#পর্ব_১১
গল্প:#একখণ্ড_আসক্তি
#লেখিকা_রশনি_করিম
[ 🚨কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।চাইলে পোস্ট বা পোস্টের লিংক শেয়ার করতে পারেন ]
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
রান্নাঘরের ভেতরে দরজায় চৌকাটের কাছে আড়াল হয়ে হাতের কলার খোসাটা অর্ধেক ছিললো কল্পনা। আস্তে করে মাথাটা একটু বের করে দিয়ে ডাইনিং এ বসে নাস্তা করতে থাকা সাহিত্যকে পরখ করতে লাগলো।কি সুন্দর ভদ্র বাচ্চার মতো নাস্তা করছে। কফি কালারের একটা টিশার্ট পরে আছে সাহিত্য। তার মানে সাহিত্য আজ অফিসে যাবে না।
সাহিত্য চিঠি পড়েছে কি পড়েনি সেটা এখনো জানেনা কল্পনা।গতকাল সেটার খোঁজ করতে গিয়েই তো আচ্ছা মতো মোচড়ানিটা খেলো সে।যার দাগ ও ব্য'থা দুটোই এখনো বিদ্যমান।কিন্তু এখন কি করবে কল্পনা সেটাই বুঝছে না? কি করলে বোঝা যাবে যে সাহিত্য ভাই চিঠি পড়েছে কি পড়েনি?
সাহিত্যের দিকে নজরে রেখেই হাতের কলায় কামড় বসালো কল্পনা।অমনি ঠোঁট জোড়া বিকৃত হয়ে গেল। পেছনে ঘুরে ধুপধাপ পায়ে লতিফা শেখের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো সে।হালকা তেতে উঠে বলল,
"কি ব্যাপার চাচী মা?এই কাঁচা কলাগুলো কেন রান্নাঘরে রেখেছ?পাকা কলা কই?"
লতিফা শেখ চুলার পাশ থেকে কল্পনার দিকে ঘুরে কটমটিয়ে উঠলেন,
"আধা ঘন্টার মধ্যে তিন হালি কলা শেষ করলি।যেটা এখন তোর হাতে আছে ওটা পরশুদিনের জন্য ছিল। দুদিনের কলা একদিনে একাই খেয়ে তবুও তোর পেট ভরেনি?"
লতিফা শেখের কথা শুনে আর কোনো উপায় না পেয়ে হাতের কলাটাতেই আবার কামড় বসালো কল্পনা।কলা ভর্তি মুখেই বলতে লাগলো,
"মাথা থেকে এখন বুদ্ধি বের করতে হবে।তাই পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি"
"পুষ্টিকর খাবারগুলো থেকে পুষ্টি বের হওয়ার একটু তো সময় দিতে হবে,তাই না?এতগুলো একবারে ঠুসলে মাথা থেকে বুদ্ধি বের না হয় নিচ দিয়ে ওটা বের হয়ে যাবে"
লতিফা শেখের কথায় কল্পনা নাক-মুখ শিটকালো। কে বলবে যে এই মহিলাটি এই বাড়ির এক গুরুজন?
বাড়ির বাচ্চাদের সাথে একদম লাগামহীন কথাবার্তা বলেন।লতিফা শেখ চুলার দিকে ঘুরে শুধালেন,
"তোরই ভালো রুচি আছে। শরীরে মাংসও লাগে না আবার পুষ্টিও যায়। কিন্তু আমার ছেলেটার কি করি? না খেয়ে না খেয়ে পুষ্টিহীনতায় ভোগে বকখিলটা।তুই যখন মাঝে মাঝে এরকম খেতে বসবি,তখন অন্তর মুখেও দুইটা ঢুকিয়ে দিস তো"
কল্পনা আবার কলায় একটা কামড় বসালো,
"ভাইয়া বকখিল না। ঠিকই আছে।এত খেয়ে মোটা করার দরকার নেই।তখন বউ পাওয়া যাবে না"
কি যেন চিন্তা করতেই কল্পনার কলা চাবানো মুখটা হা হয়ে থেমে গেল।দুই সেকেন্ড অমনি থেকে কাঁচা কলাটা কোনো মতে গিলে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো সে। লতিফা শেখ মনে হয় তার পুষ্টিহীনতায় ভোগা ছেলেকে নিয়ে আরো কিছু কথা বলার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার আগেই কল্পনা তার দুই বাহু ধরে ঝাকাতে শুরু করল,
"আই লাভ ইউ চাচীমা!ইউ আর ব্রিলিয়ান্ট!"
লতিফা শেখ কল্পনার হাত দুটো ছাড়িয়ে তার দিকে দেখে কপালে হাত ঠেকালেন। ঝাঁকনিটা ভালোই খেয়েছেন তিনি।কল্পনার দিকে চোখ পিটপিট করে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি,
"আমি আবার কি করলাম?"
লতিফা শেখের প্রশ্নে কল্পনা উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠলো,
"তুমি কিছু করোনি।করবা"
"মানে?"
কল্পনা একটা দীর্ঘশ্বাস ভেতরে নিয়ে আবার
ছাড়লো,
"তুমি এখন সাহিত্য ভাইয়ের কফি দিতে যাবা,তাই না? আমার একটা কাজ করতে হবে"
"কি কাজ?"
"তুমি কফি নিয়ে সাহিত্য ভাইয়ের কাছে যাবা।কফির মগ টেবিলে রাখবা।তারপর বলবা 'এই অন্তটা খাওয়া-দাওয়া একদম ঠিক মতো করে না।বাইক কিনে এক্সিডেন্ট করার পর ঠিকমতো না খেয়েই বাম পা টা দেরিতে ঠিক হয়েছে' "
লতিফা শেখ মাথা নাড়িয়ে কল্পনাকে শুধরে
দিলেন,
"বাম পা না কল্পনা,ডান পা"
কল্পনা হাতের কলা মুখ দিয়ে ধরে বাম হাতের তালুতে ডান হাতের আঙ্গুলের পিঠ দিয়ে তালি বাজিয়ে অস্ফুটস্বরে বলল,
"ওটাই তো!"
লতিফা শেখ ভ্রু কুচকালেন,
"কি ওটাই তো?"
কলা হাতে নিয়ে কল্পনা মুখ দিয়ে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ বের করে
বলল,
"তোমাকে অত বুঝতে হবে না।যেটা বলছি সেটা করো।ডান পা নয়,বাম পা বলতে হবে।একটা কথাও যেন এদিক-ওদিক না হয়।না হলে এ সপ্তাহে তুমি আর মুখে দেওয়া ফেসপ্যাক পাবা না"
বলেই কল্পনা অবশিষ্ট কলাটা খেয়ে খোসাটা ডাস্টবিনে ফেলল।কিন্তু এদিকে লতিফা শেখের মুখে বিরক্তির ছাপ দেখা দিল।কেমন ব্ল্যাকমেইল করছে মেয়েটা!কি একটু শখ করে সপ্তাহে দুদিন কল্পনার সাথে স্কিন কেয়ার করে সেটাও নাকি এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করে দেবে।
কফি নিয়ে রান্না ঘর থেকে বের হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লতিফা শেখের কানে কল্পনা মাছির মতো প্যানপ্যান করে গিয়েছে 'ডান পা নয়,বাম পা বলবা'।
লতিফা শেখকে স্পাই এজেন্ট এর মতো রান্নাঘর থেকে বের করে দিয়ে আরেকটা কাঁচা কলা হাতে ধরে চৌকাট এর কাছে আড়াল হয়ে ডাইনিং রুম পরখ করতে লাগলো কল্পনা।
লতিফা শেখ সাহিত্যের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে কফির মগটা টেবিলে রাখলেন।দূরে রান্নাঘরে লুকিয়ে থাকা কল্পনাকে আড় চোখে দেখলেন একবার।কল্পনা চাচীমার আড় চোখ বুঝতে পেড়ে ইশারা করে যেটা শিখিয়ে দিয়েছে সেটা বলতে বলল।লতিকা শেখ সাহিত্যের দিকে ঘুরে শান্ত স্বরে বলতে লাগলেন,
"এই অন্তটা খাওয়া-দাওয়া একদম ঠিক মতো করে না।এক্সিডেন্ট করার পর ঠিকমতো না খেয়েই বাম পাটা দেরিতে ঠিক হয়েছে"
ভ্রু জোড়া কুচকালো সাহিত্য।মাথা তুলে লতিফা শেখের পাশে দেখে গতরাতে পড়া চিঠির তথ্য থেকেই শুধালো,
"অন্তর না ডান পা ভেঙ্গেছিল?"
সাহিত্য কথাটা সম্পূর্ণভাবে বলেওনি,শুধু ডানপাটাই স্পষ্ট শোনা গিয়েছে।ওমনি কল্পনা লাফ দিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে হাতের কলাটি সাহিত্যের দিকে তাক করে চেঁচিয়ে উঠলো,
"আহা!আপনি পড়েছেন!"
কল্পনার চিৎ'কারে লতিফা শেখ ও সাহিত্য দুজনেই চমকে ওঠে কল্পনার দিকে ঘুরল।সাহিত্য যেন পুরো বেকুব বনে গেল।কি হলো তা প্রথম কয়েক সেকেন্ড মাথার উপর দিয়ে গেল তার।লতিফা শেখ তেতে উঠলেন,
"সকাল থেকে কি শুরু করেছিস,বলতো? তিন হালি কলা খেয়ে কি বা'দর হয়ে গিয়েছিস নাকি?আর একটা কলায় যদি হাত দিয়েছিস তাহলে হাত ভেঙে দেবো"
কল্পনার যেন লতিফা শেখের কথায় টনকও নড়ল না। ফুরফুরে মন-মুখ নিয়ে গুনগুন করে নাচতে নাচতে সিঁড়ির দিকে আগাতে লাগলো,
"ঠিইইক আছে,খাবওও না আর কলা....সাহিত্য ভাই থ্যাংক ইউ"
পিছনে না ঘুরেই হাসিমুখে দুটো কথা দুজনকে বলে উপরে চলে গেল সে।লতিফা শেখ তার যাওয়ার পানে চোখ রেখেই বললেন,
"মাথাটা আসলেই গিয়েছে এই মেয়েটার।কাকে যে কি বলে?"
কল্পনার কথা লতিফা শেখ বুঝতে না পারলেও সাহিত্য ঠিকই বুঝতে পেরেছে।ছোট থেকেই এই মেয়েটার মাথায় শ'য়'তা'নি বুদ্ধি গজগজ করে।লতিফা শেখ সাহিত্যের পাশে দেখলেন,
"সে যাই হোক,তুই কেমন করে জানলি অন্তর ডান পা ভেঙেছে?"
লতিফা শেখের কথা শুনে সাহিত্য ভড়কে গেল।কি বলবে সে এখন?চিঠির কথা তো মনে হয় বাড়ির কেউ জানে না।হুট করে ছোট চাচীকে বললে বুঝতেও পারবে না।
"আ..আ..অন্ত বলেছে!"
প্লেটের দিকে চোখ রেখেই আমতা আমতা করে বলে চোখ-মুখ খিচে বন্ধ করলো সাহিত্য।কার জন্য সে মিথ্যা বলছে সে নিজেও যেন বুঝলো না।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
কল্পনা উপরে উঠে সোজা অন্তর রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।কোনো বিরতি ছাড়াই জোরে জোরে নক করতে লাগলো দরজার মধ্যে। বাড়ির উপর তলায় সাধারণত বাচ্চাগুলো থাকে।সামিয়া,অনু,অন্ত,সাহিত্য তারপর কল্পনার রুম সিরিয়ালে।হেনা শেখ কল্পনাকে অনুর রুমের ওই পাশের একটা রুমে উঠতে বলেছিলেন।কিন্তু কল্পনা প্রতিবাদ করে বলেছিল তার দাদু এহনাফ শেখ নাকি তার স্বপ্নে এসে বলেছিল যে এই রুমটা নাকি কল্পনার জন্য বরাদ্দ করে রেখেছিলেন তিনি।অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের কাছে এমন আজগুবি কথা শুনে একদম বিশ্বাস করেননি হেনা শেখ।কিন্তু কল্পনার জেদের কারণে বাধ্য হয়েই সেই রুম গুছিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু আসল কথা তো ছিল কল্পনা তার সাহিত্য ভাইয়ের পাশের রুমে থাকবে।
ফোনের এলার্ম এর থেকেও বাজখাই শব্দ শুনে ঘুম ঘুম চোখে ভ্রু কুচকে দরজা খুললো অন্ত। অন্তর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কল্পনাকে দেখে সে কতটা
বিরক্ত,
"কি সমস্যা?এমন সাত সকালে জ্বালাচ্ছিস কেন?"
কল্পনা তার হাতে থাকা কলাটা ছিলতে
নিয়েই বলল,
"দশটা বাজে।আর কত ঘুমাবে?"
অন্ত বিরক্ত মুখে 'চ' বর্গীয় আওয়াজ করে বলল,
"কাল সারারাত বই পড়েছি ভাই"
"ওহ, তাহলে ঠিক আছে....আ করো তো একটু"
কল্পনার কথায় কুচকানো ভ্রু জোড়া আরো কুচকালো অন্ত,
"কি?"
"আরে মুখটা খোলো তো একটু "
কল্পনার তাড়া দেওয়া কথায় কোনো কিছু না ভেবেই ঘুমের ঘোরে মুখ হাঁ করল অন্ত।অমনি কল্পনা অর্ধেক ছেলা কলাটা অন্তর মুখে পুড়ে দিল।হঠাৎ এমন আক্রমণে চেচিয়ে উঠল অন্ত। অর্ধেক কলায় কামড় দিয়ে বাকি অর্ধেক হাতে নিয়ে তেতে উঠল সে,
"কি করছিস কল্পনা?"
"চাচী মা তোমাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে বলেছে"
আবার হালকা তেতে উঠল অন্ত,
"তাই দেখে কাঁচা কলা?"
"এখন তুমি ঘুমাতে পারো"
শান্ত স্বরে কথাটা বলে নিজের রুমে চলে গেল কল্পনা।সেপাশে কিছুক্ষণ দেখে থাকলো অন্ত।আবার ঘুমাতে যাওয়ার মুডে রেখেছে নাকি এই মেয়েটা?কুচকানো নাক-মুখ নিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে সাহিত্যের পাশে ধপাস করে বসে পড়লো অন্ত।লতিফা শেখকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলো,
"আম্মু কল্পনাকে তুমি কি বলেছ?সকাল সকাল এসে মাথাটা খেয়ে গেল আমার"
সাহিত্যের দিকে ঘুরে বসল অন্ত,
"ভাইয়া তুমি ছোটতে এটাকে সামলাতে কেমন করে? তোমার কাছে আবার চুপ করেও থাকতো...."
শেষের কথাগুলো অন্ত আনমনেই সাহিত্যকে বলেছে। হুশ ফিরতেই সাথে সাথেই চুপ হয়ে গেল সে।লতিফা শেখও হালকা চকিত হয়ে অন্তকে চোখ রাঙিয়ে সাহিত্যের দিকে ঘুরলেন।ক্ষণিকের জন্য নীরবতা বয়ে গেল।সাহিত্য তার কফিতে এক চুমুক দিয়ে অন্তর দিকে ঘুরে স্বাভাবিক কণ্ঠেই শুধালো,
"নাস্তা করে নে,একটু বাইরে যাব"
অন্ত আর কিছু না বলে মাথা নিচু করে উপর-নিচ মাথা ঝাকালো।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
গত কয়েকদিন থেকে শেখ ভিলার আশেপাশের প্রতিবেশীরা বড় লোহার ফটকের ভেতরে উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে।শেখ ভিলার চারপাশে দাঁড়ানো প্রাচীরের সাথে আটকানো লোহার ফটকখানা কারাগারের লোহার মতোই সরলভাবে সাজানো।যার দরুণ শেখ ভিলার ভেতরের চারপাশে গাছপালা যুক্ত বাগান সহজেই দেখা যায়।
ধানমন্ডির একটু ভেতরের দিকে হওয়ায় এদিকের এলাকায় ব্যস্ত শহর থেকে লোকালয়ই বেশি। যার দরুন মানুষজন বলতে গেলে এক প্রকার রাস্তায় দাড় হয়েই ভেতরে উঁকি-ঝুঁকি মা'রার চেষ্টা করে।উকি-ঝুঁকি মা'রার কারণ হলো,গত তিন মাস থেকে শেখ বাড়ি থেকে একটি রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিন বের হচ্ছে। মুরুব্বীরা প্রথম দিকে তেমন তোয়াক্কা করতেন না। কিন্তু কলেজ-ভার্সিটি পড়ুয়া যুবক-যুবতীদের এই গাড়ি নিয়ে যথেষ্ট ধারণা আছে।এমন একখানা ক্লাসিক চোখ ধাঁধানো রয়েল গ্রীন কালারের, তাও আবার অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি দেখে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের মাঝে কথাটা ঢোলের বারির মতোই ছড়িয়ে গিয়েছে।আর সেই ঢোলের বারি মুরুব্বিরাও শুনেছেন এবং স্বচক্ষে গাড়িখানাও দেখেছেন।প্রতিবেশীদের জানামতে শেখ পরিবারে ফাহাদ শেখ নামের একজন বিজনেসম্যান থাকলেও এত দামি গাড়ি সচরাচর দেশের রাস্তায় চোখে পড়ে না। সেজন্যই সবার এত আগ্রহ।
তবে গত মাসের কথা চিন্তা করে দেখতে গেলে শেখ ভিলায় যুবক থেকে যুবতীদেরই চোখের সংখ্যা বেশি পড়ে।আশেপাশের বিল্ডিংয়ের বারান্দা থেকে প্রায় সময় উঁকি-ঝুঁকি দেয় তারা।কিন্তু শনিবার সকালটাতে বারান্দায় থাকাটা যেন বরাদ্দ।কারণ শনিবার সকালে অ্যাস্টন মার্টিনের বদলে এক সুদর্শন ব্যক্তি জিম যাওয়ার জন্য শেখ ভিলা থেকে বের হয়।আটাশ বছর বয়সী সুঠামদেহের সাহিত্যকে যেন উপেক্ষা করা অসম্ভব আশেপাশের যুবতীদের পক্ষে।সেই যুবতী মেয়েগুলোর মতে তো, নিশ্চয়ই সেই ছেলে কোনো সেলিব্রেটি হবে।এরই মধ্যে আবার অনেকে আড়াল থেকে সাহিত্যের ছবি তুলে ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করেছে, "মাই সাটার্ডে জিম ক্রাশ" শুধু মনে হয় শনিবারে দেখা মেলে তাই ওই ক্যাপশন।
জিমের কথা যদি বলতে যাই তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন সাহিত্য ভাইয়ের কানাডায় থাকাকালীন প্রতি সপ্তাহেই জিমে যাওয়া হতো।কিন্তু দেশে ফিরে কাজের চাপে দু'মাস থেকে শরীরের কোনো কসরতই করা হয়নি। তাই কাছেই একটা ভালো জিমে মেম্বারশিপ নিয়েছে কিছুদিন আগে।না হলে কি মনে করেছেন, বডির এই ছয়টা প্যাক কি শরীরে হাওয়া ঢুকে তৈরি হয়েছে?এছাড়াও কানাডায় থাকা অবস্থায় দেড় বছরের বক্সিং ট্রেনিংও নিয়েছিল সাহিত্য।কানাডার নামি-দামি টাইকুন বিজনেসম্যান হওয়ার কারণে বলা বড় দুষ্কর, কখন কি হয়ে যায়। সিকিউরিটি থাকা সত্ত্বেও সাহিত্য সেলফ ডিফেন্সে বেশি নির্ভরশীল। বিদেশের মাটিতে নিজেকে সুরক্ষীত রাখতে গিয়েই যেন সুঠামদেহী ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে ছেলেটা।
সচরাচর সাহিত্য বাড়ি থেকে বের হলেই তার রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনটা নিয়ে বের হয়।যার দরুন অ্যাস্টন মার্টিনটার দেখা মিললেও অ্যাস্টন মার্টিন এর মালিকের দেখা মিলে না। কিন্তু জিমটা একটু কাছে হওয়ায় শনিবার সকালে পায়ে হেঁটেই সাহিত্য বাড়ির ফটক পার করে।এতে ওয়ার্ম আপও হয়ে যায় সাথে বাইরের পরিবেশেও একটু চোখ ঘোরানো যায়।
দীর্ঘ ১১বছর শরীরে কানাডার হাওয়া লাগার দরুণ দেশি মানুষের ভিড়ে আলাদাভাবেই নজরে পড়ে এই সুদর্শন পুরুষটি।তাছাড়া দৈনন্দিন এ পড়া ব্র্যান্ডেড কাপড় বাদ দিয়ে শনিবার সকালটায় জিম ট্যাংক গেঞ্জি পড়ে জিমে যাতায়াত করে সে।কানাডায়ও সাধারণত এভাবেই জিমে যেত সাহিত্য।যেটা কানাডায় খুবই স্বাভাবিক বললেই চলে।কিন্তু বাংলাদেশে এসব দেখা গেলেও সচরাচর চোখে পড়ে না।তাইতো যেন কিছুদিনের মধ্যেই এত যুবতীদের ক্রাশে পরিণত হয়েছে।কিন্তু কেউ আগ বাড়িয়ে কোনো প্রপোজ-টোপোজ না করতে গেলেই হলো। কারণ এই দেশি মেয়েরা তো আর জানে না যে এই সুদর্শন পুরুষ কত কানাডিয়ান মেয়েকে রিজেক্ট করেছে।রিজেক্ট করেছে বললে ভুল হবে,বলতে গেলে ধমক দিয়েই ভাগিয়েছে।ভার্সিটি লাইফে কোনো মেয়ে সামনে এসে কথা বলার চেষ্টা করলেই সাহিত্যের রা'মধ'ম'ক খেত।যার দরুন পরবর্তীতে আর সাহিত্যের সামনে আসার সাহসটুকু পেত না।সাহিত্যের সেই ব্যবহারের জন্য ভিকি যে কত মেয়েকে সরি বলেছিল তার হিসাব নেই।স্কুল থেকে সাহিত্যকে দেখে আসছে ভিকি।তাইতো ভিকির ধারণা যে এই জনমে সাহিত্যের ভা'র্জি'নিটি কারো হাতে হারাতে যাচ্ছে না।মাঝে মাঝে বেস্ট ফ্রেন্ডের চিন্তায় নিজেই হতাশায় পড়ে থাকে।
প্রতিদিনের মতো আজও শেখ ভিলার ফটক থেকে রয়েল গ্রীন অ্যাস্টন মার্টিনটা বের হতে দেখা গেল। সকালের নাস্তা ১১ টায় খেয়ে দুই ভাই বাড়ি থেকে বেরিয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে অন্তর ভার্সিটির পরীক্ষা চলছিল।যে কারণেই আদরের ছোট ভাইটার সাথে ভালো করে কথাটা বলতে পারেনি সাহিত্য।
গাড়িতে বসেই বলল অন্ত,
"আমরা কই যাচ্ছি ভাইয়া?"
ড্রাইভিং এ মনোযোগ রেখে সাহিত্য শুধালো,
"ভাইয়ের অফিস দেখতে যাবি না?"
অন্তর মুখের হাসিটা যেন আরো বড় হয়ে গেল,
"যাই বলো ভাইয়া,এই সারপ্রাইজটা জোস ছিল।১১ বছর পর এমন ধামাকা দেবে আমি এক্সপেক্ট করিনি।আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে কানাডার O.S.S. কোম্পানির সি.ই.ও. আমার ভাই হয়"
(বি:দ্র: এটি একটি কাল্পনিক কোম্পানি)
একটু থেমে আবার শুধালো অন্ত,
"বাই দা ওয়ে, তোমার তো বিজনেসে তেমন ইন্টারেস্ট ছিল না। তো হুট করে এমন ডিসিশন কেন?"
সময় নিয়ে হালকা মেকি হেসে বলে উঠলো
সাহিত্য,
"কার ভাগ্য কাকে কোথায় নিয়ে যায় বলা খুবই টাফ। হয়ে গিয়েছি বিজনেসম্যান"
অন্তর পাশে দেখে প্রশস্ত হাসলো সাহিত্য।কিন্তু এই হাসির নিচে যে এক কঠিন সত্য আছে সেটা আর অন্তর জানা হলো না।কত ব্যর্থতার পরেও আকাশ পরিমাণ জেদের কারণেই যেন সাফল্য সাহিত্যের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে।ভাগ্য তো শুধু অজুহাত মাত্র।
"তুই তো দেখছি পর হয়ে গিয়েছিস।১১টা বছরে ভাইকে একবারও মিস করিস নি?"
সাহিত্যের কথায় ডানে-বামে মাথা ঝাঁকালো
অন্ত,
"একদম আমার দো'ষ দেবে না।বড় বাবার কাছে কতবার তোমার কন্টাক্ট নাম্বার চেয়েছি তার হিসাব নেই।বড় বাবার কাছে চাইলেই বলতো তুমি নাকি পড়াশোনা নিয়ে অনেক ব্যস্ত"
ক্ষণিকের বিরতি নিয়ে আবার বলল অন্ত,
"আসল কথা আমরাও জানি ভাইয়া।বড় বাবা তোমাকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল"
কৃতিম হাসলো সাহিত্য,
"দূরে রাখতে চাইলে কি এখন আমি এখানে থাকতাম?"
"আসলে ভাইয়া....."
কথার মাঝে থেমে চিবুক গলায় নামালো অন্ত,
"সেদিন আব্বু আর বড় বাবার কথা শুনলাম।বড় বাবা বলছিল দাদীর এগুলো সব মিটমাট হয়ে গেলে তোমাকে নাকি কানাডায় ফেরত পাঠিয়ে দেবে"
চকিত হলো না সাহিত্য।কারণ সেটা করলে তার জন্য ভালোই হবে।কিন্তু সমস্যা হলো দাদীর এগুলোতো মিটমাট হবেই না।দাদীর তো ক্যা'ন্সা'রই হয়নি।আবার মুখে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলল সাহিত্য,
"সমস্যা নেই।আমাকে নিয়ে অত টেনশন করিস না। আর এই ভালো সময়টাতে মুড কেন খা'রা'প করছিস? বাদ দে ওসব"
সাহিত্য আর অন্তর কথা বলতে বলতেই রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনটা পিচ ঢালা রাস্তা খচিয়ে O.S.S. গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মেইন বিল্ডিং এর সামনে এসে দাঁড়ালো।
লিফট থেকে বের হয়ে সাহিত্য আর অন্ত সাহিত্যের কেবিনের দিকেই এগোচ্ছিল।এমন সময় রবি তাদের পথ আটকে দাঁড়ালো।সাহিত্যকে উদ্দেশ্য করে
বলল,
"সরি সাহিত্য। আমার নিজেরই ইচ্ছা ছিল পার্সোনালি তোকে তোর পি.এ. এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার। কিন্তু তুই তো দেখছি আগেই পরিচিত হয়ে গিয়েছিস"
রবির কথায় দুই ভাই একে অপরের দিকে দেখে আবার রবির দিকে দেখল।সাহিত্য ভ্রু কুচকে বলল,
"কোথায় আমার পি.এ.?"
অন্তর দিকে দেখিয়ে দিয়ে বলল রবি,
"এই যে,মিস্টার ইফরান রাজ"
রবি অন্তর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো,
"হ্যালো মিস্টার রাজ।আমি O.S.S. গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রির
C.F.O. , রবি আহম্মেদ"
পাশে একটু দূরে অয়নের দিকে চোখ পড়তেই রবি অয়নকে দেখিয়ে দিয়ে বলল,
"আর ইনি হলেন O.S.S. গ্রুপ এন্ড ইন্ডাস্ট্রির C.M.O. , মিস্টার অয়ন তালুকদার"
অয়ন সন্দিহান চোখেই তাদের দিকে এগিয়ে এলো,
"কি হয়েছে?"
রবি বলল,
"আরে দেখ না!সাহিত্য আগেই ওর পি.এ. এর সাথে দেখা করে ফেলেছে"
অয়ন সুক্ষ্ম চোখে অন্তকে দেখে হাতের অ্যাপেল ট্যাবটাতে কিছু খুঁজতে লাগলো।অন্ত মাথা ঘুরিয়ে সাহিত্যের পাশে দেখল।সাহিত্য মুচকি হেসে মাথা দুলালো।অমনি অন্তও মুখে হাসি নিয়ে রবির সাথে হ্যান্ডশেক করে শুধালো,
"তো আপনাদের C.O.O. কোথায়?"
রবি মুখে হাসি নিয়ে শুধালো,
"আমাদের C.O.O. বর্তমানে কানাডায় আছেন,মিস্টার ভিক্রম চৌধুরী।উনার সাথে পরে অনলাইনে যোগাযোগ হয়ে যাবে আপনার"
সাহিত্য অন্তর কাধ চেপে ধরল,
"জবটা কিন্তু খা'রা'প না।করতে পারিস।বেতন অনেক আছে"
হঠাৎ সাহিত্যের এমন ভদ্রতার বাহিরে ব্যবহার দেখে আর মুখের কথা শুনে রবি একটু ভড়কে গেল,
"মানে?"
"ওহ সরি,আমি মনে হয় এখনো আমার পরিচয় দেইনি,তাই না?"
কথাটা বলতে নিয়েই অন্ত সাহিত্যের পাশে ঘুরে আবার রবির দিকে ঘুরলো।রবির ধরে রাখা হাতটা আরো একটু জোরে ঝাঁকিয়ে বলল অন্ত,
"হ্যালো মিস্টার রবি আহম্মেদ।আমি হলাম মিস্টার মাহাদী শেখ অন্ত"
"মানে?"
এবার চকিত হলো রবি।আরেক দফা কথাটা বলে উঠল সে।কপালে বেশ কয়েকখানা ভাজও পড়ল।এতক্ষণে মনে হয় অয়ন কাঙ্খিত জিনিসটি খুঁজে পেল ট্যাবে,
"হ্যাঁ,ওটাই তো।আমি তো সেজন্যই ভাবছি,যে সি.ভি.তে তো এই ছেলের ছবি ছিল না"
"মানে?"
কথাটা এবার রবি অয়নের পাশে দেখে বলল।
সাহিত্য অন্তকে ছেড়ে দিয়ে এবার রবির কাধ চেপে ধরল,
"মানেটা হলো,তুই এখন যার হাত ধরে আছিস সে আমার ছোট ভাই।আর আমার পি.এ. কে সেটা আমি এখনো জানিনা"
অয়ন ট্যাবে আরো কিছু দেখে শুধালো,
"সাহিত্যের পি.এ. তো লাঞ্চ ব্রেকের পরে আসবে।এখন কেন?"
রবি মিনমিনিয়ে বলল,
"না মানে সাহিত্যের সাথে নতুন কাউকে দেখলাম তো, তাই আমি ওর পি.এ. কেই মনে করেছিলাম"
রবি বাদে এক যোগে হেসে উঠলো সবাই।রবি এবার অন্তর দিকে মনোযোগ দিল,
"এক মিনিট।তোমার নাম অন্ত?....এই তুই অন্ত?"
হালকা চেঁচিয়ে উঠে রবি অন্তর কাঁধ চেপে ধরল,
"কিরে শা'লা? কি খবর তোর?কত বড় হয়ে গিয়েছিস। আমি তো চিনতেই পারিনি"
অয়নও এসে রবির হাতের উপর দিয়ে অন্তর কাঁধ চেপে ধরল,
"হাতে-পায়ে কি লম্বা হয়েছে সেটা!একদম কাঁধে কাঁধ মিলে যাচ্ছে"
১১ বছর আগের বন্ধুদের মতো সিনিয়র ভাইগুলোর দেখা পেয়ে অন্তরও যেন মনটা ভালো হয়ে গেল। সাহিত্য ও তার এই ৩ জিগরি বন্ধু যে কলেজে পড়েছে,সেখানে অন্তও লেখাপড়া করেছে।সাহিত্যরা যখন দ্বাদশ শ্রেণীতে ছিল তখন অন্ত ওই কলেজের স্কুল সেকশনের নবম শ্রেণীতে পড়তো।এত বছর সাহিত্যের সাথে যোগাযোগ না থাকার কারণে সাহিত্যের বন্ধুদের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তার।১১ বছর আগ পর্যন্ত এই ভাইগুলোর সাথে সম্পর্ক অনেক ভালোই ছিল।এক পড়ুয়া ছেলে হওয়ায় অন্ত বেশিরভাগ সময়ই বই নিয়ে থাকতো।কিন্তু তার এক্সট্রা ব্রিলিয়ান্ট বড় ভাইটা বাইরে বের হলেই অন্তর হাত ধরে নিয়ে যেত।আর তাতেই যেন সাহিত্যের বন্ধুদের সাথে তারও সম্পর্কটা ঘনিষ্ট হয়ে ওঠে।
পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার একটাই কারণ ছিল।দাদার মতো একজন সরকারি কর্মকর্তা হতে চায় সে।অন্তর ধারনা, তার বড় ভাইয়ের মতো আল্লাহ প্রদত্ত উজ্জ্বল মস্তিষ্ক নেই তো কি হয়েছে?পরিশ্রম করেই নিজের ইচ্ছা পূরণ করবে সে।
চাকরি জীবন,পড়াশোনা,অতীত এসবেরই কথোপকথন চলছে।আর তার সাথে অন্তকে পুরো O.S.S. কোম্পানির বিল্ডিং ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে সেই কোম্পানির C.E.O. , C.M.O. ও C.F.O ।অন্ত মজার ছালেই আফসোসও করছে যে সাথে C.O.O. -ও যদি থাকতো তাহলে নিজেকে আরো একটু বেশি ভি.আই.পি. মনে হতো।
আজ অফিসে সিনিয়রদের তেমন কোনো কাজ নেই বললেই চলে।তাই অন্তর এত সৌভাগ্য হচ্ছে যে আজ তিনজন সিনিয়রই তার সাথে গল্প করার মতো সময় পাচ্ছে।রবি ও অয়নের টুকটাক কাজ থাকলেও সাহিত্যের আজ অফিসে আসার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। শুধু তার নতুন পি.এ. এর সাথে দেখা করার কথা ছিল।এই সুযোগে ছোট ভাইটাকেও নিয়ে আসা। এত বছর পর পুরো দিনটা নাহয় ভাইয়ের সাথেই কাটালো সে।
অফিসের লাঞ্চ ব্রেকার পর রাজ অর্থাৎ সাহিত্যের পি.এ. এর আসার কথা।তাই ভাইয়ের সাথে একটু ঘোরাঘুরির বিরতি নিয়ে রাজের সাথে টুকটাক কথা বলতে বসেছে সাহিত্য।কথাবার্তা বলতে নেই সাহিত্য তাকে আগাগোরা পরখ করছিল।পাতলা গরণের শ্যাম বর্ণের ছেলেটা।চোখে পড়া চিকন ফ্রেমের চশমাটা কথার মাঝে মাঝেই ঠিক করছিল।দেড় ঘন্টা ধরে রাজের সাথে কথা বলে তাকে নিজের পি.এ. বানাতে দ্বিমত হলো না সাহিত্য।ছেলেটা বেশ ম্যাচিউর।সাহিত্যের অল্প কথায়ই সব কিছু বুঝে যাচ্ছে।অনেকটা নম্র-ভদ্র স্বভাবের ছেলেটা।রা'গটা তেমন বুঝা গেল না।তবে পরিস্থিতি বুঝে কথা বলার মতো লোক।সাহিত্যের যে হুটহাট করে রা'গ উঠে সে হিসেবে ঠিকই আছে।সাহিত্যের মাথা গ'রম থাকলেও রাজ সামলে নিতে পারবে।রাজের এটা প্রথম চাকরি।আর এমনিতেও সাহিত্য প্রথম কয়েকদিন তেমন চাপ দিতে চাচ্ছিল না।তাই প্রথম দিন পরিচয় পর্বতেই ইতি টানলো।একবারে এত ভালো পি.এ. পেয়েছে সেটা ভেবেই সাহিত্য নিজেকে অনেক লাকি মনে করে বসেছিল।কিন্তু আয়ন সাহিত্যের লাকিতে লাথি মে'রে শুধালো যে,ভিকি পার্সোনালি ক্যান্ডিডেটের সাথে অনলাইনে কথা বলে তারপরই রাজকে ঠিক করা হয়েছে।কিন্তু সাহিত্য নিজের লাকি ভাগ্যকে অয়নের লাথি থেকে বাঁচাতে শুধালো, 'একই কথা হলো,ভালো বন্ধুর কারণে ভালো পি.এ. পেয়েছি'
সাহিত্যও ভালো করে জানে যে ভিকি সাহিত্যের থেকেও বেশি ভালো করে জানে যে সাহিত্যের কেমন পি.এ. এর প্রয়োজন।
★𝓡𝓸𝓼𝓷𝓲...................
অফিস বিল্ডিং এর নিচে এসে সাহিত্য অন্তকে জিজ্ঞেস করল,
"গাড়ি চালাতে পারিস?"
উপর-নিচ মাথা ঝাঁকালো অন্ত,
"মেঝো বাবার গাড়ি মাঝে মাঝে চালাই একটু"
অন্তর দিকে গাড়ির চাবি ছুড়ে সাহিত্য প্যাসেঞ্জার সিটের দিকে আগাতে লাগলো,
"আমাকে আর কত ড্রাইভার বানিয়ে রাখবি?"
বড় ভাইয়ের কান্ড দেখে হেসে উঠলো অন্ত।
বিকালের মিষ্টি রোদে রয়েল গ্রিন অ্যাস্টন মার্টিনটা শাই শাই করে চলছে।সামনে থেকে একবার নজর ঘুরিয়ে পাশে বসে থাকা সাহিত্যের দিকে দেখল অন্ত।সাহিত্যের নজর ফোনের মধ্যে।নিশ্চয় অফিসের কোনো কাজ করছে।আবার সামনে ঘুরলো অন্ত।কিন্তু হাসিটা যেন এবার মুখ থেকে চলে গিয়ে টানটান হয়ে বসল সে।ধিমি আওয়াজে শুধালো,
"ভাইয়া একটা কথা বলি?"
"হুম,বল"
ফোন থেকে চোখ না সরিয়েই বলল সাহিত্য।
"সিরিয়াস ম্যাটার কিন্তু"
আবার একইভাবে বলল সাহিত্য,
"হুম শুনছি তো,বল"
"আগে বলো রা'গ করবে না"
"না,করবো না,বল"
"আসলেই কিন্তু রা'গ করতে পারবে না"
এবার সাহিত্য ফোন থেকে মাথা তুলল,
"আসল কথা না বলে যদি আর একবার এমন করেছিস তাহলে জানালা দিয়ে ফেলে দেব"
অটল রইল অন্ত,
"কেন অমন করছি, জানো? কারন আমি জানি এই টপিকটা তুললেই তুমি রা'গ করবা"
"কোন টপিক,বলতো দেখি?"
ভারী এক শব্দ শোনা গেল অন্তর মুখে,
"কল্পনা"
#চলবে