ফন্ট সাইজ:
থিম:
সিন্ধুপুষ্পের অনুরাগ

১৯তম পর্ব

লেখক: মুশফিকা রহমান মৈথি

#সিন্ধুপুষ্পের_অনুরাগ

#১৮তম_পর্ব (বর্ধিতাংশ)

পাঁপিয়ার কথা শুনে মশা মারা থামিয়ে দিলো পায়েল। শকুনের মতো তেড়ে এসে বসলো প্রাপ্তির সামনে। বিস্মিত স্বরে বলল,

“তুই প্রেম করছিস?”

প্রাপ্তি সাথে সাথেই সতর্কচোখে আশেপাশে তাকিয়ে মুখ চেপে ধরলো পায়েলের। চোখ গরম করে বললো,

“চুপ একেবারে”

পায়েল মুখ চাপা অবস্থাতেই “উ উ” করে যাচ্ছে। প্রাপ্তি দাঁতে দাঁত চেপে বললো,

“আমি প্রেম করছি না। এই তুই আমার নামে মিথ্যে কথা রটাচ্ছিস কেন?”

পাঁপিয়ার দিকে রাগী স্বরে শুধালে সে চুপসে গেলো। খুব অসহায় স্বরে শুধালো,

“তাহলে ওখানে “ভালোবাসা” লেখা কেন? আর তোদের একসাথে ছবিও দিয়েছে। অয়ন ভাইয়াকে তুই চিনিস?”

পায়েল একপ্রকার নিজের মুখ থেকে প্রাপ্তির হাত সরিয়ে চোখ গোল গোল করে শুধালো,

“তুই শিলা আপুর দেবর অয়নের সাথে প্রেম করছিস?”

“একটা গাট্টা মেরে তোর মাথা ফাটিয়ে দিব, আরেকবার চেঁচালে। তোর লাউডস্পিকার গলাটা এখানে না বাজিয়ে বসার ঘরে বাজা যা। ফুপুদের কানের কাছে বাজা আরোও ভালো হবে”

পায়েল এবার নিজের কণ্ঠটা খাঁদে নিয়ে বললো,

“কতদিনের প্রেম?”

প্রাপ্তির ইচ্ছে হলো একটা পিলারে নিজের মাথাটা টাক মারতে। মায়ের পেটের বোনেরা এতো মাথামোটা কি করে হলো? তাদের ঠিক কি দেখে মনে হল প্রাপ্তি প্রেম করছে! তাও আবার অয়নের সাথে? পৃথিবী ধ্বংসের সময় যদি একটা পুরুষ বেঁচে থাকে এবং সেই পুরুষটা অয়ন হয় তবুও প্রাপ্তি অয়নের প্রেমে পড়বে না। ওর মতো লুইচ্চা ছেলের প্রেমে পড়ার থেকে আজীবন প্রেমহীন, পুরুষহীন থাকা ভালো। আর প্রাপ্তির এতো ফালতু সময় নেই। তার জীবনের উদ্দেশ্য আছে। প্রেমে পড়া কারোর জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে না। প্রেম প্রয়োজনীয়তা নয়, সেটা আনুষঙ্গিক। যখন মানুষের জীবনের সব প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায় তখন মানুষ প্রেমে পড়তে চায় যেন জীবনে বাড়তি ঝামেলার সৃষ্টি হয়, এতে তার জীবনের একঘেয়েমিভাবটা কাটে। প্রাপ্তির জীবনে কোনো একঘেয়েমিভাব নেই। তার জীবন সর্বদাই একটা নাট্যমঞ্চ। যেখানে অনেক অনেক চরিত্র রয়েছে। যারা হরদম পালা করেই যাচ্ছে। সুতরাং এই পালামঞ্চে প্রেম নামক নতুন পরিচ্ছেদের পর্দা তোলার মানেই নেই। প্রাপ্তি উঠে ঘরের দরজা আটকে দিল। দুই বোনের সামনে পদ্মাসনে বসলো। তাদের মনের সন্দেহগুলো বাড়তে দেওয়া যাবে না। গাল ফুলিয়ে তপ্ত নিঃশ্বাস ফেললো। তারপর খুব শান্ত স্বরে বললো,

“অয়ন ভাইয়া আমার ভার্সিটির থার্ড ইয়ারে পড়ে। আমার সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই এক্সেপ্ট শত্রুতার। এই মানুষটিকে আমার দু চোখে সহ্য হয় না। কারণ সারাটাক্ষণ উনি আমাকে নানাভাবে উত্যক্ত করেন। এতে উনি পৈশাচিক আনন্দ পান। আমাদের শত্রুতা কলজের প্রথম দিন থেকে।“

“তাহলে ভালোবাসা…”

“ওইটা ডেকে আমাকে রাগাতে চান। ওই যে বললাম, পৈশাচিক আনন্দ। উনি একটা অসহ্য ব্যক্তি। মাঝে মাঝে আমার তো ইচ্ছে করে এই লোকটাকে যদি শিফট ডিলিট করা যেত! উফফফফ। কিন্তু ইনি হল একটা ম্যালওয়ার ভাইরাস। একেবারে উইন্ডোজ না দেওয়া পর্যন্ত পিছু ছাড়বে না”

প্রাপ্তি অয়নকে নিয়ে কথা বলছে আর তার মুখ রাগে লাল হচ্ছে। পায়েল হতাশ নিঃশ্বাস ফেললো। নাহ, সব আশা জ্বলে গেলো। তার বোনের স্বভাব এক বিন্দু বদলায় নি। সে যেমন ছিলো সে তেমন-ই আছে। এদিকে প্রাপ্তি পাঁপিয়াকে বললো,

“দেখ, আমার মোবাইলে কি তার নম্বর সেভ করা? আমার ম্যাসেজ, হোয়াটসএপ কোথাও তার অস্তিত্ব আছে? ইভেন যে নাম্বার থেকে ম্যাসেজটা পাঠিয়েছে ওই বদটা, ওখানে কি অন্য কোনো ম্যাসেজ আছে?”

পাঁপিয়া মাথা দু পাশে দোলালো। প্রাপ্তি হতাশ স্বরে বললো,

“আমি প্রেম করলে মোবাইল এমন তোর হাতে দিয়ে থাকতাম না। আল্লাহ ব্রেইন দিয়েছে ইউজ কর। খবরদার যদি বাসায় আমার নামে কোনো বাজে কথা রটিয়েছিস তো দেখিস আমি কি করি! এসেছি এক সপ্তাহের জন্য, একটু শান্তি দে”

বোনদের মধ্যে প্রাপ্তির মেজাজটাই খুব চড়া। হয়তো মজুমদার বংশের স্বভাব পেয়েছে বলেই। বাকি দুবোন একেবারে মুনিরার ফটোকপি। কোনো উচ্চবাচ্য নেই। কোনো তর্ক নেই, বরং একটু বোকা ধরণের। ফলে প্রাপ্তির ধমকে কাজ দিলো। দু-বোন ঘাড় দুলিয়ে মেনে নিলো। প্রাপ্তির খুব রাগ হলো অয়নের উপর। লোকটাকে ফোন দিয়ে যদি গুণে গুণে চারটে বাংলা গালি দেওয়া যেত মনে শান্তি লাগতো। কিন্তু প্রাপ্তি জানে সেই গালি দিলেও তার মেজাজ ঠান্ডা হবে না। উলটো লোকটার কণ্ঠ শুনলে রাগে গা গিজগিজ করবে। লোকটি তাকে রাগানোর সব পয়তারা জানে। নিশ্চয়ই বলবে,

“ভালোবাসা কি রাতদুপুরে আমার কণ্ঠ শুনতে ব্যকুল হয়ে গেছো?”

এমন কথা বললে প্রাপ্তির ইচ্ছে হবে মোবাইলের ভেতর থেকে ঢুকে তার মাথা ভেঙ্গে দিতে। প্রাপ্তি গাল ফুলিয়ে তিন-চারবার নিঃশ্বাস ছাড়লো। আজকাল অতিরিক্ত রেগে যাচ্ছে সে। কথাবার্তাও বড় ফুপুর মতো হয়ে যাচ্ছে। বড়ফুপু রেগে গেলে এমন মারতে উদ্ধত হন। নিজের এতো বড় ছেলে শাকিল ভাইকে সবার সামনে ঝাড়ু দিয়ে পেটাতে গিয়েছিলেন। কারণ হলো সে নিজের পছন্দের একটি মেয়েকে কাউকে না বলে বিয়ে করে এনেছেন। শাকিল ভাই মানুষটা স্বাধীনচেতা। সবসময় কুচ পরোয়া নেই টাইপ ভাবসাব তার। তাই তো নিজের পছন্দের মেয়েকে ধুম করে বিয়ে করে চলে এলেন। বড় ফুপুর সামনে এনে দাঁড় করিয়ে বললেন,

“এই যে মা, তোমার পুত্রবধূ”

বড়ফুপু কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর রান্নাঘর থেকে ঝাড়ু বের করে বেধরক মার। শাকিল ভাইও আত্মসম্মানী মানুষ। সে তৎক্ষণাৎ বউ দিয়ে বেরিয়ে গেলেন। ছয়মাসের মধ্যে জাপানে চলে গেলেন। শাকিল ভাই এখনো সেখানেই আছেন। ফিরেন নি। শোনা গেছে, তার তার জমজ বাচ্চা হয়েছে, তাদের বয়স এখন দশ হবে। অথচ নিজের মাকে ছবি পর্যন্ত পাঠায় নি। বড় ফুপুও জেদী। তিনি ঘোষণা করলেন এখন থেকে আমার একটি ছেলে সে হল শাহদাত। শাকিল মরে গেছে। প্রাপ্তির ধারণা সে তার বড় ফুপুর কিছু স্বভাব পেয়েছে। বিটকেল, জেদী, রাগী। মাঝে মাঝে ভাবতেই অবাক লাগে, বড় ফুপু এতগুলো বছর শাকিল ভাইয়ের সাথে কথা বলেন না। অবশ্য এসব রঙ্গ মজুমদার পরিবারের নতুন না। এমন অনেক রঙ্গ আছে এই পরিবারে। হয়তো আগামীকালই আরেকটা নাটক ঘটবে।

****

প্রাপ্তি ঠিক ধরেছিলো মজুমদার বাড়িতে আরেকটি নাটক ঘটবে। নাটকটি এবার ঘটালেন সেজো ফুপু। নাটকের মুল পাত্রী সেজোফুপু এবং প্রাপ্তি, সাইড চরিত্র মেজো ফুপু। নাটকের শিরোনাম হলো “প্রাপ্তির পরণে কেন হবে পুরানো কাপড়!”।

বিয়ে সম্পর্কিত যেহেতু কোনো জ্ঞান প্রাপ্তির ছিলো না এবং সে বাসায় আসবে সেই কথাটাও জানা ছিলো না। তাই তার জন্য কোনো জামা কেনা হয় নি। মুনিরা খুব একটা কেনাকেটা করে না। তার জীবনটা সীমাবদ্ধ কেবল ঘরের ফাইফরমাশ খাটতে। সে নিজেও কোনো শাড়ি কিনে নি। পাঁপিয়াও তার ঈদের জামাটাই পড়ছে। কিন্তু ঝামেলা হলো প্রাপ্তির ঈদের জামাকাপড়ও খুব একটা ভালো নয়। সে খুব কারুকাজ করা জামা পড়তে পছন্দ করে না। তার কথা জামাই তো, একটা কাপড়। যত আরামদায়ক হবে তত ভালো। শপিং মলে যেয়ে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা তার কাছে লাগে সময় এবং অর্থ অপচয়। যতটুকু প্রয়োজন তার বাহিরে খরচা প্রাপ্তির ভালো লাগে না। সেই কারণেই তার আলমারি খুললে সুতির ত্যানা কাপড় ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। সেই একটা জামাই সে ঘুরে ফিরে পড়ে। মা যদি ভালো কিছু কিনেও দেয় সেটা সেভাবেই পরে থাকে। পায়েলের বিয়ের সময় সে তার পরীক্ষার বাহানায় শুধু একবার যেয়ে খেয়ে চলে এসেছে। নিজের বোন তাই প্রাপ্তির অকপটে আবদার মেনে নিয়েছে। কিন্তু শিলা তো আপন বোন না। আর ফুপুরা সুযোগ খুঁজে শুধু। প্রাপ্তি মায়ের একটা শাড়ি পরতে চাইলে সেজো ফুপু বলে উঠলেন,

“এই পুরানো শাড়ি পড়বি? আমাদের একটা মানসম্মান তো আছে। তোকে দেখাবে কেমন? মানুষ তো জামাকাপড়টাই দেখে। জামাকাপড়েই স্ট্যাটাস বোঝা যায়। তোর বোনেরা এত দামী জামা পড়বে তুই এমন ফকিন্নি হয়ে যাবি শিলার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কি বলবে?”

প্রাপ্তি নির্বিকার স্বরে বললো,

“তার কি বলবে সেটাতে আমার কি যায় আসে?”

“অদ্ভুত যায় আসবে না কেন? তুই ওর বোন। ওরা ভাববে আমরা ছোটলোক। মেজআপার মুখ থাকবে না। শিলার মাথা নিচু হয়ে যাবে”

প্রাপ্তি তখন মৃদু হেসে বললো,

“তাহলে কি চাও? আমি যেন না যাই?”

“না না সেটা কেন? তুই যাবি না কেন? বোনের বিয়েতে তুই তো আরোও উৎসাহিত মনে যাবি। কিন্তু একটু সুন্দর-পরিপাটি হয়ে। বলি ভাবির আর শাড়ি নেই? সে যে শাড়ি কিনে সেগুলো কোথায়?”

প্রাপ্তির মেজাজ এবার চড়াও হলো। কঠিন স্বরে বললো,

“আমার মা তো তোমার মত চৌদ্দ দোকান ঘুরে বেড়ায় না ফুপি। তোমার জীবনের লক্ষ্য যেমন দোকানের কাপড়ের দাম মুখস্ত করা তেমন আমার মার লক্ষ্য তার একটা সংসার চালানো। তোমরা থাকো আলাদা ঘরে কিন্তু তোমাদের খাওয়া তো হয় আমাদের বাড়িতে। এতোযে চায়নার জনগোষ্ঠীর মতো খাও রান্নাটা করে কে? শোন ফুপি এতো ফাউ প্যাচাল ভালো লাগছে না। এককাজ করো তুমি একটা আসমানী শাড়ি কিনেছো দেখলাম। আমাকে ওইটা দাও, আমি ওইটাই পরবো”

“ওইটা পরবি?”

সেজোফুপু আমতা আমতা করছেন। প্রাপ্তি বললো,

“হ্যা, পরব। শিলা আপুর মানসম্মানের ব্যাপার। আমার মা তো তার হলুদ বাঁচাতে ঠিক নিজের শাড়িটা দিয়ে দিল। তুমি তোমার ভাতিজির জন্য এটুকু করতে পারবে না? আমি তো আর শিলা আপুর মত একেবারে নিয়ে নিচ্ছি না”

এ কথা শুনতেই মেজোফুপু ক্ষেপে গেলেন,

“একেবারে নিয়ে নিয়েছে মানে? ভাবি তো দিলো। হলুদের শাড়ি ওইটা। ভাবি কি আবার গায়ে দিবে নাকি? যদি তাই হত বলেই দিত, শাড়িটা শিলা পড়তো না। আমার মেয়ের কি কম আছে নাকি! একটা শাড়ি নিয়ে ছোটলোকি করছিস!”

প্রাপ্তি তার দিকে কড়া করে চাইতেই তিনি চুপ করে গেলেন। প্রাপ্তির চাহনী একেবারে জামশেদ সাহেবের অনুরুপ। সে ঠান্ডা স্বরে বললো,

“হয়ে গেছে? তোমার না মেয়ের বিয়ে? তাহলে এখানে ঘষেটি বেগমের মত দাঁড়িয়ে আছো কেন? যাও মেয়েকে দেখো। আজ যদি বিয়ের শাড়ি খারাপ হয় তাহলে আমার মায়ের কোনো বিয়ের শাড়ি নেই। আর সেজো ফুপি, তুমি শাড়িটা বের কর। আমি ওইটাই পরবো”

সেজোফুপু পড়লেন বিপাকে। বলতেও পারছেন না,

“তোর যা ইচ্ছে তাই পর"

শাড়িটা উনি বৌভাতের জন্য কিনেছিলেন। কিন্তু এখন এই শাড়িটা প্রাপ্তি পড়বে”

প্রাপ্তি আবার বললো,

“ওই শাড়িটাই আমি পরবো, নয়তো তোমার ওই যে কাজের মেয়েটা আছে না রহিমা? ওর জামা পরে যাব। আমাকে তো চেন, যেয়ে একেবারে শিলা আপার শ্বশুরবাড়ির লোকের সামনে নেত্য করবো। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলব, “আমার ফুপুরা আমার বাবার সব টাকা মেরে দিয়েছে তাই আমরা গরিব”। মিথ্যে বলা হবে, কিন্তু তাতে আমার কি!”

সেজো ফুপু রাগে গজগজ করতে লাগলেন। কিন্তু কিছু করার নেই। প্রাপ্তি যা বলে তাই করে। এই মেয়েটার মাথায় সমস্যা।

*****

শিলার বিয়ের দিন সেজোফুপুর দামি আসমানী শাড়িটাই পড়ল প্রাপ্তি। তাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে পায়েল। মুখে হালকা মেকাপ, চোখে কাজল, ঠোঁটে লিপস্টিক। চুলগুলো স্ট্রেট করেছে। একটা গোলাপও কায়দা করে পরিয়ে দিয়েছে। যে কেউ দেখলেই প্রাপ্তিকে সুন্দর বলবে। অথচ অয়ন বললো,

“তুমি কখনো এই শাড়িটা পড়বে না, তেলাপোকা। তোমাকে আসমানী রঙে খুব বাজে লাগে।“.........

চলবে,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন