ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আমার প্রেম

১২তম পর্ব

লেখক: Sumaiya Akhter

**উপন্যাস:** তোর আমার প্রেম

**লেখিকা:** সুমাইয়া আক্তার

**পর্ব – ১২**

পরদিন সকাল থেকেই সিকদার ভিলা আর তালুকদার ভিলার মাঝে এক অন্যরকম আনন্দের আমেজ বইতে শুরু করল। আগের দিন রাতে বাড়িতে যে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল, আজ তার বাস্তব রূপ নেওয়ার পালা। ফোন করে আগেই সময় নেওয়া হয়েছিল। দুপুরের মিষ্টি রোদ গায়ে মেখে **বেলাল সিকদার** আর **নয়না সিকদার** ড্রাইভ করে এসে পৌঁছালেন **তালুকদার ভিলা**র গেইটে।

বাড়ির মূল দরজায় পা রাখতেই হুমায়ুন তালুকদার ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম পরম আদরে ও হাসিমুখে তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে ড্রয়িংরুমে নিয়ে এলেন। দুই পরিবারের মুরুব্বিদের এই হঠাৎ আগমন আর চোখেমুখে খুশির ঝিলিক দেখে তালুকদার ভিলার কাজের লোকগুলো থেকে শুরু করে সবাই একটু অবাক হলেও বুঝতে বাকি রইল না যে আজ নিশ্চয়ই কোনো অনেক বড় ও আনন্দের খবর আছে।

সবাই ড্রয়িংরুমে সোফায় আরাম করে বসার পর কাজের লোক গরম চা আর হরেক রকমের নাস্তা সাজিয়ে দিল। হুমায়ুন তালুকদার চায়ে চুমুক দিয়ে মুচকি হেসে কৌতূহলী কণ্ঠে বললেন—

— "কী ব্যাপার দোস্ত বেলাল? হঠাৎ সপরিবারে না হলেও তোরা দুজনে মিলে আমাদের বাড়িতে হাজির! ব্যাপার কী বলো তো? অফিসে নতুন কোনো বিশাল প্রজেক্ট পেল নাকি আমাদের আরিয়ান?"

বেলাল সিকদার মৃদু হেসে নয়না সিকদারের দিকে একবার তাকিয়ে হুমায়ুন তালুকদারের চোখের দিকে সরাসরি তাকালেন। তারপর চা-এর কাপটা টেবিলে রেখে গম্ভীর কিন্তু অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত গলায় বললেন—

— "প্রজেক্ট তো বটেই হুমায়ুন, তবে সেটা অফিসের নয়, আমাদের ঘরের! আজ এখানে এসেছি অনেক বড় একটা দায়িত্ব নিতে। তোদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক তো আজকালের নয়, বহু বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী আমরা। আজ সেই সম্পর্কটাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চাই, চিরস্থায়ী করতে চাই।"

হুমায়ুন তালুকদার ভ্রূ কুঁচকে একটু সোজা হয়ে বসে বললেন—

— "মানে? একটু পরিষ্কার করে বল দোস্ত, পেঁচিয়ে কথা বলিস না তো!"

এবারে নয়না বেগম সামনে একটু এগিয়ে এসে স্নেহমাখা হাসিতে হুমায়রা বেগম আর হুমায়ুন তালুকদারের উদ্দেশ্যে বললেন—

— "সোজা কথাই বলি ভাইয়া-ভাবী, আপনাদের ছোট মেয়ে **তাসনিম**কে আমাদের সবার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। আমাদের বড় ছেলে **আরিয়ান** ওর সাথেই বাকি জীবনটা কাটাতে চায়। আমরা আজ এসেছি আপনাদের মেয়ের হাতটা আমাদের ছেলের জন্য চাইতে। আপনারা যদি অমত না করেন, তবে এই সম্পর্কটাকে আমরা আজই পাকাপাকি করতে চাই।"

কথাটা শোনার পর পুরো ড্রয়িংরুমে এক পলকের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে এল!

হুমায়ুন তালুকদার ও হুমায়রা বেগম একে অপরের দিকে অবাক হয়ে তাকালেন। তারা তো স্বপ্নেও ভাবেননি যে সিকদার পরিবারের মতো এত বড় ও বনেদি পরিবার থেকে খোদ আরিয়ানের জন্য এমন সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব আসবে! তাসনিম তো তাদের ঘরের আদরের ছোট মেয়ে, আর আরিয়ানের মতো দায়িত্বশীল ও সফল যুবকের চেয়ে ভালো পাত্র তার জন্য আর কী হতে পারে!

এক মুহূর্ত স্তব্ধ থাকার পর হুমায়রা বেগমের চোখ দুটো আনন্দে চকচক করে উঠল। তিনি আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে সোফা থেকে উঠে গিয়ে নয়না সিকদারকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন—

— "সত্যি বলছিস নয়না?! আমার তাসুর জন্য তোদের আরিয়ানকে পছন্দ হয়েছে? এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আমাদের আর কী হতে পারে! আমি তো খুশিতে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি!"

হুমায়ুন তালুকদারও মুচকি হেসে বেলাল সিকদারকে জড়িয়ে ধরে বুকে পিঠে চাপড় দিয়ে বললেন—

— "দোস্ত, তুই আমার জীবনের সেরা বন্ধু ছিলে, এবার তুই আমার সমন্ধী বা কুটুম হতে যাচ্ছিস! এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। তাসনিম আমাদের ঘরের ছোট মেয়ে, ও এমন একটা দায়িত্ববান পরিবারে যাচ্ছে—এর চেয়ে শান্তি আমার আর কিছুতে হতে পারে না। আমাদের তরফ থেকে একশো ভাগ সম্মতি ভাই!"

এদিকে দোতলার করিডোর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ড্রয়িংরুমের কাছাকাছি আসছিল **তাসনিম**। হাতে এক কাপ জুস নিয়ে সে নিচে নামছিল, ঠিক তখনই নিচ তলার ড্রয়িংরুম থেকে ভেসে আসা কথাগুলো ওর কানে স্পষ্ট এসে পৌঁছাল!

নিজের কানকে সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না! তার নিজের রুম থেকে শুরু করে মনের আকাশ পর্যন্ত যেন এক পলকে কেঁপে উঠল। তার মনের মানুষ, সেই গম্ভীর আরিয়ান ভাইয়া কি না সোজা তাদের বাড়িতে এসে তার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়ে দিয়েছে!

তাসনিমের হাত থেকে জুসের ট্রে-টা প্রায় খসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। সে ভয়ে ও লজ্জায় লাল হয়ে এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়িয়ে না থেকে দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। রুমে ঢুকে দরজাটা লাগিয়ে সে সোজা বিছানায় উপুড় হয়ে বালিশে মুখ গুঁজে ফেলল। বুকটা তখন অনাবিল আনন্দে দুলে দুলে উঠছিল, গাল বেয়ে আনন্দের দু-ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল বালিশের ওপরে।

নিচে ড্রয়িংরুমে তখন হাসিখুশি আর মিষ্টি মুখের জোয়ার বইছে। দুই পরিবার একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে এই নতুন সম্পর্কের শুভ সূচনা করল। বেলাল সিকদার আর হুমায়ুন তালুকদার আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দুই পরিবারের ছোট পরিসরে বাগদান ও বিয়ের পাকা কথা সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন।

আগামী দিনগুলোতে যে এক দারুণ ভালোলাগার গল্প শুরু হতে চলেছে, তার সুবাসে পুরো তালুকদার ভিলা তখন মুখরিত হয়ে উঠল।

**চলবে.."

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন