ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আমার প্রেম

৪র্থ পর্ব

লেখক: Sumaiya Akhter

**উপন্যাস:** তোর আমার প্রেম

**লেখিকা:** সুমাইয়া আক্তার

**পর্ব – ৪**

সকালের মায়াবী রোদে কলেজের করিডোরটা বেশ সরগরম। তাসনিম আজ একটু বেশিই সময় নিয়ে সাজগোজ করে এসেছে। হালকা গোলাপি রঙের কামিজ, খোলা চুল আর চোখে হালকা কাজল।

সে হাঁটার মাঝে বারবার আয়রিনের হাত চেপে ধরে লাজুক মুখে জিজ্ঞেস করছে—

— "আয়রিন, সত্যি বল তো, আমাকে কেমন লাগছে রে? নিলয় স্যার কি আজকে ক্লাসে আসবেন?"

আয়রিন একরাশ বিরক্তি নিয়ে হেসে ফেলে বলল—

— "কিরে তাসু! তুই কি পড়াশোনা করতে আসিস নাকি স্যারকে দেখতে আসিস? এত সাজগোজ দেখে মনে হচ্ছে স্যার তোকে দেখলেই গোল্ড মেডেল দিয়ে দেবেন!"

তাসনিম গাল ফুলিয়ে চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল—

— "তুই বুঝবি না রে! উনাকে দেখলে আমার বুকের ভেতর কেমন যেন ঝংঝার বেজে ওঠে। মানুষটা এত গম্ভীর, তবুও উনার প্রতি আকর্ষণটা দিনে দিনে যেন বেড়েই চলেছে!"

কথা শেষ হতে না হতেই করিডোরের মোড় ঘুরে হেঁটে আসছিলেন **নিলয় চৌধুরী**। পরনে নেভি ব্লু ফরমাল শার্ট, হাতে লেকচার শিট আর মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব। উনার প্রতিটা পদক্ষেপে যেমন এক রাজকীয়তা ছিল, তেমনি চোখ দুটোতে ছিল এক প্রখর আভিজাত্য।

নিলয়কে দেখে তাসনিম একমুহূর্তের জন্য থমকে গেল। চট করে ওড়নাটা ঠিক করে খুব মিষ্টি করে বলল—

— "গুড মর্নিং, স্যার!"

নিলয় থামলেন। উনার শান্ত, আবেগহীন অথচ গভীর কণ্ঠ ভেসে এল—

— "গুড মর্নিং।"

বলেই নিলয়ের তীক্ষ্ণ নজর গেল পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আয়রিনের ওপর। আয়রিন তখন হালকা কৌতূহল নিয়ে চঞ্চল চোখে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল। দুজনের চোখাচোখি হতেই নিলয়ের বরফশীতল চোখের ভাবটা এক সেকেন্ডের জন্য নরম হয়ে এলো। কিন্তু নিজেকে খুব দ্রুত সামলে নিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় আয়রিনকে উদ্দেশ্য করে বললেন—

— "আজকের প্রেজেন্টেশনের কাজ রেডি তো, মিস সিকদার? আমি কিন্তু কাজে কোনো গাফিলতি একদম পছন্দ করি না।"

আয়রিন চট করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল—

— "জি স্যার, একদম রেডি!"

নিলয় আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে নিজের গম্ভীর ভাব বজায় রেখে ক্লাসের দিকে হেঁটে চলে গেলেন। তাসনিম আবেশে চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—

— "উফ! স্যার আমার দিকে তাকিয়ে গুড মর্নিং বললেন! তুই খেয়াল করেছিস আয়রিন?"

আয়রিন মনে মনে হাসল। লোকটা এত কড়া মেজাজের যে, তার মুখ থেকে সাধারণ একটা সম্ভাষণ শুনলেও তাসনিমের কাছে মনে হয় কত বড় ব্যাপার!

দুপুরের দিকে কলেজের লাইব্রেরির পাশের বাগানটিতে একাকী বসে ছিল আয়রিন। তার কোলজুড়ে রাখা ছিল রুদ্রর দেওয়া একটা প্রিয় গল্পের বই।

বইয়ের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে আয়রিনের মনে রুদ্রর প্রতি জমে থাকা ভালোলাগার স্মৃতিগুলো ভেসে উঠল। কাল রাতেও তো রুদ্র ভাইয়া ফোন করে কত যত্ন করে খবরাখবর নিল! রুদ্রর এই নীরব যত্ন আর মিষ্টি আচরণেই আয়রিনের ছোট মনটা প্রতিদিন নতুন করে হারায়।

আয়রিন আনমনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিবিড় করে বলল—

— "রুদ্র ভাইয়া, তুমি কি সত্যি বুঝতেই পারো না যে আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি? নাকি বুঝে অবুঝ হয়ে থাকার ভান করো?"

আয়রিন টের পায়নি, তার থেকে কিছুটা দূরে গাছের আড়ালে নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নিলয় চৌধুরী।

নিলয় অপলক দৃষ্টিতে আয়রিনের সেই অনুরাগে ভরা হাসিমাখা মুখটা দেখছিলেন। উনার সুতীক্ষ্ণ নজর এড়ায়নি যে, আয়রিনের হাতে ধরে রাখা বইটি রুদ্রর।

নিলয়ের শান্ত গম্ভীর মুখের অবয়বে এক অদৃশ্য বিষাদের ছায়া নেমে এলো। উনার শক্ত চোয়াল আরও শক্ত হয়ে গেল। পকেটে হাত গুঁজে অত্যন্ত নিচু, বরফশীতল অথচ গভীর আবেগে ভরা কণ্ঠে মনে মনে বললেন—

— "কারো অনুরাগের কারণ হওয়াটা হয়তো আমার ভাগ্যে নেই সুহাসিনী... কিন্তু যার জন্য তোমার চোখে এই মুগ্ধতার আলো, সে কি কখনো তোমার এই অবুঝ মনটার মূল্য দিতে পারবে? সময় আসুক, আমার এই নীরব ও গম্ভীর ভালোবাসাই তোমায় শিখিয়ে দেবে সত্যিকারের আশ্রয় কাকে বলে।"

নিলয় আর দাঁড়ালেন না। নিজের সব আবেগ বুকের গহীনে চেপে রেখে ধীর পায়ে নিজের কেবিনের দিকে চলে গেলেন।

বিকেলের দিকে ঝুম বৃষ্টি নামল আকাশ ভেঙে।

সিকদার ভিলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ঠান্ডা বাতাস গায়ে মাখছিল আয়রিন। তার মনে তখন শুধুই রুদ্রর মিষ্টি অবয়ব।

অন্যদিকে চৌধুরী ভিলার বন্ধ ঘরের কাঁচের জানালার পাশে কফির কাপ হাতে নিয়ে বৃষ্টি দেখছিলেন নিলয় চৌধুরী। উনার কঠিন গম্ভীর আড়ালের অনুভূতিটুকু যে কতটা তীব্র ও গভীর, তা হয়তো আজ কেবল এই বৃষ্টিই জানে... যা এখনও আয়রিনের কাছে সম্পূর্ণ এক রহস্যময় অধ্যায়!

**(চলবে...)**

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন