#পর্ব_৪
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
মেইন রোডের পাশেই আবাসিক এলাকার মতো আবদ্ধ করে রাখা কিছু বিল্ডিং।সাত-আটখানা বিল্ডিং হবে হয়তো হাতে গণা।সবগুলো অবিকল একই রকম দেখতে।কিন্তু সবার চোখ যেন নির্দিষ্ট এক বিল্ডিং এর গ্রাউন্ড ফ্লোরের উন্মুক্ত গ্যারেজে গিয়েই বার বার থামছে।
আজ সকালের দিকেই ধানমন্ডির এই আবাসিকের ভেতরে এক বড়সড় কাবাড ভ্যান ঢুকতে দেখা যায়।এক বিল্ডিং এর সামনে দাড় হওয়ার কিছু মুহুর্ত পর সেই বিল্ডিং এ থাকা তোফায়েল শেখকে সেই কাবাড ভ্যানের লোকের সাথে কথা বলতেও দেখা যায়।কিন্তু তার থেকেও বেশি বিস্ময়কর এটাই ছিল যে, সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন কাবাড ভ্যান থেকে কিছু বের হতেই যেন সকালের হালকা রোদটাও তার তেজ বাড়িয়ে দিল।যাতে অন্ধকার থেকে আগমন হওয়া রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনটা যেন নিজেকে সবার চোখে আশেপাশের সব কিছু উপেক্ষা করে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।হলোও সেটা।
সিল্কের ন্যায় রয়েল গ্রিন কালারে আবৃত অ্যাস্টন মার্টিনটা তার তীক্ষ্ণ শি'কা'রি চোখের মতো হেডলাইটগুলো দর্শনে আনতেই উকি-ঝুকি দেওয়া বাচ্চা-কাচ্চারা এক প্রকার কানে তালি লাগার মতোই গলার স্বর উঁচিয়ে নেয়।সবে মাত্র হেডলাইট দেখেই সেই প্রতিক্রিয়া ছিল।কিন্তু রয়েল মেমবারের মতোই অ্যাস্টন মার্টিন গাড়িখানা পুরো অন্ধকার চিড়ে বের হতেই প্রাপ্ত বয়স্কদেরও যেন চোখ কোঠর থেকে বেড়িয়ে আসার উপক্রম হয়েছিল।আর বর্তমানে সেই রয়েল মেমবারকেই আরো এক নজর দেখার জন্য সবাই গ্যারেজের দিকে উঁকি-ঝুকি দিতে ব্যস্ত।
তোফায়েল শেখ সাহিত্যকে গাড়ির ঠিকানা দেখিয়ে দিয়ে বিল্ডিং এর কেয়ার টেকারকে ডাকতে গেলেন লাগেজ বাসায় পৌছে দেওয়ার জন্য।সেপাশ থেকে নজর ঘুরিয়ে গ্যারেজের দিকে দেখতেই ঠোঁটের কোণে আপনাআপনিই এক অ'হংকা'রী হাসি ফুটে উঠল সাহিত্যের।সেই হাসির কারণ হয়তো সামনের সেই গাড়ি,যে কিনা গম্ভীর গলায় সাহিত্যকে বলছে,
'দেখো অহিয়াম শেখ সাহিত্য।তোমার জেদের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাওয়ায় তুমি কি করতে সক্ষম হয়েছো'
বর্তমানে সেই কথাটি সাহিত্য ভ'ৎসনা নয় বরং সুনাম হিসেবেই ধরে নিল।সাহিত্য ধীর পায়ে এগিয়ে গেল তার নতুন রথের দিকে।গ্যারেজের ছাদের কারণে সূর্যের তীক্ষ্ণ আলোটা গাড়ির শুধু সামনের দিকটা কোণাকুণিভাবে দখল করতে পারছে।ডেনিম প্যান্টটার পকেটে হাত ঢুকিয়ে একদম রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনটার কাছে গিয়ে দাড়ালো সাহিত্য।হাসিটাতো সেই গাড়ির দিকে আগাতে ধরেই গম্ভীর মুখশ্রীতে পরিনত হয়েছে। গাড়ির সামনে ঠিক মাঝ বরাবর পাখনা মেলে রাখার মতোই এক লোগোর ভেতরে গুটিগুটি করে লিখা (Aston Martin)।
"গাড়িটা কিন্তু জোস হয়েছে!"
সামিয়ার বিস্ময় মাখা কন্ঠ শুনতেই সেপাশে মাথা ঘুরালো সাহিত্য।গাড়ির দিকে দেখে থাকা ছোট বোনের জ্বলজ্বলে চোখ দেখে পুনোরায় গাড়ির দিকে ঘুরে ঠোঁট টিপে হাসলো সে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
তোফায়েল শেখ কেয়ারটেকারকে দিয়ে লাগেজ গুলো বাসায় ঢুকিয়েছেন।কিন্তু এতগুলো লাগেজ দেখেও যেন আমেনা শেখের চোখ জোড়া কাউকে খুঁজে যাচ্ছে।দরজা দিয়ে ফ্ল্যাটে সাহিত্য ঢোকা মাত্রই চোখগুলো তার স্থির হয়ে গেল।অমনি দেখে থাকলেন কয়েক মুহূর্ত।১১ বছর আগে কলিজার একাংশ ছিঁড়ে কানাডায় পাঠিয়েছিলেন তিনি।সেই কলিজার টুকরাটা আজ তার সামনে।
মায়ের নড়াচড়া না দেখে সাহিত্য নিজেই এগিয়ে গেল।ছেলেকে হাতের নাগালে পেয়ে আলতো হাতে ছেলের মুখে আদর করতে লাগলেন আমেনা শেখ।চোখে থাকা জল আর ধরে রাখতে পারলেন না।চোখের পানি ফেলতে নিয়েই ছেলের মুখো-মন্ডলে অজস্র টুকরোচুমু বসিয়ে দিলেন তিনি।ছেলেটাকে যে তার চেনাই যাচ্ছে না।কিশোর থেকে পূর্ণাঙ্গ যুবকে পরিণত হয়েছে।ফোনের ভিডিও কলে দেখে আর কতটাই বা বোঝা যায়।দীর্ঘ ১১ বছর ছেলেকে দূরে রেখে কি ক'ষ্টটা হয়েছে সেটা এই মায়ের মন ছাড়া আর কারো বোঝার সাধ্য নেই।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
দুপুরের খাবার টেবিলে রেডি করছেন আমেনা শেখ। এমন সময় সাহিত্যকে গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে বাসায় মেইন গেটের দিকে আগাতে দেখলেন,
"সাহিত্য,কই যাচ্ছিস?"
এত বছর পর মায়ের আদরের ডাকে পেছনে ঘুরল সাহিত্য।ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে শুধালো,
"আধা ঘন্টার মধ্যে ফেরত আসছি"
"আরে দুপুরের খাবার খাবিনা? এত লং জার্নি করে এসে একটু রেস্টও নিলি না"
"এসে খাবো।জরুরী কাজ আছে"
তোফায়েল শেখ সোফায় বসা থেকেই বললেন,
"এত বছর পর দেশের রাস্তায় বের হচ্ছো,রাস্তা চিনবে?"
"জিপিএস আছে"
ছোট করে উত্তর দিয়ে বেরিয়ে গেল সাহিত্য।
....
৪৫ মিনিট পর সাহিত্য বাসায় ফিরল।তাকে দেখে সামিয়া ফিক করে হেসে উঠে বলল,
"যাক বাবা।তুমি যে হারিয়ে যাওনি সেটাই বিরাট"
ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকার তোফায়েল শেখও এবার দুপুরের খাবারের জন্য উঠে এলেন।
সাহিত্যকে দেখে আমেনা শেখকে খাবার দিতে বললেন তিনি।
কত বছর পর ছেলেকে নিজের হাতের টাটকা রান্না খাওয়াচ্ছেন আমেনা শেখ।ছেলের পাশে বসে একটা একটা করে তরকারি দিতেই আছেন তিনি,
"না খেয়ে-না খেয়ে একদম শুকিয়ে গিয়েছিস। খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে মনে হয় শুধু কাজই করিস ওখানে"
মুখের ভাত গিলে শুধালো সামিয়া,
"এখন তো সামনেই আছে।খাইয়ে-খাইয়ে এমন মোটা বানিয়ে দাও যেন গড়াগড়ি করা ছাড়া আর উপায় থাকে না"
সামিয়ার কথায় বাকি তিনজন হেসে উঠলো।হাসি থামিয়ে তোফায়েল শেখ সাহিত্যের দিকে
দেখলেন,
"তোমাকে এমন হুট করে দেশে ফিরতে বলার কারণটা মনে হয় এখনই বলা উচিত.....তোমার দাদীর ব্রেন ক্যা'ন্সা'র ধরা পড়েছে"
খাবার প্লেট থেকে মাথা তুলল না সাহিত্য। তার মানে চিঠি পাঠানো ব্যক্তি যেটা বলেছে সেটা আসলেই সত্য।সাহিত্য উপস্থিত কাউকে বুঝতে দিলো না যে সে এটা আগে থেকেই জানে এবং তাদের থেকে বেশি কিছুই জানে।মাথা তুলে তোফায়েল শেখের দিকে দেখল সাহিত্য।অতঃপর থমথমে গলায় বলল,
"কবে ধরা পড়েছে?"
"তোমাকে যেদিন আসার কথা বলি তার দুই সপ্তাহ আগে।মুহিত ভাইয়ের কাছে ট্রিটমেন্ট চলছে"
তোফায়েল শেখ আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলেন।আমেনা শেখ ও সামিয়া যেভাবে তোফায়েল শেখের দিকে দেখে আছে,তাতে মনে হচ্ছে তোফায়েল শেখের কাছ থেকে আরো কিছু বলার আশা করছে তারা।কিন্তু তোফায়েল শেখ আর কোনো কথা না বলায় আমেনা শেখ হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে সাহিত্যের দিকে
ঘুরলেন,
"তোর দাদীর কাছে আর বেশি সময় নেই সাহিত্য.....তার শেষ মুহূর্তে তিনি তার তিন ছেলের পরিবারকে একসাথে দেখতে চান।এটা মনে হয় তার শেষ ও একমাত্র ইচ্ছা"
"ঠিকাছে"
আসার পর থেকে প্রতিবারই ছেলের এমন ঠান্ডা গলা শুনে আমেনা শেখ কিছুটা চিন্তিত হচ্ছেন।ছোট থেকেই তার ছেলেটা অত চঞ্চল না।কিন্তু কানাডা যাওয়ার আগেরদিন থেকে কেমন যেন নিষ্প্রাণ হয়ে কথা বলতে শুরু করে।
খাবারের মাঝে কথার লম্বা বিরতি দিয়ে সাহিত্য মুখ খুলল,
"বিকেলে কি তুমি ফ্রি আছো আব্বু?"
তোফায়েল শেখ সম্মতি জানাতেই সাহিত্য বলল,
"রেডি থাকিও।একটু বাইরে বের হবো"
সাহিত্যের কথা শুনে আমেনা শেখ একটু ভড়কে গেলেন,
"আসার পর থেকে শুধু বাইরে দৌড়াচ্ছিস।মায়ের কাছে থাকতে তোর মন চায় না?"
এতক্ষণ পরে সাহিত্য আবার একটু হেসে উঠলো,
"আজ সারারাত তোমার কোলে শুয়ে ঘুমাবো।তবুও বিকেলটা একটু আব্বুর সাথে থাকতে দাও"
সবার সাথে এবার তোফায়েল শেখেরও ঠোঁটে হাসির রেখা দেখা দিল।যাইহোক, ছেলেটা তাকে অতটাও দূরে ঠেলে দেয়নি।আর বিকেলে যে সাহিত্য তাকে কই নিয়ে যাবে,সেটা তিনি একটু হলেও আন্দাজ করতে পারছেন।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
আধুনিক স্টাইলে তৈরি করা এক মস্ত বড় আটতলা বিল্ডিং এর সামনে এসে সাহিত্যের রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনটা গতি কমালো।আশেপাশে ঘেরাও করা এরিয়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে কোনো বড় কোম্পানির অফিস এরিয়া হবে।
তোফায়েল শেখকে নিয়ে বিল্ডিং এর ভেতরে ঢুকলো সাহিত্য।সামনে যে ই আসছে সাহিত্যকে নির্দ্বিধায় সালাম দিয়ে যাচ্ছে।বাবাকে নিয়ে লিফটে উঠে সোজা চারতলায় চলে এলো সাহিত্য।তোফায়েল শেখ এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি।তার মুখের ভঙ্গিমা দেখেও বুঝা যাচ্ছে না তিনি কি চিন্তা করছেন।আর এটা নিয়েই সাহিত্যের একটু টেনশন হচ্ছে।
লিফট থেকে বের হতেই দুটি ছেলে এগিয়ে এলো তাদের দিকে।তোফায়েল শেখ দুজনকেই চিনেন।সাহিত্যের কলেজের ফ্রেন্ড,রবি আর অয়ন।এত বছর পরে চেহারার একটু পরিবর্তন হলেও ছেলের বন্ধুদের চিনতে ততটা কষ্ট হলো না তোফায়েল শেখের।
তবুও অয়ন আর রবি তাদের পরিচয় ভালো করে দিয়েই তোফায়েল শেখকে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করতে লাগলো।
এক পর্যায়ে অয়ন হাতের ছোট ফুলের বুকেটা সাহিত্যের দিকে এগিয়ে দিল।সাহিত্য মৃদু হেসে তোফায়েল শেখের দিকে বুকেটা এগিয়ে ধরলো,
"ওয়েলকাম আব্বু"
মুখে হাসি নিয়েই ছেলের দিকে দেখলেন তোফায়েল শেখ,
"অফিসটা যেহেতু তোমার সেহেতু এটা তুমি ডিজার্ভ করো না?"
সাহিত্য কথায় জোর দিয়ে বলল,
"না।এটা তুমি ডিজার্ভ করো"
মেকি হেসে ছেলের হাত থেকে বুকেটা নিলেন তোফায়েল শেখ।
সামনে এগিয়ে এসে অফিসে উপস্থিত স্টাফদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল রবি,
"এভরিওয়ান।ইনি হলেন মিস্টার সাহিত্য শেখের বাবা"
অফিসের সি.ই.ও. এর বাবার পরিচয় পেয়েই সবাই নিজের স্থানে থাকা অবস্থায়ই দাঁড়িয়ে তোফায়েল শেখকে ছোট করে সালাম দিতে লাগল।ছেলের মাধ্যমে এতগুলো মানুষের কাছে সম্মান পেয়ে ছেলের ওপর বাড়তি রাগটা একটু দমেই গেল তোফায়েল শেখের।
কেবিনে ঢুকে সাহিত্য নিজের চেয়ারটাতে তোফায়েল শেখকে জোর করেই বসিয়ে দিল।তোফায়েল শেখ ভালো করেই বুঝছেন তার রা'গ ভা'ঙ্গানোর জন্য ছেলে এখন আহ্লাদি ভাব করছে।
সাহিত্য টেবিলের বিপরীতে এক চেয়ারে বসে ড্যাব ড্যাব করে বাবার পাশে দেখছে।হয়তো বাবার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায়।তোফায়েল শেখ ছোট করে প্রশ্ন করলেন,
"কত বছর হলো?"
সাহিত্য নজর লুকিয়ে ঘাড় চুলকাতে লাগল,
"এক বছর"
যতটা পাড়ল সময়টা কমিয়েই বলল সে।
ছেলের কথায় হালকা ভারি নিঃশ্বাস ফেললেন তোফায়েল শেখ।অতঃপর সময় নিয়ে শান্ত স্বরে শুধালেন,
"সাহিত্য....তোমার বিজনেস করা নিয়ে আমি রে'গে নেই।কোন পথে চলা সঠিক হবে সেটা বোঝার বয়স তোমার হয়েছে।আমি শুধু এই পেশাটাকে একটু অপছন্দ করি।কেন করি,কার কারণে করি সেটা মনে হয় তোমার অজানা নেই।কিন্তু তারপরেও যেহেতু তুমি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এই পথটাই বেছে নিয়েছো,আমি বাবা হিসেবে সব সময় তোমার পাশে থাকবো......আর তুমি কি কোনোকালে আমার কথা শুনেছিলে যে এখন শুনবে?"
"কানাডায় আমার অনিচ্ছায় তোমার কথাতেই গিয়েছিলাম আব্বু"
তোফায়েল শেখের শেষের সূক্ষ্ম কথার উত্তরে সাহিত্যের শান্ত স্বরের কথাটি ক্ষনিকের মাঝেই পরিবেশ হিমশীতল বানিয়ে দিল।কিন্তু সাহিত্যের চোখে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে নাকি দুঃখ,তোফায়েল শেখ তা ঠাহর করতে পারলেন না।নিজের ভাইয়ের রা'গ ছেলের উপর ঝেড়ে আবার ভুল করেনি তো তিনি?
অয়ন কেবিনের দরজায় নক করে ঢুকতেই বাবা ছেলের চোখের কথার সমাপ্তি ঘটলো।অয়নের ইশারা পেয়ে তোফায়েল শেখকে বসতে বলে সাহিত্য কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
সাহিত্যের যাওয়ার পাশে দেখেই গভীর চিন্তায় ডুব দিলেন তোফায়েল শেখ।দীর্ঘ ১১ বছর পর আগামীকাল নিজের বাড়িতে ফিরছেন তিনি।এটা কি আদৌ সম্ভব,নিজের বাড়ি থেকে কিছু দূরে ফ্লাট বাসা কিনে ১১ টা বছর থাকা?মানুষ জীবনে কখন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তা বলা বড় দুষ্কর।ছোটভাই রঞ্জক শেখের সাথে প্রায়ই যোগাযোগ হয়।তোফায়েল শেখকে কত অনুরোধ করেছেন তিনি ফিরে যাওয়ার জন্য।কিন্তু তোফায়েল শেখ শোনেননি।কিন্তু এবার যে আর উপায় নেই।মাতৃ টানে তাকে ফিরতেই হচ্ছে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
"শেখ ভিলা " ।ছোটখাটো দোতলা জমিদার বাড়িটা বাহির থেকে দেখতে অসম্ভব সুন্দর!অনেকবার নতুন করে মেরামত করেও যেন জমিদারি ভাবখানা তার যায়নি।বড় এক লোহার গেট যুক্ত চার দেয়ালের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা সেটি।বড় ফটক থেকে বাড়ির মুখ্য বড় কাঠের ফটক পর্যন্ত ছোট-বড় অনেক গাছের সমাহার।যেগুলো মালিরা প্রতি সপ্তাহেই ছা'টাই করে থাকে।বাইরের মতো বাড়ির ভেতরও বেশ আভিজাত্যপূর্ণ।কিন্তু ভেতরের অংশে আধুনিকত্বের ছাপ বেশি।বাড়ির ভেতরে এক পাশ দিয়ে প্যারাবোলা আকৃতির এক সিঁড়ি দোতালায় চলে গিয়েছে।সেই সিঁড়ির নিচের বাম দিক থেকেই ফাহাদ শেখকে দ্রুত পায়ে বের হয়ে আসতে দেখা গেল।হুট করে অফিসে এক জরুরী মিটিং রাখায় অফিসের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন তিনি।কিন্তু বাড়ির গেটের দিকে চোখ পড়তেই পা জোড়া থমকে গেল তার।
যে বড় ভাই স্কুল থেকে ফেরত এলে দৌড়ে গিয়ে তার ব্যাগ হাতে নিত,আজ তার সামনেও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না ফাহাদ শেখ।মাথা নিচু করে তোফায়েল শেখের পাশ দিয়ে যেতে নিয়েই মৃদুস্বরে সালাম দিয়ে জোর পায়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন ফাহাদ শেখ।তোফায়েল শেখ সালাম না নিয়ে সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন।
এই নীরবতার সাগর তো তিনিও চাননি।কিন্তু অতীত যে বারবার স্মরণে আসে।মাথা তুলে বাড়ির অন্দরমহলটা পুরোটা একবার পরখ করে দেখলেন। বাড়িটার চেহারা আগের থেকে অনেকটাই বদলে গিয়েছে।হতে পারে ভেতরের আধুনিক আসবাবপত্র গুলোর জন্য।একজন বিজনেসম্যান বাড়িতে থাকলে এগুলো আশা করাটা বৃথা কোনো কাজ নয়।সামনে ছোট ভাই রঞ্জক শেখকে আসতে দেখে ভাবনায় ছেদ পড়ল তোফায়েল শেখের।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সাহিত্য গাড়ির ডিকি থেকে ব্যাগ বের করছিল।হঠাৎ ফাহাদ শেখকে সামনে দেখে থমকে গেল কয়েক মুহূর্ত।অতঃপর মাথা নিচু করে সালাম দিয়ে আবার ডিকি থেকে ব্যাগ বের করতে লাগলো।
ফাহাদ শেখ এক নজর সাহিত্যের দিকে দেখলেন। ছেলেটাকে চিনতে বাকি রইল না তার।সাহিত্য যে তাকে সালাম দেবে সেটা তিনি আশা করেননি।সালাম না নিয়েই নিজের গাড়িতে উঠে মেইন ফটক দিয়ে বেড়িয়ে গেলেন তিনি।
আমেনা শেখ এসে সাহিত্যের কাঁধে হাত
রাখলেন,
"আমার কথাটা রাখার জন্য ধন্যবাদ।এখন ভদ্র ছেলের মতো ভেতরে গিয়ে তোর মেঝো চাচীকেও সালাম দিবি"
হেনা শেখকে সালাম দেওয়া সাহিত্যের কাছে অতটাও কঠিন না।সাহিত্য এই পরিবারের দুটো ব্যক্তিকে ঘৃ'ণা করে।তার মধ্যে আপাতত একজন তাকে পার করে গেল।
দোতলার বড় বারান্দা থেকে অনু আমেনা শেখ ও সামিয়াকে চিনতে পেরে দৌড়ে বাড়িতে ঢুকলো,
"আম্মু! বাবা!সামিয়ারা এসেছে!"
ততক্ষণে বড় ভাই আর ভাতিজার সাথে কুশল বিনিময় করে রঞ্জক শেখ ভাতিজার সাথে বাড়িতে তাদের ব্যাগ ঢুকাতে ব্যস্ত।সামিয়া অনুকে দেখেই এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।সামিয়া যেই স্কুলে পড়ে সেখানকারই কলেজ শাখায় অনু পড়ে।দুই বোনের বলতে গেলে প্রতিদিনই দেখা হয়।এখন সেই সময়টা দীর্ঘ হতে যাচ্ছে।
অন্ত তো সাহিত্যকে দেখে তম্বা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।একই অবস্থা সাহিত্যেরও।নিজের প্রাণপ্রিয় ছোট ভাইকে চিনতেই পারেনি প্রথমে।বড় ভাইকে এত বছর পর দেখে হাত মেলাবে,না সালাম দেবে,না জড়িয়ে ধরবে কিছুই বুঝতে পারছে না অন্ত।সাহিত্য মুচকি হেসে অন্তকে জড়িয়ে ধরল,
"আমি এখনো তোর সেই সাহিত্য ভাইয়াই আছি"
বড় ভাইয়ের আবেগ মাখা কথায় যেন গলে গেল অন্ত।শক্ত করে জড়িয়ে ধরল সাহিত্যকে।
যাকে দেখার উদ্দেশ্যে এই বাড়িতে আসা হয়েছে তাকে দেখার জন্যই মহুয়া বেগমের রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন তোফায়েল শেখ ও আমেনা শেখ।ঘরের চৌখাটে গিয়ে আটকে গেলেন দুজনই।হেনা শেখ বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।এক নজর চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ব্যক্তির দিকে দেখে মাথা নিচু করলেন হেনা শেখ।অতঃপর ছোট করে সালাম দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।মহুয়া বেগম এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন সেই দৃশ্য দেখে।
হেনা শেখ ঘর থেকে বের হতেই এক পুরুষালী কণ্ঠের সালাম শুনলেন।সালামের সাথে উচ্চারণ করা 'মেঝো চাচী' শব্দটাও।যেই কন্ঠে এই শব্দটা আগে প্রায় প্রায় শুনতেন আজ সেই কন্ঠটাও অচেনা লাগছে।ভাবলেশহীনভাবে সালাম নিয়ে স্থান ত্যাগ করলেন তিনি।
সাহিত্য মহুয়া বেগমের রুমের বাইরে দরজার পাশের দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।ছেলে ও মাকে এত বছর পর নিজেদের মতো করে একটু কথা বলার সময় দেওয়া উচিৎ।
বাবা-মা বের হতেই দাদীর রুমে ঢুকলো সাহিত্য।দরজায় দাঁড়িয়ে দাদীকে আগে পরখ করতে লাগল সে।মহুয়া বেগম একটু ভড়কালেন বটে।চোখের চিকন ফ্রেমের চশমা খুলে শুভ্রা রাঙ্গা শাড়ির আঁচলে মুছে আবার চোখে দিলেন।এখন সামনের সুদর্শন পুরুষটিকে চিনতে আর দেরি হলো না তার।চোখ জোড়া টলমল করে উঠল মহুয়া বেগমের।হাত দিয়ে ইশারা করে সাহিত্যকে কাছে ডাকলেন তিনি।দাদীর কাছে বসে সেই চিরচেনা কোলে মাথা রাখলো সাহিত্য।নাতির মাথায় গাঢ় এক চুমু খেলেন মহুয়া বেগম।
সাহিত্য মাথা উঠিয়ে শুধালো,
"এবার কলিজা ঠান্ডা হয়েছে তোমার?"
মহুয়া বেগম ছলছল চোখ নিয়েই উপর-নিচ মাথা নাড়ালেন।ছেলেটা দেখতে একদম দাদার মতো হয়েছে। লম্বাটে মুখ,ফর্সা ত্বক আর সেই মাটিয়া-সবুজাভাব রঙ্গের চোখ জোড়া।দাদার হ্যাজেল রঙ্গের চোখ জোড়া হুবহু পেয়েছে ছেলেটা।
"আমার শেষ ইচ্ছাটা যে তুই রাখবি সেটা ভালো করেই জানা ছিল আমার"
মহুয়া বেগমের কথায় সাহিত্যের হাসি দপ করে নিভে গিয়ে মুখ গম্ভীর হয়ে এলো।দরজার পাশে ঘুরে দেখে নিল কেউ আছে কিনা।যখন নিশ্চিত হলো কেউ নেই তখন মহুয়া বেগমের দিকে ঘুরে বাম ভ্রু উঁচিয়ে শান্ত স্বরে শুধালো,
"কি শুরু করেছো এগুলো তুমি?"
নাতির কথা শুনে মহুয়া বেগমের স্মরণে এলো, যে সাহিত্যেরও এ ব্যাপারে জানার কথা।জিহ্বার মাথায় কা'মড় দিয়ে নাতির পাশের মাসুম নজরে দেখতে লাগলেন তিনি।সাহিত্য আবার শুধালো,
"এটা কি ঠিক হচ্ছে?"
ফট করে উত্তর দিলেন মহুয়া বেগম,
"কাজে তো লেগেছে"
চোখ উল্টিয়ে বলল সাহিত্য,
"একবার চিন্তা করেছ, বাসার সবাই জানতে পারলে কি হবে?"
"কি হবে হোক।আপাতত আমার কলিজা ঠান্ডা হয়েছে এটাই বিরাট"
সাহিত্য আর দাদীর সাথে লাগতে গেল না।দাদীর সাথে সে কখনোই পেরে উঠবে না ভালো করেই জানা আছে তার।তাই এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখলো না সে।কিছু মনে পরতেই মহুয়া বেগম তড়িৎগতিতে বলে উঠলেন,
"তুই কল্পনার চিঠি পড়েছিস?"
হঠাৎ সেই নামটা শোনা মাত্রই কেন জানি সাহিত্যের শরীরে হালকা বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো।শিউরে উঠলো তার শরীরের লোমকূপ গুলো।সেইসব উপেক্ষা করে গম্ভীর মুখে উত্তর দিল সাহিত্য,
"শুধু শেষেরটা পড়েছি"
সময় নিয়ে শান্ত স্বরে বললেন মহুয়া বেগম,
"তুই কি কল্পনার উপর রা'গ করে আছিস?"
সাহিত্য উত্তর না দিয়ে নজর ঘুরিয়ে ঠায় বসে রইল।সাহিত্য না বললেও মহুয়া বেগম তার উত্তর পেয়ে গেলেন।
"ওই দিনের ঘটনা কল্পনা এখন অব্দি জানেনা।এখানে না তোর দো'ষ আছে আর না ওর।তোদের বাপের কারণেই আজ এমন খা'রা'প দিন দেখতে হচ্ছে।মেয়েটা অনেক আশা নিয়ে বসে আছে"
"কারো আশায় আমার কিছু যায় আসে না দাদী।অতীতে হওয়া ঘটনা তো তুমি আর বদলাতে পারবে না"
ঠান্ডা গলায় কথাগুলো বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল সাহিত্য।
সাহিত্য সেই কখন দরজা পার করে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে।কিন্তু মহুয়া বেগম এখনো সে পাশেই দেখে আছেন।এ বাড়ির পরিবেশ যে এখন আগের থেকেও বেশি গম্ভীর হতে চলেছে তা খুব ভালো করেই আঁচ করতে পারলেন মহুয়া বেগম।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
অনু সাহিত্যের লাগেজটা তার রুমে ঠেলে ঢুকিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো,
"আপনারা আগে যে রুমে ছিলেন ওই রুমগুলোই পরিষ্কার করা হয়েছে।শুধু আপনার পাশের রুমগুলোতে আমরা ভাই-বোনগুলো উঠেছি"
পুরো রুমে চোখ ঘুরিয়ে অনুর দিকে দেখল সাহিত্য। মেয়েটার মুখে হাসি থৈ থৈ করছে।বাচ্চা মেয়েটা হাতে পায়ে কতটা লম্বা হয়ে গিয়েছে!
"আর আপনার রুমটা কল্পনা আপু নিজ হাতে গুছিয়েছে।স্পেশালি দেওয়ালের এই পেইন্টিংগুলো। এত বছর খুব যত্ন করে রেখেছিল এগুলোকে।যখন শুনেছে আপনি আসছেন তখন থেকেই একটা একটা করে সযত্নে দেয়ালে লাগিয়েছে"
আবার সেই নাম।নামটা শুনলেই মুখটা বেস্বাদ হয়ে যায় সাহিত্যের।ঘৃ'ণা করে সাহিত্য সেই নামের অধিকারীকে।অ'স'হ্য লাগে সেই নামটা সাহিত্যের কানে।আবার পুরো রুমে চোখ ঘুরালো সাহিত্য।পুরো রুমের দেয়াল জুড়ে সাহিত্যের আঁকা অনেক ছবির ছোট-বড় ক্যানভাস ঝুলছে।যেগুলো কোনো এক সময় সাহিত্য অনেক আবেগ নিয়ে নিজ হাতে তৈরি করেছিল।কিন্তু এখন সেই ক্যানভাসগুলোতে শুধু সাহিত্যের ছোঁয়া নেই।আরো এক ব্যক্তির ছোঁয়া আছে।যা সাহিত্যের কাছে বি'ষা'ক্ত।ক্যানভাসগুলোর উপর চোখ ঘুরাতে নিয়েই চোয়াল শক্ত হয়ে এলো সাহিত্যের।অক্ষি জোড়ায় আ'গু'ন দপ দপ করছে।হুট করেই যেন রা'গটা চড়চড় করে মাথা উঠে গেল।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
রিক্সার ভাড়া চুকিয়ে লোহার গেট পার হতেই দুটো গাড়ির দিকে চোখ গেল কল্পনার।একটা গাড়ি তার চেনা,তোফায়েল শেখ আহমেদের।কিন্তু আরেকটা গাড়ি তার নজরে সম্পূর্ণ নতুন। গাড়িটার সৌন্দর্য দেখে আনমনেই লম্বা এক শিশ ফুকালো কল্পনা।এই গাড়ি বাংলাদেশে সে আশা করেনি।গাড়িটা কার হতে পারে চিন্তা করতেও বেশি সময় লাগলো না তার।
বাড়িতে কালবৈশাখীর ঝড় গিয়েছে না শীতের সকালের মৃদু বাতাস বয়ে গিয়েছে,সেটা আন্দাজ করতে পারছে না কল্পনা।কারণ পা টিপে টিপে বাড়িতে ঢুকে পরিবেশ খুবই স্বাভাবিক দেখল সে। আশেপাশে কোনো মানুষের ছিটেফোঁটাও নেই।
ভার্সিটিতে ক্লাসের টাইমগুলো ঠিক করার সময় লোকগুলো মনে হয় ভে'জা'ল খায়।কেমন ভর দুপুরে ক্লাসের টাইমটা দিয়েছিল।যার দরুন কল্পনা যে আগামীতে এই বাড়িতে হওয়া মুভির ট্রেইলারটা মিস করলো।বাড়ির ভেতরে ঢুকতে নিয়েই মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করে নিল,যে সাহিত্য বা
বড় বাবা-বড়মা সামনে এলে কেমন রিয়েক্ট করবে সে।
আরেকদিকে তো অন্য ঝামেলা হয়েছে।ফাহাদ শেখ কল্পনাকে সাফ সাফ বলে দিয়েছেন তাদের সাথে যেন কল্পনাকে কথা বলতে না দেখেন তিনি।সাহিত্যের নামটা একটু বেশিই জোর দিয়ে নিষেধ করেছেন।এটা কেমন কথা?এত বছর পর তারা আসছে আর কল্পনা কেন কথা বলবে না?সে অতটাও অ'ভদ্র নয়। বাবা-মা তাকে যথেষ্ট ভালো শিক্ষা দিয়েছে।আর ফাহাদ শেখের কথা শুনে বসে থাকলে হবে নাকি? কল্পনাকে তো এখন মাথায় গামছা বেঁধে নামতে হবে।না হলে তার সব পরিকল্পনা বেহেস্তে যাবে।
"আরে ভাইয়া কি করছেন!!"
কল্পনা অর্ধেক সিঁড়ি পার করেছে,আর সেই মুহূর্তে অনুর হালকা চি'ৎকা'র শুনতে পেল। হঠাৎ কি হয়েছে বোঝার জন্য অনুর চি'ৎকা'র অনুসরণ করে দৌড়ে গেল কল্পনা। সাহিত্যের রুমের দরজায় গিয়ে কল্পনার পা জোড়া থমকে গেল।চোখ জোড়া কোঠর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো মেয়েটার।রুমের মাঝ বরাবর দাউ দাউ করে আ'গুন জ্বলছে।
"কল্পনা আপু দেখো না ভাইয়া কি করেছে!"
অনুর কাপা গলায় কল্পনা অনুর পাশে এক নজর দেখে বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্যের দিকে দেখল।সাহিত্যের নজর এখনো আ'গুনে জ্বলতে থাকা ক্যানভাসগুলোতে আবদ্ধ।সেই চোখ জোড়া থেকেও যেন আরেক দফা আ'গুন বের হচ্ছে।ধীরে ধীরে সেই চোখ জোড়া কল্পনার দিকে ঘুরলো।ক্রো'ধ উপছে পড়ছে সেই চোখ জোড়া থেকে।কল্পনার মনে হলো যেন এখনই সেই ক্রো'ধের আ'গুন তাকে গ্রাস করে ফেলবে।কিন্তু সেই ক্রো'ধের পাশাপাশি ক্রো'ধের অধিকারীকেও পরখ করতে ভুললো না কল্পনা।
নেভি ব্লু শার্টের সাথে ব্ল্যাক ফরমাল প্যান্টটা ভালোই ফুটে উঠেছে সাহিত্যের শরীরে।শার্টের হাতা কনুই অবধি গুটানো থাকায় পেশীবহুল হাত দুটো কি সুন্দরই না লাগছে!সাহিত্যের রা'গ উঠায় সে হাতের রগগুলোও হালকা ফুলে উঠেছে।মানুষটাকে এতদিন ফোনের ছবিতে দেখলেও আজ সরাসরি দেখে কল্পনার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।তার উপর সেই আধা মিনিট ধরে কল্পনাকে দেখে যাচ্ছে এই সুদর্শন পুরুষটি।রুমে আগুনের ভ্যাপসা গরমের মাঝে হঠাৎই এক পুরুষালী ভারী গম্ভীর কণ্ঠের আওয়াজ শোনা গেল,
"কাউকে আমার রুমে ঢোকার অনুমতি দেয়নি আমি"
#চলবে
নায়ক-নায়িকার চোখাচোখিতে আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে ৩হাজার শব্দের পর্ব লিখেছি🫠কিন্তু আগামী পর্বগুলোতে ২হাজার শব্দের এক ছটাকও বেশি দিব না 😤