ফন্ট সাইজ:
থিম:
সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ

১৭তম পর্ব

লেখক: মুশফিকা রহমান মৈথি

#সিন্ধুপুষ্পের_অনুরাগ

#১৭তম_পর্ব

“লা…লাইটটা জ্বালাও প্লিজ। প্লিজ টার্ন অন দ্যা লাইট। প্লিজ”

অয়নের স্বর রীতিমত কাঁপছে। সে দু হাত দিয়ে প্রাপ্তির হাত আঁকড়ে ধরে আছে। এতোটাই শক্ত করে ধরে আছে যে প্রাপ্তির মনে হলো তার হাত ভেঙ্গে যাবে। সে যত ছাড়াতে চেষ্টা করলো ততোই বাঁধন শক্ত হলো। প্রাপ্তি রাগে গা জ্বলছে। অয়নের স্পর্শে তার অস্বস্তি বাড়ছে, গা গুলাচ্ছে। রাগে গজগজ করতে করতে বললো,

“হাত ছাড়ুন আমার। আমি কিন্তু চিৎকার করবো”

কিন্তু বিপরীতে অয়ন শুধু একটা কথাই বললো,

“লাইট…টা জ্বা…লাও প্লি…জ”

তার কণ্ঠে ভয়ের ছাপ। প্রাপ্তি খেয়াল করলো অয়নের হাত কেমন ঠান্ডা হয়ে আসছে। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে ধপ করে বসে পড়লো। প্রাপ্তির হাত ধরে থাকায় সেও হুমড়ি খেয়ে মেঝেতে পড়ে গেলো। অয়ন ক্রমাগত আকুল স্বরে বলতেই লাগলো,

“লা……ইট আস……ছে না কে……ন, আমা…র ভয় কর…ছে। প্লি…জ লাই…ট জ্বালা…ও”

কণ্ঠ কেমন দলা পাকিয়ে যাচ্ছে তার। এবার প্রাপ্তি ভীষণ অবাক হলো অয়নের এরুপ আচরণে। সন্দিহান স্বরে শুধালো,

“এমন করছেন কেন আপনি?”

অয়নের মত মানুষকে এমন ভঙ্গুর, কমজোর রুপে কখনোই কল্পনা করে নি প্রাপ্তি। তার স্বভাব, আচরণের সাথে মোটেই মিল খাচ্ছে না বিষয়টা। অয়ন একজন দাম্ভিক, স্বার্থপর, ইগোস্টিক এবং অসহ্য পুরুষ। অয়নের বদগুণ নিয়ে নির্দ্বিধায় একটা রচনা লিখে ফেলতে পারবে প্রাপ্তি। যার শিরোনাম হবে, “হাড়বজ্জাত অয়ন”। সে মরে যাবে কিন্তু নিজেকে দূর্বল দেখাবে না। দূর্বলতা দেখানোকে কাপুরুষতা ভাবে সে। সেক্ষেত্রে সে অন্ধকারকে ভয় পায়, ব্যপারটা হজম করতে পারলো না প্রাপ্তি। সে কি সত্যি অন্ধকারকে ভয় পায় নাকি এটা প্রাপ্তিকে কোনো ফাঁদে ফেলার জন্য অভিনয়? প্রাপ্তি অয়নের মুখ দেখতে পাচ্ছে না। স্টোর রুমে কোনো জানালা নেই। বাহিরেও বিদ্যুৎ নেই। ফলে একেবারে নিকষ কালো আঁধার। এই অন্ধকারে নিজের হাতটা দেখতে পাচ্ছে না প্রাপ্তি। শুধু অয়নের কম্পিত নিঃশ্বাস আর শীতল হাতজোড়ার রুক্ষ্ণ ত্বকটা অনুভূত হচ্ছে। অয়নের হাত আরোও বেশি ঠান্ডা হয়ে গেলো। সে প্রলাপের মতো জড়ানো স্বরে বারবার লাইট জ্বালাতে বলছে। অথচ প্রাপ্তির কাছে আলোর কোনো উৎস নেই। সে মোবাইলটা পাপিয়াকে দিয়ে এসেছে ছবি তোলার জন্য। স্টোররুমে মোমবাতি বা ম্যাচ কিছুই নেই। প্রাপ্তির মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। ফলে প্রাপ্তি হাতড়ে অয়নের বাহু ধরলো। হালকা ঝাঁকিয়ে বললো,

“আপনার মোবাইল কোথায়?”

কিন্তু অয়নের কানে যেন কথাখানা গেলো না। সে এক মনে বলতেই লাগলো,

“প্লিজ, লাই…ট জ্বালো। লাই…ট জ্বালো”

“আরে কারেন্ট না আসলে লাইট কি করে জ্বালাবো। আমার কাছে মোবাইল নেই। আপনার কাছে তো আছে। ওইটার ফ্লাশ অন করেন”

অয়ন আগের মতই প্রলাপ বকছে। ফলে প্রাপ্তির মেজাজ খারাপ হলো। এ তো আচ্ছা জ্বালা হল। কতসময় এমন ভাবে এই অসহ্য লোকের সাথে বসে থাকবে সে। নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে তাকে খোঁজাও শুরু হয়েছে। এটা মজুমদার বাড়ি, কেলেঙ্কারি বাঁধাতে এখানে সময় লাগে না। জামশেদ মজুমদারের বোনগুলো তো আছেই। প্রাপ্তির ইচ্ছে হল অয়নের চুল ছিড়ে ফেলতে। গাল ফুলিয়ে কিছুক্ষণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলো সে। মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে হবে কি করা যায়। এতো সহজে নিজের ভারসাম্য হারালে হবে না। সে এবার অয়নের হাতের উপর হাত রাখলো। কণ্ঠ যথাসম্ভব মোলায়েম করে বললো,

“আপনি ভয় পাচ্ছেন কেন? আপনি তো একা না। আমি আছি। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আপনি শান্ত হন। আমি আছি। শান্ত হন”

অয়ন তার মাথাটা ঠেকালো প্রাপ্তির হাতের উপর। আস্তে আস্তে বললো,

“আমার ভ…য় করছে। খু…ব ভ...য় করছে”

প্রাপ্তি তার এক হাত ছাড়ালো। অয়নের পিঠে হালকা করে হাতটা বুলিয়ে দিতে দিতে নরম স্বরে বললো,

“আমি আছি ভয় নেই। আপনি কি আপনার মোবাইলটার ফ্লাশ অন করতে পারবেন? একটু চেষ্টা করুন”

অয়নের গা কাঁপছে। সেই কাঁপাটা প্রাপ্তি খুব ভালো করেই টের পেলো। সে হয়তো অভিনয় করছে না। সে হয়তো সত্যি-ই অন্ধকার ভয় পায়। কিন্তু কেন? অন্ধকার নিয়ে কি তার কোনো খারাপ স্মৃতি রয়েছে? প্রাপ্তি তার পিঠে হাত বুলাতে লাগলো। সে টের পেলো যে হাতটা অয়ন ধরে রেখেছে সেটা ধরে এসেছে। ঝি ঝি করছে। কতটা সময় পার হয়েছে? জেনারেটর লাইনটা অন করা হয়েছে কি? অবশ্য জেনারেটর শুধু ছাঁদের জন্যই ভাড়া করা হয়েছে। প্রাপ্তির চিন্তা হচ্ছে। কেউ কি আসছে? সে কোনো ঝামেলাতে পড়তে চায় না। মনে মনে স্রষ্টাকে ডাকছে,

“আল্লাহ তা’আলা, প্লিজ কোনো ঝামেলা যেন না হয়”

হয়তো মহান আলাহ তার মনের আকুতি কবুল করলেন। স্টোররুমের লাইটটা জ্বলে উঠলো। প্রাপ্তি উৎফুল্ল স্বরে বললো,

“কারেন্ট এসেছে, কারেন্ট এসেছে”

অয়ন এবার চোখ তুললো। উদ্ভ্রান্তের মতো চাইলো চারপাশটা। প্রাপ্তি দেখলো সে ঘেমে গেছে। তার চোখের দৃষ্টি এলোমেলো। তার মুখখানা ফ্যাকাশে হয়ে আছে। প্রাপ্তি কিঞ্চিত উদ্বিগ্ন হলো। ধীর স্বরে শুধালো,

“আপনি ঠিক আছেন?”

অয়ন কিছুক্ষণ ভ্রান্ত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইলো। ফ্যালফ্যাল সেই দৃষ্টির অর্থটা ঠিক বুঝলো না প্রাপ্তি। কিন্তু পরমুহূর্তেই অয়ন তার হাতটা কিঞ্চিত ঝাঁড়া দিয়ে সরিয়ে দিলো। হাত দিয়ে মুখখানা মুছলো। নিজেকে সামলানো যেন কিছুই হয় নি। মেঝেতে হাত ভর করে উঠে দাঁড়ালো। তারপর শিরদাঁড়া সোজা করে কোনো কথা না বলেই কেমন হন্তদন্ত করে বেরিয়ে গেলো। এমন একটা ভাব যেন কিছুই হয় নি। প্রাপ্তি হতভম্বের মত তার যাওয়ার দিকে চেয়ে রইলো। মানুষ ভদ্রতা করে হলেও একটা ছোট ধন্যবাদ তো দেয়। অথচ এই লোকের মধ্যে ন্যূনতম ভদ্রতাও নেই। প্রাপ্তির হাতটা অসাড় বানিয়ে দিয়েছে অথচ কোনো কথা না বলেই বেরিয়ে গেলো? আর প্রাপ্তি কি না এই অভদ্র মানুষের জন্য একটু আগে উদ্বিগ্ন হয়ে ছিলো। প্রাপ্তির ছাই চাঁপা রাগটা আবার হু হু করে বেড়ে গেলো। মানুষ অকৃতজ্ঞ। প্রয়োজনের সময় তারা তোমার পা ধরতেও দ্বিধা করবে না আর প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তোমাকে ছুড়ে ফেলতেও তাদের হাত কাঁপবে না। প্রাপ্তি একারণেই কারোর প্রতি অনর্থক সহানুভূতি দেখাতে চায় না। অয়নও সেই ক্যাটাগরিতেই পড়ে। সুতরাং সে অহেতুক তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে। তার সময় এবং সহমর্মিতা উভয়ই বিফলে গেছে। প্রাপ্তি সময় নষ্ট না করে উঠে দাঁড়ালো। পাতিলটা নিয়ে বের হতেই যাবে অমনি নীলা আপুর কণ্ঠ কানে এলো,

“অয়ন ভাইয়া আপনি কি স্টোর রুমে ছিলেন?”

নীলা বাহিরেই দাঁড়িয়ে আছে। অয়নের সাথে কথা বলছে। এখন যদি প্রাপ্তি বের হয় তাহলে নীলা তাকে দেখে ফেলবে। এটা সমস্যার কিছু নয়। কিন্তু সমস্যাটা হলো নীলা অয়নকে স্টোররুম থেকে বের হতে দেখেছে। সুতরাং প্রাপ্তিকে স্টোররুম থেকে বের হতে দেখলে তার বুঝতে এক সেকেন্ড সময়ও লাগবে না যে কারেন্ট না থাকার সময়টাতে তারা একত্রে ছিলো। আর নীলার যে স্বভাব, সে এই ঘটনাটা বিবিসি নিউজের শিরোনাম বানিয়ে ছড়িয়ে দিবে মজুমদার বাড়িতে। সুতরাং এখন মোটেই বের হওয়া যাবে না। কিন্তু নীলা যদি স্টোর রুমের দিকে আসে তবে তো এমনিতেই জেনে যাবে প্রাপ্তি স্টোররুমে ছিলো তাও অয়নের সাথে। স্টোররুমে লুকানোর কোনো জায়গাও নেই। প্রাপ্তি মাথা কাজ করছে না। এই অয়ন শিকদারের জন্য সে একটা ঝামেলায় পড়বেই মনে হচ্ছে। অয়ন যে পরিমাণের পাঁজি সে তাকে বাঁচানোর চেষ্টাও করবে না। প্রাপ্তি কেন তখন বেরিয়ে গেলো না, কেন বসে থাকলো পুরোটা সময় অয়নের সাথে—একথাগুলো ভেবেই চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছে নিজের। সে দরজাটা ভিজিয়ে দিলো। নিজেকে আঁড়াল করলো যেন নীলা তাকে কোনো ভাবেই দেখতে না পারে। কান পেতে শুনতে লাগলো নীলা এবং অয়নের কথোপকথন। ফলে শুনতে পেলো নীলা আবার অয়নকে শুধাচ্ছে,

“আপনি স্টোররুমে কি করছিলেন অয়ন ভাই?”

অয়ন একটু সহজ গলায় উত্তর দিলো,

“আমার ফোন এসেছিলো। কথা বলার জন্য এসেছি। ছাঁদে তো গান বাজছিলো, শোনা যাচ্ছিলো না কিছু। সিড়িঘরে তোমাদের নেটওয়ার্কের ঝামেলা হচ্ছিলো। তাই ওদিকটা গিয়েছিলাম। তখনই কারেন্ট চলে গেছে”

“আপনি একা ছিলেন? আর কেউ ছিলো না স্টোররুমে?”

অয়ন একটু সময় নিয়ে উত্তর দিল,

“হ্যা, আমি একা ছিলাম। আমার সাথে কেউ ছিলো না স্টোররুমে”

“আমার বোনকে দেখেন নি?”

“কোন বোন?”

“ওই যে চিকন, মোটা চশমা, কাঁধ অবধি চুল, হলুদ শাড়ি!”

“চিনতে পারছি না ঠিক”

“ওকে না চিনারই কথা। প্রাপ্তি এমন-ই। ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলেও ওকে কেউ চিনতে পারবে না”

অয়ন মৃদু হেসে সহজ গলায় বললো,

“এটা কিন্তু তুমি ভুল বললে। আমি তো মনে করি এই পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের একটা আলাদা গুণ আছে ভিড়ের মধ্যে নিজেকে চেনানোর। হয়তো তোমার বোনেরও আছে”

নীলা যেন একটু লজ্জা পেলো। সে কথা পাল্টে বললো,

“আপনি ছাদে যান, অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে”

“আর তুমি কোথায় যাচ্ছো?”

ব্যগ্র স্বরে শুধালো অয়ন। নীলা হালকা হকচকালো অয়নের প্রশ্নে। ভ্রান্ত স্বরে বললো,

“আমি স্টোররুমে যাচ্ছি। আসলে বড়খালা প্রাপ্তিকে একটা কাজ দিয়েছিলো। আর ও কাজ না করেই গায়েব। নিশ্চয়ই ফাঁকিবাজটা নিজের ঘরের দরজা দিয়ে বসে আছে। ও এমনই, আনসোশ্যাল। এখন ওর কাজটা আমার করতে হবে”

বলেই নীলা যেতে ধরলে অয়ন তার হাত টেনে ধরলো। স্টোররুমের দিকটা সম্পূর্ণ আড়াল করে বললো,

“তুমি কি ঘেমে গেছো? তোমার কাজলটা নষ্ট হয়ে গেছে। গলে গেছে। স্টোররুমে যে ময়লা আর গরম, আমার মনে হয় ওখানে গেলে তোমার মেকাপ আরোও নষ্ট হয়ে যাবে। আই থিংক তুমি বরং মেকাপটা ঠিক করে এসো। নয়তো একটাও ছবি ভালো আসবে না। তোমার বোনের বিয়ে, তোমার ছবি ভালো না আসলে হয়?”

অয়নের কথাটা সাথে সাথেই কাজে লাগলো। নিজের কাজল গলে গেছে শুনে নীলা মুহূর্তের মধ্যে অস্থির হয়ে গেলো। ব্যগ্র কণ্ঠে বললো,

“কই দেখি!”

বলেই নিজের মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা অন করতেই যাবে অয়ন মোবাইলটা নামিয়ে বলল,

“তুমি আমার কথা বিশ্বাস কর না! কষ্ট পেলাম নীলা। সত্যি বলছি তোমাকে ভালো দেখাচ্ছে না। এক কাজ কর আমার সাথে উপরে চল। ফ্যানের নিচে বসলে মনে হয় মেকাপটা ঠিক হয়ে যাবে। চল চল”

বলে একপ্রকার টেনে নিয়ে গেলো সে নীলাকে। যাবার সময় একবার তাকালো স্টোররুমের দিকে। এদিকে বাহিরে কোনো শব্দ না পেয়ে প্রাপ্তি উঁকি দিলো। না, কেউ নেই। ময়দান ফাঁকা এখনই সময়। সে তাড়াতাড়ি পাতিল নিয়ে বেরিয়ে গেলো। বড়ফুপিকে পাতিল দিতেই তিনি রাগী স্বরে শুধালেন,

“কই ছিলি তুই এতোক্ষণ?”

প্রাপ্তি মিথ্যে বলে না। তার মিথ্যা বলা পছন্দ নয়। কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে বললো,

“কারেন্ট চলে গেছিলো তো, আমি দোতালায় চলে গেছিলাম। অন্ধকারে তো দেখতে পাচ্ছিলাম না, নামতে গেলে যদি আমি সিঁড়ি দিয়ে পড়ে যেতাম তখন? তাই কারেন্ট আসার পরই নেমেছি”

“তুই দোতালায় ছিলি?”

“হ্যা”

বড়ফুপি আর প্রশ্ন করলেন না। তিনি হয়তো বিশ্বাস করলেন। প্রাপ্তি হাঁফ ছাড়লো। অবশ্য ফুপির বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় নেই। দোতালায় কেউ ছিলো না। সবাই ছাঁদ আর চারতালায় ছিল। সুতরাং প্রাপ্তি যে মিথ্যে বলছে তার প্রমাণ নেই। প্রাপ্তি বড়ফুপির জেরা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে ছাঁদে গেলো। ছাঁদে আবার গান বাজনা শুরু হয়েছে। বউকে হলুদ মাখানো হচ্ছে। প্রাপ্তি একটা চেয়ার টেনে বসলো। গরমে ঘেমে গেছে একেবারে। হঠাৎ তার মনে হলো কেউ তাকে দেখছে। প্রাপ্তি আশপাশ তাকাতেই অয়নের সাথে চোখাচোখি হল। সে বসে রয়েছে তার ভাইদের সাথে। কিন্তু তার দৃষ্টি প্রাপ্তির দিকে নিবদ্ধ। একরোখা, স্থির, গাঢ় দৃষ্টি। প্রাপ্তি দৃষ্টি সরিয়ে নিলো। একটু পরে আবার তাকালো। অয়ন এখনো তার দিকেই তাকিয়ে আছে। প্রাপ্তি কেমন অস্বস্তি লাগলো। তবে সেটা দীর্ঘস্থায়ী হল না। নীলা কোথা থেকে অয়নের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো,

“চলুন আপনারা হলুদ দিবেন”

পাত্রপক্ষ উঠে দাঁড়ালো। নীলা তখন অয়নকে জিজ্ঞেস করলো,

“ভাইয়া এখন আমাকে ঠিক লাগছে?”

অয়ন একটু সময় নিয়ে বলল,

“চোখ ফেরানো যাচ্ছে না, এতোটা সুন্দর লাগছে। চল একটা সেলফি তুলি”

বলেই ফোনের সেলফি ক্যামেরাটা অন করলো। প্রাপ্তির দিকে পিঠ দিয়ে নীলার সাথে সে ছবি তুললো। সাথে সাথেই প্রাপ্তি মুখ বাঁকালো। নীলা আপুর বেহল্লাপনা তার সহ্য হয় না। আর ঘরের সদস্যগুলো এখন অন্ধ হয়ে গেছে। রক্ষণশীলতার ভণ্ডামিটা এখন কেউ দেখাচ্ছে না। যতসব। এদিকে অয়ন ছবিটা তুলে একবার দেখলো। ছবিটাতে প্রাপ্তিকেও দেখা যাচ্ছে সে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। অয়ন মৃদু হাসলো। তারপর নীলাকে বললো,

“আমার মোবাইলে ছবি ভালো আসছে না। আমরা পরে ছবি তুলবো কেমন?”

নীলার মন খারাপ হলো অবশ্য। কিন্তু অয়ন নিজের ভাইদের সাথে এগিয়ে হলুদ দিতে।

****

হলুদ অনুষ্ঠান শেষে অয়নরা সবার কাছ থেকে বিদায় নিল। যাওয়ার সময় অয়ন আশপাশটা দেখছিলো। ফলে তার চাচাতো বোন শুধালো,

“কি দেখছো অয়ন ভাই?”

“না, কিছু না”

বলেই অয়ন বেরিয়ে গেলো। গাড়িতে উঠার পর সে নিজের মোবাইলটা বের করলো। গ্যালারি থেকে তার এবং নীলার ছবিটা বের করলো। এডিট অপশনে যেয়ে নীলাকেসহ বাকিদের কেটে দিল। এখন ছবিটাতে শুধু সে এবং প্রাপ্তি। ছবিটা প্রাপ্তির হোয়াটস এপে পাঠিয়ে লিখলো,

“একটু তাকালে ছবিটা কিন্তু সুন্দর আসতো ভালোবাসা। তুমি বড্ড কষটা, একদম কাঁচা কাঠালের মত। কিন্তু সমস্যা নেই, আমার ইঁচর দারুণ লাগে। আর আরেকটা কথা, ভেবো না আমি তোমার কাছে ঋণী। তুমি আমাকে অন্ধকারে সামলেছো, আমি তোমাকে নীলা থেকে বাঁচিয়েছি সুতরাং আমাদের হিসেব কাটাকাটি, ফিট্টুস। মামলা ডিসমিস, আসামী খালাস”………

চলবে ,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন