর বেডে। হু হু করে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।
রক্ষণশীল এক মুসলিম পরিবারে জন্মেছে সে। ছোটবেলা থেকে শাসন, শালীনতা, নম্রতার পাঠ পেয়েছে। নিজেকে যথাসম্ভব আগলে রেখেছে সে। মা-বাবার সম্মান, নিজ সম্মান রক্ষার্থে সচেষ্ট থেকেছে। বোরকা পড়া হয়নি কখনো। তবে শালীন পোশাক, হিজাব মেইনটেইন করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ্ কখনো কোনোরূপ বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাকে। শৈশব, কৈশোরের স্কুল, কলেজ জীবন কেটেছে গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে। মেয়েদের সান্নিধ্যে। ভার্সিটি লেভেলে এসে প্রথমবারের মতো ছেলে সহপাঠী হয়েছে তার। তবে বন্ধু হয়নি কখনো। মহান আল্লাহ্'র অশেষ রহমতে জীবনের এই একুশটা বসন্ত নিজেকে হেফাজত করতে সক্ষম হয়েছে সে। মা-বাবা, বড় আপু আগলে আগলে রেখেছে। আজ বিয়ের পর প্রথমবারের মতো এমন বি'শ্রী, অপমানজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হলো। এক আধবুড়ো লোকের জঘ'ন্য লা'লসায় পড়তে হলো। যদি.. যদি আল্লাহ্ সময়মতো ওই মানুষটিকে না পাঠাতেন তবে কি হতো? লোকটার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নোং'রা স্পর্শ সফল হতো! ওকে.. আরো বাজেভাবে ছুঁয়ে যেতো! একটা মেয়ে হয়ে ও কতটুকু সফল হতো? নিজ সম্ভ্রম হেফাজত করতে পারতো কি? নিজেকে তার অপবিত্র লাগছে। অস্পৃশ্য। ঘৃ'ণ্য। জঘ'ন্য সে-ই স্পর্শ একাধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে মন ও মস্তিষ্কে। ভয়, আতঙ্ক মিলেমিশে বুকের ভেতরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। নোংরা সে-ই স্পর্শের রেশ কাটাতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সে। জীবনের প্রথম কোনো বিরূপ স্মৃতি। মস্তিষ্কে বাজেভাবে প্রভাব সৃষ্টি করেছে। নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছে না লাজুক। দমবন্ধকর কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে কান্নায় মিশে রয়েছে ভয়, আতঙ্ক আর অপমান। সে মুহূর্তে হঠাৎ কানে ভেসে এলো পুরুষালি গাঢ় কণ্ঠস্বর,
' শশ্! '
চলবে।