#পর্ব_১০
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
বদ্ধ রুমটিতে কৃত্রিম আলোর কোনো মাধ্যম জালানো নেই। যার দরুণ রুম তিমির অন্ধকার বললেও ভুল হবে না।বিছানায় ডাসার কাছে জানালার থাই গ্লাস ভেদ করে সূক্ষ্ম আলোর ছটা পর্দার আড়ালে উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে।কিন্তু সেই রোশনাই এর দূরত্বও যেন সীমিত।তারপরেও সেই সূক্ষ্ম আলোর ছটায় সাহিত্যের ঘুমন্ত ভ'য়ার্থ মুখখানা পরখ করা সম্ভব।এসিটা যেন শত চেষ্টা করেও তার কাজে ব্যর্থ হচ্ছে।বিছানার উপর ছটফট করতে থাকা ব্যক্তির শরীরের ঘামের কণাগুলো যেন হিমশীতল বাতাসটাকেও উপেক্ষা করে গড়িয়ে পড়ছে।
বদ্ধ রুমের বাতাসে মৃদু গঙ্গানির আওয়াজ ভেসে বেড়াচ্ছে ক্ষণিক সময়ের ব্যবধানে।যার আসল অভিব্যক্তি যেন বোঝা বড় দুষ্কর।হয়তো রা'গে,হয়তো জেদে, না হলে......যেন কাউকে পেছনে ফেলে আসার ভ'য়ে। যা দুঃস্বপ্ন হয়ে তাড়া করছে কোনো এক শক্ত পুরুষকে।যে দুঃস্বপ্ন দেখতে দেখতে, ভয় জমতে জমতে ঘৃণায় পরিণত হয়ে গিয়েছে। দোটানায় পড়ে ভালোটাকে উপেক্ষা করে খা'রা'পটাকেই যেন বেছে নেওয়া হয়েছে কারো জীবনে। কিন্তু তারপরেও যে সেই ব্যক্তি মুক্তি পাচ্ছে না।প্রায় রাতের মতো আজ রাতেও যেন হানা দিয়েছে সেই দুঃস্বপ্ন।সেই নাইটমেয়ার,সাহিত্যের নাইটমেয়ার। হয়তোবা, সাহিত্যের একমাত্র নাইটমেয়ার।
বড় বড় শ্বাস-প্রশ্বাস চলতি রেখে ধরফরিয়ে উঠে বসলো সাহিত্য।এমনভাবে সে হাঁপাচ্ছে যেন মনে হচ্ছে এতক্ষণ অব্দি শ্বাস-প্রশ্বাস চলতিটা একদম বন্ধ হয়েই ছিল তার।মাথা থেকে পা অব্দি ঘামের বিন্দু বিন্দু কণা যেন আবদ্ধ করে রেখেছে তাকে।নিজের অবস্থান নিশ্চিত করে শ্বাস-প্রশ্বাসটা একটু নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করল সাহিত্য।দেশে ফেরার পর এই প্রথম আবার এই দুঃস্বপ্ন টা দেখল সে।হসপিটালের সেই করিডোরটার আনাচে-কানাচে যে এত বছরে মুখস্ত হয়ে গিয়েছে তার।শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলো কি পারলো না কে জানে? তার আগেই স্টাডি টেবিলের এক কোণায় ভ'য়ার্থ চোখ জোড়া আটকে গেল সাহিত্যের।
রুমের কোনো জিনিসই তিমির অন্ধকারে বোঝা যাচ্ছে না।কিন্তু স্টাডি টেবিলের সেই কোণে থাকা সাদা খামটা যে স্পষ্ট সাহিত্যের নজরে পড়ছে।সেদিন কল্পনার কাছ থেকে চিঠিটা এনে টেবিলে রেখেছিল।তখন থেকে ওখানেই আছে।সাহিত্যের হাতের দ্বিতীয় বার ছোয়া সেই চিঠির সৌভাগ্যে আর পড়েনি। হয়তোবা কোনো একদিন মজার ছলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বলেছিল,যে দূরে কোথাও গেলে এই সাদা খাম একমাত্র সেই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেই পাঠাবে সাহিত্য।কিন্তু সেই ব্যক্তি যেন মজার ছলে বলা সাহিত্যের কথাটা মনে-প্রাণে আকড়ে ধরে রেখেছিল।যার দরুন বর্তমানে চিঠি না পড়িয়ে যেন ক্ষান্ত হচ্ছে না সেই ব্যক্তি।বহু বছর আগে পড়ে থাকা সেই দিনটি যেন বর্তমান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত।
সেবার মহুয়া বেগম দুই দিন ধরে সিদ্ধান্ত নিয়ে কোমরে শুভ্রা রাঙ্গা শাড়ির আঁচল বেঁধে নিজের ঘর পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।দুই দিন ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হলো বিশাল আকার রুমে জিনিসের অভাব নেই।ছোট,বড়,মাঝারি সব রকমেরই জিনিস দিয়ে যেন পরিপূর্ণ সুন্দর রুমখানা। সেগুলো সব পরিষ্কার করতে অবশ্যই শক্তি-সময় দুটোরই প্রয়োজন।আর অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস থাকায় কাজের মানুষদের এগুলো না ধরতে দেওয়াই ভালো।বাড়ির তিন বৌমা সাহায্য করতে এসেছিল।কিন্তু মহুয়া বেগম ভাগিয়ে দিয়েছেন।প্রয়োজনীয় কাজ ফেলে রেখে বউদের খাটিয়ে নিজের ঘর পরিষ্কার করে নেওয়ার মতো শাশুড়ি মহুয়া বেগম কোনো কালেই ছিলেন না।আর এসব ছোটখাটো পরিষ্কার কোনো ব্যাপার হলো?এক জামানায় পুরো শেখবাড়ি এক হাতে সামলিয়েছেন মহুয়া বেগম।
পুরো রুমের আনাচে-কানাচে কোথাও পা রাখবার জায়গা নেই। সব এলোমেলো করে নাকে কাপড় বেঁধে দক্ষ হাতে ছোট বড় জিনিসগুলো পরিষ্কার করছিলেন মহুয়া বেগম।পেছনে খুটুর-খাটার শব্দ শুনতেই তড়িৎ বেগে ঘুরে দাঁড়ালেন তিনি।ইদুর ভেবেই ঘুরার সময় ঝাড়ুটাও হাতে নিয়েছিলেন।কিন্তু পেছনে ঘুরতেই হালকা একটু ভড়কে গেলেন।ধারণা ভুল ছিল না মহুয়া বেগমের।ইঁদুরই বটে।কিন্তু এটা শেখ বাড়ির ছোট ইঁদুর।
শুভ্রা রঙ্গের একটা ফ্রক পড়ে পায়ের উপর ভর দিয়ে বসে একটা পুরনো টিনের বাক্সের ঢাকনা খোলার আপ্রাণ চেষ্টা করছে কল্পনা।
"এই মেয়ে,কি করছিস?"
দাদীর মধুমাখা মৃদু হুং'কারে এইটুকুন শরীরটা তরাত করে নড়ে উঠলো কল্পনার।ধীরগতিতে চিবুক কাধের কাছে নিয়ে দাদীর দিকে দেখল সে।যতগুলো দাঁত দেখানো সম্ভব সব বের করে দেখালো,
"ট্রেজার বক্স খুলছিলাম"
নাতনির কথা শুনে মুখে বাঁধা কাপড়ের নিচেই মাথা ঝাঁকিয়ে নিঃশ্বাস ফেললেন মহুয়া বেগম।অতঃপর শুধালেন,
"ওটা কোনো ট্রেজার বক্স না।দেখি আমাকে দে"
সটান দাঁড়িয়ে পড়ল কল্পনা,
"দাদী কি আছে এটাতে?"
কল্পনার প্রশ্ন শুনে হয়তো উত্তরই দিতে যাচ্ছিলেন,কিন্তু হঠাৎ দরজার দিকে চোখ পড়লো মহুয়া বেগমের।অমনি অপ্রস্তুত হয়ে চেচিয়ে উঠলেন তিনি,
"সাহিত্য থাম!"
ফুল স্পিডে রুমে ঢুকছিল সাহিত্য।দাদীর সিগনাল পাওয়ার সাথে সাথেই পুরো দমে ব্রেক কষলো পা জোড়ায়। কিন্তু গতি জড়তার কারণে টাল সামলাতে না পেরে দাদীর আদেশ অক্ষুণ্য রাখার উদ্দেশ্যেই দরজার চৌকাঠ আঁকড়ে ধরল সে।কয়েক সেকেন্ড যেন নিরব স্রোত বয়ে গেল রুমের মধ্যে।মহুয়া বেগমের চিল্লানোর কারণ হলো,কিছু কাচের জিনিস মুছে কিছুক্ষণ আগেই দরজার সামনে রেখেছেন তিনি। যার দরুন সেগুলো বাঁচাতে গিয়েই ইমার্জেন্সি ব্রেকে সাহিত্যের বর্তমানে হাঁপানি শুরু হয়েছে।কিন্তু সাহিত্য তো এমন দৌড়াদৌড়ি করার মতো ছেলে না। কারণ জানতেই মহুয়া বেগম শুধালেন,
"কি হয়েছে?এমন হুটিপুটি করে দৌড়াচ্ছিস কেন?"
দাদীর পাশে একনজর দেখে কল্পনার দিকে ঘুরলো সাহিত্য।কল্পনা মুখে আগের হাসি ধরে রেখেই গোছানো দাঁতগুলো বের করে সাহিত্যের পাশে দেখে আছে।ছোট শরীরখানা লাফিয়ে উঠিয়ে থামজাপ দেখালো সে সাহিত্যকে,
"ওয়াট আ ব্রেক ভাইয়া!লাইটনিং ম্যাখুইন ফেল!"
কল্পনার সুনামবার্তায় যেন কান দিলো না সাহিত্য।সরু চোখে কল্পনাকে দেখতে লাগলো।অতঃপর মহুয়া বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"এই তিরিং-বিরিং এর পেছনে দৌড়াচ্ছিলাম"
"আবার কি করেছে? "
মহুয়া বেগমের প্রশ্নে তার দিকে ঘুরলো সাহিত্য,
"এবার আমার জন্য না,ওর জন্য দৌড়াচ্ছিলাম।পরীক্ষার রুটিন সেই কবেই দিয়েছে।আর মেঝো চাচীকে দেখাচ্ছে আজকে।ওর সাথে রা'গে কটমট করতে নিয়েই মেঝো চাচী তাকে আমার রুমে ছুড়ে মে'রে গেল।যেই না পড়াতে বসিয়েছি অমনি ভো দৌড় দিয়েছে"
"আমি এখন পড়বো না।দাদীর সাথে রুম পরিষ্কার করব"
তুলতুলে গাল দুটো আরো একটু ফুলিয়ে কথাটা বলল কল্পনা।
"হ্যাঁ,তারপরে রেজাল্ট খা'রা'প করে যখন আবার ক্লাস থ্রিতে থাকবি তখন মেঝো চাচীর একটা পিটুনিও নিচে পড়বে না"
কথাটা বলতে নিয়েই ঘর ভর্তি এলোমেলো জিনিসের ফাঁক-ফোকরে পা রেখে রুমের ভেতরে ঢুকছে সাহিত্য। সে ভেবে পেল না যে এত জিনিসের মাঝ দিয়ে এই পিদ্দি মেয়েটা রুমে ঢুকেছেই বা কেমন করে? তার নিজেরই তো ভ'য় করছে কোথায় পা রাখতে কোন জিনিস ভেঙ্গে যায়।
"তুমি থাকতে সেটা হবে কেন?ঐদিন সারাদিন তোমার রুমে থাকবো"
"এবারের আশা ছেড়ে দাও জানপাখি।আমি রুমে তালা দিয়ে থাকবো"
গা ঝাড়া ভাব নিয়ে চোখ বন্ধ করে কথাটা বলেছিল কল্পনা।হঠাৎ একদম নিকটে সাহিত্যের কন্ঠ শুনে চোখ জোড়া খুলতেই ভড়কে উঠল মেয়েটা।কল্পনার সামনে সাহিত্য হাঁটুতে হাত ভর দিয়ে কল্পনার মুখ বরাবর ঝুঁকে আছে।হুড়মুড়িয়ে পেছনে বিছানায় উঠে মাঝ বরাবর দাঁড়ালো কল্পনা।দুঃখিনী ভাব মুখে নিয়ে বলল,
"তুমি আমাকে বাইরে মায়ের কাছে মা'র খেতে দিয়ে রুমে বসে থাকবা?"
মহুয়া বেগম হাতের ফুলদানিটা মুছতে নিয়েই মৃদু হেসে শুধালেন,
"ওটা হবে না রে কল্পনা।তুই নিশ্চিন্তে থাক"
অমনি সাহিত্য মহুয়া বেগমের দিকে ঘুরে চোখ রাঙালো,
"আমি ওকে পড়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি,আর তুমি ওকে এখানে থাকার সুযোগ দিচ্ছো?"
আবার মৃদু হেসে বললেন মহুয়া বেগম,
"থাক কিছুক্ষণ।এখন টেনেটুনে নিয়ে গেলেও পড়ায় মন বসবে না"
সাহিত্য চোখ জোড়া টানটান করে ভ্রু উচিয়ে কল্পনার দিকে দেখল।পরক্ষণেই ভ্রু জোড়া নেতিয়ে গেল তার। ঠোঁট উল্টিয়ে কেমন বিড়াল ছানার মতো সাহিত্যের পাশে দেখছে কল্পনা।ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি নিয়ে এগিয়ে গিয়ে কল্পনার গাল দুটো আলতো হাতে টেনে দিল সাহিত্য,
"ঠিক আছে।কিন্তু বেশিক্ষণ না"
কল্পনার কোমড় দোলানো আর দেখে কে!ধপাস করে বিছানায় বসে পড়ে টিনের বাক্সে আবার মনোযোগ দিল সে।বাক্সের ঢাকনায় হাত চালাতে চালাতেই দাদীর উদ্দেশ্যে বলল,
"ও দাদী বলোনা,কি আছে এটাতে?"
ছোট বাক্সটার ঢাকনা না খোলা অব্দি যে এই মেয়ে ক্ষান্ত হবে না তা ভালো করেই জানেন মহুয়া বেগম।সাহিত্যকে উদ্দেশ্য করে শুধালেন তিনি,
"দে তো ওকে বাক্সটা খুলে"
কল্পনার হাত থেকে বাক্সটা নিয়ে জারা ধরা টিনের ঢাকনায় জোর খাটাতে নিয়েই শুধালো সাহিত্য,
"আছে কি এটাতে?"
"তোর দাদার দেওয়া চিঠি"
মহুয়া বেগমের কথাটা শেষ হতেই ঢাকনাটা খুলে গেল। সযত্নে ভাজ করে রাখা বেশ কয়েকখানা চিঠির দেখা মিলল সাহিত্যের।ঢাকনা খোলা পেয়ে বিদ্যুৎ বেগে বাক্সটা সাহিত্যের হাত থেকে নিয়ে বিছানায় উপুর করে ধরল কল্পনা।
"আরে...!"
থেমে গেল সাহিত্য।তার বাক্য আর দীর্ঘ করে লাভ নেই।কল্পনা ফ্রকখানা বিছানায় ছড়িয়ে বসে কাগজগুলোর ভাঁজ খুলতে লাগলো।সাহিত্য মহুয়া বেগমের দিকে ঘুরলো,
"দাদু আবার তোমাকে চিঠি কবে পাঠিয়েছিল?"
"চাকরির সুবাদে একবার ঢাকার বাইরে বেশ কয়েক মাস ছিল।তখন তো আর এমন ফোন ছিল না।তাই ওই যোগাযোগের জন্য একটু চিঠি পাঠাতো"
'ও আচ্ছা' বলে সাহিত্য বিছানার দিকে ঘুরলো।কল্পনা এতক্ষণে প্রায় চিঠিরই ভাজ খুলে ফেলেছে।আগে কখনো চিঠি দেখেনি সাহিত্য।যার দরুন তারও হাতগুলো উসখুস করছে চিঠিগুলো দেখার জন্য।কিন্তু একজন ১৭ বছর বয়সী কিশোর হওয়ায় যথেষ্ট বিবেক বুদ্ধি আছে তার।দাদীর ব্যক্তিগত চিঠিতে হাত দেওয়া উচিত মনে হচ্ছে না।
"দেখ দেখ,সমস্যা নেই।তোর দাদার মতো তুইও না হয় ভবিষ্যতে তোর বউকে এমন প্রেমপত্র পাঠাস"
দাদীর কথায় হালকা চকিত হলো সাহিত্য।একটু লজ্জাও পেলো বটে।দাদীর পাশে আর সেই লজ্জা মাখা চেহারা ঘুরালো না। বিছানায় বসে একটা ভাজ খোলা চিঠি হাতে তুলে নিল।
কি সুন্দর একটা মাধ্যম,তাই না?একখণ্ড কাগজের মধ্যে আবেগ ভরা শব্দগুলো সযত্নে লেখা।যেটা কয়েকদিনের ব্যবধানে কাঙ্ক্ষিত প্রিয় মানুষটির কাছে পৌঁছাবে।আবার সেই প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে চিঠির উত্তর পাওয়ার অপেক্ষার অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যেই;দরজায় বারবার উঁকি দিয়ে ডাক পিয়নের সাইকেল খুঁজবে।যেন ডাক পিয়ন চিঠি নয়,এক আকাশ সমান আবেগের ঝুড়ি নিয়ে হাজির হবে।
চিঠি হাতে নিয়ে কথাটা ভাবতেই সাহিত্যের ঠোঁটে এক মসৃণ হাসি ফুটে উঠলো।
"ধুর!কি বোরিং এগুলো।আমি তো ভেবেছিলাম কোনো ডায়মন্ডই আছে মনে হয়"
কল্পনার বিরক্তি মাখা কথায় ভাবনায় ছেদ পড়ল সাহিত্যের। কল্পনার দিকে মাথা ঝুঁকিয়ে শুধালো সাহিত্য,
"এখন বুঝছিস না,বড় হ তারপর বুঝবি"
কল্পনা ফাঁকা টিনের বাক্সটা হাতে নিয়ে বিছানায় উঠে দাঁড়ালো,
"ফোন থাকতে অযথা এই ঝামেলায় কেন যাব?ফোনে কল দিব....কথা বলব....শেষ!"
কল্পনা কথা বলতে নিয়েই বিছানার পাশে টেবিলে উঠল।আবার সেই টেবিল থেকে পাশের আলমারির উপরে চড়ল।সেদিকে চোখ পড়তেই সাহিত্য আতকে উঠল,
"কল্পনা কি করছিস?পড়ে যাবি!"
ওদিকে মহুয়া বেগমও বলতে লাগলেন,
"এই মেয়েটা একটা জায়গায় স্থির থাকে না।কোথায় উঠেছে, দেখো একবার!"
তাদের কথায় কল্পনার কোনো হেলদোল দেখা দিল না।সে টিনের বাক্সটা উল্টো করে দুই হাত দিয়ে মাথার উপরে ধরল,
"দাদী।দাদুর মাথায় একদম বুদ্ধি ছিল না।এতগুলো কাগজ নষ্ট না করে,যেই লোকটা চিঠি নিয়ে আসতো তাকে বললেই তো তোমাকে এসে বলে দিত"
ছোট্ট কল্পনার অবুঝ কথায় মহুয়া বেগম ও সাহিত্য দুজনেই মুখ টিপে হেসে উঠল।অতঃপর সাহিত্য গলা পরিষ্কার করে শুধালো,
"হয়েছে।তোকে অত মাথা খেটে বুদ্ধি বের করতে হবে না।নিচে নাম"
কি যেন বলার জন্য মুখ খুলেছিল কল্পনা।কিন্তু আর কথাটা বলতে পারল না।হা করে হাঁচি দেওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।নিশ্চয়ই মাথার উপরে ধরে রাখা টিনের বাক্স থেকে ধুলা পড়েছে নাকে।
"হাঁচ্চু!!!!"
কল্পনার শরীরের মৃদু কম্পনে আদিম যুগের আলমারিটা হালকা দুলে উঠল।যার দরুন কল্পনা আর টাল সামলাতে পারল না।
"কল্পনা!!!!"
মহুয়া বেগম ও সাহিত্য দুজনেই চিৎ'কার দিয়ে উঠল। কিন্তু মহুয়া বেগম ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সাহিত্য তার প্রেয়সীকে বাঁচাতে সব বাধা উপেক্ষা করে ছুটে গেল।লম্বা-চওড়া দেহে শক্তপোক্ত দুটো হাত থাকার দরুন কল্পনা নিচে পড়ার আগেই তাকে জাপটে ধরল সাহিত্য।এহেন পরিস্থিতিতে সাহিত্যের নাগাল পেয়ে চার হাত-পা দিয়ে সাহিত্যকে জড়িয়ে ধরল কল্পনা।
সেকেন্ডের মধ্যে ঘটা ঘটনায় সবার বুকের ধুকপুকানি শুরু হয়ে গিয়েছে।মহুয়া বেগম তো বুকে হাত চেপে বিছানায় বসে পড়েছেন।কল্পনা যখন বুঝতে পারল তার কিছু হয়নি তখন সাহিত্যের গলায় গুজে রাখা মাথাটা সটান করে তুলল।নিশ্চয়ই সাহিত্য ভাইয়া তাকে এখন একটা রামধমক দেবে।কিন্তু কল্পনার চিন্তার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে কল্পনার বাম গালে বার কয়েকটা গাঢ় চুমু দিয়ে আবার তাকে ঝাপটা ধরল সাহিত্য।যার দরুন কল্পনার মাথাটা আবার গিয়ে ঠেকলো সাহিত্যের গলায়।কল্পনাকে শক্ত করে ধরে রাখার পরেও হাত দুটো অসম্ভব কাপছে সাহিত্যের।হৃদপিণ্ডটা এত জোরে নড়ছে যে তার হাতুড়ি পেটা শব্দ কল্পনা স্পষ্ট শুনতে পারছে।সবচেয়ে আপন মানুষটার এই অবস্থা দেখে কল্পনা ভ্রু জোড়া নেতিয়ে ধিমি আওয়াজে শুধালো,
"ভাইয়া আমি ঠিক আছি"
অমনি সাহিত্য তেতে উঠল,
"অনেক হয়েছে! তোর কথা অনেক শুনেছি। আর এক মুহূর্তও এখানে থাকবো না। চল পড়তে বসবো"
কথা শেষ হওয়ার পর মুহূর্তেই কল্পনাকে অমন কোলে নিয়েই দরজার দিকে হাটা দিল সাহিত্য।ভাগ্যিস এতক্ষণে মহুয়া বেগম কাচের জিনিসগুলোর দরজার কাছ থেকে সরিয়ে রেখেছিলেন। না হলে সাহিত্যের যে রাগ উঠেছে, হুড়মুড়িয়ে সব লাথি মে'রে বের হয়ে যেত। সাহিত্যের গলা জড়িয়ে ধরেই দাদীর দিকে করুণ চোখে দেখতে লাগল কল্পনা,
"দাদী!!"
মহুয়া বেগম দুই কাধ উচিয়ে বোঝালেন এখানে তার করার কিছুই নেই।সাহিত্যের ভ'য়ার্থ মুখখানা দেখে মৃদু হাসলেনও তিনি।যেন কল্পনা নয়,সাহিত্যের জানপাখিটা পড়ে যেতে ধরেছিল।
দাদীর থেকে চোখ সরিয়ে সাহিত্যের পাশে সুরু চোখে তাকালো কল্পনা।গাল ফুলিয়ে বলল,
"তোমার নতুন ব্লু কালারের পেইন্টের টিউব কিন্তু আজকে হারাবে,বলে দিচ্ছি"
"ওই পেইন্টের টিউব গত কালকেই শেষ হয়ে গিয়েছে"
সাহিত্যের ঠান্ডা গলায় অধর জোড়া প্রশস্ত হলো কল্পনার।এখন কি করবে সে?ব্ল্যাকমেইল করার জন্য তো আপাতত আর কিছুই নেই তার কাছে।মাথায় আর কোনো বুদ্ধি না পেয়ে সাহিত্যের হাতের বাধানের মাঝে কচলাকচলি করতে লাগলো কল্পনা,
"ছাড়ো আমাকে!পড়বো না আমি"
ওইটুকুন বাচ্চা মেয়েটার নড়াচড়া যেন সাহিত্যের শক্ত হাতের কাছে কিছুই না।তারপরেও যেন শিং মাছের মতো লাফাচ্ছে।
হয়তোবা কল্পনার মনোযোগ অন্যদিকে নেওয়ার জন্যই সাহিত্য বলে উঠল,
"আচ্ছা কল্পনা শুন না।আমি যদি তোকে কখনো চিঠি পাঠাই তাহলে কি তুই আমার সেই চিঠির উত্তর দিবি?"
সাহিত্যের কথাটা যেন বিফলে গেল না।নড়াচড়া বন্ধ করে কল্পনা ড্যাব ড্যাব করে সাহিত্যের দিকে দেখতে লাগলো,
"মানে?"
কথাটা যেন কল্পনার ছোট্ট মাথার উপর দিয়ে গেল।কল্পনাকে কোলে নেওয়ার দরুন সিড়িতে উঠতে একটু অসুবিধাই হচ্ছে সাহিত্যের।তাই মাথা নিচু করে সিঁড়ি দেখে উপরে উঠতে নিয়ে বলল,
"মানে হলো,আমি যদি কখনো বাইরে চলে যাই আর সেখান থেকে তোর জন্য চিঠি লিখে পাঠাই,তুই কি পড়বি?দাদীর চিঠিগুলো দেখে না আমারো খুব চিঠি লিখতে ইচ্ছা করছে"
শেষের কথাটা সাহিত্য উজ্জল চোখ জোড়া ও মুখে হাসি নিয়ে কল্পনার দিকে দেখেই শুধালো।সাহিত্যের মুখে এক জ্বলজ্বলে হাসি দেখে নিজের মুখেও হাসি নিয়ে উপর-নিচ মাথা ঝাঁকালো কল্পনা।অতঃপর বড় হাসিটা মুখে রেখেই বলল,
"তুমি চিঠি দিবে আর আমি পড়বো না,হতে পারে সেটা?"
সাহিত্যের গলাটা শক্ত করে জাপটে ধরে আবার শুধালো সে,
"কিন্তু তুমিতো চিঠি পাঠাতেই পারবে না"
সাহিত্য ভ্রু কুচকালো,
"কেন?"
"কারন আমি তোমাকে দূরে যেতেই দেব না"
কল্পনার ফুল ফোটা হাসি দেখে মৃদু ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো সাহিত্য।অতঃপর কল্পনার কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে শুধালো,
"আমি নিজেই কখনো তোকে ছেড়ে যাবো না"
চোখ জোড়া খুলতেই উপর থেকে পড়তে থাকা পানি চোখের নিকট দিয়ে ঘেঁষে যেতে লাগল সাহিত্যের।দেয়ালে ঠেকানো মাথাটা তুলে শাওয়ারটা বন্ধ করল সাহিত্য।শরীরে ঘামের মাত্রা এত বেড়ে গিয়েছিল যে গোসল করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।বন্ধ শাওয়ারের নিচেই মাথা নিচু করে ঠাই দাঁড়িয়ে আছে সে।সামনের চুলগুলো থেকে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ছে।সময় নিয়ে ওভাবেই কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল সাহিত্য।হয়তোবা নিজের মস্তিষ্কের কোষগুলোর সাথে এক অদৃশ্য যুদ্ধ করেও প্রতি মুহূর্তে পরাজিত হয়ে যাচ্ছে সে সেজন্যই।যার দরুন আবার দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে চোখ জোড়া বন্ধ করলো।সাহিত্যের কি দেশে ফেরা ভুল হয়ে গিয়েছে?দীর্ঘ ১১ বছর ধরে যে একটা দুঃস্বপ্নের জাল থেকেই সে বের হতে পারেনি,দেশে ফেরার পর থেকে সেই জালের দৈর্ঘ্য যেন আরো বেশি হয়ে গিয়েছে।হৃদয়ের অন্ধকার এক কোণে আটকানো সেই স্মৃতিগুলো কেন বারবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে?সেগুলো স্মরণে আসলেও,কেনই বা সাহিত্য দুর্বল হয়ে পড়ছে?ওই মেয়েকে তো সাহিত্য ঘৃ'ণা করে। সাহিত্যের স্বাভাবিক জীবন পাল্টে গিয়েছে ওই মেয়েটার কারণে।সাহিত্যের পূর্ণ অধিকার আছে তাকে ঘৃ'ণা করার।ঠোঁট বাকিয়ে মেকি হাসলো সাহিত্য। অধিকার নয়, সেই মেয়ের উপরে তো কখনো সাহিত্যের অধিকার ছিলই না।সাহিত্যের "উচিত" ঐ মেয়েকে ঘৃ'ণা করা।সি ডিজার্ভ দ্যাট!কিন্তু সাহিত্য এটা নিজেকে কেন বোঝাচ্ছে? সে তো ওই মেয়েকে ঘৃ'ণাই করে,তাই না?সবেগে পাশের দেয়ালে হাতের ঘু'ষি বসালো সাহিত্য।তাহলে কেন তার স্মৃতি গুলো মনে পড়ছে?কেন!কেন ওর হাতে দেওয়া আঘাত দেখে বুকে সুক্ষ্ম ব্য'থা হচ্ছে!হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো সাহিত্য,
"দূরে চলে যা আমার থেকে।জাস্ট লেট মি লিভ ইন পিস"
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
শরীরে একটা ধূসর ট্রাউজার চড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে নিয়েই স্টাডি টেবিলে রাখা চিঠিটা হাতে নিল সাহিত্য। ঠিক সাত মাস আগে একই খামের একটা চিঠি হাতে নিয়েছিল সে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১১ টা বছর পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু চিঠি প্রেরকের নামটা এক দেখায় চিনতে পেরেছিল সাহিত্য,এক দেখায়।কোনো দ্বিধা ছিল না সাহিত্যের মধ্যে।পুরো নামটাই সাহিত্যের চেনা।সাহিত্য শতভাগ নিশ্চিত ছিল এটা সেই ব্যক্তিই।মেইলবক্স থেকে বের করে নামটা দেখেই আবার মেইল বক্সে ঢুকে রেখেছিল সেটা।যেন সে জানেই না তার নামে কোনো চিঠি এসেছে।এমনকি কানাডিয়ান ডাক পিয়নটাকেও বলে রেখেছিল,যেন কোনো চিঠি আসলে মেইল বক্সে রেখে চলে যেতে। অযথা ডোরবেল যেন না বাজায়।আর আজ সেই চিঠি তাকে আবার হাতে নিতেই হচ্ছে।
বিছানায় বসে হাঁটুর উপর কনুই ভর দিয়ে খামসহ চিঠিটা উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে দেখছিল সাহিত্য।হঠাৎই খামটা বেমানান ভাবে ছিড়ে চিঠিটা বের করে পড়া শুরু করল।একটা চিঠিতে আর কিই বা থাকতে পারে?
📜...............................................................................
শ্রদ্ধেয় সাহিত্য ভাই,
আসসালামু আলাইকুম। চিনতে পেরেছেন আমাকে? আমি কল্পনা। কেমন আছেন আপনি? আপনার শরীর-স্বাস্থ ভালো আছে তো?কানাডায় দিনকাল কেমন যাচ্ছে?বাড়ির সবার কথা মনে পড়ে কী? আমার কথা মনে পড়ে কী? আমাদেরকে কি একটুও মিস করেন না? আমাকেও কী একটুও মিস করেন না?আপনার কল্পনাকে এভাবে একা কেন রেখে গেলেন সাহিত্য ভাই?একটাবারও কী আমার খোঁজ নেওয়ার ইচ্ছা করেনি?আপনি কাছে না থাকলে আপনার কল্পনা কেমন হয়ে যায় আপনি জানেন না?তারপরেও পারলেন আমার হাত ছেড়ে দিতে?
এই দেখেন, প্রথম চিঠিতেই কেমন প্রশ্নের উপর প্রশ্ন করে যাচ্ছি।তার জন্য সরি,হ্যাঁ?আপনাকে না জ্বালালে যে ভালো লাগে না আমার,কি করব বলেন?সে যাই হোক।জানেন!! অন্ত ভাইয়া ২ সপ্তাহ হলো বাইক কিনেছে।আর একই সাথে দুঃখ ও মজার কথা হলো গত পর্শু এক্সিডেন্টও করেছে।ডান পা ফ্লাকচার হয়েছে।মুহিত আংকেল বলেছেন ১ মাস হাঁটতে পারবে না। আপনার আদরের ছোট ভাইয়ের জন্য দোয়া করিয়েন।দাদি আপনাকে অনেক মিস করে।আমিও।বাড়ির সবাই ভালো আছে।আমি বাদে।
চিঠি লেখা কত বোরিং।কোনো ইমোজিও সেট করা যায় না। একমাত্র আপনার শখের কথা মাথায় রেখেই মেসেজ না দিয়ে চিঠি লিখছি। মনে আছে তো, তাই না? দাদির রুম পরিষ্কার করার সময় বলেছিলেন আমায়।কিন্তু উনো রিভার্স হয়ে গিয়েছে।হোক, তাতে কোনো সমস্যা নেই।এই চিঠির উত্তর দিয়েই নাহয় আপনি চিঠি পাঠালেন।
এই বাবা! চিঠি তো দেখছি অনেক বড় হয়ে গিয়েছে।আজকে আর না লিখি।আপনার কল্পনা আপনার চিঠির অপেক্ষায় থাকল।
লেখনীতে আপনার আদরের বোন,
অমৃতা শেখ কল্পনা
...............................................................................📜
চিঠিটা পড়া শেষ করে ঠাই চিঠির নিচের নামটার দিকে দেখে থাকল সাহিত্য।চিঠি ধরে রাখা হাতটা হঠাৎই কেন জানি কাঁপতে শুরু করেছে তার।
মানুষ যখন তাদের মনের কোনো অনুভূতি তীব্রভাবে দাবিয়ে রাখে তখন এর হালকা প্রতিক্রিয়া শরীরের স্নায়ুদের মাঝে দেখা যায়।কিন্তু সাহিত্যের যে আরো একটি অঙ্গে সে প্রতিক্রিয়া দেখা দিল।
হৃদপিণ্ডটা তার দ্রিম দ্রিম করে নড়ছে।শরীরের কাপুনিতেও যেন সেই মহাপ্রলয়ের অনুভূতি দমছে না।চিঠিটা পড়ে চোখের পেছনের নোনা জলগুলো যেন বাঁধ ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার জন্য সাহিত্যের কাছে আকুতি-মিনুতি করছে। কিন্তু সাহিত্য যেন তাদের সম্পূর্ণ অস্বীকার করে যাচ্ছে বারংবার।মনে হচ্ছে সে জানেই না যে অক্ষি জোড়ার পেছনে সীমাহীন নোনাজল আটকে আছে।সে কি আসলেই জানে না,নাকি সে নিজেকে বোঝাতে চাচ্ছে যে সে জানে না?
আর দোটানায় থাকতে পারলো না সাহিত্য।হাতের চিঠিটা টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিল।হঠাৎ ই মাথাটা ঝিম ধরে উঠল তার। কেন জানি মাথাটা প্রচণ্ড ব্য'থা করছে।আর কিছু ভাবতে চায় না সাহিত্য।আর কাউকে নিয়ে ভাবতে চায় না সে।দোটানা অনুভূতিদের সাথে লড়াই করে ক্ষণিকের মাঝেই যেন শরীরটা ক্লান্ত হয়ে এলো তার।একটু বিশ্রাম নিতে চায় সে,সত্যিকারের একটা বিশ্রাম।সেটা কি আদৌ তার ভাগ্যে আছে? জানা নেই সাহিত্যের।
#চলবে