ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আমার প্রেম

৯ম পর্ব

লেখক: Sumaiya Akhter

**উপন্যাস:** তোর আমার প্রেম

**লেখিকা:** সুমাইয়া আক্তার

**পর্ব – ৯**

তালুকদার ভিলার ছাদজুড়ে এখন মৃদু আলোর রোশনাই আর নরম বাতাসের খেলা। জন্মদিনের কেক কাটার পর্ব শেষে অতিথিরা সবাই বেশ আড্ডায় মেতে উঠেছে। রঙিন বেলুন আর ফুলের মালায় পুরো ছাদটা এক মায়াবী রূপ নিয়েছে।

একপাশে দাঁড়িয়ে জুসের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিল আয়রিন। খোলা রেশমি চুলগুলো বাতাসে বারবার ওর মুখের ওপর এসে পড়ছে, আর ও ডান হাত দিয়ে সেগুলো কানের পেছনে গুঁজে দিচ্ছে। ঠিক তখনই কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নেহালের নজর আটকে গেল আয়রিনের ওপর। গত কয়েকমাস ধরে জাপানের প্রজেক্টের ব্যস্ততা আর দেশে ফেরার ধকলের মাঝেও মনের কোণে এই মুখটাই যেন বারবার ভেসে উঠত।

নেহাল আর নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। গ্লাসের ট্রে টা একপাশে রেখে ধীর পায়ে হেঁটে সোজা আয়রিনের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

— "কাউকে খুঁজছেন, নাকি একাই একা লন বা ছাদের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, মিস আয়রিন?"

হঠাৎ পরিচিত এক পুরুষালী গলার আওয়াজে আয়রিন চমকে মুখ তুলে তাকাল। লম্বাচওড়া, পরিপাটি শার্ট ও জ্যাকেটে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন মানুষটিকে দেখে আয়রিন চিনতে ভুল করল না—এ সেই নেহাল তালুকদার, তাসনিমের বড় ভাই।

আয়রিন দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে একটু হেসে সম্মান জানিয়ে বলল,

— "আরে নেহাল ভাইয়া! আপনি হঠাৎ এখানে? আসলে একটু ঠান্ডা বাতাসে দাঁড়াচ্ছিলাম। কেমন আছেন?"

নেহাল মৃদু হেসে পকেটে হাত গুঁজে আয়রিনের চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

— "আমি তো বেশ ভালোই আছি, বিশেষ করে দেশ ফেরার পর আজ এখানে আসার পর থেকে তো আরও বেশি ভালো লাগছে। তবে একা দাঁড়িয়ে থাকাটা বোধহয় আপনার মতো চঞ্চল মানুষের সাথে একদমই মানায় না।"

নেহালের এই কথার ধরনে আয়রিনের গাল দুটো একটু লালচে হয়ে উঠল। সে আমতা আমতা করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই পাশ থেকে তাসনিম ছুটে এসে হাজির!

— "কী রে আয়রিন! তুই এখানে একা দাঁড়িয়ে কী করছিস? আর বড় ভাই, তুমি এখানে লুকিয়ে কার সাথে ফ্লার্ট করছ শুনি?" তাসনিম চোখ গোল গোল করে দুষ্টু হেসে বলল।

নেহাল এক ধমকের সুরে আদুরে গলায় বলল,

— "বদমাইশ মেয়ে! বড় ভাইয়ের সাথে দুষ্টুমি করিস না তো!"

তাসনিম জিভ কেটে আয়রিনের হাত ধরে টেনে নিয়ে বলল,

— "চল তো আয়রিন, ওই দিকে গান বাজছে, সবাই মিলে আড্ডা দেব।"

ছাদের অন্য কোণে, যেখানে আলোটা একটু কম আর নিরিবিলি—সেখানে রেলিংয়ে কনুই দুটো ঠেকিয়ে দাঁড়িয়েছিল আরিয়ান। তার হাতে কফির কাপ। চারপাশের হইচইয়ের মাঝেও তার মন যেন অন্য কোথাও পড়ে আছে।

ঠিক সেই মুহূর্তে হালকা পায়ে হেঁটে সেখানে এসে পৌঁছাল তাসনিম। পরনে সেই সবুজ রঙের রেশমি শাড়ি, আর খোলা চুলে তাকে দেখতে অবিকল কোনো রাজকন্যার মতো লাগছে। আরিয়ানের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে তাসনিম নিশ্বাস ফেলল—

— "উফ! আজ সারাদিন যা ধকল গেছে না ভাইয়া! আমার পা দুটো ব্যথা হয়ে গেছে।"

আরিয়ান কাপ থেকে চোখ সরিয়ে পাশে তাকাল। কাঁচের চুড়ির রিনঝিন শব্দ আর সবুজ শাড়ির আঁচল ছুঁয়ে যাওয়া বাতাসের মায়ায় আরিয়ানের বুকটা আবার মোচড় দিয়ে উঠল। এত কাছে তাসনিমকে এর আগে কখনো এভাবে দেখেনি সে।

আরিয়ান একটু গলা পরিষ্কার করে গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল,

— "জন্মদিন তো তোর, তো নাচানাচি আর লাফালাফিও তো তুই-ই করবি! পা ব্যথা হবে না তো কার হবে?"

তাসনিম গাল ফুলিয়ে মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— "কী কৃপণ ভাই রে বাবা! জন্মদিনের দিনও একটু ভালো কথা বলতে পারিস না? সব সময় খালি বকা দিতে জানিস!"

বলেই তাসনিম চলে যাওয়ার জন্য এক পা বাড়াল। কিন্তু হঠাৎ করেই শাড়ির কুঁচিটা ছাদের পাথরে একটু আটকে যাওয়ায় সে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাচ্ছিল!

— "তাসনিম!"

আরিয়ান বিদ্যুত্বেগে এগিয়ে এসে দুই হাত দিয়ে তাসনিমকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সামলে নিল।

মুহূর্তের জন্য সময় যেন থমকে গেল।

তাসনিমের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। সে ঠিক সরাসরি আরিয়ানের বুক জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ানের সাদা পাঞ্জাবির সুবাস আর তার বুকস্পন্দনের শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। আর আরিয়ান থমকে গেছে তাসনিমের মুখের ঠিক কাছাকাছি নিজের দৃষ্টি আটকে রেখে। তাসনিমের কপালে থাকা হালকা চুলগুলো বাতাসে উড়ছিল, আর তার চোখের গভীরতায় হারিয়ে যাওয়ার এক অদ্ভুত নেশা তৈরি হয়েছিল।

কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বলল না। ছাদের ওই মৃদু আলোয় দুজনের দৃষ্টি এক সুতোয় বাঁধা পড়ে গেল।

আরিয়ান খুব নিচু, কাঁপাকাঁপা অথচ থমথমে গলায় ফিসফিস করে বলল—

— "সাবধান থাকতে পারিস না একটু?... সবসময় এভাবে হুটহাট পড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকিস কেন?"

তাসনিম ঢোক গিলে পলকহীন তাকিয়ে থেকে ফিসফিস করে উত্তর দিল—

— "তুমি... তুমি তো সবসময় আমাকে সামলে নেওয়ার জন্যই পাশে থাকো, তাই হয়তো সাবধানে থাকার কথা মনে থাকে না..."

আরিয়ানের হৃদপিন্ড তখন বুকের ভেতর বাঁধ মানছিল না। এই চঞ্চল, ঝগড়ুটে মেয়েটার ভেতর যে এত মায়া লুকিয়ে আছে, তা আজ প্রথম হাড়ে হাড়ে টের পেল সে।

**(চলবে...)**

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন