**উপন্যাস:** তোর আমার প্রেম
**লেখিকা:** সুমাইয়া আক্তার
**পর্ব – ১৪**
তালুকদার ভিলার ড্রয়িংরুমে তখন এক দারুণ উৎসবমুখর পরিবেশ। সোফায় পাশাপাশি বসে আগামী সপ্তাহের বাগদান ও বিয়ের অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে ব্যস্তভাবে আলোচনা করছেন হুমায়ুন তালুকদার ও বেলাল সিকদার। কোন কোন অতিথিকে দাওয়াত দেওয়া হবে, ক্যাটারিংয়ের মেনু কী হবে—এসব নিয়ে দুই মুরুব্বির আলোচনা চলছে বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতে। পুরো ঘরজুড়েই এক আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করল **নেহাল**। জাপান থেকে দীর্ঘ ছয় বছর পর দেশে ফেরার পর থেকেই সে পরিবারের সবার চোখের মণি হয়ে উঠেছে। আজ তার পরনে হালকা ছাই রঙের একটি ক্যাজুয়াল শার্ট আর গাঢ় নীল জিন্স—তাতে তাকে অসম্ভব মার্জিত ও সুদর্শন লাগছে। ড্রয়িংরুমে মুরুব্বিদের বিয়ের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখে সে মৃদু হেসে সোফার একপাশে এসে বসল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করল **আয়রিন**। হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে সে একে একে সবার সামনে কাপগুলো এগিয়ে দিচ্ছিল। অতিথিদের আপ্যায়ন করার ফাঁকে আয়রিন যখন নেহালের ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল, তখন নেহালের চোখ দুটো পলকের জন্যও তার ওপর থেকে সরল না। এই কটি দিনে আয়রিনের সাথে টুকটাক কথা, তার চঞ্চল স্বভাব এবং সরল হাসি নেহালের মনের গহীনে এক গভীর অনুভূতির সৃষ্টি করেছে।
আয়রিন যখন কাপটি নেহালের দিকে বাড়িয়ে দিল, তখন কাপটি হাতে নেওয়ার ছলে নেহাল আলতো করে আয়রিনের হাতের আঙুলের ছোঁয়া পেল। আচমকা এই ছোঁয়ায় আয়রিন চমকে উঠল। সে দ্রুত পলক নামিয়ে ফেলল, আর মুহূর্তের মধ্যে তার ফর্সা গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে উঠল।
নেহাল চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে মিষ্টি এক হাসিতে আয়রিনের দিকে তাকাল। তার চোখের ভাষা আর চাউনিতে এমন এক মুগ্ধতা ছিল যে আয়রিন আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে সাহস পেল না। সে দ্রুত ট্রে-টা টেবলে রেখে সেখান থেকে একরকম পালিয়ে বাঁচার পথ খুঁজল। আয়রিনের এমন লাজুক ছুটে চলা দেখে নেহালের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিজয়ী ও মুগ্ধতার হাসি ফুটে উঠল।
মুরুব্বিরা তখন বিয়ের কেনাকাটা আর গেট-টুগেদারের ডেট নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে, তরুণ-তরুণীদের এই ছোট্ট লুকোচুরি ও চোখের ইশারা তাদের কারোরই চোখে পড়ল না। বিয়ের আগের এই চটজলদি আড্ডা, খুনসুটি আর নতুন প্রেমের মিষ্টি ঘ্রাণে পুরো তালুকদার ভিলা তখন এক অন্যরকম আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠল।
**(চলবে...)**