#পর্ব_৭
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
সাহিত্য ড্রয়িং রুম ত্যাগ করার পর যেন ভাটা পড়ল সেই জায়গায়।দুই শেখ আহমেদকেই কেমন ফু মে'রে উড়িয়ে দিয়ে চলে গেল সাহিত্য।মাথা নিচু করে মুখের হাসি কোনো রকম চেপে ধরে টেবিলের উপর থেকে তিনটা কাপ ট্রেতে তুলে কল্পনা রান্নাঘরের দিকে হাঁটা দিলো।কল্পনা তো সাহিত্যকে ভালো করেই চেনে।এই দুই শেখ আহমেদকে তো সে ই একমাত্র ঠিক করতে পারবে।কিন্তু এটা যেন কল্পনা সাহিত্যকে কিছুতেই বোঝাতে পারছে না।স্যার তো তার জ্বা'লামুখীর লা'ভায় মসলা ঢালতেই ব্যস্ত।
আমেনা শেখের পিছু পিছু কল্পনাও গিয়ে রান্নাঘরে ঢুকলো।গত দুই সপ্তাহ আমেনা শেখও কল্পনাকে পাত্তা দেননি।কিন্তু কল্পনা প্রতিবারের মতোই হাল ছাড়িনি।রান্নাঘরের সেলফের উপরে ট্রেটা রেখে আমেনা শেখের নজরে আসার অনেক চেষ্টা করল কল্পনা।কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও ব্যর্থ হলো।আমেনা শেখ তাকে উপেক্ষা করেই যাচ্ছেন বারংবার।এবার কল্পনার একটু মন খা'রা'পই হলো বটে।আমেনা শেখের সামনে গিয়ে হাত থেকে কফির বৈয়মটা ছো মে'রে নিয়ে নিল সে।
"আরে...."
আর কিছু বললেন না আমেনা শেখ।চুপ হয়ে গেলেন আবার।কল্পনার দুঃখিনী মুখটা দেখে খুব মায়া হলো তার।কল্পনা তার কান্না সংযত রেখে কাঁপা গলায় বলল,
"কেন আমার সাথে কথা বলছো না,বড় মা?আগে তো এমন ছিলে না?"
কল্পনার এমন ছলছল চোখ দেখে আমেনা শেখের ঠোঁট জোড়ে সুক্ষ্ম কেঁপে উঠলো।গত দু সপ্তাহ থেকেই বাচ্চা মেয়েটাকে দেখেও যেন না দেখার ভান করে গিয়েছেন তিনি।কারণটা হয়তো সেই ১১বছর আগের সূক্ষ্ম বেদনা।তিনি এখনো ভেবে পান না,বড়দের এসব ঘোলা জলে বাচ্চাদের ঢোকানোর কি দরকারটাই ছিল।উল্টো আরো বাচ্চাগুলো ক'ষ্টে ভুগছে এখন। ভাইদের আপন ক্রোধের বি'ষ যেন এই বাচ্চা দুটো ভোগ করছে।আমেনা শেখ চোখ জোড়া বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কল্পনার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন,
"কল্পনা কফিটা দে"
আরও অভিমান করে বসলো কল্পনা,
"দেব না। তুমি আমার কথা শুনেছো,যে আমি তোমার কথা শুনবো?"
আমেনা শেখ আবার অভিমানী অষ্টাদশীর পাশে দেখলেন।তিনি কেমন করে এই মেয়েটাকে বোঝাবেন যে তার হাতে কিছুই নেই।তিনিও পরিস্থিতির শিকার।তার ওপর মনের এই সুক্ষ্ম বেদনা যে এতো সহজে সরানো সম্ভব নয়।আমেনা শেখ আর কথা না বাড়িয়ে কাববোড থেকে নতুন একটা কফির বৈয়ম বের করে খুলতে লাগলেন।
"আরে আরে,কি করছো?ওটা খুলো না,এটাই নাও"
ব্যতিব্যস্ত কণ্ঠে কথাটা বলে হাতের কফির বৈয়মটা আমেনা শেখের দিকে এগিয়ে ধরল কল্পনা।অভিমানী চেহারার সাথে অতি কোমল সুরে বলল,
"কথা বলবে না ঠিক আছে।কিন্তু তোমার ছেলের মতো অযথা রা'গ করে থাকিও না"
কথা শেষ হতেই কল্পনা অন্ধকার মুখ নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
রান্নাঘরের মাঝ বরাবর ইট টাইলস দিয়ে তৈরি আয়তাকারের এক মাঝারি সাইজের টেবিল বিদ্যমান।যেখানে সাধারণত রান্নাবান্নার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা হয়।কিন্তু এই মুহূর্তে আমেনা শেখের কাঁপতে থাকা হাত দুটো যেন সেখানেই ঠাঁই পেল।টেবিলে দুই হাতের ভর দিয়ে মাথা নিচু করলেন আমেনা শেখ। চোখ জোড়া বন্ধ করে বড় বড় দুটো শ্বাস নিলেন।তারমানে কল্পনা এখনো জানেনা সাহিত্য কানাডায় কেন গিয়েছিল।সেই সুক্ষ্ম ঘটনা যে সাহিত্যের উপর এক বড় আকারে প্রভাব ফেলেছে। যার দরুন আদরের ছোট বোনকেও এখন আর দেখতে পারছে না সে।বাড়ির বড় বউ হওয়া সত্ত্বেও সেরকম একটা ছোট বিষয় আমেনা শেখ সামলাতে পারেননি তার জন্য এত বছর নিজেকে যে কতবার ধিক্কার জানিয়েছেন তার হিসাব নেই।না ছেলেকে বাঁচাতে পেড়েছেন আর না এই পরিবারকে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
ঘড়ির কাঁটা ৮:১৫ ছুই ছুই।এমন সময় শেখ ভিলায় আগমন ঘটলো এক সিনিয়র ডাক্তার সাহেবের।শহরের জানা-মানা এই সম্মানিত সিনিয়র ডাক্তার সাহেব যেন শেখ পরিবারেরই এক অংশ।শেখ ভিলার কেউ যদি একটা হাঁচি পর্যন্ত দেয় তাহলে মুহিত সাহেবের কাছে দৌড় লাগান।অবশ্য পরিবার সূত্রে মুহিত সাহেবের পিতাও শেখ পরিবারের পারিবারিক ডাক্তার ছিলেন।পিতার রিটায়ারমেন্ট এর পর থেকে মুহিত সাহেবই এখন শেখ পরিবারের হাঁচি-কাশি সামলান।
শেখ ভিলায় প্রবেশ করা মাত্রই সবাইকে এতো বছর পর একসাথে দেখে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা গেল তাকে।কল্পনার কু বুদ্ধি মাখা প্ল্যান শুনে প্রথমদিকে জোরে জোরে মাথা ঝাকি দিয়ে না বলেছিলেন তিনি।পরিবার সূত্রে শেখ ভিলার একজন অতি বিশ্বস্ত ডাক্তার মুহিত সাহেব।আর তিনিই যদি এত বড় একটা মি'থ্যা কথা বলেন তাহলে কি হবে সেটা ভাবতেও তার ভ'য় জেকে বসে।অপরদিকে এই কল্পনা মেয়েটি তো তারই হসপিটালে হয়েছিল।জন্মের প্রথম ঘন্টা থেকেই তাকে দেখে আসছেন তিনি।তার চঞ্চলতা সম্পর্কেও যথেষ্ট ধারনা আছে মুহিত সাহেবের।চঞ্চল স্বভাবের এই মেয়েটা যে ভীম সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে মহিত সাহেবের পেছনে পড়েছিল।না মানিয়ে ছাড়বেই না।তারপরেও শোনেননি তিনি। এত বড় মি'থ্যা তিনি বলতে পারবেন না শেখ পরিবারকে।কিন্তু যখন মহুয়া বেগম নিজে থেকে বললেন তখন মুহিত সাহেব আর রাজি না হয়ে থাকতে পারলেন না।
যার ফল স্বরূপ আজ সবাইকে আবারও এক ছাদের নিচে দেখে কল্পনাকে মনে মনে একটু হলেও বাহবা দিতে লাগলেন মুহিত সাহেব।
সাধারণত মহিত সাহেব তিন মাসে একবার করে শেখ ভিলায় আসেন।আসল উদ্দেশ্য মহুয়া বেগমের চেকআপ করা।তার সাথে টুকটাক পরিবারের বাকি সদস্যদেরও একটু প্রাথমিক চেকাপ করে দেন।কিন্তু ক্যা'ন্সা'রের নাটকের জন্য গত মাস থেকে বেশ কয়েকবারই আসতে হচ্ছে।ফাহাদ শেখ ও রঞ্জক শেখকে প্রথমবারে এই বানোয়াট ক্যা'ন্সা'রের কথা বলার সময় হাত-পা থরথর করে কাঁপছিল মুহিত সাহেবের।একজন সিনিয়র ডাক্তার হিসেবে সাধারণ মানুষকে তিনি অনায়াসে অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিতে পারেন।কিন্তু তার ভ'য় করছিল ফাহাদ শেখকে।একটু যদি এদিক-ওদিক হয়ে যায় আর ফাহাদ শেখ যদি তা জানতে পারেন,তাহলে মুহিত সাহেবের টি'উমা'র ছাড়াই ক্যা'ন্সা'র ধরিয়ে দিবেন।তারপরেও নিজেকে যথেষ্ট শক্ত রেখে দুই শেখ আহমেদকেই অন্ধবিশ্বাসী করে তোলেন।নিজের পিতার কাছে পরে অনেক ক্ষমা চেয়েছেন তিনি এ বিষয়ে।কিন্তু আসল ঘটনা শুনে আর এহনাফ শেখের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ায় মুহিত সাহেবের পিতা যেন কল্পনার পরিকল্পনার সাথে দ্বিমত করেন না।তিনি তো আরো বলছিলেন ব্লা'ড ক্যা'ন্সা'রের কথা বলতে এবং লাস্ট স্টেজ যেন বলে।সেইদিন পিতার কথায় ভারী নিঃশ্বাস ফেলা ছাড়া মুহিত সাহেবের আর কোনো কাজই ছিল না।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
বর্তমানে মহুয়া বেগমের রুমের পরিবেশ বেশ থমথমে।বিছানার পাশে বসে মহুয়া বেগমের নরমাল চেকআপ করছেন মুহিত সাহেব।কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে মুহিত সাহেবেরই চেকআপের প্রয়োজন।কপাল থেকে ছোটা ঘামের কণাগুলোকে কোনোমতে লুকিয়ে রেখেছেন তিনি।কারণ মহুয়া বেগমের রুমে শেখ বাড়ির সবাই উপস্থিত।
বাড়ির তিন গিন্নি বিছানার ওপর পাশে,কেউ দাঁড়িয়ে কেউবা বসে।বাড়ির তিন শেখ আহমেদ বিছানার শেষ মাথায় সটান দাঁড়িয়ে আছেন।অনু,অন্ত আর সামিয়া দরজার কাছে উঁকি-ঝুঁকি মা'রছে।আর সাহিত্য তো সেই মুহিত সাহেব আসার পরপরই রুমে ঢুকে এক কোণে দেয়ালে হেলান দিয়ে বুকে হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে আছে।সবার পাশে আড় চোখে দেখে লম্বা শ্বাস ভেতরে নিলেন মুহিত সাহেব।অতঃপর মহুয়া বেগমের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা কল্পনার পাশে চোখ পিটপিট করে দেখতে লাগলেন তিনি।কিন্তু পর মুহুর্তেই কল্পনা সেপাশ থেকে চোখ ঘুরিয়ে নিল।উদ্দেশ্য তার একটাই,রুম ভর্তি মানুষের কাউকেই সন্দেহ হতে দেওয়া যাবে না।
মহিত সাহেব কল্পনাকে মানবদেহের ২০৬ টা হাড্ডির নাম নিয়ে বকা দিতে লাগলেন।জালে ফাঁ'সিয়ে এখন কেমন উপেক্ষা করে যাচ্ছে তাকে!অবশ্য ডাক্তারি ব্যাপারে তো এখানে কল্পনার বলার কিছুই নেই।যা বলার মুহিত সাহেবকেই বলতে হবে।
ভারী এক নিঃশ্বাস ফেলে থেটিসকোপ গলায় ঝুলিয়ে উঠে দাঁড়ালেন মুহিত সাহেব।তার ওঠা দেখে বাকি সদস্যরা নড়েচড়ে উঠলো।
মুহিত সাহেবের ভারী নিঃশ্বাস ফেলা দেখে তোফায়েল শেখ মৃদুস্বরে বললেন,
"মুহিত ভাই,সব ঠিক আছে তো?"
"চলেন বাইরে গিয়ে কথা বলি"
মুহিত সাহেব কথাটা বলে রুম থেকে বের হতেই সবাই হুড়মড়িয়ে বাইরে বের হয়ে গেল।সবাই বের হয়ে যেতেই দুই পাটি দাঁত বের করে হেসে দরজার পাশ থেকে চোখ ঘুরাতেই কল্পনার হাসি ফুস হয়ে গেল।ঘরের ঐ কোণে এখনো সাহিত্য সেভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।পরনে তার কফি রঙ্গা একখানা পোলো টি-শার্ট আর ব্লাক ট্রাউজার পড়া।এই ছেলেটার ড্রেসিং সেন্স এত মা'রা'ত্মক কেন?মনে হয় কালার এনালাইজিং চার্ট ইউজ করে।বাড়ির ভেতরে এত স্টাইলে থাকার দরকার টাই কি?উল্টো আরো তার অতি উজ্জ্বলতায় কল্পনার চোখ ধাদিয়ে যায়।
সাহিত্য কল্পনাকে আগাগোড়া পরখ করলো।পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকানো চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পরনের হালকা কমলা রঙ্গা কুর্তি সেটটার কাঁধের কাছে লেপ্টে আছে।মেয়েটা যেন সাহিত্যের একদম বিপরীত।অত পরিপাটি থাকা তার ধাচে নেই।কিন্তু সেই এলোমেলো অষ্টাদশীকে দেখে যে কেউ কু'পো'কা'ত হতে বাধ্য।একমাত্র সামনের এই সুদর্শন পুরুষটি বাদে।যে কিনা বর্তমানে কল্পনাকে এমন নজরে দেখছে যেন কল্পনার শরীর থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি বয়ে বয়ে পড়ছে।সেকেন্ড কয়েক চোখ দিয়েই ছু'রি চালিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সাহিত্য।আর কল্পনা তো সেই কতক্ষণ থেকেই মাথা হেট করে দাঁড়িয়ে আছে।ক্ষনিকের চোখাচোখিও সামলাতে পারিনি মেয়েটা।এসব চোখাচোখী মহুয়া বেগমের আড় চোখেই থেকে গেল।তিনি তো বর্তমানে এটা নিয়েই চিন্তিত যে বাহিরে মুহিত সাহেবের কি অবস্থা হচ্ছে।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
ড্রয়িং রুমে মাথার ওপরে ফ্যান চলছে।কিন্তু এতগুলো মানুষের মাঝে কেন্দ্রবিন্দু মুহিত সাহেব যে দরদর করে ঘামছেন।পুরো শেখ ভিলার মানুষজন তাকে দাঁড় করিয়ে চারপাশ দিয়ে ঘেরাও করে ধরেছেন।কারণটা অবশ্যই মহুয়া বেগমের শরীরের পরিস্থিতির ব্যাপারে জানার জন্য।কিন্তু বর্তমানে মুহিত সাহেবের মনে হচ্ছে তাকে জিম্মি করার জন্য মাঝখানে এমন দাঁড় করানো হয়েছে।কোনো কথা এদিক ওদিক হলেই ঘাড় থেকে মাথা আলাদা।এতগুলো মানুষকে মি'থ্যা বলার আগে তিনি এটা ভেবে বসলেন যে এতোগুলো মানুষ যদি তার উপর রা'গে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাহলে তিনি কি আদৌ বাঁচবেন?শুষ্ক এক ঢোক গিললেন সে চিন্তায়।কিন্তু সেটা সবার নজর এড়িয়ে গেল।উসখুস শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে মুখ খুললেন মুহিত সাহেব,
"কোনো অবনতি হয়নি.....কিন্তু কোনো উন্নতিও দেখলাম না"
সবার ভেতর থেকে ভারী নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো।
ফাহাদ শেখ গলায় জোর দিয়ে বললেন,
"আমি আম্মাকে বিদেশে নিয়ে যাব,মুহিত ভাই"
ভড়কে গেলেন মহিত সাহেব।কিন্তু আবারো সেই অনুভূতি লুকিয়ে শুধালেন তিনি,
"ফাহাদ ভাই আমি আপনাকে আগেও বলেছি,দেশ বদলে কোনো লাভ নেই।ট্রিটমেন্ট তো আমরাও দিচ্ছি। রো'গটাই এমন যে কোনো ডাক্তারই শতভাগ আশা দিতে পারবে না"
"আম্মাকে অন্তত হসপিটালে ভর্তি করানো উচিত"
রঞ্জক শেখের কথায় সবাই মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিল।কিন্তু পর মুহুর্তেই মুহিত সাহেব মার্বেলাকার চোখ জোড়া বের করে জোরে জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে অসম্মতি জানালেন।ব্যতিব্যস্ত কন্ঠে শুধালেন তিনি,
"না না না!হসপিটালে কেন?এখানেই ভালো ট্রিটমেন্ট হবে"
কথাটা বলেই মনে মনে আওড়াতে লাগলেন,
"হসপিটালে গেলে এই প্লানের ভান্ডাতো ফুটবেই,সাথে আমার এত বছরের রেপুটেশনও ভাড়ে যাবে"
কপালে ভাজ ফেলে এবার তোফায়েল শেখ বলে উঠলেন,
"হসপিটালে নিলে ভালো হতো না?"
তোফায়েল শেখের কথায় আতংক লুকিয়ে মুহিত সাহেব মলিন হেসে বললেন,
"হসপিটালের পরিবেশ থেকে বাড়ির পরিবেশ অনেক ভালো আছে।আর বাড়িতে বাচ্চারাও থাকার কারণে ওনার মন-মেজাজও ভালো থাকবে.....আর যদি কখনো হসপিটালে নেওয়ার প্রয়োজন হয় আমি জানিয়ে দেবো"
মহিত সাহেবের কথা শুনে সবার দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকলো না।
গুরুতর বিষয়ের আলাপের পর্ব চুকিয়ে টুকটাক কথা বলে মুহিত সাহেবকে রাতের খাবার খেতে জোর করলে তিনি মানা করে দিলেন।একজন সিনিয়র ডাক্তার হিসেবে সারাদিন হসপিটালে থেকে সরাসরি এখানে এসেছেন তিনি।তাই বাড়ি ফিরতে আর দেরি করতে চাচ্ছেন না।সদর গেট পার হতেই সাহিত্যকে দেখে থেমে গেলেন তিনি।ছেলেটা পুরো সময় কম কথা বলে শুধু দেখেই ছিল তার দিকে।নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছি কিছু ঘা'প'লা আছে।সাহিত্য মুহিত সাহেবের অস্বস্তি বোধ দেখে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে
শুধালো,
"আঙ্কেল আমি সব জানি"
সাহিত্যের কথা শুনে মুহিত সাহেব হালকা চকিত হলেন বটে।কিন্তু কিছু বললেন না।
"দাদীর না হয় বয়স হয়েছে তাই বাচ্চা মেয়েটার সাথে সেও বাচ্চামো করছে।কিন্তু আপনার কাছে আমি এটা আশা করিনি"
মুহিত সাহেব তো নিজের কর্মকাণ্ডে আগে থেকেই অনুতপ্ত। প্রাণহীন কন্ঠে বললেন,
"একটা শক্ত মহিলার চোখে জীবনে প্রথমবার পানি দেখে তুমিও হয়তো সেটাই করতে বাবা।এত বছরে এই প্রথম তোমার দাদী আমার কাছে কিছু আবদার করেছেন।সেটা আমি কিভাবে ফেলতে পারতাম?"
সাহিত্য কাটকাট গলায় বলল,
"আর পরবর্তীতে সবাই জানতে পারলে কি হবে ওটাও তো মনে হয় আপনার ভালো করেই জানা আছে"
"আমি জানি.....কিন্তু তোমাদেরকে এভাবে একসাথে দেখে তোমার দাদীর মুখের হাসিটা দেখেছো?"
মুহিত সাহেব সাহিত্যের কাঁধে হাত রাখলেন,
"যদিও বা আমি মি'থ্যা বলছি,কিন্তু তোমার দাদীর শরীর আসলেই ভালো নেই,সাহিত্য।১১ বছর আগে যে হার্ট স্ট্রোক করেছিলেন তারপর থেকেই তিনি অসুস্থ।ওনাকে নিয়ে তো আমার চিন্তা হচ্ছিল।কিন্তু তোমাদেরকে এভাবে দেখার পর ওনার পালস রেটটা অনেক স্বাভাবিক দেখলাম আজকে।যদি এটাতেই উনি সুস্থ থাকেন তাহলে আমারো দু-চারটা মি'থ্যে বলা আমি মেনে নেব।ডাক্তারের তো কাজই রো'গীকে সুস্থ রাখা।আর একজন রো'গীর জন্য ঔষধের ট্রিটমেন্টের থেকে মানসিক ট্রিটমেন্টটা সব সময়ই বেশি
ইফেক্টিভ"
কথায় একটু বিরতি নিলেন মুহিত সাহেব।হয়তো মহুয়া বেগমের চিন্তায় গলা ভারি হয়ে এলো সেজন্যই।মুখে মলিন হাসি নিয়ে সাহিত্যের কাঁধে হালকা করে দুবার হাত চাপড়ালেন তিনি,
"এখন বাকিটা তুমি যা ভালো মনে করো"
সাহিত্যকে পেছনে ফেলে মুহিত সাহেব সামনে এগিয়ে গেলেন।সাহিত্য যেন ভাষা হারিয়ে ফেললো।যদিও মি'থ্যাটা বলা ঠিক হচ্ছে না,কিন্তু দাদীর মনের দিকে না দেখেও তো পারছে না সে।আকাশের পাশে দেখে এক ভারী নিঃশ্বাস ফেললো সাহিত্য।এই পরিবারটা কি আর পাঁচ-দশটা সাধারণ পরিবারের মতো হতে পারত না?সাহিত্যের জীবনটা কি স্বাভাবিক হতে পারত না?কল্পনাকে কি সাহিত্য স্বাভাবিক চোখে দেখতে পারত না? সাহিত্য এগুলোর উত্তর যেহেতু এতদিন খুঁজে পায়নি সেহেতু আজ কেমন করে পাবে?এই পরিবারের প্রতি বি'তৃষ্ণা এসে গিয়েছে সাহিত্যের।চায় না সে এই পরিবার!একাকীত্বকেই সে আপন করে নিয়েছে এখন।তাই এই পরিবারকে জোড়া লাগানোর জন্য কোনো বৃ'থা চেষ্টা করতে সে ইচ্ছুক নয়।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
শেখ ভিলায় যেহেতু ক্ষণিক সময়ের জন্য থাকা হবে, তাই মুহিত সাহেব তার গাড়ি লোহার গেটের বাইরেই রেখেছেন।বাড়ির কাঠের গেটে সাহিত্যের সাথে কথা বলে লোহার গেটের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি,এমন সময় পেছন থেকে কেউ শক্ত হাতে তার কাধ চেপে ধরল।অমনি আতঙ্কে মুখে সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে হালকা চিৎ'কার দিয়ে উঠলেন মুহিত সাহেব।
"আঙ্কেল আছতে,আমি কল্পনা"
চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করে রেখেছিলেন মুহিত সাহেব। কল্পনার গলা শুনে চোখ খুললেন।শেখ ভিলার ভেতরে ছোট রাস্তাটার পাশে ল্যাম্পপোস্টের হালকা নিয়ন আলোয় কল্পনার মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।তেতে উঠলেন মুহিত সাহেব,
"বে'য়া'দব মেয়ে!ভ'য় দেখাচ্ছো কি জন্য?একটুর জন্য আমি হার্ট অ্যা'টা'ক করলাম না!"
কল্পনা চোখে-মুখে বি'র'ক্তির ভাব নিয়ে বলল,
"এত দুর্বল হার্ট নিয়ে আপনি ডাক্তার হয়েছেন কেমন করে?"
"আমার হার্ট ভালোই ছিল।তোমার এসব কু'বুদ্ধি শোনার পর থেকে কলিজা হাতে নিয়ে শেখ ভিলায় ঢুকতে হয় আমাকে"
মুহিত সাহেবের হাসফাস যেন কল্পনার চোখেই পড়ল না।সব ফু মে'রে উড়িয়ে দিয়ে বলল,
"ওসব বাদ দেন।এতক্ষণ সাহিত্য ভাইয়ের সাথে কি কথা বলছিলেন?"
মুহিত সাহেব সটান দাঁড়িয়ে ভ্রু উঁচিয়ে বললেন,
"সাহিত্যকে তুমি জানিয়েছো আমাকে বলনি কেন?"
কল্পনা কাচুমাচু হয়ে গেল,
"মনে ছিল না......বলেন না কি কথা হলো"
শেষের বাক্যের উত্তর জানার জন্য কল্পনার মন উসখুস করছে।
শান্ত স্বরে বললেন মুহিত সাহেব,
"দেখে তো মনে হলো সাহিত্য কাউকে কিছু বলবে না"
কথাটা শুনেই যেন কল্পনার কলিজায় পানি এলো। মুহিত সাহেব গলায় আতঙ্ক ঢেলে বললেন,
"কল্পনা আরো একবার ভেবে দেখো।তোমার বাবা-চাচারা জানতে পারলে কিন্তু এখন যে অবস্থা আছে এর থেকেও অবনতি হবে"
কল্পনার গলার জোর কমলো না,
"আঙ্কেল।জীবনে একটু রিস্ক না নিলে চলে নাকি?আর......."
"কিন্তু তোমার বাপ-চাচারা জানতে পারলে তো রিস্ক নিয়ে আমার ওটিতে আমারই অপারেশন করে দেবে!"
কল্পনাকে কথার মাঝে থামিয়ে দিয়ে মুহিত সাহেব তার মনের ভ'য় প্রকাশ করেই দিলেন।
গুণী-জ্ঞানীদের মতোই কল্পনা মুহিত সাহেবকে আশ্বাস দিল,
"ওহো আঙ্কেল,হবে না আপনার অপারেশন।আমি আছি তো"
ঘাড় চুলকে মনে মনে আওড়ালেন মুহিত সাহেব,
'তুমি আছো দেখেই তো এত ঝামেলা হচ্ছে মা। এর পরিণতি যে কি হবে আল্লাহ মাবুদই জানেন'
"আপনি একদম নরমাল থাকিয়েন।আজ যেমন ছিলেন ঠিক তেমন করেই।বাকিটা আমি দেখে নেব"
কল্পনার আবারও কথায় ভাবনায় ছেদ পড়লো মুহিত সাহেবের।কল্পনার এসব কর্মকাণ্ড যে কি বয়ে আনবে সেটা ঠাহর করতে পারলেন না তিনি।তবুও কল্পনাকে কিছু সতর্কবার্তা শুনিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন।
মুহিত সাহেব চলে যেতেই কল্পনার হাসিটাও চলে গেল। আশেপাশের মানুষদেরকে সে আশ্বাস দিলেও নিজের বেলায় তার পক্ষে সেটা করা সম্ভব হয়ে উঠে না।এক অতল সমুদ্রের গভীরে যেন আটকা পড়েছে সে।ল্যাম্পপোস্টের নিয়ন আলো উপেক্ষা করে তিমির অন্ধকার আকাশে চোখের দৃষ্টি ফেলল কল্পনা।বয়সটাই যে এমন,একবার কোনো কিছুতে আটকা পড়লে বের হওয়া সম্ভব হয়ে উঠে না।দাদীর ছলছল চোখের প্রতিটা কাহিনী যে কল্পনার জানা।সেগুলো উপেক্ষা করা যে সম্ভব নয় এই কোমল অষ্টাদশীর পক্ষে।পরিবারটাকে এক গিঠে বাধা যেন দায়িত্ব হয়ে গিয়েছে কল্পনার জন্য।যেটা দাদীর একমাত্র ইচ্ছা, সেটা যেন কল্পনার দায়িত্বের কাতারে পড়েছে।দাদীর মুখে এক অকৃতিম হাসি দেখার জন্য যেন মরিয়া হয়ে গিয়েছে কল্পনা।
সূক্ষ্ম দুরুত্বের ব্যবধানে থাকা দুই ব্যক্তিই আকাশ পানে তিমির অন্ধকার পরখ করে যাচ্ছে।কিন্তু একজনের কাছে সেই তিমির অন্ধকার মানেই পথের শেষ সীমানা।আর অন্য একজনের কাছে যেন সেই তিমির অন্ধকার মানেই অসীম পথের শুরু।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
মার্চ মাসের শেষের দিকে আবহাওয়ায় গরমের রেশ একটু বেশি হয়েছে।প্রায় সময়ই ফ্যান বা এসি চালাতে হয়।এই গরমেও সাহিত্যের কফি চাওয়া দেখে আমেনা শেখ ছেলের দিকে ড্যাব ড্যাব করে দেখে আছেন।
"এই গরমে ভর দুপুরে কফি কে খায় সাহিত্য?"
আমেনা শেখের মনের কথা যেন লতিফা শেখ বলে দিলেন।
রান্নাঘরের দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাহিত্য স্বাভাবিক কণ্ঠেই শুধালো,
"আমি খাই"
লতিফা শেখ চুলায় পানি বসিয়ে আরেক কথা শোনাতে ভুললেন না,
"কানাডায় গিয়ে তোর অভ্যাস একদম বদলে গিয়েছে। এখন ঝাঁটা পেটা করে সব শুধরাতে হবে"
সাহিত্য মৃদু হেসে বলল,
"ওসব ভালো অভ্যাস "
তরকারির মসলাদার সুবাসের টানে অন্ত রান্নাঘরে ঢুকে পড়ল।সাহিত্যের পক্ষ হয়ে গলায় জোর দিয়ে বলে উঠলো অন্ত,
"আমার ভাইয়ের অভ্যাসে তুমি সন্দেহ করছো আম্মু?"
বলতে নিয়েই তরকারির বাটি থেকে একটা মাংস তুলে মুখে পুড়ল সে।অমনি লতিফা শেখের হাতের চাপড় পিঠে বসলো তার।
"বিয়ের বয়স হয়েছে আর এখনো বাচ্চাদের মতো মাংস চুরি করে খাস?"
মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করল অন্ত,
"ওহো আম্মু,কেবল তো পঁচিশে পা দিলাম।তাতেই বউ ঘাড়ে ঝুলাতে চাচ্ছো?"
ঠোঁটের কোণে হাসি রেখেই শুধালো সাহিত্য,
"টেনশন নিও না ছোট চাচি।বিয়ের পরে বউকেও এভাবেই জ্বালাবে"
চোখ উল্টালেন লতিফা শেখ,
"বউ জ্বালাবে?চোখ পর্যন্ত তুলতে পারবে না।তোর এই ছোট ভাই কি নরম-শরম,মনে নেই তোর?"
সাহিত্যের ঠোঁট জোড়া আরো প্রসারিত হলো।এ বাড়িতে অন্তই একমাত্র ছেলে যে কিনা অতি শান্ত। রঞ্জক শেখের স্বভাব পেয়েছে সে।অকারণে কেউ রা'গ দেখালেও শান্ত থাকে ছেলেটা। তবে পড়ালেখায় বেশ ভালো।
লতিফা শেখ সাহিত্যের হাতে কফির মগ ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
"এই দুধ-চিনি ছাড়া কফি খাস কেমন করে?এগুলো খেয়েই তো মনে হয় শুকিয়ে গিয়েছিস"
"এটা খেলে মাথা ফ্রেশ থাকে ছোট চাচি।তুমি ওসব বুঝবে না"
কফির মগ হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো সাহিত্য।আজ তার মন-মেজাজ খুব ফুরফুরে।প্রায় দুই মাসের খাটাখাটনি খেটে অফিসের অবস্থা এখন একটু স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।তাই ফুরফুরে মেজাজে আজ সে পেইন্টিং ক্যানভাসে হাত দেওয়ার প্ল্যান করেছে।কতদিন তার রং-তুলি গুলোকে একটু ছুঁয়ে দেখা হয় না।ভাবলেই হাহাকার করে উঠে সাহিত্য।সেই রং-তুলিগুলো যে তার বড্ড আপন।
অনুর ডাকে সাহিত্যের ভাবনায় ছেদ পড়লো।
"দাদি আপনাকে রুমে ডেকেছে"
কফির মগটা ডাইনিং টেবিলে রেখে মহুয়া বেগমের রুমের দিকে এগিয়ে গেল সাহিত্য।কিন্তু রুমে ঢোকা মাত্রই ফুরফুরে মেজাজটা খিটখিটে হয়ে উঠল তার।
"অমন প্যাঁচার মতো মুখ না বানিয়ে এখানে এসে বস"
মহুয়া বেগম বিছানায় হাত চাপড়ে বসতে বললেন সাহিত্যকে। মহুয়া বেগম বিছানার ডাসায় হেলান দিয়ে আছেন।তার সামনে সাহিত্য এসে বসলো।সাহিত্যের চোখ-মুখে এখনো বিরক্তির ছাপ।সেটার কারণ হয়তো মহুয়া বেগমের পাশে বসে থাকা অষ্টাদশীর মুখখানা।যে কিনা মহুয়া বেগমের গা ঘেষে বসে অনেক আগ্রহ নিয়েই সাহিত্যের পাশে দেখে আছে।
সামনের অষ্টাদশীর চোখ যে সাহিত্য উপেক্ষা করতে পারছে না। আবার দেখতেও পারছেনা সেপাশে। কেমন যেন হাসফাস লাগছে তার।
"দাদী কোনো জরুরী কথা থাকলে বলো না হলে আমি গেলাম"
কথা শেষ হতে না হতেই সাহিত্য উঠতে গেলে মহুয়া বেগম হাত ধরে আবার বসিয়ে দিলেন নাতিকে,
"অনেক জরুরী কথা আছে"
মহুয়া বেগম কল্পনার দিকে ঘুরলেন,
"কি হয়েছে,বল দেখি?"
কল্পনা অভিমানী সুরে নালিশ দিতে লাগলো দাদীর কাছে,
"সবার সাথে কথা বলে,শুধু আমার সাথেই কথা বলে না"
সাহিত্য তীরের ফলার মতো কল্পনার চোখ বরাবর দেখে কিড়মিড়িয়ে উঠলো,
"তোর সাথে কথা বলার আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই, সেটা বুঝিস না?"
মহুয়া বেগম নাতিকে চোখ রাঙালেন,
"একদম কটমট করবি না"
কল্পনা সরু চোখে সাহিত্যের পাশে দেখতে লাগল।এবার হা'তি'য়া'র সাথে নিয়ে বসেছে সে।কোনো কথা না শুনলে মহুয়া বেগম একদম ব'ন্দু'কের গু'লি ছুড়বেন।মহুয়া বেগম শান্ত স্বরে বললেন,
"কল্পনার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলবি"
"পারবোনা আমি"
সাহিত্যের ঠান্ডা গলায় দাদী-নাতনি দুজনেই ভড়কে গেল।
"তুই কি চাস,তোর দাদীর কিছু হয়ে যাক?"
কাঁদো কাঁদো গলায় মহুয়া বেগমের ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করার প্রচেষ্টা সাহিত্য কল্পনা দুজনেই বুঝতে সক্ষম হলো।
কাঁদো কাঁদো গলায় মহুয়া বেগম কথায় আরো জোরা দিলেন,
"তোর এই দাদী কি হাঁপানিতে ম'রে গেলে তুই খুশি হবি?"
কল্পনা মহুয়া বেগমকে টোকা দিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
"দাদী তোমার হাঁপানি নেই"
মহুয়া বেগম চকিত হয়ে কল্পনার দিকে ঘুরতেই কল্পনা আবার ফিসফিসিয়ে বলল,
"তোমার হার্টের প্রবলেম"
সটান করে সাহিত্যের দিকে মাথা ঘুরালেন মহুয়া বেগম।আবার কাঁদো কাঁদো গলার ভাব ফিরিয়ে বললেন,
"হ্যাঁ,ওটাই-ওটাই।আমি হার্ট অ্যাটাক করে ম'রে গেলে তুই কি খুশি হবি?"
কল্পনা আর মহুয়া বেগমের ফিসফিসানি দেখে সাহিত্যের রা'গটা আরো চড়চড়িয়ে মাথায় উঠতে লাগলো।ঠান্ডা মেজাজে ক্যানভাসে হাত দেওয়ার কথা ছিল তার।কিন্তু সেটা আবার হয়ে উঠল কই?দাদী সামনে না থাকলে তো সাহিত্য কল্পনাকে কয়েকটা পাটা ধোয়া আ'ছা'ড় দিতেও দ্বিধা করত না।রা'গটা প্রচন্ড রকমের উঠলেও দাদীর সামনে শান্ত থাকলো সাহিত্য।কিন্তু শক্ত চোয়াল ও ঘাড়ের ফোলা ফোলা রগ গুলো দেখেই রা'গের মাত্রাটা সহজে পরিমাপ করা যাচ্ছে।আর সেপাশে দেখেই যেন কল্পনা মহুয়া বেগমের আরো গা ঘেঁষে বসলো।সাহিত্যের রাগের মাত্রা কল্পনার একটু-আধটু হলেও মনে আছে।তাইতো দাদীকে সুরক্ষা কবজ বানিয়ে রেখেছে।ক্ষণিক নীরবতা কাটিয়ে নজর বিছানার পাশে রেখেই সাহিত্য চাপা গলায় মহুয়া বেগমকে উদ্দেশ্য করে
শুধালো,
"কি করতে হবে,বলো?"
সাহিত্যের কথাটা শুনেই যেন এতক্ষণ থেকে আটকে রাখা শ্বাসটা ধীর গতিতে বেরিয়ে এলো কল্পনার।মহুয়া বেগম পরপরই কল্পনার দিকে দেখে ভ্রু নাচালেন।কল্পনা তড়িঘড়ি করে পেছন থেকে একটা খাম বের করে সাহিত্যের দিকে এগিয়ে ধরল,
"বেশি কিছু না।আপাতত এটা পড়লেই হবে"
#চলবে