ফন্ট সাইজ:
থিম:
সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ

১৬তম পর্ব

লেখক: মুশফিকা রহমান মৈথি

#সিন্ধুপুষ্পের_অনুরাগ

#১৬তম_পর্ব

"আমার মনে হয়, তোমার ডেসটিনিতে আমার নামটাই স্বর্ণাক্ষরে লেখা"

অন্যসময় হলে প্রাপ্তি অয়নকে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে কিছু একটা শুনিয়ে দিত। অথচ আজ ব্যতিক্রম। প্রথমত সে অয়নকে চিনতেই চাইলো না। অয়ন তার দিকে ঝুঁকে আসায় সে চোখ ঘুরিয়ে আশপাশটা দেখলো। কেউ কি দেখতে পেলো? প্রাপ্তি নিজের পরিবারকে চিনে খুব ভালোভাবে। রক্ষণশীলতার মুখোশে তারা কেমন মানসিকতা পোষণ করে তার অজানা নয়। কেউ যদি তাকে এবং অয়নকে পাশাপাশি দেখে তবে তাদের নিম্ন মানসিকতা পূর্ণ ডালপালাসহ বিকাশিত হবে। তাই দূরত্ব রাখাটা অতীব জরুরি। যাক সবাই ব্যস্ত। ফুপু বা চাচী কেউ ই আশেপাশে নেই। ফুপাতো ভাই-বোনগুলোও ব্যস্ত তাদের মত। অয়ন প্রাপ্তির মুখে তীব্র অস্বস্তি এবং জড়তা দেখতে পেলো। ব্যপারটা অনুধাবণ করে মেরুদন্ড সোজা করলো। তারপর পকেটে হাত ঢুকিয়ে সামনে চলে গেলো। অয়ন চলে যাওয়াতে একটা লম্বা নিঃশ্বাস ছাড়লো। নাহ, কাউকে বুঝতে দেওয়া চলবে না সে অয়নকে চিনে। কিন্তু এই পাজি ছেলেটা এখানে কেন?

অয়নরা মোট চারজন এসেছে। তিনজন ছেলে এবং একজন মেয়ে। হলুদের ডালার সাথে মেয়ের বিয়ের তত্ত্বও তারা নিয়ে এসেছে। তাদের আপ্যায়নের জন্য ব্যস্ত হয়ে গিয়েছে মজুমদার বাড়ি। তাদের বসার ব্যবস্থাও খুব সুন্দর করে করা হয়েছে। তাদের যেন অসুবিধা না হয় তাই পাপিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার কাজ একটু পর পর শুধানো,

“আপনাদের কিছু লাগবে?”

প্রাপ্তির মেজো ফুপির এতো আদিখ্যেতা ভালো লাগে না। তিনি অতিরিক্ত ভান করেন। তার প্রতিটা কাজ প্রাপ্তির বিরক্ত লাগে। একারণেই পারিবারিক অনুষ্ঠানগুলো এড়িয়ে যেতে চায় সে। কিন্তু পারে না। কারণ এদের আতিশয্যকে লায় দিয়েছে তার বাবা। জামশেদ মজুমদার ভাইবোন অন্তঃপ্রাণ। ভাইবোনদের প্রতি অতিরিক্ত স্নেহ তাকে অন্ধ করে দিয়েছে। আর ভাইবোনেরা তার এই স্নেহের সুযোগ নেয়। প্রাপ্তির বাবার প্রতি রাগ হয় কারণ এই ভালোবাসাগুলো একপাক্ষিক, অথচ লোকটা বুঝতে চায় না। আর বাবার এই প্রবল ভালোবাসার কারণে ভুগতে হয় তাদের। এই যে পাপিয়াকে অহেতুক ফরমাইশ খাটানোর জন্য দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এটার কোনো মানে নেই। কিন্তু এমনটা না করলে পাপিয়া হয়ে যাবে বেয়াদব। পাপিয়াকে কলুর বলদের মত ছোটাছুটি করতে দেখে তার হাত টেনে ধরলো প্রাপ্তি। সে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই প্রাপ্তি তাকে টেনে নিয়ে গেলো এককোনায়। কড়া স্বরে বলল,

“ওদিকে আর যাবি না, আমার সাথে থাক। ওদের কিছু লাগলে নিজে জানাবে। ওরা কোনো মহারাজার সেপাই না যে আমাদের মাথা কেটে দিতে হবে ওদের জন্য”

“ফুপু জানলে আবার তামশা করবে”

“করুক গা। আচ্ছা এরা বরের কি হয়?”

পাপিয়া আঙ্গুল উঁচাতে গেলে প্রাপ্তি আঙ্গুল নামিয়ে দিলো। চাপা স্বরে বললো,

“পাঞ্জাবির রঙ বলে কথা বল”

“নীল পাঞ্জাবিটা ভাইয়ার খালাতো ভাই, ও পায়েল আপুর বয়সী, সুনামগঞ্জে থাকে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। হলুদ পাঞ্জাবীর ভাইটা ভাইয়ার মামাতো ভাই, ও আমার সমবয়সী, আমার ক্লাসেই পড়ে, খুব ভালো ছাত্র। আর সাদা পাঞ্জাবির ভাইটাকে চিনি না—আজই প্রথম দেখছি। যতটুকু শুনেছি দুলাভাইয়ের ছোটচাচার ছেলে। ভাইয়াটা সুন্দর, নীলু আপুর খুব পছন্দ হয়েছে। তাই তো বারবার আমাকে পাঠাচ্ছে উনার কাছে। আর মেয়েটা ভাইয়ার আপন বোন, ও আমার থেকে দু বছরের বড়। মম আপুর বয়সী। তোমার থেকে একবছরের ছোট”

“আমি কি তোর কাছে বায়োডাটা চেয়েছি?”

“তুমি তো জানতে চাইলা!”

পাপিয়া ঠোঁট উলটে বললো। প্রাপ্তি মুখ খিঁচিয়ে বললো,

“আমি জানতে চাইছি ওরা কারা। তুই তো এমন বর্ণনা দিচ্ছিস যেন আমি বিয়ে বসব। যা ভাগ। মায়ের কাছে যা। এখানে দারোয়ানগিরি করা লাগবে না”

“নীলু আপু তো বললো খাতিরদারি করতে। মেজো ফুপু জানলে বকবে”

নীলা মেজো ফুপুর ছোট মেয়ে। প্রাপ্তি আটমাসের বড়। তবে খুব প্রাপ্তির সাথে স্বভাবের কোনো মিল নেই। প্রাপ্তির ধারণা মেয়ে মানুষ দু ধরণের হয়। একধরণের মেয়ে মানুষ নির্বোধ, কুচুটে, পরশ্রীকাতর এবং মন জুগিয়ে চলার ধান্দায় থাকে। তাদের জীবনের কোনো উদ্দেশ্য থাকে না। নির্ভরশীলতা, মানুষকে খুশি করার প্রবণতা তাদের রক্তে মিশে থাকে। একটা সময় তাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গে। তখন তাদের মধ্যকার যন্ত্রণাগুলো বিষের রুপ নেয়। প্রাপ্তির ধারণা তার ফুপুরা এই ধরণের মেয়ে মানুষ। নীলাও স্বভাবগত এমন ধরণেরই। তাইতো একটা অপরিচিত ছেলের প্রতি তার এতোটা আগ্রহ। সেই আগ্রহের প্রকাশটা সে সরাসরিও করছে না। এমন আচারণকে নেহায়েত ছ্যাবলামি এবং ছ্যাচড়ামির ক্যাটাগরিতেই ফেলে প্রাপ্তি। পাপিয়াকে সে কড়া স্বরে বললো,

“আর ওদের ফরমাইশ খাটা লাগবে না তোর। এককাজ কর, মায়ের কাছে যা। যেয়ে জিজ্ঞেস কর কোনো প্রয়োজন আছে কি না”

পাপিয়া ঘাড় নেড়ে কেটে পড়লো। প্রাপ্তি নিজের ঘরের দিকে গেলো। ঘরে এসে আরেক কেচ্ছা বাঁধলো। শিলা অর্থাৎ যে কনে, তার হলুদের শাড়িতে প্রাপ্তির ছোট চাচার ছোট ছেলে অতুল আইসক্রিম মাখিয়ে দিয়েছে। ফলে মেজো ফুপু এবং ছোট চাচীর মধ্যে একটা ছোটখাটো ঝগড়া বেধে গেলো। প্রাপ্তির এই প্রথম পারিবারিক কলহে ভীষণ আনন্দ লাগছে। মেজো ফুপুর দেমাগী এবং ঝগড়ুটে স্বভাব তার জানা। মহিলার কণ্ঠ তীক্ষ্ণ চিৎকার করলে কানে বাজে। এদিকে ছোট চাচী নিতান্ত ছিঁচকাঁদুনে। তিনি এই বংশের প্রদীপদের মাতা। সুতরাং তাকে সম্মান করতে করতে হবে। আদর করতে হবে। প্রাপ্তি দাদীর দিকে চাইলো। আশি বছরের সফেদ শারী পরা, গালে চামড়া ঝুলে আসা, জীর্ণ প্রৌঢ়া এখন কি করেন সেটাই দেখার বিষয়। শিলা আপা পার্লার থেকে সেজে এসেছিলো। তার শাড়িটাও হলুদের জন্যই ও বাড়ি থেকে এসেছে। ছাদে বরপক্ষ চলে এসেছে। এখন ঘড়িতে আটটা বাজে। এশা আযান দিয়ে দিবে। অথচ এখনও কনে স্টেজে উঠে নি। ফুপু নিজের ভাতিজার নির্বুদ্ধিতাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন,

“একটা দামড়া ছেলের সামান্য বুদ্ধি নেই? সে কি করে শিলার শাড়িতে চকলেট মাখালো? এখন মেয়েটা অনুষ্ঠানে বসবে কি করে? সব তোমাদের চাল। আমি বুঝি না? আসলে আমার মেয়ের বিয়ে কি করে পণ্ড করবে সেটাই তোমাদের উদ্দেশ্য”

“আপা, অতুল কি বুঝে নাকি? মাত্র তো দশ বছরের বাচ্চা”

“দশ বছরে কেউ বাচ্চা থাকে না নাসরিন। গিলাতে গিলাতে তোমার ছেলেদের মাথামোটা বানিয়েছো। আমার ভাইদের ছেলেমেয়েগুলো একেকটা নমুনা হয়েছে। একজনের মেয়েগুলো হয়েছে উচ্ছৃঙ্খল। আর তোমারগুলো নির্বোধ”

“ছিঃ ছিঃ আপনি এগুলো বলতে পারলেন? ও কি আপনার উপর খায়? খায় তো নিজের বাপেরটা।”

মুনিরা দুপক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। এদিকে শিলা আপা কাঁদছেন। প্রাপ্তি দাদীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। দাদী প্রিয় নাতীকে শাসন করতে পারছেন না। আবার নিজের মেয়েকেও কিছু বলতে পারছে না। এরমধ্যে জামশেদ মজুমদার এবং পলাশ মজুমদার এলেন। জামশেদ মজুমদার তার মেঘের মত ভারী স্বরে গর্জে উঠে বললেন,

“এটা কি মাছের বাজার? একটা অনুষ্ঠানের দিন কুত্তার মত ঘেউ ঘেউ করা হচ্ছে কেন?”

জামশেদ মজুমদারের এই দুটো লাইন যথেষ্ট ছিলো। ঝগড়া থেমে গেলো। এই বাড়িতে জামশেদ মজুমদারের কথার উপর শুধু দাদীই কথা বলার সাহস রাখেন। প্রাপ্তি নিজেকের বাবার দিকে সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। জামশেদ মজুমদার নিজের স্ত্রীকে বললেন,

“মুনিরা, তুমি থাকতে এখানে এমন ঝগড়া হচ্ছে কেন?”

মুনিরা উত্তর দিতে পারলেন না। তিনি মাথা নত করে দাঁড়িয়ে রইলেন স্বামীর সামনে। জামশেদ মজুমদার আবার ভারী স্বরে বললেন,

“দশমিনিটে মেয়েকে ছাদে আনো”

দাদী তখন বললেন,

“শাড়ি তো নষ্ট হয়ে গেছে”

“সেটা কিভাবে ঠিক করবে সেটা তোমাদের মাথাব্যথা”

এর মধ্যে শিলা বললো,

“বড় মামীর একটা হলুদ জামদানী আছে, আমার মেকাপের সাথে ওইটা যাবে”

মুনিরার দামী শাড়ি বলতে হাতে গোনা। পঁচিশ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে জামশেদ সাহেব নিজে তাকে একটি হলুদ রঙ্গের জামদানী উপহার দিয়েছিলেন। জামশেদ সাহেবের উপহার খুব হাতে গোনা। বিয়ের প্রায় ত্রিশ বছর হতে চললো। অথচ হাতে গুনলে তিনি চার কি পাঁচবার নিজ থেকে শখ করে বউয়ের জন্য উপহার এনেছেন। শাড়িটার প্রাইস ট্যাগটা দেখে মুনিরা বুঝেছিলো এটা খুব দামী শাড়ি। ফলে শাড়িটার ভাঁজ এখনো খোলা হয় নি। তিনি একবারও পড়েন নি। তাই শিলা শাড়িটার কথা উল্লেখ করতেই মুনিরার মুখখানা মিয়ে গেলো। ঠিক তখনই জামশেদ সাহেব মুনিরাকে বললেন,

“শাড়িটা ওকে পড়িয়ে নিয়ে আসো”

মুনিরার একবার ইচ্ছে হলো বলতে,

“এই শাড়িটাই কেন? আমি তো একবারও পড়ি নি”

কিন্তু এই বয়সে এসে এমন কথা বললে মানুষ ছোটলোকি ট্যাগ দিবে। বলবে, সামান্য শাড়ি-ই তো। হ্যা সামান্য শাড়ি। অথচ মুনিরার মনটা ঈষৎ খারাপ হলো। অথচ এমন তো প্রথম নয়। বহুবার এমন হয়েছে। তার নিজে পছন্দ করে কেনা আলমারী মেজো ননদ নিয়ে গিয়েছে। তার গহনা পরিয়ে সেজো ননদের বিয়ে হয়েছে। তার কত পছন্দের জিনিসের মায়া ত্যাগ করতে হয়েছে কারণ সে বড় বউ। তাহলে এই সামান্য শাড়িতে কি আসবে যাবে? প্রাপ্তি মায়ের মূর্ছানো মুখখানা দেখলো। ফলে নিজের অনিচ্ছাসত্ত্বেও বললো,

“মায়ের শাড়িই কেন? তুমি তো বিয়ের জন্য কম দামী শাড়ি কিনো নি। কালকেই তো দেখলাম। ওখানের একটা পর”

“তুই বেশি বুঝিস? আমার মেকাপের সাথে একটাও যাবে?”

প্রাপ্তি এবং জামশেদ সাহেবের চোখাচোখি হল। সে তার ঔরসজাত, অথচ দুজনের মধ্যে একটা অব্যক্ত যুদ্ধ চলছে। সেই যুদ্ধ হয়ত কখনোই থামবে না। কারণ প্রাপ্তি কখন মাথা নত করবে না। জামশেদ সাহেব চোখ সরিয়ে নিয়ে মুনিরাকে শুধালেন।

“তোমার কি শাড়ি দিতে আপত্তি মুনিরা?”

মুনিরা দাঁড়ালেন না। আলমারী থেকে শাড়িটা এনে পায়েলকে বললেন,

“শিলাকে পড়িয়ে দাও”

প্রাপ্তির রাগ হলো মায়ের উপর কিঞ্চিত। আরেকধরণের মহিলা মানুষ হলো তার মা। যাদের আকাশ সমান স্বপ্ন থাকে, কিন্তু তাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার সাহস থাকে না। তারা তাদের ভাগ্যের কাছে পরাজিত নয়, নত হয়। তাই তো নিজের বলে তাদের কিছুই থাকে না। তারা বাঁচে কিন্তু নিষ্প্রাণ পুতুলের মত। তাদের মনের মধ্যিখানে অভিমানের পাহাড় তাদেরকে শান্ত, ক্লান্ত, ক্ষান্ত করে দেয়। তারা জীবনের প্রতি কোনো আশা রাখে না। তারা নিজেদের গণ্ডিটুকু এতোটাই ছোট করে ফেলে যে উড়ার জন্য পাখা ঝাপটাতেও ভুলে যায়। তাদের কণ্ঠ তো থাকে কিন্তু সেই কণ্ঠে শেকল পড়ানো। প্রাপ্তি দীর্ঘশ্বাস ফেললো। সে এই দুধরণের নারীর মত হতে চায় না। সে ভিন্ন হবে। যেখানে সে আত্মত্যাগ করবে নিজের মর্জিতে।

*****

হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। একে একে হলুদ দেওয়া হচ্ছে। গান বাজছে। এখন খাওয়া-দাওয়া শুরু হবে। এরমধ্যে বড়ফুপু প্রাপ্তিকে বললো,

“যা তো স্টোর রুম থেকে স্টিলের দুটো বড় হাড়ি নিয়ে আয়। ডেকারেটরের বাটির শর্ট পড়েছে”

“প্রতুলকে বল”

“ও ব্যস্ত আছে। তুই যা না”

প্রাপ্তি একরাশ বিরক্তি নিয়ে নিয়ে গেলো। স্টোররুমটা নিচ তালায়। বাড়ির সবার আসবাবপত্রে ঠাসা এই ঘর। এখানে অনেক বাসনকোসনও রাখা। এগুলো সচরাচর ব্যবহার করা হয় না। স্টোর রুমের লাইটটা আগ থেকেই জ্বলছে। প্রাপ্তি ভেতরে গেলো। র‍্যাখ থেকে বড় বড় ধুলোমাখা হাড়ি নামাতেই একে একে অন্য হাড়িগুলো পড়তে লাগলো। অমনি একটা হাত তাকে টেনে সরিয়ে নিলো। ফলে হাড়িগুলো মাটিতে পড়ে ঝনঝন শব্দ করে উঠলো। প্রাপ্তি পাশে চাইতেই দেখলো অয়ন দাঁড়িয়ে আছে। সাথে সাথেই নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল। চোখ কুঁচকে শুধালো,

“আপনি এখানে কি করছেন?”

অয়ন মুখখানা বেচারামতন করে বললো,

“তোমাকে চোট খাওয়া থেকে বাঁচালাম, কোথায় একটু থ্যাংকিউ বলবে তা নয় জেরা করছো! একটু হলেই পাতিলের নিচে পড়ে চ্যাপ্টা হয়ে যেতে”

প্রাপ্তি চোখ মুখ কুঁচকে ফেললো। কঠিন স্বরে বললো,

“এখানে কি করছেন আপনি? কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হবে। যান এখান থেকে”

“আমি কি চুরি করছি নাকি যে কেলেঙ্কারি হবে?”

“উফফ”

“উফফ বলো না ভালোবাসা, দিলে লাগে।”

প্রাপ্তির নিজের চুল ছিড়তে ইচ্ছে হলো। একরকম বিরক্তি নিয়ে শুধালো,

“আপনি বেতালের ভুতের মতো আমার ঘাড়ে চাপা কবে থামাবেন?"

"যবে তুমি আমার বিনীত নিবেদন গ্রহণ করবে। বিনীত নিবেদন এই যে, আমি তোমার ছাত্র হতে চাই। মহোদয়ার মর্জি হলে আমাকে ছাত্র বানাইয়া বাধিত করুন"

“আমি খারিজ করলাম”

“আমি কি প্রেমিক হবার আবেদন জানাচ্ছি নাকি যে খারিজ করছো! আমি তো নিষ্পাপ অনুরোধ করছি। এতোটা নির্দয় হচ্ছো কেন তেলাপোকা?”

প্রাপ্তি উত্তর দিতে যাবে ঠিক তখনই কারেন্টটা দুম করে চলে গেলো। মুহূর্তেই অন্ধকারে ঢেকে গেলো স্টোররুম। সাথে সাথেই তার হাতটা চেপে ধরলো অয়ন। প্রাপ্তি ছাড়াতে চাইলো কিন্তু পারলো না। খুব শক্ত করে সে চেপে ধরেছে। একটু হলেই যেন হাড় ভেঙ্গে দিবে। প্রাপ্তি কড়া স্বরে বললো,

“হাতটা ছাড়ুন। কি করছেন?”

তখন অয়ন কাঁপা স্বরে বললো,

“লা…লাইটটা জ্বালাও প্লিজ। প্লিজ টার্ন অন দ্যা লাইট। প্লিজ”………

চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন