#হুটহাট_পরিনীতা—— #পর্ব_৬
লেখনী—— #নওরিন_কবির_তিশা
মাটি কাঁদায় জুবুথুবু হয়ে প্রায় সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে বাড়ি ফিরছি। ভাগ্যিস বিলের এলাকা, জনসংখ্যা নিতান্তই নগণ্য। তাই হাজারটা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার হাত থেকে বেঁচে কোনমতে সম্মানটা বগলদাবা করে ফিরছি। এদিকে অন্তিকের অবস্থা পুরাই জন্ডিস। ভিজে একাকার শার্ট খানা উনার সুঠাম দেহের সঙ্গে একেবারে চিপকে লেপ্টে আছে। কাদা-জলের অকাল স্রোতে বিলের অতল গহ্বরে বিসর্জন দিয়েছেন সাধের চশমাটা। আমার অবস্থার কথা আর না বলি! ভেজা শরীরে কোনোমতে ওড়নাটা লতাপাতার মত জড়িয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
তবে আমার নিশ্চিন্ত থাকার একমাত্র কারণ আমার গুরুগম্ভীর বরটা। সিরিয়াস মুখ বানিয়ে রাখলেও সমগ্র পথটা ওনার চওড়া অবয়ব আমাকে রক্ষা করেছে। ভেজা শার্টের আড়ালে বুকে বুঝে আমাকে নিয়ে হাঁটছেন উনি। অদ্ভুত শিহরণ খেলে যাচ্ছে আমার সর্বাঙ্গে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানবী বলে এই মুহূর্তে নিজেকে ঠাওর হচ্ছে আমার। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজেই যদি এমন বর পাওয়া যায়,তাহলে বোকা মেয়েগুলো শুধু শুধু লাভ লাভ ম্যারেজ করে কেন যে পরিবারকে দুঃখ দেয়!
হাঁটতে হাঁটতে আমি ওনার বুকের দিক থেকে মুখটা সামান্য উঁচিয়ে তাকালাম। চশমা ছাড়া ওনার চোখ দুটো এই মৃদু সন্ধ্যায় বড্ড বেশি ড্যাশিং লাগছে। আমি একটু আদুরে গলায় ফিসফিস করে বললাম,
‘আচ্ছা, আপনি কি সত্যিই অনেক বেশি রেগে আছেন? চশমাটা ওভাবে হারিয়ে গেল...’
অন্তিক সামনের মেঠো পথের দিকে তাকিয়েই রইলেন, ওনার পায়ের গতি একটুও কমল না; চিরচেনা ভরাট, গম্ভীর কণ্ঠে বড্ড নিস্পৃহভাবে বললেন,
‘রাগার চেয়েও বেশি নিজের বুদ্ধির ওপর সন্দেহ হচ্ছে।একজন সতেরো বছরের নাবালিকার শাপলা তোলার শখ পূরণ করতে গিয়ে যে নিজেকে এভাবে বিলের কাদায় সাঁতার কাটতে হবে, জানলে কখনোই বিয়ে নামক ফাঁদে পা দিতাম না।’
ওনার এই গালভরা গুরুগম্ভীর কথায় আমি মোটেও দমে গেলাম না। বরং ওনার ভেজা শার্টের কলারটা আর একটু শক্ত করে খামচে ধরে বললাম,
‘তাতে কী হয়েছে? উপন্যাসের নায়কেরা তো নায়িকার জন্য কত কী করে! আর আপনি না হয় আমার জন্য একটা চশমাই বিসর্জন দিলেন। তাছাড়া, চশমা ছাড়া আপনাকে যে কী পরিমাণ ড্যাশিং লাগছে, তা কি আপনি জানেন? একদম পুরাই ক্রাশ খাওয়ার মতো!’
আমার এই অনবদ্য ও স্পষ্ট স্বীকারোক্তিতে অন্তিক এবার থমকে দাঁড়ালেন। ওনার সেই গম্ভীর চাউনি আমার মুখের ওপর নিবদ্ধ হলো। চাপদাড়ির আড়ালে ওনার তামাটে ঠোঁটজোড়া শক্ত করে চেপে রেখে, নিজের ভেতরের রোমান্টিকতাকে জোরপূর্বক দমন করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা চালালেন উনি। অতঃপর অত্যন্ত রাশভারী গলায় বললেন,
‘মিসেস তরী, আপনি বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন যে আমরা কোনো উপন্যাসের পাতায় নেই। এই ভেজা কাপড়ে আর কিছুক্ষণ থাকলে কাল সকালে ডক্টর অন্তিক শাহরিয়ারকে নিজেরই জ্বর-ঠান্ডার প্রেসক্রিপশন লিখতে হবে। আর আপনি? নিউমোনিয়া বাঁধিয়ে বসলে তখন ওই উপন্যাসের নায়কেরা এসে ইঞ্জেকশন দেবে না, মনে থাকে যেন!’
ওনার এই রসকসহীন ডাক্তারী ধমকে আমার ঠোঁট দুটো আপনাআপনি উল্টে গেল। মুখে এক গাদা অভিমান জমিয়ে বললাম,
‘উফ! আপনি আস্ত একটা আনরোমান্টিক খচ্চর পুরুষ! এত সুন্দর একটা মুহূর্তেও আপনার মাথায় শুধু ওই অসুখ আর ইনজেকশনের চিন্তাই ঘোরে!’
★
ফেরার সাথে সাথে একগাদা বকা শুনতে হলো মাদার ইন্ডিয়ার কাছে। তবুও নানু বাড়িতে থাকায় এই অল্প একটু যা নিস্তার মিলেছে। কিছুক্ষণ আগে নানু দু গ্লাস গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এটা মূলত মি.ডক্টরের নির্দেশনা অনুসারে। নতুবা আমি হলে এমনিতেই দুধ চা দিয়ে যেত।
কিন্তু এইযে,মিস্টার ডক্টর! সব ক্ষেত্রেই ওনার ডক্টর গিরি করা লাগবে! এখন সবচেয়ে অপছন্দের জিনিসটা ধক ধক করে গিলতে হচ্ছে আমায়। আমাদের যে রুমটা দেওয়া হয়েছে, এটা মূলত মামাদের পুরাতন রুম। রুমটার উত্তর-পূর্ব পার্শ্বে ছোটখাটো কিন্তু বেশ প্রশস্ত একটা জানলা আছে। এখান থেকে বাইরের পুকুরটা স্পষ্ট দেখা যায়।
পুকুরপাড়ে এক বিশাল আম গাছ। যেটার একখানা প্রশস্ত ডাল জালনা দিয়ে ভিতরে আসে। বাদবাকি ডালগুলো টিনের চালের ওপর। আমের সময় রুমে ঘুম পড়া দায়। সময় অসময় টুপটাপ আম পড়ে আর ঘুমে বিঘ্ন ঘটায়। আনমনে বাইরে চেয়েছিলাম। হুট করে,কি ভেবে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম, মিস্টার ডক্টর এখন ল্যাপটপে এক মনে কাজ করে যাচ্ছেন। এমনিতেই আমার বদৌলতে চশমা খুইয়েছেন তারপর চোখে নিশ্চয়ই মাটি কাঁদা ঢুকেছে। রক্তিম বর্ণ তো সেটাই প্রকাশ করছে!
আমি হাতের খালি গ্লাসটা টেবিলের ওপর রেখে আস্তে আস্তে ওনার দিকে এগিয়ে গেলাম। ল্যাপটপের স্ক্রিনের আলো ওনার সুদর্শন মুখে এসে পড়েছে। আমি ওনার ঠিক পাশে এসে দাঁড়িয়ে বড্ড নরম, আদুরে গলায় শুধালাম,
‘চোখে খুব বেশি লাগছে, তাই না? ল্যাপটপটা এখন বন্ধ করলে হয় না?’
অন্তিক স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন,
‘কিছু ইম্পর্টেন্ট পেশেন্ট হিস্ট্রি আর কেস স্টাডি চেক করছি। চশমাটা থাকলে হয়তো জলদি হতো, তবে চশমা ছাড়াও ডক্টর অন্তিক শাহরিয়ার ওনার রেগুলার ডিউটি ভোলেন না, মিসেস তরী।’
ওনার এই ‘মিসেস তরী’ সম্বোধন আর কথার ভেতরের হালকা দূরত্বটুকু আমার মনটাকে বড্ড ব্যথিত করল। আম্মু আর কাকিমণির সেই কথাগুলো মনের ভেতর অনবরত হাতুড়ি পেটা করতে লাগল— ‘অবহেলা আর উপেক্ষা পেলে বরের মন উঠে যায়!’
আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। সব জড়তা, লজ্জা আর অভিমান একপাশে সরিয়ে রেখে টুপ করে ওনার একদম কোল ঘেঁষে বিছানায় বসে পড়লাম। ওনার ল্যাপটপ ধরা হাতদুটোর ওপর নিজের ছোট ছোট নরম হাত দুটো রাখতেই অন্তিক সামান্য চমকে উঠলেন। ওনার টাইপিং থামল। চশমা ছাড়া সেই তীক্ষ্ণ, রক্তিম চোখ দুটো এবার সোজা এসে স্থির হলো আমার মুখের ওপর।
আমি ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে, গলাটা একদম খাদের শেষ সীমায় নামিয়ে, ভীষণ আকুলতা নিয়ে শুধালাম,
‘কী হয়েছে আপনার, বলুন তো? কাল রাত থেকে আপনি কেন এমন করছেন? আমি কাল রাতে আপনাকে ওভাবে ধাক্কা দিয়েছিলাম বলে আপনি কি আমার ওপর খুব বেশি কষ্ট পেয়েছেন? নাকি আমার এই পুঁচকে স্বভাবের জন্য আপনার আসলেই আমার ওপর থেকে মন উঠে গেছে?’
বলতে বলতে আমার চোখের কোণ জোড়া আপনাআপনিই ভিজে উঠল। ঝাপসা চোখে ওনার দিকে চেয়ে রইলাম। আমার এই আকস্মিক কান্নাভেজা রূপ আর সরল স্বীকারোক্তি দেখে মিস্টার ডক্টরের সেই লৌহকঠিন গাম্ভীর্যের দেয়ালটা যেন এক নিমিষেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। উনি ল্যাপটপটা একপাশে সরিয়ে রেখে, ওনার সেই শক্তপোক্ত দু’হাতে আমার মুখখানা আলতো করে আগলে ধরলেন।
ওনার বুড়ো আঙুল দিয়ে আমার চোখের কোণের জলটুকু মুছে দিতে দিতে, ওনার কণ্ঠস্বর এবার বড্ড নরম আর মায়াবী শোনাল। উনি কিঞ্চিৎ ঝুঁকে এসে বললেন,
‘আরে, বোকা মেয়ে! কাঁদছেন কেন? আপনার ওপর মন খারাপ করতে যাব কেন আমি?’
আমি নাক টেনে মুখটা ফুলিয়ে বললাম,
‘তাহলে কাল রাত থেকে ওমন ইগনোর করছিলেন কেন? গাড়িতেও অন্য মেয়ের সাথে কথা বলছিলেন, আমার দিকে তাকাচ্ছিলেনও না!’
অন্তিক এবার চাপদাড়ির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ওনার সেই চিরচেনা ড্যাশিং হাসিটা হাসলেন। ওনার উষ্ণ নিশ্বাস আমার কপালে আছড়ে পড়ছে। উনি গভীর কন্ঠে ফিসফিস করে বললেন,
‘ইকরা জান্নাত আমার সিনিয়র কলিগ, ওনার মায়ের হার্ট সার্জারি নিয়ে কথা হচ্ছিল। আর আপনাকে ইগনোর করার নাটকটা না করলে কি আজ দুপুর বেলা বিলের কাদার মধ্যে আমার ঘাড়ত্যাড়া পরিণীতাকে ওমন করে বুকে জড়িয়ে ধরা যেত, বলুন? আপনার ওই চঞ্চল মনটাকে একটু আকুল করার জন্যই তো ডক্টর সাহেবের এই ছোট্ট ট্রিকস ছিল। অথচ আপনি তো দেখছি পুরোই ছিঁচকাঁদুনে বিড়ালছানা!’
আমার একটু অভিমান হলো। তবে, এতক্ষণ পর ওনাকে কাছাকাছি পেয়ে ভালোও লাগলো বেশ। পরক্ষণে বললাম,,
‘আচ্ছা? তার মানে এটা আপনার.?’
উনি আমাকে কথা শেষ না করতে দিয়েই বললেন,,
‘প্রি প্ল্যান্ড ছিল!’
রীতিমতো আকাশ থেকে পড়লাম! এই লোক বলে কি? তলে তলে এত? এখন কি আমার রাগ করা উচিত? না না বাবা! এমনিতেই অনেক কষ্টে রাগ ভেঙেছি। আমার এই নিশ্চুপ ভঙ্গিতে অন্তিক আরো একটু কাছাকাছি টেনে নিলেন আমাকে। আমার জড়তা ভেঙেছে বহু আগেই! যেহেতু আমি নিজ থেকে উনার কাছাকাছি এসেছি। তবুও এক অদ্ভুত শিহরণ হয়ে যাচ্ছে সর্বাঙ্গে।
উনি কিঞ্চিৎ ঝুঁকে, আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন,,
‘কি হলো মিসেস অন্তিক শাহরিয়ার? এত চুপসে গেলেন যে?’
আকস্মিক উনার এমন সম্বোধনে আমার গোটা দুনিয়া থমকে গেলো মুহূর্তেই। উনি হঠাৎ আমার কাঁধে নিজের ঠোঁট ছোয়ালেন। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ন্যায় কেঁপে উঠলাম আমি। শ্বাস প্রশ্বাস ভারী হয়ে আসলো মুহূর্তেই। লজ্জা আর আবেশে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম।
উন্মুক্ত পেটে ওনার হাতের শীতল স্পর্শ স্পষ্ট টের পাচ্ছি আমি। উনি খুব আলতো করে কামিজের একপাশটা সামান্য গলিয়ে ওনার উষ্ণ হাতটা পুরে দিয়েছেন আমার পেটের নরম চামড়ায়। ওনার আঙুলের সেই মৃদু অথচ তীব্র ছোঁয়ায় আমার শিরদাঁড়া বেয়ে যেন এক মহা প্রলয় নেমে এলো! লজ্জার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে আমি ওনার ব্ল্যাক শার্টের কলারটা দুই হাতে প্রচণ্ড শক্ত করে খিমচে ধরলাম।
অন্তিক আমার এই তীব্র আড়ষ্টতা আর কাঁপন টের পেয়েও থামলেন না। ওনার ঠোঁট দুটো আমার কাঁধের ওপর প্রগাঢ় এক চুম্বনে আবদ্ধ হলো। সেই ওমে আমার সমগ্র অস্তিত্ব যেন এক নিমেষে গলে জল হয়ে যেতে চাইল। উনি ধীরে ধীরে, বড্ড মায়ায় নিজের অধর জোড়া নামিয়ে আনতে লাগলেন নিচের দিকে। ওনার উষ্ণ নিশ্বাসের প্রতিটি ঢেউ আমার বুকের ওঠানামাকে আরও দ্রুত, আরও উন্মাদ করে তুলছিল।
ঠিক বক্ষদেশের কাছাকাছি এসে উনি হুট করেই থেমে গেলেন। ওনার সেই চশমা ছাড়া গভীর, তৃষ্ণার্ত নয়নের নেশাক্ত দৃষ্টি জোড়া স্থির করলেন আমার মুখের ওপর। আমি তখনও লজ্জায় আর আবেশে চোখ-মুখ একদম খিঁচে বন্ধ করে রেখেছি, বুকের ভেতর এক জোড়া বুনো হরিণ যেন অবাধ্য গতিতে নেচে চলেছে।
আমার এই কাঁপন জড়ানো রূপ দেখে ওনার বুকের ভেতর থেকেও একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। উনি ওনার ডান হাতের আঙুলগুলো দিয়ে আমার থুতনিটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরলেন। তারপর ওনার সেই ভরাট বললেন,
‘লুক অ্যাট মি, তরী। চোখ খুলুন...’
ওনার কণ্ঠের তীব্রতায় আমি না চাইতেও পিটপিট করে চোখ মেললাম। চশমা ছাড়া ওনার ওই গভীর চোখের একদম মুখোমুখি হতেই আমার যেন দম আটকে যাওয়ার উপক্রম। অন্তিক আমার গালের ওপর আলতো করে বুড়ো আঙুলটা বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
‘ইউ নো হোয়াট? এই যে আপনি এত ভয় পাচ্ছেন, এত কাঁপছেন... দিস ইজ ড্রাইভিং মি ক্রেজি! আই মিন, হাউ ক্যান সামওয়ান বি সো ইনোসেন্ট অ্যান্ড বিউটিফুল অ্যাট দ্য সেম টাইম?’
ওনার এহেন কমপ্লিমেন্টে আমার কান-মাথা আবার ঝাঁ ঝাঁ করে উঠল। আমি ওনার শার্টের কলারটা আরও একটু শক্ত করে চেপে ধরে বড্ড মিনমিন করে বললাম,
‘আ-আমি ভয় পাচ্ছি না তো...’
‘ও রিয়্যালি?’
অন্তিক ঠোঁটের কোণে চেনা ড্যাশিং হাসিটা ফুটিয়ে ওনার পেটের ওপর রাখা হাতটার চাপ একটু বাড়িয়ে আমাকে ওনার আরও কাছে টেনে নিলেন, ওনার শক্ত বুকটা এখন আমার বক্ষে স্পষ্ট চাপ সৃষ্টি করছে। উনি আমার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বললেন,
‘ভয় না পেলে আপনার হার্টবিট এত লাউডলি চলছে কেন, হুম? আই ক্যান ক্লিয়ারলি হিয়ার ইট, তরী। ইট’স বিটিং লাইক ক্রেজি জাস্ট ফর মি!’
লজ্জায় আমার এবার মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছা করল। লোকটা এত নিখুঁতভাবে আমার মনের অবস্থা ধরে ফেলছে কী করে! আমি মুখটা ওনার বুকের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করে আধো-আধো গলায় বললাম,
‘আপনি বড্ড পাজি! সবসময় শুধু আমাকে টিজ করেন। ইউ আর সো আনফেয়ার, মিস্টার ডক্টর!’
‘মেবি আই অ্যাম...’
অন্তিক ওনার ঠোঁট দুটো এবার আমার গালের ওপর আলতো করে স্লাইড করে নামিয়ে আনলেন ঠোঁটের ঠিক কোণটায়। ওনার উষ্ণ, তপ্ত নিশ্বাস এখন সরাসরি আমার ওষ্ঠাধরে আছড়ে পড়ছে। উনি একদম ওষ্ঠের কাছাকাছি এসে ফিসফিস করে বললেন,
‘বাট আই জাস্ট কান্ট হেল্প ইট, মাই মিমোসা । ইউ হ্যাভ নো আইডিয়া হাউ মাচ আই ওয়ান্টেড দিস মোমেন্ট। আই অ্যাম কমপ্লিটলি মেসমেরাইজড বাই ইউ!’
মিমোসা’ সম্বোধনটা কর্ণগোচর হতেই লাজুকতারা যেন একসাথে বাসা বাঁধলো আমার দেহে। হৃদপিন্ডের ধুকপুকানি ঠেকায় কে? শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিতে যে কেউ এখন আমাকে দেখলে হাঁপানি রোগী বলে চিহ্নিত করবে নিঃসন্দেহে! তবে এসবের লক্ষ্যপাত করলেন না উনি। ঝড়ো হাওয়ার বেগে, ওনার অধর জোড়া পরম মায়ায়, তীব্র অধিকারবোধে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিল আমার কাঁপতে থাকা ঠোঁট দুটোকে।
১৭ বছরের এই জীবনে এই প্রথম কোনো পুরুষের সান্নিধ্য পেয়েছি আমি! আর এতটা কাছ থেকে! একি উপভোগ্য নাকি...! আর কিছু ভাবার সময় পেল না মস্তিষ্ক। অবশ হয়ে আসতে চাইলো সেও।
চলবে..........