#হৃদয়হরণীর_আসক্তি
#পর্বঃ৪৯
লেখিকা: #সাফা_মারওয়া
নিহাদ: আপনার হাসি অনেক সুন্দর আতিফ সাহেব।
হটাৎ নিহাদ এর এমন প্রশংসা করার মানে কি আতিফ সাহেব সহ কেও বুজলো না একজন বাদে। সেই একজন আরোশি। বুজবে না কেন? একজন আরেকজনের ক্রাইম পার্টনার। এক জনের কাছে সব খবর থাকে আরেকজনের পরের মুভমেন্টের। আরোশি মাথা ঘুরিয়ে নিহাদ এর দিকে তাকায়। আরোশিকে তাকাতে দেখে নিহাদ চোখ টিপ মারে। আরোশি চোখ সরিয়ে সামনে বসে থাকা অফিসারের দিকে তাকায়। সে বসা থেকে উঠে আরোশিকে বললো।
-: আপনি চিন্তা করবেন না আমি দেখছি।
বলেই সকলে বের হয়ে গেলো। আরোশি এইবার উঠে উপরে চলে যেতে লাগলো। কিন্তু রোশনারা বেগম এর কথা শুনে থেমে যায়। ঠিক তখন রোশনারা আজমুল কে বলে
রোশনারা: তুমি একজন খু*নিকে সাপোর্ট করছো? কেন? আমি তোমার থেকে এইটা আশা করিনি। রাজনীতি তোমায় পুরো পাল্টিয়ে দিয়েছে। অপরাধ'ও এখন তোমার চোখে পড়ে না। আমি তো এমন মানুষ কে বিয়ে করিনি। কে তুমি? ছেলে আসুক তারপর দেখো আমি বলবো এই মেয়ে কে তা*লাক দিতে। খু*নির মৃত্যু*দ*ণ্ড দেয়া উচিৎ অথচ আমরা বাড়িতে রেখে দিয়েছি । আর নিহাদ আমি তোমার কাছ থেকে অন্তপক্ষে এইটা আশা করিনি।
নিহাদ সামনে রাখা প্লেট থেকে কয়েকটা বিস্কুট নিয়ে বললো
নিহাদ: আন্টি বাইরের জগৎ টা অনেক খারাপ। নিজে ভালো হয়ে টিকা মুশকিল। আর আরোশির ক্ষেত্রে তো শুধু বাইরে না বাড়ির মানুষ'ও। আপনি বাইরে জাননা তাই আপনার নজরে সব অন্য রকম লাগবেই। আঙ্কেল আমি উঠি। কাজ আছে।
বিস্কুট খেতে খেতে চলে গেলো নিহাদ। আজমুল রোশনারার কথায় গুরত্ব না দিয়ে আরোশি কে বলে
আজমুল: ওই গাধা টা কোথায়?
আরোশি: তুমি গাধা পালো?
আজমুল: আরোশি মজা করো না। বিষয় টা মোটেও এড়িয়ে যাওয়ার মত না। আর জায়গা পায়নি। আমার বাড়িতে এসে মরতে হলো। (কড়া গলায়)
আরোশি: আচ্ছা sorry,,, তোমার উচিত না আমার সামনে আমার স্বামীকে গাধা বলা।
আজমুল: কোথায় ওহ? বাসায় এত কান্ড ঘটে গেলো আর ওহ নেই কেন? কেও ওকে খবর দাওনি?
কুমকুম: ভাই ফোন দাওয়া হইছে অনেক। কিন্তু ফোন ধরেনি হয়তো কাজে ব্যস্ত।
আজমুল: ওর পক্ষ নিবে না একদম। বউকে সম্মান করে না। ওর আনা মেয়ে নিজের জা*ন নিয়ে নেয় অথচ ওর খবর নেই।
রোশনারা: ওর আনা মেয়ে বলে তুমি কি বুঝাতে চাও? লিলি কোনো বাজে মেয়ে না যে তুমি এইভাবে সম্বোধন করছো। আর পক্ষের কথা আসলে 100 বার ছেলের পক্ষ নিবো। ছেলের পক্ষ নিবো নাতো কি তোমার মত খু*নীর পক্ষ নিবো? আমার ছেলের কি দোষ? লিলি জান নেয়নি বরং এই নষ্টা মেয়ে মে*রে ফেলেছে। কি ভালো ছিল মেয়ে টা। আমার আবরার কে ভালোবাসতো তারপর'ও মুখ ফুটে বলেনি। কিন্তু মেয়ে টাকে বাঁচতে দিলো না।
বলে আঁচল টেনে কান্না করতে লাগে। তাকে এইভাবে কাদতে দেখে আজমুল বিরক্ত হয়ে বলে
আজমুল: না কেঁদে নিজের ছেলে খুঁজে বের করো। কই যেয়ে আছে কে জানে। ফোন ও ধরে না ফাজিল, ইতর কোথাকার।
আরোশি: উনি ফোন নিয়ে যায়নি বড় আব্বু। ভুলে রেখে গিয়েছে।
আজমুল: তার মানে ওর কাছে খবর যায়নি। মন কই থাকে যে ভুলে যায়! (রেগে)
Robin: চাচা আপনি চেইতেন না। আমি দেখতাছি ভাই কই
কথা টা শুনে আজমুল সাহেব ধমক দিয়ে বলে
আজমুল: তুই চুপ কর। যা দেখ কই যেয়ে আছে গাধা টা। মা এক গাধী , ছেলে আরেক গাধা। সব আমার ঘারে পড়ছে। ফোন ভুলে যায় কয়দিন পর বউ ভুলে যাবে।
স্বামীর কথা গুলো শুনে আরো কান্না শুরু করে রোশনারা। এইবার আরোশি'ও বিরক্ত হয়। আজমুল কে শান্ত করতে বলে
আরোশি: টেনশন করোনা আমি আছি তো। আমার দোষ ছিল। আমার খেয়াল ছিল না ফোন এগিয়ে দিতে। তাই হয়তো পাইনি ফোন। তুমি শান্ত হাও। মরিয়ম যা পানি নিয়ে আয়।
মরিয়ম তাড়াতাড়ি পানি এনে দিয়ে বলে
মরিয়ম: এইযে লন কাকা।
আজমুল: লাগবে না। সর সামনে থেকে। আর এই তোমার পেনর পেনর বন্ধ করো রোশনারা।
স্বামীর কথা শুনে রোশনারা বেগম কান্নার শব্দ কমিয়ে দেয়। আরোশি হাত পেতে মরিয়ম কে বলে
আরোশি: আমায় দে গ্লাস টা। আর রবিন বাইরে যেয়ে দেখ পরিস্থিতি কেমন।
রবিন নিজের কাজে চলে গেলো। রোশনারা চোখ মুছে বলে
রোশনারা: আসুক খালি আবরার
আজমুল কথা টা শুনে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবরার এর দাদি কপাল কুঁচকে বলে
জেসিয়া: তুই এত চেতোস কে? বয় চুপচাপ
আজমুল: তুমি বুঝো না কেন? তোমার আদরের দাদাভাইয়ের জন্য আমার বাড়ি পুলিশ আসে। তাও আবার আরোশির বিরুদ্ধে। ওহ খেয়াল রাখতে পারেনি লিলির? আমার মা কে ফাঁসিয়ে নোট লিখে। কি সাহস।
জেসিয়া: ওর কি ঠেকা মইরা ফাঁসায় রাইখা যাইবো? এই সেরি কিছু করছে দেইখাই ওই মাসুম মাইয়া এমন করছে।
কুমকুম: জ্বী ভাই। আম্মা ঠিক বলছে। উনি আসুক আজ আমি বলবো এই মেয়ে কে তেজ্য করে দিতে। এমন মেয়ে চাইনা। খু*নি একটা। আমাদের আবরার আরো ভালো কাওকে ডিজার্ভ করে।
কথা টা শুনে আরোশি তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে তাকায় কুমকুম বেগম এর দিকে। তাচ্ছিল্য করে বলে
আরোশি: হাহ্। চোর বলে আরেকজন কে তুই চোর। খু*নি তোমরা। আমাকে শেষ করে দিচ্ছ আস্তে আস্তে। আমার সংসার ভাঙ্গার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আবরার কে আমার থেকে দূর করতে চাও? তুমি তো মা হওয়ার যোগ্য না। বাবা মা কি শিখাইছে তোমায়? শিখায়নি যে একজন মা কি কি করে সন্তানের জন্য। নাকি তোমার মা ও এমন ছিল? বড় আম্মু কে দেখো কিভাবে ছেলের ব্রেইন ওয়াশ করে সবার সামনে ভদ্র সাজে। আর তুমি তো সবার সামনেই অভদ্র।
কথা শেষ করতেই ঠাস ঠাস করে দুটো চর পরে আরোশির গালে। সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরো লিভিং রুম একদম স্তব্ধ হয়ে গেলো। আরোশি যখন বুজতে পারে কি হলো সাথে সাথে বাঘিনীর মতো সামনে তাকিয়ে দেখে সাইদুল সাহেব দাড়িয়ে আছে। চোখে পানি সাইদুল সাহেবের। আরোশি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। এই প্রথম বাবা হাত উঠালো। ভিতর ছিঁড়ে যাচ্ছে আরোশির। গলায় মনে হচ্ছে কাটা গেঁথে গিয়েছে যে মুখ দিয়ে কথাও বের হচ্ছে না। কিন্তু সবার সামনে দুর্বল হবে না। আরোশি রাগে দুঃখে মরিয়ম এর থেকে নেওয়া গ্লাস টা শক্ত করে চেপে ধরে। যার ফলে হাতেই গ্লাস ভেঙ্গে হাত কে*টে যায়। তবুও শান্ত হয় না। পাশে রাখা বড় ফুলের vase টা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো। টুকরো গুলো ভরে গেলো ঘর। এত জোড়ে শব্দ হয়েছে যে সবাই কানে হাত দিয়ে মুখ কুচকে ফেলেছে। রবিন দৌড়ে ভিতরে এসে দেখে এই অবস্থা। সে বাইরে গিয়েছিল পরিস্থিতি সামাল দিতে। রবিন একটু আগে দেখেছে আবরার কে বাড়িতে ঢুকতে সাথে rid ও ছিল। Rid দাড়িয়ে আবরার কে কিছু একটা বলে চলে গেলো তারপর আবরার ও ভিতরে চলে গেলো কিন্তু সাইদুল কখন এসেছে রবিন দেখেনি। মিডিয়ার লোকরা তখনও ছিল। তাদের পাঠানোর সময় হয়তো এসেছে তাই রবিন খেয়াল করেনি। হয়তো আবরার আর সাইদুল এর দরজায় দেখা হয়েছে।
আবরার স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে। এইভাবে ছোট আব্বু আরোশিকে কেন মারলো বুজতে পারছে না। ঐসব কি হচ্ছে ? বাহিরে এত গাড়ী কেন সেইটাও মাথায় ঢুকছে না। হঠাৎ আবরার খেয়াল করে আরোশির হাত থেকে র*ক্ত পড়ছে। রাগে গজগজ করতে করতে সেই হাত দিয়ে আরোশি কপালের চুল সরালে কপালেও রক্ত ভরে। তখন সবাই খেয়াল করে। মরিয়ম চওড়া গলায় বলে উঠে
মরিয়ম: আয় হায় আপু আপনের হাত। র*ক্ত পড়তাছে অনেক।
আরোশির সেইদিকে কোনো খেয়াল নেই। ওহ তাকিয়ে আছে সাইদুল সাহেব এর দিকে। কিছুক্ষন পর শান্ত গলায় বলে
আরোশি: গায়ে লাগছে? আমার ও লাগে। অনেক লাগে। এই খানে লাগে (বুকের বা পাশটা দেখিয়ে)। আমার পরিবার আমায় বুঝে না। আমার শত্রু হয়ে দাঁড়ায় আমার পরিবার। আমি অন্যদের দেখতাম তাদের বাবা কিভাবে তাদের সাপোর্ট করতো, স্কুল এ নিয়ে যেতো, আবদার পূরণ করতো। কিন্তু আমার বাবা ব্যস্ততায় সময় ব্যায় করতো। আর যখন জানলো তার ছোট মেয়ের স্বপ্ন পলিটিশিয়ান হওয়া তখন তো আরেক রূপ বাবার। আমাকে আমার নিজের বাবা মা বলে আমার দ্বারা নাকি কিচ্ছু হবে না। আমি নাকি তাদের ভুল, আমি নাকি ক*লঙ্ক, আমি নাকি ন*ষ্টা, আমি নাকি বাজারী, আমি নাকি অন্যের বি*ছা*নায় যেয়ে রাজনীতিতে এই পর্যন্ত এসেছি। আমি ম*রিনা কেন আরো কত কি। কত নিচু মানুষিকতার মানুষের মাঝে থাকি আমি। এইরকম মানুষ কে আমি পরিবার বলে পরিচয় দেই? ছেহ্, আরে তোমরা কি আফসোস করবা! আফসোস তো আমি করি তোমাদের মত বাবা মা পেয়ে। নিজের সন্তানকে বিশ্বাস না করে বাইরের মানুষ কে বিশ্বাস করো। আমি বলেছি আমি মামাকে মারিনি, মারিনি, মারিনি। কিন্তু ব্রাইনলেস দের মাথায় ঢুকেছে আরেকজনের কথা।
কথা গুলো বলে বড় বড় শ্বাস নেয় আরোশি। নিজেকে শান্ত রেখে আবার বলতে শুরু করে
আরোশি: জানো আমার বাবা না আজ পর্যন্ত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেনি মা আমি আছি তোর সাথে তুই চিন্তা করিস না। আমি বিশ্বাস করি তোকে। আমি জানি আমার মেয়ে কেমন। অথচ অন্যের মেয়ের মাথায় আমার বাবার হাত উঠে আর আমার গালে। তুমি জানবে কিভাবে আমি কেমন তুমি তো জানতেই চাওনি কখনো। তুমি তো দেখতেই পারো না আমায়। আমি আগে ভাবতাম তুমি আমায় ভালবাসো কিন্তু প্রকাশ করো না অভিমানে কিন্তু না আমি ভুল ছিলাম। আমি আরোশি ভুল ছিলাম, আমি। ছেহ্, আমার মা ভাত মাখিয়ে মুখে তুলে বলেনি সারাদিন কাজে ব্যাস্ত থাকিস কি না কি খাস নে আমি খাইয়ে দেই। কত না খেয়ে দিনের পর দিন কাজ করে সারাদিন পর বাড়ি ফিরে তোমাদের কটু কথা গিলতে হয়েছে। অভিযোগ করেছি? তাহলে তোমরা করো কেন? দোষ সব আমার? আচ্ছা খাওয়ায় দাওয়া বাদ কখনো তো মা হিসেবে বেড়ে'ও খাওয়ায়নি। অথচ সেই হাতে ভাত না উঠে আমাকে মা*রার জন্য বি*ষ উঠতে হাত কাপবে না। কি এমন করেছিলাম আমি? আমি রাজনীতিতে যাওয়ার আগে থেকেই তোমাদের ব্যবহার আমার প্রতি এমন। যেইদিন থেকে মন্ত্রী সাহেব কে চাই বলেছি সেইদিন থেকেই আমি তোমাদের চোখের কাটা। কেন? চাওয়া ভুল? সমাজ কি বলবে আমার ক্ষেত্রে মনে পরে অথচ ফুপাতো বোন সারার সময় সমাজ শুদ্ধ। জন্ম দিলেই বাবা মা হওয়া যায়না। মনে রাখবে সবসময় সন্তান রাই অসভ্যের অধ্যায় থাকে না কখনো কখনও বাবা মা রা'ও থাকে। আমাকে যেইভাবে তুচ্ছ করেছো সময় আসছে এখন আমি তোমাদের দেখাবো তুচ্ছতা কি। সারা তাইনা? খুব ভালো ওহ? দাড়াও শুধু
কথা টা শুনে রোশনারা রেগে বলে
রোশনারা: সারার সাথে কি করবি তুই? লিলির সাথে এমন করে মন ভরেনি?
আরোশি শুধু তাচ্ছিল্য হাসলো। ঠিক তখন আরোশির ফোনে কল আসলো। মামার ওখান থেকে কল করেছে। আরোশি র*ক্তে মাখা হাত দিয়ে ফোন কানে দিলো। র*ক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে কালো ব্লেজার এর হাতা ভিজে যাচ্ছে। ফোন সহ র*ক্তে মেখে গেলো। হাতের তালুতে বিধে যাওয়া কাঁচের টুকরো ফোন ধরাতে আরো বিধে গেলো। এমন ভয়ানক লাগছে বিষয় টা যে আজমুল, সাইদুল সহ বাকিরা ও চোখ বন্ধ করে ফেললো। আবরার এগিয়ে আসার আগেই আরোশি ওপরে চলে গেলো।
আবরার: ছোট আব্বু মারলে কেন তুমি ওকে?
সাইদুল: তুমি দেখনি ও কি সব বলছিল? (ধরা গলায়)
আজমুল: কেন বলেছে এইটা জানিস? তোর সাহস কত আমার সামনে আমার বাড়ির মেয়ের গায়ে হাত তুলিস। যেই মেয়ে মুখ ফুটে কিছু বলে না আজ কত কিছু বললো। এই বয়সে নিজের মাঝে সব কষ্ট ধামাচাপা দিতে শিখে গিয়েছিল। তোদের বলতো না তাই বুঝতি না। আজ বুঝেছিস কিনা কে জানে।
সাইদুল সাহেব কথা টা শুনে আজমুল সাহেবের দিকে টলটল চোখে তাকায়। সে ভাবেনি তার মেয়ের তার উপর এত অভিযোগ। লিসার সাথে তো সচরাচর কথাই হয়না ব্যস্ততায় তবুও অনেক আদর করে সেই আদর ভালোবাসা প্রকাশ ও পায়। আর আরোশির সাথে তো সে স্বেচ্ছায় কথাই বলে না। তার মানে কি সে একজনের বেস্ট বাবা হলেও আরেক মেয়ের বেস্ট বাবা হতে পারেনি? আজ প্রথম মেয়ের গায়ে হাত তুললো। মেয়েটা এমনি কত অভিমান নিয়ে ছিল আর আজ অভিমানের পাল্লা আরো ভারী করে দিলো। আরোশির বলা একটা কথাও মিথ্যে না সে জানে। শুধু মামার বিষয় টা বাদে। যে এখন ভাবছে আসলেই কি মেরেছিল? সারার বাবা কি তাহলে ভুল বললো? ভুল বললেও মিথ্যা বলবে না এই বিশ্বাস তার উপর আছে। এত অন্যায় করেছে আরোশির সাথে এখন যদি জানে ওহ আসলেই মামা কে মরেনি তাহলে সে নিজেকে মাফ করবে কি করে?
আজমুল: মেয়েরা বাবার কাছে অন্যের উপর করা অভিযোগের দরজা খুলে দেয়। আর সেইখানে ওর বিপক্ষে এমন ভাবে গিয়েছ তোমরা যে অন্যের জন্য করা অভিযোেগ এর দরজা যার কাছে খুলবে তার প্রতি হাজার হাজার অভিযোগ। তোমরা ওকে চিনো না। আমি জানি ওহ কত ভয়ানক। হারে হারে টের পাবে তোমরা। আর সাইদুল তুই ওকে মেরে ঠিক করিসনি। তোর সংসার যদি এখন ভাঙতে চায় তোর কেমন লাগবে? তাহলে তোর বউ ওর টা ভাঙতে চায় কোন সাহসে? নিজের বউ কে জিজ্ঞেস কর কত নিচে নেমেছে নিজের পেটের মেয়ের রাস্তায় কাটা হওয়ার জন্য
বলে সেও নিজের রুমে চলে গেলো। প্রেসার বেড়ে গিয়েছে তার। সহ্য হচ্ছে না তার এইসব, সাহস কত তার সামনে তার মায়ের গায়ে হাত তুলে। আজমুল যেতেই সাইদুল কুমকুম এর দিকে তাকায় যে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।
আবরার পুরো রুমে একবার চোখ বুলিয়ে বলে
আবরার: কিভাবে হলো এইসব?
রোশনারা যেনো এইবার সুযোগ পেলেন। কড়া গলায় বলে
রোশনারা: তোর বউ কে জিজ্ঞেস কর।
আবরার: ওহ আবার কি করলো! (অবাক হয়ে)
রোশনারা কিছু বলার আগেই সাইদুল সাহেব কুমকুম বেগমকে তীক্ষ্ম গলায় বলে
সাইদুল: কি বলেছ তুমি ওকে?
কুমকুম: যা সত্য তাই।
আবরার: কি সত্য? রাগিয়েছে কে ওকে? জানো না ওহ কেমন? তোমরা কেন ওর সাথে এমন করো?
রোশনারা: আরোশি লিলিকে মেরে ফেলেছে।
আবরার: WHATTTT.... (অবাক হয়ে)
সাইদুল: কি জাতা বলছেন? (স্তব্ধ হয়ে)
তারপর একে একে সব বলে আবরার আর সাইদুল কে সাথে সেই নোট টাও দেয় যেইটা লিলি লিখেছিল। পুলিশ রেখে গিয়েছে। সব শুনে আর নোট পরে আবরার স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ওর বিশ্বাস হচ্ছে না আরোশি শেষ মেষ লিলিকেও শেষ করে দিবে। এতক্ষন বলা আরোশির সব কথা মাথা থেকে বের হয়ে গিয়েছে। মাথায় শুধু ঘুরছে লিলিকেও বাঁচতে দিলো না। রাগে শরীল ফেটে যাচ্ছে। এর মাঝেই রোশনারা আগুনে ঘি ঢালার মতো করে বলে
রোশনারা: তুই ওই মেয়েকে ডিভোর্স দিবি। আমি সব কাগজ পত্র রেডি করার ব্যবস্থা করবো আমাদের পার্সোনাল উকিল দিয়ে।
আবরার আর দাড়ায় না উপরে চলে যায়। ওর মাথা কাজ করছে না কিছু। মাহিয়ার দাওয়া ড্রা*গস এর পাওয়ার এখনও পুরোপুরি যায়নি। তখন মাহিয়া কিছু করতে পারেনি। আবরার এর উপরে উঠার সাথে সাথেই দরজা ভেঙ্গে rid ভিতরে ঢুকে। ধাক্কা দিয়ে মাহিয়া কে সরিয়ে আবরারকে নিয়ে সোজা হসপিটালে যায়।
তিন ঘন্টা পর হুশ ফিরলে নিজেকে হসপিটালে দেখে আবরার। ডাক্তারের দাওয়া ইনজেকশনের জন্য কিছু মনে করতে পারছিল না। Rid কে জিজ্ঞেস করলে rid যতটুকু জানে ততটুকু বলে। কিছুক্ষণ পরেই সব মনে পড়ে যায়। সব মনে পড়ার পর খুব অস্বস্তি লাগছিল নিজেকে নিজের কাছে আবরার এর। কিছু হয়নি তবুও যতটুকু হয়েছে অতটুকুই অসহ্যকর। শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে ঐগুলা মনে পড়লে। একটা মেয়ে এত খারাপ হতে পারে। হঠাৎ আরোশির কথা মনে পড়ে। সে কিভাবে আরোশির সামনে যেয়ে দাঁড়াবে? তার নিজেকে নিজের কাছে বিরক্ত লাগছে।
ডাক্তার বলেছে অনেক পাওয়ারফুল ড্রা*গ দেওয়া হয়েছে। এটা এমন ড্রা*গস যেইটা নিলে নিজের ওপর নিজের আর কন্ট্রোল থাকে না। সব কিছু উলটপালট লাগে, শরীর আস্তে আস্তে প্যারালাইস হয়ে যায়, নড়তে চড়তে পারে না, শরীর গরম হয়ে যাবে আস্তে আস্তে। ডক্টর বলেছে পুরোপুরি ড্রা*গস এর প্রতিক্রিয়া কাটাতে হসপিটালে আরো দুই দিন থাকতে হবে। কিন্তু আবরার শুনে না। সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায় নিজের গাড়ি। ড্রাইভ করতে পারবে না বলে rid কে বলে বাড়ি দিয়ে আসতে। rid'ও আবরার এর উপরে কথা বলতে পারে না তাই বাড়িতে দিয়ে আসে। আর এসে এইসব দেখে। ড্রাগ এর কারণে মাথা কাজ করছে না। তাই প্রথমে আরোশির জন্য ইমোশনাল হলেও লিলির সাথে করা কাজ শুনে আবার রেগে যায়। আরোশির উপর রাগ হয়। আবরার উপরে চলে যাওয়ার পর সাইদুল রোশনারা কে বলে
সাইদুল: আপা কি বলেন এইসব? ডিভোর্সের কথা আসছে কেন।
রোশনারা কিছু বলার আগেই কুমকুম বেগম বলে
কুমকুম: যা বলেছে ঠিক বলেছে।
সাইদুল: তুমি চুপ করো। দোষ তোমার। আমি মেয়ে কে সময় দিতে পারিনি তুমি কি করে ছিলে বাড়িতে বসে থেকে? তামাশা করেছো আর মেয়েকে হাজার টা কথা সুনিয়েছো। অন্যের কথা কানে নিয়ে মেয়ের উপর অত্যাচার করেছো আর আমি ও কিছু বলিনি। আমার সব চেয়ে বড় ভুল ওকে সাপোর্ট না করে তোমাদের সাপোর্ট করা। ভাইজানকে দেখো কিভাবে ওর পক্ষে দাড়ায়। কত আদর করে। আমি বাবা হয়েও করতে পরিরি। আমাকে তুমি যা বলতে ওর ব্যাপারে তাই বিশ্বাস করতাম। সত্যি মিথ্যা যাচাই করতাম না। আমার মেয়ে অথচ আমার সাথে এত বাজে সম্পর্ক। বাবারা থাকে মেয়ে দের বেস্ট ফ্রেন্ড সেইখানে আমি আমার মেয়ের চোখের কাটা হয়ে গিয়েছি আজ। কি বললো শুনোনি? কঠিন হয়ে যাবে আমার উপর আমার এই মেয়ে। ছোট একটা মেয়ে। আমার ছোট পরী। রিমার সাথে তো কথাই বলা হয় না ঠিক মত। তবুও সব আবদার পূরণ করি অথচ আরোশির সাথে তো চোখের দেখাও হয়না ঠিক মত। আবদার জানার ইচ্ছা ও করিনি কখনো। ওর ইচ্ছে ছিল আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিবো কিন্তু সেটাও করিনি। কি সামান্য একটা চাওয়া ছিল। ওর সামনে আরেক জনের মাথায় হাত বুলিয়ে কত কথা বলেছি। আমি দেখতাম আরোশি তাকিয়ে থাকতো তখন কিন্তু আমি গুরুত্ব দিতাম না। ছোট বয়সে রাজনীতির মত ভয়ানক জগতে পা রেখেছে। ওরকম বুদ্ধি আছে বলেই আমার এই পরী আজ এই পর্যন্ত। ব্রেইন আছে বলেই ভাইজান এর মতো মানুষ ওর মত ছোট মেয়ের উপর বিশ্বাস করে সব ছেড়ে দেয়। আমি অনেক বার দেখেছি আরোশি কে ভাইজান যদি কোনো ঝামেলার বিষয় বলে আর ওহ যদি বলে নিজে দেখবে ব্যাপার টা তাহলে ভাইজান আর ওই বিষয় কথাই বলতো না। যদি জিজ্ঞেস করতাম ভাই ওহ ছোট মানুষ ওহ কিভাবে কি করবে? যদি ঝামেলা করে ? ভাইজান বলতো তুই বুজবি না ওহ কি কি পারে। তোর ধারণার বাইরে। আমি অবাক হতাম। বাইরে কি ঝামেলা কম ছিল যে আমরা পর্যন্ত ওর ঝামেলা হয়ে গিয়েছি? যেইখানে বাড়ির মানুষের সাপোর্ট প্রয়োজন সেখানে আমরা সবাই ওর বিপক্ষে ছিলাম এখনো আছি। এটা কি ঠিক? নিজের স্বামীর কাছে পর্যন্ত সম্মান পাইনি। আমার ছোট পরী টা কত বড় হয়ে গিয়েছে আর আমি খেয়ালই করলাম না।
বলে মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়ে সাইদুল সাহেব। বাবাকে এই প্রথম কান্না করতে দেখলো রিমা। দৌড়ে বাবার কাছে যায় একপাশ জড়িয়ে ধরে বলে
রিমা: বাবা কান্না করো না তুমি কান্না করলে আমার একদম ভালো লাগে না। তুমি বেস্ট বাবা
চলবে,,,,,,,,,
(পেজ টা ফলো করে সাপোর্ট করো আর বেশি বেশি রেসপন্স করো 💝✨)