ফন্ট সাইজ:
থিম:
সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ

১৫তম পর্ব

লেখক: মুশফিকা রহমান মৈথি

#সিন্ধুপুষ্পের_অনুরাগ

#১৫তম_পর্ব

"ঘুরে ফিরে আমরা সেই এক সুতোয় বাঁধা পড়ছি ললনা!"

অয়নের কণ্ঠে কৌতুকের আভাস। চোখে দুষ্টুমি খেলা করছে। একটা মানুষের ভাগ্য কতটা খারাপ হতে পারে! প্রাপ্তির এই প্রথম ভাগ্যকে দুষতে ইচ্ছে করলো। করাটা খানিকটা স্বাভাবিকও। এই অয়ন নামক পুরুষটাকে নিজের ত্রিসীমানাতে দেখতে ইচ্ছে হয় না। কেন ইচ্ছে হয় না তার অনেকগুলো কারণ আছে। উল্লেখযোগ্য কারণ হলো ছেলেটা একটা আপাদমস্তক অশৈল্য। অথচ এই পুরুষটাকেই বারংবার চোখের সম্মুখে নেত্য করতে দেখতে হয় প্রাপ্তির। খুলনা থেকে ঢাকা তো কম মানুষ যাচ্ছে না। ভার্সিটিতে প্রায় অধিকাংশ ডিপার্টমেন্টের ছুটি শুরু হয়েছে, মিডটার্মের ছুটি। প্রায় অর্ধেক ভার্সিটি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। অনেকেই ঢাকা যাচ্ছে। হয়তো খুঁজে দেখলে এই বাসেই ছয় সাতজনকে পাওয়া যাবে। তাহলে তার পাশের ছেলেটিকে কেন অয়ন হতে হলো। কেন অন্য কেউ হলো না! এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সত্যি-ই অসম্ভব। এখন সহ্য করতে হবে বদমাইশ পুরুষটিকে। প্রাপ্তির ভীষণ বিরক্ত লাগছে৷ কিন্তু সে বিরক্তটা গিলে অন্যদিকে চাইলো। অয়নের দৃষ্টি এখনো তার দিকেই নিবদ্ধ। অয়ন মুচকি হেসে বললো,

"আমি ভেবেছিলাম জার্নিটা বুঝি বড্ড বোরিং কাটবে। যাক আমি তোমার কোম্পানি পেয়ে গেলাম। এখন আমাদের একটা স্মরণীয় জার্নি হবে, ভালোবাসা"

“ভালোবাসা” শব্দটি শুনতেই তেলে বেগুণে জ্বলে উঠলো প্রাপ্তি। গমগমে স্বরে বললো,

“খবরদার, আমাকে ভালোবাসা বলবেন না”

“তাহলে কি বলে ডাকবো? বাবু? সোনা?”

“আমি বসবোই না আমার পাশে”

“বাস পুরো ভর্তি, তোমার জন্য কি সিট বানাবে? অবশ্য তুমি চাইলে ছাদে করে যেতে পারো কিন্তু। তোমার তো খুশি হওয়া উচিত, আমার মত ভালো ছেলেকে এজ এ কম্পেনিয়ন পেলে। ইউ শ্যুড বি থ্যাংকফুল, ভালোবাসা”

প্রাপ্তি নিজের ব্যাগ থেকে এন্টিকাটারটা বের করে ধরলো অয়নের দিকে। কঠিন স্বরে বললো,

“আরেকবার ভালোবাসা বললে, আপনার সব হিরিক বের করে দিব”

অয়নের মজা লাগছে। বা হাতে এন্টিকাটারটা নামিয়ে বললো,

“মানুষ ভালোবাসার জন্য প্রাণ দিয়ে দেয়। আমি নাহয় তোমার হাতেই প্রাণ দিলাম। আচ্ছা, যাও বললাম না ভালোবাসা। তেলাপোকা বলে ডাকি? বাবু-সোনা খুব ক্রিঞ্জ লাগে।”

“আমার নাম প্রাপ্তি”

“প্রেমিকাকে নাম ধরে ডাকতে নেই। এতে প্রেমের আয়ু কমে যায়। আদুরে নামে ডাকলে প্রেমের গাঢ়ত্ব বাড়ে, জানো না?”

“নিজের যে বস্তা বস্তা প্রেমিকারা আছে তাদের ডাকবেন। আমাকে না”

“সত্যি বলছি তেলাপোকা, এই জীবনে তুমি ছাড়া কাউকে আদুরে নামে ডাকি নি। তুমি-ই প্রথম, হয়তো তুমি-ই শেষ”

অয়ন প্রাপ্তির চোখে চোখ রেখে কথাটা বললো। প্রাপ্তির গায়ে কাঁটা দিলো। সে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো জানালার দিকে। অয়ন মিটিমিটি হাসলো। এর মধ্যে তার ফোন বেজে উঠলো। ফোন ধরতেই নুহাশের কড়া স্বর শুনতে পেলো সে,

“শাউয়োর নাতী, কই তুই?”

“বাসে”

“বাসে মানে? কোয়ানে যাচ্ছোস?”

“ঢাকা যাচ্ছি”

নুহাশের আক্কেলগুড়ুম হলো। কথা নেই, বলা নেই—ঢাকা? এই ছেলে কি পাগল? নুহাশ রাগে গজগজ করতে করতে বললো,

“আর ক্লাইন্টের কাজগুলো কি তোমার শ্বশুর করবে?”

অয়ন আড়চোখে তাকালো একবার প্রাপ্তির দিকে। সে কঠিন মুখে জানালা দিয়ে রাতের অন্ধকার রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। কানে এয়ারফোন লাগিয়েছে যেন অয়নের কথা শোনা না লাগে। অয়ন হালকা স্বরে বললো,

“ট্রাই করাই যায়। শ্বশুরের মেয়েকে সহীহ সালামতে পৌছে দেবার জন্য শ্বশুর এটুকুতো করতেই পারবে”

“মশকরা করোস?”

“যা মনে করিস। আমি ফোন রাখছি। শ্বশুরের মেয়ের সাথে ব্যস্ত আছি। তুই ডিসটার্ব করে আমার মুড নষ্ট করিস না”

“হালার পো হালা, পকেটে পয়সা না থাকলে তোমার শ্বশুরের মাইয়্যাও জানালা দিয়ে পালাবে। পরশু ডেডলাইন”

অয়ন দায়সারা স্বরে বললো,

“দেখ কি করবি, আমি এক সপ্তাহের আগে আসছি না। আই এম অন ভ্যাকেশন”

“তোর ভ্যাকেশনের গুষ্টি কিলাই”

“চেতোস ক্যান? তোর জন্য আমার শালীর নাম্বার নিয়ে আসবো”

নুহাশ তাতে গললো না। আরোও ছয়-সাতটা গালি দিলো। তারপর খট করে ফোনটা রেখে দিল। অয়ন ম্যাসেজে লিখলো,

“রাগিস না। রাগলে তোর থোবড়াটা আরোও বাজে হয়ে যায়, আমার শালী দেখলে ভয় পাবে। সুন্দর মত কাজগুলো করে ফেল। তোর থেকে পার্সেন্টেজ নিমু না”

ম্যাসেজটা করেই ফোনটা পকেটে রাখলো। পাশে ফিরতেই দেখলো প্রাপ্তি চোখ বুজে ফেলেছে। মাথাটা গ্লাসের সাথে লেগে আছে। মেয়েটা ঘুমে কাঁদা। অয়ন হতবাক হলো। এতো দ্রুত কেউ কি করে ঘুমায়? বাস এখনো হাইওয়েতেও উঠে নি! এই মেয়েকে যদি কেউ তুলেও নিয়ে যায় এই মেয়ে টেরও পাবে না।

****

বাস একটা রেস্টুরেন্টে থামলো মিনিট বিশের জন্য। সব প্যাসেঞ্জার থামলো ফ্রেশ হবার জন্য। অয়ন নামবে। কফি কিনবে। তাড়াহুড়ো করার জন্য পানির বোতল কিনতেও ভুলে গিয়েছিলো। শুধু প্রাপ্তি ঘুমে কাঁদা। শুধু কাঁদা বলতে ভুল হবে, তার কানের কাছে বো--মা ফাঁটালেও সে উঠবে না এত গভীর ঘুমে সে। অয়ন ডাকলো দু-তিনবার। কিন্তু কোনো সাড়া পেলো না। রাত হয়েছে। বাস ফাঁকা। ফাঁকা বাসে প্রাপ্তিকে ফেলে যাওয়াটাও নিরাপদ মনে হচ্ছে না। ফলে দ্বিধাগ্রস্থ হলো সে। চোখে মুখে তীব্র বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠলো। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর সে সেখানেই বসে রইলো। একটা জুনিয়র ছেলে পেছনের সিটে ছিলো। তাকে চিনে অয়ন। সে যখন নামছিল তখন তাকে বললো,

“একটা কফি নিয়ে আসিস তো আমার জন্য। আমি নামবো না”

পা লম্বা করে সিটে হেলান দিয়ে তাকালো প্রাপ্তির দিকে। যথারীতি এলোমেলো হয়ে ঘুমাচ্ছে সে। অয়ন ভেবে পাচ্ছে না। এই মেয়ে এতো নিশ্চিন্তে কি করে ঘুমাচ্ছে? তার কি একটুও ভয় করছে না? আজ যদি অয়নের বদলে অন্য কেউ থাকতো পাশে তাহলেও কি এভাবেই ঘুমাতে পারতো সে? অয়ন বিড়বিড় করে বললো,

“কেয়ারলেস”

****

হাইওয়ের অন্ধকার রাস্তা থেকে বাস চলছে। অয়নের কানে এয়ারফোন। সে গেম খেলছে। জার্নিতে এই এক ঝামেলা। তার ঘুম হয় না। কফি খাবার পরও ক্লান্তি কাটছে না। একটা সিগারেট খেতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু সেটার উপায় নেই। বাস কোথাও থামবে না। হঠাৎ বাহুতে ভার লাগলো অয়নের। পাশের চাইতেই দেখলো প্রাপ্তির মাথা তার কাঁধে হেলে পড়েছে। অয়ন কিছুটা অস্বস্তিবোধ করলো। ডান হাত দিয়ে প্রাপ্তির মাথাটা সরিয়ে দিলো সে। কিন্তু একটু বাদে কি যেন ভেবে আবার মাথাটা কাঁধে রাখলো। বিড়বিড় করে আবার বললো,

“কেয়ারলেস”

****

প্রাপ্তির যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন বাস মালিবাগ পেরিয়ে গেছে। প্রাপ্তি চোখ মেলেই বিশাল ধাক্কা খেলো। সে অয়নের ঘাড়ে মাথা রেখে আছে। সাথে সাথে বিদ্যুৎ গতিতে মাথা সরিয়ে নিলো সে। অয়ন চোখ বুজেছিলো। প্রাপ্তি উঠে পড়ায় চোখ মেললো। ডান হাতে নিজের বাদিকের কাঁধটা চাপতে চাপতে বললো,

“মাথাটা কি ভারী তোমার, আমার কাঁধ তো ভেঙ্গে গেলো। নেহাৎ আমি ভালো মানুষ। তাই কিছু বলছি না”

প্রাপ্তি চোখ কুঁচকে ফেললো। দৃষ্টি জানালায় রেখে শুধালো,

“আমরা এখন কোথায়?”

“প্রগতি স্মরণী ম্যাডাম। আপনি যে ঘুম দিলেন, বাবাগো। আপনাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেও টের পেতেন না। আপনাকে পাহাড়া দিতে যেয়ে আমার সিগারেট খাওয়াও হয় নি”

“খুব উদ্ধার করেছেন”

“তুমি তো খুব অকৃতজ্ঞ। নিজের আমোদ বিসর্জন দিলাম, আর কিনা তাচ্ছিল্য করছো? তুমি কিন্তু আমার কাছে ঋণী”

“তো কি মাথায় তুলে নাচবো?”

“তুমি মাথায় তুলে নাচতে পারলে আই ডোন্ট হ্যাভ এনি ইস্যু। তবে আমার যা শরীর। দেখতে টিংটিঙ্গে লাগলেও ওজন আছে। এর থেকেও সহজ ঋণমুক্তির উপায় আছে। আমাকে পড়াও”

প্রাপ্তি আর কিছু বললো না। চোখ সরিয়ে তাকালো জানালার বাহিরে। কখন ঘুমিয়ে গেছে টের পায় নি। এমন দায়িত্বহীনতা করাটা ঠিক হয় নি। সামনের বার থেকে এমন দায়িত্বহীন কাজ করবে না সে। অয়ন ভালো বিধায় সে নিরাপদ ছিলো। কিন্তু অয়নের জায়গায় কোনো পাজি ছেলেও হতে পারতো। প্রাপ্তি এবার থমকালো। সে কি অয়নকে ভালো ভাবছে? এও সম্ভব?

*****

প্রাপ্তি নামলো বাড্ডার পরে। তার সাথেই নামলো অয়ন। প্রাপ্তিকে নিতে তার চাচাতো ভাই এসেছে। এখান থেকে তার বাসা খুব দূরে নয়। হাটার পথ। সে তার ভাইয়ের কাছে ব্যাগটা ধরিয়ে দিলো। তারপর হাটা শুরু করলো। অয়নকে বিদায় জানালো না। কোনো কথাও বললো না। অয়ন দাঁড়িয়ে রইলো প্রাপ্তির যাওয়া অবধি। প্রাপ্তি চলে যাবার পর একটা সিএনজি ডেকে বললো,

“শায়েদাবাদ যাবে?”

****

বাসায় আসার পর এক নতুন তথ্য জানলো প্রাপ্তি। তার মেজো ফুপুর বড় মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। আগামীপরশু হলুদ। মেজো ফুপু থাকেন এই বাড়ির তিন তালায়। তিনি বিয়ের পর থেকেই এখানেই থাকেন। প্রাপ্তির মোট চার ফুপু এবং এক চাচা। বিয়ে উপলক্ষে সবাই চলে এসেছে এখানে। ফলে ঘর ভর্তি মেহমান গিজগিজ করছে। এটা নতুন কিছু নয়। ছোটবেলা থেকে ফুপুদের জমায়েত দেখে অভ্যস্ত প্রাপ্তি। মেজো এবং সেজো ফুপুর এখানেই থাকেন। আর বাকি দুই ফুপু থাকেন আশেপাশেই। তবুও বৌভাত অবধি তারা এখানেই থাকবেন সবাই। আর তাদের সবার ফরমাইশ খাটবেন মুনিরা বেগম। ফলে প্রাপ্তি যে প্রায় দেড়টা মাস পর বাড়ি এসেছে সেটা নিয়ে কারোর মাথাব্যথা নেই। শুধু পাপিয়াই তাকে দেখে ছুটে এলো। গদগদ কণ্ঠে বললো,

“আপা, তোকে তো চিনাই যাচ্ছে নারে”

প্রাপ্তি শুধু হাসলো। বোনকে জড়িয়ে ধরলো। মাকে খুঁজলো। মাকে পাওয়া গেলো রান্নাঘরে। সে রান্না করছে গুষ্টির জন্য। প্রাপ্তি হতাশ হলো না। এমনটা নতুন নয়। দাদী তার ঘর থেকে হাক দিলেন,

“ওই ছুড়ি, মুখ দেখায়ে যা। দেখি বিদ্যাধারীর মুখখান”

প্রাপ্তিও গলা গলিয়ে বললো,

“আমি মুর্খদের দর্শন দেই না। আগে এক থেকে একশ গোনা শিখ, মুখ দেখাবো”

দাদী উত্তরে কিছু বললেন না। প্রাপ্তির ঠোঁটকাটা স্বভাব তাদের অজানা নয়। প্রাপ্তি নিজ ঘরে যেয়ে টের পেলো তার ঘর দখল হয়ে গেছে। এখানে বড় ফুপুর মেয়ে থাকছেন। তার কিছুদিন আগে বাচ্চা হয়েছে। তাই তার একটি আলাদা ঘর লাগবে। চাচাতো ভাইদের ঘর তাদের রইলো। মাঝখান থেকে প্রাপ্তির ঘর দখল হয়ে গেলো। তার ঠাঁই হলো বসার ঘরের মেঝেতে। মুনিরা মলিন স্বরে বললো,

“বিয়ের বাড়ি, বুঝিস-ই তো”

প্রাপ্তি কথা বাড়ালো না। রাত হয়েছে। একটু খেয়েই সে ঘুমাতে চলে গেলো। বিয়ে বাড়ি রঙ্গের অভাব নেই।

***

হলুদের দিন স্টেজ করা হলো ছাদে। প্রাপ্তির বড় বোন পায়েল এসেছে। তার শ্বশুরবাড়ি খুব বড়লোক। তাই তার আদর আপ্যায়ন খুব চমৎকারভাবে হচ্ছে। প্রাপ্তির খোঁজ নেওয়ারই কেউ নেই। মা যে প্রাপ্তির কাছে দু মিনিট বসবে তার সময় হচ্ছে না। সন্ধ্যার পর হলুদ শুরু হবে। একটু বাদেই বরপক্ষের তত্ত্ব আসবে। অথচ প্রাপ্তি এখনো তৈরি নয়। সে এক কোনে একটা বইয়ে মুখ গুজে বসে আছে। মেজোফুপুকে তার অপছন্দ। অপছন্দের কারণ তার স্বভাব। নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবেন তিনি। কথায় কথায় প্রাপ্তিকে খোঁটা দেওয়া স্বভাব। প্রাপ্তিকে কেন বিয়ে দেওয়া হচ্ছে না সেটাই যেন তার একমাত্র চিন্তা। তাই তার মেয়ের বিয়েতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই প্রাপ্তির। এর মধ্যেই তিনি চি চি গলায় বললেন,

“এখনো বসে আছিস? বোনের বিয়েতে কোন মেয়ে পটের বিবি হয়ে বসে থাকে। যা রেডি হ”

প্রাপ্তি দায়সারা স্বরে বললো,

“তোমার মেয়ের বিয়েতে আমি তো নৃত্য করবো না। যাদের আগ্রহ তাদের গিয়ে বলো রেডি হতে। আমি ঠিক আছি”

ব্যাস, ফুপু ক্ষেপে গেলেন। মুনিরাকে শুনালেন কথা,

“তোমার মেয়েকে শিক্ষা দিতে পারো নি নাকি, বড়দের সাথে এভাবে কে কথা বলে? এজন্য বলেছি বেশি উড়তে দিও না। দুপাতা পড়ে নিজেকে ভাবছে বিদ্যাসাগর। আমার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে কারোর সহ্য হচ্ছে না। ইচ্ছে করে কিভাবে ভাটা দিবে সেটাই চিন্তা করছো”

“এভাবে কেন বলছেন আপা?”

“আর কি বলবো? সন্ধ্যার সময় বিয়ে অথচ তোমার মেয়ে ঢং করে বসে আছে। কোথায় বোনের আশেপাশে থাকবে। আসলে তোমরা চাও-ই না যে আমার মেয়ের বিয়ে হোক”

বলেই মরা কান্না শুরু করলেন। দাদীও সাথে তার মেলালো। মুনিরার অসহায় মুখখানা দেখে বাধ্য হয়ে প্রাপ্তিকে ক্ষমা চাইতে হলো। তার দোষ সে, বিয়েতে আনন্দ দেখাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পায়েলের কাছ থেকে একটা শাড়ি ধার করে পড়লো সে। আনন্দ দেখানোর জন্য বোনদের সাথে নিচে গেলো থালা নিয়ে। বরের ভাইয়েরা আসছে ত্বত্ত নিয়ে। তাদের ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে বরণ করতে হবে। প্রাপ্তির কাছে এটা নিতান্তই আনপ্রোডাক্টিভ কাজ। কিন্তু তাকে নিজের আনন্দ দেখাতে হবে। নয়তো ফুপু আবার একটা সিন করবেন। হিটলার বাসায় নেই। কিন্তু সে বাসায় থাকলে সেই কান্নার সিনটা আরোও জম্পেশ করে হবে। এক সপ্তাহর জন্য আসা চিরকালের অপরাধ হয়ে যাবে। তাই প্রাপ্তি মেনে নিয়েছে। রোবটের মতো দাঁড়ালো সে পাপিয়ার পাশে। বরপক্ষরা এসেছে। প্রাপ্তি ফুল ছুড়ছে। হঠাৎ প্রাপ্তি থেমে গেলো। সে বজ্রাহতর মতো তাকিয়ে রইলো। তার সামনের মানুষটিও ফুলের পাঁপড়ি মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটি অয়ন। আবার অয়ন? তাও এখানে? বরপক্ষের সাথে, কেন? অয়ন মাথার ফুল ঝাড়তে ঝাড়তে বললো,

“তুমি ডেসটিনিতে মানো তেলাপোকা?"

প্রাপ্তি রাগী চোখে তাকালো। নিশ্চয়ই আবার কোনো বাজে কথা বলবে। অয়ন একটু ঝুঁকে তার মুখোমুখি হয়ে চোখে চোখ রেখে গাঢ় স্বরে বললো,

"আমার মনে হয়, তোমার ডেসটিনিতে আমার নামটাই স্বর্ণাক্ষরে লেখা"………

চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন